ফন্ট সাইজ:
থিম:
পরান ছোঁয়ার বাহানা

১১তম পর্ব

লেখক: মিথিলা জামান নিভা

#পরাণ_ছোঁয়ার_বাহানা

পর্ব: ১১

আয়নার সামনে বসে চুল আঁচড়াচ্ছে অরনী। কোনোভাবেই সাজ মনমতো হচ্ছে না। একবার খোঁপা করছে, আরেকবার বেনী, আরেকবার চুল খুলে দিচ্ছে। ভীষণ রাগ হচ্ছে তার। চুলগুলো এতো কোঁকড়ানো কেনো? ইশ! যদি রেশমের মতো চুল হতো তার।

"এই তোর হলো?"

লোপা দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকতেই থমকে যায়। না না মানব নারী নয়, আয়নার সামনে স্বয়ং একটা পরী বসে আছে। পরনে মেরুন জামদানী শাড়ি, হাতভর্তি সোনা রঙের চুড়ি, আর গলায় জিরকন পাথরের ছোট্ট লকেটের সাথে সোনালী চেইনটা চিকচিক করছে। গহনা বলতে এই-ই। সাজগোজের মধ্যে শুধু চোখের নিচে কাজল, অনেকটা টেনে দেওয়া। সামান্য এটুকু সাজেই অরনীকে পরীর মতো লাগছে। পুরুষ হলে লোপা নিজেই প্রেমে পড়ে যেতো।

লোপাকে দেখে অরনী একটু লজ্জাই পেয়ে যায় কোনো কারণ ছাড়া। লোপা বিছানার উপর তাকিয়ে দেখে অনেক গুলো শাড়ি এলোমেলো করে রাখা। বোঝাই যাচ্ছে মেয়েটা সবগুলো শাড়ি একবার করে পরে দেখেছে। কোনোটা তার পছন্দ না হওয়ায় পালটে পালটে দেখেছে কোনটায় আসলে তাকে ভালো লাগে।

লোপা মুখ টিপে হেসে অরনীর পাশে এসে বসে। অরনী তীক্ষ্ণ চোখে তাকায় তার দিকে। কিছুটা সাবধান হয়।

"কি গো সুন্দরী? রূপের রহস্য কি?"

অরনী উত্তর দেয়না, কেমন যেনো অস্থির লাগছে তার।

"শাড়ি পরার কারণ?"

"অদ্ভুত কথা বলিস না তো লোপা। আজ আমার ভাইয়ের বিয়ে, আমি শাড়ি পরবো না? তাতেও তোর সমস্যা?"

"রেগে যাচ্ছিস কেনো? এমনিতেই জিজ্ঞেস করলাম। কখনো তো তুই শাড়ি পরতেই চাস না। আমরা কতো করে অনুরোধ করতাম তোকে। তোর এক কথা, শাড়িতে তোকে ভালো লাগেনা। তুই কি জানিস তোকে পরীর মতো লাগছে আজ? আমি ছেলে হলে তোর প্রেমে আছাড় দিয়ে পড়তাম।"

অরনী লাজুক মুখে হাসে। লোপা বারবার অবাক হয়। এই কি সেই অরনী? সেই ছন্নছাড়া মেয়েটা, সেই রগচটা মেয়েটা? সে কি সত্যিই প্রেমে পড়েছে নাকি মোহে পড়েছে? লোপার মন বলছে সে প্রেমেই পড়েছে। শুধু স্বীকার করার অপেক্ষা। মনে হয়না এই মেয়ে এতো তাড়াতাড়ি স্বীকার করবে। ভাঙবে তবু মচকাবে না।

"তা এতো সাজগোজ কি শুধু বিয়ের জন্যই? নাকি বিশেষ কারো জন্য?"

অরনী গাঢ় গলায় বললো,"বিশেষ কেউ মানে? কে সে?"

"আহা! বুঝতে পারছে না বাচ্চাটা। কে আবার? যার বিরহে তোমার শরীর জ্বরে পুড়ে যাচ্ছিলো। আজ তো আসবেন উনি।"

অরনীর ফর্সা মুখে লাল আভা ছড়িয়ে পড়ে। অকারণেই বুকটা ধুকপুক করে ওঠে, শ্বাস পড়ে দ্রুত।

"আমার মোটেই কারো জন্য জ্বর আসেনি।"

"তাহলে কেনো এসেছিলো?"

"উফফ বিরক্ত করিস না তো। এবার দেরি হলে সবাই আমাদের রেখেই বরযাত্রী চলে যাবে।"

"তা ঠিক।"

অরনী ঘড়ির দিকে তাকায়। এতোক্ষণে ও বাড়ি থেকে সবার চলে আসার কথা। এখনো কেনো আসছে না? তাহলে কি ওরা আসবে না? অস্থির লাগে অরনীর।

"অরনী।"

"বল।"

"একটা সত্যি কথা বল তো।"

"মিথ্যা বলবো কেনো?"

লোপা উঠে এসে অরনীকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে।

"প্রথম প্রেমের অনুভূতিটা কেমন লাগছে?"

অরনী ভ্রু কুঁচকে তাকায় লোপার দিকে।

"প্রথম প্রেম মানে? আমি কীভাবে জানবো কেমন অনুভূতি? আমি কি প্রেমে পড়েছি নাকি?"

কথা শেষের আগেই অরনীর গলা কেঁপে ওঠে। লোপা শান্ত দৃষ্টিতে তাকায় তার দিকে।

"পড়িস নি?"

অরনী গাঢ় গলায় বললো,"না পড়িনি। আর পড়বোও না।"

"এই অরনী আপা তোমার শ্বশুরবাড়ির সবাই চলে এসেছে, তোমাকে খুঁজছে। এখানে পাঠিয়ে দিবো?"

অরনী আহত চোখে লোপার দিকে তাকায়। লোপা হাসে মেয়েটার অসহায়ত্ব দেখে। নাহ! মোহ বা আবেগ নয়, মেয়েটা প্রেমেই পড়েছে। ভালোবাসায় ডুবে যাচ্ছে, খেই হারিয়ে যাচ্ছে বার বার।

★

ইতি-উতি তাকাচ্ছে অরনী। যাকে খুঁজছে তাকে পাচ্ছে না। আবার মানতেও নারাজ যে সে কাউকে খুঁজছে। কেনো যেনো রাগ উঠে যাচ্ছে অকারণেই। ইচ্ছা করে শাড়ি পালটে, সব সাজ মুছে ফেলতে। ভীষণ গরমও লাগছে। কপাল চুঁইয়ে ঘাম ঝরছে অনবরত।

"ধরুন, ঘামছেন তো!"

চোখের সামনে একটা সাদা রুমাল, ভয়াবহভাবে চমকে অরনী ঘুরে তাকায়। আগের দিন রাতের মতো স্বপ্ন দেখছে কিনা বুঝতে পারছে না। কিছু অনুভূতি এতো সুন্দর হয় যে তাকে বাস্তব মানতে রাজি হয়না মস্তিষ্ক।

শ্বেতশুভ্র পাঞ্জাবি আর পায়জামায় কোনো পুরুষকে দেখে এভাবে ভড়কে যেতে পারে অরনী আগে বোঝেনি। এর আগে কাউকে এতোটা ভালো লাগেনি তো। এখন লাগছে কেনো? এর আগে কি সুদর্শন পুরুষ দেখেনি? এমন তো নয় যে তার সামনে দাঁড়ানো এই মূর্তিমান লাউটা দুনিয়ার সব সৌন্দর্য একা দখল করে বসে আছে।

ইমতিয়াজ এদিক ওদিক তাকিয়ে উদাস গলায় বললো,"মানছি আমাকে দেখতে ভালো লাগছে। তাই বলে এভাবে দেখবেন? চারপাশে অনেক মানুষ যে। বাড়িতে চলুন, আমার সামনে বসিয়ে রাখবো আপনাকে। দেখি কতোক্ষণ দেখতে পারেন।"

অরনী সরু চোখে ইমতিয়াজের দিকে তাকিয়ে তার হাত থেকে রুমালটা নিয়ে কপাল মোছে আস্তে আস্তে।

"খুঁজছিলেন আমাকে?"

"কেনো আপনাকে খুঁজতে যাবো? আমার কি খেয়েদেয়ে আর কোনো কাজ নেই?"

ইমতিয়াজ বুকে দুই হাত বেঁধে দাঁড়ায়, তার ঘোলাটে দৃষ্টি অরনীর দিকে। এই ইন্দ্রাণীর মতো রূপবতী তরুণীটির গলায় চিকচিক করতে থাকা লকেটটা অতি যত্নে ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছা করছে তার। হাত দিয়ে নয়, অন্য কিছু দিয়ে!

"শুনলাম জ্বর বাঁধিয়েছিলেন। আমার কাছ থেকে একটা সপ্তাহ দূরে থেকেও নিজেকে সুস্থ রাখতে পারলেন না? যখন পুরোপুরি চলে আসবেন, তখন কি হবে?"

অরনীর চোখ লাল রক্তজবার মতো হয়ে যায়। তার মানে এই লোকটা তাকে আটকাবে না? সত্যিই তাকে চলে যেতে দিবে? এই তার দায়িত্ববোধ?

"কি হলো বলুন?"

"আপনার সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করছে না। দয়া করে চুপ থাকুন।"

ইমতিয়াজ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,"আপনাকে সুন্দর লাগছে হাওয়াই মিঠাই। একদম আমার বউয়ের মতো লাগছে।"

অরনী চোখ তুলে তাকাতেই ইমতিয়াজ তার সামনে থেকে চলে যায়। গাড়িতে ওঠার জন্য সবাইকে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। অরনীর বুকে ড্রাম বাজছে ততক্ষণে। তিনটা মাস! এই তিনটা মাসেই এই মানুষটা তার হৃদয়ে পাকাপোক্ত একটা জায়গা দখল করে নিয়েছে। হ্যা তার মতো একটা কাঠখোট্টা মেয়ের শুকনো হৃদয়ে প্রণয়ের প্রলয় ডেকে এনেছে লোকটা। অরনীর মনে কি চলছে লোকটা কি বুঝতে পারছে? আর বুঝেই এমন করছে?

অরনীও মনে মনে ঠিক করে নিয়েছে, আত্মসমর্পণ সে করবে না। ভেঙেচুরে শেষ হয়ে গেলেও ইমতিয়াজকেই তাকে কাছে টেনে নিতে হবে। দেখা যাক মাস্টারমশাই এবার কি করেন!

★

"অরনী...."

বিয়ে বাড়ির হৈচৈ-এর মাঝে অরনী ডাক শুনে ঘুরে তাকায়। তার বড় খালার ছেলে রাতুল হাসিমুখে তাকিয়ে আছে তার দিকে। অরনী বিরক্ত হয়। এই ছেলেটাকে সে ছোট থেকেই পছন্দ করেনা। বড়লোক বাপের বখে যাওয়া ছেলে। সেই সাথে চরিত্রেরও দোষ আছে।

"কেমন আছো অরনী?"

অরনী ছোট্ট করে বললো,"ভালো, আপনি?"

রাতুল উদাস গলায় বললো,"ভালোই তো ছিলাম, তোমার দেখার পর আর ভালো নেই। বুকের ভিতরটা কেমন জ্বালা করছে।"

অরনীর গা জ্বলে যায়। সাবধানে এদিক ওদিক তাকায়। ইমতিয়াজকে দেখতে পাচ্ছে না অনেকক্ষণ। কে জানে কোথায়!

"বুক জ্বালা করলে গ্যাস্টিকের ওষুধ খান রাতুল ভাই। জ্বালাপোড়া কমে যাবে।"

রাতুল হাসে অরনীর কথায়। ততক্ষণে লোপা এসে দাঁড়িয়েছে অরনীর পাশে। তার দৃষ্টিতেও বিরক্তি।

"বিয়ে করেছো শুনলাম।"

অরনী স্মিত হেসে বললো,"হ্যা করেছি। আমার শ্বশুরবাড়িতে তো আপনাদের দাওয়াতও ছিলো। ঘুরে আসতে পারতেন।"

রাতুল কৌতুকপূর্ণ গলায় বললো,"যেতে চেয়েছিলাম। খালা বললো আমরা যাওয়ার মতো অবস্থা না। মনে হয় একটু গরীব তোমার শ্বশুরবাড়ি তাইনা?"

মুহূর্তেই অরনীর ব্রক্ষ্মতালু জ্বলে ওঠে। লোপা অরনীর হাত চেপে ধরে। বিয়ে বাড়ি, তার উপর নতুন আত্মীয়স্বজন চারপাশে।

"এটা কি করলে অরনী? কতো বড়লোকের ছেলেরা তোমার জন্য পাগল ছিলো। শেষমেশ তুমি একটা স্কুল টিচারকে বিয়ে করলে? না মানে, কিছু মনে করোনা। কীভাবে সবটা মেনে নিলে?"

অরনীর খোঁজে ইমতিয়াজ মাত্রই সেখানে এসেছিলো। রাতুলের কথা শুনে থমকে যায় সে। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে অরনীর দিকে। কি উত্তর দিবে সে? যদি সত্যিই অরনীর চোখে সে আফসোস দেখে আজ তাকে বিয়ে করার জন্য, তাহলে আজই সে সবটা শেষ করে দিবে। জোর করে তো পাখিকেই আটকে রাখা যায়না খাঁচায়, মানুষ তো দূরের কথা!

লোপা রাতুলের দিকে তাকিয়ে চাপা গলায় বললো,"কি হচ্ছে রাতুল ভাই? এসব কি বলছেন? আর্থিক অবস্থা দেখে মানুষকে বিচার করবেন না। আপনার বাবার তো অগাধ টাকা। আপনি কি ভালো মানুষ?"

লোপার কথায় রাতুল হাসে আবারও। যেনো খুব মজা পাচ্ছে। অরনী এখনো চুপ। শুধু ঘন ঘন শ্বাস ফেলছে একনাগাড়ে।

"লোপা হাসালে তুমি। জীবনে ভালো থাকতে প্রচুর টাকার প্রয়োজন। তুমি কি পারবে এরকম একটা গরীব ঘরে যেয়ে নিজেকে মানিয়ে নিতে?"

লোপা অরনীর দিকে তাকায় বাঁকা চোখে এরপর স্মিত হাসে।

"অবশ্যই পারবো রাতুল ভাই। মানুষটা ভালো হলে শত অভাবের মধ্যেও ভালো থাকা যায়। যেটা আপনার বোঝার ক্ষমতা নেই।"

রাতুল অরনীর দিকে তাকিয়ে বললো,"তাই নাকি অরনী? শুনেছি খালু নাকি তোমার খোঁজ নেয়না আজকাল। তা তোমার গরীব মাস্টারমশাই ঠিকমতো খেতে-পরতে দেয় তো তোমাকে?"

ইমতিয়াজের চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে, দুই হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করে। তার দৃষ্টি শুধুমাত্র অরনীর উপর নিবদ্ধ। সে অপেক্ষা করছে অরনীর উত্তরের।

অরনী খুব শান্ত চোখে রাতুলের দিকে তাকায়। উপস্থিত সবাইকে অবাক করে দিয়ে রাতুলের চোখে চোখ রেখে বললো,"নেহাত এটা নতুন আত্মীয়ের বাড়ি, চারদিকে প্রচুর মানুষজন। নাহলে আপনার এই শেষ কথাটার জন্য আপনার গাল বরাবর সপাটে গুণে গুণে বাহাত্তরটা থাপ্পড় মারতাম।"

লোপা হকচকিয়ে অরনীর দিকে তাকায়, রাতুলের চোখ বড় বড় হয়ে যায় মুহুর্তেই। সে জানতো অরনী এই বিয়েতে রাজি হয়নি, জোর করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন?

ইমতিয়াজের মুঠো আলগা হয়ে যায়। নির্লিপ্ত চোখে অদূরেই দাঁড়িয়ে থাকা তার হাওয়াই মিঠাইয়ের দিকে তাকায়। নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না সে। ভ্রম নয় তো?

"কি বললে তুমি অরনী?"

"শুনতে পাননি বুঝি? বেশ! আরেকবার কান খুলে শুনুন। ওটা আমার শ্বশুরবাড়ি। তাদের অগাধ টাকা না থাকলেও এমন কিছু আছে যা আপনার মতো অসভ্য লোক টাকা দিয়েও কিনতে পারবে না। তারা মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করে, ধনী-গরীব হিসেবে নয়। আর যার কথা বললেন, তিনি আমাকে খাওয়াতে-পরাতে পারে কিনা! সে আমার স্বামী। তার প্রতিটা ঘামের বিন্দু বিক্রি করে আমার সব আবদার মেটায়। চাইলে আপনিও একদিন ঘুরে আসতে পারেন আমার শ্বশুরবাড়ি থেকে। আপ্যায়ন কাকে বলে বুঝিয়ে দিবে তারা।"

তাদের মধ্যে সহসাই পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। ইমতিয়াজের কেমন ক্লান্ত লাগে। মনে হচ্ছে শরীরের সব শক্তি ফুরিয়ে যাচ্ছে। দু'চোখ বুঁজে আসছে। ঝাপসা দৃষ্টিতে সে শুধু তার ঘরনীকেই দেখে যাচ্ছে। আর কিচ্ছু বলতে পারছে না।

"আর একটা কথা রাতুল ভাই। আমার স্বামীকে নিয়ে কথা বলার আগে তার মতো যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করুন। অন্তত তার কাছাকাছি হলেও হবে। অনার্স-মাস্টার্স দুইটাতেই সেই ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট। বিদেশের স্কলারশিপ ছেড়েছে শুধু তার পরিবারের কথা ভেবে। তবে তার মানে এটা নয় যে আজীবন তার অবস্থা এরকম থাকবে। আমি তার জীবনে থাকি বা না থাকি, সে নিশ্চয়ই একদিন অনেক বড় কিছু করবে। তার উদ্যম, তার পরিশ্রম তাকে অনেক দূরে নিয়ে যাবে। মানুষকে সম্মান করতে শিখুন, আপনিও পাবেন।"

অরনী থামে, অভিভূত হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে লোপা। ইচ্ছা করছে মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরে কপালে একটা চুমু এঁকে দিতে। এই কি সেই অরনী? চিনতে পারছে না সে।

অপমানিত মুখে রাতুল স্থান ত্যাগ করে। কিন্তু অরনীর রাগ কমে না, সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে অস্থিরতা। এসব কি বলে ফেললো সে? আঁচল দিয়ে কপালের ঘাম মোছে।

আচমকাই লোপার নজর যায় ইমতিয়াজের দিকে। মুগ্ধ চোকে অরনীর দিকে তাকিয়ে সে। লোপা মুখ টিপে হেসে এগিয়ে যায় তার দিকে।

"ইমতিয়াজ ভাই।"

ইমতিয়াজ ঘোর থেকে বের হয়ে আসে।

"আপনি কি আমাকে চিনেছেন? সম্পর্কে আমি আপনার শালিকা হই কিন্তু।"

ইমতিয়াজ মৃদু হাসে, কিছু বলেনা। আসলে সে ঘোর থেকে বের হতে পারছে না পুরোপুরি।

"কি একা একা ঘুরে বেড়াচ্ছেন তখন থেকে বলুন তো। ওর কাছে যান। নতুন দম্পতি দুইজন দুইদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মানুষ দেখলে কি বলবে?"

ইমতিয়াজ গাঢ় গলায় বললো,"এতোক্ষণ তার অনুভূতি নিয়ে শঙ্কায় ছিলাম।"

লোপা দূরে অরনীর দিকে তাকায়। একটা চেয়ারে বসে আছে অদ্ভুত মুখ করে।

"আর নিশ্চয়ই কোনো সন্দেহ নেই?"

ইমতিয়াজ মুচকি হেসে বললো,"না নেই।"

(চলবে.....)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন