ফন্ট সাইজ:
থিম:
মেঘ নীল

৪র্থ পর্ব

লেখক: ফারহানা নিঝুম

#মেঘ_নীল

পর্ব:০৮

#লেখিকা_ফারহানা_নিঝুম

হঠাৎ পিছন থেকে কেউ একজন জ ড়ি য়ে ধরল পিছনে তাকিয়ে দেখি ফারিয়া আপু।

-"আপু তুমি (মেঘা)

টুক করে ওনাকে জ ড়ি য়ে ধরলাম

-"কেমন আছিস তুই।(ফারিয়া)

-"আমি ভালো আছি তুমি কেমন আছো । অনেক দিন পর তোমার সাথে দেখা।

-আমি খুব ভালো আছি ।

ফুপ্পি তানিয়া কে কোলে নিয়ে আসল। তানিয়া আসতেই আমার কোলে আসার জন্য বায়না ধরেছে।

-'দেখ আসতেই তোকে পছন্দ হয়েছে এখন রাখ তুই।

-'কেমন আছ আপু (নীলয়)

-ওরে শঁ*য়ঁ*তাঁ*ন ছেলে তুই এত সব করেছিস আর এখন সহজ-সরল মুখ বানিয়ে বসে আছিস।

ফারিয়া আপু নীলয়ের কান মুলে দিল।কেন জানি নীলয়ের বাচ্চাদের মত চি'ৎ'কা'র শুনে খুব হাসি পাচ্ছে।

-'আরে আপু সবার সামনে এটা কী করছ ছাড়। আমি পড়ে তোমাকে সব কিছু খুলে বলব।

-আচ্ছা ঠিক আছে ছেড়ে দিলাম। আচ্ছা আম্মু আমি কিন্তু একা আসিনি।

-"হ্যাঁ জামাই আসেনি।(মিতালী মির্জা)

-'তোমার জামাই কাজের জন্য শহরের বাইরে গেছে তাই আমাকে নিয়ে আমার দেবর রিদয় আসছে।

-'তোমার ওই দেবর কেন এখানে আসতে গেল।(নীলয়)

-'নীলয় দেখ গতবারের মত কিছু করবি না বলে দিলাম।ও আসছে থাকবেন চলে যাবে শুধু শুধু ঝামেলা করে লাভ কী।(মিতালী মির্জা)

-'আম্মু তুমি ও কী করছিল ভুলে গেছ না কী।

-'নীলয় দেখ তুই এমন করিস না ।আসলে আমি তো একা আসতে পারব না আর ওই দিকে আমার শাশুড়ি বলছে একা না যেতে তাই বাধ্য হয়ে রিদয় কে নিয়ে আসছি।(ফারিয়া)

-'যে জিনিস গুলো পছন্দ করি না সেগুলো কর কেন।(নীলয়)

বলেই নীলয় ভেতরে চলে গেল ওনার রা/গ দেখে বুঝলাম যে উনি হয়তো রিদয় ছেলে কে পছন্দ করে না তাই তো এত রা/গ করলেন। সবার কথা শুনে এটা বুঝতে পারছি যে এর আগে কিছু একটা হয়েছে তাই নীলয় এমন করেছে।

-'দেখ না আম্মু নীলয় কী করে আমি রিদয়ের সাথে কথা বলছি ও বলছে আগের মত কিছু করবে না।

-'আচ্ছা ঠিক আছে আমি কথা বলে নিব ছেলেটার রা/গ বেশি ।

__________

সব অনুষ্ঠান শেষ হল এঁকে এঁকে সবাই খুব ক্লান্ত,রিদয় ছেলে টা কে দেখলাম কিন্তু সব তো ঠিকঠাক।রিদয় কে ফারিয়া আপু ঘর দেখিয়ে দিল, সবাই যে যার রুমে চলে গেছে।আপু আমাকে নীলয়ের ঘরে নিয়ে এসেছে রুমের মধ্যে পা রাখতেই বুকটা কেঁপে উঠলো একটা অচেনা ভয় হতে লাগলো।

-'আজ থেকে তুমি এই ঘরে থাকবে এখন থেকে এটা যেমন নীলয়ের ঘর তেমনি তোমারও ঘর।দেখ মেঘা তুই তো জানিস না আমার ভাই কেমন? আমি বলি শুন ও না একটু অন্য রকম কাউকে কষ্ট দিতে চায় না।যদি কাউকে ভালবাসে তাহলে মন উজাড় করে বাসে। অনেক সময় নিজের কষ্ট গুলো চাপা দিয়ে রাখে সবসময় তোমাকে কিন্তু ওর মন টা বুঝতে হবে মেঘা।

-"হুম আপু। চেষ্টা করব।

-'আচ্ছা তাহলে তুমি থাক।

আপু ঘর থেকে বের হয়ে গেল আমি গিয়ে জানালার পর্দা সরিয়ে দিয়ে জানালা খুলে দিলাম, দিতেই এক ঠান্ডা হাওয়া আমাকে ছুঁয়ে যায়।কত ভালো লাগছে এভাবে যদি নীলয় নিজের ভালোবাসা দিয়ে আমার ছুঁয়ে যেত। পিছন থেকে দরজা খোলার আওয়াজ পেলাম বুঝলাম যে নীলয় এসেছে ভ/য় টা যেত আরও বে/ড়ে গেল ।

-'মেঘ।

ওনার মুখ থেকে মেঘ নাম টি শুনতে খুব ভালো লাগে নীল আকাশের বুকে তেমন মেঘ সৃষ্টি হয় তেমনি ওনার কাছে থেকে মেঘ নাম শুনলে আমার মনে ভালোবাসার সৃষ্টি হয়। কিন্তু এই ভালোবাসার কোনো অর্থ নেই চাইলেও প্রকাশ করতে পারব না।

-'মেঘ কিছু বলবে না (নীলয়)

-জ্বী আপনি বলুন কিছু।

নীলয় আমার সাথে জানালার পাশে দাঁড়ায় ।

-'তোমার আমার উপর অনেক রা/গ তাই না

-'না না আমি আপনার উপর রাগ করব কেন।

নীলয় মুচকি হেসে বলল

-'আমি কিন্তু বুঝতে পারছি মেঘ তুমি রাগ করে আছ।আসলে রাগ করাই স্বাভাবিক আমি যা করেছি তার পর তুমি যেটা করছ তা একদম ঠিক। কিন্তু তুমি কী জানো আমি কেন এমন করেছি।

-'বলেছেন তো আপনি এক জন কে ভালোবাসেন।

-'আর সেটা কে তুমি জানো।

-'জানি না তবে এটুকু জানি যে আপনার হৃদয়ে অন্য কারো নাম আছে। আপনার কষ্ট হচ্ছে তাই না, দেখুন আমি বলি আপনি যদি বলেন চলে যেতে আমি চলে যাব কখনো আপনার জীবনে আসব না, আমি জোর করে আপনাকে এই সম্পর্কে বেঁধে রাখতে চাই না।মোট কথা তো কখনো জোর করে কোনো সম্পর্ক হয়ই না।

-'তোমাকে কী আমি বলেছি তুমি চলে যাও। আফসোস মেঘা আমি তোমাকে ভালবাসি কিন্তু সেটা তুমি জানো না,এটা জানো না বলেই এখন এভাবে বলছ আমি জানি তোমার খুব ক/ষ্ট হচ্ছে তবুও কত সুন্দর করে সব কিছু ছেড়ে দিচ্ছ (মনে মনে)

-'কী ভাবছেন বলুন কিছু।

-'না কিছু ভাবছি না। আচ্ছা দেখ তো আজকের দিন টা কত সুন্দর তাই না, অন্ধকার নিঝুম রাতে তুমি আমি একা দাঁড়িয়ে আছি হিমেল হাওয়া বইছে ।মন প্রাণ সব জুড়িয়ে যাচ্ছে।

-'হুম, খুব সুন্দর রাত তাই না।

মেঘার কথা শুনে কেন জানি মনটা ভালো হয়ে যায় প্রত্যেকটি কথার মাঝে নম্রতা আছে । হঠাৎ দমকা হাওয়া থেকে শুরু হয় বৃষ্টি টুপটাপ জল গড়িয়ে পড়ছে । হঠাৎ জোরে বাজ পড়ল এবং সঙ্গে সঙ্গে কারেন্ট চলে গেল মেঘ এর দিকে তাকাতেই দেখলাম ও আমার দিকে কিছু এগিয়ে এসেছে। বুঝলাম যে ও একটু ভয় পেয়েছে । আমি মেঘার হাত আলতো করে ধরলাম।

-'এ কী করছেন।(মেঘা)

নীলয়ের ছুঁয়াতে আমার পুরো শরীর কেঁপে উঠছে হিম হয়ে যাচ্ছি ।

-'মেঘ চল ঘুমিয়ে পড়বে অনেক রাত হয়েছে।(নীলয়)

-'জ্বী।

মেঘ এখনো দাঁড়িয়ে আছে আমি জিজ্ঞেস করলাম।

-'চল।

-'না ওই আসলে কোথায় ঘুমাবো ভাবছি।

-'কেন বিছানায় শুবে তাতে এত ভাবনার কী আছে।

-'না আসলে আপনার সমস্যা হবে আমি বুঝতে পারছি তাই বলছি।এক কাজ করলে ভালো হয় আমি মাদুর পেতে নিচে শুয়ে পড়ি আর আপনি বিছানায় শুয়ে পড়ুন।

-'তোমার মাথা কী গেছে।

-'মানে কেন আমি আবার কী বললাম।

-মা যদি জানতে পারে বাসর রাতে আমি তার বউ মা কে নিচে ঘুমাতে দিয়েছি তাহলে কী অবস্থা হবে বুঝতে পারছ।আর তুমি নিচেই বা শুভে কেন আমি তো সেটাই বুঝতে পারছি না।

-'আপনি বুঝতে পারছেন না, আমি চাই না আপনার কোনো সমস্যা হোক।তার থেকে এটাই ভালো আপনি বিছানায় ঘুমান আমি নিচে শুয়ে পড়ছি।

আমি যেতে যাব তখন উনি হেঁচকা টান দিয়ে নিজের কাছাকাছি নিয়ে আসল। একদম কাছাকাছি বলতে গেলে দুজনের মধ্যে শুধু ইঞ্চি ফাঁক রয়েছে ।

-'আমি বললাম যে তুমি আমার সাথে বিছানায় শুবে ঠিক আছে।আর একটাও কথা নেয়।

বাধ্য মেয়ের মত গিয়ে বিছানার এক পাশে শুয়ে পড়লাম। এভাবে অধিকার যদি স্বামী হিসেবে দেখাতেন তাহলে কী হত। শুধু শুধু আমি বেশি আশা করে ফেলছি।

-'তোমাকে বুঝাতে সময় লাগবে,ততো দিন আমাকে অপেক্ষা করতে হবে।মেঘ আমি তোমাকে ভালবাসি।

কিন্তু তুমি মনে করছ অন্য কাউকে। তোমাকে নিজের করে পাওয়ার জন্য যদি অপেক্ষা করতে হয় তাহলেও আমি রাজি।(মনে মনে)

_________________

সূর্যের কিরণ এসে মুখে পড়তেই ঘুম ভে/ঙ্গে গেল। সুন্দর একটা সকালের শুরু হয়েছে, পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ শুনতে পেলাম, অবশ্য এটা শহর এখানের পরিবেশ আলাদা। নতুন একটি দিনের সুচনা হল, আর আমার নতুন জীবন জানি না আজকের দিনে আমার ভাগ্যে কী আছে।

বিছানা থেকে উঠতে যাব তখন কিছু একটা পিছনে টান খেল পিছ ফিরে দেখি শাড়ির আঁচল জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে নীলয় কী ।কেন জানি এই দৃশ্যটা খুব ভালো লাগছে,। কিছুক্ষণ ওনার দিকে তাকিয়ে ছিলাম এরপর আঁচল টা আস্তে করে বের করে গিয়ে জানালার পাশে দাঁড়ালাম বাইরের দেখলাম মানুষ জন নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেছে,

____________

ঘুম থেকে উঠেই তাকিয়ে দেখি মেঘা বিছানায় নেই বুজলাম যে আগেই উঠে গেছে চলে গেলাম ফ্রেশ হতে।

-'মেঘা এই নে চা আর গিয়ে দিয়ে আয় নীলয় কে ওতো আবার অফিসে যাবে।(ফারিয়া)

-'আমি যাব আপু,এক কাজ কর আমি এই সব কিছু করে দেই তুমি দিয়ে আস।(মেঘা)

-'না আমি বললাম তুই যেতে মানে তুই যাবি,দেখ সকাল সকাল আমি কেন যাব বলত তোর স্বামী তুই তো সেবা করবি। এখন এইটা ধর আর গিয়ে দে।

-'ঠিক আছে যাই।

রুমের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখলাম উনি ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে তৈরি হচ্ছেন ভেজা চুল গুলো থেকে টুপটাপ জল গড়িয়ে পড়ছে,কি সুন্দর একটা বলিষ্ঠ একজন পুরুষ ,সব দিক দিয়ে নজর কা*ড়*তে পারেন কোনো কমতি নেই,যাকে বলে পারফেক্ট একজন মানুষ । ওনার দিকে তাকাতেই মুচকি হাসি পায়, ভেতরে ঢুকে ওনার সামনে চা ধরলাম।

-'আপনার চা আপু পাঠিয়েছে।(মেঘা)

-ধন্যবাদ কিন্তু।(নীলয়)

-'কী?

-'আমি ভাবলাম সকাল সকাল তোমার হাতের চা পাব কিন্তু এখন তো দেখছি আপু দিয়েছে।

-'আসলে চা আমি তৈরি করেছি সবার জন্য আপু বলল আপনাকে দিতে তাই আসলাম।

-'ও আচ্ছা।মেঘ একটা কথা বলি শুনবে।

-'কী?

-'আগে বল রাখবে তো।

-'ঠিক আছে চেষ্টা করব। বলুন তো

-'ফ্রেন্ড হবে আমার,দেখ আমি জানি আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি কিন্তু এখন আমি ক্ষমা চাই করবে না,মেঘ।

-'এভাবে বাচ্চাদের মত যদি বলেন তাহলে কি করে না বলব।এটাও ঠিক আপনি আমাকে যতটা কষ্ট দিয়েছেন তা কখনো ঠিক হবে কি না জানি না,এই ক্ষত কী করে ভরাট হবে তা আমার জানা নেই। আমাদের সম্পর্কটা অন্যদের মতো নয় কিন্তু। আপনি অন্য কাউকে ভালোবাসেন কিন্তু তবুও আমার দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ,(মনে মনে) আপনি হবেন আমার বন্ধু।

-'কেন হব না, তুমি হয়তো ভুলে যাচ্ছ তুমি আমি ছোটবেলা একসাথে ছিলাম।

-'হুম।

-'আর তোমার মনে আছে তুমি সবসময় আমার পিছু পিছু হাঁটতে,কেউ কিছু বললেই কান্না, আমার কিন্তু সব কিছু মনে আছে।

আমার কথা শুনে মেঘা হাসতে লাগলো অনেক দিন পর মেঘার হাসি দেখতে পেলাম খুব ভালো লাগছে মিষ্টি একটা মেয়ে তার মুখে হাসি না থাকলে কী মানায় ।

-'আচ্ছা এদিকে আস।

-'কেন?

-'বললাম তো আসতে আস, এখন না বললে তাহলে তো আমাদের মধ্যে বিশ্বাস থাকা দরকার তাই না তাহলে তুমি আমাকে বিশ্বাস করবে তো।

-'আর কখনো কী আমি আপনাকে আগের মতো বিশ্বাস করতে পারব, জানি না। (মনে মনে)

নীলয়ের কাছে একটু এগিয়ে গেলাম,।টেবিল থেকে টিপের পাতা নিয়ে একটা টিপ আমার কপালে দিয়ে দিল।

-'এখন একদম ঠিকঠাক।এই হল আমার বউ।

ওনার কথা মুখে বউ শব্দ শুনে সারা শরীরে ঝড় বয়ে গেল,আর কিছু না বলে চলে যেতে চাইলাম কিছু একটা তে আটকে গেলাম সকালের মত তাকিয়ে দেখি আমার চুল ওনার শার্টের বোতামে আটকে গেছে। তাড়াহুড়ো করে খুলতে গিয়ে আরো পেচ লাগিয়ে দিলাম।

-'আরে কী করছ, অপেক্ষা কর আমি খুলছি দেই ।

যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব এই ঘর থেকে বের হতে চাই, ওনার সামনে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে কেমন জানি লাগছে,তার উপর ওনার মুখে এমন কথা,।

-'এই নেও হয়ে গেছে।

দৌড়ে বের হয়ে ছুটকির ঘরে চলে যাই।

-'আমি আবার তোমার বিশ্বাস অ'জ'র্ন করতে চাই মেঘ, সত্যি বলছি আর কখনো এই বিশ্বাস ভঙ্গ করব না।

,,,,,,,,,,,,

চলবে...

#মেঘ_নীল

পর্ব:০৯

#লেখিকা_ফারহানা_নিঝুম

অফিসে বসে আছি সকাল থেকে কাজ করে যাচ্ছি বিরক্ত লাগছে,এত কাজ একা করা যায় তার উপর বৃষ্টি হচ্ছে, কি করে বাসায় যাব তাই নিয়ে চিন্তা হচ্ছে এদিকে আবার বস তো আমার উপর খুব চটে আছে ছুটি নিয়েছি বলে,।এই জন্যই এত কাজ আমার কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছে যাই হোক চাকুরী যখন করি সব কিছু স/হ্য করতে হবে। ভাবলাম বাড়িতে একটা ফোন করলে কেমন হয়, এখন তো লাঞ্চ এর সময়।মেঘার সাথেও কথা বলে নেব।যেই ভাবা সেই কাজ।টুক করে ফোন করে দিলাম বাড়ির লেন্ডলাইনে, কিন্তু আমার সব আশায় জল ঢেলে দিয়ে ফোন ধরল ছুটকি।

-'হ্যালো

-হ্যালো ছুটকি তুই।

-'ভাইয়া তুমি আমি ভাবলাম অন্য কেউ আচ্ছা কী বলবে বল।

-'না আমিই কিন্তু তুই ফোন রিসিভ করলি যে।

-'আসলে ভাইয়া সবাই কাজ করছে তাই আমি ধরলাম, তুমি বল তোমার কিছু বলার আছে তাহলে আমি আম্মুকে ডেকে দেই।

-'না না আমি তো এমনিতেই ফোন করছি। আচ্ছা তোর ভাবী কই।

-'ভাবী তো ঘরে আছে আপুর সাথে কথা বলছে।

-'ও আচ্ছা ঠিক আছে, আমি রাখি।

-ওকে ভাইয়া।

ফোন টা রেখে দিলাম মন টা উদাস হয়ে গেছে,কই ভাবলাম লাঞ্চ এর সময় একটু মেঘার সাথে কথা বলব তা আর হল না। এখন তো আর কিছু সময়ও নেই ধুর ধুর। আর কিছু ভেবে নিজের কাজে চলে গেলাম।

_____________

সকাল থেকে আপু ফুপ্পিদের সাথে হাতে হাতে কাজ করছি অনেক বার ফুপ্পি না বলেছে কিন্তু আমার কাজ ছাড়া ভালো লাগেনা তাই জোর করে হাসি মুখে কাজ করলাম কাজের সাথে সাথে আড্ডা দিলাম,নীলয় কী খেতে পছন্দ করে এই সব কিছু আপু বলল ফুপ্পি আমাকে অনেক কিছু শিখিয়ে দিল,বলতে গেলে দিন টা খুব সুন্দর কা/ট/লো । কিন্তু এই সব কিছুর মধ্যে একটা জিনিস মোটেও ভালো লাগলো না,রিদয় নামে ছেলে টার আচরণ। কেমন জানি সকালে সবাই কে চা দিয়ে ওকে যখন চা দিলাম তখন আমার দিকে কেমন করে তাকিয়ে ছিল

কথায় আছে মেয়েরা ছেলেদের চোখ দেখলে সব কিছু বুঝতে পারে,কে কী ভাবে দেখছে তাও, আমি দেখলাম রিদয়ের চোখে আমার জন্য কেমন জানি অন্যরকম একটা ভাবনা যা আমার একদম ভালো লাগল না।যাই হোক এসব কিছু নিয়ে আর বেশি চিন্তা করলাম না সব কিছু গুছিয়ে ছুটকির ঘরে এসে বসলাম।

-'অফিসের কাজ তাহলে শেষ হল, এখন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যাই, মনটা কেমন জানি মেঘা কে দেখার জন্য উতলা হয়ে আছে।কই আগে তো আমি এমন ছিলাম না, সবাই বলে প্রেমে পড়লে নাকি প্রেমিকার থেকে বেশি সময় দূরে থাকা যায় না। তাহলে সত্যি আমি মেঘার প্রেমে পড়েছি ভালোবেসে ফেলেছি।

নিজের কথা গুলো নিজে ভেবেই হাসি, নিজের ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে গেলাম অফিস থেকে, রাস্তায় আসে ভাবলাম মেঘার জন্য কিছু নিয়ে গেলে কেমন হয়,যদি কিছু দিলে খুশি হয় সকালের মত ওর হাসি মুখ দেখতে পাই। পাশের বড় বাজার নানা রকমের জিনিসপত্র পাওয়া যায়।একটা শাড়ির দোকানে গেলাম যেদিকেই তাকাই নানা রকম শাড়ি ইচ্ছে করছে সব গুলো নিয়ে গিয়ে মেঘা কে দিয়ে দেই।

অনেক খুঁজে লাল রঙের একটা শাড়ি পছন্দ করলাম, শাড়িটা দেখতে বেশ সুন্দর। এবার গেলাম চুড়ির দোকানে শাড়ির সাথে মিল রেখে লাল রঙের চুড়ি নিলাম,মেঘা এগুলো দেখলে কত খুশি হবেন সেটা ভেবেই মনটা জুড়িয়ে যায়।,সব কিছু নিয়ে হাঁটা দিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে, রাস্তা পার হতেই দেখি একটা ফুলের দোকান গেলাম দোকানে নানা ধরনের ফুল রাখা আছে। নিয়ে নিলাম একগুচ্ছ গোলাপ ফুল। কিছুক্ষণ বাড়িতে পৌঁছে গেলাম বেল বাজাতেই আপু এসে দরজা খুলল।আপু আমার দিকে এমন ভাবে তাকাল একটু অবাক হলাম।

-'কী রে তোর হাতে তো দেখছি মার্কেটিং ব্যাগ কী আছে রে।(ফারিয়া)

-'কই কিছু না তো এটা তো এমনিতেই আনলাম।(নীলয়)

-'এনেছিস ভালো কথা কিন্তু কী আছে সেটা তো বল। বাব্বাহ বউয়ের জন্য এসব তলে তলে এসব হচ্ছে হুঁ।

-'আরে আপু তুমিও না, আচ্ছা ভেতরে আসতে দেবে তো নাকি।

-' দাঁড়া এখনি আম্মু কে বলছি।

আপু এটা বলেই মা কে ডাকতে লাগল।আমি ভেতরে গিয়ে নিজের রুমে চলে গেলাম ব্যাগ গুলো আলমারিতে তুলে রেখে বাইরে আসি।

-'আম্মু দেখ তোমার ছেলের অবস্থা।(ফারিয়া)

-'এই আপু তুই এমন করিস কেনো রে।

আপুর চিৎকারে সবাই বসার ঘরে চলে এল। আজকে আমার মান সম্মান সব কিছু এই আপু মাটিতে মিশিয়ে দিল রে।

-'কী হয়েছে, এভাবে সারা বাড়ি মাথায় তুলছিস কেন।(মিতালী মির্জা)

-'তোমার ছেলে কী করছে দেখ না একবার,এই নীলয় ব্যাগ কই রে।

-'কিসের ব্যাগ।

-'তুই কিন্তু আমাকে বোকা বানাতে পারবি না আমি কিন্তু সব দেখছি বুঝতে পারছি যে আপনি প্রেমে একে বারে হা/বু/ডু/বু খাচ্ছেন ।

-'এই মেয়ে তুই শুধু শুধু আমার ছেলে টার পেছনে লাগছিস কেন।

-'না মা তুমি জানো না।

-'আমি জানি ও ওর বউয়ের জন্য যা ইচ্ছে আনবে তুই এমন করিস কেন।

-'আমাদের জন্য তো কিছু আনলে পারে,তা তো কখনো করে না।

-'ও আচ্ছা তাহলে আপু তোর জন্য কিছু আনি নি তাই এমন করছিস তাই তো, বাবা রে তুই এত হিং/সু/টে কবে থেকে হলি রে।

-'কী বললি তুই।

-যা বলছি একদম ঠিক কথা।

-'আচ্ছা তোরা কি থামবি ফারিয়া ছেলে এখন মাত্র বাসায় এসেছে একটু রেস্ট নিতে দিবি তো।(মিতালী মির্জা)

-'হ্যা দয়া করে আমার জন্য পারলে কফি বানিয়ে দে আপু প্লিজ।(নীলয়)

-'নিজের বউ কে গিয়ে বল, আচ্ছা দাঁড়া তোকে বলতে হবে না আমি বলছি।মেঘা ও মেঘা তোমার বর ডাকে।

আপুর ডাক শুনে মেঘ বাইরে এল।

-'কি হয়েছে।(মেঘা)

-'তোমার বর আসার পর থেকেই তোমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে তুমি কই ছিলে গোঁ হুঁ।(মিতালী মির্জা)

-'উনি আমাকে খুঁজছেন, আসলে আমি ছুটকির সাথে ছিলাম।

-'এরপর থেকে যখন তোমার বর অফিস থেকে বাড়ি ফিরবে তখন তুমি ওর কাছাকাছি থেক কেমন ভাইটা আমার তোমার জন্য উতলা হয়ে থাকে।

-'আপু তুই কী আমার পিছনে লাগা বন্ধ করবি।

আপুর কথা শুনে মেঘা মুখ চেপে হাসছে।

-'এখন যাও তোমার বর কফি খাবে , তোমার হাতে।

মেঘ আমার দিকে তাকালো, ওর চোখের গভীরতা দেখে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না,।

-'তোমারা কথা বল আমি ফ্রেশ হতে যাই।

বাহানা দিয়ে চলে এলাম রুমে।

-'তুই শুধু শুধু ছেলেটাকে লজ্জা দিচ্ছিস।(মিতালী মির্জা)

-'লজ্জা কই দিলাম গোঁ আম্মু সত্যি কথা তো বললাম।(ফারিয়া)

-'তোকে বলছে কেউ সত্যি বলতে।

-'হু,মেঘ চল তুমি আমার সাথে।

-'জ্বী চল।(মেঘা)

-'এখানে তো দেখছি সবাই বেশ ঢং করতে জানে হুঁ,যাই হোক মেঘা মেয়ে টা কিন্তু সেই দেখতে উফ্ , একবার তো কথা বলতেই হবে।(রিদয়)

____________________

প্রায় অনেক রাত হয়ে গেছে, আমি মেঘার জন্য অপেক্ষা করছি,। আমি আসার পর একবারও আসেনি, এখন তো রাত হয়ে গেছে আর কত ছুটকির কাছে থাকবে দেখে তো বোঝা যায় আমি না ছুটকিই ওর স্বামী, ধুর বোকার মত কী বলছি। কিন্তু ওর তো বোঝা উচিত যে কেউ ওর জন্য অপেক্ষা করছে।দেখতে দেখতে আরও কিছুক্ষণ কে/টে গেল। অপেক্ষা করতে করতে চোখ লেগে গেল হঠাৎ দরজা খোলার আওয়াজ পেলাম, বুঝলাম মেঘা এসেছে ত'ড়ি'গ'ড়ি করে উঠে দাঁড়ালাম।

-'এ কী আপনি এখনো জেগে আছেন কেন।এত রাত হয়েছে তবুও।(মেঘা)

-'এটা তো আমার জিগ্গেস করার কথা, তুমি এখনও জেগে আছ তার উপর রুমে নেই এত ছুটকির ঘরে থাক কেন গোঁ।(নীলয়)

-'কেন কী হয়েছে থাকলে।

-'বাহ বাহ্ এদিকে একজন তোমার জন্য অপেক্ষা করছি ।আরে তুমি কী বোঝ না তোমার স্বামী অপেক্ষায় থাকতে পারে, তোমাকে জ/ল/দি আসা উচিত তাই নয় কি।কখন অফিস থেকে এসেছি কিন্তু তোমার তো কোনো পাত্তাই নেই সারাদিন ছটফট করেছি তোমায় দেখার জন্য আর তুমি তো,,,,,।

হঠাৎ তাকিয়ে দেখি মেঘা আমার দিকে ঢ্যাব ঢ্যাব চোখে তাকিয়ে আছে, নিজের হুঁশেই ছিলাম না কি থেকে কি বলে যাচ্ছি নিজেরেই খেয়াল নেই ।

-'কী বললেন আপনি স্বামী।(মেঘা)

-'না আসলে আমি বলতে চাইছিলাম।(নীলয়)

-'আপনি আমার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তাই তো, কিন্তু কেন।

-'না তো আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি কে বলল।

-'ও আচ্ছা তাহলে তাহলে আপনি ঘুমান আমি ছুটকির ঘরে যাই কেমন। আল্লাহ হাফেজ

পিছনে পা দিতেই শাড়ির আঁচল ধরে টান দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসে নীলয় ,আজকে নীলয় কে একটু অন্যরকম লাগছে ।

-'তুমি কী বোঝ না, আমি অপেক্ষা করে থাকি।

ওনার চোখের দিকে তাকাতে পারছি না ওনার চোখে এত কিছু কী করে স/হ্য করব স/হ্য হচ্ছে না আমার পুরো শরীরে কাঁ/পু/নি অনুভব করছি ।উনি বলেন অন্য কাউকে ভালোবাসেন কিন্তু এখন তো অন্য রকম আচরণ করছেন কী চাইছেন বুঝতে পারছি না।

-'আপনি যদি বুঝিয়ে না বলেন কী করে বোঝাব।আর আমি তো ভাবী নি আপনি আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু অপেক্ষা করছেন কেন সেটা তো বলছেন না।(মেঘা)

-'একজন স্বামি নিজের স্ত্রীর জন্য কেন অপেক্ষা করে বল সেটা জানো না।(নীলয়)

-'জানি,যদি সে স্বামী স্ত্রী কে ভালোবেসে থাকে তাহলে অপেক্ষা করে তাকে ভালোবাসার জন্য। নিজের ভালোবাসার মানুষ কে বুকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাতে চায় তাই অপেক্ষা করে কিন্তু আপনি কেন করছেন।

-'আমিও তোমাকে বুকে নিয়ে ঘুমাতে চাই, জড়িয়ে ধরতে চাই।

-'নীলয় কী বলছেন আপনি এসব, আপনি তো অন্য কাউকে ভালোবাসে,,,,।

-'ইশ কোনো কথা নয়।

নীলয় আমার ঠোঁটে নিজের আঙ্গুল রাখল।

-'তোমাকে একটা জিনিস দেখাই দাঁড়াও।

নীলয় একটি ব্যাগ বের করে আমার হাতে দিল।

-'কী আছে এখানে।

-'দেখ কী আছে।

ব্যাগ খুলে দেখি ভেতরে একটি লাল রঙের শাড়ি, আরেক টা বক্সে লাল রঙের চুড়ি, এগুলো দেখে মনে মনে খুশি হলাম, কিন্তু নিজেকে সংযত করে জিগ্গেস করলাম।

-'এগুলো কার জন্য,।

-'এই মেয়ে তোমাকে দিয়েছি তার মানে তো তোমারই এগুলো তাই না।

-'কিন্তু কেন, আমার জন্য এগুলো।

-'আমার ইচ্ছে হয়েছে তাই দিলাম। তুমি আমার স্ত্রী তোমাকে তো আমি দিতেই পারি।

নীলয়ের মুখে স্ত্রীডাক শুনে মনটা নেচে উঠল উনি আমার জন্য এগুলো এনেছেন,।

-'রমনী,এসো একটা ঘর বানাই;

আমি, তুমি আর এক গুচ্ছ নীলপদ্ম!

স্বপ্নীল ভোর; কলমী ডগায় শিশিরের বিন্দু,

গুটি কয়েক ওঁই পোঁকা; মাকড়শার জ্বালে ভাসমান জীবনের পতন।

টিনের চালায় টুপটুপ বৃষ্টি;

আঁধারে জ্বোনাকীর শোকবার্তা।(নীলয়)

নীলয় আমার সামনে একগুচ্ছ লাল গোলাপ ধরল।

আমি এটা দেখে মুচকি হাসি দিলাম।

-'সরি,

আমি ওনার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালাম।

-'আসলে আমার কাছে নীলপদ্ম তো নেই আছে শুধু এই একগুচ্ছ লাল গোলাপ।

আমার কথা শুনে মেঘা জোরে জোরে হাসতে লাগলো,আহ কী মিষ্টি হাসি আজ প্রথম দেখলাম মেঘা কে শব্দ করে হাসতে এর আগে কখনও এভাবে দেখিনি। হাঁটু গেড়ে বসে বললাম।

-'আপনি কী এই অসহায় ব্যক্তি আনা সামান্য জিনিস টুকু গ্রহন করবেন।

মেঘা হাত বাড়িয়ে ফুল গুলো নিল।

,,,,,,,,,

চলবে.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন