#নিকাহ্(১৪)
#ফিজা_সিদ্দিকী
বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসে আছেন আজমল সাহেব। আজ দেড়মাস হয়েছে মেয়েটার খোঁজ নেই। একা থাকলে মনটা যার ভীষণ পোড়ে। যতই হোক, একমাত্র মেয়ে কিনা! ছোটো থেকেই বড্ড আদরে বড় করেছেন মেয়েটাকে। অথচ তার নরম, মুখ ফুটে নিজের মনের কথা না বলতে পারা মেয়েটা কখন যে বাবা মায়ের ছত্রছায়ায় থেকে এতো বড় হয়ে গেল, টেরই পাননি তিনি। মেয়েটা যেন তার হঠাৎ করেই এত বড় হয়েছে যে ব্যাপারটা রীতিমত অস্বাভাবিক লাগছে তার। কিন্তু বিশ্বাস না করেও কোনো উপায় নেই। পাড়ার কয়েকজনও দেখেছে তাকে একটা ছেলের হাত ধরে পালাতে। এরপরও কীভাবে অবিশ্বাস করেন তিনি?
তৃষার চাচাতো ভাই ফাইয়াজ রোজ বিকালে আসে এ বাড়িতে। আজমল সাহেবকে নিয়ে বের হয় বাইরে। স্ট্রোক করার পর থেকে হাঁটা চলা আর করতে পারেন না তেমন। ফাইয়াজ হুইলচেয়ারে করে নিয়ে যায় তাকে। কখনও গ্রামের কোনো ক্ষেতে আবার কখনও পুকুরপাড়ের ধারে বাঁধানো শানঘাটে। এরপর এটা ওটা নানান বিষয় নিয়ে গল্প গুজব জুড়ে দেয়। ছেলেটার এমন আন্তরিকতায় ভীষণ তৃপ্তি পান নূরনেহার। যেখানে নিজের মেয়ে তাদের এতদিনের সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে মুখে চুনকালি মাখিয়ে একটা ছেলের হাত ধরে পালিয়েছে, একটা বারের জন্য পিছনে ফিরে দেখেনি আর। এতগুলো দিনে একবারও খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেনি তাদের, সেখানে এই ছেলেটা কি অবলীলায় সন্তানের মতো ভরসার কাঁধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনও তার মনে পড়ে সেদিনের ঘটনা, যখন স্বামীকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে হন্তদন্ত হয়ে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছিলেন পাগলের মতো, কেউ এগিয়ে আসেনি তাদের কাছে। একমাত্র এই ছেলেটা ছিল। তাকে বসিয়ে নিজেই সামলেছে সব কাজ।
শিক্ষাদীক্ষায় কম হওয়ায় ভাশুরের পরিবারকে খুব একটা ভালো নজরে দেখতেন না নূরনেহার। এমনকি নিজের মেয়েটাকেও ওই বাড়ির কারোর সাথে সেভাবে মিশতে দিতেন না। অথচ আজ তাদের চরম বিপদে তারাই পাশে দাঁড়িয়ে ঢাল হয়ে।
"পুকুরের ওপারের জমিটা বেচবে বলছিলে না, চাচা?"
আজমল সাহেব মাথা নাড়লেন। বললেন,
"জমিজমা ছাড়া আর ভরসা কই? আমার কত ওষুধ আছে, দুই লোকের পেট চালানোও লাগবে, এছাড়া আর উপায় কী?"
"আমি একটা ভালো লোক পাইছি। তুমি চিন্তা কোরো না, আমি কথা বলমু নে।"
আজমল সাহেব আশ্বস্ত হলেন যেন। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বসে বসে গল্প করলেন আরও কিছু। এরপর তাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে এলো ফাইয়াজ। ছেলেটা চলে যেতেই আজমল সাহেব এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন সেদিকে। মনে মনে ভাবলেন, এই বয়সের ছেলেরা এত দায়িত্বশীল হয়না। তারা তো বন্ধুবান্ধব নিয়ে টো টো করায় ব্যস্ত থাকে। অথচ এই ছেলেটা কী সুন্দর করে দুই পরিবার সামলাচ্ছে। সেই সাথে ঢের আফসোসের সুরে বিড়বিড় করে বললেন,
"বড্ড ভুল করেছি। আমি মানুষ চিনতে পারিনি। ঘরের মেয়েটাকে ঘরেই দেওয়া উচিত ছিল।"
______________________
ঘর পেরিয়ে বামদিকের মাঠের দিকে পা বাড়ালো তৃষা। সেখানেই রয়েছে রায়েফ। খাবার ছেড়ে কিছুক্ষণ আগেই উঠে এসেছিল সে। জরুরি তলবে ডাক পড়েছিল তার। কিন্তু মিনিট পনেরো পার হয়ে গেলেও ফিরল সে এখনও। তৃষা অপেক্ষা করছিল তার জন্য। রায়েফকে এখনও ফিরতে না দেখে হাত ধুয়ে ত্রস্ত পায়ে বেরিয়ে এলো সে।
মাথার উপর দুপুরের টানটান রোদ। ঘরের বাইরে পা ফেলতেই রোদ্রের ঝংকারে চোখটা কুঁচকে এলো সহসাই। উত্তাপে শরীর উষ্ণ হলো। শাড়ির আঁচল দিয়ে পিঠ সহ উন্মুক্ত হাতটুকু ঢেকে নিয়ে তৃষা অগ্রসর হলো ভদ্রলোকের বৈঠকখানার দিকে। এ জরুরি কোনো আলাপ, আলোচনা কিংবা পরিকল্পনা সবটা এখানেই হয় তার।
গোসলের সময় পায়ের নূপুরজোড়া খুলেছে সে। এরপর আর পরার কথা মনে নেই। অগত্যা পানের রিনিঝিনি শব্দও নেই আজ। হাঁটতে গিয়ে ব্যাপারটা খেয়াল করলো সে। মনে মনে ঠিক করলো ফিরে গিয়ে নূপুর জোড়া পায়ে জড়াবে আগে।
"শরীরের অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে তার। আয়দারুস আলি শালিশ ডেকেছে। পাগলা কুত্তার মতো পিছে পড়ে আছে আমাদের।"
"ছেলের শোকে নিজে না টপকে যায় আবার, দেখেশুনে হাত দিতে বলে দিস। আমি মানুষ ভালো, কিন্তু আমার রাগ ভালো না। যে বাঘ ঘুমিয়ে আছে কয়েক বছর ধরে, তাকে যেন অযথা না জাগায়।"
"কয়েকদিন বাড়িতেই থাক। পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হতে দে।"
সুলায়মান আর রায়েফের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ। এই একমাত্র ব্যক্তি যার সাথে তোকারির সম্পর্ক। রায়েফের অন্তর থেকে বাহির যার নখদর্পণে, তাই খুব একটা ভয় পায়না তাকে। তাই বর্তমানে রায়েফের তীক্ষ্ণ নজরের সামনে পড়েও যথেষ্ট স্বাভাবিক সে।
"আমি ভয়ে লুকিয়ে থাকব? আমি ভয় পাব ওই বেশ্যার ঘরে জন্ম নেওয়া গোলামের পুতকে?"
কথাখানা বেশ থেমে থেমে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল রায়েফ। দুই চোখের সবুজাভ মনিদুটো রোদ্দুরের তেজে জ্বলজ্বল করছে। যেন হিংস্র কিছু ভয় করছে তার শরীরে। মুহূর্তেই খানিকটা নরম হলো সুলায়মান। তাকে বুঝ দেওয়ার ভঙ্গিতে বলল,
"আমি এমন কিছুই বলছি না। কিন্তু এরিদের এমন অবস্থা দেখে ওর বাপ উন্মাদ হয়ে আছে। মরিয়া হয়ে আছে তোর ক্ষতি করার জন্য। যে কোনও উপায়ে তোকে ধ্বংস করতে লেগে পড়েছে। শুধু একটা সুযোগ, একটা সুযোগ পেলেই নিজের ছেলের এমন করুন অবস্থার বদলা নেবে সে। সে এখন শুধু আয়দারুস আলী না, এক বাপ। সেই বাপ, যার চোখের সামনে তার ছেলের হাত, পায়ের হাড়গুলো গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে পুরো শরীরটা একটা মাংসপিন্ডের মতো পড়ে আছে। ধুঁকে ধুঁকে নিঃশ্বাস নিচ্ছে সে। পাকস্থলী পর্যন্ত ক্ষত হয়েছে......."
আচমকা কারোর চাপা গোঙানির শব্দে সম্মিত ফিরল দুজনের। কথা মাঝপথে বন্ধ করে দিয়ে দুজনে একসাথে ফিরে তাকালো শব্দের উৎসের দিকে। আর সাথে সাথেই চাপা আতঙ্ক ছেয়ে পড়ল সুলায়মানের মুখ জুড়ে। অথচ রায়েফ শান্ত।
মুখের উপর দুই হাত চেপে নিজের কান্না নিবারণের বৃথা চেষ্টা চালাচ্ছে তৃষা। অতঃপর শরীরটা কেমন যেন টলে উঠলো তার। রায়েফ দ্রুত চেয়ার ছেড়ে উঠলো। সুলায়মানকে ফেলে এগিয়ে গেল তৃষার দিকে। শরীর জুড়ে তার রাগের আবহ। অথচ তৃষার সামনে এগিয়ে গেল একেবারে শান্তভাবে।
"লোকটার অবস্থা এখন কেমন? বেঁ... বেঁচে আছে?"
কথা বলার তালে তালে মৃদু কাঁপছে তৃষা। বিষয়টা খেয়াল করা মাত্রই রায়েফ আরও দ্রুত পা বাড়ালো। তৃষা অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়ার আগেই শক্তপোক্ত হাত দিয়ে পেঁচিয়ে ধরলো তার কোমর। নরম আচরণের পরিবর্তে কাঠকাঠ কন্ঠে বলল,
"রায়েফ কায়রেলের বউকে স্পর্শ করার পরও ও এখনও বেঁচে আছে, এটা ওর পরম সৌভাগ্য।"
"কে..কেন করলেন এমন?"
"মায়া হচ্ছে? ওই কুত্তার বাচ্চার জন্য জন্য মায়া হচ্ছে?"
রায়েফের মৃদু গর্জনে কেঁপে উঠলো সে। থেমে থেমে কোনোক্রমে বলল,
"কারোর এমন অবস্থা শুনলে মায়া লাগবে না?"
কথাটা যেন আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করলো। মুহূর্তেই শান্ত বরফের মত চোখজোড়া রক্তবর্ন ধারণ করলো। তৃষাকে নিজের বুক থেকে সরিয়ে হুড়মুড় করে ঘরে ঢুকলো। দেওয়ালে ঝোলানো তার অতিপ্রিয় তলোয়ারটা ডানহাতে নিয়ে বামহাতে তালুতে সোজা টান মারল। আর সাথে সাথেই ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে টপ টপ করে মেঝেতে গড়াতে লাগলো।
তৃষা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকালো একপলক রায়েফের দিকে। এরপর হতবিহ্বল চোখে তাকালো তার বাম হাতের দিকে। ততক্ষণে তলোয়ারটা দ্বিতীয়বারের মতো তুলে ধরেছে সে। তৃষা ছুটে গিয়ে হাত হাত আঁকড়ে ধরল। সাথে সাথে কানে ভেসে এলো ধীর একটা কন্ঠস্বর,
"মায়া লাগে?"
তৃষা তৎক্ষনাৎ কোনো কথা বলতে পারল না। কাঁপা দুই হাতে তার বাম হাতটা আলতো করে করে ধরে দুইপাশে নেতিবাচক মাথা নাড়ালো। রায়েফের ভ্রু কুঁচকে এলো সহসা। তেজালো কন্ঠে দ্বিতীয়বারের মতো বলে উঠলো,
"মায়া লাগে না?"
তার কণ্ঠে যেন একরাশ হতবিহ্বতা। কল্পনাতীত কিছু ঘটার হতাশা। তৃষা তাকে আর খুব বেশি দ্বিধাদ্বন্দ্বে রাখলো না। রক্তাক্ত হাতটার দিকে নজর স্থির রেখে উষ্ণ কণ্ঠে বিড়বিড় করে বলল,
"মায়া তো পরের মানুষের জন্য, দস্যু সাহেব। আপনার শরীরের প্রতিটি ক্ষত আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়।"
মুহূর্তেই তৃষার পলক পড়ল। আর একফোঁটা অশ্রুকণা নির্লিপ্তভাবে গড়িয়ে পড়লো রক্তস্নাত হাতের তালুতে। লবণাক্ত অশ্রুজলে নাকি তার কথায় কিজানি! রায়েফের বুকে একরত্তি কম্পন টের পাওয়া গেল। বুকের ঠিক মাঝবরাবর একটা সরু তীর বিঁধল যেন। যন্ত্রণায় হাঁসফাঁস করতে করতে দুইকদম পেছানো সে।
মাথার পিছনে দুইহাত চেপে বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসে আছে রায়েফ। পরণে তার গতরাতের বস্ত্র। জানলার বাইরে দৃষ্টিপাত করে সময়টা টের পেতে খুব বেশি বেগ পোহাতে হলো না তাকে। ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে সবেমাত্র। তার পাশে গুটিসুটি মেরে বাহুর উপর মাথা ঠেকিয়ে শুয়ে তৃষা। দেখেই বোঝা যাচ্ছে বেশিক্ষণ হয়নি সে ঘুমিয়েছে। অবশ্য ঘুমাবেই বা কিভাবে? গোটা রাতভর একবার করে একটু বালিশে মাথা ঠেকায় আর একবার করে উঠে পরখ করে তার বামহাতটা আবার ঘুমের ঘোরে ব্যথা পেল কিনা! কোনোভাবে আবার রক্ত বের হলো কিনা! অসাবধানে কোথাও লেগে চোট পেল কিনা!
এসব করতে করতে শেষ রাতের দিকে ঘুমিয়েছে মেয়েটা। রায়েফ সেদিকে তাকালো না বেশিক্ষণ। মাথাটা বাঁকা করে পিছনে হেলিয়ে দিলো। মাথার মধ্যে যন্ত্রণা হচ্ছে তার ভীষণ রকম। সাথে অস্বস্তির দোলাচল। নিজের সত্তা হারিয়ে ফেলছে সে দিন দিন এই মেয়েটার সন্নিকটে এসে। অথচ এই সম্পর্কের স্থায়িত্ব ক্ষণকালের। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নেই তার এই সম্পর্কটা নিয়ে। এই বিয়ে, সংসার, বাচ্চা কাচ্চা তার দ্বারা হবে না বলেই তো এতগুলো বছর এসব থেকে পালিয়ে বেরিয়েছে। কিন্তু এই মেয়েটার সাথে সাক্ষাৎ হওয়ার পর থেকে আর কোনো কিছু ঠিক নেই। তার সাজানো দাবার ঘুটিগুলো এলোমেলো করে দেয় এই মেয়েটা। তার বছরের পর বছর ধরে সাজানো পরিকল্পনা ধুলিস্যাৎ করে দেয়।
নাহ! এই ক্ষণিকের সম্পর্ককে বড্ড বেশীই সুযোগ দিয়ে ফেলছে সে। অধিকার দিয়ে ফেলছে তার মস্তিষ্কে চড়াও হওয়ার। এভাবে সজ্ঞানে নিজের নিয়ন্ত্রণ অন্য কারোর হাতে তুলে দেওয়া মানায় না তাকে। পরপরই একটা শক্ত সিদ্ধান্ত নিলো সে। আর উঠে পড়লো বিছানা থেকে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে রায়েফকে কোথাও দেখা পাওয়া যায়নি। যখন সে বাড়ি ফিরল তখন দুপুর। ঘেমে নিয়ে একাকার হয়ে ঘরে ঢুকতেই তৃষা এক গ্লাস পানি নিয়ে দৌড়ে ঘরে ঢুকলো। রায়েফের দিকে গ্লাসটা বাড়িয়ে দিয়ে একনজর তাকালো তার হাতের দিকে। সাদা রঙের ব্যান্ডেজটা রক্তে রঞ্জিত। ব্যান্ডেজ চুঁইয়ে রক্ত পড়ছে তখনও। অথচ রায়েফের হুঁশ নেই সেদিকে। চেয়ারে বসে মাথা পিছনে হেলিয়ে দিয়েছে সে। কপালের উপর আড়াআড়িভাবে রাখা তার ডানহাত। বামহাতটা ঝুলছে চেয়ারের হাতল থেকে।
তৃষা পানির গ্লাসটা পাশে রেখে আলতো হাতে তার বামহাতটা ছুঁয়ে দিতেই চোখ মেলে তাকালো রায়েফ। এক ঝটকায় নিজের হাতটা টেনে সরিয়ে নিয়ে তীক্ষ্ণ চোখে তাকালো তৃষার দিকে। তৃষা চমকালো। হতবিহ্বল চোখে তার দিকে তাকিয়ে মৃদু সুরে বলল,
"রক্ত বেরোচ্ছে। ব্যান্ডেজ বদলাতে হবে। দেখি, হাতটা এগিয়ে দিন।"
"বেরিয়ে যান।"
দ্বিতীয়বারের মতো ভড়কালো তৃষা। অসহায় চোখে একপলক তাকালো রায়েফের দিকে তাকিয়ে এরপর তাকালো তার হাতের দিকে। শুকনো একটা ঢোক গিলে চলে যাওয়ার বদলে আরও খানিকটা এগিয়ে গেল তার কাছে। দ্বিতীয়বারের মতো তার বাহু স্পর্শ করতে করতে বলল,
"আপনি চিন্তিত কোনোকিছু নিয়ে? কিছু হয়েছে? এমন করছেন কেন? কাল তো...."
কথাটা সম্পূর্ণ করতে পারলো না সে। তার আগেই চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো রায়েফ। তীক্ষ্ণ কন্ঠে গর্জে উঠল,
"কাল কী? বলুন, কী হয়েছে কাল? আপনাকে আমি অধিকার দিয়েছি আমার এত কাছে আসার? দিয়েছি কী?"
তৃষা হতবিহ্বল দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলল,
"আ.. আপনি আমার ঠোঁটে..."
"নেশায় ধরে ভুল করেছিলাম। আমার থেকে আবেগ অনুভূতির আশা রাখবেন না। আপনাকে ঘর দিয়েছি, পরিচয় দিয়েছি, সম্মান দিয়েছি। সাত খাটে রাত কাটানোর বদলে একটা স্থায়ী খাট দিয়েছি। এটুকুই কি যথেষ্ট নয়?"
তৃষার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো সাথে সাথে। কথাগুলো শুধু শব্দ ছিল নাকি ভারী কোনো পাথর বুঝল না সে। শুধু টের পেল এই শব্দগুলো পাথরের ন্যায় তার বুকে চেপে বসলো এক এক করে। ফলস্বরূপ নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তার। দম বন্ধ হয়ে আসছে। লজ্জায়, অপমানে বুঁদ হয়ে সাথে সাথেই উঠে দাঁড়ালো সে। এরপর ত্রস্ত পায়ে ঘর ছাড়ল। ছাড়ল অন্দরমহল। যেন কেউ পিছন থেকে ধাওয়া করেছে তাকে। কে সে? হয়তো রায়েফের মুখ থেকে উচ্চারিত হওয়া সত্যগুলো। যে সত্য সে মানতে চায়নি এতদিন। বিশ্বাস করতে চায়নি তার আপনজন তাকে ঠেলে দিয়েছিল এমন এক অমানিশায়। আর আজ যখন সেই সত্যর মুখোমুখি হলো, তখন জানলো নতুন আর এক সত্য। যেটা হলো, রায়েফ কায়রেল তাকে করুণা করেছে। শুধুমাত্র তার ইজ্জত রক্ষার্থে তাকে নিজের জীবনের সাথে জড়িয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। একটা ভিক্ষা, করুণা আর দয়ার সম্পর্ক এটা।এই কী ছিল তবে তার ভবিতব্য!
#চলবে.....
রিচেক দেওয়া হয়নি। ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।