ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি আমার নিঃশ্বাস

৪র্থ পর্ব

লেখক: সোহাগী আক্তার

তুমি আমার নিঃশ্বাস 

পর্ব : ৪
লেখিকা : নুসরাত ইভা 
        
★ ★ ★ ★ ★
সময় কখন কারো জন্য অপেক্ষা করে না । সময় নিজের গতিতে চলতে থাকে । দেখতে দেখতে কেটে গেছে দশ দিন । এই দশ দিনে তনু, আশা, ফারি, তরু, তারিদের সাথে ওদের অনেক ভালো সম্পর্ক হয়ে গেছে । মীর সারাদিন অফিসে থাকায় । ওর সাথে লামিসা এবং নাবিলা খুব কমই কথা হয় । তবে রিয়াদের সাথে মীরের ভালো একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠেছে ।‌ ওরা এক সাথে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যায় । মীর সময় পেলেই ওকে নিয়ে বাহিরে যায় । এই দশ দিনে তাসিন এক বারের জন্যও বাড়িতে আসেনি । তাসিন এখন ঢাকায় নেই। তাসিন আর তাফি কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে গিয়েছে । দু-দিন পর আসবে । মীরকেও বলেছিল কিন্তু মীর যায়নি । কারণ পড়াশোনা শেষ করে মীর এবং তাসিন দুজনেই নিজেদের পারিবারিক অফিসে জয়েন হয়েছে । দুজন যদি একসাথে অফিসে না যায় তাহলে অনেক লস হয়ে যাবে । তাই মীর এসব চিন্তা-ভাবনা করে যায়নি । 
চার দিন পর তনু এবং আশার বিয়ে । ওদের বিয়ে গত ছয় মাস আগে থেকেই ঠিক করা ছিল । এখন ঘরোয়া ভাবে উঠিয়ে দিবে । তনু এবং আশার বিয়ে রাফিন হাওলাদার এর বেস্ট ফ্রেন্ডের ফারুক মির্জার দুই ছেলের সাথে ঠিক করছে । ফারুক মির্জার স্ত্রী অসুস্থ থাকার তাকে নিয়ে গত ছয় মাস লন্ডনে ছিল । দেশে এসেই ফারুক মির্জার সিদ্ধান্ত নেয় ঘরো ভাবে দুই ছেলের বউকে বাড়িতে নিয়ে আসবে । আজকে সবাই শপিংয়ে যাবে । কিন্তু লামিসা আর নাবিলা এই বিয়েতে থাকতে পারবে না । কারণ ওদের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে । তাই ওরা খুলনা চলে যাবে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য । ওরা বিয়েতে থাকতে পারবে না । তাই তনু এবং আশার অনেকটাই মন খারাপ । বড়রা সবাই চেয়েছিল ফারুক মির্জার সাথে কথা বলে বিয়েটা পিছিয়ে নেওয়ার । কিন্তু ওরা দুজনে বলেছে কোন প্রয়োজন নেই । আমরা বিয়ের দিন এসে আবার চলে যাব । বিয়ের দিন আমাদের কোনো পরীক্ষা নেই । বড়রা কেউ আর কিছু বলে নি । যেহেতু ওরা বলেছে বিয়ের দিন আসবে । তবে রায়হান হাওলাদার বলার চেষ্টা করেছিল কিন্তু তাকে লামিসা বলতে দেয়নি । কালকে যেহেতু লামিসা এবং নাবিলা খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা দিবে।  তাই আজকের সবাই মিলে শপিং করে ঘুরতে যাবে । তাই সবাই এখন যার যার রুমে রেডি হচ্ছে ।
যেহেতু মির্জা বাড়িতে তেমন একটা মানুষ নেই । তাই মির্জা বাড়ির দুই ছেলে ফাহিম মির্জা এবং ফারাবি মির্জা যাবে ওনাদের সাথে শপিং মলে । ফাহিম এবং ফারাবির জন্য সবাই বাড়ির সামনে অপেক্ষা করছিল । ওরা এসে সবাইকে সালাম দেয় । ছালিমা বেগম তানি বেগমের সাথে ওদের পরিচয় করিয়ে দেয় । লামিসা এবং নাবিলা এসে ফাহিম আর ফারাবিকে সালাম দেয় । ওরা ফোনে অনেক বার কথা বলেছে কিন্তু সামনা সামনি এই প্রথম দেখা হয়েছে । লামিসা এসে একটু মজার ছলে বলল :—
– আরে ভাইয়ারা আপনাদের তো দেখি তর সইতে আছে না । বিদেশ থেকে এসেই বউদের বাড়ি নিয়ে যাবার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লেন দুই ভাই ।
ওর কথার প্রতি উত্তরে ফাহিম মুচকি হাসি দিয়ে বলল :—
– এত সুন্দরী বউ থাকতে আমরা দুই ভাই সিঙ্গেল কতদিন থাকবো । তাই ভাবলাম বাড়ি বসে সিঙ্গেল জীবন না কাটিয়ে নিয়েই যাই আমাদের বউদের আমরা । কি বল শালিকা । 
কথাটা বলে একটু ভ্রু নাচালো ফাহিম ।লামিসা একটু নাটকীয় ভাবে ভাবুক স্বরে বলল :—
 
– হুম সেটাও ঠিক । 
ওদের কথা শেষ হতেই নাবিলা বলল :—
– আচ্ছা চলেন ভাইয়ারা আপনাদের সুন্দরী বউদের কে লাল টুকটুকে বউ বানানোর জন্য শপিং করতে‌ ।
নাবিলার কথায় তনু এবং আশা কিছুটা লজ্জা পেল । তারপরে একে একে করে সবাই গাড়িতে বসে পড়ল ।
বাড়ির মহিলারা সবাই একটা গাড়িতে । ফাহিম এবং ফারাবি বাইক নিয়ে আসায় । তনু এবং আশা ওদের সাথে বাইকে যাবে । মীর এবং রিয়াদ মীরের বাইকে যাবে । আর ছোটরা সবাই লামিসার গাড়িতে যাবে । সবাই যার যার গাড়িতে উঠে বসতেই । সবগুলো গাড়ি স্টার্ট দিয়ে গেট থেকে বেরিয়ে গেল । সবাই এসে শপিংমলে গাড়ি পার্কিং করে । শপিংমলে ঢুকে ছোটরা সবাই যার যার মত শপিং করতে চলে যায় । বড়রা এবং তনু আশা ফাহিম ফারাবি চলে যায় ওদের শপিং করতে । প্রথমেই ঢুকে একটা শাড়ির দোকানে । ওইখানে থেকে তনু এবং আশার জন্য এক রকমেই দেখতে দুটো লাল শাড়ি নেই । গয়নার দোকান থেকে গয়না নেই । বিয়ের যা যা লাগে সব কিছু কেনাকাটা করে । সবার শপিং শেষ হতেই মল থেকে বেরিয়ে আসে । বড়রা সবাই বাড়িতে চলে যায় এবং ছোটরা সবাই ঘুরতে যায় । সবাই অনেক ঘোরা ঘুরি পর রাতের ডিনার করে । বাড়ি ফিরে ক্লান্ত থাকায় যার যার রুমে চলে যায় ।
রাত সাড়ে বারোটা সবাই ঘুমিয়ে পড়ার কারণে বাড়িটা পুরো নিস্তব্ধ হয়ে আছে । যেহেতু কালকে লামিসা এবং নাবিলা খুলনায় যাবে । তাই ওদের টুকটাক জিনিসপত্র গুছিয়ে নিচ্ছে । লামিসাকে অন্যমনস্ক হয়ে বসে থাকতে দেখে নাবিলা বলল :—
– ওই কি হইছে বিয়েতে থাকতে পারবি না । তার জন্য মন খারাপ ।
– না এমনি ভালো লাগতেছে । 
নাবিলা নিজের জায়গা থেকে উঠে লামিসার পাশে বসে ।
– কিছুতো একটা হইছে । বল কি হইছে ।
– না মানে এখানে পুরো ১২ দিন হয়ে গেল এসেছি । কিন্তু একবারের জন্য তাসিনের দেখা পাইনি । তাই একটু মন খারাপ আর কি ।
নাবিল একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলল :—
–ও এই ব্যাপার । আরে মন খারাপ করিস না । শুনলাম তো বন্ধু সাথে ঘুরতে গেছে । আর তাছাড়া বিয়ের দিন তো আসবো তখন দেখা হবে । এখন মন খারাপ করে থাকিস না । চল ঘুমিয়ে পড়বি কালকে আবার যেতে হবে ।
– হুম চল সকাল আবার তাড়াতাড়ি উঠতে হবে ।
সকাল হতেই পুরো বাড়িতে হই চই পড়ে গেছে । সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত । পুরো বাড়ি ডেকোরেশনের জন্য লোক এসেছে । পুরুষরা সবাই যেখানে । মহিলারা সবাই হাতে হাতে কাজ করছে । লামিসাদের ঘুম থেকে উঠতে অনেকটা লেট হয়ে গেছে । ওরা দুজন একদম রেডি হয়ে । নিজেদের ট্রলি ব্যাগ নিয়ে নিচে আসে । সবার সাথে নাস্তা করে।ড্রোয়ং রুমের সোফায় বসে ।
– মীর তাসিনকে ফোন করে দেখ তো ও কতদূর ।
– আচ্ছা ফুপা । 
মীর তাসিনকে ফোন করে জানতে পারে । ও ১৫ - ২০ মিনিটের ভিতরে চলে আসবে । লামিসা এই কথা শোনা মাত্রই তাসিনকে এক পলক দেখার অপেক্ষায় বসে থাকে । নাবিলা বান্ধবী মনের কথা বুঝতে পেরে কিছু বলে । ওর পাশে বসে থাকে । বিশ মিনিট পার হয়ে ত্রিশ মিনিট হয়ে গেছে ।এখনো তাসিনের কোন পাত্তাই নেই । নাবিলার আর থাকতে না পেরে মাথাটা একটু এগিয়ে লামিসার কানের কাছে এসে বলল :—
– ভাই ত্রিশ মিনিট তো হয়ে গেছে এখনো আসার কোন নামই নেই । লেট হয়ে যাচ্ছে তো ।
লামিসা একটা তপ্ত নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল :—
– হুম চল । এখন যদি না বের হলে । তাহলে আরো লেট হয়ে যাবে ।
ওরা দুজনে উঠে দাঁড়ালো । সবার থেকে বিদায় নিয়ে বাহিরে চলে যায় আসে । ওদের পিছু পিছু বাড়ির সবাই ও বেরিয়ে আসে । নাবিলাকে দাড় করে রেখে লামিসা পার্কিংলট থেকে গাড়ি বের করে আনে । সবাইকে বাই বলে গাড়িতে উঠে বসে । মুহূর্তেই সাঁই সাঁই করে মেন গেট থেকে বেরিয়ে যায় কালো BMW । লামিসাদের যাওয়ার দুই মিনিট মাথায় ফুল স্পিডে একটা R15 V4 ডার্ক ব্ল্যাক বাইক এসে থামে সবার সামনে ।
চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন