ফন্ট সাইজ:
থিম:
ঘুণে খাওয়া মেঘ

৫৫তম পর্ব

লেখক: সারা সামিয়া
#ঘুণে_খাওয়া_মেঘ
#সামিয়া_সারা
#কাজিন_রিলেটেড_গল্প
পর্ব - ৫৫
ইহান তিরিক্ষি মেজাজের। কথাবার্তাও তার লাগামহীন। দিনভর রয়্যাল এনফিল্ড নামক প্রথম বউকে নিয়ে টইটই করে ঘুরে বেড়ায়।আজও ব্যতিক্রম কিছু হয় না তার দৈনন্দিন রুটিনে। তবে আকবর দেওয়ান এর মুখে নিজের বিয়ের ফুল ফুটবে ফুটবে বিষয়টা শুনতে পেয়ে বাইক নিয়ে চলে এসেছে ফারিনের বাসার নিচে।দু তিনবার হর্ণ বাজিয়ে তিনতলার বারান্দায় তাকিয়ে কল করে ফারিনের নাম্বারে।
বিছানায় হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে আছে ফারিন। ফোন বাজতেই দ্রুত ডান পাশ ফিরে ফোন কানে তুলে নেয় সে।
-হ্যালো..ইহান!
-বারান্দায় আয়।
-কেন?
-আসতে বলেছি তাই।
ফারিন বুকে দুহাত দিয়ে ফোন চেপে বারান্দায় দৌঁড়ে আসে। একেবারে নায়িকাদের স্টাইলে। যেন ঐশ্বরিয়া দৌঁড়ে যাচ্ছে। বাতাস হচ্ছে। লালালা মিউজিক বাজছে। আর নিচে দাঁড়িয়ে শাহরুখ খান।
ইহান বাইকে হেলান দিয়ে হাত দুটো ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখতেই চোখ দুটো বড় করে ফারিন অনেকটা চেঁচিয়েই বলে উঠলো,
-তুমি? 
-উপরে দাঁড়িয়ে তুমি তুমি করবি নাকি নিচে আসবি?
ফারিন তর্জনী আঙ্গুল উঁচু করে বলল,
-এক মিনিট...
ইহান দাঁড়িয়ে আছে ঘড়ি ধরে। ১মিনিট পার হয়েছে আরো চার মিনিট আগে। ফারিন কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে এগিয়ে আসতেই ইহান বলল,
-পাঁচ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলাম। তুই জানিস কাকে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলি?
ফারিন কাছে এগিয়ে যায় ইহানের।বাম কাঁধে দুহাত একসাথে রেখে বলল,
-মানলাম আমরা বন্ধু,কিন্তু লাভারও তো! আমাকে তুমি করে বলবে ইহানননননন!
ইহান আড় চোখে ফারিনকে দেখে বলল,
-উঠ আগে তুই,ফাও প্যাচাল পড়ে শুনি!
ফারিন বাইকে বসে দু'পা দুপাশে দিয়ে। ইহানের বুকে দুহাত রেখে বলল,"চলো।"
ইহান বাইক স্টার্ট দেয় ডানহিল সি*গারেট ঠোঁটে চেপে।বাম দিক দিয়ে মাথা ঘুরিয়ে ফারিনকে বলে,
-আ*গুন জ্বালা তো..
ফারিন হাত উঁচু করে একটু ঢং করে বলল,
-আহ্ বেবি,আমার রূপের আগু*না কি যথেষ্ট না?
ইহান ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে ফারিনকে। রাস্তার ধারে বাইক থামিয়ে বলল,
-নাম!
-হুয়াই?
-তোকে সাথে রেখে ছাই হতে চাচ্ছি না।
বলে ইহান নিজেই সিগা*রেটটা ধরিয়ে বাইকে উঠে বসে। ফারিনের মুখ চুপসে গিয়েছে। বিড়বিড় করে বলল,
-আশ্চর্য! ছেলেটা মজা বোঝে না?
ইহান পুনরায় ফারিনকে বলল,
-ন্যাকামি না করলে উঠে বোস,লেট হচ্ছে।
ফারিন গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যায়। মুখে যেন তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে তার। কোনো শব্দ ছাড়া বসে ইহানের পেছনে। 
.
.
.
.
বনানীর বেশ নামকরা এক রেস্টুরেন্ট বুক করেছেন ইহান দেওয়ান। বাইক থামিয়ে ফারিনকে নিয়ে নামতেই আরান এক হাজার টা লাল গোলাপ এগিয়ে দেয় ইহানের হাতে। ফারিন বেশ অবাক হয়ে সবকিছু বোঝার চেষ্টা করছে। তবে ইহান কোনো ভনিতা করে না। পেছন ঘুরে ফুলের তোড়া ফারিনের হাতে দিয়ে বলল,
-ধর।
-কেন?
ইহান বিরক্ত হয়ে তাকালো ফারিনের দিকে।
-না নিলে ফেলে দিব। 
ফারিন দ্রুত তোড়াটা হাতে নিয়ে নেয়। ঠোঁট উল্টিয়ে বলে,
-তুমি এমন অদ্ভুত কেন ইহান? ফুল টা অন্তত রোমান্টিক হয়ে দিতে,ঐযে নায়কদের মতো...
-ইহানের এতো পিরিত আসে না। আই লাইক টু স্পিক স্ট্রিকলি ইন পয়েন্টস্। উইল ইউ ম্যারি মি?
ফারিন জোড়পূর্বক হাসে।তারপর দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে,
-এমনে প্রপোজ কে করে ভাই?
ইহান আরেকটা সিগারে*ট ধরায়। এক টান দিয়ে পুনরায় বলল,
-বিয়ে করবি?
ফারিন উপর নিচ মাথা ঝাকায়। বলল,
-হু!
আরান বিয়া*র খুলে নিয়ে এগিয়ে আসে তাদের দিকে। ইহানের হাতে দিতে ঢকঢক করে কয়েক ঢোক গিলে তাকায় নীলের দিকে। নীল রয়েছে এক কোনায় বসে। পাশে দাঁড়িয়ে রিসান। নীলের চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ।তার কাছে প্রেম ভালোবাসা সময় নষ্টের চাবিকাঠি। ইহান বিয়ার নিয়ে নীলের কাছে এগিয়ে দিলো।
বড় ভাইয়ের মতো করে বলল,
-নে ধর।
অবাক চোখে তার দিকে তাকায় নীল। বলল,
-এসব আমি খাই না ,তুই জানিস না?
-বি*ড়ি খাস না জানি,বিয়া*রে কী সমস্যা?
-পছন্দ না
ইহান বিয়া*রের বোতল রিসানের হাতে দিয় নীলকে বুকে টেনে নেয়। মেকি আনন্দ নিয়ে বলল,
-এরকম একটা ছেলেকেই তো আমার বোনের হাসবেন্ড হিসেবে চাইতাম। আয় ভাই বুকে আয়।
নীল ছোট করে শ্বাস ফেলে কপালে দু আঙ্গুল ঠেকায়। বলে,
-আবার শুরু করলি?
ইহান নীলকে ছেড়ে দুবাহু শক্ত করে ধরে।বলে,
-আমার বিয়ে কিছুদিন পরে। সমবয়সী ভাই এর বিবাহিত জীবন দেখে নিশ্চয়ই তোরও বিয়ে করার শখ জাগবে। তাই না বল? তখন আমার বোনের কী হবে ইনান?
-ওর জন্য আমরা ভালো ছেলে দেখবো। গত দশ বছর ধরে এসব শুনতে শুনতে আমি পা*গল হয়ে যাচ্ছি।
-আর ভালো ছেলের দরকার নাই । তোকে আমি ফাইনাল করেছি মানে তুই ই ফাইনাল। আমার বোনকে আমি আমাদের বাড়ির বাইরে যেতেই দিবো না।
নীল কিছু একটা চিন্তা করে থেমে যায়। ইহানের সাথে বোকার মতো গত দশ/বারো বছর ধরে সে এই বিষয় নিয়ে তর্ক করেই চলেছে সে। তবে আজ কিছু একটা ষড়*যন্ত্র করতে হবে।
.
.
.
.
অনু সিঁড়ি দিয়ে দুহাত মেলে ওঠানামা করছে আর বলছে,
"আমি হব সকাল বেলার পাখি।"
একবার রুবিনা ইয়াসমিনের কাছে গিয়ে বলল,
-মা মা! আমার পাখা চাই।পাখি হব
বলেই আবার হেলেদুলে দৌড়াতে শুরু করলো।ছোট বোনের পাগ*লামি দেখে ইনায়ার মাথায় বুদ্ধি এসেছে একটা। আয়েশা আক্তারের একটা বড় ওড়না এনে অনুকে ডাক দেয়। 
পাখির মতো শব্দ করতে করতে অনু যায় ইনায়ার কাছে। ওরনার দুই পাশ অনুর দুহাতের সাথে বেধে দেয়। কোণাকৃতির কাগজ বেধে দেয় মুখের সাথে পাখির  চঞ্চুর মতো। অনু খুশিতে আত্মহারা হয়েছে।পুরো বাড়িতে আগের চেয়ে আরো বেশি দ্রুত ঘুরছে।
নীল আর ইহান সবেমাত্র ফিরলো। সদর দরজায় পা রাখতে চোখের পলকেই নীলের শক্তপোক্ত শরীরে ধাক্কা খায় অনু।
অধরের ডান পাশ দিয়ে গড়িয়ে র*ক্ত পড়ছে তার। ব্যাথা পেয়েছে বিষয়টা উপলব্ধি করেই অনু গলা ফাটিয়ে চিৎকার শুরু করলো। ফ্লোরে পড়ে যাওয়া অনুকে কোলে তুলে নেয় ইহান। স্বান্তনা দিয়ে বলল,
-কিচ্ছু হয়নি তো আনু..ইনান পঁচা?
অনু কান্না করতে করতে মাথা ঝাঁকায়।
-মেরে দিবো বড় ভাইয়াকে?
ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে পুনরায় বলল,
-হু..দাদাভাই...
নীল কিছুটা অনুতপ্ত বোধ করছে। বাচ্চা কাচ্চা তার একদমই পছন্দ না। তবুও অনুকে দেখে মায়া লাগছে তার। গালে লেগে থাকা র*ক্ত মুছিয়ে বলল,
-চকলেট কিনে দেবো।
বলেই উপরে চলে যায়। ইহান সেদিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে শিমু জাহানকে বলল,
-এ কেমন ছেলে বড় মা? কোনো রসকষ নেই মনে।
-থাকবে কেমন করে। দুভাই সব ভাগাভাগি করে নিয়েছিস।একজন কথায় কথায় ছ্যাৎ করে ওঠে,আরেকজনের গাম্ভীর্যে মুখ দিয়ে কথা ই বের হয় না।
ইহান বাকা হাঁসি দিয়ে বলে,
-এমন একটা ছেলে যদি এ বাড়ির জামাই হতো!
.
.
.
নীল আর ইহান দিনে ২ ঘন্টা কথা বললে তার এক ঘন্টাই হয় ইনায়াকে নিয়ে। ইহান রেডিও এর মতো বাজতে থাকে পুরো সময়টা। রোজকার কথাতে একটা কমন উক্তি-
"তোর সাথেই আমার বোনকে বিয়ে দিবো ইনান!"
ইনায়া আয়েশা আক্তারের পেটে আসার পর থেকেই রেডিও এর মতো এ কথা নীলের কানে বাজতে থাকে।
নীল বিষয়টাতে কিছুটা বিরক্ত। ভাই বোনের যে বিয়ে হয় তা কখনোই সে দেখেনি। তর্কাতর্কি হয়,”আপন বোন আর চাচাতো বোন এক না।” দু ভাই এর মাঝে বেশ কয়েকবার মারামারিও লেগেছে বিষয়টা নিয়ে। 
রাতে খেতে এসে নীল বেশকিছুক্ষণ ডাইনিং টেবিলে বলে আমতা আমতা করে বলল,
-আমার একটা জরুরী কথা আছে...
আকবর দেওয়ান গম্ভীর মুখে বললেন,
-কী হয়েছে? 
নীলের মুখ থেকে আর কথাটা বের হচ্ছে না। সে কথা ঘুরিয়ে বলল,
-ভোটার আইডি কার্ড ছাড়া বিয়ে হয় বাবা?
আকবর দেওয়ান পানির গ্লাস হাতে নিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায় নীলের দিকে।নীলের পাশের চেয়ারে ইনায়া বসে প্লেটে ভাত দিয়ে আঁকিবুকি করছে। ভাতের দানা দিয়ে পাখি বানিয়ে নীলকে বলল,
-বলোতো ভাইয়া এটা কী?
নীল আকবর দেওয়ানের চোখের আড়াল হয়ে যায় সুযোগ পেয়ে। মাথা ঝুঁকিয়ে ইনায়াকে বলল,
-রুট ওভার?
-রুটোভার কী? এটা পাখি ভাইয়া! 
ইনায়া খিলখিল করে হেসে বলে,
-ভাইয়া পাখি চেনে না...
ইহান থামিয়ে দেয় ইনায়াকে। বলে,
-ইনুবুড়ি,আমি ছাড়া কাউকে ভাইয়া বলবে না। আমার হিংসা হয়। ওকে তুমি ইনান বলে ডাকবে।
ইনায়া বিড়বিড় করে বলল,
-ইনান...
নীলের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছে। ফ্যাকাশে মুখ নিয়ে বলল,
-ভাত দিয়ে পাখি আঁকায়..এই বাচ্চা মেয়ে তাই বলে?
ইহান ইশারা দিয়ে বলল,
-তুইও বাচ্চা! চুপ করে খা।
নীল ইহানের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিতেই পুনরায় আকবর দেওয়ানের চোখে চোখ পড়ে। আকবর দেওয়ান পানির গ্লাসে হালকা করে এখটা চুমুক দিয়ে বললেন,
-কী বলতে চেয়েছিলে পরিষ্কার করে বলো!
নীল একটু ঘাবড়ে গিয়ে সোজা হয়ে বসে বলল,
-আসলে বাবা...ইহান বলছিলো যে...
ইহান হা করে তাকিয়ে আছে নীলের দিকে। ফিসফিস করে বলল,
-কী বলেছিলাম? কী হলো তোর আবার?
নীল পুনরায় বলল,
-ইহান বলছিলো যে..দেওয়ান বাড়ির বড় মেয়েকে যেন এ বাড়িতেই রাখা হয়,বিয়ে দিয়েও....তাই আমরা ঠিক করেছি আনান...
আকবর দেওয়ান উচ্চস্বরে বলে উঠলেন,
-আহ্! থামো,আমি আর কিছু শুনতে চাচ্ছি না। সবাই খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ো। আমি উঠছি।
আনান মুখে খাবার নিয়ে সবার দিকে তাকাচ্ছে বারেবারে।বয়স তো তার কম না। ইনায়া পাখির পাশে মেঘ বানাতে ব্যস্ত। অনুও হা করে তাকিয়ে আছে ইনায়ার প্লেটের দিকে।এই দুই বোন বাদে বাকিরা ঠিকই নীলের কথা বুঝে গিয়েছে।
.
.
.
ইহান নীলের রুমের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে। হাতে জলন্ত সিগারে*ট। শরীরে মখমলের সাদা শাল জড়ানো। নীলের হাতে দেশলাই। ইহান একটার পর একটা সিগারেট মুখে দিচ্ছে,আর নীল তাতে আ*গুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে। ছোট খাটো শাস্তি এটা তার। দেশলাই এর আগু*ন দিয়ে মাঝে মধ্যে হাত গরম করছে। শীতকালের ঠান্ডা বাতাস হাঁড় হিম করে দিচ্ছে। নীল দুহাত একসাথে ঘষতে ঘষতে বলল,
-তোর বোন এই বাড়িতে থাকলেই তো হলো! আমাদের বয়সের পার্থক্য দেখেছিস? দশ বছর ভাই। ছোটবেলায় বলতি ঠিক আছে, কিন্তু এখনো কেন?
ইহান মুখ থেকে সিগারেট ফেলে স্যান্ডেল দিয়ে পিষে আগুন নেভায়।মুখে জমা অবশিষ্ট ধোয়া ছেড়ে বলে,
-ওকে ফাইন, বলবো না আর।আই হ্যাভ নো প্রবলেম ইনান। লেটস্ সি কী হয়।
নীল দীর্ঘশ্বাস ফেলতে ইহান ছোট করে হুমকিস্বরূপ বলল,
-আর কখনো যেন তোর মুখে নীলা ডাক না শুনি। ঠিক আছে তো ইনান?
কথা টা বলেই ইহান বেরিয়ে যায় ঘর থেকে। বারান্দার ফ্লোরে সাতটা সিগারেটের শেষাংশ পড়ে রয়েছে। নীল ছোট করে শ্বাস ফেলে টুকরো গুলো তুলে ফেলে দেয়। 
ডাস্টবিনে ফেলে শরীরে খয়েরী বর্ডারের সাদা শাল জড়িয়ে নেয়। কাশ্মীরী শাল,ইনায়ার পছন্দে কিনেছিলো নীল ডিসেম্বরের শুরুতেই। বারান্দার দরজা বন্ধ করে নীল,শীতল হাওয়া আটকাতে। চাদরের দিকে পুনরায় আরেক ঝলক তাকিয়ে আনমনে ভাবে,
"মেয়েটার উপর কি আমি আসলেই টান অনুভব করি?"
(চলবে......
আমার প্রিয় পাঠক পাঠিকারা, গল্পটি নিয়ে আপনাদের মন্তব্য শুনতে চাই। একদম সব্বাই কমেন্ট করে জানিয়ে দিন,কেমন লেগেছে আপনাদের কাছে। আর আগের পর্বে এতো ভালোবাসা দেওয়ার জন্য অনেক কৃতজ্ঞতা। ভালোবাসা নিবেন 🥺🫶🏻

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন