ফন্ট সাইজ:
থিম:
ঘুণে খাওয়া মেঘ

৬৭তম পর্ব

লেখক: সারা সামিয়া
#ঘুণে_খাওয়া_মেঘ
#সামিয়া_সারা
#কাজিন_রিলেটেড_গল্প
পর্ব - ৬৭
"শরীর কেমন আছে?", রিফাতের মুখে মায়া মাখানো এমন স্নিগ্ধ একটা প্রশ্ন শুনে অনুর বুকের ভেতরে অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করছে। আমতা আমতা করে বলল,
-ভা..ভালো..
রিফাত পুনরায় বলল,
-পড়াশোনা কেমন চলছে?
-হুঁ ভালো..
-ঘুরতে গিয়েছো?
-হুঁ....
-আসে পাশের সব কিছু ভালো করে দেখে ডায়েরী তে লিখে রাখবে। বাড়ি ফিরে আমাকে সব বলবে, কেমন? 
অনু একটু অবাক হয়ে বলল,
-কেন?
-আমিও যাবো,তাই।প্রত্যেক টা জায়গার ছবি তুলবে কিছু কিছু করে।ফোন আছে না?
-হুঁ
-বন্ধ নাকি?
অনু পুনরায় অবাক কণ্ঠে বলল,
-আপনাকে কে বলল?
-কী কে বলল?
-ফোন বন্ধের কথা...
-কেউ বলেছে কখন বললাম? আমি তো প্রশ্ন করলাম শুধু।
অনু কিছুটা ঘাবড়ে গিয়েছিলো। কিছুক্ষণের জন্য তার মনে হয়েছিলো রিফাত বোধ হয় সবটা জেনে গিয়েছে। পরক্ষনেই স্বাভাবিক হয়ে জবাব দিলো,
-না মানে বন্ধ ই ছিলো। 
-খুলে রাখো। তোমার ফোনে কল করবো। আর হ্যাঁ! মনে করে ছবি তুলবে কিন্তু।
-ঠিক আছে...
রিফাত কল কেটে দেয়। ইনায়া অনুর কাছে এগিয়ে গিয়ে বলল,
-কী বলল ভাইয়া?
-বলল সব জায়গার যেন ছবি তুলে রাখি। উনি দেখবেন...
ইনায়া ফোনটা নিয়ে বলল,
-ওহ্! আমাকে বললেই তো হতো।
শর্মী ইনায়াকে খোঁচা দিয়ে বিড়বিড় করে বলে,
-তোমাকে বলবে ম*রার জন্য?
ইনায়াও আস্তে আস্তে জবাব দেয়,
-কেন কেন? ম*রবে কেন? 
শর্মী হেঁটে এগিয়ে যেতে যেতে মজা করে বলল,
-তোর নীল ভাই আছে না? জেলাস নীল ভাই! বাবাহ্! 
কথাটা অন্য কেউ শুনলে হেঁসে দিতো,তবে ইনায়া হচ্ছে লজ্জায় লাল। মাথা নিচু করে বলল,
-ধুর্! কী যে বলিস না!
.
.
.
রিসোর্টের ম্যানেজার ঘুরে ফিরে বারেবারে দেখছে ইনায়াকে। ইনায়ার নজরে বিষয়টা না আসলেও নীলের নজরকে তা উপেক্ষা করতে পারে না। রিসোর্টের বাইরের সুইমিং পুলের পাশে  মার্বেলের টেবিল। দুটো চেয়ারে নীল আর আরান বসে আছে। আরান রাজনৈতিক আলাপ করলেও নীলের দৃষ্টি আটকে আছে ম্যানেজারের দিকে। 
এদিকে ইনায়া অনুর ছবি তুলে দিচ্ছে। শর্মী পাশে দাঁড়িয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে কীভাবে কী করলে ছবি সুন্দর আসবে। তাদের দুজনেরই উদ্দেশ্য অনুকে মানসিক চাপ থেকে দূরে রাখবে। এক পর্যায়ে ম্যানেজার পদে থাকা ছেলেটা এগিয়ে যায় ইনায়ার দিকে। হাতে থাকা ছাতা টা ইনায়ার হাতের সামনে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
-ম্যাম! রোদ লাগবে,এটা নিন।
ইনায়া বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নিয়ে ভেংচি কাটে। ছেলেটা ছাতা নামিয়ে পুনরায় বলল,
-আপনি সিঙ্গেল?
বত্রিশটা দাঁত বের করে হাসছে ছেলেটা। ইনায়ার অসম্ভব রাগ হয়। এর মধ্যে শর্মী আকষ্মিক ভাবে বলে উঠলো,
-সিঙ্গেল? আপনার সমান একটা বাচ্চা আছে।
লোকটা মাথার পেছনে হাত রেখে মুচকি হেসে বলল,
-এসব মজা করবেন না...ম রে যেতে পারি।
ইনায়া দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
-দূরে গিয়ে ম*রেন।
নীল হাত মুঠো করে সব কথ শোনার মাঝেও  হেঁসে দিয়েছে। সাথে সাথেই আরান ক্যামেরা অন করেই বলল,
-ভাই! এভাবেই থাক! তোর হাসি মুখের ছবি একটা রাখা উচিত।
ছোঁ মেরে আরানের হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নেয় নীল। 
বলল,
-কাউকে মা রার জন্য হাতের মধ্যে কামড়াচ্ছে ব্রো
আরান দুগালে হাত রেখে বলল,
-ঢাকা থেকে এইসব করে চট্টগ্রাম এসে আশ্রয় নিয়েছে। আবার শুরু করবি তুই?
নীল ফোনটা টেবিলে রেখে বলল,
-ওকে ফাইন। আমি করবো না। তাহলে তুই গিয়ে ঐ ছেলেটাকে মে রে আয়। দ্রুত যাবি। সাথে একটা ম্যাসেজ দিয়ে আসবি।বলবি ইনায়া নীলের বউ।
-যদি বলে নীল কে আর ইনায়া কে?
-তাহলে মেইন পয়েন্টে একটা লাথি দিবি,যেন ইনুর নাম আর কখনো মুখে না নেয়। 
-কী দরকার..
-যাবি নাকি আমি যাবো?
আরান উঠে দাঁড়িয়ে থামিয়ে দিলো নীলকে। বলল,
-আমি ই যাচ্ছি! চট্টগ্রাম ছাড়ার এনার্জি নেই এখন,যে তোকে মা*রপিট করতে পাঠাবো। বউটার সাথে একটু মধুচন্দ্রিমার মুডে ছিলাম,শা লা সব নষ্ট করতে চায়...
আরান কথা বলতে বলতে এগিয়ে যায় রিসোর্টের ম্যানেজারের দিকে। ইয়ং মতো লোকটাকে হাতের ইশারায় ডেকে বলল,
- এক্সকিউজ মিঃ..
ছেলেটা দাঁত বের করে হেঁসে এগিয়ে এসে বলল,
-জ্বী স্যার?
আরান ছেলেটার কাঁধে হাত দেয়। রাগী রাগী চেহারা করে বলল,
-কী ভায়া! কাজ বাদ দিয়ে প্রেমের শখ জেগেছে নাকি? এই রিসোর্টের মালিকের সাথে কথা বলে তোমাকে চাকরি থেকে বের করতে হবে যা মনে হচ্ছে!
ছেলেটা আতঙ্ক নিয়ে বলল,
-কী করেছি আমি স্যার? মাফ করে দিন ভুলের জন্য
আরান ছেলেটার কাঁধে দুবার জোড়ে জোড়ে হাত রেখে বলল,
-ঐ ম্যাম টা ঐ যে ঐ স্যার এর ওয়াইফ।
কথা টা বলতে বলতে ইশারায় ইনায়া এবং নীলকে দেখালো আরান। সাথে আরো বলল,
-বুঝেছো? 
-জ্বূী স্যার..
-কী বুঝলে?
-ওটা স্যার আর ওনার ওয়াইফ এই ম্যাম। 
আরান পুনরায় শক্ত করে কাঁধে হাত রেখে বলল,
-মানুষ দেখে কথা বলতে হয়,চেহারার মধ্যে একটা বাঘ বাঘ ব্যাপার আছে না ওর? দেখো দেখো ভালো করে।
ছেলেটা নীলের দিকে ভয় ভয় চোখে তাকিয়ে বলল,
-জ্বী
-সাবধানে থেকো। ওর রাগ না কমলে কিন্তু তুমি এখনো ওর নজরেই থাকবে। খুবই সাবধান।
ছেলেটা মাথা নাড়িয়ে আবার মাথা নিচু করে চলে গেলো। ভাবসাব দেখেই বোঝা যাচ্ছে,ভয়ে ভেতরে তার সব শুকিয়ে গেছে।
.
.
.
.
সবেমাত্র সূর্যাস্ত হয়েছে। এর মাঝেই রিসান তার সব কাজ শেষ করে চলে এসেছে। পরম ভালোবাসায় আলিঙ্গন করে বন্ধুদেরকে। সন্ধ্যায় রিসোর্টের বাইরে নীলের পরিকল্পনা অনুযায়ী বার্বিকিউ বানানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইনায়া শর্মী সুন্দর করে সেজেছে যেন অনুকেও সাজাতে পারে। 
ইনায়া পরেছে সাদা রঙের আনারকলি জামা।সাথে নীল রঙের ওরনা,নীল চুরিদার। একপাশে বেনী করে চুল বেঁধেছে। ঘর থেকে বের হয়ে নীলের মুখোমুখি আসতেই নীল এক ধ্যানে তাকিয়ে থাকে ইনায়ার দিকে। মুগ্ধ হয়ে বলল,
-সাদা পরী...
আওয়াজ তুলনামূলক কম ছিলো,তবে ইনায়া কিছু একটা বুঝতে পেরে দৌড়ে নীলের কাছে এগিয়ে যায়। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে বলল,
-কেমন লাগছে আমাকে নীল ভাই?
-অপ্সরা!
ইনায়া  মুচকি হেঁসে নীলের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। নীল একবার মাত্র পাশে ফিরে তাকিয়ে দেখলো ইনায়াকে। ইনায়া বাচ্চাদের মতো হেসে হেলে দুলে বলল,
-নীল ভাই,আমি আপনার থেকে এত্তো ছোট! দেখুন দেখুন! কাধের নিচে পড়ে যাচ্ছি..হা হা 
নীল ইনায়াকে জবাব দেয় না কোনো। মনে মনে ভাবে শুধু-
-এতো ছোট মেয়েটা কে দেখেই ভেতরে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। 
নীল যথেষ্ট শক্ত ছেলে তাই আবেগ সহজে কাউকে বুঝতে না দেওয়াতে ইনায়াও তার হালচাল ধরতে পারে না। 
বলল,
-দেখুন না একবার! আমি কত্তো বড় নীল ভাই...
-বড় হয়ে কী লাভ? সেই তোর কথা তেই তো উঠতে বসতে
 হবে
ইনায়া কিছুটা অভিমান নিয়ে বলল,
-কেন? নিজের মতোই উঠবেন বসবেন নীল ভাই। আমি কি আপনাকে জোড় করি নাকি কিছু নিয়ে...
নীল ঠোঁট কামড়ে হেসে ইনায়ার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,
-তবে কি আমার ইচ্ছে মতোই উঠা নামা করবো?
-হুঁ..
-শিওর?
ইনায়া মুখ ফুলিয়ে বলল,
-শিওর হবার কী আছে? আপনার জীবন আপনার ইচ্ছা!
-ওকে ফাইন,বাট ইওর লাইফ মাই রুলস্! 
নীল শিষ বাজাচ্ছে কথা টা বলে,যেন নিজের সম্পত্তির কথা গর্ব করে কাউকে বলল।ইনায়া তীক্ষ্ণ নজরে দেখছে নীলকে।সে দৃষ্টি উপেক্ষা করে প্যান্টের পকেটে দুহাত দিয়ে নীল চলে যায় আরান আর রিসানের কাছে।
.
.
.
.
দেওয়ান বাড়িতে মোটামুটি ভাবে বলা চলে এক হুলস্থুল কান্ড চলছে।"আনান ভালোবাসে ইনায়াকে" এ কথার উপর ভিত্তি করে বাড়িতে শালিস দরবার বসেছে। সকলের মাঝে শিমু জাহান নীরব দর্শক। আর বাকিরাও আকবর দেওয়ানের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত কথা বলছেন না কোনো। সকলে আকবর দেওয়ানের মতামত জানার অপেক্ষায় চাতক পাখির মতো বসে আছে। অবশেষে আকবর দেওয়ান সবটা শুনে ভারী কন্ঠস্বরে বললেন,
-অসম্ভব! তোমরা ভাবলে কীভাবে আমি এটাতে রাজি হব?
আকবর দেওয়ানের কথা পুরোপুরি শেষ হয় না। তবে আনানের ডান হাতের শিরায় পরপর তিনটে পোঁচ পড়লো মুহূর্তেই। সাদা ব্যান্ডেজ করা ছিলো দু হাতের তালুতে। এখন সে সাদা ব্যান্ডেজ খয়েরী হয়ে গিয়েছে। হুমায়ূন দেওয়ান কোনো রকমে আনানকে ধরে শক্ত করে। রুবিনা ইয়াসমিন দৌড়ে এসে আনানের হাত চেপে ধরেছে। কাঁদো গলায় বললেন,
-হসপিটালে চলো 
আনান এখনো জেদ ধরে রেখেছে। বলল,
-গেলে আমার লা*শ যাবে। হয় ইনু আর নয় আমার মৃ*ত্যু। বুঝোনা তোমরা? 
শিমু জাহান আকবর দেওয়ানের দিকে তাকিয়ে বললেন,
-রাজি হচ্ছেন না কেন?
-তুমি বুঝলে আমায় প্রশ্ন করতে না!
-বাচ্চা না তো আমি। বিয়ে তো আল্লাহর হাতে,মত দিন আপনি। চোখের সামনে ছেলেটার শেষ হওয়া আমি সহ্য করতে পারছি না।
আকবর দেওয়ান সকলের দিকে তাকালেন অসহায় চোখে। নিজের মনের বিরুদ্ধে যু দ্ধ করে অবশেষে হালকা কেশে বললেন,
-ঠিক আছে,এই বিয়ে হবে! 
তবে মানুষটার ভেতরে ভেতরে রাগ হচ্ছে। আনানকে হসপিটালে নিতে নিতে বলে ই ফেললেন,
-অ সভ্য ছেলে! বেয়া.দবদের মতো পা*গলামি করা শিখেছো? দুনিয়াতেও ঠায় না পাওয়ার জন্য সব খারাপ চিন্তা মাথায় নিয়ে ঘুরতে তুমি! কাল থেকে ভার্সিটি যাবে না আর আনান! 
আনানের জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা। ব্যাথা সহ্য করেও সে তাকিয়ে আছে একমাত্র ইনায়াকে নিজের করে পাওয়ার আশাতে। ভালোবাসা মানে আসলেই শক্তি! আনান এই অবস্থাতে এসেও মুচকি হাসে।
.
.
.
রাত দশটা বাজতে কল আসে নীলের ফোনে। আকবর দেওয়ান কল করেছেন। রুমে এই মুহূর্তে একা নীল। ফোন বেজে ওঠায় ল্যাপটপ ছেড়ে উঠে পড়ে সে। বাবার কল পেয়ে কিছুটা চিন্তিত হয়ে কল ধরলো। 
আকবর দেওয়ান বেশ শান্ত স্বরে বললেন,
-কী করো নীল?
-তেমন কিছু না
-ইনায়া কোথায়?
-পাশের রুমে
-খেয়েছো?
-কী হয়েছে?
-তোমরা আসবে কবে?
-কী হয়েছে? 
আকবর দেওয়ান স্তব্ধ হয়ে বসে থাকেন কিছুক্ষণ। এমন বিচক্ষণ একজন মানুষের চোখে ধরা দিবে না নীলের অনুভূতি তা তো অসম্ভব বিষয়। তবুও কিছুটা সাহস নিয়ে বলল,
-আনান হসপিটালে।
নীল উঠে দাঁড়ায়। বলল,
-কীহ্! 
-হাত কে*টেছে
-ইনুর জন্য?
আকবর দেওয়ান ছোট্ট করে শ্বাস ফেলে বললেন,
-হুঁ...
-তো? কেউ নিজ ইচ্ছায় পৃথিবী ত্যাগ করতে চাইলে তাকে আটকানোর ক্ষমতা আছে আপনার?
আকবর দেওয়ান কিছুটা শক্ত হয়ে বললেন,
-ইহানের পরে এমন ঘটনা আর ঘটুক আমি চাই না নীল! আমি ওদের বিয়ের কথা তে মত দিয়েছি।
কথাটা নীলের কান পর্যন্ত যেতেই সে কল কেটে দেয়। রাগে হাত থরথর করে কাপছে নীলের। কোনো রকমে বিছানায় বসে বিছানায় খুলে রাখা ঘরিটা ছুড়ে মারলো ফ্লোরে।
 তৎক্ষণাৎ দরজায় কেউ নক করলে কিছুটা সময় নিয়ে নীল দরজা খুলে দেয়।
ইনায়া জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দরজার বাইরে।তবে নীলের চোখ লাল দেখে দ্রুত কপালে রেখে বলল,
-নীল ভাই! জ্বর এসেছে? গা তো ঠান্ডা। শরীর খারাপ?
নীল জবাব দেয় না। বিছানার কাছে এসে পেছন দিকে ঘুরে বলল,
-এতো রাতে এখানে কী? ঘুমাতে যা
-মাত্র দশটা বাজে নীল ভাই। একটু বসি আপনার কাছে?
ইনায়ার করা প্রশ্নের উত্তরে কিছু বলে না নীল। প্রসঙ্গ পরিবর্তন করে বলল,
-বাড়ি থেকে কল আসলে ধরার দরকার নেই
-কেন?
নীল ভয়ানক রেগে আছে। ইনায়ার করা প্রশ্ন শুনে রাগটা তিরতির করে আরো বেড়ে গেলো। ইনায়ার দুই বাহু শক্ত করে ধরে বলল,
-কেন কেন করিস কেন? যা বলেছি শোনা যায় না?
ব্যাথায় চোখ বন্ধ করে নেয় ইনায়া। পানি টলমল করছে তার চোখে। কিছুক্ষণের মধ্যেই নীল তাকে ছেড়ে দেয়। শান্ত গলায় বলল,
-এতো রাতে এলি কেন? নিজের রুমে যা ইনু।
ইনায়া কান্না জড়ানো গলায় বলল,
-কী হয়েছে আপনার?
-বাবা তোর সাথে আনানের বিয়ে ঠিক করেছে।
ইনায়া স্থির দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। তার পায়ের তলায় মাটি নেয় যেন। হুট করে এমন কথা শুনে কান্নার শব্দ বেড়ে যায়। আচমকা নীলকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে 
বলল,
-আপনাকে ছাড়া আমি কাউকে বিয়ে করবো না ...নীল ভাই.. বাড়িতে বলুন না কিছু...প্লিজ...
(চলবে......
আমার প্রিয় পাঠক পাঠিকারা, গল্পটি নিয়ে আপনাদের মন্তব্য শুনতে চাই। একদম সব্বাই কমেন্ট করে জানিয়ে দিন,কেমন লেগেছে আপনাদের কাছে। আর আগের পর্বে এতো ভালোবাসা দেওয়ার জন্য অনেক কৃতজ্ঞতা। ভালোবাসা নিবেন সবাই 🥺🫶🏻

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন