গোধূলির_গাঙচিল
পর্ব-১৫
‘ম্যাম গতরাতে মার্ডার হওয়া মেয়েটির নাম– সেলিনা আহমেদ। তিনি বিবাহিত — স্বামীর ইলেকট্রনিকস এর ব্যাবসা রয়েছে। তিনি গৃহিণী — দুটি মেয়ে রয়েছে তার। একজনের বয়স এগারো - অন্যজনের সাত বছর। তার স্বামী ওয়াজেদ হোসাইনকে ডাকা হয়েছে।’
রিমির কথা শেষ হতেই কনস্টেবল এসে বললো—
‘ম্যাম ওয়াজেদ হোসাইন এসেছেন।’
কনফেশন রুমে মুখোমুখি বসে আছে ওয়াজেদ - শতাব্দী।লোকটির বয়স পয়তাল্লিশ হবে হয়তো। টাক পড়া মাথা, সম্পূর্ণ মুখ জুড়ে ক্ষত - এবড়ো থেবড়ো। লোকটির চোখে স্পষ্ট ভয়ের ছাপ৷ এটা দু ক্ষেত্রে হতে পারে — প্রথমত অপরাধ করলে, দ্বিতীয়ত পুলিশকে ভয় পেলে!
শতাব্দী জিজ্ঞেস করলো—
‘লাশ পাওয়া গেছে আপনাদের বাড়ি থেকে মিনেট পনেরো দূরত্বের ব্যাবধানে।’
‘জ্বি জ্বি স্যার! আসলে বাড়িটি একটু গ্রাম্য পরিবেশে তো.. ওদিকটায় তেমন কারো যাতায়াত নেই।’
‘লাশ পাওয়া গেছে ভোর সাড়ে পাঁচ টায়। এতো সকালে সেলিনা সেখানে কী করছিলেন?’
‘আমাদের বাড়িতে বেশ কিছু দিন ধরেই পানির সমস্যা। ফজরের নামাজ পরবে বলে ওজু করতে গিয়েছিলো সে।’
‘আপনার সাথে তার সম্পর্ক কেমন ছিলো?’
‘আ - আ - মার সাথে বেশ ভালো ছিলো।’
‘মিথ্যা বলছেন আপনি। মৃতদেহের শরীরে নির্যাতনের ছাপ স্পষ্ট। ভালোয় ভালোয় সব সত্যি বলুন। না হলে অন্য পন্থায় কথা বার করতে বাধ্য হবো।’
এবার লোকটি ভয়ে চুপসে গিয়ে — দুবার ঢোক গিললো।
‘আসলে আমার একটা ছেলের খুব সখ ছিলো। পরপর দুইটা মেয়ে হওয়াতে আমি বিরক্ত ছিলাম। এর পর যখন জানলাম তৃতীয় জনও মেয়ে হবে তখন রাগে জিদে প্রায়সই তার গায়ে হাত তুলতাম।’
‘আমার মন চাচ্ছে তোকে উল্টো ঝুলায়ে পা থেকে মাথা অবদি লোহার রট গরম করে পেটাই। তুই জানিস একজন মায়ের গর্ভাবস্থায় ঠিক কতটা কষ্ট - যন্ত্রণা হয়? আর এ সময়ে এসেও তোর মতো নোংরা মস্তিষ্কের লোকেরা ছেলে মেয়ের ভেদাভেদ করিস? মেয়েরা কিছু করতে পারে না?’
‘,জ্বি ম্যাম পারে।’
‘তারপর কী হলো সেটা বল?’
‘আমি তাকে জোর করলাম এবোয়েশন করাতে। তখন সে গিয়েওছিলো কিন্তু বাচ্চার বয়স বেশি হওয়াতে ডাক্তার না করে দিয়েছিলো।’
‘না করে দিয়েছিলো?’
‘না করেছিল প্রথমে এরপর বললো টাকার অঙ্ক বাড়াতে হবে। আমরা তাই মেনে নিয়েছিলাম - যেহেতু আগে কয়েকজন টাইম ফিক্সড করে নিয়েছিলো তাই আমাদের টা একটু লেইটে হবে বলে দিয়েছিলো ক্লিনিক হতে।’
‘কোন ক্লিনিক?’
‘ব্রাইট ব্লাড ক্লিনিক৷’
_____________
মিটিং রুমে সকলে অপেক্ষা করছিলো শতাব্দীর জন্য। তুরাগ সূকন্যা মার্ডার কেইসের ফাইল উল্টে পাল্টে দেখছে।
শতাব্দীকে আসতে দেখে সকলেই উঠে দাড়ালো-
শতাব্দী বোর্ডে পরপর পাঁচটে ছবি পিন করলো। প্রীতী,সুশ্রী, রুবাইয়াত,সুকন্যা, সেলিনা।
চেয়ারে বসতে বসতে বললো — আবির খোঁজ লাগাও ব্রাইট ব্লাড ক্লিনিক। এখানে লোকচক্ষুর আড়ালে অপরাধ করা হচ্ছে।
তুরাগ মাথা তুলে বললো—
‘ব্রাইট ব্লাড??’
শতাব্দী মাথা নেড়ে সম্মতি জানাতেই সে বললো-
‘সুকন্যা নিজেও ওখানেই এবোয়েশন করতে এপোয়েন্ট নিয়েছিলো!’
‘দুয়ে দুয়ে চার — আবির যতদ্রুত সম্ভব খোঁজ লাগাও মনে হচ্ছে সকল ভিক্টিমরা ওখানকারই পেশেন্ট!’
______________
কনফেশন রুমে সকল ভিক্টিমদের পানি পান করতে দেয়া হয় এবং এরপর স্যাম্পল কালেক্ট করে পুলিশের ডাটায় রাখা হয়। সেসব সাসপেক্টদের সাথে একের পর এক মেলানো হচ্ছে সিগারেটের ডিএনএ স্যাম্পল। এবং অবশেষে শতাব্দীর ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটলো। ডিএনএ স্যাম্পল ম্যাচের পেপারটি প্রিন্টআউট করে সে চললো থানায়। অফিস কক্ষে প্রবেশ করে নিজ চেয়ারে বসলো সে। টেবিলে বিশেষ ফাইল— খুলে শতাব্দী দেখলো সেই একই রিপোর্ট যেটা সে আজ কালেক্ট করেছে সেটি।
এ ফাইলটি গত দিন তিনেক আগে কনস্টেবল এনেছিলো কিন্তু শতাব্দীতো ছুঁয়েও দেখে নি। এতবড় ভুল সে কীভাবে করলো? পরক্ষণেই মনে প্রশ্ন জন্মালো কে পাঠিয়েছে এটা? সে কেনই বা শতাব্দীর হেল্প করছে?
খামটি উল্টে পাল্টে দেখলো শতাব্দী। Mr. X এর একটি ছোট্ট ছিল মারা। কে এই Mr.X? শুভাকাঙ্ক্ষী? নাকি এ নিজেই খুনী?
আবির কক্ষে প্রবেশ করেই বললো—
‘ম্যাম ব্রাইড ব্লাড ক্লিনিক এর কোন লাইসেন্স নেই। ক্লিনিকের আড়ালে এরা বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজ করে। এই নিন এ মাসের এবোয়েশন এর পেশেন্ট দের লিস্ট এবং সিডিউল!’
শতাব্দী কাগজে চোখ বুলিয়ে বুঝলো তার সন্দেহই সঠিক। প্রীতী, সুশ্রী,রুবাইয়াত, সুকন্যা, সেলিনা এরা প্রত্যেকেই ছিলো ক্লিনিকের সাথে চুক্তিবদ্ধ। আর একটি নাম জ্বলজ্বল করছে কাগজটিতে — পরী হালদার।
শতাব্দী কেবলই মুসকি হাসলো।
____________
সাফায়াত মিস আইরিনের মুখোমুখি বসা!
মিস আইরিন চোখের চশমার কাঁচ ভেদ করে হাতে থাকা ফাইলটির একটির পর একটি পেজ উল্টাচ্ছেন। এর পরে তিনি ফাইলটি বন্ধ করে সাফায়াতের দিকে তাকিয়ে বললেন-
‘মি.খান, শতাব্দীর অতীত স্মৃতি ছিলো ভীষণ ভয়াবহ। দীর্ঘ সময় ধরে সে ফিজিক্যাল এসাল্টের শিকার । কিশোরী মনে এসব স্মৃতি একটা সময় ভয়াবহ ট্রমার রূপ ন্যায়। ঠিক তখন সে আক্রান্ত হয় — Delusion of control এ। তার মনে হতে থাকে মস্তিষ্কে নতুন কোন সত্তা তাকে কন্ট্রোল করছে। তাকে প্রতিশোধ নিতে উদ্ভুদ্ধ করছে। প্রতিশোধের নিঁখুত প্ল্যান করে তাকে বারংবার প্রতিশোধ নিতে বলছে। এবং এ সত্তার তাড়নায় সে নিজের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে খুন করেছিলো - পরিবারের সদস্য দের।
এর পর তার পৃথিবী ছিলো কেবল তার বাবাকে নিয়ে। কিন্তু যখন সে তার বাবাকেও নিষিদ্ধ পথের পথিক হিসেবে কল্পনা করলো তখন তার পুরোনো ট্রমা আবার ট্রিগার করলো। সে আবার ধীরে ধীরে নিজের কন্ট্রোল হারিয়ে নিজের বাবাকেই খুন করলো। তখন কেবলই তার মনে হচ্ছিলো সে যা করছে তাই সঠিক।কিন্তু যখন সে স্বজ্ঞানে ফিরলো তখন নিজের কাজে হতভম্ব হয়ে নিজেকে ধাতস্থ করতে চাইলো যে খুন করেছে সে শতাব্দী নিজে নয়।সে Dissociative Amnesia নামক বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে বিগত ষোলো বছরের সমস্ত স্মৃতি ভুলে যায়। এরপর তাকে যা বোঝানো হয়েছে সে তাই মেনেছে। কিন্তু মানুষের সাব-কনশাস মাইন্ডে সকল ঘটনাগুলোই প্রিজারভ থাকে। তার অতীতের ঘটনা গুলোই তার দুঃসপ্ন হয়ে প্রতিনিয়ত তাকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলো যে সে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভুলে গিয়েছে।’
সাফায়াত এসবের কিছুই বুঝলো না।তার মস্তিষ্কে শব্দগুলো লাফালাফি করছিলো। সে আধো আধো ভাবে জিজ্ঞেস করলো—
‘ম্যাম শতাব্দীর কী কখনো এসব স্মৃতি আবার ফিরে আসবে? সে কী এখন সুস্থ?’
‘এসব স্মৃতি ফিরে আসবে না কখনোই কিন্তু ভয় হচ্ছে সে কী এখনও Delusion of control এ আক্রান্ত কিনা! তবে তার অযাচিত সিদ্ধান্তে করা নতুন কোন ভুলের পরে আবার ও স্মৃতি হারানোর সম্ভাবনা আছে!’
‘আমরা কী তাকে কোন ভাবেই সুস্থ করতে পারি না?’
‘এ রোগটি বেশ বিরল - আমাদের এ নিয়ে রিচার্জ করতে হবে। তবে শতাব্দীকে বিশেষ নজরে রাখবেন।’
________________
গোধূলি -সন্ধ্যার সন্ধিক্ষণে শতাব্দী কালো হুডি পরে হাঁটছে নির্জন পথ ধরে। বেশ কিছুক্ষণ হাঁটার পরে এক ভাঙা বাড়িতে ঢুকলো সে - জিজ্ঞেস করলো
‘এনেছিস?’
দুটি ছেলে তাকে দেখে এগিয়ে এসে সালাম দিলো। বললো,
‘জ্বি ম্যাম! যে মডেল বলেছিলেন সেটাই। এই দুইটাই বেনামী।এ সপ্তাহেই এসেছে!’
শতাব্দী হাতে নিয়ে ওজন পরখ করেই বুঝলো খাটি মাল। কাগজে মুড়িয়ে কালো সপিং ব্যাগে নিলো।
‘ম্যাম পাক্কা আড়াই লাখ।’
শতাব্দী পিঠে ঝুলানো ব্যাগটি খুলে ছয় বান্ডেল টাকা এগিয়ে দিয়ে বললো —
‘তিন লাখ। গাঁ ঢাকা দে। আশা করি ছয় মাসের মধ্যে তোদের দেখবো না।’
‘ম্যাম টাকার অঙ্ক বেশি - আর কোন কাজ আছে?’
‘হ্যা!’
ছেলে দুটি একে অপরর দিকে চাওয়া চাওয়ি করলো। তারা জানতো এমন কিছু হবে।
শতাব্দী পকেট থেকে একটি ছবি এবং কাগজে লেখা ঠিকানা বার করলো।
‘মেয়েটির উপরে নজর রাখ। কাক পক্ষিতেও যেন টের না পায়। কোন ঘাপলা দেখলে সাথেসাথে আমাকে ফোন করবি। আমি স্পটে পৌঁছনোর সাথে সাথে গাঁ ঢাকা দিস!’
‘ইয়েস ম্যাম!’
‘আশা করি কাজে কোন ত্রুটি হবে না।’
_____________________
‘মনে হচ্ছে আজ রাতেই কিছু না কিছু হবে। এখন খুন গুলো বেশ দ্রুত হচ্ছে। খুনি বেপরোয়া আচরণ করছে। এটার চেয়ে ভালো সুযোগ আর হবে না।’ (শতাব্দী)
শতাব্দী অফিস কক্ষে পায়চারি করতে করতেই নিউজ দেখলো— সিনিয়র অফিসার তুহিন মৃধার উলঙ্গ লাশ পেয়েছে পুলিশ—বুড়িগঙ্গার ঘাটে। যার গলায় ঝুলানো পেইন ড্রাইভে ছিলো তার সকল কুকর্মের ফর্দ। শতাব্দীকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে সেবার বুশরা মার্ডার কেইসের খুনি/সাসপেক্টকেও সেই খুন করিয়েছিলো। সবচেয়ে বড় কথা সে নারী পাচার চক্রের সাথে ছিলো।
শতাব্দী বেশ অবাক হলো — এর সাথে মি. এক্স এর কী কোন সম্পর্ক থাকতে পারে?
কে বা কারা? তারা কেনোইবা শতাব্দীকে সাহায্য করলো?
____________
সারা রাত অপেক্ষা করেও শতাব্দী কোন ফোন পেলো না। ঘড়ির কাটায় কাটকাট তিনটে আঠেরো - ফোন পেয়েই শতাব্দী দ্রুত গাড়ি নিয়ে ছুটলো লোকেশনে।
আধো আধো আলোয় স্পষ্ট জলজল করছে মেয়েটির চোখ - দু হাত -দু পা, মুখ বেঁধে মেঝেতে ফেলে রাখা হয়েছে মেয়েটিকে। সে পরী হালদার। জড়া জীর্ণ রুমটির এক পার্শ্বে খুনি সায়ানাইড ইনজেকশন এ নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে..
হঠাৎ সামনে দাঁড়ানো মেয়েটির অবয়বে সে বেশ ভড়কালো— ঠিক তার মতোই ড্রেস আপ। কালো হুডিতে মুখ ঢাকা! শতাব্দীর ইশারায় ছেলে দুটি পরীকে তুলে নিলো। খুনি কিছু বুঝে উঠার আগেই শতাব্দী এক লাথিতে তার হাত থেকে সায়ানাইড এর ইনজেকশন টি ফেলে দিলো। খুনি শতাব্দীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো মেঝেতে এরপর ছুটলো তাদের পিছু। শতাব্দী তখনই নিজের বন্দুক বার করে শুট করলো খুনীর বাম পায়ে। সাথেসাথে সে মেঝেতে লুটিয়ে পরলো। বাম হাতে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়াতে চাইলেই শতাব্দী তার বাম হাতেও একটি গুলি ছুড়লো। মূহুর্তেই ঘায়েল হয়ে গেলো সে। ততক্ষণে পরীকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিয়েছে শতাব্দীর লোকেরা।
__________________
শতাব্দী বাসায় ফিরে ডিপ সাওয়ার নিলো - আলমারি হাতরে সী- গ্রীন কালারের একটি শাড়ি বের করলো।
শাড়িটি কত বছর আগের তা সে মনে করতে পারছে না।এ শাড়ি তাকে কে দিয়েছে তাও সঠিক জানে না সে।
শতাব্দী সাফায়াতের রুমে হাঁটা ধরলো - উদ্দেশ্য এ সুন্দর বিকেলে আজ একটু নদী দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে তার।সবচেয়ে বড় কথা নদী দেখার ছুতোয় সে সাফায়াতের কাছে সরি ও চাইবে। সে তো সাফায়াতকে এতোদিন সন্দেহ করেছে তাই। কথাগুলো শতাব্দী নিজ মনে বার কয়েক গুছিয়ে নিলো—
‘আমি- আমি দুঃখিত শুভ্র! আপনাকে শুধু শুধুই সন্দেহ করেছিলাম। অনুমতি ব্যাতীত আপনার ঘরে তল্লাশি করেছে। জিজ্ঞেসাবাদ করে আপনাকে বিব্রত করেছি। সব কিছুর জন্য আমি দুঃখিত। শুভ্রমানবরা অনুশ্রীদের প্রতি রাগ-অভিমান ধরে রাখতে পারে না বলেই জানতাম!’
কথাগুলো নিজ মনে বিড়বিড় করতে করতে সে সাফায়াতের ঘরে গিয়ে দেখলো সাফায়াত ঘরে নেই। শতাব্দী স্টাডি টেবিলেই সাফায়াতের ফোন দেখতে পেলো চার্জে। ফোন বাসায় রেখে তবে কোথয় গেলো সাফায়াত?
শতাব্দী কৌতূহল বসতো ফোনে টাস করতেই লক স্ক্রিনে তার নিজের ছবি ফুটে উঠলো। বিস্মিত হয়ে শতাব্দী একবার নিজের দিকে তাকালো — হ্যা এ শাড়িইতো তার পরনে। সুইপ করা মাত্রই লক খুলে গেলো ফোনটির। ইন্সট্রাগ্রাম ওয়েবসাইটে শতাব্দীর প্রোফাইল খোলা। শতাব্দী এবার বিস্ময়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলো — এ একাউন্ট শতাব্দীর কিন্তু সে তো এখন আর ইউজ করে না। অন্যমনস্কতায় ম্যাসেজ ওপেন হতেই শতাব্দী এবার আরও অবাক হলো - এর মানে সাফায়াত তাকে আগে থেকেই চেনে — কেবল চেনেই না বরং… শতাব্দীর প্রতি তার অনুভূতিগুলোর ও নাম দিয়েছে সে!
শতাব্দীর অনুভূতিগুলো এলোমেলো হতে লাগলো— মনে হতে লাগলো সাফায়াতের সাথে কাটানো এ আট মাসের প্রতিটি দিন, ক্ষণের কথা। শতাব্দী -সাফায়াতের বিয়ে হয়েছিলো এ বছরের ২ রা মে। নাহ শতাব্দী কাউকে ভালোবাসতে পারে না, কারো প্রতি তার অনুভূতি জন্মাতে পারে না। নাহ নাহ এ অসম্ভব। যদি ভালোবাসা না থাকে তবে কেন সাফায়াতের অসুস্থতা তাকে ভাবিয়ে তোলে? যে শতাব্দী কখনো কোন পুরুষের সান্নিধ্য পছন্দ করে নি সে কেন সাফায়াতের সান্নিধ্যে নিজের ব্যাক্তিসত্তা হারিয়ে ফেলে? কেন দূর্বল হয়ে ফুলের ঝড়া পাপড়ির মতো মিয়িয়ে যায়? কেন তার চোখে সাফায়াতকে নিখুঁত সৌন্দর্যে অধিকারী মনে হয়? কেন সে সাফায়াতের বুকে মাথা রাখার কামনা করে? কেন করে? কেন? কাল যখন খুনীকে খোঁজা হচ্ছিল কেন সে সৃষ্টিকর্তার কাছে বারবার প্রার্থণা করছিলো — যেন সাফায়াত না হয়? কেন? সবকিছুর উর্ধ্বে কেন সে তার সবচেয়ে পছন্দের উপন্যাসের ক্যারেক্টারে সাফায়াতকে কল্পনা করে? কেন সে সাফায়াতকে নতুন নাম দিলো? তবে কী এ নামের মাধ্যমে শতাব্দীর সুপ্ত দানা বাঁধা অনুভূতি গুলো সেদিন ডানা ঝাপটে বার হয়েছিলো?
মন মস্তিষ্কের লড়াইয়ে মন কেমন বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছে।
হঠাৎ শতাব্দীর মনে প্রশ্ন জাগলো— সাফায়াত এখন কোথায়? হৃদপিণ্ড ধুকপুক করছে কেবল। এ কি অশুভ কোন সংকেত? নাকি শতাব্দীকে জানাতে চাইছে তারা— যে শতাব্দী প্রেমে পরেছে! মেনের অজান্তেই সে সাফায়াতকে ভালোবেসেছে। যে ভালোবাসা গাঢ় হয়েছে প্রতিনিয়ত!
নিজেকে ধাতস্থ করতে শতাব্দী বসার ঘরে সোফায় বসলো। এক গ্লাস পানি ঢক ঢক করে পান করে রিমট টিপে টিভি অন করলো। মনকে শান্ত করা দরকার।
চলবে........
তারিন_ভূঁইয়া_মুনা