#মেঘ_নীল
পর্ব ১২
#লেখিকা_ফারহানা_নিঝুম
সবাই কে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসি,যাতে নীলয় আর মেঘা নিজেদের মধ্যে সময় কাটাতে পারে। আমি তো বুঝি ওদের একটু আলাদা থাকা দরকার এক কালে আমিও তো নীলয়ের বাবা কে আলাদা কাছে চাইতাম কী দিন ছিল।তাই তো ওদের একা ছেড়ে আসলাম রাতে কেউ বি/র/ক্ত না করে।
_________
নীলয় সকালেই অফিসে বের হয়ে গেছে অনেক ঝড় হচ্ছে বাইরে বাড়িতে একা আছি একটু ভ/য় লাগছে আর সেদিনের ঘটনা তো আমাকে পুরো ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিছে মনে হচ্ছে এই বুঝি রিদয় জানতে পেরেছে বাড়িতে আমি একা যদি আবার আসে তখন,তখন আমি কী করব ।নীলয় আমাকে একা রেখে যেতে চায়নি আমিই জোর করে পাঠিয়ে দিছি,কত বার বলেছে" তুমি একা কী করে থাকবে।" কিন্তু যদি অফিসে না যায় চাকরি চলে যাবে এমনিতেই আমার জন্য অনেক দিন ছুটি নিয়েছে। অবশ্য আমার মনেও ভয় ছিল তবুও নিজেকে শান্তনা দিয়ে বলছি যেতে।যাই হোক এসব কথা বাদ দিয়ে রান্না ঘরে গেলাম নীলয়ের জন্য খাবার তৈরি করেছি। নীলয়ের জন্য ভালোবেসে ছোট ছোট কাজ গুলো করতে খুব ভালো লাগে আর এখন তো আরও বেশি ভালো লাগে যখন থেকে শুনেছি উনি আমাকে ভালবাসে এই শ/ব্দ/টি এখনও আমার কানে বা/জ/ছে।
দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে বাইরে খুব চিন্তা হচ্ছে ওনার জন্য কী করব ফোন করব কী না ভাবছি।
-'উনি কখন যে আসবে ,।
হঠাৎ ফোনের দিকে তাকিয়ে ওনার ফোন এসেছে নাম টা দেখতেই সারা শরীরে একটা শীতল হাওয়া বয়ে গেল।টুক করে ফোন রিসিভ করলাম।
-'হ্যালো আপনি কখন আসবেন,রাত হয়ে গেছে আমি কখন থেকে অপেক্ষা করছি কোথায় আপনি।
-'আরে আস্তে আস্তে,এত গুলো প্রশ্ন এক সাথে,।হায় বউ তো দেখছি আমাকে খুব মিস করে।
নিজেই নিজের মুখে হাত চাপা দিলাম নি/র্ল/জ্জে/র মত সব কিছু বলে দিছি ইশ্।
-'না ওই আসলে।
-'ও আচ্ছা তাহলে মিস কর না তাই তো ঠিক আছে তাহলে আর কী।
-'আরে কে বলল। আচ্ছা বলুন তো কখন আসবেন।
-'আসলে খুব বৃষ্টি হচ্ছে তাই আসতে পারছি না একটু অপেক্ষা কর চলে আসব।
-'আচ্ছা।
-'শুন না।
-'হুম বলুন।
-'তোমাকে বউ সাজে দেখতে ইচ্ছে করছে,মেঘ ভালোবাসি তোমায়।
ফোন রেখে দিলাম। ভাইরে উঠেছে ঝড় আর এদিকে ওনার কথা শুনে আমার মনেও উঠেছে ঝড় কেমন জানি ভালোবাসা চাইছে মনটা।নীলয় কে একটু ছুঁ/য়ে দিতে ইচ্ছে করছে। রুমে গেলাম গিয়ে লাল শাড়ি বের করলাম সেদিন নীলয় আমাকে যেটা দিয়েছিল। শাড়িটা পড়ে নিলাম, সাথে লাল রঙের চুড়ি, চুল গুলো ছেড়ে দিলাম। কিন্তু আমি নীলয়ের সামনে দাঁড়াব কী করে ইশ্ কতটা ল/জ্জা লাগছে ।
__________
বৃষ্টি তো থামার নামই নিচ্ছে না শেষমেশ না পেরে বের হয়ে গেলাম কাক ভেজা হয়ে বাড়ির সামনে এসে দাঁড়িয়েছি।হাত দিয়ে চুল গুলো জেড়ে বেল বাজাই। মেঘ দরজা খুলে দেয় আমার চোখ মেঘাতে আটকে গেছে এতটা সুন্দর লাগছে।
-'কী হল (মেঘা) ভেতরে আসুন।
ভেতরে গেলাম ব্যাগ টেবিলের উপর রেখে ওর দিকে তাকিয়ে আছি লালনের শাড়ি সাথে কেউ কী করে এতটা আকর্ষণ করতে পারে ইশ্,
-'আপনি ফ্রেশ হয়ে নিন, আমি খাবার দিচ্ছি।(মেঘা)
পিছন ঘুরে রান্না ঘরে যেতে লাগলাম। হঠাৎ পিছন থেকে আঁচলটা ধরে টান খেলাম তাকিয়ে দেখি নীল আঁচল ধরে আছে।
-'কী করছেন ফ্রেশ হন খাবার দেই।
-'না এখন আমার খিদে নেই কিন্তু।
-'খিদে নেই কেন কিসের কিন্তু?
-'আমি তৃ/ষ্ণা/র্ত প্রেমিক এখন, আমার ভালোবাসা চাই।
নীলয়ের কথায় বুঝলাম উনি কী চান।
-'নীলয় আপনি।
কিছু বলার আগেই আঁচল ধরে টা/ন দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসে, ওনার দুই হাত আমার কো/ম/ড় জড়িয়ে আছে, দু'জন খুব কা/ছা/কা/ছি ।
-'আগে খাওয়া দাওয়া করে নিন তারপর।
-'ইশ খাব না।
ভেজা শরীরেই আমি মেঘা কে জড়িয়ে আছি ওকে, কিছুক্ষণ পর আলতো করে কপালে একটা চুমু দিলাম ।
দমকা হাওয়া বইছে ঠান্ডা লাগছে এই ঠান্ডায় আমি নিজের উ/ষ্ণ/তাতে মেঘা কে উ/ষ্ণ করে দিতে চাই।কোলে তুলে নিলাম।মেঘা আমাকে বাধা দেয়নি। আজকে যে বাবুই পাখি ও মি/ল/ন চায়।এই ছোট্ট বাবুই পাখি কে আজ নিজের মনের খাঁ/চা/য় সবসময় এর জন্য ব/ন্দী করতে চাই। যতটা সম্ভব কাছে আছি দুজন দুজনের,।
নীলয়ের পাগলী দেখে,নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে এমন একজন মানুষ আমার স্বামী যে আমাকে পাগলের মত ভালবাসে,।আজ কোনো রকম বাধা নেই ছাতক মন মিলিত হচ্ছে একটুখানিও ফাঁক নেই,আজ আমিও নিজের সব কিছু ওনাকে উজাড় করে দিয়েছি।
___________________
রাত প্রায় আড়াইটা বাজে খুব ক/ষ্ট হ/চ্ছে সারা শরীরে ব্যা/থা হ/চ্ছে। ভালোবাসার য/ন্ত্র/না গুলো পু/রো শরীরে ছ/ড়ি/য়ে পড়েছে।এক জায়গায় গু/টি/সু/টি হয়ে বসে আছি। খুব কা/ন্না পা/চ্ছে চিৎ/কা/র করতে ই/চ্ছে করছে ।
-'মেঘ শুন না।
-'হুম বলুন।
-'এদিকে দেখ। আমার দিকে ঘুর।
মেঘা কে নিজের দিকে ফেরালাম।
-'কষ্ট হচ্ছে তোমার,সরি আমি একদম কষ্ট দিতে চাইনি সত্যি বলছি।
মেঘা আমাকে জড়িয়ে ধরে হা/উ/মা/উ করে কেঁ/দে উঠলো।ওর কান্না দেখে আমার কাঁ/দ/তে ইচ্ছে করছে একটু বেশিই হয়ে গেছে ।
-'শান্ত হও ,।
কিছুক্ষণ পর মেঘা কে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে দুজনেই ফ্রেশ হয়ে নিলাম বিছানায় শুয়ে আছে মেঘা আমি পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছি,। আমার দেহ মন সব কিছু তৃপ্তি লাভ করেছে ।
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি মেঘা বিছানায় নেই তড়িগড়ি করে উঠে বাইরে গেলাম গিয়ে দেখি রান্না ঘরে আছে মেঘ কো/ম/ড়ে শাড়ির আঁচল গুঁজে কাজ করছে। গেলাম ওর কাছে পিছনে থেকে কোমড় জ/ড়ি/য়ে ধরলাম।।
-'আপনি।
-' I love you , ভালোবাসি খুব।
-'জ্বী না সব মিথ্যে। আপনি অন্য কাউকে ভালোবাসেন।
-'পা/গ/লী কোথাকার আমি তোমাকে ভালবাসি,।
______________
নীলয় আর আমি এই কয়েকদিন খুব ভালো সময় কাটিয়েছি,ও আমার খুব যত্ন নিয়েছে সকালে খুব তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে নাস্তা তৈরি করে, আমাকে নিজের হাতে খাইয়ে দেয়,তার পর অফিসে বিকেলে এসে আবার নিজেই সব কিছু করে আমাকে কিছু করতে দেয় না। হঠাৎ আমার একদিন জ্বর আসে সারা রাত ঘুমোতে পারিনি।
-'মেঘ কী হয়েছে তোমার।
মেঘার মাথায় হাত রাখতেই বুঝতে পারলাম ওর জ্বর এসেছে পুরো শরীর গরম হয়ে আছে ।
-'ওর পুরো শরীর তো পু/ড়ে যাচ্ছে,।
তাড়াতাড়ি গিয়ে জলপট্টি নিয়ে এলাম এত রাতে কোনো ডক্টর কে পাব না আপাতত রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে । একটু পরে পরে জলপট্টি দিচ্ছি,। শরীরের ব্যা/থা/য় চিৎ/কা/র করে একটু পর পর কেঁ/দে উঠছে মেঘ ।
-'নীল, ক/ষ্ট হচ্ছে আমার (মেঘা)
-'আজকের রাত ক/ষ্ট করে নেও কাল সকালে ডক্টরের কাছে নিয়ে যাব প্লিজ জা/ন ।
ঘুম থেকে উঠে সকালে মেঘা কে নিয়ে ডক্টরের কাছে গেলাম,ডক্টর দেখে ওষুধ দিল বাসায় এসে কোনো রকমে খাবার খাইয়ে ওষুধ খাওয়ালাম।এর বিছানায় শুয়ে দিলাম। কিছু দিন এভাবেই কে/টে গেল মেঘার চিন্তাতে ঠিক করে ঘুমাই নি। খুব ক্লা/ন্ত লাগতেছে ।
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি নীলয় বালিশের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে।মুখ পুরো শুকনো এই কয়েকদিন নীলয়ের খুব ক/ষ্ট হয়েছে না ঘুমিয়ে আমার পা/গ/লের মত সেবা করে গেছে ।
উঠে খাবার তৈরি করলাম কিছুক্ষণ পর নীলয় কে ডেকে দিলাম, ঘুম থেকে উঠে বলতে শুরু করল।
-'তুমি এত কিছু করলে কেন আমি করতাম এই শরীরে।
-'আমি ঠিক আছি আপনি হাত মুখ ধুয়ে খেয়ে নিন এসে।
খাওয়া দাওয়া করে দুজনে বসে আছি,কাল ফুপ্পিরা আসবে, মায়ের সাথে কথা হল মা খুব কা/ন্না/কা/টি করছিল । অনেক দিন পর মায়ের সাথে কথা বলে শান্তি লাগছে।
-'চল ঘুমিয়ে যাই (নীলয়)
-'এখন আপনি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন আমি রাতের খাবার তৈরি করে আসছি।(মেঘা)
-'না এখন ঘুমাব এই কয়েক দিন একদম ঘুমোতে পারিনি।
-'তাই তো বলছি আপনি গিয়ে ঘুমিয়ে নিন কিছুক্ষণ আর আমিও কাজ গুলো সেরে নেই।
-'না গোঁ তোমাকে লাগবে আমার এখন আমার শান্তি তোমার কাছে চল।
বলেই কোলে তুলে নেয়। বিছানায় গিয়ে সেই দু/ষ্টু/মি শুরু করেছে। এদিকে আমি হাসতে হাসতে শেষ ।
,,,,,,,,,,,,,,
চলবে....
#মেঘ_নীল
পর্ব:১৩
#লেখিকা_ফারহানা_নিঝুম
-'মা,।(মেঘা)
অনেক পরে মাকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লাম।ঘরে যেতেই মা, আমার সাথে কথা বলল।
-'মেঘা দেখ মা আমি তোদের ভালোই চাই কিন্তু সেদিনের ঘটনার পর থেকে আমার অবস্থা খা/রা/প ছিল তাই । নীলয়ের সাথে শুধু শুধু ওমন করলাম তোদের থেকে ক্ষ/মা চাই রে ।
-'তুমি এমন করে বল না তো,আর নীলয় তো তোমাকে দোষ দেয়নি ও জানে তুমি রে/গে ছিলা তাই এমন করছ।
____________________
কিছুদিন পর
অফিস থেকে ছোটে বাড়িতে আসলাম মেঘার না কি যেন হয়েছে তাই, পাগল পাগল লাগছে।
-'আম্মু কী হয়েছে মেঘার কই মেঘা।
-'রুমে আছে গিয়ে দেখ।
মায়ের কথা শুনে দৌড়ে রুমে গেলাম গিয়ে দেখি বিছানায় শুয়ে আছে মেঘা। পাশে গিয়ে বসে জিগ্গেস করলাম কী হয়েছে।
-'কী হয়েছে তোমার।
-'কই কিছু না তো।
-'তাহলে আম্মু যে বলল।
-'আসলে আমার,,।
-'কী হয়েছে বল না দেখ এমনিতেই পা/গ/ল পা/গ/ল লাগছে নিজেকে এরপর কিছু খা/রা/প শুনলে কেঁ/দে দেব।
মেঘা উঠে আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল।
-'আমি প্রেগন্যান্ট ।
-কী।
মেঘার কথা শুনে অবাক হলাম মেঘা প্রেগন্যান্ট তার মানে আমি বাবা হব আর মেঘা মা আমাদের বাচ্চা আসবে।
-'সত্যি বলছ তুমি।
-'কেন আপনি খুশি হননি।
-'মেঘা তুমি জানো না আমি ঠিক কতটা খুশি হয়েছি।
বলেই ওকে জড়িয়ে ধরলাম।। তখনি সবাই রুমে চলে এল।
-'বাহ বাহ্।(ফারিয়া)
পিছনে তাকিয়ে দেখি সবাই দাঁড়িয়ে আছে । ওদের দেখে একটু ল/জ্জা/য় পড়ে গেলাম।
-'আমাদের একটু কথা বলতে দে একটু দেখতে দে।(ফারিয়া)
-'ভাবী।
ছুটকি এসে মেঘা কে জড়িয়ে ধরল।
-'আজকে খুব আনন্দ লাগছে তোর বাবা থাকলে এখানে আরও খুশি হত অবশ্য আমি ফোন করে সব কিছু বলছি।(শ্যামলী তালুকদার)
-'হুম আজ নীলয়ের বাবা থাকলেও অনেক খুশি হত নাতির সাথে খেলা করত।(মিতালী মির্জা)
-'আম্মু, তুমি কাঁদিও না, (নীলয়)
-'এখন থেকে তুই দ/য়া করে মেঘার ঠিক করে খেয়াল রাখিস বুঝলি,আর শুন একটু দূরত্ব ব/জা/য় রাখবি
আপুর কথা শুনে ল/জ্জা লাগছে শুধু শুধু আমার পিছনে লাগছে।
-'তুই শুধু শুধু ওদের সাথে এমন করছিস ।দেখ মেয়েটা তোর জন্য মাথা নি/চু করে বসে আছে আচ্ছা এখন ওদের একটু আলাদা কথা বলতে দে।চল ভাবী আমার অন্য ঘরে যাই ।(মিতালী মির্জা)
-'হ্যা চল।(শ্যামলী তালুকদার)
সবাই বের হয়ে যেতেই আমি দরজা বন্ধ করে দিয়ে গিয়ে মেঘার কোলে মাথা রাখি।মেঘ আমার চুলে বিলি কা/ট/তে লাগল ।
-'সত্যি মেঘ আজকে আমি অনেক খুশি। আচ্ছা বল তুমি কী চাও।
-'যা চাইব দিতে পারবেন।
-'আমার ক্ষমতার মধ্যে থাকলে দেওয়ার চে/ষ্টা করব।
-'ওই নীল।
-'হ্যাঁ, বল।
— আমার "সাদাকালো" প্রেমিক হবেন?
সেই পুরনো দিনের প্রেমিকদের মত;
একটা চিঠি , একটা গোলাপ, টং দোকানের চা
পার্কের ব্যাঞ্চে দু'টাকার বাদামের সঙ্গে আড্ডা,
বৃষ্টি এলে ছুটে না পালিয়ে বৃষ্টিতে ভেজা,
কিছু দিতে ইচ্ছে হলেই; একটা গোলাপ, চকলেট।
!
মেঘ এর কথা শুনে একটা মুচকি হাসি দিলাম।
-'আমিতো বেকার
এমনিতে এখন দু'একটা সস্তা কবিতার সাথে
দু'টাকার একটা গোলাপ ছাড়া তোকে কিছুই দিতে পারবো না!
— এইযে সাদাকালো প্রেমিক?
আমার এতেই খুব দৌড়াবে যে।
খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম মেঘ কে।
------------------
দিনে দিনে মেঘ খুব খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে অবশ্য এই সময় নাকি মেয়েরা একটু আধটু এমন করে তাই ওকে কিছু বলি না ওর সব ইচ্ছা পূরণ করার চেষ্টা করি। কিন্তু হুটহাট করে রাখতে উঠে এটা সেটা খাবে বলে বায়না করে তখন কী করব পাগলের মত খুঁজে খুঁজে নিয়ে আসি। কখনো কখনো খুব বিরক্ত লাগে কিন্তু পরে যখন ওর হাসি মুখ দেখি তখন সব ক্লা/ন্তি দূ/র হয়ে যায়।
-'শুনেন না।(মেঘা)
-'হুম বল শুনছি (নীলয়)
নীলয় আমার মাথায় তেল দিয়ে দিচ্ছে আর আমি শুয়ে আছি।
-'ওইট রাখুন আগে আমার কথা শুনেন।
-'আচ্ছা বল।
-'যদি আমার কিছু হয়ে যায় তখন।
-'ধুর আজেবাজে কথা বলে পা/গ/লী।
-'বলুন না তাহলে আপনি আরেক টা বিয়ে করবেন ওই নতুন বউ কে ভালোবাসবেন তাই না আমাকে ভুলে যাবেন।
-'মেঘ,কী হচ্ছে এসব। এসব কথা বলবে না।
মেঘ কে নিজের বুকে চেপে ধরে বললাম।
-'তুমি হঠাৎ এমন কথা বলছ কেন।এসব বল না ক/ষ্ট হ/চ্ছে।
-'কেন জানি খুব ভ/য় হচ্ছে।
-'আচ্ছা শুনেন পেটে খুব ব্যা/থা করছে।
-'আচ্ছা কাল ডক্টরের কাছে নিয়ে যাব । এখন চল খেয়ে নিবে।
-'না এখন খিদে নেই খাব না।
-'দেখ সোনা তুমি যদি খাওয়া দাওয়া না কর আমাদের তাহলে তো আমাদের, বেবির ক্ষ/তি হবে তাই না।চল এখন খেয়ে নিবে।
_______________________
সকালে মেঘ কে নিয়ে ডক্টরের কাছে গেলাম, ডক্টর দেখে তারপর আমাকে ভেতরে ডাকলেন।
-'মিস্টার নীল আপনাকে কিছু বলার আছে।(ডক্টর)
-'জ্বী বলুন।(নীলয়)
-'আসলে মেঘা ওনার অবস্থা ভালো না,।
-'মানে কী হয়েছে ওর ডক্টর।
-'আসলে বাচ্চার পজিশন ঠিক নেই যেকোনো সময় যা কিছু হতে পারে।।
-'ডক্টর কী বলছেন আপনি এসব।
ডক্টরের কথা শুনে বুক কেঁ/পে উঠছে।
-'মিস্টার নীলয় শান্ত হন।এই সময়ে আপনার মেঘা কে সামলাতে হবে আর ওনাকে এসব না বলাই ভালো ।
তখন নার্স মেঘ কে ভেতরে নিয়ে আসে।
-'এই নিন এই ওষুধ গুলো মনে করে নিয়ে নিবেন,আর হ্যাঁ যা বললাম মনে রাখবেন।
-'জ্বী।
চেম্বার থেকে বের হয়ে অটোতে উঠলাম মেঘ আমার সাথে না ওকে, সব কিছু বলতে পারছিনা না নিজের মধ্যে রাখতে পারছি খুব কষ্ট হচ্ছে বুক ফে/টে যাচ্ছে। সত্যি তো যদি এখন এসব ওকে বলি তাহলে টেনশন করবে আরও শরীর খা/রা/প করবে ।
,,,,,,,,,,,,
চলবে.....
#মেঘ_নীল
পর্ব ১৪
#লেখিকা_ফারহানা_নিঝুম
ঘুমের মধ্যে অনুভব করলাম মুখের উপর টুপটাপ জল গড়িয়ে পড়ছে,চোখ খুলে দেখি নীলয় কাঁদছে,
-'নীল কী হয়েছে আপনার কাঁদছেন কেন।
-'কই কিছু হয়নি তো।
-'বলুন না কী হয়েছে আপনি ডক্টরের কাছ থেকে আসার পর থেকে কেমন জানি হয়ে গেছেন কিছু হয়েছে কী, না কি আমার থেকে আপনি লুকিয়ে রাখছেন বলুন তো।
-'না রে পাগলী এদিকে আস।
নীল নিজের বুকে টেনে নিল আমাকে,পরম শান্তিতে ওনার বুকের উপর মাথা রাখলাম। উনি আমার চুলের উপর হাত বোলাতে লাগল।
-'আমি খুশি যে তোমার আর আমার মধ্যে ছোট্ট একটা বাচ্চা আসবে আমাদের মা বাবা বলে ডাকবে ।সারা বাড়িতে ওর হাসির শ/ব্দ শুনব, দৌড়ানোর শব্দ, কতটা খুশির মুহুর্ত হবে তাই না।
-'হুম আপনি ওর জন্য অনেক অনেক খেলনা এটা সেটা নিয়ে আসবেন।
-'হুম।
-রাতে ঘুমানোর সময় আমাদের মধ্যে খানে থাকবে ও, আমরা জ'ড়ি'য়ে ধরে ঘুমাব।
-'একদম । আচ্ছা ঠিক আছে এখন অনেক রাত হয়েছে ঘুমিয়ে পড়।
________________
এভাবেই দিন কা'ট'তে লাগলো,দেখতে দেখতে কয়েক মাস কে/টে গেল।আর কিছু দিন পরেই মেঘার ডেলিবারি ডেট একটু ভ/য় হচ্ছে।মাঝে মাঝেই হঠাৎ বলে উঠে ওর পেটে অসম্ভব রকম য/ন্ত্র/না হচ্ছে তা শুনলে নিজেকে পা/গ/ল পা/গ/ল লাগে ।
-'মেঘ মা।
-'জ্বী ফুপ্পি।
-'তুই কী কোনো কালেই ভালো হ/বি না। এখন তো বা/চ্চা/র মা হ/বি তবুও।
-'কেন আমি কী করলাম।
-'এখন তোর বাচ্চা যদি তোকে ফুপ্পি বলে কেমন লাগবে।
-'এ্যা ও আমাকে ফুপ্পি বলবে কেন আমি ওর আম্মু।
-'তেমনি আমি না তোর শাশুড়ি তাহলে মা ডাকিস না কেন।
-'ও আচ্ছা এই কথা আসলে অভ্যাস হয়ে গেছে, আচ্ছা ঠিক আছে আজ থেকে আম্মু বলেই ডাকব।
-'এই তো ল/ক্ষি মেয়ে।
-'শুন না,জানো আমার না কেন জানি খুব ভ/য় লাগছে আম্মু।
-'কেন কী হয়েছে তোর পেটে ব্যা/থা করছে বল ।
-'হ্যা সবসময়।
-'আরে এই সময়ে একটু আধটু ব্যা/থা হয় ভ/য় পাবি না কেমন ।
___________________
হঠাৎ বাড়ি থেকে ফোন আসল মেঘা কে নিয়ে হসপিটালে গেলাম আজকে মেঘার ডেলিবারি ডেট মামা মামী আসছে সবাই হসপিটালে আছি।খালি দোয়া করছি যাতে সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে।
-' মেঘার অবস্থা একদম ভালো না যেকোনো সময় । আপনাকে তো বলেছিলাম বাচ্চার পজিশন ঠিক নয় এখন কী হবে কিছু বুঝতে পারছি না।
ডক্টরের কথা শুনে শ্বাস নিতে ক/ষ্ট হচ্ছে ।
-'কী বলছেন আপনি এসব দেখেন ডাক্টার আমাদের মেঘা কে একটু সু/স্থ করে দেন।(মিতালী মির্জা)
এসব কথা শুনে সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েছে আমার শুধু মেঘা কথা মনে পড়ছে ওর সাথে কা/টা/নো সময় গুলো । মায়ের কাজ থেকে দূরে গিয়ে দাঁড়িয়েছি, আমি কাঁদছি এটা যদি মা দেখে তাহলে নিজেকে সামলাতে পারবে না। ছেলেদের কাঁদতে নেই কিন্তু আমার চোখে বাঁধ ভে/ঙে কা/ন্না আসছে ।
শুধু আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি যাতে আমার মেঘা সুস্থ থাকে ওকে ছাড়া আমি চলতে পারব না।
পুরো দু ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছি অবশেষে বাচ্চার কান্নার শব্দ কানে পেলাম তার মানে সব কিছু ঠিক আছে। মনে মনে আল্লাহকে স্মরণ করে বললাম আলহামদুলিল্লাহ।
কিছুক্ষণ পর ডক্টর বের হয়ে আসলেন সবাই উতলা হয়ে মেঘার কথা জিজ্ঞেস করল। আমিও ওদের সাথে একমত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম
-'বাচ্চা ঠিক আছে কিন্তু মেঘা আর বেঁচে নেই।
ডক্টরের কথা শুনে মাথা ঘুরছে।
-'কী (শ্যামলী তালুকদার)
মামী মাটিতে ছি'ট'কে পড়ল। আমি সব কিছু চোখের সামনে আবছা দেখতে পারছি ।
চার দিকে কান্নার শব্দ,যার মধ্যে বাচ্চার কান্না ও শুনতে পারছি।
-'নীলয় তুমি ঠিক আছ তো। আমরা অনেক চেষ্টা করছি কিন্তু।
নার্স কোলে করে বাচ্চা কে নিয়ে এল হাঁটু গেড়ে নিচে বসে গেলাম।
আমার বাচ্চার দিকে তাকাতেই একটা কথা মনে পড়ল।
-'ওই নীল।
-'হ্যাঁ, বল।
— আমার "সাদাকালো" প্রেমিক হবেন?
সেই পুরনো দিনের প্রেমিকদের মত;
একটা চিঠি , একটা গোলাপ, টং দোকানের চা
পার্কের ব্যাঞ্চে দু'টাকার বাদামের সঙ্গে আড্ডা,
বৃষ্টি এলে ছুটে না পালিয়ে বৃষ্টিতে ভেজা,
কিছু দিতে ইচ্ছে হলেই; একটা গোলাপ, চকলেট।
!
মেঘ এর কথা শুনে একটা মুচকি হাসি দিলাম।
-'আমিতো বেকার
এমনিতে এখন দু'একটা সস্তা কবিতার সাথে
দু'টাকার একটা গোলাপ ছাড়া তোকে কিছুই দিতে পারবো না!
— এইযে সাদাকালো প্রেমিক?
আমার এতেই খুব দৌড়াবে যে।
****************সমাপ্ত************