ফন্ট সাইজ:
থিম:
হিজ লিটল ব্রাইড

২য় পর্ব

লেখক: নীল মনি
হিজ_লিটল_ব্রাইড
পর্ব - (২)
লেখিকা:নীল_মনি
__" হোয়াট দ্যা হেল আর ইউ ডুইং?" 
কণ্ঠ টা শোনামাত্রই ইধিকার সব দুষ্টুমি হওয়ায় উড়ে গেলো।তার কোমর সমান সোজা চুল গুলো মাথার উপড়ে পনি টেইল করা।পড়নে ফিটিং টপ আর ফোমের জ্যাকেট আর ওয়াইড লেগ ডেনিম জিন্স।তার দুই হাতে চুইংগাম, ইধিকা ধীরে ধীরে পেছনে ফিরলো। মেয়ে টা বাঙালি ক্রিস্টিয়ান , আর সেই বাঙালি আনাও চোখে মুখে শোভা পাচ্ছে। দেখতে খুব যে সুন্দরী তেমন নয়, আবার কেউ একবার তার দিকে তাকালে চোঁখ ফেরাতে একটু সময় লাগবে। এদেশের সুন্দরী মানে যত বেশি ফর্সা। কিন্তু ইধিকার গায়ের রঙ উজ্জ্বল। আর তার মুখের মধ্যে সব থেকে নজর কারা তার ডাগর ডাগর চোখ আর থুতনিতে ছোট্ট কালো তিল। তিলআইজারের চোঁখ মুখ কুঁচকে গেলো।
ইধিকা মুখে হাঁসির ভান করে আইজারের হাতে চুইংগাম গুলো  দিয়ে , বলে উঠলো, 
__" চুইংগাম খাচ্ছিলাম স্যার.... হে হে হে" 
আইজার কিছু বলার জন্য মুখ খুলতে যাবে তার আগেই ইধিকা ওখান থেকে তার বাই সাইকেল টা নিয়ে তাড়াতাড়ি যেতে যেতে বলে উঠলো, 
__" অলি, ইভু আমার ড্যাড কল দিয়েছিল , আমায় যেতে হবে । বাই বাই।" 
আইজার বুঝতে পারল না ঠিক কী হলো? সে নিজের গাড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল চুইংগাম টেনে টেনে 
লাগানো। আইজার  এর মাথাটা গরম হয়ে গেল। সে ও তীব্র গতিতে নিজের  পা বাড়িয়ে দিল ইধিকার যাওয়ার দিকে, আর গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠলো,
__" টাইনি মনস্টার দাঁড়াও বলছি? হাউ ডেয়ার ইউ ? 
সাহস কি করে হলো তোমার?" 
কিন্তু কে শোনে কার কথা , ইধিকা বাই সাইকেল নিয়ে ছুটে  চলেছে আর ছুটতে ছুটতে গেটের বাইরে চলে গেছে। আইজার আর গেটের বাইরে গেলো না। আইজার ভাড়ি নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠলো, 
__" আই উইল সি ইউ টুমরো , ইউ টাইনি মনস্টার।"
কিছুক্ষন বিরক্ত নিয়ে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।
মাইক পেছন থেকে এসে আনমনেই আইজারের কাঁধ ধরে বলে উঠলো, 
__" হু ইজ দ্যাট গার্ল? "
আইজারের দৃষ্টি তখন ও গেটের সামনের রাস্তার দিকে। মেয়ে টা তখন ও তীব্র গতিতে সাইকেল চালিয়ে চলে যাচ্ছে ।কিছু গাড়ি ও যাতায়াত করছে ।সেদিকে তাকিয়েই বিরক্তি তে বলে উঠলো, 
__"সী?সী ইজ বার্ডেনিং ফর মাই ক্লাস ।"
__" ওহ স্টুডেন্ট, আমার চোখে তো পড়ল না ? "
__" কেনো চোঁখে পড়লে কি করতি? তোর স্লিপিং ক্লাসে জয়েন করাতি? "
__" এত রেগে যাচ্ছিস কেনো ? একটু চুইঙ্গাম ই তো লাগিয়েছে?" 
মাইক এই বলে হেসে উঠল, এরপর আইজার এক চোঁখ রাঙানি দিয়ে ঘরে চলে গেলো। মাইক ও হাসতে হাসতে তার পেছন পেছন চলে গেলো।
রাত তখন ১২ টা বেজে ২০ , কিছুক্ষন আগেই আইজার তার বিলাশবহুল ম্যানশনে ফিরে এসেছে। রাতের খাওয়া দাওয়া অবশ্য লার্সেন ভিলা তেই সেরে এসেছে। সুহান এখনো ফেরেনি , আইজার ফ্রেশ হয়ে 
নিজের ম্যাকবুক টা নিয়ে বসেছে ড্রয়িং রুমে। বিজনেস রিলেটেড কিছু ডাটা চেক করতে বসেছে। 
 বেশ কিছু সময় পর বাইরে সুহানের ফারারির শব্দ সোনা গেলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই সুহান ভেতরে প্রবেশ করল। আইজার কে দেখা মাত্রই বলে উঠলো,
__" ডার্লিং এখনো জেগে আছো ? ঘুমাও নি?"
আইজার মৃদু হাসি দিয়ে তাঁকিয়ে পড়ল সুহানের দিকে। এরপর সুহানের পোশাকের দিকে চোঁখ বুলিয়ে নিল। আকাশি রঙেরওয়ান পিস অফ শোল্ডার বডিকোন সিমার গাউন। আর তার ওপর ক্রিম কালারের কোট যার উপর আকাশি স্টোনের কাজ করা। কোট টা ঘাড়ের উপর রয়েছে। আইজার তাকিয়ে বলে উঠলো,
__" লুকিং বিউটিফুল অ্যাজ অল ওয়েস।" 
সুহান নিজের হিল টা এদিক ওদিক ছুঁড়ে মারল। এরপর নিজের কোট টা ছুঁড়ে মারলো সোফায়। আইজারের দিকে এক ক্লান্ত হাসি দিয়ে নিজের রুমে চলে যেতে যেতে বলল,
__" থ্যাংক ইউ ডার্লিং, গুড নাইট।" 
সুহান আর একবার ও ফিরে তাকালো না, আইজার তার যাওয়ার দিকে চেয়ে রইল আর নিজের উপরেই বিদ্রুপ হাসি দিল। এরপর সারভেন্টস রা এসে  সুহানের 
হিলস আর কোট নিয়ে গেলো। আইজার এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে নিজের কাজে মন দিল। এরপর কাজ শেষ করে চলে গেলো নিজের মাস্টার বেডরুমে। আজ 
প্রায় বছর খানেক হলো দুজনে আলাদা রুমে ঘুমায়।
সুহানের নাকি এনযাইটি ফিল হয়।আর এই সব কিছু যে তাদের মধ্যে কতটা দূরত্ব বাড়িয়েছে সুহান এই মুহূর্তে অবহেলা করলেও আইজার অনেক আগেই বুঝে গেছিল। সুহান এখন না বুঝলেও একদিন ঠিক ই ভাঙবে আইজার সেটা ভালো করে জানে।আর সুহান 
সে অতিরিক্তই ভালোবেসে এসেছে যার কারনে সে এই 
ভাঙন গুলো চায় না। 
রাত পেরিয়ে পৃথিবীর বুকে সকাল নেমেছে।নিউ ইয়র্ক সিটির সকাল মানেই এক অদ্ভুত দ্বৈততা একদিকে তাড়াহুড়োর শব্দ, অন্যদিকে নীরবতার ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক অজানা প্রশান্তি।
আকাশ তখনও পুরোপুরি জেগে ওঠেনি। হালকা ধূসর আলো শহরের উঁচু উঁচু স্কাইস্ক্র্যাপারের কাঁচে প্রতিফলিত হয়ে এক ধাতব ঝিলিক ছড়িয়ে দিচ্ছে চারিদিকে। দূরে New York সিটির রাস্তায় একের পর এক গাড়ির হর্ন, সাবওয়ের কম্পন আর মানুষের পদচারণা মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে শহরের নিজস্ব সকাল সিম্ফনি।
আর সেই সকাল সিম্ফনি তেই কফিশপগুলোর সামনে লম্বা লাইন।  কারও হাতে কফি, কারও হাতে ব্যাগ, চোখে ঘুমভাঙা ক্লান্তি। ফুটপাথে দৌড়ে চলেছে অফিসগামী মানুষ, যেন প্রতিটি সেকেন্ডই এখানে হিসেব করা।সেন্ট্রাল পার্কের দিকে একটু শান্তি বেশি। গাছের পাতায় জমে থাকা শিশিরের উপর দিয়ে হালকা বাতাস বয়ে যাচ্ছে, আর জগিং করা কয়েকজন মানুষ শহরের এই কোলাহলের মাঝে নিজের মতো করে এক টুকরো নিঃশ্বাস খুঁজে নিচ্ছে।
আকাশ তখন ধীরে ধীরে রঙ বদলাতে শুরু করে ধূসর থেকে নীল, নীল থেকে সোনালি।
আর এই ব্যস্ত শহরের রাস্তা দিয়ে আইজারের BMW টাও একই গতিতে চলছে । গাড়িটা গিয়ে থামলো আইজারের ভার্সিটির সামনে । ভার্সিটির গ্যারেজে যেতে যাবে ঠিক তখন তার সামনে দিয়ে ৪,৫ টা বাই সাইকেল মুহূর্তেই ছুটে গেলো যেন, আর সঙ্গে সঙ্গে ব্রেক লাগানোর জন্য আইজারের কপালের কোণায় হালকা আঘাত লাগে স্টিয়ারিংয়ে। আইজার দাঁত মুখ কুঁচকে মাথা টা কোনো রকম ঝাঁকিয়ে সামনের দিকে তাঁকিয়ে বলে উঠলো, 
__" হোয়াট দ্যা বুলশিট?" 
আর ভালো করে সামনের দিকে তাকাতেই দেখল ইধিকা সহ আরো কয়েক জন গ্যারেজের বাই সাইকেল সেকশানে হাসতে হাসতে উরই চণ্ডীর মত প্রবেশ করল। যা দেখে আইজারের পুরো শরীর রাগে থরথর করে কেঁপে উঠলো। এক হিংস্র দৃষ্টি ছুঁড়ে বলে উঠলো, 
__" দ্যাট টাইনি মনস্টার...."
আইজার স্টিয়ারিং এক হাত দিয়ে ঘুরিয়ে তাড়াতাড়ি গ্যারেজে  গাড়ি টা স্থির করল। এরপর তাড়াতাড়ী নিজের ভিনটেজ স্টাইল ব্যাগ টা নিয়ে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে ধরতে গেলো । কিন্তু তার আগেই ইধিকা চলে গেলো।
এই দুই জনের মাঝে এরকম সাপ বেজির সম্পর্ক কারন, পাঁচ ছয় মাস আগে ইধিকা এক সিনিয়র ছেলের সঙ্গে ক্লাসের বাইরে দাড়িয়ে হাসাহাসি করছিল। আইজারের সাবজেক্টের ক্লাস ছিল কিন্তু আইজার ক্লাস অ্যাটেন্ড করার পরেও ইধিকা বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল যেই কারনে আইজার তাকে 
বাইরেই দার করিয়ে ছিল। ইধিকা সেই রাগে এক দিন 
সবার চোখের আড়ালে কলার খোসা ছুঁড়ে মারে আর সেই খোসায় পা লেগে আইজার পড়ে যায়। সবাই অনেক হাসাহাসি করে । এরকম দুজনের মধ্যে অনেকবার রেষারেষি হয়েছে। আইজার তো একবার গার্ডিয়ান কল ও করেছিল । কিন্তু ইধিকার বাবা এসে রিকোয়েস্ট করে যায়।
****
 কয়েকদিন পর এক দুপুরে, যখন আইজার করিডোর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল, তখন হঠাৎ কোথা থেকে উড়ে এসে পড়ে একটি কলার খোসা।আর ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই খোসাতেই পা পিছলে সবার সামনে ধপাস করে পড়ে যায় আইজার।
সেদিন পুরো করিডোর হাসিতে ফেটে পড়েছিল।
কয়েকজন তো হাসতে হাসতে চোখে পানি এনে ফেলেছিল। আইজার শতভাগ নিশ্চিত ছিল এর পেছনে ওইবিচ্ছু ইধিকার হাত রয়েছে।সেই ঘটনার পর থেকে যেন তাদের মধ্যে এক অদ্ভুত ঠান্ডা যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।কখনো ইধিকা কোনো না কোনো দুষ্টুমি করে বসে।কখনো আইজার তাকে অতিরিক্ত অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে শাস্তি দেয়।কখনো ক্লাস থেকে বের করে দেয়।
আবার কখনো ইধিকা এমন কিছু করে বসে যে আইজারের রক্তচাপ বেড়ে যায়।একবার তো পরিস্থিতি এতটাই বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে আইজার বাধ্য হয়ে গার্ডিয়ান কল করেছিল।কিন্তু সেদিন ইধিকার বাবা এসে এত ভদ্রভাবে ক্ষমা চেয়েছিলেন এবং মেয়ের হয়ে এত আন্তরিকভাবে অনুরোধ করেছিলেন যে শেষ পর্যন্ত আইজার আর বিষয়টি বাড়ায়নি।
তবুও তারপর থেকে ইধিকা যেন তাকে আরও বেশি জ্বালানোর মিশন নিয়েছে।আর আজ সকালে আবারও সেই একই কাহিনি।কপালের ব্যথার জায়গায় হাত রেখে আইজার ধীরে ধীরে ভার্সিটির মূল বিল্ডিংয়ের দিকে হাঁটতে শুরু করল।
*****
অন্যদিকে "লার্সেন গ্রুপ অব টেক্সটাইল"  কাঁচে ঘেরা বিলাসবহুল অফিস রুমে বসে আছে  সুহান। সামনে বসে আছে একজন মধ্য বয়স্ক লোক। সুহান লেদারের চেয়ারে হাঁটুর উপরে হাঁটু তুলে হাতের আঙুলের মধ্যে আঙুল গুঁজে বাঁকা হাসি দিয়ে বলে উঠলো, 
__" মিষ্টার চৌধূরী আপনি বাংলাদেশি ক্রিস্টিয়ান রাইট?" 
__" ইয়েস ম্যাম...." 
__" মিষ্টার চৌধূরী আপনি যে 10 মন্থ আগে 20000$ অফিস থেকে লোন নিয়েছিলেন সেই লোন এখনো পরিশোধ করা হয়নি কেনো?" 
কথাটা শোনামাত্রই মিষ্টার চৌধূরী হতবম্ব হয়ে গেলেন।
একপ্রকার চমকে উঠলেন।সে তো ভেবেছিল প্রতি মাসে তার স্যালারি থেকে কাটিয়ে পরিশোধ করে দিবে
কিন্তু ওনার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় আর হয়ে ওঠেনি।
উনি আমতা আমতা করে বলে উঠলেন, 
__" ম্যাম ম্যাম একচু......" 
ওনার কথা সম্পূর্ণ হতে দিল না সুহান ,তার আগেই কথা কেটে বলে উঠলো,
__"শুনলাম আপনার  স্ত্রী নাকি ব্রেন টিউমারের পেশেন্ট? 
__" ইয়েস ম্যাম ,এই কারণেই আমি এখনো লোন টা পরিশোধ করতে পারি নি।"
এরপর সুহান চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো, তারপর থাইগ্লাস দিয়ে বাইরে তাকিয়ে পড়ল।সেদিক তাকিয়েই 
মিষ্টার চৌধূরীর উদ্দেশ্যে বলে উঠলো, 
__"আপনার মত না একজন সাধারণ এমপ্লয় ,আমার রুমে প্রবেশ করার অনুমতি পেয়েছেন? তার মানে নিশ্চয়ই কোন ব্যাপার আছে সেটা তো আপনি বুঝে গেছেন তাই না? 
আসলে সত্যিই মিস্টার চৌধুরী বুঝেছিলেন তার লোনের ব্যাপারেই আজ হয়তো CEO ম্যাম এর ডাক এসেছে। এই কারণে উনি একটু ঘাবড়েই আছে ।টেবিলের নিচে হাত দুটো না থরথর করে কাঁপছে। 
এই মুহূর্তে যদি লোন পরিশোধ করতে পারেন তাহলে উনি কোথা থেকে করবেন? এই চিন্তায় মাথার মধ্যে এক ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে সুহান বলে উঠলো, 
___"আপনার লোন পরিশোধ করতে হবে না, আপনার ওয়াইফের ট্রিটমেন্টের দায়িত্ব আমার। ইভেন আমার কোম্পানিতে আপনার জব করতে হবে না। যদিও বা জব করেন কোন উচ্চ পোস্টেই জব পাবেন। আপনার লাইফের সব প্রবলেম সলভ করার দায়িত্ব আমার। কিন্তু একটা শর্তে।"
কথাটা শুনতেই মিস্টার চৌধুরী যেন চমকে উঠলেন। 
এর পরেই এক বাঁকা কঠিন হাসি দিয়ে সুহান  পেছন ঘুরে ওনার দিকে তাকিয়ে পড়ল। এরপর টেবিলের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে টেবিলের উপর দুই হাতের ভর রেখে গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠলো, 
__" আর যদি আপনি আমার শর্তে রাজি না হন তবে আমার আজকের মধ্যেই 20000$ ডলার। " 
সুহানের মুখে আবার সেই বিদ্রুপ হাসি ফুটে উঠলো,
__"ইভেন আপনার জব ও রিজাইন দিতে হবে । আর আপনার জব প্রোফাইল ব্ল্যাক লিস্ট করে দেওয়া হবে। দ্যাটস  মিন আপনাকে আমার শর্তে রাজি হতেই হবে।"
কথা গুলো শোনামাত্রই মিষ্টার চৌধূরীর চোঁখ বড় বড় হয়ে গেল। যেন তার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেল। সব কিছু কেমন যেন ঝাপসা লাগছে।
******
এদিকে মেডিকেল  রুম থেকে একটু আইস প্যাক লাগিয়ে একটা ওয়ান টাইম ব্যান্ডেড লাগিয়ে নিল 
আইজার। মেডিকেল রুমের ডক্টর বলে উঠলো ,
__" কি করে লাগল স্যার ?" 
আইজারের আবার মনে পড়ে গেল একটু আগে গেটে 
ঢোকার কথা। আর মুহূর্তেই চোঁখ মুখের রঙ বদলে গেলো। এরপর নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করে বলে উঠলো,
__' নাথিং, জাস্ট মাইনর এক্সিডেন্ট ।"
এই বলে বেরিয়ে গেলো, আর কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা চলে গেল ক্লাসের।  
ওদিকে ক্লাসে বসে আছে ইধিকার গ্রুপ । সেই গ্রুপে আছে ইধিকার বেস্ট ফ্রেন্ড অলিভিয়া,ইভান , রিনি আরো অনেকে।
ইভান হা করে তাকিয়ে আছে ইধিকার দিকে, ইধি সেই দৃশ্য লক্ষ করে বলে উঠলো,
__" কি রে এরকম ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছিস কেন?"
ইভান বিস্ময় নিয়ে বলে উঠলো,
__" না তোর ভয় লাগছে না? তুই কালকে ওইভাবে আঙ্কেলের গাড়িতে চুইংগাম লাগালি। আজকে আবার শুনলাম আরেক কান্ড করেছিস? আবার এখন দাঁত বের করে হাসছিস?" 
পাশ থেকে রিনি বলে উঠলো,
__"আরে আজকের টা তো বুঝতে পারিনি আমরা, স্যার হট করেই চলে আসবো আমরা তো বুঝিনি না। 
কিন্তু গতকাল কের জন্য আজ আবার স্যারের চোখের ডোজ খাবে।" 
ইধিকা এদের কথায়  পাত্তা না দিয়ে মুখ ঘুরিয়ে বলে উঠলো, 
__" আমি ভয় নাকি? হু যা তা লোকজন।" 
তার কথায় ইভান, অলিভিয়া আর রিনি তিনজনই একে অপরের মুখের দিকে তাকাল।কারণ তারা সবাই জানে ইধিকা ক্লাসের একমাত্র মানুষ যে আইজার লার্সেনকে দেখে ভয় পাওয়ার বদলে উল্টো তাকে রাগিয়ে আনন্দ পায়।
ঠিক তখনই করিডোর জুড়ে ভেসে এলো ভারী জুতোর শব্দ।মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ক্লাসরুম নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
যারা গল্প করছিল, তারা চুপ হয়ে গেল।যারা ফোন দেখছিল, তারা তাড়াতাড়ি ফোন ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেলল।কারণ এই পদচারণার মালিক কে, সেটা সবাই খুব ভালো করেই জানে।পরের মুহূর্তেই হাতে কয়েকটি ফাইল আর ম্যাকবুক নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেন আইজার লার্সেন।কালো শার্টের হাতা কনুই পর্যন্ত গোটানো।গাঢ় ধূসর ফরমাল অফিস ট্রাউজার।
কপালের কোণে ওয়ান টাইম ব্যাণ্ডেড।মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই, কিন্তু তার উপস্থিতিই পুরো ক্লাসরুমের পরিবেশ বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।তিনি ধীর পায়ে ভেতরে ঢুকে প্রথমে পুরো ক্লাসে একবার চোখ বুলালেন।সেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এক এক করে প্রত্যেক স্টুডেন্ট দের উপর গিয়ে থামল।তারপর,কয়েক সেকেন্ডের জন্য গিয়ে স্থির হলো ইধিকার মুখে।
ইধিকা বুক ফুলিয়ে বসে থাকলেও অজান্তেই তার গলা শুকিয়ে এলো।আজ কেন জানি সেই দৃষ্টিটা একটু বেশিই বিপজ্জনক মনে হচ্ছে।কিন্তু তার সুদর্শন চেহারা 
যেন সব কিছু ভুলিয়ে দেয় স্টুডেন্ট দের , আর এত রুড হওয়া শর্তেও সবাই তার ক্লাস এটেন্ড ও করে।আইজারের ডান ভ্রুর পাশে ছোট্ট ব্যান্ডেজটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।সেটা দেখেই অলিভিয়া মুখ ঢেকে ফেলল।ইভান মাথা নিচু করে ফিসফিস করে বলল,
__"ওহ গড.... ইধি ইউ আর ডেড মিট টু ডে।
কিন্তু ইধিকা এখনও সাহস দেখানোর চেষ্টা করছে।
যদিও তার বুকের ভেতরটা ধুকপুক করছে।আইজার ধীরে ধীরে নিজের ফাইলগুলো ডেস্কের ওপর রাখল।তারপর দুই হাত টেবিলে রেখে শান্ত গলায় বলল,
__"গুড মর্নিং, ক্লাস।"
সবাই একসঙ্গে উত্তর দিল,
__"গুড মর্নিং, স্যার।"
আইজার মাথা নাড়ল।এরপর  সরাসরি ইধিকার দিকে তাকিয়ে  গম্ভীর স্বরে বলল,
__" ওই তিল ওয়ালি গেট আউট অফ মাই ক্লাস রাইট নাউ।..."
চলবে........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন