ফন্ট সাইজ:
থিম:
দাহন শেষে নীলিমায়

১ম পর্ব

লেখক: 𝑴𝒂𝒈𝒏𝒂𝒏𝒊𝒎𝒂’𝒔 𝑷𝒆𝒏 -Samiha

আম পাড়তে গিয়ে বিয়ে! বিশ্বাস হবে একথা? কিন্তু এ কথাটা সত্যি। আমার আম পাড়তে গিয়ে বিয়ে হয়েছে।"

"কী বলো? কীভাবে?"
মেয়েটির কথা শুনে শুনতে থাকা মেয়েটি বিশ্বাস করতে পারল না। তার চোখে-মুখে অবিশ্বাসের দর্শন পাওয়া গেল। 
অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা মেয়েটি এবার নড়েচড়ে বসল। কপালে তিনটি সূক্ষ্ম ভাঁজ ফেলে সে অস্ফুট স্বরে বলল, 
"আম পাড়তে গিয়ে বিয়ে? মানে আম গাছ থেকে কি বর টুপ করে মাথায় পড়ল নাকি?"
প্রথম মেয়েটি মৃদু হাসল। সেই হাসিতে কিছুটা লজ্জা আর কিছুটা নস্টালজিয়া মেশানো। 
সে মাঠের সামনের নারকেল গাছটার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলতে শুরু করল:
"আমের বদলে মানুষ! একেই বলে বামুন হয়ে চাঁদে হাত দিতে গিয়ে আস্ত একটা চাঁদই কোলে পড়ে যাওয়া। এখন সমস্যা হলো, আমটা তো খেয়ে হজম করা যেত, এই 'মানুষ' নামক আপদটাকে নিয়ে এখন কোথায় রাখি?"
অতীত....
চৌধুরী বাড়ির বাগানটা আমাদের সীমানার ঠিক পাশেই। গ্রামের মানুষ বলে, ওই বাগানে নাকি জ্যৈষ্ঠের দুপুরে স্বয়ং পরীরা নামে আম খেতে। পরী-টরী বুঝি না, তবে পাঁচিলের ওপর দিয়ে ঝুলে থাকা 'সূর্যপুরী' আমের সেই লালচে আভা দেখলে কার না জিভে জল আসে? বিশেষ করে জোহান চৌধুরীর কড়া শাসনে ওই বাগানে ঢোকা মানেই যমদূতের দরজায় কড়া নাড়া।
বাড়িতে কাকি নেই, ধান শুকিয়ে বস্তায় ভরে তিনি পাশের পাড়ায় গিয়েছেন। কাঠফাটা রোদে আমার পেট আর মন দুটোই তখন বিদ্রোহ করছে। ভাবলাম, এই তপ্ত দুপুরে সবাই তো ঘরের ভেতর অঘোরে ঘুমাচ্ছে, একটা আম পেড়ে আনলে কার কী ক্ষতি? অনাথ মেয়েটার কপালে একটু আমের স্বাদ জুটলে কি চৌধুরী বাড়ির জমিদারি কমে যাবে?
আমি ডর-ভয় ভুলে, শাড়ির আঁচল কোমরে শক্ত করে গুঁজে মই ছাড়াই তরতর করে উঠে গেলাম বাগানের সেই মগডালে। ডালটা দেয়ালের ওপাশে চৌধুরী বাড়ির ভেতরে ঝুঁকে আছে। নিচে তাকালাম একবার। বাগানটা জনমানবহীন, শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে। রোদে ঘাসগুলো যেন চিকচিক করছে। একটা টসটসে হলুদ আমে যেই না হাত দিয়েছি, ঠিক তখনই ঠিক নিচ থেকে কারো একটা অদ্ভুত যান্ত্রিক আওয়াজ এল— 
'ক্লিক'!
ভয়ে আমার কলিজা শুকিয়ে গেল। নিচে তাকিয়ে দেখি এক জোড়া নীল ফ্রেমের চশমা রোদে ঝিলিক দিয়ে উঠছে। কেউ একজন ক্যামেরা হাতে ঠিক আমার নিচেই দাঁড়িয়ে। তার গায়ে ইস্ত্রি করা ধবধবে সাদা শার্ট, রোদে যেন চকমক করছে। চৌধুরী বাড়ির ছোট লোকজনের হাতে তো ক্যামেরা থাকার কথা না! তবে কি বড়দের কেউ? ভয়ে আমার হাত-পা থরথর করে কাঁপতে শুরু করল।
ঠিক সেই মুহূর্তে 
পায়ের নিচের চিকন ডালটা মড়মড় করে জানান দিল— সে আর ভার সইতে পারছে না। চিৎকার করার সুযোগটুকুও পেলাম না। আমটা হাত থেকে ফস্কে গেল, আর তার ঠিক এক সেকেন্ডের মাথায় আমি নিজে ভারসাম্য হারিয়ে সরাসরি নিচে সেই ধবধবে সাদা শার্টের ওপর ল্যান্ড করলাম!
চোখ বুজে ফেললাম আতঙ্কে। 
ভাবলাম আজ হাড়গোড় আর আস্ত থাকবে না। কিন্তু শক্ত মাটির বদলে আমি নরম অথচ বলিষ্ঠ কিছু একটার ওপর গিয়ে পড়লাম। আমার হাতের সেই পাকা আমটা সরাসরি থেঁতলে গেল সেই দামী শার্টের বুকের ওপর। আঠা আর হলদেটে রস মিলে এক বিচ্ছিরি অবস্থা! যন্ত্রণায় নিচ থেকে একটা গম্ভীর কোঁকানি শব্দ ভেসে এল। আমি চোখ খুলতেই দেখলাম একজোড়া তামাটে চোখ আমার দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমাদের মুখ তখন মাত্র ইঞ্চি তিনেক দূরে।
সে রাগে আর বিস্ময়ে তোতলাতে শুরু করল,
 "ইউ... ইউ স্টুপিড! তুমি কি আকাশ থেকে পড়লে? আমার শার্ট...।"
আমি তখনো তার বুকের ওপর চেপে বসে আছি। 
নিজের আলুথালু চুল সামলে নিয়ে আম চুরি ধরা পড়ার ভয় ঢাকতে তড়বড় করে বলে উঠলাম, 
"আকাশ থেকে না, গাছ থেকে পড়েছি। আর আপনার শার্টে তো শুধু আম লেগেছে, আমার আমটা যে ফেটে চৌচির হয়ে গেল! সেটার দাম কে দেবে?"
লোকটা বোধহয় জীবনে এমন অদ্ভুত কথা শোনেনি। তার ফর্সা মুখটা রাগে লাল হয়ে উঠল। সে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই বাগানের ঝোপঝাড় ঠেলে জহির মাতব্বর আর তার দলবল সেখানে উদয় হলো। তাদের হাতে লাঠি আর চোখেমুখে এক অদ্ভুত বিজয়োল্লাস। জহির মাতব্বরের এক লোক চিৎকার করে সারা পাড়া মাথায় তুলল,
 "আরে একি কাণ্ড! চৌধুরী বাড়ির সাহেব শেষমেশ পাড়ার অনাথ মেয়ের সাথে আম বাগানে এই সব করছে? ছি ছি! ইজ্জত তো একদম ধুলোয় মিশিয়ে দিল!"
আমি তখনো বুঝতে পারিনি, আম পাড়তে গিয়ে আমি আসলে নিজের সারা জীবনের অধিকার সাদা শার্টওয়ালার কাছে বন্ধক দিয়ে ফেলেছি। 
জহির মাতব্বরের লোকের সেই গগণবিদারী চিৎকারে যেন আকাশ ভেঙে পড়ল আম বাগানে। মুহূর্তের মধ্যে কোত্থেকে বিশ-তিরিশ জন মানুষ জড়ো হয়ে গেল। কারো হাতে কোদাল, কারো হাতে লাঠি—যেন তারা আগে থেকেই ওত পেতে ছিল কোনো একটা শিকার ধরার জন্য।
সাদা শার্টওয়ালা অর্থাৎ আবরাজ চৌধুরী নিজেকে সামলে নিয়ে দ্রুত উঠে দাঁড়াল। তার চোখে-মুখে তখন রাজ্যের ঘৃণা আর বিস্ময়।
 নিজের ধবধবে শার্টের ওপর লেপ্টে থাকা আমের আঠা আর আফরার স্পর্শ—দুটোই যেন তার কাছে বিষের মতো লাগছে। 
জহির মাতব্বর দাঁত কেলিয়ে আবরাজের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল,
 "কী গো ছোট চৌধুরী সাহেব? লন্ডন থেইকা আইসা শেষে আমাগো গেরামের মাইয়াগো লগে পাগারে নামলেন? শরম-হায়া কি সব বিলাইরে দিয়া আইছেন?"
আবরাজ দাঁতে দাঁত চেপে বলল, 
"শাট আপ! আপনি যা ভাবছেন তেমন কিছুই হয়নি। এই মেয়েটা গাছ থেকে আমার গায়ের ওপর পড়ে গিয়েছে। ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান এক্সিডেন্ট!"
পাশ থেকে হারান কাকা লম্বা করে একটা থুতু ফেলে বলল, 
"আরে রাহেন আপনের এক্সিডেন্ট! আমরা কি চউখে দেহি না? মাইয়াডারে বুকের লগে জড়ায়ে ধরছিলেন না? মগডালে উইঠা যে লীলাখেলা চালাইতেছিলেন, হেইডা তো আমাগো মাতব্বর চাচা নিজের চউখে দেখছে।"
আমি তখনো মাটিতে বসে থরথর করে কাঁপছি। ভয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ। অস্ফুট স্বরে বললাম, 
"আমি... আমি তো শুধু আম পাড়তে...।"
"চুপ কর হারামজাদী!" 
মাতব্বর এক ধমক দিয়ে আমাকে থামিয়ে দিল। 
তারপর গ্রামের মানুষের দিকে ফিরে বলল,
 "হেরাই হইলো বড় মানুষ, আর আমাগো গেরামের ইজ্জত হইলো মাটির ডলা! চৌধুরী বাড়ির পোলারে কি এই শিক্ষা দিছে হের বাপ? জোহান চৌধুরী জানলে তো মুখ দেখাইতে পারব না।"
ঠিক তখনই জোহান চৌধুরী খবর পেয়ে বাগানে এসে হাজির হলেন। আবরাজের বাবা জোহান চৌধুরীর মুখটা তখন রাগে ছাইবর্ণ ধারণ করেছে। তিনি নিজের ছেলের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে উঠলেন, 
"আবরাজ! এসব কী শুনছি আমি?"
আবরাজ তার বাবার কাছে গিয়ে বলল,
 "আব্বা, আপনি ওদের কথা বিশ্বাস করবেন না। এরা তিলকে তাল করছে। এই মেয়েটা চোর, ও আমাদের আম চুরি করতে এসে আমার ওপর পড়েছে।"
জহির মাতব্বর এবার সুযোগ বুঝে তুরুপের তাস চালল। সে গ্রামের মানুষদের উসকে দিয়ে বলল, 
"তিলরে তাল করি নাই সাহেব। মেজাজটা সামলান। গেরামের মানুষের ইজ্জত নিয়া ছিনিমিনি খেলবেন, আর আমরা কি আঙ্গুল চুষব? এই এতিম মাইয়াটার কপালে কে কলঙ্ক দিল? এখন ওরে কে বিয়া করব? আমরা ন্যায় বিচার চাই!"
গ্রামের চ্যাঙড়া কয়েকটা ছেলে হইহই করে উঠল, 
"হ, বিচার চাই! বিয়া দিয়া দ্যান। চৌধুরী বাড়ির ইজ্জত বাঁচাইতে অইলে এই মাইয়ারে অহনই বিয়া করতে অইব।"
জোহান চৌধুরী তার আভিজাত্য আর সম্মানের ব্যাপারে প্রচণ্ড সচেতন। তিনি জানেন, এই ঘটনা বাইরে জানাজানি হওয়া মানেই চৌধুরীদের নাম এক নিমেষে ধুলোয় মিশিয়ে যাওয়া। তিনি আবরাজের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে শীতল গলায় বললেন, 
"আবরাজ, তুমি অন্যায় করেছ কি করোনি সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো, চৌধুরীদের কোনো ছেলে আজ পর্যন্ত বাজারের আড্ডায় আলোচনার বিষয় হয়নি। এই কলঙ্ক মোছার একটাই উপায় আছে।"
আবরাজ আঁতকে উঠে বলল,
 "আব্বা! আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন? এই অশিক্ষিত চোর মেয়েটাকে আমি বিয়ে করব?"
পাশ থেকে রহমত শেখ চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
 "ফকিন্নির পোলা ভাব ধরছেন ক্যা? আকাম করার সময় তো ঠিকই শিক্ষিত আছিলেন। অহন বিয়া করতে গেলেই জাত যায়? আমরা এই গেরামের মানুষ সাক্ষী আছি, বিয়া না দিলে এই বাগান থেইকা একজনরেও বাইর অইতে দিমু না!"
চারপাশে মানুষের শোরগোল আর মাতব্বরের কূটচাল আফরার মাথা ঝিমঝিম করে তুলল। সে শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল সেই 'সূর্যপুরী' আমের গাছটার দিকে। সামান্য একটা আমের লোভ যে তাকে এমন এক কঠিন দহনের মুখে দাঁড় করিয়ে দেবে, তা সে স্বপ্নেও ভাবেনি।
অতীতের সেই মুহূর্তগুলো আফরার চোখে এখনো ভাসে। সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তার সামনে বসে থাকা মেয়েটাকে বলল, 
"বিশ্বাস করো, সেই আমতলায় দাঁড়িয়েই কোনো আয়োজন ছাড়া, শুধু গ্রামের মানুষের চাপের মুখে আমাদের কবুল বলতে হয়েছিল। চারদিকে তখন গ্রামের শ’খানেক মানুষ। কেউ হাসছে, কেউ টিটকারি দিচ্ছে, আর কেউ কেউ 'চৌধুরী বাড়ির পোলা'র অধঃপতন দেখে মনে মনে আনন্দ পাচ্ছে।
জহির মাতব্বর তড়িঘড়ি করে পাশের পাড়া থেকে মওলানা সাহেবকে আনিয়ে ফেলল। মওলানা সাহেব সাদা দাড়ি নেড়ে আম গাছের নিচেই জায়নামাজ পাতলেন। আবরাজ তখনো রাগে কাঁপছে। তার সেই দামি সাদা শার্টের বুকে থেঁতলে যাওয়া আমের হলদেটে কষ শুকিয়ে কালচে হয়ে গিয়েছে। দেখতে অনেকটা জমাট বাঁধা রক্তের মতো লাগছিল।
আবরাজের বাবা জোহান চৌধুরী পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার সম্মানে আঘাত লেগেছে, আর সেই সম্মান বাঁচানোর জন্য তিনি নিজের ছেলেকে একটা অনাথ মেয়ের সাথে বলি দিতেও দ্বিধা করলেন না। তিনি আবরাজের দিকে তাকিয়ে শুধু একবার বললেন,
 'বংশের ইজ্জত যদি আজ এই আমতলায় মাটি হয়, তবে তোর মুখ আমি আর কোনোদিন দেখব না আবরাজ, কবুল বল!'
আবরাজ আমার দিকে তাকাল। সেই দৃষ্টিতে কোনো ভালোবাসা ছিল না, ছিল বিষাক্ত ঘৃণা। আমি মাটিতে বসে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিলাম। আমার পরনের সুতির শাড়িটা ঘাম আর ধুলোয় মাখামাখি। মওলানা সাহেব যখন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন,
 'মা জননী, আপনি কি এই বিবাহে রাজি?'
আমি উত্তর দিতে পারিনি। গলার ভেতর কান্না দলা পাকিয়ে আসছিল। পাশ থেকে জহির মাতব্বর চিবিয়ে চিবিয়ে ফিসফিস করে বলল, 
'রাজি না হইয়া উপায় আছে রে ছুঁড়ি? অহন কবুল না কইলে এই গেরামের মাইনষে তোরে জ্যান্ত পুইড়া মারব। তোর মতো অলক্ষ্মীরে চৌধুরী বাড়ির বউ বানাইতেছি, এইডাই তোর ভাগ্যি!'
শেষ পর্যন্ত সমাজের চাপে, জীবনের ভয়ে আমার মুখ দিয়ে অস্ফুট স্বরে বের হলো—
 'কবুল'। মওলানা সাহেব যখন বললেন, 'আলহামদুলিল্লাহ', ঠিক তখনই আকাশের এক কোণে মেঘ ডেকে উঠল। যেন প্রকৃতিও আমাদের এই অসম বিয়েতে হাহাকার করে উঠল। আবরাজ যখন সই করছিল, তার কলমটা খাতার ওপর দিয়ে সজোরে ঘষা খাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল সে যেন বিয়ের দলিলে নয়, বরং আমার কপালে অপমানের এক দীর্ঘ ইতিহাস লিখে দিচ্ছে।
বিয়ের কাজ শেষ হতেই আবরাজ আমার হাতটা লোহার সাঁড়াশির মতো চেপে ধরল। সে নিচু গলায়, শুধু আমার কানে পৌঁছাবে এমন স্বরে বলল,
 'আজ থেকে এই জ্যৈষ্ঠের রোদ তোমার নিত্যসঙ্গী। যে আমের জন্য তুমি আমাকে এই অপমানের মুখে ফেললে, সেই আম বাগানের প্রতিটি পাতা তোমাকে আমার ঘৃণার কথা মনে করিয়ে দেবে।'
বিয়ে তো হলো, কিন্তু কোনো ফুলশয্যা হলো না। 
সেই বিকেলে ছেঁড়া শাড়িতে, চোখের জলে ভেজা মুখে আমি চৌধুরী বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকলাম। কেউ বরণডালা নিয়ে আসেনি, কেউ উলুধ্বনি দেয়নি। শুধু আম বাগানের ঝিঁঝিঁ পোকাগুলো একনাগাড়ে ডেকে যাচ্ছিল, যেন আমার ভাগ্যকে উপহাস করছিল।"
আফরা থামল। তার চোখের কোণে এক ফোঁটা জল চিকচিক করছে। সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
 "আম পাড়তে গিয়ে জীবনটাই এমন ওলটপালট হয়ে যাবে, কে জানত!"
আফরা আবার নারকেল গাছটার দিকে তাকিয়ে অস্ফুট স্বরে বলল, 
"দাহনটা তো ওখানেই শুরু হয়েছিল, নীলিমার দেখা পাব কি না, তা আজও জানি না।"
পর্ব :১
দাহন শেষে নীলিমায় 
𝑴𝒂𝒈𝒏𝒂𝒏𝒊𝒎𝒂’𝒔 𝑷𝒆𝒏 -Samiha

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন