Love is dil dan
লেখনিতে পৃথা
পর্ব ১
########
ও আব্বা
ও আম্মা আমি এই বিয়ে করব না। আর ওই খাটাশ বেটারে তো একদমই না।
বাল আমারে সুন্দরি রূপবতী পাইছে আর বিয়ে করতে চলে আইছে
। ওর পচাৎ দেশে একটা লাথি মারে ভবিষ্যৎ অন্ধকার দিমু।
এতক্ষণ ধরে সহ্য করলেও আর সহ্য করতে পারল না রিমু। দরজা খুলে বলতে লাগলো আপু তোমার সমস্যা কি ভাইয়া দেখতে কত সুন্দর তোমার বিয়ে করতে সমস্যা কি।
এই কথা শুনে যেন সাবা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো।
সাবা:খেকিয়ে বলে উঠলো তোর অত পছন্দ হলে তুই বিয়ে কর গিয়ে। হ তোমার জায়গায় থাকলে আমি সত্যিই নাচতে নাচতে বিয়ে করতাম। এই বলেই রিমু বলে
তোমার যা ইচ্ছা তুমি করো গো আমার কি আমার যা দায়িত্ব আমি তাই করছি
বলে রিমু দরজা আবার বাইরে থেকে আটকে দিল একটা দৌড়
ভিতর থেকে সাবা যতই চিললাক কোন কাজ হলো না
হঠাৎ সাবার ফোন বেজে উঠলো। সাবা তরীতে পিছনে ঘুরে ফোনটা রিসিভ করল।
ওখানে ও পাস থেকে ভেসে আসলো
হ্যালো জানেমান
কিন্তু এই কথা শুনে। হঠাৎই সাবা হর হর করে কেদে উঠল। ওর কান্না শব্দ শোনে ও পাশ থেকে গুরুতর হয়ে বললো কি হয়েছে পাখি কি হয়েছে
সাবা, একটু চুপ থাকলো। কিছুক্ষণ পর বলে উঠলো
বাসা থেকে আমার বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে
এই কথা শুনে ঐপাশ থেকে কিছুক্ষণ নিরব থাকলো। আর বলে উঠলো কার সাথে
গালিব তালুকদারের একমাত্র ছেলে তাশফিক তালুকদার অভি।
নামটা শোনা মাত্র ওই পাশের ব্যক্তির হাত মোঠো হয়ে যায়
রাগে গজগজ করতে থাকে
তারপর বল কবে বিয়ে। এই শুক্রবারে।
তারপর বলে আমি দেশের বাইরে রয়েছি তোমার বিয়ের দিন
আগেই আসার চেষ্টা করব তোমাকে আমি সব বলে রাখবো তুমি আমার কথা মত কাজ করবে
ঠিক আছে বলে সাবা ফোন রেখে দিল।
ওই পাশ থেকে রাগে গজ গজ করতে থাকা মেহেরাব চৌধুরী জিদান
পরিবার বলতে শুধু একমাত্র বোন ।
রাগে ফিসফিস করে বলে উঠলো অভিক তালুকদার তুমি বারবার কেন আমার জিনিস এই নজর দাও।
এদিকে
তাসফিক তালুকদার অভি
বাবা গালিব তালুকদার
মা সানজিদা বেগম।
গালিব তালুকদার রাজশাহী র এমপি
এমপি হিসাবে তার অনেক নাম ডাক। তার একমাত্র ছেলে তাশফিক তালুকদার অভি
বাপের সূত্র ধরে সেও রাজনীতি করে। বাপের থেকে যেন সে একধাপ এগিয়ে
সে এইসব বিয়ে করতে চায় না। কিন্তু পাবার জড়াজড়ি তে বিয়েতে রাজি হয়েছে।
আজ শুক্রবার। শহরের সুনামধন্য এমপি গালিব তালুকদারের একমাত্র ছেলে তাশফিক তালুকদার অভির বিয়ে। বেলা এগারোটা। সিকদার বাড়িতে এসে থামলে পরপর কয়েকটি গাড়ি। প্রথম গাড়ি থেকে বের হলেন গাড়ির তালুকদার।
দ্বিতীয় গাড়ি থেকে বের হল তাজফিক তালুকদার। তাকে দেখে যে কোন মেয়ে শিহরিত হয়ে যেতে পারে। গায়ে বিয়ের শেরওয়ানি। চুলগুলো জেল দিয়ে ঠিক করা হাতে ব্ল্যাক কালারের একটি ঘড়ি। গায়ের রং টগবগে ফর্সা না হলেও একদম কালো
নয় শ্যাম বর্ণের এই লোকটিকে দেখে কোন রাজপুত্রের থেকে কম লাগছে না।
বাড়িতে হইচই পড়ে গেলে বর এসেছে বর এসেছে বলে।
বরকে নিয়ে যখন সবাই ব্যস্ত। তখন কনে সাবা শিকদার
বেলকনিতে নেমে বাড়ির বাগানে চলে যায়। সেখানে আগে থেকেই তার বয়ফ্রেন্ড মেহেরাব চৌধুরী ছিল। সাবাজি এই মেয়ের বুকে জড়িয়ে ধরল। মেহেরাব তাকে দারস্থ করে বলল।
এখন কেউ দেখার আগেই এখান থেকে আমাদেরকে পালাতে হবে কেউ দেখলে সমস্যা হবে
এদিকে
কলেজ থেকে বের হচ্ছিল দুই বান্ধবী মেহেরিন আফরিন অর্থি ও মিতু। তারা তিন বান্ধবী কিন্তু আর একজন আজ আসেনি।
তারা কলেজের বাইরে আসার পরপরই দেখে। রিমি ও তার বয়ফ্রেন্ড রাতুল। ওদের দেখে অর্থি বলে। কিরে তোরা একসাথে। রিনি বলে আমরা আজকে বিয়ে করেছি। এ কথা শুনে অর্থি ও রিমি বলে উঠলো কি।
রিমি আবারো বলে হ্যাঁ
অর্থি কিছু সময় চুপ থেকে বললো। সব ই ঠিক আছে তুই বউ সাজলি না। রিমি দুই দিকে মাথা নেড়ে বললো। বউ সাজার কি আছে।আমি ওকে পেয়েছি আমার
তাতেই হবে।
একথা অর্থি হেসেই উড়িয়ে দিয়ে বললো।তা তুই যা বলিস ।আমি আমার ভাইয়ের একমাত্র বোন।আমি বিয়ে করবো রাণী সেজে।এ কথা শুনে মিতু বললো হ দেখা যাবে নে।
এখন তুই বিয়ে করলি ট্রিট দে।অর্থি ওর সাথে তাল মিলিয়ে বলে উঠলো, হ্যাঁ আমাদের ট্রিট চাই দুলাভাই। রাতুল মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়ে বললো নিশ্চয়ই আমার কিউট
সালিকারা ট্রিট চাচ্ছে আর আমি দিবো না।
এর পর কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে অর্থি সবার থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় চলে যায়।
এদিকে সিকদার বাড়িতে হইচই পরে গেছে কনে পালিয়েছে শুনে।
বাড়ির চারপাশে খোঁজা হয়েছে কোথাও কনে নেই।
খুজতে খুজতে বাড়ির বাগানে বাধা অবস্থায় পাওয়া যায় সাবার এক কাজিন কে।সে আবার সাবার বান্ধবী ও।এক সাথে পড়ালেখা করে। নাম রিতু।
রিতুকে বাড়ির ভেতরে আনা হলে সে বলে।আমি একটা কাজে
এ দিকে গিয়েছিলাম ,তখন দেখি সাবা ও তার বয়ফ্রেন্ড মেহেরাব চৌধুরী।
আমি আগে থেকেই জানতাম তোমাদেরকে বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু সাবা বললো।
আমি জেন কাউকে না বলি,ও এই বিয়ে করতে চায়।
তাই আমি আর তোমাদেরকে কিছু বলিনি।
তখন আমি ওদের একসাথে দেখে তোমাদেরকে বলতে চেয়েছিলাম। তখন ওরা আমাকে বেঁধে
রেখে চলে যায়।
এতক্ষণ ধরে গালিব তালুকদার সব শুনে তার ছেলের দিকে তাকালেন। প্রথমেই তাঁর ছেলে এই
বিয়ে তে রাজি ছিল না।তার ওপর এই কাহিনী। অভির দিকে তাকিয়ে দেখলেন তার
ছেলে রাগে গজগজ করছে।
কিছুক্ষণ নিরবে অভি ভাবলো মেহেরাব চৌধুরী নামটা।
তারপর তার এসিস্ট্যান্ট রিফাত কে ডেকে গম্ভীর কণ্ঠে বললো মেহেরাব চৌধুরীর সকল ডিটেইল আমার চাই ৩০মিনিটের ভেতর।
চৌধুরী বাড়ির গেট দিয়ে প্রবেশ করছে সাদা রংয়ের একটি গাড়ি। দাঁড়ানের বুঝতে দেরি হলো না গাড়ির মালিক কে।
এ বাড়ির আদরের মেয়ে মেয়েরাব চৌধুরীর একমাত্র বোন মেহেরিন আফরিন অর্থি। অর্থি গাড়ি থেকে নেমেই বাড়ির কলিং বেল বাজায়। বাড়ির কাজের মহিলা সেতু খেলা দরজা খুলে দিল। অর্থি ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে জিজ্ঞেস করল ভাইয়া বাসায় ফেরেনি।
। সেতু খালা সহসা উত্তর দিল না।
তখনই অর্থের ফোনে ফোন এলো। অর্থি দেখলে তার ভাইয়া ফোন দিয়েছে। মেয়েরাব ফোন দিয়ে বলল আমি একটা জরুরী কাজে রাজশাহীর বাইরে এসেছি ফিরতে দুদিন সময় লাগবে তুই ঠিকমতো থাকিস।
তালুকদার ভিলা
বিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েই অভি সোজা নিজের বাড়িতে এসেছে।
বাড়িতে ঢুকে গটগট পায়ে সিঁড়ি দিয়ে নিজের রুমে ঢুকে গেল।
কিছুক্ষণ পর রিফাত অভির রুমের সামনে যে বলল স্যার আসবো।
ভিতর থেকে গম্ভীর কন্ঠে ভেসে এলো কামিং।
রিফাত ভিতরে ঢুকে ।দেখল অভি এতক্ষণে শেরওয়ানি বদলে। কালো শার্ট কালো প্যান্ট সাথে আছে হাতে ঘড়ি শার্টের হাতা ফোল্ড করে রাখা।
অসম্ভব সুন্দর লাগছে যে কোন মেয়ে এক দেখায় ক্রাশ খেয়ে যাবে।
রিফাত ভেতরে ঢুকেই ঢুকে চমকে ওঠে অভির চোখ দুটো প্রচন্ড রকমের লাল হয়ে রয়েছে।
সে কিছু বলার আগেই অভি বলে উঠল ডিটেলসে পেয়েছো। রিফাত বলে জি স্যার। মিস সাবা সিকদার যার সাথে পালিয়েছে তার নাম মেহরাব চৌধুরী।
পেশায় একজন প্রফেসর ও বিজনেস ম্যান। পরিবার বলতে একমাত্র কলিজার বোন ছাড়া আর কেউ নেই। বোনের নাম মেহেরিন আফরিন অর্থি।
বলেই রিফাত হাতের ছবির দুইটা ছবি এগিয়ে দিল। অভি প্রথম ছবিটা দেখেই বুঝতে দেরি হল না তার আন্দাজ ঠিকই ছিল। দ্বিতীয় ছবিটা দেখে সে কিছুক্ষণ চুপ থেকে ঠোঁটের কোনে শয়তানে একটা হাসি দিয়ে।
রিফাত কে বলল গাড়ি বের করো আর বডিগার্ড নিবে। বলে এসে কাবাট খুলে একটা পিস্তল নিল। রিফাত এখনো অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছে কি এমন কাজে যাচ্ছে যে পিস্তল নিতে হচ্ছে।
কিন্তু রিফাত ভয়ে আর কিছু বলল না চলে গেল। আর অভি যেতে যেতে মনে মনে ভাবল মেহরাব চৌধুরী তুমি সবসময় আমার জিনিস নিয়ে টানাটানি করো এবার বুঝবে এই তাসফিক তালুকদার অভি কে ravens is start।
ভাবতে ভাবতে নিচে চলে আসে । এতক্ষণে বাড়ির লোক সবাই সিকদার বাড়ি থেকে ফিরে এসেছে। অভি বাসা থেকে বের হতে গেলে গালিব তালুকদার বলেন কোথায় যাচ্ছ ।
অভি বলে বিয়ে করতে। গালিব তালুকদার বলেন কাকে ।অভি বলে আনলেই দেখতে পাবেন। বলেই তার মার দিকে তাকিয়ে ।বলে মম নতুন বউ আসবে ঘরে রেডি থেকো। বলেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় ।
চৌধুরী বাড়ির গেটে এসে থামে কয়েকটি গাড়ি।
দারোয়ান তাদের না চেনে বলে এই তোমরা কারা। অভি রিফাতের দিকে তাকিয়ে বলে ওকে সামলাও আর তোমরা এখানে দাঁড়াও আমি আসছি বলেই অভির গাড়ি নিয়ে ও বাড়ির ভিতরে ঢুকে যায় ।
এবং রিফাত গার্ডদেরকে বলে দারোয়ানকে বেঁধে ফেলে।
অর্থি ড্রয়িং রুমে বসে টিভি দেখতেছিল।বাইরে গাড়ির শব্দ শুনে মনে মনে ভাবে ভাইয়া তো বলল রাজশাহীর বাইরে গেছে তাহলে এত তাড়াতাড়ি ফিরল কিভাবে।
ভাবতে ভাবতেই গেটের সামনে এসে দাঁড়ালো তখনই কলিং বেল বেজে উঠলো অর্থি দরজা খুলেই পুরো অবাক হয়ে গেল তার সামনে কালো শার্ট কালো প্যান্ট পরিহিত এক সুদর্শন যুবক দাঁড়িয়ে।
তাকে আর এক দফা অবাক করে দিয়ে যুবকটি কিছু না বলে তাকে কাটিয়ে তার সোফায় যে আরামসে বসলো। অর্থি বলে কে আপনি
বলতে বলতে এসে এগিয়ে আসে অভি ঘাড় ঘুরিয়ে আসতে ধীরে টি টেবিলের উপর পা উঠিয়ে বাবলি সিং গলায় বলে তাশফিক তালুকদার অভি
চলবে