ফন্ট সাইজ:
থিম:
অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা

২য় পর্ব

লেখক: নাবিলা আক্তার
অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা 
লেখিকা নাবিলা আক্তার 
পার্ট ২
একটা কাঠগোলাপ হিজাবের ওপর গুঁজে নিল সে। হাতে থাকা ফুলগুলোর দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল—
“তোর জন্য আজ আমি মরতে মরতে বেঁচে গেলাম।
তুই যদি আমার চোখে না পড়তিস, আমি তো কাছে ছুটে আসতাম না।
না ওই অসভ্য লোকটার বাইকের সামনে পড়তাম না।
ব্যথাও পেতাম না।
শুধু তোর জন্যই ছুটে এসেছি।
কথা বলতে বলতে সারার মুখে একটা অদ্ভুত খুশির আভা ফুটে উঠল।
"কী যে ভালো লাগছে, বলে বোঝাতে পারব না।
কোমরে ব্যথা নিয়েও আজ আমার একটা গান গাইতে ইচ্ছে করছে…”
এই বলে সারা ধীরে ধীরে গানের সুর ধরল—
~ তোমার জন্য নীলচে তারার~
~ একটুখানি আলো,~
~ভোরের রঙ রাতের মিশে কালো~
~কাঠগোলাপের সাদার মায়া মিশিয়ে দিয়ে ভাবি,~
~আবছা নীল তোমার লাগে ভালো~
~তোমার জন্য নীলচে তারার একটুখানি আলো… ~”
এইটুকু গেয়েই হঠাৎ থেমে গেল সারা।কেন জানি না, মনটা হঠাৎ খারাপ হয়ে গেল।
বুকের ভেতর অদ্ভুত এক অস্থিরতা।
মনে হচ্ছে—তার সঙ্গে খুব শিগগিরই কিছু একটা ঘটতে চলেছে…
সারার বুকের ভেতরটা অস্থির তা আরও বেড়ে যাচ্ছিল। 
সারা আর একমিনিট সেখানে দাঁড়ায় না। দ্রুত বাড়ি পথে যেতে থাকে।
সারা বাড়িতে পোঁছাতেই দেখতে পেল তার মা তার দিকে এগিয়ে আসছে। 
সারা ঘরে ঢুকতেই মা এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করে ওঠেন—
— কীরে, তোর এই অবস্থা কেন? কাপড় এত ময়লা হলো কীভাবে? নিশ্চিত কিছু একটা হয়েছে। বল, কী হয়েছে?
সারা হালকা হাসি দিয়ে বলে—
— 
আরে মা, এত হাইপার হচ্ছ কেন? তেমন কিছু হয়নি। জাস্ট পড়ে গিয়েছিলাম। তাই ড্রেসে একটু ময়লা লেগে গেছে।
শারমিন বেগম চিন্তিত কণ্ঠে বললেন—
— পড়ে গিয়েছিস? দেখে, কোথায় ব্যথা পেয়েছিস?
 আরে মা, তেমন কিছু না। শুধু কোমরে একটু ব্যথা পেয়েছি।
কথাটা বলতে বলতে সারা মনে মনে ভাবল,
তোমাকে যদি সত্যি কথাটা বলি, তাহলে তো মার একটাও নিচে পড়বে না—সব আমার গায়েই পড়বে। না বাবা, সত্যি বলা যাবে না।
শারমিন বেগম একটু হালকা হয়ে বললেন—
— আচ্ছা, ব্যথার ওষুধ খেলে ঠিক হয়ে যাবে।
এই কথা বলে তিনি হঠাৎ সারার হাতের দিকে তাকালেন।
— কিরে, তোর হাতে আবার কী?
সারা হাসি দিয়ে হাতটা এগিয়ে দিয়ে বলল—
— দেখ মা, কত সুন্দর না ফুলটা! রাস্তা থেকে তুলে এনেছি।
এবার শারমিন বেগম রেগে গেলেন। সব বুঝে গেছেন তিনি।
এই মেয়ে ফুল আনতে গিয়েই পড়ে ব্যথা পেয়েছে, তবু ফুল আনা চাই-ই চাই!
— এই তুই ফুলে এত কী পাস, হে?
সারা সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল—
— সুখ পাই, শান্তি পাই, আনন্দ পাই… যেগুলো আমি এই দুনিয়ায় মানুষদের কাছ থেকে পাইনি।
কথাগুলো সে খুব আস্তে বলেছিল। তাই শারমিন বেগম শুনতে পেলেন না।
অনেক হয়েছে, যা ঘরে যা। ফ্রেশ হয়ে আয়। আবার আমাকে তোকে রেডি করাতে হবে। অনেক কাজ পড়ে আছে।
এই কথা শুনে সারা হতভম্ব হয়ে গেল।
রেডি করাতে হবে? মানে কী? কোথাও যেতে হবে নাকি?
ভাবনার মাঝেই ডুবে ছিল সে।
শারমিন বেগম লক্ষ্য করলেন, সারা কোনো সাড়া দিচ্ছে না। তখন একটু জোরে বললেন—
— কিরে, কী বললাম শুনতে পাসনি? যা ঘরে যা।
মায়ের কথা শুনে সারা ভাবনার জগৎ থেকে বাস্তবে ফিরে আসে।
— হুম, যাচ্ছি।
এইটুকু বলেই সে নিজের রুমে চলে যায়।
শারমিন বেগম মেয়ের চলে যাওয়া পানে তাকিয়ে থাকেন। কিছু বলেন না। নিঃশব্দে দু’চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে। 
রুমে ঢুকে সারা হাতে থাকা ফুলগুলো পড়ার টেবিলের ওপর আলতো করে রেখে দেয়। তারপর কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়।
 গোসল শেষে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ায়।
সারা পরেছে সুতি কালো রঙের থ্রি-পিস, যার মাঝে সাদা রঙের নকশা করা ফুলের ডিজাইন। সহজ কিন্তু পরিপাটি।
চুলে বাঁধা গামছাটা খুলে সে ধীরে ধীরে চুলগুলো মুছতে থাকে।  মুছতে মুছতে সারা আয়নায় চোখ তুলে তাকিয়ে দেখতে পেল—তার মা হাতে একটি লাল শাড়ি নিয়ে আসছে। সারা ঘুরে মার দিকে তাকাল।
শারমিন বেগম রুমে ঢুকে দেখলেন, সারা এক দৃষ্টিতে তার দিকেই তাকিয়ে আছে।
— কিরে, এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন?
মায়ের কথা শুনে সারা তাড়াতাড়ি মাথা দু’দিকে নাড়িয়ে বলল—
— মানে… কিছু না।
শারমিন বেগম শাড়িটা বিছানার ওপর রেখে সারার দিকে তাকিয়ে বললেন—
— এইদিকে আয়…
সারা কোনো কথা না বলে মায়ের কাছে এগিয়ে গেল।
শারমিন বেগম সারার হাত ধরে বিছানায় রাখা শাড়ির দিকে ইশারা করে বললেন—
— শাড়িটা সুন্দর না?
সারা শাড়ির দিকে তাকিয়ে ছোট করে বলল—
— হুম…
— তোর পছন্দ হয়েছে?
শারমিন বেগম মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
সারা এবার.. একটু বিরক্ত স্বরে বলল—  
— তুমি আমাকে কেন জিজ্ঞেস করছ আম্মু? আর এই শাড়ি কেন আনছো?
এই কথা বলে সারা শাড়ি থেকে চোখ সরিয়ে মায়ের দিকে তাকাতেই থমকে গেল।
মায়ের চোখ দিয়ে নিঃশব্দে পানি গড়িয়ে পড়ছে।
— আম্মু! এই আম্মু! তোমার কী হয়েছে? তুমি কাঁদছ কেন? আমি কি কিছু বলেছি? বলো আম্মু…
সারা দ্রুত মায়ের হাত ধরে ফেলল।
শারমিন বেগম মাথা দু’দিকে নাড়িয়ে কিছু না বলে মেয়েকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করলেন।
সারা হতভম্ব হয়ে গেল। নিজের সব ভাবনা একপাশেরেখে মায়ের পিঠে আলতো করে হাত রাখল।
সময় যেন নিজের গতিতে চলতে লাগল।
কিছুক্ষণ এভাবেই মা–মেয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে শারমিন বেগম মেয়ের থেকে আলাদা হলেন।
মেয়ের গালে হাত রেখে ভাঙা কণ্ঠে বললেন—
— মারে… আমাকে তুই ক্ষমা করে দিস।
মায়ের মুখ থেকে এমন কথা শুনে সারা অবাক হয়ে বলল—
— আম্মু, কিসের জন্য ক্ষমা চাইছ? কী হয়েছে? একটু বলো না… আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।
শারমিন বেগম চুপ করে রইলেন।
সারা উৎকণ্ঠা নিয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে রইল।
নীরবতা ভেঙে ভাঙা কণ্ঠে শারমিন বেগম বলতে শুরু করলেন—
— সারা… তোর আজকে বিয়ে। তোর আব্বু তার বন্ধুর ছেলের সঙ্গে তোর বিয়ে ঠিক করেছে। তুই কলেজে চলে যাওয়ার পর তোর বাবা আমাকে জানিয়েছে। ওনারা সন্ধ্যায় আসবে, তোকে বিয়ে করে নিয়ে রাতেই ঢাকা চলে যাবে।
সারা যেন আকাশ থেকে নিচে পড়ে গেল।
কানে শুধু একটাই কথা বারবার বাজতে লাগল—
“তোর আজকে বিয়ে।”
তার সারা শরীর কাঁপতে শুরু করল।
চোখে পানি টলমল করছে, গলা দিয়ে আর কথা বেরোচ্ছে না।
মায়ের দিকে তাকিয়ে কান্না মেশানো ভাঙা কণ্ঠে সে বলল—
— মা… এইটা কী শুনাইলা? আমার… বিয়ে?
দুই হাত অস্থিরভাবে নাড়াতে নাড়াতে কাঁপা কণ্ঠে বলল—
— না… না… এটা হতে পারে না। তুমি আমার সাথে মজা করছ, তাই না আম্মু? বলো না… এটা সত্যি না, মিথ্যা?
শারমিন বেগম ভাঙা কণ্ঠে বললেন—
— না রে মা… এটা সত্যি।
এই কথাটা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই সারার কান্না যেন বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে এলো।
হঠাৎ করেই সে মায়ের পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়ল। দুই হাতে মায়ের পা জড়িয়ে ধরে কাঁপা, ভাঙা কণ্ঠে বলতে লাগল—
— না… না আম্মু… আমি বিশ্বাস করি না। তোমরা আমার সাথে এমনটা করতে পারো না।
— ও মা… আমি তোমার পায়ে পড়ি। বাবাকে বলো না, আমাকে যেন বিয়ে না দেয়। ও মা, মাগো… আমি তো তোমাদের সব কথা শুনেছি, কখনো অবাধ্য হইনি। তাহলে কেন তোমরা আমার জীবনটা এভাবে শেষ করে দিচ্ছ?
একটু থেমে আবার যেন বুক ফেটে বেরিয়ে এলো তার কথা—
— ও মা… মাগো… তুমি বাবাকে বললে বাবা নিশ্চয়ই শুনবে। তুমি একটু বলো না আম্মু… প্লিজ বলো… আমাকে যেন বিয়ে না দেয়।
                 
           চলবে
 

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন