ফন্ট সাইজ:
থিম:
যেই তোমার হাওয়া আমাকে ছুঁলো

২২তম পর্ব

লেখক: নাফিসা তাবাসসুম খান

যেই তোমার হাওয়া আমাকে ছুঁলো

লেখনীতে : নাফিসা তাবাসসুম খান

২২.

হুমায়ুন রশীদের মুখ হতে সম্পূর্ণ ঘটনা শুনে তূর্যর রাগে শরীর কাঁপতে থাকে। সে ক্ষিপ্ত সুরে বলে,

“ তুমি আপির সাথে এরকম কি করে হতে দিলে পাপা? আপিকে ফাঁসানো হচ্ছে। আপি ড্রাগস কেন নিতে যাবে? “

তূর্যর রাগান্বিত রূপ দেখে পৃথা আর কিছু বলার সাহস পায় না। সে নীরব ভূমিকা পালন করে। কিন্তু মনে মনে তারও বিশ্বাস বড় ভাবীকে কোনো ভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। হুমায়ুন রশীদ বলে,

“ তরী নিজ থেকে ড্রাগস নিবে না কখনো সেটা আমিও জানি। কিন্তু এখানে তরী ইচ্ছাকৃতভাবে ড্রাগস নিয়েছে কিনা সেটা মূখ্য নয়। মূখ্য হলো তরীর দায়িত্বে থাকা একজন পেশেন্ট মারা গিয়েছে। তরী চাইলেই নিজের সার্জারি অন্যের হাতে হ্যান্ডভার করতে পারতো। হসপিটালে আরও কার্ডিওলজিস্ট এভেইলেবেল ছিলো। “

তূর্য অবিশ্বাস্যকর সুরে বলে,

“ তুমি এই কথা বলছো পাপা? তোমার মনে হয় আপি ইচ্ছে করে সার্জারি অন্য কাউকে হ্যান্ডভার করে নি? আপি কি এতো বোকা যে নিজের ক্যারিয়ার রিস্কে ফেলে এরকম এক বোকামি করবে? “

হুমায়ুন রশীদের প্রচুর মাথা ব্যাথা করছে। তিনি সামান্য কপাল কুচকে বলে উঠেন,

“ আমি শুধু তরীর পাপা নই। তরীর জায়গায় অন্য যেকোনো ডক্টর হলেও আমি একিই ডিসিশন নিতাম। নিজের মেয়ে দেখে ওর প্রতি নরম হলে সম্পূর্ণ বোর্ড কমিটি আমার উপর প্রশ্ন তুলতো। “

পৃথা নীরবে লিভিং রুম ছেড়ে রান্নাঘরে চলে যায়। হুমায়ুন রশীদ একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে,

“ বাচ্চাটা সাদ এবং আয়রার ছেলে ছিলো। “

তূর্য চোখ বড় বড় করে তাকায় হুমায়ুন রশীদের দিকে। বিস্মিত গলায় প্রশ্ন করে,

“ সিরিয়াসলি? “

“ তাহলে তোমার কি মনে হয় আমি এই মুহুর্তে মজা করছি? “

তূর্য আর কিছু বলবে তার আগেই পৃথা এক কাপ কফি হাতে লিভিং রুমে প্রবেশ করে। পৃথাকে দেখে তূর্য চুপ হয়ে যায়। পৃথা এগিয়ে হুমায়ুন রশীদের দিকে কফির মগটা দিয়ে বলে,

“ পাপা আপনার জন্য। মাথা কম ভার লাগবে এটা খেলে। “

হুমায়ুন রশীদের মন ভালো লাগায় ছেয়ে যায়। মেয়েটা দু'দিন হয়েছে না ঘরে বউ হয়ে এসেছে, অথচ কি সুন্দর সব সামলে নিয়েছে একহাতে। তার নিজের ছেলে মেয়েও সবসময় পড়াশোনা এবং চাকরি নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। কেবল রাতের খাবারটুকু খাওয়ার সময় তারা একত্রে বসতো। কিন্তু এই মেয়েটা তার নিজের মেয়ে না হয়েও আলাদা করে হুমায়ুন রশীদকে সময় দেয়। হুমায়ুন সাহেব মলিন হেসে কফির মগটা নিয়ে বলে,

“ থ্যাঙ্কিউ আম্মু। “

পৃথা জবাবে সামান্য হাসে কেবল। তূর্য উঠে নিজের রুমে চলে আসে। নিজের ফোন বের করে তরীর নাম্বারে ম্যাসেজ দেয়,

“ সব ঠিক হয়ে যাবে আপি। আল্লাহ ভরসা। ভেঙে পরিস না। “

__________

সকাল সকাল ফোনের তীক্ষ্ণ এলার্মের শব্দে তরীর ঘুম ভেঙে যায়। সে হাই তুলতে তুলতে উঠে বসে এলার্ম বন্ধ করে। চোখ ডলতে ডলতে আচমকা তার মনে পড়ে রাতে সে ফ্লোরে বসে ছিলো। তাহলে বিছানায় কিভাবে পৌঁছালো সে? পার্থ কি তাকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে গিয়েছে? কথাটা মাথায় আসতেই তরীর রাগ হয়। এই লোকের সাহায্য এবং সিমপ্যাথি দুটোই তার কাছে অপছন্দের।

তরী বিছানা ছেড়ে নামতে নিলেই তার মনে পড়ে যায় এইসময় প্রতিদিন সে হসপিটাল যাওয়ার জন্য রেডি হতো। কিন্তু আজ? আজ কি করবে সে? মুহুর্তেই তার চেহারায় মলিনতা ফুটে উঠে। পার্থ সেই মুহুর্তে বেডরুমে প্রবেশ করে। দুজনে দৃষ্টি মিলন হতেই পার্থ নিঃশব্দে ওয়াশরুমে চলে যায়। তরী একই ভঙ্গিতে বসে রয়। মনে মনে ভাবছে নিচে কিভাবে যাবে সে? গতকাল কেমন বেয়াদবের মতো কারো কথার জবাব না দিয়ে হনহনিয়ে উপরে চলে এসেছিলো সে। পার্থর সাথে তার বিয়ের মাধ্যমে এই ঘর এবং এই ঘরের মানুষগুলোর সাথেও সে একটা সম্পর্কে বাঁধা পড়েছে। এই পর্যন্ত তরী এই বাড়ির বড় বউ হওয়া সত্ত্বেও ঘরের কোনো কাজে হাত দেয় নি। তা নিয়ে ঘরের কারো কোনো অভিযোগ নেই। উল্টো তার শাশুড়ি বেশ আদরের সাথেই সব পরিস্থিতিতে তাকে আগলে রেখেছে। নিজের দুঃখ কষ্টে নিমজ্জিত হয়ে এই মানুষ গুলোকে অবহেলা করা মোটেও সমীচীন নয়।

__________

নাস্তা তৈরি করতে ব্যস্ত জমিলা খালা। সাদিকা বেগম পাশে দাঁড়িয়ে তদারকি করে যাচ্ছেন। সেই মুহুর্তে রান্নাঘরে তরীর আগমন ঘটে। সে শান্ত স্বরে জমিলা খালাকে উদ্দেশ্য করে বলে,

“ খালা, আমি বাকিটা দেখে নিবো। আপনি টেবিলে প্লেট গুলো সাজিয়ে ফেলুন। “

জমিলা বেগম কিছু বলতে নিলেই সাদিকা বেগম ইশারা করে তরী যা বলছে তা করতে। জমিলা খালা তাই চুপচাপ পরিষ্কার প্লেট গুলো নিয়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে। সাদিকা বেগম মমতা নিয়ে পুত্রবধূকে দেখছে। মেয়েটা কষ্টে আছে তা উনি জানেন। কিন্তু কষ্টটা কতটুকু গভীর সেই সম্পর্কে উনার ধারণা নেই। হয়তো ঘরের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রেখে সেই কষ্টটা ভুলে থাকতে চাইছে তরী। তাই সাদিকা বেগমও আর বাঁধা দেন না।

নাস্তার টেবিলে বসে আছেন চৌধুরী বাড়ির সদস্যরা। পার্থ এখনো নিচে নামে নি। তরী গরম গরম রুটির প্লেট হাতে ডাইনিং রুমে প্রবেশ করে সকলকে খাবার পরিবেশন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। টেবিলে বসে থাকা আফজাল সাহেব, সাদিকা বেগম এবং শোভন নীরব দৃষ্টিতে তাকে দেখছে। পার্থও তখনো নিচে নেমে আসে। আফজাল সাহেবের পাশে নিজের চেয়ারটা টেনে বসতে নিলেই আফজাল সাহেব বলে উঠে,

“ তুমি অন্য চেয়ারে বসো। “

পার্থসহ সকলে ভ্রু কুচকে তাকায়। পার্থ বলে,

“ আমি তো সবসময় এখানেই বসি। “

“ আজ থেকে বসবে না। “

বলেই আফজাল সাহেব তরীর দিকে তাকিয়ে বলে উঠে,

“ তরী মা। তুমি এসে বসো এখানে। দাঁড়িয়ে আছো কেন? “

তরী হকচকিয়ে যায়। নিজেকে সামলে বলে,

“ আপনারা নাস্তা করুন আব্বা। আমি পরে বসছি। “

আফজাল সাহেব এবার আরেকটু আদর মিশিয়ে বলে,

“ মেয়ে না খেয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে বাপের গলা দিয়ে খাবার নামবে কখনো? “

শোভন পাশ থেকে বলে উঠে,

“ বসে পড়ুন ভাবী। কাল রাতে আপনি খান নি দেখে আব্বাও আর খায় নি। আব্বা খায় নি দেখে আম্মাও খায় নি। দাদাও রাতের খাবার খায় নি। আর সবাই যেখানে খায় নি সেখানে আমি আর কিভাবে রাজাকারের মতো খাই বলুন? “

তরী অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। পার্থ তরীকে এক পলক দেখে নিয়ে নীরবে নিজের চেয়ারটা ছেড়ে দেয়। তার পাশের চেয়ারে বসে পড়ে। তরী মাথা নিচু করে গিয়ে নিজের শশুড়ের পাশে বসে। শোভন উঠে তরীর প্লেটে খাবার বেড়ে দিতে উদ্যত হয়। হাস্যজ্বল মুখে বলে,

“ ভাবী আজ আপনার দেবর আপনার সেবায় নিয়োজিত থাকবে। কি কি দিবো বলুন? “

সাদিকা বেগম বলে উঠে,

“ তরী সকাল সকাল এসব খায় না। ওকে রুটি সবজি এসব দিস না। “

শোভন ভ্রু কুচকে প্রশ্ন করে,

“ হ্যাঁ? ভাবী তাহলে কি খায়? “

সাদিকা বেগম জমিলাকে ডাকতেই জমিলা খালা একটা প্লেট আর মগ হাতে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে আসে। প্লেট আর মগ তরীর সামনে রাখতেই তরী দেখে সেখানে ফ্রেঞ্চ টোস্ট, অমলেট আর কফি। তরী অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। সকাল সকাল তরী সবসময় এসব খেয়েই অভ্যস্ত। আম্মা এসবও লক্ষ্য করেছে?

এতো আদর আর যত্ন দেখে তরী কিশোরীদের ন্যায় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে। চোখ উপচে তার জল গড়িয়ে পড়ে। জমিলা খালা আঁতকে বলে উঠেন,

“ কি গো বড় বউ? কান্দতাসো ক্যান তুমি? “

আফজাল সাহেব নরম সুরে প্রশ্ন করে,

“ খাবার পছন্দ হয় নি মা? “

আবেগে বর্শভূত তরী আফজাল সাহেবকে একপাশ হতে জড়িয়ে ধরে। ছোটবেলা থেকেই কান্না পেলে সে সবসময় নিজের পাপাকে জড়িয়ে ধরে কাদতো। সেই অভ্যাস থেকেই সে আফজাল সাহেবকে পিতা রূপে জড়িয়ে ধরে। আফজাল সাহেবসহ সকলেই অবাক হয়।

আফজাল সাহেব আগে কখনো এরকম পরিস্থিতিতে পড়েন নি। উনার নিজের ছেলে মেয়েদের সাথে সম্পর্কটাও উনার সেই পর্যায়ে কখনো ছিলো না যে চাইলেই তারা নিরদ্বিধায় উনাকে জড়িয়ে ধরতে পারবে। নিজের মনের দ্বিধাকে সরিয়ে উনি স্নেহ নিয়ে তরীর মাথায় হাত রেখে বলে,

“ আরে আরে বোকা মেয়ে। কাদে না। “

তরী ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্নার মাঝে বলে উঠে,

“ আমাকে মাফ করবেন আব্বা। আমার কারণে আপনাদের সম্মান নষ্ট হচ্ছে। “

আফজাল সাহেব নরম গলায় বলে,

“ আমি জানি তুমি কখনো আমাদের সম্মান নষ্ট হওয়ার মতো কিছু করবে না। আমি যতদিন তোমার মাথার উপর আছি তুমি কিছু নিয়ে চিন্তা করো না মা। আল্লাহ আছেন উপরে। উনি ইনসাফ করবেন অবশ্যই। তুমি হাসিখুশি থাকো শুধু। “

পার্থ নীরবে সম্পূর্ণ দৃশ্যটা দেখে। অত:পর সবার চোখের আড়ালেই সে সামান্য হাসে। তার আব্বা ছেলেদের সাথে যতটা কঠোর থাকেন মেয়েদের বেলায় তার সম্পূর্ণ বিপরীত। যাক! এই পরিস্থিতিতেও তরীকে নিয়ে তার মোটেও চিন্তা হচ্ছে না। তার দ্বারা চব্বিশ ঘণ্টা তরীর পাশে থাকা সম্ভব হবে না। কিন্তু তার অনুপস্থিতিতে তার পরিবার ঠিকই তরীর কোনো অযত্ন করবে না তা নিয়ে সে নিশ্চিত।

__________

পার্টির কিছু সিনিয়র নেতার সাথে মিটিংয়ে ব্যস্ত পার্থ। তখনই তার সাইলেন্ট করা ফোনটা ভাইব্রেট করে বেজে উঠে। পার্থর দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় টেবিলের উপর থাকা নিজের ফোনের স্ক্রিনে। এরকম একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ের মাঝে অন্য কেউ কল করলে পার্থ কখনোই রিসিভ করতো না। কিন্তু জহিরের নাম দেখে সে এক মুহুর্ত দেরি না করে ফোনটা রিসিভ করে।

“ জহির? কি হয়েছে? “

“ ভাই, ভাবী বাসা থেকে বের হইসে। একা একা গাড়ি ড্রাইভ করতেসে। আমি উনার পিছনেই গাড়িতে আছি। ফলো করতেসি। “

“ কোথায় যাচ্ছে ও? “

“ সেইটা তো জানিনা ভাই। মনে হইতেসে মিরপুরের দিকে যাইতেসে। “

“ আচ্ছা তুই ফলো কর। পৌঁছালে আমাকে এক্সাক্ট এড্রেস টেক্সট করে পাঠা। “

“ আচ্ছা ভাই। “

__________

মিরপুর ২ এ কাঙ্ক্ষিত বাসাটার সামনে এসে গাড়ি থামায় তরী। সাত তলা এই বিল্ডিংটায় এর আগেও বেশ কয়েকদিন এসেছিলো সে। কিন্তু তখন আর আজকের মধ্যে বিস্তার ফারাক। তরী একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে নেমে বাসার ভেতর প্রবেশ করে। দ্বিতীয় তলার ডান পাশের এপার্টমেন্টের সামনে দাঁড়াতেই তার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসে। তবুও সাহস সঞ্চয় করে সে কলিংবেল বাজায়।

কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন মধ্য বয়স্ক নারী দরজা খুলে। তরীকে দেখতেই উনি চমকে যায়। শব্দ করে কাউকে ডাকতে ডাকতে ভিতরে চলে যায় উনি। কিছুক্ষণের ব্যবধানেই সাদ এসে দাঁড়ায় দরজার সামনে। চেহারা তার বিধ্বস্ত হয়ে আছে। তরীকে দেখতেই সে বলে,

“ তুমি এখানে? “

“ ক্ষমা চাইতে এসেছি। “

সাদ কিছু বলবে তার আগেই আয়রা এসে দরজার সামনে উপস্থিত হয়। তরীকে দেখতেই সে ক্ষুধার্ত বাঘিনীর ন্যায় তরীর দিকে তেড়ে যেতে নেয়। কিন্তু সাদ তাকে আটকে ফেলে। আয়রা দাঁতে দাঁত চেপে বলে,

“ কেন এসেছিস? এখন খুশি তুই? তোর প্রতিশোধ নেওয়া হয়ে গিয়েছে। সাত বছর আগে আমি তোর থেকে তোর বাগদত্তা কেড়ে নিয়েছি, তাই তুইও সুযোগ বুঝে আমার থেকে আমার ছেলেকে কেড়ে নিয়েছিস। খুনী তুই। “

আয়রার উচ্চ শব্দের দাপটে আশেপাশের এপার্টমেন্ট থেকে আরো মানুষ বেরিয়ে আসে। সবাই উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। তরী নরম গলায় বলে,

“ ট্রাস্ট মি আয়রা আমি ইচ্ছে করে কিছু করি নি। তুই তো ছোটবেলা থেকে আমাকে চিনিস। আমি কখনো কোনো বাচ্চার ক্ষতি করার কথা চিন্তাও করতে পারি না। “

আয়রা সাদকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে তরীর দিকে এগিয়ে যায়। তরী আয়রাকে নিজের দিকে এগিয়ে আসতে দেখে কয়েক কদম পিছিয়ে যায়। আয়রা ঘৃণাভরা দৃষ্টি নিয়ে তরীর দিকে তাকিয়ে বলে উঠে,

“ তুই পারিস। তুই করে দেখিয়েছিস। এসব কিছু তুই হিংসা থেকে করেছিস। আমার বাচ্চাকে দেখে তোর হিংসা হয়েছে। তুই কিভাবে বুঝবি একটা বাচ্চার মর্ম? যে নিজে জীবনে বাচ্চার মুখ দেখতে পারবে না সে কিভাবে বাচ্চার মর্ম বুঝবে? তুই ইচ্ছে করে আমার ছেলেকে মেরেছিস। “

কথাটুকু বলেই আয়রা তরীকে ধাক্কা দেয়। সিড়ির কাছে দাঁড়িয়ে থাকায় ধাক্কা খেয়ে সামলাতে না পেরে তরী সিড়ি থেকে পড়ে যায়। মুহুর্তেই পরিস্থিতি উত্তেজনামূলক রূপ ধারণ করে। পার্থ তখন কেবল একতোলার সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছিলো। এই দৃশ্য দেখে সে সাথে সাথে দৌড়ে সিড়ির নিচে পড়ে থাকা তরীর কাছে এগিয়ে যায়। সাদও ততক্ষণে এগিয়ে এসে আয়রাকে ধরে বাসার ভেতর নিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়।

পার্থ তরীর কাছে আসতেই দেখে তরী নিজেই একা একা উঠে বসছে। পার্থ উদ্বিগ্ন গলায় প্রশ্ন করে,

“ ব্যথা পেয়েছেন? “

প্রশ্নটা করেই পার্থ ক্ষিপ্ত দৃষ্টি মেলে উপরে তাকায়। গর্জে উঠে,

“ কার বুকে এতো বড় পাঠা হয়ে গিয়েছে যে আমার বউয়ের গায়ে হাত দেয়? “

বলেই পার্থ সাদের এপার্টমেন্টের দিকে এগিয়ে যেতে নেয়। কিন্তু তরী তার একহাত ধরে বাঁধা দেয়। চোখের ইশারায় মানা করে কোনো ঝামেলা করতে। পার্থর রাগ ঠান্ডা হয় না। কিন্তু চারিদিকে তাকিয়ে সবার আগ্রহী দৃষ্টি দেখে এই মুহুর্তে এখান থেকে প্রস্থান করাই উত্তম মনে করে সে। তরীর দিকে নিজের একহাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে,

“ চলুন। “

চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন