ফন্ট সাইজ:
থিম:
ঘুণে খাওয়া মেঘ

৭০তম পর্ব

লেখক: সারা সামিয়া
#ঘুণে_খাওয়া_মেঘ
#সামিয়া_সারা
#কাজিন_রিলেটেড_গল্প
পর্ব - ৭০
দেওয়ান বাড়ির ছাদের চিলেকোঠার পাশে দাঁড়িয়ে ইহান। দু'আঙ্গুলের মাঝে চেপে রেখেছে জলন্ত সিগারেট। কিছুক্ষণ পর পর সে হাতে ধরে থাকা সিগারেটটার দিকে তাকাচ্ছে ঠিকই , তবে সিগারেটে এক টান দেওয়ারও  মন নেই তার।এখানে দাঁড়িয়েই দশটা ইতিমধ্যে খাওয়া শেষ,এগারো নম্বর টা হাতে ধরে রাখার মধ্যেই নীল উপস্থিত হয় ছাদে। ভ্রু কুঁচকে ইহানের দিকে এগিয়ে এসে সে বলল,
-দেবদাস হয়ে গেলি নাকি?
-হু
-বিয়ের পরেও যদি এসব বলিস,তাহলে আমার মতো সিঙ্গেল মানুষেরা কী বলবে ভাব তো!
ইহান সিগারেটটা ফেলে দিয়ে আগুন পায়ে পিষে নিভিয়ে নীলের দিকে তাকালো। বলল,
-সিঙ্গেল? তুই ও তো বিবাহিত!
নীল  ছাদের কার্নিশ ঘেঁষে দাঁড়ালো। বেয়ে পড়া লতা পাতার দিকে তাকিয়ে বলল,
-কী এমন বিবাহিত আমি যে আমার বউ ই জানে না সে আমার বউ...
কথাটা শেষ করে নীল ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে।ছাদের কিনারের বেয়ে পড়া লতাপাতার দিকে পুনরায় তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস  গোপন করার চেষ্টা করে বলল,
-বিয়ের পরেও কতো বছর যে ভার্জিন থাকতে হবে আমাকে,আহা সোনায় মোড়ানো কপাল.....
ইহান হেঁসে ফেলে নীলের কথা শুনে। কয়েকদিন যাবৎ চাপা যন্ত্রণা তে ভুগছে ছেলেটা। নিজের বউ এর এমন অবহেলা সহ্যসীমা অতিক্রম করে ফেলেছে। তবুও আজ একটু হাসি ফুটলো ইহানের মুখে। অবশ্য তা নীলের বদৌলতেই। নীলের কাঁধে হাত রেখে ইহান বলল,
-আচ্ছা,আর দশ বছর অপেক্ষা কর। আমার বোনটা বড় হোক।
নীল আড়চোখে দেখে ইহানকে। সিঁড়ি দরজা থেকে কারো ভারী ভারী পায় ফেলার শব্দ শোনা যাচ্ছে। ইহান আর নীলের কান যায় সেদিকে।আনান সিঁড়ি বেয়ে নাচানাচি করতে করতে ছাদে আসছে। হাতে ছোট একটা সাউন্ড বক্স। গান বাজছে,
"ও মাইয়া ও মাইয়ারে তুই অপরাধী রে
আমার যত্নে গড়া ভালোবাসা দে ফিরাইয়া দে"
গানের সুর কানে আসতেই ইহান রাগী দৃষ্টিতে তাকালো নীলের দিকে। বলল,
-বাতাস ও দূষিত হয়ে গেছে ইনান!
নীল সাথে সাথে তাল দিয়ে বলল,
-আর আমার কান পচে যাচ্ছে....
ইহান এগিয়ে গিয়ে বক্স টা কেড়ে নেয় আনানের কাছ থেকে। শাসনের সুরে বলে,
-কী সব গান শুনিস তুই? বড় ভাইদেরও মানিস না!
আনান মাথা নামিয়েই বলল,
-এই গান তো সবাই শুনছে দাদাভাইয়া....অপরাধী ভাইরাল যে।
-তুই শুনবি না।আর কথার শেষে "যে" বলতে মানা করেছিলাম। তোর নানুবাড়ির এলাকার টোন টেনে আনিস কেন? চাটগাঁইয়া! যাই হোক,দেখ তো আমাদের ইনান কতো ছ্যাঁকা খেয়েছে,তবুও তো ও শোনে না এই গান।
নীল চোখ বড় করে তাকালো ইহানের দিকে। বলল,
-আমি কখন ছ্যাঁকা খেলাম? 
-থাক বাদ দে...
-কেন বাদ দিবি? বল?
-ছোট ভাই আছে,না বলি?
আনান মুচকি হেঁসে তাকিয়ে পুনরায় গান ছেড়ে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে গেয়ে ওঠে,
"রে রে রে রে রারি রেরে রারি রে.."
আনানের হাতে থাকা বক্স থেকে আচমকা কোনো শব্দ আসে না আর। নিমিষেই হাত থেকে বক্স টা হাওয়া হয়ে গিয়েছে। 
ইহান রাগে টলমল করতে করতে দাঁড়িয়ে আছে ছাদের কিনারে। আর বক্সটা পড়ে আছে নিচে টুকরো টুকরো হয়ে
 আনান চোখ ভর্তি পানি নিয়ে সেদিকে তাকালো। নীল নিজেও নির্বাক। ইহানের ভেতরে এমন রাগ জমে আছে নীল নিজেও তা বুঝতে পারেনি। সামান্য বিষয়ে তা বলে এমন করবে! নীল কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ভাবলো ইহানকে সামলাবে নাকি আনানকে স্বান্তনা দিবে। তবে তার সিদ্ধান্ত নিতে নিতেই শান্ত আনান গর্জে ওঠে। ইহানের কাছে এগিয়ে চিৎকার করে বলল,
-আমার বক্স ভাঙলে কেন? 
আনানের গলার পাশের রগ ফুলে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।চোখ কেমন লালচে লালচে হয়ে উঠেছে। পুনরায় বলল,
-ফারিন ভাবি তোমাকে আর ভালোবাসে না বলে এই গান শুনলে তুমি রাগ...
কথা শেষ হয় না আনানের,তার পূর্বেই তার ডান গালে ইহানের ভারী হাতের থাপ্পড় পড়লো। নীল আনানের তাল সামলিয়ে ইহানকে বলল,
-ও বাচ্চা মানুষ! রাগছিস কেন?
-ফারিনের নাম মুখে নিলো কেন?
-খুব একটা ভুল কিছুও বলেনি তো! তোর বউ এর দেমাগ কতো? ওর জন্য যে তুই কষ্ট পাচ্ছিস তা কি আমাদের সবার আড়ালের বিষয় নাকি?
ইহান কোনো জবাব দেয় না। সিগারেট ধরিয়ে দ্রুত পায়ে নেমে যায় সিঁড়ি দিয়ে।
.
.
.
আজ এক মাস হলো ফারিন ইহানের সাথে কোনো রকমের কথা ই বলে না। ইহান নিজে নিজেই আগ বাড়িয়ে কথা বলে দু একটা। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার উল্টো পাশ থেকে জবাব না পেয়ে ফারিনকে কয়েকবার আঘাত ও করেছে সে। তবে ফলাফল শূন্য। ফারিনের শরীরের জায়গায় জায়গায় ক্ষত হয়ে গিয়েছে।র*ক্ত জমাট বেঁধে আছে কয়েক জায়গাতে।  হাঁটুর উপরের মাংশপেশী তেও কালচে দাগ হয়ে আছে। 
ফারিন বরফের টুকরো এক হাতে ধরে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে চেপে আরেক হাতে ফোন ধরে কল করল বাবা শাজাহান রনি কে। চাপা কান্না করে বলল,
-ইহানকে আমার ভালো লাগছে না বাবা! ওকে আমি ছেড়ে দিবো.....
শাজাহান রনির মুখ ফুটে হাঁসি বেরিয়ে আসে। তবে মেয়েকে নিজের মনের পৈশাচিক আনন্দ বুঝতে না দিয়ে চিন্তিত হওয়ার ভঙ্গিতে বললেন,
-কেন মা? কী হলো?
-ও আমার জন্য বিষ হয়ে গেছে বাবা। তুমি কি আমায় এখান থেকে নিয়ে যাবে? 
-অবশ্যই। তুমি আজই সবাইকে জানিয়ে দাও তোমার সিদ্ধান্তের কথা।
ফারিন কল কেটে একটানে নিজের বড় সুটকেস বের করে। নিজের প্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিস নিয়ে সে বের হয় ঘর থেকে। কিছুক্ষণ আগে কান্না করার জন্য চোখ এখনো লাল হয়ে আছে। 
সদর দরজা পর্যন্ত পৌঁছাতে পেছন থেকে হ্যাঁচকা টান দিয়ে ফারিনের হাত চেপে ধরলো ইহান। কিছুটা কাঁপা কণ্ঠে বলল,
-কোথায় যাচ্ছো আমার অনুমতি ছাড়া?
-সে উত্তর আমি তোমায় দিবো না...
ইহানের ভয় হচ্ছে। সে ভয়ার্ত চোখে তাকিয়েই বলল,
-তুই আমার বউ
-ছিলাম। এখন আর না। তালাক তালাক তালাক!
চোখের পলকে ফারিনের ডান গালে বড় বড় পাঁচ আঙুলের দাগ বসে যায়। শুভ্র কোমল গাল ভাঙা ভাঙা লাল রং ধারণ করেছে। ফারিনের চোখ দিয়ে টপ করে দুফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো। তবে ব্যাথায় কাতর হয়েও মেয়েটা নরম হয় না। দ্বিগুণ জেদ নিয়ে ডান হাতে লুকিয়ে রাখা ছুড়ি বের করে। অতঃপর নিজের বাম হাতের কব্জি তে ছুঁড়ির ধারালো পাশ ঠেকিয়ে বলল,
-আটকানোর চেষ্টা করলে আমাকে জানে বাঁচাতে পারবে না। তাই ছেড়ে দাও আমায়।যেতে দাও
ইহান নির্বাক-নিঃশ্চুপ! চোখে পানি টলমল করছে। তবুও মুখে কথা আসছে না কোনো। ফারিন এক ঝলক সেদিক দেখে হনহনিয়ে বেড়িয়ে যায় বাড়ি থেকে। শাজাহান রনি গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন আগেই ফারিনকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। 
এদিকে দেওয়ান বাড়ির পরিবেশ থমথমে। ইহানকে আকবর দেওয়ান কোনো রকমে আটকে রেখেছেন। ফারিন যেতেই ইহানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বললেন,
-এখন যেহেতু ওর মাথা ঠিক নেই তাই পরে না হয় ঠান্ডা মাথায় সব বুঝিয়ে বলবে। ঠিক আছে? 
ইহান জবাব দেয় না কোনো। যাকে ছাড়া জীবনের এক মুহুর্তও কল্পনা করা অসম্ভব তাকে ছাড়া ঠিক কতো সময় এভাবে থাকতে হবে? ইহানের মনের মাঝে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে প্রশ্নটা। 
.
.
.
শাজাহান রনির সামনে নিজের সমস্ত জিনিসপত্র  ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে ফারিন চৌধুরী। চোখ দিয়ে অনবরত পানি গড়িয়ে পড়ছে তার। টি টেবিলের উপর থেকে দুটো টিস্যু নিয়ে মেয়ের দিকে এগিয়ে দেন শাজাহান রনি। ফারিন বাবার দিকে না দেখেই টিস্যু দুটো নিয়ে একবারে নাক ঝেড়ে তাকালো । নাকের ডগা লাল হয়ে আছে তার। কাঁদো গলায় বলল,
-ইহান কি ভালোবাসে আমাকে?
শাজাহান রনি আত্মবিশ্বাসের সাথে জবাব দিলো,
-একদম না! ইহানের থেকে ভালোবাসা পাওয়া আর একটা পশুর থেকে ভালোবাসা পাওয়া সমান কথা।
ফারিন ছলছল চোখে তার বাবাকে দেখে। ছোট থেকে যাকে হিরো মেনেছে তার বলা কথা গুলো ফারিনের কাছে যেন পবিত্র বানীর সমতুল্য। সে দ্রুত সোফা থেকে নেমে শাজাহান রনির সামনে হাঁটু গেড়ে বসে বলল,
-বাবা,কী করলে ও আমাকে ভালোবাসবে? এমন আচরণ করবে না আর,ভালো হয়ে যাবে একদম...
শাজাহান রনি পায়ের উপর পা তুলে আয়েশ করে বসলেন।মেয়ের অসহায়ত্ব দেখতে ভালোই লাগছে তার। একটু কেশে বললেন,
-বোকা মেয়ে আমার।
কথা টা বলে মুচকি হেসে বললেন,
-ওর কাছে এতো সহজলভ্য হওয়া যাবে না। নিজের মূল্য ওকে বুঝিয়ে দাও।
ফারিন হাতের উলটো পিঠ দিয়ে চোখ মুছে বলল,
-উপায়?
-কথা বলবে না ওর সাথে কোনো ভাবেই,সে যাই হয়ে যাক। আর তোমার ফোনটা আমায় দাও।
ফারিন আমতা আমতা করলেও শাজাহান রনি তার থেকে কোনো জবাবের অপেক্ষা করেন না। ফোনটা ছিনিয়ে নিয়ে নিজের পাঞ্জাবির পকেটে রাখলেন। তারপর মেয়েকে আদেশের সুরে বললেন,
-যাও! ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়ো
-ও যদি কল করে?
-তোমায় পাবে না,তাই লাভ নেই
-বাবা..?
-কী?
-ইহান আমাকে ছাড়া বোধ হয় ম রে যাবে...
কথাটা শোনা মাত্রই উচ্চস্বরে হেঁসে ওঠেন শাজাহান রনি। বললেন,
-খারাপ ছেলেরা এতো সহজে ম রে নারে মা। ঐ ভয় দেখানোতেই সব শেষ। এ বিষয়ে নিশ্চিন্তে থাকো। এখন যাও,ঘুমিয়ে পড়ো তুমি। এসব নিয়ে আর ভাবতে হবে না।
ফারিন উঠে হেলেদুলে পা বাড়িয়ে যায় নিজের ঘরের দিকে। 
ওয়াশ রুমে গিয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে পুরো শরীর ধুয়ে ফেলে সে। 
তোয়ালে দিয়ে চোখ মুখ মুছে বিছানা পর্যন্ত যাওয়ার পরেও এক মুহুর্তের জন্যেও দু চোখের পাতা এক করতে পারলো না ফারিন। কোথায় যেন একটা কথা শুনেছিলো সে,
"স্বামীর চেয়ে আপন মেয়েদের আর কেউই হয় না।"
কথাটা কতোটুকু সত্যি বা মিথ্যা যা ফারিনের জানা নেই। তবে ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য এতোটুকু কথা মনে পড়াই এই মুহুর্তে তার জন্য যথেষ্ট ছিলো।
.
.
.
গত চারদিন ধরে ইহানের ধুম জ্বর এসেছে।১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট থেকে ১০৫ প্রায় ছুঁই ছুঁই। ঘোরের মধ্যে থেকেও মুখ থেকে শুধু একটি শব্দই বের হচ্ছে,
"ফারিন ,ও ফারিন.."
ভাই এর বেহাল অবস্থা দেখে নীল বেশ কয়েকবার ফারিনের সাথে যোগাযোগেরও চেষ্টা করে। তবে কোনো লাভ হয়নি। শাজাহান রনি হাই প্রোটোকল ব্যবহার করছেন মেয়ের ক্ষেত্রেও। সম্পূর্ণ ভাবে নেটওয়ার্কের বাইরে রেখেছেন নিজের মেয়েকে। তিনদিন ধরে এমন ব্যর্থ চেষ্টা করার ফলে নীলের শরীর কাঁপছে রাগে। 
তীব্র ক্ষোভ নিয়েই ইহানকে বলল,
-ঐ থার্ড ক্লাস মেয়ের নাম আমার সামনে মুখে নিস না ইহান।ওকে কেন পছন্দ করতাম না বুঝেছিস? শাজাহান রনির কাঠের পুতুল হলো ফারিন চৌধুরী। বদমাশ মেয়ে। 
ইহান বেঘোরে থেকে কিছু বুঝছে কি না ,নীলের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার না। তবে নীল ইচ্ছে মতো নিজের ক্ষোভ বের করে । ইহান সুস্থ থাকলে এ কথা গুলো বলার জন্য বোধ হয় দেওয়ান বাড়িতে  আজই র ক্তের ছোঁয়া লাগতো।
নীল গড়গড় করে এত্তো গুলো কথা বলা শেষ করে সবশেষে বলল,
-ও আর ফিরবে না ইহান। তুই দেখে নিস। ঐ মেয়ে কোনো ভাবেই ফিরবে না। কারন ওর ব্রেইন হাঁটুতে।মাথায় ওর ক্যালসিয়াম। ওর বাবা ওকে বলবে,"বাবু,ও বাড়িতে যাবে না তুমি "। আর ও আঙ্গুল চুষতে  চুষতে বলবে, "আততা বাবা"
(চলবে......
আমার প্রিয় পাঠক পাঠিকারা,
গল্পটি নিয়ে আপনাদের মন্তব্য শুনতে চাই। একদম সব্বাই কমেন্ট করে জানিয়ে দিন,কেমন লেগেছে আপনাদের কাছে। আর আগের পর্বে এতো ভালোবাসা দেওয়ার জন্য অনেক কৃতজ্ঞতা। ভালোবাসা নিবেন সবাই 🥺🫶🏻

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন