ফন্ট সাইজ:
থিম:
তার রাণী

২য় পর্ব

লেখক: সিনথিয়া৷ রহমান মেঘা

এশা বৃষ্টিতে কাক ভেজা হয়ে গেছে। কোলো চুপসে আছে বিড়াল ছানাটি কোনোমতে বাড়িতে পৌছালো এশা। কলিংবেল বাজালো। ৩য় বার দরজা খোলে যমুনা রহমান। মেয়েকে এমন কাক ভেজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনি অবাকের সুরে জানতে চেয়ে বললেন, এশা তুই ছাতা নিয়ে যাসনি?

এশা ভিতু সুরে বলে, সরি আম্মু,  তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ছাতার কথা মাথা থেকে বের হয়ে গেছে। 
যমুনা রহমান : তোর কোলে এই বিড়াল ছানা কেন?
কোথায় পেলি এটা?  
এশা : রাস্তায় পেয়েছি। 
যমুনা রহমান ভিতরে যেতে যেতে বলেন, কাপড় পাল্ট খেতে আয়।
এশা : আসছি। 
৫ মিনিট পর…
এশা কাপড় পাল্টে খেতে এসেছে। 
ডাইনিং এ সবাই বসা।
এশার বাবা তৌহিদ রহমান,  মা যমুনা রহমান ও চাচি আফিয়া রহমান খাবার বেড়ে দিচ্ছে এশার মেঝো বোন রাইতা রহমান আর বড়ো ভাই আসিফ রহমানও আছে সাথে চাচাতো ভাই বোন সামিয়া আর রিহান আছে। 
সামিয়া এশাকে দেখে পাশের চেয়ারটা দেখিয়ে বলে, আপু এখানে বসো। 
এশাও বসে পড়ে। রাইতা বলে, তুই নাকি একটা বিড়াল ছানা নিয়ে এসেছিস তাই? 
এশা : হ্যাঁ।
তৌসিফ রহমান মানে এশার চাচা বলে, কোথায় পেলি?
এশা বলে,  রাস্তায়। 
যমুনা রহমান : আচ্ছা বাবা হয়েছে এবার চুপচাপ খাও তো সবাই। 
সবাই একসাথে চুপ হয়ে যায়। কারণ একবার যমুনা রহমান রেগে গেলে বাড়ি ভাংচুর করে ফেলবে।
খাওয়া দাওয়া শেষে সবাই যে যার মতো নিজ নিজ রুমে চলে যায়।
এশা রুমে গিয়ে দেখে বিড়াল ছানাটা তার বিছানায় গুটিশুটি মেরে বসে আছে। এশা বিছানায় বসে বিড়াল ছানাটিতে কোলে নিয়ে বলতে থাকে : বুঝছি বেবি, তোর গায়ের রং ব্রাউন কালার একদম বিদেশি বিড়ালের মতো।  তাই আজ থেকে তোর নাম ব্রাউনি।নামটা সুন্দর না?
ব্রাউনি মানে বিড়াল ছানাটা তখনি মিউ মিউ বলে ওঠে। এশা এক গাল হাসে।
অদিকে…
মৃণয়ের চোখের সামনে শুধু এশার মায়াবী মুখশ্রীটা ভাসছে।  বারবার কানে বাজছে সেই একটা কথা : আসলে বিড়াল ছানাটা মরে যেতো তো।
পরমুহূর্তেই মৃণয় নিজের মনকে একটা ধমক দিয়ে বললো, ধূর একটা মেয়ের জন্য মাথা নষ্ট করছি আমি? মৃণয় খান? 
ছি! ছি!
ড্রাইভার বলে, স্যার চলে এসেছি বাসায়। 
মৃণয় চুপচাপ নেমে যায়।
কলিংবেল দেয়…
দরজা খোলে আয়েশা খান মৃণয়ের মা।
মৃণয় কোনো কথা না বলে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো। আয়েশা খান জানেন তার ছেলে কেমন তাই আর কিছু বললেন না।
মৃণয় রুমে চলে জোরে দরজা লাগায়।
এরপর সোজা ওয়াশরুম।  মৃণয়ের অভ্যাস দিনে তিন চার বার গোসল করা। এবারো সে মাইন্ড থেকে এশাকে দূর করতে সাওয়ার নেওয়ার জন্য ওয়াশরুমে গেলো 
টানা ৩০ মিনিট পর …
মৃণয় বের হলো।
গায়ে কেবল একটা ট্রাওজার। আয়েশা খান সোনিয়াকে বললেন, সোনিয়া যাতো মা তোর ভাইয়াকে কফি দিয়ে আয়। 
সোনিয়া : ওহো আম্মু মিহি তো আছি ওকে পাঠাও না! 
আয়েশা খান : ভাইটা কি তোর নাকি মিহির?  
সোনিয়া : আচ্ছা দিয়ে আসছি। 
আয়েশা খান মেয়ের হাতে কফির মগ ধরিয়ে দিয়ে রান্না ঘরে ছুটলেন।
সোনিয়া : ভাইয়া আসবো?
মৃণয় : আয়।
সোনিয়া ভিতরে ঢুকে দেখে মৃণয় বেডে ল্যাপটপ নিয়ে বসে। 
সোনিয়া : কফি। 
মৃণয় : বেড সাইট টেবিলে রাখ।
সোনিয়া : আচ্ছা।  আর কাজ শেষ করে মা খেতে যেতে বলেছে। 
মৃণয় হ্যাঁসূচক মাথা নাড়ায়।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন