ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি আছো বলেই

১ম পর্ব

লেখক: Ariyan Ahmed Tasin

তুমি আছো বলেই

লেখক আরিয়ান আহমেদ তাসিন 

পর্ব ১ — যেদিন তোমার সঙ্গে দেখা
সকালটা অন্য সব সকালের মতোই ছিল, অথচ মেঘার কাছে সেদিনের সকালটা যেন অকারণেই একটু বেশি সুন্দর লাগছিল। জানালার বাইরে আকাশজুড়ে সাদা মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছিল। হালকা বাতাসে পর্দাটা বারবার দুলছিল, আর দূরের গাছের পাতাগুলোও যেন বাতাসের সঙ্গে নিজেদের কোনো গোপন গল্প বলছিল। মেঘা বিছানায় বসে কিছুক্ষণ সেই দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর হঠাৎ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে তার চোখ বড় হয়ে গেল। “এত বাজে!” সে তাড়াতাড়ি উঠে পড়ল। আজ কলেজে গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্লাস ছিল। তাই দেরি করার কোনো সুযোগ নেই। দ্রুত তৈরি হয়ে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতেই মা বললেন, “নাশতা না করেই যাচ্ছিস?” মেঘা জুতোর ফিতা বাঁধতে বাঁধতে বলল, “ফিরে এসে খাব মা, এখন সত্যিই অনেক দেরি হয়ে গেছে।” মা কিছু বলতে চেয়েও থেমে গেলেন। মেঘা হাসি দিয়ে বলল, “চিন্তা করো না, আমি সাবধানে যাব।” তারপর ছুটে বেরিয়ে গেল। রাস্তায় এসে সে দেখল চারপাশে বেশ ভিড়। সকাল হলেও আকাশের মেঘ দেখে মনে হচ্ছিল যেকোনো সময় বৃষ্টি নামতে পারে। মেঘা ব্যাগটা একটু শক্ত করে ধরে বাসস্ট্যান্ডের দিকে হাঁটছিল। হঠাৎ বাতাসের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি এসে তার মুখে পড়ল। সে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, “আজকেই বৃষ্টি হতে হবে?” ব্যাগ খুলে ছাতা বের করার চেষ্টা করল। কিন্তু তাড়াহুড়োর কারণে ছাতাটা কোথায় রেখেছে সেটাই খুঁজে পাচ্ছিল না। ঠিক তখনই তার সামনে একটি কালো ছাতা এসে থামল। মেঘা অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখল, একজন ছেলে তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটার পরনে সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট, হাতে একটি ঘড়ি। চেহারায় শান্ত ভাব, চোখে এক ধরনের স্থিরতা। ছেলেটা বলল, “আপনি চাইলে এটা নিতে পারেন।” মেঘা অবাক হয়ে ছাতাটার দিকে তাকাল। “কিন্তু এটা আপনার?” “আমার কাছে আরেকটা আছে।” ছেলেটা অন্য হাতে থাকা ছোট ছাতাটা দেখাল। মেঘা একটু দ্বিধা করে বলল, “ধন্যবাদ।” “সমস্যা নেই।” মেঘা ছাতাটা নিয়ে মাথার ওপর ধরল। তারপর খেয়াল করল ছেলেটা নিজের ছাতাটা এখনও খোলেনি। “আপনি নিজে ভিজছেন কেন?” ছেলেটা মৃদু হেসে বলল, “আপনি আগে ছাতাটা নিন। আমি খুলছি।” “ওহ।” মেঘা একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল। কয়েক মুহূর্ত পর ছেলেটা নিজের ছাতাটাও খুলে ফেলল। দুজন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রইল। অচেনা দুজন মানুষ, অথচ সেই কয়েক মিনিটের নীরবতাটা অদ্ভুতভাবে স্বস্তির ছিল। মেঘা মাঝে মাঝে পাশ থেকে ছেলেটার দিকে তাকাচ্ছিল। ছেলেটা অবশ্য সামনের দিকেই তাকিয়ে ছিল। হঠাৎ সে বলল, “আপনি কি কলেজে যাচ্ছেন?” মেঘা অবাক হয়ে বলল, “হ্যাঁ। কিন্তু আপনি বুঝলেন কীভাবে?” ছেলেটা তার ব্যাগের পাশে ঝোলানো আইডি কার্ডের দিকে তাকিয়ে বলল, “আইডি কার্ডটা।” মেঘা সঙ্গে সঙ্গে কার্ডটা ব্যাগের ভেতরে ঢুকিয়ে ফেলল। “ওহ!” ছেলেটা হেসে বলল, “এত লুকানোর কী আছে?” মেঘা বলল, “কিছু না।” কিছুক্ষণ পর বাস এসে থামল। মেঘা ছাতাটা বন্ধ করে ছেলেটার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “এই নিন।” ছেলেটা মাথা নাড়ল। “রাখুন।” “কিন্তু এটা তো আপনার।” “কাল ফেরত দিলেই হবে।” মেঘা অবাক হয়ে বলল, “কাল?” “হ্যাঁ।” “আপনি কি নিশ্চিত আমি কাল আপনাকে খুঁজে পাব?” ছেলেটা মৃদু হেসে বলল, “আপনি চাইলে খুঁজে পাবেন।” মেঘা কিছু বলার আগেই বাসের দরজা খুলে গেল। সে দ্রুত উঠে পড়ল। বাস ছাড়ার আগে জানালা দিয়ে একবার তাকিয়ে দেখল ছেলেটা এখনও সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। মেঘার মনে হলো, ছেলেটা যেন তাকে দেখেই হালকা হাসল। সে দ্রুত চোখ সরিয়ে নিল। কিন্তু অজান্তেই তার ঠোঁটেও একটা ছোট্ট হাসি ফুটে উঠল। কলেজে পৌঁছানোর পর মেঘা তার বান্ধবী রাইসার সঙ্গে দেখা করল। রাইসা মেঘার হাতে থাকা ছাতাটা দেখে জিজ্ঞেস করল, “এটা কার?” মেঘা বলল, “একজন দিয়েছে।” রাইসা সঙ্গে সঙ্গে আগ্রহী হয়ে উঠল। “কে দিয়েছে?” “একজন ছেলে।” “কী!” মেঘা পুরো ঘটনাটা বলতেই রাইসা হেসে বলল, “তার মানে প্রথম দেখাতেই ছাতা!” মেঘা চোখ বড় করে বলল, “এখানে হাসার কী আছে?” “অনেক কিছু আছে। নাম জানিস?” মেঘা মাথা নাড়ল। “না।” “চেহারা কেমন?” মেঘা একটু থেমে বলল, “ভালো।” রাইসা সঙ্গে সঙ্গে বলল, “শুধু ভালো?” “হ্যাঁ, ভালো।” “তুই কিন্তু একটু বেশিই ভাবছিস।” মেঘা বিরক্ত হয়ে বলল, “আমি কিছুই ভাবছি না।” রাইসা হেসে বলল, “ঠিক আছে, দেখা যাক।” দুজন ক্লাসে চলে গেল। প্রথম কয়েকটা ক্লাস স্বাভাবিকভাবেই কেটে গেল। কিন্তু মেঘার মন বারবার সেই ছেলেটার কথায় ফিরে যাচ্ছিল। বিশেষ করে তার সেই কথা—“আপনি চাইলে খুঁজে পাবেন।” কেন যেন কথাটা তার মাথা থেকে যাচ্ছিল না। দুপুরের দিকে ক্লাসে একজন নতুন শিক্ষক আসার খবর হলো। সবাই নিজেদের মধ্যে কথা বলতে শুরু করল। মেঘা খুব একটা গুরুত্ব দিল না। কিন্তু কয়েক মিনিট পর ক্লাসের দরজায় যে মানুষটি এসে দাঁড়াল, তাকে দেখে মেঘা একেবারে চুপ হয়ে গেল। সেই ছেলেটা! সেই বৃষ্টির ছাতা দেওয়া ছেলেটা! তার হাতে বই, মুখে শান্ত হাসি। মেঘার বুকের ভেতর কেমন যেন ধক করে উঠল। ছেলেটাও তাকে দেখে থেমে গেল। তারপর স্বাভাবিকভাবে বলল, “সুপ্রভাত।” পুরো ক্লাস একসঙ্গে উত্তর দিল। রাইসা মেঘার দিকে তাকিয়ে চোখ বড় করে হাসতে লাগল। মেঘা চোখের ইশারায় তাকে চুপ করতে বলল। নতুন শিক্ষক বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের পরিচয় দিলেন। “আমি মাহির। কিছুদিন তোমাদের ক্লাস নেব।” মেঘা মনে মনে নামটা কয়েকবার বলল—মাহির। নামটার মধ্যেও যেন একটা শান্ত ভাব আছে। ক্লাস শুরু হলো। মাহির খুব সহজভাবে পড়াচ্ছিলেন। মাঝে মাঝে কোনো প্রশ্ন করলে মেঘা উত্তর দিচ্ছিল। একসময় মাহির বললেন, “আপনি।” মেঘা তাকাল। “জি?” “আপনার কাছে একটা জিনিস আছে।” মেঘা বুঝতে পারল সবাই তার দিকে তাকাচ্ছে। সে ব্যাগ থেকে ছাতাটা বের করল। “এটা?” মাহির মাথা নাড়লেন। “হ্যাঁ।” মেঘা বলল, “ক্লাস শেষে দিয়ে দেব।” মাহির মৃদু হেসে বললেন, “ঠিক আছে।” রাইসা পাশ থেকে খুব আস্তে বলল, “ছাতা ফেরত দেওয়ার নাম করে গল্প শুরু।” মেঘা তাকে কনুই দিয়ে থামিয়ে দিল। ক্লাস শেষ হলে সবাই বেরিয়ে গেল। মেঘা ছাতাটা হাতে নিয়ে মাহিরের কাছে গেল। “এই নিন।” মাহির ছাতাটা নিয়ে বললেন, “ধন্যবাদ।” মেঘা চলে যেতে গিয়েও থেমে গেল। “আপনার নাম মাহির, তাই তো?” মাহির বললেন, “হ্যাঁ।” “আজ সকালে নামটা জানা হয়নি।” “আপনার নামও তো আমি পুরোপুরি জিজ্ঞেস করিনি।” মেঘা হেসে বলল, “আমার নাম মেঘা।” মাহির কয়েক মুহূর্ত চুপ থেকে বললেন, “মেঘা—সুন্দর নাম।” মেঘা একটু লজ্জা পেয়ে বলল, “ধন্যবাদ।” মাহির বললেন, “আপনার নামের মতোই আকাশটাও আজ মেঘলা।” মেঘা জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল, “হয়তো আমার নাম শুনেই আকাশ মেঘ করেছে।” মাহির হেসে ফেললেন। “তাহলে আজকের আকাশের কৃতিত্ব আপনার।” মেঘাও হেসে ফেলল। সেই হাসিটা দেখে মাহির কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে রইলেন। মেঘা সেটা বুঝতে পেরে বলল, “কী দেখছেন?” মাহির সঙ্গে সঙ্গে চোখ সরিয়ে বললেন, “কিছু না।” “নিশ্চয়ই কিছু একটা।” “আপনার হাসিটা।” কথাটা এত স্বাভাবিকভাবে বললেন যে মেঘা উত্তর খুঁজে পেল না। কয়েক সেকেন্ড পর সে বলল, “আমি যাই।” মাহির মাথা নাড়লেন। “ঠিক আছে।” মেঘা বেরিয়ে গেল। করিডোরে এসে রাইসা তার হাত ধরে বলল, “কী হলো?” “কিছু না।” “মুখটা এত লাল কেন?” “গরম লাগছে।” রাইসা হেসে বলল, “আকাশে বৃষ্টি আর তোর গরম!” মেঘা আর কিছু বলল না। সেদিন বিকেলে কলেজ ছুটির পর মেঘা গেটের কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। রাইসা চলে গেছে। মেঘা ব্যাগ থেকে ফোন বের করে সময় দেখছিল। হঠাৎ পেছন থেকে মাহিরের কণ্ঠ শুনতে পেল। “বাড়ি যাবেন না?” মেঘা ফিরে তাকাল। “যাব। বাসের অপেক্ষা করছি।” মাহির কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে বললেন, “আজ ছাতা আছে তো?” মেঘা ছাতাটা দেখিয়ে বলল, “আপনার জন্যই এখন আমার কাছে ছাতা আছে।” মাহির হেসে বললেন, “ভালো।” কিছুক্ষণ দুজন চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর মেঘা বলল, “আপনি কি প্রতিদিন এখানে থাকেন?” মাহির বললেন, “হ্যাঁ, আপাতত।” “তাহলে কাল দেখা হবে?” কথাটা মুখ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর মেঘা নিজেই অবাক হয়ে গেল। মাহিরও কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর মৃদু হেসে বললেন, “হবে।” বাস চলে এলো। মেঘা উঠে গেল। জানালার পাশে বসে সে দেখল মাহির গেটের কাছে দাঁড়িয়ে আছেন। তার মুখে সেই শান্ত হাসি। মেঘা জানালার কাঁচে হাত রেখে অজান্তেই হাসল। বাড়ি ফিরে সেদিন মেঘা অনেকক্ষণ নিজের ঘরে বসে রইল। বই খুলেছিল, কিন্তু পড়ায় মন বসছিল না। বারবার মাহিরের কথাগুলো মনে পড়ছিল। বিশেষ করে—“আপনার হাসিটা।” সে নিজের মুখে হাত দিয়ে লজ্জায় হেসে ফেলল। ঠিক তখন রাইসার ফোন এলো। “কী করছিস?” “পড়ছি।” “মিথ্যা বলিস না।” “কেন?” “তুই নিশ্চয়ই মাহিরের কথা ভাবছিস।” মেঘা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, “ওকে আমি মাত্র একদিন ধরে চিনি।” “কিন্তু?” “কিন্তু কী?” “কিছু একটা তো হয়েছে।” মেঘা জানালার বাইরে তাকিয়ে ধীরে বলল, “জানি না। ওর সঙ্গে কথা বললে ভালো লাগে।” রাইসা হাসল। “তাহলে কথা বল।” “সবসময় কি কথা বলা যায়?” “যার সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করে, তার সঙ্গে কথা বলার জন্য কারণ লাগে না।” কথাটা মেঘার মনে গেঁথে গেল। পরদিন কলেজে যাওয়ার সময় সে অজান্তেই একটু বেশি যত্ন নিয়ে তৈরি হলো। নিজেকে আয়নায় দেখে বলল, “আমি কারও জন্য তৈরি হচ্ছি না।” তারপর নিজেই হেসে ফেলল। কলেজে পৌঁছে সে প্রথমেই মাহিরকে খুঁজল। কিন্তু কোথাও দেখতে পেল না। ক্লাস শুরু হলো। মাহিরও এলেন না। মেঘার মনটা হঠাৎ খারাপ হয়ে গেল। রাইসা সেটা বুঝে বলল, “কী হয়েছে?” “কিছু না।” “মাহির আসেনি বলে মন খারাপ?” মেঘা চুপ। রাইসা হেসে বলল, “উত্তর পেয়ে গেছি।” দুপুরের দিকে মাহির অবশেষে ক্লাসে এলেন। মেঘা তাকে দেখেই নিজের অজান্তে হাসল। মাহিরও তাকে দেখে হালকা মাথা নাড়লেন। ক্লাস শেষে মেঘা বাইরে বেরোতেই মাহির বললেন, “আজ সকাল থেকে আমাকে খুঁজছিলেন?” মেঘা অবাক হয়ে বলল, “আমি কেন আপনাকে খুঁজব?” মাহির বললেন, “জানি না। তবে মনে হলো কেউ একজন অপেক্ষা করছিল।” মেঘা লজ্জা পেয়ে বলল, “আপনি খুব বেশি ভাবেন।” মাহির বললেন, “হয়তো।” মেঘা চলে যেতে লাগল। মাহির বললেন, “মেঘা।” সে ফিরে তাকাল। “জি?” “আজ বৃষ্টি হবে।” মেঘা বলল, “আমার ছাতা আছে।” মাহির মৃদু হেসে বললেন, “জানি।” মেঘা চলে গেল। কিন্তু সেদিন থেকে তাদের সম্পর্কের মধ্যে যেন নতুন কিছু শুরু হলো। প্রতিদিন দেখা হলে দুজনের চোখে অদৃশ্য এক হাসি ফুটে উঠত। ছোট ছোট কথায় দিন কেটে যেত। কখনো মেঘা কোনো বিষয় নিয়ে অভিমান করত, মাহির তাকে হাসানোর চেষ্টা করতেন। কখনো মাহির ব্যস্ত থাকলে মেঘা চুপচাপ দূর থেকে তাকিয়ে থাকত। তারা কেউই তখনও ভালোবাসার কথা বলেনি। তবু দুজনের দিনের মধ্যে একে অপরের জন্য একটা ছোট্ট জায়গা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। এক বিকেলে মেঘা কলেজের বাগানে বসে ছিল। আকাশে সূর্য ডুবছিল। চারপাশে হালকা বাতাস। মাহির এসে কিছুটা দূরে দাঁড়ালেন। “একা?” মেঘা বলল, “হ্যাঁ।” মাহির পাশে বসে বললেন, “মন খারাপ?” মেঘা মাথা নাড়ল। “না।” “নিশ্চিত?” “হ্যাঁ।” মাহির কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, “আপনি মিথ্যা বলতে পারেন না।” মেঘা অবাক হয়ে বলল, “কীভাবে বুঝলেন?” “আপনার চোখ বলে দেয়।” মেঘা নিচের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল। “আপনি সবকিছু এত খেয়াল করেন কেন?” মাহির একটু থেমে বললেন, “সবকিছু না। শুধু কিছু মানুষকে।” মেঘা এবার তার দিকে তাকাল। দুজনের চোখ কয়েক মুহূর্তের জন্য মিলল। চারপাশের শব্দ যেন হঠাৎ অনেক দূরে সরে গেল। মাহির ধীরে বললেন, “মেঘা, জানেন? আপনার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর থেকে আমার দিনগুলো একটু অন্যরকম লাগে।” মেঘার হৃদয় যেন এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল। সে আস্তে বলল, “আমারও।” মাহিরের মুখে মৃদু হাসি ফুটল। “তাহলে হয়তো আমরা দুজনেই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি।” মেঘা কিছু বলল না। শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল। সূর্য তখন প্রায় অস্ত যাচ্ছে। মাহির বললেন, “একটা কথা বলব?” “বলুন।” “আপনি থাকলে সাধারণ একটা বিকেলও সুন্দর হয়ে যায়।” মেঘার মুখে লাজুক হাসি ফুটে উঠল। সে ধীরে বলল, “আর আপনি থাকলে… আমার সাধারণ দিনগুলোও একটু বিশেষ লাগে।” দুজনেই চুপ করে গেল। কোনো প্রতিশ্রুতি নেই, কোনো বড় কথা নেই—শুধু দুজন মানুষের মধ্যে জন্ম নেওয়া এক সুন্দর অনুভূতি। সেদিন বাড়ি ফেরার সময় মেঘা বুঝতে পারল, মাহিরকে দেখার অপেক্ষা এখন তার প্রতিদিনের অভ্যাস হয়ে গেছে। আর মাহিরও হয়তো বুঝতে শুরু করেছে, মেঘা তার কাছে আর শুধু একজন পরিচিত মানুষ নয়। সে এমন একজন, যার একটি হাসি তার পুরো দিন বদলে দিতে পারে। তাদের গল্পের শুরুটা হয়েছিল একটি বৃষ্টিভেজা সকাল, একটি ছাতা আর দুজন অচেনা মানুষের ছোট্ট পরিচয় দিয়ে। কিন্তু সেই ছোট্ট পরিচয়ের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল এমন এক ভালোবাসার শুরু, যার জন্য তারা দুজনেই হয়তো অনেকদিন অপেক্ষা করেছিল। মেঘা সেদিন রাতে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল, “জানি না আমাদের গল্প কোথায় গিয়ে শেষ হবে, তবে আজ শুধু এটুকুই চাই—তুমি পাশে থেকো।” আর ঠিক একই সময়ে মাহিরও নিজের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে মৃদু হেসে ভাবছিল, “জীবনে কিছু মানুষ আসে কোনো কারণ ছাড়াই, কিন্তু তারা থেকে যায় হাজারটা কারণ হয়ে। মেঘা হয়তো আমার জীবনে ঠিক তেমনই একজন।”
চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন