ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোকে ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ

তুমি যতদিন আমার ডাকে সাড়া না দেও

লেখক: Umme Habiba
তোকে ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ
লেখনিতে: উম্মে হাবিবা
পর্ব –১

"বুঝলেন তো মাষ্টার, আপনার ছেলের জন্য একটা ভালো মেয়ে পেয়েছি, মেয়ে দেখতে মাশাআল্লাহ। আপনার ছেলের সাথে ভালো মানাবে "

গটকের কথা শুনে মাষ্টার কিছু মুহূর্ত চুপ করে ছিলেন। তার পর বলেন।

" দেখি ছেলে বাসায় আসুক, আমাদের পছন্দ হলেতো হবে না, ছেলেরেও পছন্দের বেপার আছে,তাকে জিজ্ঞেস করে দেখি কি বলে"

গটক বলেন,

" মেয়ে কিন্তু অনেক ভালো, দেহেন আপনার ছেলের পছন্দ হয় কিনা"

এই বলে গটক উঠে দারালেন।

"আজ তবে আসি"

মধ্যেবয়সী মাষ্টার নিরব সম্মতি দিলেন।গটক যাওয়ার পারে গড় জুড়ে নেমে এলো নিরবতা। পাশ থেকে মধ্যে বয়সী নূলুফা বেগম।বলেন,

" ছেলে বাড়ি ফিরলে ছেলের সাথে কথা বলবেন এটা নিয়ে। ছেলের বয়সতো কম হয় নাই। এখন বিয়ে করে সংসার করুক।আমাদের ওতো ছেলের সুন্দর একটা সংসার দেখতে মন চায় নাকি "

বলে নীলুফা বেগম উঠে রান্না ঘরে চলে গেলেন।এদিকে মাষ্টার, আজিজুল মল্লিক, নিশ্চুপ হয়ে বসে রইলো।রাত তখন ১১ টার কাছাকাছি, বাড়ি ফিরেছে। এই বাড়ির এক মাত্র ছেলে,।জিদান মল্লিক। বাসায় এসে রুমে গিয়ে আগে। শাওয়ার নেওয়ার তার প্রতি দিনের আব্বাস। শাওয়ার না নিলে তার শরীর হালকা লাগে না। শাওয়ার নিয়ে নিচে নেমে ডাইনিং টেবিল এর কাছে আসে।একটা প্লেটে খাবার ডাকা।খাবার নিয়ে খেয়ে, আবার রুমে চলে যায়। এটা তার প্রতি দিনের কাজ।রুমে এসে বেলকনিতে গিয়ে দারায়। হঠাৎ পিছনে কারো উপস্থিতি টের পেয়েই গার ঘুরিয়ে দেখে নিজের বাবা, আজিজুল মল্লিক, দারিয়ে আছে তার পছনে।বাবাকে দেখে জিদান,  তার দিকে ফিরে বলে।

" কিছু বলবে বাবা"

" হুম, তোমার সাথে কিছু কথা ছিলো "

" বলো আমি শুনছি"

আজিজুল মল্লিক, তপ্ত শ্বাস ছারলেন।তার ছেলেটা কারো কোনো কথা শুনেনা। নিজে যেটা ভালো মনে করবে সেটাই করবে। কারোটা শুনবেও না!  কারোটা বুঝতে ও চাইবে না। আজিজুল মল্লিক, আস্তে করে বলেন।

" তোমার জন্য আমি আর তোমার মা একটা মেয়ে  পছন্দ করেছি,। তুমি একবার দেখ, পছন্দ হলে আমরা কথা আগাবো? মেয়েটা দেখতে সুনতে ভালো,পরিবাও ভালো"

এই টুকো বলে থামলেন আজিজুল মল্লিক। ছেলের মুখের দিকে তাকালেন।তার ছেলের ভিতরে কোনো পরিবর্তন দেখতে পেলেন না!  কিছু মুহূর্ত চুপ থেকে জিদান বলে।

" আমি তোমাদের এর আগেও বলেছি আমি এখোন কোনো বিয়ে করতে পারবো না? তার পরেও তোমরা আবার মেয়ে দেখ কেনো? এইসব বাদ দেও আমি এখন বিয়ে টিয়ে করতে পারবো না।"

এই বলে উল্টো দিকে গুড়ে দারায়,পিছনে আজিজুল মল্লিক, হতাশ হন এই ছেলেকে যতো বারি বিয়ের কথা বালা হয়, তার এক উওর।

" তুমি কি ঠিক করেছ আমাদের শান্তিতে থাকতে দিবে না!  তোমার চিন্তায় তোমার মার প্রশার বারে,  তুমি কি তোমার মাকে সুস্থ থাকতে দিবেনা! বিয়েতে তোমার কি সমস্যা বিয়ে করতে চাওনা কেনো"

" কারন আমি এখুনি বিয়ে করতে চাই না।তোমরা আমাকে এই বিষয় নিয়ে জোর করতে পারো না? আমার সময় হলে আমি নিজেই বলবো,বিয়ের কথা। এই নিয়ে আমি আর একটা কথা ও শুনতে চাই না "

এই কথা বলে আর এক মুহূর্ত দারায় না জিদান! রুম থেকে বেরিয়ে ছাঁদে এসে দারায়। তার দম বন্ধ লাগছে,সে কাউকে বুঝাতে পারে না, এখন বিয়ে করতে পারবে না,কে বুঝবে তার কথা!  সে যে একজনকে মন প্রণ দিয়ে ভালোবাসে,। তাকে ছাড়া সে অন্য কাউকে ভাবতে পারে না। হঠাৎ পকেটের ফোন বিকট শব্দে বেজে ওঠে ' ফোনের রিংটোন এ জিদান ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে আসে। ফোনের স্কিনএ জাবেদ এর নাম বেশে উঠে। ফোন কানে ধরতেই ওপাশ থেকে বেশে আসে আতংকিত কথা!

"দোস্ত তুই কোথায়?  এদিকেতো সাংঘাতিক কান্ড ঘটনা ঘটে গেছে! "

" ভাই এতো কাহিনি না করে বলবি কি হইছে "

" দোস্ত রাকিব সুইসাইড করছে! তুই জলদি আয়"

" কিই! কখন আর কিভাবে কি?"

" তুই আয় তার পর বলতেছি "

" ওকে, ওকে,আমি আসতে আছি, লোকেশন পাঠা'"

" ওকে"

কিছুক্ষন পর হাসপাতালে এসে পৌছায় জিদান, এসেই কেভিনের দরজা ঠেলে বিতরে ডুকে দেখে, হাসপাতালের বেডে সুয়ে আছে রাকিব। পাশের সোফায় বসা,। জাবেদ, মহিন,রাব্বি,রবি,  জিদানকে আসতে দেখে উঠে দারা সব বন্ধুরা। হঠাৎ মহিন এগিয়ে আসতে আসতে বলে।

" ভাই জানিস ও কি করেছে ছাদিয়া ব্রেকাপ করেছে বলে হাত কাটছে! একে কি করা উচিত তুই বল ভাই,,

বলেই হাসতে লাগলো সব বন্ধুরা মিলে।

জিদার রাগে তেরে গিয়ে রাকিবের নাক মুখ বরাবর ঘুসি বসিয়ে দেয়৷। রেগে বলে।

" মরবি একটা মেয়ের জন্য!  আয় আমি তোকে মেরে তোর কাজটা সহজ করে দেই,,

বলে আবারো তেরে যায়, রাকিবের দিকে। বন্ধরা সবাই মিলে জিদানকে ধরে রাখে।

জিদান তার সব বন্ধু দের অনেক বেশি ভালোবাসে। কোনো এক বন্ধুর কিছু হলে,সব বন্ধু পুরো পাগল হয়ে উঠে।  তাদের সম্পর্কে যতই বলবো ততোই কম বলা হবে। এক জন আরেক জনের জন্য জীবন দিতেও সক্ষম। এতটাই নিঃস্বাথ তাদের বন্ধু দের   সম্পর্ক।তাই রাকিব সুইসাইড করছে সুনে।সব বন্ধুরাই এবাভে রিয়েক্ট করেছে।এটা মেয়ে তাকে ভালোবাসে না তার জন্য এমনটা করা বোকামি ছারা আর কি।

গভীর রাতে একটা সপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে যায় সামান্তার। ঘুম থেকে উঠে চারি পাসে দেখতে থাকে। যখন বুঝতে পারে এটা সপ্ন। তখন একটু হাপ ছেড়ে বাঁচল। কি সাংঘাতিক সপ্ন।মনে হলো মানুষটা এখনো আমার আসে পাসে আছে। মনে মনে এই সব বলে পা বারালো ওয়াশ রুমের দিকে। হঠাৎ পাশের বেলকনিতে কি যেনো পারার শব্দ শুনে! সামান্তার পা জোরা থমকে দারিয়ে গেছে। ভয়ে ভয়ে গার গুরিয়ে পাশে তাকায় ; দরজা দেওয়া। দেখে স্থির নিঃশ্বাষ ছারে সামান্তা। ওয়াশরুমর ভিতর থেকে বাহির হয়ে বিছানার দিকে যাওয়ার সময়! সমাান্তার চোখ পরে বেলকনিতে। রুমের সাথে লাগোয়া বেলকনির জানালাতে,বিশাল দেহির এক ছায়া! ভয়ে সামান্তার কলিজা সুখিয়ে কাঠ! কে দারানো তার বেলকনিতে, ভাবতে ভাবতে পা বারালো বারান্দায়। দরজার কাছে গিয়ে বলে।

" ক..কে ও...ওখানে"

বলার সাথে সাথে  ওপাশ থেকে একটা কাগজ মোড়ানো টুকরো পরলো জানালার ফাঁক দিয়ে!  ভয়ে সামান্তা দু- পা পিছিয়ে যায়!  সাথে সেই বিশাল ছায়া ও সরে যাচ্ছে।

ভয়ে সামান্তা নিচু হয়ে কগজের দলাটা হতে নেয়! তার হাত কাপে আছে অনবরত। একটা ঢোক গিলে কাগজ মোড়ানো টুকরোটা খোলে?  ভিতরে একটা চিরকুট। লেখাটা এমন যে?

" তুমি যতদিন আমার ডাকে সাড়া না দেও!  আমি তোমার পিছু ছারছি না। আমি তোমার মন জয় করেই ছাড়বো "

লেখাটা দেখেই বুকটার ভিতরে ধুকপুক শুরু করে দিয়েছে।কারন সামান্তা জানে এটা কে দিয়েছে,তাকে খুব ভালো করে চিনে।চিরকুটটা পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে বইয়ের বাজে রেখে দিলো। মনে মনে বলতে লাগলো।

"আমি কোনো দিন আপনার হবো না! দেখে নিয়েন"

বলে বালিশে মাথা রেখে শুয়ে পরলো সামান্তা।

আসেন এবার এদের পরিচয় দেই........

আজিজুল মল্লিক।

বাড়ির কর্তা,স্ত্রী, নিলুফা বেগম।

এক ছেলে ও ৪ মেয়ে।

* বড়ো মেয়ে, তানহা

* মেজো মেয়ে, আলহা

* তার পর ছেলে, জিদান

* পরের মেয়ে, আলো

* ছোট মেয়ে, ছায়া

তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। এই নিয়ে তাদের পরিবার।

নাজমুল ইসলাম। আর তার স্ত্রী তহমিনা ইসলাম, তাদের দুই ছেলে এক মেয়ে।

* বড়ো ছেলে, নেয়ামুল ইসলাম

* তার পর মেয়ে, সামান্তা ইসলাম

* ছোট ছেলে, নকিব ইসলাম

এই নিয়ে তাদের পরিবার।

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে জিদান...........

চলবে ........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে তুমি যতদিন আমার ডাকে সাড়া না দেও শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন