ফন্ট সাইজ:
থিম:
ঘুণে খাওয়া মেঘ

১ম পর্ব

লেখক: সারা সামিয়া
#ঘুণে_খাওয়া_মেঘ
#সামিয়া_সারা
#সূচনা_পর্ব
পর্ব-১
-অবেলায় ঘুম থেকে ওঠার কোনো নিয়ম নেই এ বাড়িতে।
                                            
গম্ভীর স্বরে পুরুষালি এক কণ্ঠস্বর ভেসে আসে ইনায়ার কানে।  ঘুম ঘুম চোখে তাকাতেই দেখে তার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক গম্ভীর চেহারার পুরুষ। 
ইনায়া দ্রুততার সাথে পুনরায় নিজের চোখ বন্ধ করে ঘুমের ভান ধরে বলল ,
-প্লিজ ভাইয়া আরেকটু ঘুমাই..
-কতবার বলেছি আমাকে ভাইয়া ডাকবিনা ইনু!
আখি জোড়া পিট পিট করে মেলে ইনায়া লম্বা হায় তুলে বলে,
- তো কী বলবো আনান ভাইয়া?
-আবার ভাইয়া! 
চেঁচিয়ে কথাটা বলে আনান তেড়ে আসতেই ইনায়া উঠে এক দৌঁড় দেয়। সিড়িতে দ্রুত এলোমেলো পা ফেলে নিচে চলে আসে সে।
খাবার টেবিলে সকালের নাস্তা পরিবেশনে ব্যস্ত দেওয়ান বাড়ির মেজো বউ রুবিনা ইয়াসমিন। ইনায়া দৌড়ে  গিয়ে পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে ।ন্যাকা কান্নার সুর তুলে বলে,
-মেজো মা.. দেখো...
রুবিনা ইয়াসমিন  এক হাতে ইনায়াকে আগলে ধরে বলল,
- হাঁপাচ্ছিস কেন এভাবে ইনু? কত বলেছি শান্ত হয়ে থাকতে। 
- ভাইয়া... ভাইয়া মারবে..
রুবিনা ইয়াসমিন এবার আনানের দিকে তাকায়। চোখ গরম করে বললেন,
-ওর পেছনে পড়লি কেন? খেতে বস!
আনান শার্টের হাতা ফোল্ড করতে করতে বলল,
-বেলা বাজে আটটা মা! মহারানী এখনো ঘুমাচ্ছিলেন! তাই এভাবে নিয়ে এলাম। 
রুবিনা ইয়াসমিন গম্ভীর কন্ঠে ধমক দিয়ে আনান কে বলেন,
-তাতে তোর কী? একদম ওর সাথে লাগাতে আসবি না আনান!
মেজোমার থেকে এমন কথা শুনে ইনায়ার সাহস যেন দশ গুণ বেড়ে গিয়েছে। মুখ ভেঙচি কেঁটে চেয়ার টেনে বসে পড়ে সকলের সাথেই। 
আনান এবার ব্যঙ্গ করে বলে,
-তোমার আদরের মেয়ে মুখ না ধুয়ে,ব্রাশ না করেই খেতে বসে গেল! বেচারা মনে হয় এক যুগ পরে খাবার পাচ্ছে। 
আনানকে কোনো জবাব না দেয় না ইনায়া। আঁড় চোখে তাকিয়ে ভেংচি কেটে ফ্রেশ হতে চলে যায় সে।
ইনায়ার পাশের চেয়ার টেনে আনান বসতে গেলেই বাঁধা পড়ে বাড়ির বড় বউ শিমু জাহান এর থেকে। 
আতঙ্কিত হয়ে বললেন,
-ঐ চেয়ারে বসিস না বাবা। যে যার চেয়ারে গিয়ে বস। সকাল সকাল ঝামেলা আর ভালো লাগে না।
আনান বুঝতে পেরে এক ফালি হেসে বলে,
-উফফ্ রিল্যাক্স বড় মা। আমার চেয়ারেই বসছি আমি। কিন্তু তোমার এতো ভয় পাওয়া তো মোটেও কাম্য নয়। 
আয়তাকার টেবিলের এক প্রান্তে বসেছে, বাড়ির বড় কর্তা আকবর দেওয়ান। তার পাশেই এ বাড়ির বড় মেয়ে ইনায়া দেওয়ান। ইনায়ার ঠিক অপর প্রান্তে মুখোমুখি বসা এ বাড়ির মেজো ছেলে আনান দেওয়ান অন্তু। ইনায়ার অপর পাশের চেয়ার ফাঁকা থাকলেও আনানের অপর পাশের চেয়ারে বসেছে তার একমাত্র ছোট বোন আনায়া দেওয়ান অনু। 
সকলকে এক ঝলক দেখে ব্রেডে জ্যাম লাগাতে লাগাতে ব্যস্ত হয়ে আনান ইনায়ার উদ্দেশ্য বলল,
-তোর প্রাইভেট আজ দশ টায় না ইনু?
ইনায়া কৌতুহলী হয়ে জবাব দেয়,
-হু,কেন?
-কেন আবার কী? আমি নিয়ে যাব।
-তুমি আর নিয়ে যাওয়ার কথা বলো না ভাইয়া। তুমি নেওয়ার কথা যেদিনই বলো আমাদের মিস সেদিনই পড়ানো বন্ধ রাখে। তুমি আমার প্রাইভেটে যাওয়ার জন্য একটা ব্যাড লাক। 
-তোর মিস পড়ানো অফ করলে আমার কী করার? এতো কথা বলিস না। চুপচাপ খেয়ে রেডি হয়ে নে। 
ইনায়াও চুপচাপ খেতে থাকে। এ বাড়ির ছেলেদের মেজাজ যেন তুঙ্গে থাকে সবসময়। রাগের কোনো কোনো ঠিক ঠিকানা নেই। কার যে কখন কী হয়। ভাবনায় ছেদ ঘটিয়ে ভাইব্রেট করে বেজে ওঠে ইনায়ার ফোন। গ্রুপে মিস মেসেজ পাঠিয়েছে আজ তিনি পড়াতে পারবেন না। ইনায়া কটমট করে তাকায় আনানের দিকে। 
রেগে বলে,
-ব্যাড লাক একটা! কে বলেছিল নিয়ে যেতে চাইতে???
আকবর সাহেব বিষয় টা থামানোর জন্য উচ্চস্বরে বলে,
-আহ্ ,খাওয়ার সময় কথা বলতে নিষেধ করেছি।
ইনায়া এবার মুখ বুজে রাগী চোখে তাকিয়ে থাকে আনানের দিকে। 
আনান ও বেশ অসহায় ভঙ্গিতে তাকিয়ে বলে,
-তোর ম্যামের দোষ আমার উপরে চাপিয়ে দিচ্ছিস ইনু?
ইনায়ার এখন আর কথা বলার মুড নেই। পড়া থাকেই একদিন পরপর। আজ বন্ধ মানে আবার পরশু যেতে পারবে । এই পড়া ছাড়া বাইরে যাওয়ার সুযোগ ই হয় না তার। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে দোতলায় দ্রুত পা চালিয়ে নিজের রুমে চলে যায় সে। 
.
.
.
.
.
পড়াশোনার কথা শুনে নাক সিটকানো মেয়েটা খাতা কলম নিয়ে পড়তে বসেছে। বিরল এ দৃশ্য দেওয়ান বাড়িতে বছরে কয়েকবারই ঘটতে দেখা যায়। তা হলো ইনায়ার পরীক্ষার কয়েকদিন আগে থেকে। কলেজ থেকে কড়া নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছে টেস্ট পরীক্ষায় পাশ না করলে উচ্চ মাধ্যমিক দিতে পারবে না। তাছাড়াও বাড়িতে ভিলেন চরিত্রে রয়েছে একজন। বিশেষ করে তারই অত্যাচারের জন্য পড়তে হচ্ছে ইনায়াকে। কোনো রকমে উচ্চ মাধ্যমিকে একটা মোটামুটি রেজাল্ট করলেই হবে। ভার্সিটি নিয়ে আর চিন্তা নেই। ইনায়ার দাদা তাদের ভার্সিটির ফাউন্ডার,আবার ভিসি হিসেবে রয়েছেন ওর বড়বাবা প্রফেসর আকবর দেওয়ান। তাছাড়াও ইনায়ার বাবাও প্রফেসর হিসেবে রয়েছেন , প্রফেসর কামরুল দেওয়ান, ডিপার্টমেন্ট অব বোটানি। পড়াশোনার প্রেসার কমে যাওয়ার মতো দিবাস্বপ্ন দেখতে দেখতেই দরজায় কড়া নাড়ে অনু। 
ইনায়া আওয়াজ দিতেই অনু উকি দিয়ে বলে,
-বড় ভাইয়া  পাঠিয়েছে,তুমি ঠিকমতো পড়ছো নাকি তা দেখতে। 
এতো সুন্দর পরিকল্পনার মাঝে  ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য অনুর উপর বেশ রাগ হয় ইনায়ার। ঝাড়ি দিয়ে বলে সে,
-তোর বড় ভাই যে কাজে গিয়েছে তাকে তা মন দিয়ে করতে বল। আমার জীবন অতিষ্ট করার দায়িত্ব তাকে দেয়নি তো কেউ। দিয়েছে?
অনু মাথা নেড়ে চুপ চাপ চলে যেতে গেলে ইনায়া আবার ডেকে বলে,
-আর শোন! এসব তোষামোদ করা বন্ধ কর! ওনাকে খুশি করে লাভ নেই।
-খুশি করে লাভ আছে নাকি জানি না কিন্তু রাগালে বিরাট ক্ষতি ইনুপু। তুমি বুঝবে না। ভাইয়ার রাগলে কুরুক্ষেত্র বাধিয়ে ফেলবে। আর কাল এসে তোমাকে পড়া ধরবে,আমাকে জানিয়ে দিতে বলল। পড়ো তুমি মন দিয়ে। আর না পড়লে ভাইয়াকে জানানোর দায়িত্বটা আমাকেই দিয়েছে। আসছি আমি এখন।
পড়ো পড়ো বলতে বলতে অনু দ্রুত চলে যায়। 
ইনায়ার মাথার ভেতরে মনে হচ্ছে আগুন জ্বলছে। দাঁত চেপে বিড়বিড়িয়ে বলল,
-ঐ লোক দূরে গিয়েও শান্তি তে থাকতে দিলো না। বড় বাবা শাসন ঠিকই করেছিল, কিন্তু মেজো বাবা সাথে রেখে আস্কারা দিতে দিতে বাঁদর বানিয়েছে! 
মেজো বাবার প্রতি একরাশ অভিযোগ নিয়ে চুল চেপে ধরে বসে আছে ইনায়া। দেওয়ান ব্রাদার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান ইনায়ার মেজো বাবা হুমায়ূন দেওয়ান এবং ঐ কোম্পানির সিইও বানিয়েছেন তার আদরের ভাতিজা দেওয়ান নীল কে । বর্তমানে এই অসভ্য, বদমেজাজি মানুষটার উপর একটানা ক্রোধ আর রাগ আওরাচ্ছে  ইনায়া। সে সময়ে একটা কল আসে ইনায়া কাছে, ভিডিও কল। স্ক্রিনে ভেসে ওঠে "অসভ্য" দিয়ে সেভ করা নাম। 
বিরক্ত হয়ে ফোন উল্টিয়ে বসে রইল ইনায়া। মাত্র দুই দিনের জন্য বাইরে কাজে গিয়েছে,এখন আবার আদিখ্যেতা করে ভিডিও কল দিচ্ছে। ভালো দুটো কথা বলার জন্যে যে কল দিয়েছে তা কিন্তু নয়। তার বিষবাক্য শোনানোর জন্যই বরং কলটা করেছে। দুবার রিং বাজার পরে আর কল আসলো না। তবে মিনিট পাঁচেকের মাথায় অনু হুরমুর করে ইনায়ার ঘরে প্রবেশ করে। 
ভিডিও কলের ব্যাক ক্যামেরা দিয়ে ইনায়াকে দেখাতে দেখাতে বলে,
-ভাইয়া,ইনুপু পড়ছে। না পড়লে আমি জানিয়ে দিব। কথা বলবে?
ফোনের ওপাশ থেকে ভারী মোটা কণ্ঠের ছোট্ট একটা জবাব এলো,
-না। 
এইটুকু বলেই কলটা কেটে দেওয়াতে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল অনু। অসহায় হয়ে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
-ভাইয়াকে রাগাও কেন ইনুপু?
ইনায়া কোনো জবাব না দিয়ে ঠাস্ করে বই বন্ধ করে হনহন করে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। ইনায়ার পাশের রুমই আনানের। তাই নিজের ঘর থেকে বের হয়ে নিচে যেতে গেলে আনানের সাথে দেখা হয় সচারাচর। আজও ব্যতিক্রম নয়। আনানের রুমের সামনে দিয়ে যেতে গেলেই আনান হাঁক ছেড়ে ডেকে বলে,
-ইনু!! এদিকে আয়। 
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ইনায়া বলল,
-বলো ভাইয়া।
-আবার ভাইয়া? তোকে মারার জন্য সুযোগের অপেক্ষায় আছি। আর ভেতরে আসতে বলছি না?
-নাহ্,ভেতরে যাব না।
-ভাইয়া বাসায় নেই,আজ পড়তে বসার জন্য তোকে কেউ আমার রুম থেকে বের করে দিবে না। আয় বলছি!
ইনায়ার রাগটা ঝট করে বেড়ে গেল ভাইয়া কথাটা শুনেই।
হনহন করে রুমের ভেতরে গিয়ে বলল,
-তোমার ঐ খাটাস ভাইকে না এই ইনায়া ভয় পায় না! বলে দিও তাকে।
ইনায়ার রাগ দেখে আনানও ব্যঙ্গ করে বলে,
-কিন্তু ঐ খাটাস ভাইকে দেখলেই কার যেন গলা দিয়ে আর আওয়াজ বের হয় না।
-ফালতু কথা বলো নাতো। আমি নিচে গেলাম। 
ইনায়া যেতে গেলেই আনান পুনরায় ডাক দেয় ,
-ইনু শোন!
-বলে ফেলো!
-তোর কি কিছু মনে হয়? মানে কিছু অনুভূত হয়?
-কী নিয়ে?
-এইযে ধর,আমি তোকে ভাইয়া বলতে বারণ করি। কেন করি তা নিয়ে কিছু মনে হয় না?
-হ্যাঁ  মনে হয় তো।
আনান হা হয়ে প্রশ্ন করে,
-কী মনে হয়?
-মনে হয় তুমিও তোমার অসভ্য বড় ভাইয়ের মতো আমার থেকে দূরত্ব বাড়াতে চাও,তাকে যেমন ভাইয়া ভাইয়া ডেকে আবদার করি না, তুমিও তেমন চাও। 
-ধুর্! আমার মাথা মনে হয়েছে তোর। নীল ভাই তো অনেক গম্ভীর,আনায়া ছাড়া কেউই ভাইয়াকে ভাইয়া বলে না। তুই তো ডাকিসই না। সে যাই হোক,আমি অতোটাও গম্ভীর না। আর কী কারণ হতে পারে তাহলে ভাব তো।
ইনায়া গালে হাত দিয়ে কিছুক্ষণ চিন্তা করে বলল,
-উমমমমম্ ভাবলাম।
আনান অতি উৎসুক হয়ে বলল,
-কী কী কী???
-এই যে , তুমি একটা পা*গল।
ইনায়ার কথা শুনে আনান তেড়ে আসতেই ইনায়া এক দৌঁড়। গন্তব্য সোজা বড়মার ঘর। দোতালায় সিঁড়ি দিয়ে উঠে বাম পাশের শেষ প্রান্তের রুমটাই আকবর দেওয়ান ও শিমু জাহান এর। সিঁড়ির ডান পাশের রুম আনানের এবং তার পাশের রুম ইনায়ার। ঘরে শিমু জাহানকে দেখতে পেয়েই ইনায়া গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে। গলা জড়িয়ে ধরে বলে,
-আচ্ছা বড় মা আমাকে কেউ মারতে আসলে তুমি তার কী করবে?
প্রশ্নের আগা মাথা বুঝতে না পেরেই তিনি বলেন,
-মেরে একেবারে ঠ্যাং খোঁড়া করে দেব।
আনান দরজা থেকেই বড়মার কথা শুনতে পেয়ে ইনায়াকে চোখ রাঙিয়ে শাসালো। এদিকে ইনায়া পুরো নিশ্চিন্ত হয়ে দাঁত বের করে খিলখিল করে হেসেই চলেছে।
.
.
.
.
সন্ধ্যা থেকেই হায়ার ম্যাথ এর যোগজীকরণ নিয়ে পড়ে আছে ইনায়া। অঙ্ক করতেগিয়ে তার মাথায় বিরাট বড় জটলা পেকে গিয়েছে। এদিকে কাল কোচিংয়ের পড়া শেষ না করতে পারলেই বাড়িতে কল আসবে। তাই আর কিছু না ভেবেই ইনায়া তার বই খাতা নিয়ে সোজা চলে যায় আনানের রুমে। দরজা দুবার নক করতেই আনান বলে,
-খোলা আছে।
সাড়া পেয়ে ইনায়াও ভিতরে ঢুকে যায়। আনানের কাছে আবদার করে বলে,
-ভাইয়া প্লিজ এই ম্যাথ ক্যালকুলেশন টা বুঝিয়ে দাওওওও....
নিজের পড়া নিয়ে ব্যস্ত আনান এক ঝলক ইনায়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
-সরি ইনু,তোকে আমি বুঝিয়ে দিতে পারব না। ভাইয়া কড়া করে নিষেধ করে দিয়েছে যেন তোকে কিছু না বলে দেই। 
-কেন! কী সমস্যা তোমার ভইয়ের? 
-তুই যাতে নিজে নিজে চেষ্টা করিস এই জন্যই মানা করেছে হয়তো। এখন নিজের রুমে যা।
-আমাকে ঘর থেকে বের করেও দিতে বলেছে বুঝি?
আনান মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলে বলল,
-পড়াশোনা নিয়ে কোনো আপোস নয়। 
আনানের কথায় পাত্তা না দিয়ে ইনায়া একই ভাবে দাড়িয়ে রইল। কিছুক্ষণ পড়ে অসহায় হয়ে বলল,
-আজ সে বাসায় নেই,এটা বুঝিয়ে দাও না প্লিজ...
ইনায়ার এমন আবদারে মায়া হয় আনানের। রাজি হয়ে যায় বোঝানোর জন্য। 
.
.
ঘণ্টা খানেক হয়ে গেল ইনায়া এখনো অংক করছে আনানের কাছ থেকে। এদিকে অনু পাঁচ থেকে ছয়বার ইনায়ার ঘর থেকে ঘুরে এসেছে সে কী করছে তা দেখার জন্যে। একেবারে  খুঁটে খুঁটে হিসাব দিচ্ছে সে নীল কে। ঘরে ইনায়াকে না পেয়ে প্রথম কয়েকবার নীলকে জানালো,
-ইনুপু মনে হয় ওয়াশরুমে....
মনে হয় নিচে...
মনে হয় ছোটমার কাছে....
মনে হয় মার কাছে... ইত্যাদি।
অবশেষে ধৈর্য হারা হয়ে নীল তাকে আদেশ করে ভিডিও কলে পুরো বাড়ি তাকে দেখাতে। আদেশ পাওয়া মাত্র কাজে লেগে পড়ে অনু। একে একে সব দেখাতে গিয়ে চোখ থামে আনানের রুমে।
ইনায়াকে দেখতে পেয়েই অনু চিৎকার করে উঠল। 
-ইনুপু! তুমি এখানে??? আমি সারা বাড়ি তন্ন তন্ন করে খুঁজছিলাম তোমায়।
অনুকে দেখে অবচেতন মনে শুকনো ঢোক গিলে ইনায়া। অনু তার হাতের ফোনটা নিয়ে ইনায়ার সামনে ধরে।
নীল শীতল চোখে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার দিকে। এরপর শান্ত শীতল কণ্ঠে বলে,
-পড়া শেষ?
ইনায়া কাঁপা গলায় বলে,
-একটা ম্যাথ বুঝতে পারছিলাম না,তাই আনান ভাইয়ার কাছে এসেছিলাম। 
নীল ছোট করে ঢোক গিলে বলল,
-ভালো করেছিস,এখন গিয়ে ঘুমিয়ে পর। ম্যাথ কাল করা যাবে।
-কিন্তু কোচিং কালই...
-কাল ছুটি দিয়েছে। কালকের পড়া পরশু পড়াবে।
এটুকু বলেই কল কেটে দেয় নীল। ইনায়া আর আনান দুজনেরই জানে পানি নেয় আর। তাদের দেখা এ পৃথিবীর সবচেয়ে রাগী মানুষ টাকে অমান্য করার ফল যে কী হবে ভেবে পাচ্ছে না তারা। 
তখনই আনান আতঙ্কিত হয়ে বলল,
-তোকে বলেছিলাম আমি বোঝাতে পারব না ইনায়া! নিজের পড়া নিজেই বুঝতি। কোচিং প্রাইভেটে কী করতে যাস? ভাইয়া এখন ভাববে তোর পড়া ফাঁকি দেওয়াতে আমিও সাহায্য করি।
ইনায়া কোনো জবাব না দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। 
তার মনে পরে যায় সেদিনের কথা যেদিন আনান ওকে একটা ইংলিশ প্যাসেজ বুজিয়ে দিয়েছিল বলে নীল সবার সামনে কীভাবে ওকে অপমান করেছিল। আনানকে বলে ছিল,
-যদি ইনায়ার ভালো চাস তাহলে আর কখনো ওকে পড়া বুঝিয়ে দিবি না। কারন এতে ও গাঁধীতে পরিণত হচ্ছে। নিজের চেষ্টায় পড়তে দে!
ভাইয়ের কথায় যুক্তি পেয়ে আনানও ইনায়ার পড়ার বিষয়ে নাক গলায়নি কখনো। এতো কিছুর পরেও নীল শান্ত হয়েছিলো না সেদিন।ইনায়াকে নিয়ে রুমে লক করে রেখেছিল।হাত মুঠো করে কাঁচের গ্লাস ভেঙে ইনায়াকে দিয়ে তার পরিষ্কার করায় নীল। র*ক্ত দেখে দৃষ্টি ঝাপসা হয় তার,ব্লা*ডফোবিয়া আছে জেনেও এমন করা মানুষটার প্রতি ঘৃণা ছাড়া কিছুই নেই ইনায়ার মনে।
Btw,plot twist kemon legeche?
(চলবে......)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন