পর্ব_১
এই মাহিন মেয়েটাকে চিনিস? মাহিন ফোন দেখছিল তার ফ্রেন্ড অভ্রর কথা শুনে সে হতভম্ব।
মাহিন : seriously bro তুই আমাকে মেয়ে দেখতে বলছিস আমার মনে হচ্ছে আমি ভুল শুনেছি
অভ্র : মাহিন ফাজলামো করিস না তাড়াতাড়ি দেখ মেয়েটা চলে যাচ্ছে
মাহিন আর কথা বাড়ালো না কারণ সে জানে অভ্র আর যাই হোক কারণ ছাড়া কোনো মেয়ের দিকে তাকাতে বলবে না
মাহিন : কোন মেয়ের কথা বলছিস?
অভ্র: আরে ওই নীল সাথে স্কুল ড্রেস পরা মেয়েটা, চিনিস ওকে
মাহিন দেখলো একটা মেয়ে স্কুলের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে এদিকে আসছে
মাহিন : আরে এই মেয়েটা তো অনেক ছোট তোকে আমি আরো বড় মেয়ে খুজে দেবো।
অভ্র মাহির দিকে বিরক্ত চোখে তাকালো এবং বলল
অভ্র : তোকে আমি যা জিজ্ঞেস করেছি তা বল
মাহিন : হ্যাঁ চিনি মেয়েটার নাম নোভা ওরা আগে আমাদের বাসায় ভাড়া থাকতো
অভ্র : তোদের ওই পুরনো বাসাটায়।
মাহিন : হ্যাঁ তারপর তো আমাদের বাসাটা বিক্রি করে দেই বাসাটা কিনেছে যিনি তিনি এখানে একটি বিল্ডিং বানিয়েছে ওরা এখন এখানেই থাকে
অভ্র : ও এখন কোন ক্লাসে পড়ে
মাহিন : ওই তো 6/7 এ হবে আমার ঠিক মনে নেই আমার সাথে কথা হয় না আম্মুর সাথে মাঝে মাঝে হয়।
অভ্র : ওহ
মাহিন : আচ্ছা বাসায় চল মা বলেছে বিদেশ যাওয়ার আগে তার ছেলেকে তার সাথে দেখা করাতে।
অভ্র : চল
আরিয়ান খান অভ্র বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে। সবেমাত্র অনার্স শেষ করলো। তাদের নিজস্ব বাড়ি চট্টগ্রামে কিন্তু সে পড়াশোনা করার জন্য নোয়াখালীতে এসেছে অভ্র মূলত কলেজ লাইফ থেকে নোয়াখালীতে। কলেজে উঠার পরপরই মাহিন এর সাথে তার পরিচয়। অল্প দিনের মধ্যেই তাদের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। অভ্র মাহিনদের বাসার উপরতলায় থাকতো মাঝে মাঝে ওদের বাসায় যেত। অভ্রর তো মা নেই সে ১০ বছর বয়সে তার মা মারা যায়, মাহিনের মাকে সে নিজের মা ই মনে করে মাহিনের মা ও অভ্রকে নিজের ছেলেই মনে করে কিছুদিন হলো বাসাটা ছেড়ে দিয়েছে কারণ অভ্র বিদেশ যাবে তাই । এখন সে তার ছোট চাচ্চুদের বাসায় আছে। তার ছোট চাচ্চু একজন ব্যাংকার। তার ট্রান্সফার হওয়ায় তার বউ বাচ্চাকে নিয়ে নোয়াখালীতে এসেছিল বড় ছেলেকে চট্টগ্রামে রেখে এসেছিল যদি এখানে থাকে তাহলে পড়াশোনা ক্ষতি হবে ছোটটাকে এখানে ভর্তি করিয়েছে।
নোভা :অনেক দেরি হয়ে গেছে তাড়াতাড়ি চল আজকে গেলে নিশ্চিত স্যার ঢুকতে দেবে না ক্লাসে।
অনু : হ্যাঁ আজকে অনেক দেরি হয়েছে তুই এত দেরি করে কেন বের হোস বলবি একটু নোভা
নোভা: sorry অনু আমি ঠিক সময় বের হয়েছি কিন্তু
অনু নোভা কে মাঝ পথে থামিয়ে দেয় আর বলে : কিন্তু কি দারোয়ান টা আজ কোন নাটক করেছে তাই না
নোভা আস্তে করে বলে হুম
"বইন আমি বুঝিনা কি দারোয়ানটার সমস্যা কি কেন এত দেরি করে ঘুম থেকে ওঠে সবসময় লেট হয়
অনু নোভার সাথে প্রতিদিন স্কুলে যায় নোভা জন্য দাঁড়িয়ে থাকে তাই অনুরও দেরি হয়।
আচ্ছা চল একটা গাড়ি নেই
নোভা আর অনু একটা গাড়ি নিয়ে স্কুলে চলে যায়। ক্লাসে গিয়ে দেখে এখনো স্যার আসেনি
তাসনুবা : কিরে তোরা এত দেরি করে আসলি কেন স্যার তো চলে আসবে এক্ষুনি আয় আয় বস।
অনু আর নোভা ধপ করে লো বেঞ্চে বসে পড়ে ।
নোভা : হুম তাসনুবা আজকেও দেরি হয়ে গিয়েছে আসলে আমার জন্য অনুরও দেরি হয়ে গিয়েছে। আচ্ছা ভালো কথা স্নিগ্ধা আসেনি
তাসনুবা : নারে আসিনি ছেলেটা নাকি আজকে বিদেশে চলে যাবে তাই আসতে পারিনি
নোভা :ওর বাবা মা কিন্তু কাজ টা একদমই ঠিক করেনি ওর বয়স মাত্র কত হলো হ্যাঁ এখনই বিয়ে ঠিক করার কি দরকার ছিল।
তাসনুবা : এখানে ওর বাবা মার কোন দোষ নেই ছেলেটাই তো ওকে পছন্দ করলো। ওর বাবা-মা তো চাইনি, ছেলেটা নাকি অনেক কষ্ট করে ওদেরকে রাজি করিয়েছে ছেলেটা এখন বিদেশে চলে যাবে পরে এসে ওকে বিয়ে করবে বুঝছিস।
অনু : পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় স্মিগ্ধা কে পছন্দ করেছে। আচ্ছা বাদ দে বড় হলেই তো বিয়ে করবে এখন তো আর করছে না। কিরে আদিবা ও তো আসেনি
নোভা : ওর অনেক জ্বর আমি সকালে নানু বাসায় গিয়েছিলাম ওকে ডাকতে গিয়ে দেখি ওর জ্বর উঠেছে তাই আজকে আসেনি
ওহ
তারা সবাই মন খারাপ করে পুরো ক্লাসটা শেষ করল।
ছুটির ঘন্টা বেজে গিয়েছে অনু আর নোভা একসাথে বাড়ি যাচ্ছে।
প্রতিটা ক্লাসে একটা গ্রুপ থাকে নোভাদেরও আছে। পাঁচজনের একটা গ্রুপ অনু নোভা আদিবা তাসনুবা আর স্মিগ্ধা । অনু সবচেয়ে সৌখিন একটা মেয়ে ওর প্রথম কাজ ওর শখ পূরণ করা। আদিবা একটু চুপচাপ পছন্দ করে এত বেশি কথা বলে না। তাসনুবা নিজের মর্জি মতো চলে নিজের যা ইচ্ছে তাই করে কারো কথাই শোনেনা। স্মিগ্ধা একটু ম্যাচিউরদের মতো ছোট হলেও কাজগুলো বড়দের মতো। নোভা কে বোঝা যায় না কারন সে এই দুষ্টামি করে আবার বড়দের মতো চুপচাপ হয়ে যায় তাই মেয়েটাকে বোঝা যায় না।
এই হচ্ছে তাদের পাঁচজনের বৈশিষ্ট্য।
"চলবে.....!
" ~হৃদয়ের শীতল হাওয়া~
'লেখিকা নাজিয়াত সুলতানা প্রভা ~