#ঘুণে_খাওয়া_মেঘ
#সামিয়া_সারা
#কাজিন_রিলেটেড_গল্প
পর্ব - ৬৪
শীতের শুরুর সময়টা। ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে। বছরের শেষ বৃষ্টি,শীতের আগমন ঘটাতে নেমেছে। প্রকৃতির এমন ভেজা রূপের পাশাপাশি হসপিটালে বিছানার সাদা চাদর ভিজে চলেছে অনবরত অনুর চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়া পানি দিয়ে। তার ছোট্ট শরীরটা অবশ হয়ে রয়েছে।টিপটিপ করে চোখ খুলে পাশে ইনায়াকে দেখতেই হুহু করে কেঁদে ওঠে অনু। ইনায়া ছুটে বোনের কাছে যায়। অনুর মুখে হাত বুলিয়ে বলল,
-কাঁদছিস কেন বোকা মেয়ে?
অনু ঠোঁট উল্টিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করছে। ইনায়া কোনো রকমে শান্ত করতে পারছে না মেয়েটাকে। তাই রুম থেকে দ্রুত বেরিয়ে ডেকে নিয়ে আসলো নীলকে। নীলের মুখ গম্ভীর হয়ে আছে। কোনো রকমে ইনায়ার সাথে কেবিনে আসতে মুখ ভার করে বলল,
-সমস্যা কী তোর ইনু? এভাবে টেনে আনলি কেন?
-অনুর কান্না থামছে না নীল ভাই....
নীল অনুর দিকে তাকায়। আসলেই মেয়েটা এখনো কান্না করেই চলেছে। নীলের ভীষণ কষ্ট হয়। তবুও শক্ত থেকে
বলল,
-কান্না করা খারাপ না! মাঝে মাঝে কান্না করতে হয়।
বলেই নীল বেরিয়ে যায়। ইনায়া স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিছুক্ষণ নিজেকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে এগিয়ে যায় অনুর কাছে। মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,
-কান্না করে না বোকা মেয়ে। কিচ্ছু হয়নি তো....
ইনায়ার কথা শেষ করার আগেই অনু নিজের দু'হাত ঝাঁকি দেয় জোড়ে জোড়ে। কান্না করতে করতে অস্পষ্ট স্বরে বলল,
-আমি বাঁচতে চাই না ইনুপু
ক্যানুলা ছিঁড়ে গলগলিয়ে র*ক্ত পড়ছে অনুর হাত দিয়ে। ইনায়া আচমকা অনুর এমন আচরণে চমকে গিয়েছে। অনুর হাত শক্ত করে ধরে বলল,
-কী সমস্যা তোর?
অনুর শরীর নরম হয়ে আসে। ইনায়ার গা ঘেঁষে মাথা ঠেকিয়ে বলল,
-ও আমায় ছুঁয়েছে ইনুপু..বাজে ভাবে ছুঁয়েছে
ইনায়া কী বলবে বুঝতে পারছে না। তবু স্বান্তনা দিয়ে বলল,
-এসব কোনো বিষয়ই না অনু...জীবনে অনেক ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে তো। আমাদের সবসময় সাবধানে থাকতে হবে যেন কোনো দূর্ঘটনা না হয়। আর হয়ে গেলে লড়াই করতে হবে। বুঝেছিস আমি কী বলেছি?
অনু এপাশ ওপাশ একটু নড়তে গিয়ে চোখ খিঁচে বন্ধ করে নিলো। কোমড়ের নিচের অংশ যেন অবশ হয়ে আছে। ইনায়া মাথায় হাত রেখে বলল,
-ব্যাথা করছে?
অনু কোনো জবাব দিলো না। নীল খাবার নিয়ে ঘরে ঢুকেছে। সাথে এসেছে আরান আর শর্মীও।টেবিলে খাবার নামিয়ে ইনায়াকে বলল,
-ওকে খাওয়াতে হবে না?
-হুঁ
তবে ইনায়াকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে অনু্। শর্মী বিষয়টা বুঝতে পেরে খাবার নিয়ে এগিয়ে যায় অনুর কাছে। বলল,
-আ করো তো বোন
-খাবো না আমি
অনু কান্না করছে।
নীল পায়ের উপর পা তুলে সোফায় বসলো আরাম করে।হাতে থাকা আপেলে এক কামড় দিয়ে বলল,
-ওকে জিজ্ঞেস কর তো আরান,হসপিটালে থেকে কি লোক জানাজানি করতে চায়?
আরান চোখ বুজে নিয়ে বলল,
-এভাবে কথা বলিস না,আমি বুঝিয়ে বলছি...
-আমি ভালো করে কথা বলতে পারি না,আমার কথা ই এমন। তুই কি শুনবি এখন?
আরান আদুরে গলায় অনুকে বলল,
-খেয়ে দেয়ে তো তোমাকে তাড়াতাড়ি সুস্থ হতে হবে,তাই না? এখানে থাকা যাবে না বেশিক্ষণ। কাল সকালের মধ্যেই বেরোতে চাও না অনু বুড়ি?
অনুর কণ্ঠ আগের তুলনায় বেশি ভারী হলো। জবাব দিলো,
-না! বাসায় যাবো না আমি! মা আমাকে মানবে না...বাবা...আর বাবা??
নীল আপেলে আরেকটা কামড় দিয়ে বলল,
-ওকে বলে দে,বাসায় কেউ কিছু জানে না। আর যেন কেউ কখনোই কিছু না জানে সেজন্য হসপিটালটা ছাড়তে হবে,সকালেই।
আরান নীলের কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে বলল,
-বুঝেছো?
অনু অনেকটা অবাক হয়েছে নীলের কথা শুনে।কেউ কিছু জানে না বিষয়টা যেন তার হজম হচ্ছে না। ইনায়ার কাছে বিড়বিড় করে বলল,
-মা আসেনি?
-কেউ কিছু জানে না অনু। নীল ভাই নিজেই সবটা সামলেছেন।
অনুর বুকের উপর থেকে যেন পাথর সরলো। কিছু কিছু বিষয় পরিবারের থেকে লুকিয়ে যন্ত্রণা ভোলানো যায়। লজ্জা লুকানো যায়। অনু কান্না থামিয়ে বলল,
-ওরা কী বলেছে?
-খেয়ে নে,তারপরে বলবো।
অনু চুপ হয়ে ইনায়াকে ছেড়ে দিলো। শর্মী খাবার রেডি করে ইনায়ার হাতে দিয়েছে।
.
.
.
.
আকবর দেওয়ান ফোন হাতে নিয়ে গম্ভীর হয়ে বসে রয়েছেন ভার্সিটির অফিস রুমে। বাড়িতে সবাই একসাথেই ফিরবে। তাই আনান এসে কয়েকবার ডেকে গেছে আকবর দেওয়ানকে।
কয়েকবার ডাকার পরে সাড়া দিলেন আকবর দেওয়ান।বললেন,
-তোমার ভাই বোনরা যে চট্টগ্রাম গিয়েছে জানো তুমি?
আনান যেন আকাশ থেকে পড়লো আকবর দেওয়ানের কথা শুনে।বলল,
-চট্টগ্রাম গিয়েছে মানে?
-তোমাকে বলেনি নাকি?
আনানের চাপা একটা রাগ হচ্ছে। বলল,
-না! কে কে গিয়েছে?
-তুমি ছাড়া তোমার বাকি ভাই বোন গুলো।সাথে তোমার ভাই এর বন্ধু আর ....তোমার বোনের বান্ধবী।
-আরান ভাইয়া আর শর্মী?
আকবর দেওয়ান ইশারায় হ্যাঁ বললেন।এদিকে আনানের রাগে শরীর কাঁপছে।বলল,
-বাসায় যাবো আমি বড় বাবা!
-চলো,আমরাও বের হবো। তবে তোমার ভাই এর এসব হুটহাট সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি ভীষন বিরক্ত আনান।
আনান পেছন ফিরে বলল,
-ভাইয়া পুরুষ মানুষ,যেখানে সেখানে যখন তখন যেতে পারে। কিন্তু ইনুকে সাথে নিলো কেন? সে তো প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে।আশা করি আপনি এ বিষয়টা গুরুত্বের সাথে দেখবেন।
আনানের বলা কথা কোন দিকে ইঙ্গিত করে তার আকবর দেওয়ানের বুঝতে অসুবিধা হয় না। তবে তিনি এ বিষয়টি নিয়ে কোনো রকম কথা ই বলতে চাইলেন না। আনানকে বললেন,
-চলো বাসায় যাই।
.
.
.
নীল গলা ঝেড়ে সকলকে সামনে বসিয়ে বলছে,
-ভোরেই আমরা এখান থেকে বের হবো। বাড়িতে সবাই জানে আমরা চট্টগ্রাম।
ইনায়া বলে উঠলো,
-ডাক্তার ছাড়বে অনুকে?
-কথা হয়েছে আমার সাথে। এসব চিন্তা তোর না। আর দেওয়ান নীল কাঁচা কাজ করে না।
নীলের কথা শুনে চোখ ছোট করে তাকায় ইনায়া। শর্মীর কানে কানে ফিসফিস করে বলল,
-দেখলি তো,একটা কথা বললেও পাঁচটা শুনিয়ে দেয়!
নীল পুনরায় বলতে শুরু করলো,
-আমরা ভোরেই সবাই চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হবো।রিসানও ওখানে আছে। ও আমাদের জন্য সব ব্যবস্থা করে রেখেছে। সবাই জানে আমরা ট্যুরে যাচ্ছি। তাই তোমরা কেউই এলোমেলো কোনো কথা বলবে না। তোমাদেরকে যে যা কিছু-ই জিজ্ঞেস করবে, সোজা বলবে ঘুরতে এসছি।
বুঝতে পেরেছো?
সবাই মাথা নাড়ল। নীল পুনরায় বলল,
-কবে এসেছে চট্টগ্রাম,এটা জিজ্ঞেস করলে?
আরান বাদে বাকিদের থেকে একসাথে জবাব আসে,
-কবে?
-আজই। মানে এই মুহূর্তে আমরা চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে আছি।
-বুঝেছি।
ইনায়া উঠে নীলের কাছ আসে। হুট করে সবার সামনেই এমন কাছাকাছি আসতে থতমত খেয়ে যায় নীল,বলে,
-কী হলো? কথা বলছিলাম তো....
-আরে রাখুন তো কথা..
আরান শর্মীকে নিয়ে অনুর সামনে দাঁড়িয়ে যায় ইনায়ার কথা শুনে। নীল আড় চোখে ইনায়াকে দেখে বলল,
-কী সমস্যা?
-আমরা একসাথে চট্টগ্রাম যাচ্ছি?
-হুঁ
-মানে আমি আপনি,আপনি আমি একসাথে থাকবো নীল ভাই?
-হুশ!
ইনায়া হেঁসে বলল,
-মানে সারাদিন।রাতের কথা বলছি না তো...
নীল আড় চোখেই ইনায়াকে দেখে উঠে দাঁড়ালো। বলল,
-হুঁ
-আপনি লজ্জা পেলে তো ভীষণ সুন্দর লাগে! একদম যেন
নীল ইনায়ার ঠোঁটে তর্জনী আঙ্গুল দিয়ে বলল,
-শশশশশস্। অনু আছে।
ইনায়ার যেন শ্বাস আটকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। নীল এর মেজাজ খারাপ ছিলো বলে ইনায়া শুধু একটু মজা করতে চেয়েছিলো। তবে নীল যে উল্টো এমন করবে তা আর ইনায়া আন্দাজ করতে পারেনি । ইনায়া জলদি করে পিছিয়ে যায় নীলের থেকে । আমতা আমতা করে বলল,
-আচ্ছা...
নীল মুচকি হাসি দিয়ে বলল,
-আর কিছু?
ইনায়া এদিক ওদিক তাকিয়ে বলল,
-না মানে বলছিলাম যে...আপনি বাসায় কী বললেন? মানে বাবা মা সবাই রাজি হলো কীভাবে?
-তাদের বড় ছেলের প্রতি তাদের অগাধ বিশ্বাস আছে অবশ্যই। বলেছি ট্যুরে যাচ্ছি,কে কে যাচ্ছি সবার নাম বলেছি।এই তো!
-কী বললেন ওরা?
-সবাইকে দেখে রাখতে বলল।
ইনায়া কপাল কুঁচকে বলল,
-আর কিছু না?
-উমমমম্ গাড়িতে না গিয়ে প্লেনে যেতে বলেছিলো। কিন্তু তোর বোনকে নিয়ে তো আর প্লেনে যাওয়া যায় না! লোকাল ট্রান্সপোর্টে তো তার এই অবস্থায় নেওয়া যাবে না!
কথাটা অনুর দিকে তাকিয়ে বলল নীল। অনুর প্রতি নীলের রাগ দৃশ্যমান। অবশ্য তা হওয়ার ই কথা। সে অন্যায় করেছে। অনু ছলছল চোখে নীলের দিকে তাকিয়ে থাকলো। সারাদিনে নীল একটা কথাও বলেনি অনুর সাথে। অনু সেই আক্ষেপ থেকে ডাক দিলো,
-বড় ভাইয়া....
নীল তাকিয়েও দেখেনা মেয়েটার দিকে। বরং বেরিয়ে যায় রুম থেকে। ইনায়া অনুকে এক ঝলক দেখে নীলের পেছন পেছন দৌঁড়ে বেরোলো।
-নীল ভাই,শুনুন
-রুমে যা
-ওর কী দোষ নীল ভাই
-ওর কী দোষ? ওর কোনো দোষ নেই বলতে চাচ্ছিস?
ইনায়া চুপ করে যায় কিছুক্ষণের জন্য। তবে কিছুক্ষণ পরেই বলল,
-আপনি কথা না বললে ও কষ্ট পাবে নীল ভাই...উল্টা পাল্টা কিছু করে ফেলে যদি?
-সে সুযোগ পাবে না।
-কথা বলবেন না আর কখনো?
-অবশ্যই,তবে আমার রাগ কমলে। ওর এতো সাহস ইনু,তুই ভেবে দেখ। কতো সাহস আমার থেকে একবার অনুমতি নেওয়ারও প্রয়োজন মনে করেছিলো না! খুব বড় হয়ে গিয়েছে ও!
তবে ইনায়ার কষ্ট পাওয়া দেখে নীল থেমে যায়। প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে বলল,
-আয় বৃষ্টি দেখি।
ইনায়ার হাত ধরে নীল লম্বা বারান্দায় নিয়ে যায়। বলল,
-এই যে বৃষ্টি হচ্ছে,এরপর থেকেই শীতের শুরু হবে।
-হুঁ
-অনেক শীতেই কিন্তু আমরা একবার চট্টগ্রাম গিয়েছিলাম। আনানের নানুবাড়ি
-কবে?
-ইহানের বিয়ের দাওয়াত দিতে
-বিয়ের দাওয়াত দিতে এতোদূর যেতে হয়? কুরিয়ার করে কার্ড পাঠালেই হতো।
-সে সময়ে মানুষের মধ্যে আন্তরিকতা ছিলো বেশি ইনু।
-কে কে গেলেন তারপর?
-আমি,ইহান,তোর বাবা আর রিসান।
-রিসান ভাইয়া কেন?
-ভর্তি হতে গিয়েছিলো, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।
-উমমমম্! গাড়ি নিয়ে?
-উহু উহু! বাসে।
-বাসে কেন?
ইনায়া আগ্রহ নিয়ে নীলের কথা শুনছে। নীল বলল,
-অনেক ঘটনা।
ইহান মোটামুটি ভাবে সুস্থ তখন। বিয়ে ঠিক হওয়ার খুশিতে সে প্রায় আত্মহারা। বাড়িতে আবদার করলো,সবার দাওয়াত সে নিজেই দিবে। নিজে একদম উপস্থিত হয়ে।
বন্ধু দের সাথে পরবর্তী তে আলোচনা করে নীল বলে,
-গাড়ি নিয়ে বের হবো।
আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে আকবর দেওয়ান কে কল করে নীল। বলল,
-চট্টগ্রাম যাচ্ছি,আনানের নানুবাড়ি দাওয়াত দিতে।
-কখন?
-আজ রাতে রওনা দিবো
-কীসে যাচ্ছো?
-গাড়ি নিয়েই।
আকবর দেওয়ান গলার স্বর আগের থেকেও বেশি ভারী করে বলল,
-কী হয়েছে? আবার বলো?
-গাড়ি নিয়ে যাচ্ছি।
-ইহান একটু সুস্থ হতে না হতেই আবার গাড়ির কথা বললে? তোমাদের সাহস দেখে অবাক না হয়ে পারি না আমি! কামরুলকে আমি কল করে বলছি বাসের টিকিট কাটতে। কতো বড় সাহস তোমাদের....
বলতে বলতে কল কেটে দেন আকবর দেওয়ান।
ইহানের দিকে তাকিয়ে নীল বলে,
-বাসে যাচ্ছি আমরা।
ইহান পাত্তা না দিয়ে জবাব দিলো,
-নো প্রবলেম!
বাসের দুই সারির প্রথম চারটা সিট তাদের। নীল,ইহান,রিসান আর কামরুল দেওয়ান বসেছেন এমন সিরিয়ালে।বাস কুমিল্লার কাছাকাছি যেতেই নীলের ফোনে কল আসে আকবর দেওয়ানের। প্রায় মাঝরাত এখন।ভাইব্রেট করে বেজে উঠলো নীলের ফোন। গানটা-
তার অন্য অন্য ডাকনাম
তাকে নিত্যনতুন যত্নে কে সাজায়
সব স্বপ্ন সত্যি হয় কার
তবু দেখতে দেখতে কাটছি
আর হাটছি যেদিকে আমার দুচোখ যায়
বোঝেনা সে বোঝেনা
বোঝেনা সে বোঝেনা
নীল চমকে উঠে ফোনের দিকে তাকায়। এসি বাসের ভেতরের প্রায় এক ধরনের পিনপতন নিরবতা চলছিলো। সেখানে এমন একটা গান শুনতে পাওয়া একেবারে অনাকাঙ্ক্ষিত ছিলো। ফোন সাইলেন্ট করার কথাও মনে নেই নীলের। ইহান ও আধো ঘুম থেকে জেগে উঠেছে। বাস হর্ণ বাজিয়ে হেলেদুলে যাচ্ছে। ঘুম ঘুম কণ্ঠে ইহান বলল,
-ইনান! এই গান কেন!
নীল কল ধরে আকবর দেওয়ানের। কথা বলে ফোন কেটে ইহানকে বলল,
-কী হয়েছে ভাইয়া? কোন গান কেন?
ইহানের মনে পড়ে সে নিজেই এই রিংটোন সেট করেছিলো নীলের ফোনে। চোখ ডোলে নীলকে বলল,
-কোথায় রে এখন আমরা?
নীল ইউটিউবে "বোঝেনা সে বোঝেনা" গান সার্চ করতে করতে বলল,
-কে জানে! আমি এখন গান শুনবো,ঘুমা তো তুই
ইহান হকচকিয়ে গিয়ে বলল,
-কী গান?
তবে নীলকে কোনো জবাব দিয়ে বোঝাতে হয় না কী গান। ফুল সাউন্ডে বেজে উঠলো গানটা।
"বোঝেনা সে বোঝেনা"
রিসান ও উঠে গিয়েছে। নীলকে ফিসফিস করে সে বলল,
-এই নীল! আমাদের মা*রার পরিকল্পনা করলি তুই? বাসে এই গান ছাড়লি কেন?
নীল তোয়াক্কা করে না কাউকে। ইহানের থেকে প্রতিশোধ নিতে এটা একেবারে পারফেক্ট সময়।
এদিকে ইহান বলছে,
-ভাই বাস কীভাবে চলছে দেখ একটু! এমনিই ভয় লাগছে। চোখের সামনে তো সিনেমার দৃশ্য ভেসে আসছে আমার।
নীল বাসের সিটে হেলান দিয়ে বলল,
-তো চোখ অফ করে নে,গানটা তো তোরই দেওয়া।
ইহান কষ্ট করে জোড় পূর্বক হাসি দিয়ে তাকায় নীলের দিকে। বিড়বিড় করে বলল,
-ক্ষমা ভাই! বন্ধ কর। আল্লাহকে স্মরণ করে কোথাও যেতে হয়। এসব গান বাজনা তো ভালো না।
(চলবে....
আমার প্রিয় পাঠক পাঠিকারা, গল্পটি নিয়ে আপনাদের মন্তব্য শুনতে চাই। একদম সব্বাই কমেন্ট করে জানিয়ে দিন,কেমন লেগেছে আপনাদের কাছে। আর আগের পর্বে এতো ভালোবাসা দেওয়ার জন্য অনেক কৃতজ্ঞতা। ভালোবাসা নিবেন সবাই 🥺🫶🏻