ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রিয় প্রণয়িনী ২

৭৭তম পর্ব

লেখক: জান্নাত নুসরাত

#প্রিয়_প্রণয়িনী২

#জান্নাত_নুসরাত 
অন্তিম পর্ব (শেষাংশ)
হেলাল সাহেব কাজ করছেন কম চ্যাঁচাচ্ছেন বেশি। যখন চ্যাঁচিয়ে হয়রান হয়ে যান তখন আরাম করে বসে যান। মেয়ের বিয়ের শাড়ি পছন্দ করবে নুসরাত। তার সাথে রুহিনী, আইজান, জায়রা, আমিরা যাবে। প্রথম প্রথম জায়রা যেতে চাইলে যখন শুনল আইজান ভাই ও যাবেন, তখন সে যাবে না আর। লজ্জায় তার মাথা কাটা যাচ্ছে। কীভাবে লোকটার সাথে এক গাড়িতে বসে যাবে? ভাবতেই গা শিরশির করে ওঠল। আজই আকাম করল আর আজই বিয়ের প্রস্ত্যাব রাখা হলো কেন?
 সন্ধ্যার নামাজ পড়েই সবাই আকদ পড়ানোর জন্য শাড়ি আনতে চলে গেল। জায়রাকে নিয়ে যাওয়া গেল না। সৌরভি তাকে গাইগুই করতে দেখে বলল,’’যেতে চাচ্ছে না যখন, বাদ দে। হয়তো আইজানকে লজ্জা পাচ্ছে।
তারা সরাসরি ব্লু ওয়াটারে মলে আসলো। সেখানের দো-তলায় জারার শো-রুম। শাড়ি দেখার জন্য বসল সবাই। আইজান মায়ের পাশে বসেছে। দোকানের ছেলেরা লাল, মেরুন শাড়ি বের করে দেখাল। কোনোটাই নুসরাতের ভালো লাগল না। শেষ পর্যন্ত সে হাত বাড়াল সাদার মধ্যে কারুকার্য করা একটা শাড়ির দিকে। অই সময়ই আইজানও সেটার দিকে হাত বাড়িয়েছিল। নুসরাতের ছেলের শুভ্র হাতের ঘড়ির দিকে একবার চোখ গেল। শার্টের হাতা গুটিয়ে রাখা। হাত সরিয়ে নিতে গিয়েও নিতে পারলা না। আইজান তার হাতে শাড়িটা তুলে দিয়ে শুধাল,’'শাড়িটা আপনার পছন্দ হয়েছে?
একই সময় নুসরাত একই প্রশ্ন করল। দু-জনেই দু-জনের দিকে ভ্রু কুঞ্চিত করে তাকিয়ে রইল। রুহিনী হাসছেন। হাসতে হাসতে বললেন,’'মা ছেলের পছন্দ দেখছি এক। তাহলে এটাই ডান করো। তবে মেরুন শাড়ি নিলে ভালো হতো। 
শাড়িটা প্যাক করার জন্য দিয়ে দেওয়া হলো। সাধারণ কারুকার্য করা শাড়িটার বিল এসেছে এক লাখ পঁচাশি হাজার টাকা। নুসরাত নিজের কার্ড বের করতে নিবে তাকে থামিয়ে দিল আইজান। বলল,”আমি বিল দিচ্ছি, মাম্মা। আপনাকে দিতে হবে না। 
আমিরা সুঠাম দেহি ছেলেটার দিকে তাকিয়ে আছে। সে যত এই ছেলেকে দেখে তত মুগ্ধ হয়। আচার আচরণ কী মুগ্ধকর। আইজান বিল দেওয়ার পর নুসরাতকে শুধাল,”আপনি শাড়ি নিবেন? 
“কিনে দিতে চাচ্ছেন?
“আপনি চাইলে অবশ্যই!
নুসরাত মানা করে দিল,” আপনার বাবা আমাকে নিয়মিত শাড়ি কিনে দেয়। লাগবে না। 
আইজান নম্রতা কন্ঠে বজায় রাখল। গমগমে ভারী স্বরে শুধাল,”তাহলে আপনি পরেন না কেন? 
“ইচ্ছে হয় না। আপনার বাবা ও বলেন না। 
নুসরাতের কথাটা শেষ হতেই আরো কয়েকটা ব্যাগ হাতে ধরিয়ে দেওয়া হলো। আইজান মায়ের হাতে একটা নির্দিষ্ট ব্যাগ এগিয়ে দিয়ে বলল,”আমি আপনাকে না বলে আপনার জন্য শাড়ি নিয়েছি, পরবেন নাকি পরবেন না, এটা একান্ত আপনার ব্যক্তিগত ইচ্ছে। তবে আমি মনে করি আপনাকে শাড়িতে খুব মানাবে, মাম্মা। 
রুহিনী বললেন সামান্য খোঁচা মেরে,” মায়ের জন্য শুধু নিয়েছেন, এখানে যে দাদি আছে, দাদির বা চাচির নেই? 
আইজান হাসল। হাসলে তার বাঁ-পাশের গালে টোল পড়ে। বলল,”আপনাদের জন্য ও নিয়েছি। 
রুহিনী বেগম হাত বাড়িয়ে তার মাথা ছুঁয়ে দিতে চাইলেন, কিন্তু ছয় ফুট চার ইঞ্চি লম্বা ছেলেটার ছোঁয়া সম্ভব হলো না। সে ঝুঁকে এসে নিজের মাথা বাড়িয়ে দিল। ছেলেটাকে মন ভরে দোয়া করে দিলেন তিনি। 
বাহিরের আলো নিভেছে বহুক্ষণ। ঘড়ির কাটা টিকটিক করে চলতে চলতে দশটার ঘরে। বাড়ির বড়রা তাদের মতোই সব আয়োজন করে ফেলেছে। এর মধ্যে মেহেরুন নেছার বুকে ব্যথা উঠেছিল একবার। উনি হার্ট স্ট্রোক করে ফেলবেন বলে চ্যাঁচাচ্ছিলেন। সবাই জানে এগুলো নাটকের অংশ তবুও বড়রা ছুটে গেল সবাই। উনার সেই প্রচলিত নাটকের ন্যায় বুকের বাঁ-পাশ চেপে ধরে বললেন,”মনে হয় আর বাঁচুম না। মরার আগে আখজান আর আয়রার বিয়ে দেখে যেতে চাই। 
তার কথা শেষ হতেই নুসরাত বলল,”বুকের বাঁপাশে ধরোনি, ডান পাশে চেপে ধরেছ। ঠিক করে ধরো। 
মেহেরুন নেছা ভেংচি কাটলেন। বললেন,”তুই আমার ভুল ধরতাছিস ক্যা? আমি স্ট্রোক করলে দায়ী হইবি তুই। মনে রাখিস কথাডা। 
নুসরাত হাসল। সোহেদ সাহেব বললেন,”আম্মা এসব করা বাদ দাও। তুমি এই নিয়ে একশো সাত বার স্ট্রোক এর অভিনয় করে ফেলেছ। সবাই বোঝে তুমি যে নাটক করো। 
কথা শেষ করেই কেটে পড়লেন তিনি। মেহেরুন নেছা তাকে চ্যাঁচিয়ে গালি দিচ্ছেন। এতক্ষণ তিনি বুকের ব্যথা নড়তে না পারলে এখন প্রায় উঠে দাঁড়িয়ে গালি দিতে ব্যস্ত। 
বাড়ির এত আয়োজনের কারণ কী আনাভিয়ার কাছে বোধগম্য হলো না। যাকেই জিজ্ঞেস করল সবাই তাড়াহুড়ো করে ছুটল। জারা, জাইনাস, জুনাইসা সবাই হাতে হাতে কাজে ব্যস্ত। আসলে তো সে কোনো কাজই দেখছে না। সবাই শুধু উপরে উঠছে আর নিচে নামছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। জিহান ব্যাটা ও আজ রুম থেকে বের হয়নি। ভালোই হয়েছে। তাকে দেখলেই তাড়া করে। সমস্যা কী এই লোকের আনাভিয়ার মাথা তা ধরে না। তার পেছনে ও-ই লোক লেগে ছিল কবে থেকে? যেদিন তার মায়ের সাথে তার কথায় উচনিচ হয়েছিল সেদিন থেকেই। ছাদে বসে কান্না করছিল হাত পা ছড়িয়ে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে অই সময় অই ব্যাটা ওখানে এসে উপস্থিত হয়েছিল। কী লজ্জা-টাই না পেয়েছিল আনাভিয়া এভাবে কান্না করতে দেখে নেওয়ায় জিহানকে। 
আনাভিয়া এখনো ভাবে। এবং ভাবতেই থাকে। তার জীবনের সব থেকে বড় ভুল কী ছিল? বাতাসে কেউ ফিসফিস করে বলে গেল,’জিহানের সামনে বসে হাত পা ছড়িয়ে কাঁদা। এরপর থেকেই এই লোক তার পেছনে পড়েছে। চোখের ভাষা পরিবর্তন হয়েছে তার জন্য। যেখানে আগে সে পাত্তাই পেত না ও-ই লোকের কাছে। সারাদিন লাফালে ঝাপালে শুধু ভ্রু কুঁচকে চেয়ে থাকত সেখানে এখন তাকে দেখলেই গাল ধরে টেনে দেয়। টেনেটুনে তাকে তার রুমে নিয়ে যায়। আগে তো ঘাড়ধাক্কা দিয়ে নিজের রুম থেকে বের করে দিত, এখন এত প্রেমের কারণ কী বুঝে না আনাভিয়া! অনেক সময় ইচ্ছে করে জিহান নামক লোকটাকে বোম মেরে উড়িয়ে দিতে, ধাক্কা দিয়ে তিনতলার ছাদ থেকে ফেলে দিতে, কিন্তু সে মানবীয় তাউ এমন করে না।
নিজের চিন্তায় আবারো জিহানকে আসতে দেখে মাথা দু-দিকে ঝাড়া দিল সে। ভাববে না সে, ও-ই ব্যাটাকে নিয়ে ভাববে না। ভাবলেই মাথা চিরচির করে ওঠে। তার মস্তিষ্ক শুনল না সেসব। তার ইন্সট্রাকশন না মেনেই ভাবতে শুরু করল জিহানকে নিয়ে। খালি মস্তিষ্কে বাজল,’'আজকাল তুই কাঁদিস না ভিয়া?
আনাভিয়া হতবাক স্বরে শুধায়," কাঁদব না কেন?
ভ্রু দুটো কুঞ্চিত করেই সে বলল,"তাহলে এখন কাঁদছিস না কেন?
সে কাঁদলে কাঁদবে না কাঁদলে নেই, অই ব্যাটার কাজ কী। যখন বোধগম্য হলো আবারো ভাবছে লোকটাকে নিয়ে, মাথায় একটা বারি বসাল সে। এই ব্যাটাকে এভাবে সরানো যাবে না মাথা থেকে তাই এসে উঁকি দিল রুমে। জায়রা বিছানায় বসে কুটকুট করে হাসছে। সূর্যের লালাভ এক টুকরো আলো যেন এসে তার গালে লেগে গেছে অচিরেই।ভ্রু কুঞ্চন করে শুধাল,”হয়েছে কী আপনার? এভাবে লজ্জা পাচ্ছেন কেন? আর রুমেই বা বসে আছেন কেন?
জায়রা তাকাল। লজ্জায় নতজানু সে। আনাভিয়ার দিকে তাকিয়ে কুটিকুটি হয়ে গেল সে। বালিশে মুখ ডুবাল। আনাভিয়া উত্তর না পেয়ে হাঁটা ধরল। এমন বিরক্তিকর আচরণ করছে কেন আপু? জটিল তো ব্যাপারটা। 
সিঁড়ির মধ্যে মুখ ফুলিয়ে আনিয়াকে বসে থাকতে দেখে সে ও বসল পাশে। শব্দ করে শ্বাস ফেলে বলল,”কী হচ্ছে বলুন তো বাড়িতে? আপনি কিছু জানেন?
সে দু*পাশে মাথা দুলিয়ে না করে দিল। দু-জনেই নীরবে বসে রইল সিঁড়ির মধ্যে। 
মেহেরুন নেছা মোটামুটি নাচানাচির পর্যায়ে আছেন। শাড়ি জড়িয়েছেন নতুন। সুতার কাজের সেই শাড়িতে তার অভিজাত্য ফুটে উঠেছে। মাথার সব চুল সাদা হয়ে গেছে, তবুও এখনো চুল অক্ষত। খোপা করেছেন। চোখে আগেকার জমিদারের মতো হাই পাওয়ারের গ্লাস এঁটেছেন। তৈরি হয়ে সবার আগেই তিনি হাজির হয়েছেন ড্রয়িং রুমে। তার মুখটা হাসিহাসি। একে একে দেখা গেল লিপি বেগম, হেলাল সাহেব, নাছির সাহেব, নাজমিন বেগম, শোহেব সাহেব, ঝর্ণা বেগম, সোহেদ সাহেব, রুহিনী বেগম হাজির হতে। পুরুষরা গায়ে পাঞ্জাবি জড়িয়েছেন সাদা রঙের আর তাদের কর্তীরা জামদানী শাড়ি। ইনায়া শাড়ি পরে তড়িঘড়ি করে নামছিল, জায়ান তখনই তাকে পিছু ডাকল,’'আমাকে রেখে যাচ্ছো কোথায় তুমি, ইনায়া! দাঁড়াও, আসছি আমি। 
আহান মেয়ের এক হাত ধরে রেখেছে ডান হাত দিয়ে। বাঁ-হাতে স্ত্রীর। গায়ে তার ও সাদা রঙের পাঞ্জাবি। আমিরা শাড়ি পরে খোপা বাঁধেনি, তাই সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে বাঁধছিল, তখনই তার খোপায় বেলী ফুল গুজে দিল আহান। একপ্রকার ফিসফিসিয়ে কানের কাছে বলল,”তোমার খোপার বেলী ফুলের ন্যায় তুমি ও সবসময় সুগন্ধি ছড়াও। তোমার উচ্ছ্বাস, ঠোঁটের হাসি কখনো মলিন না হোক। 
রুহিনী বেগম কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়ালেন। বললেন,”হয়েছে, প্রেম করতে হবে না আর। রুমে গিয়ে বাকিটুকু করো। এবার তাড়াতাড়ি আসো দু-জন। 
মায়ের কথায় আহান মুখ ফুলিয়ে আগাল। তখনই বাড়ির বাহির থেকে গাড়ির শব্দ ভেসে এলো। সবাই জানে কে এসেছে। অনিকা আর আরমান। না হয় মমো আর মাহাদি। 
 ভাবনা মতে তাই হলো। সৈয়দ বাড়ির খোলা সদর দরজা দিয়ে একই সাথে ভেতরে প্রবেশ করল অনিকা, আরমান আর মাহাদি মমো। নুসরাতদের ফুফুদের ফোনে দাওয়াত দেওয়া হলেও তারা আসতে পারেননি অসুস্থতার জন্য। ইসরাত আর জায়িন বিয়ের সময় ভিডিও কলে থাকবে। খুব ব্যথিত হয়েছে তারা বিয়েতে না আসতে পারায়। সকলের এজন্যই মন খারাপ। তবে পরিবারের মিলনমেলায় তারা ভিডিও কলের মাধ্যমে যুক্ত হবে। 
নুসরাত আর আরশ নেমে আসলো। নাজমিন বেগম নুসরাতকে কামিজ পরে থাকতে দেখে বিরক্ত হলেন। বললেন,”আজ অত্যন্ত শাড়ি পরতি। 
নুসরাতকে কিছু বলতে হলো না। আরশই বলল তার বদলে,”ও যাতে কম্ফোর্ট তাই পরুক। জোর করার কী দরকার? 
নাজমিন বেগম বললেন,”তুমি এইটাকে আরো বাড় বাড়াচ্ছ। এমনিতেই তো নাচুনি বুড়ি। 
আরশ দু-হাতে তার কাঁধ জড়িয়ে অন্যদিকে চলে গেল। বলল,”এই তো সময়, আজ বাদে কাল আর নাচতে পারবে না। বুড়ি হয়ে যাচ্ছে না? পড়ে কোমর ভাঙবে। 
নাজমিন বেগম হেসে ফেললেন। আহান কোথা থেকে ক্যামেরা ম্যান ধরে নিয়ে আসছে সে এসেই লিপি বেগম, আরশ, নাজমিন বেগমের ছবি তুলল। দু-জনকে দু-হাত দিয়ে কাঁধ জড়িয়ে ধরে ছবি তুলল আরশ। 
তখনো লাপাত্তাহীন ইরহাম আর সৌরভি। হেলাল সাহেব ঘড়ির দিকে তাকালেন। বললেন,”আর দেরি করে লাভ নেই, বারোটা প্রায় বেজে গেছে, কাজী নিয়ে আসতে বলো কাউকে। 
বাড়ির ছোট সদস্য হিসেবে আহানের উপর এই দ্বায়ভার পড়ল। সে একটু গাইগুই করছিল একা যেতে, শোহেব সাহেব চোখ রাঙাতেই আলগোছে বেরিয়ে গেছে। বারোটা ত্রিশ নাগাদ যখন মসজিদে পৌঁছুল, জানতে পারল ইমাম উনার বাড়ি গেছেন ছুটিতে। তাই বেচারা আবারো ছুটল সেখানে। ইমামের বাড়ি টিনের। বাউন্ডারি বা পাঁছির না থাকায় হাঁক দিতে দিতে গিয়ে প্রবেশ করল আহান। ভদ্রলোক হয়তো ঘুমে ছিলেন। দরজা খুলে বিরক্ত কন্ঠে বললেন,”কী সমস্যা? এত রাতে কী দরকারে?
পাশের ঘর থেকে বয়স্ক মতো আরেক লোক বেরিয়েছেন। তিনি চোখে চশমা লাগিয়ে, লুঙ্গি উঁচু করে চেয়ে আছেন আহানের দিকে। 
“বিয়ে পড়াতে যেতে হবে।
মুরব্বি মতো লোকটা জিজ্ঞেস করল,” কাদের বাড়িতে? আর তুমি কার পোলা বাবা?
“সৈয়দ বাড়িতে, আর আমি সৈয়দ সোহেদ আহমেদ এর ছেলে। 
ভদ্রলোকের কপালে চওড়া ভাঁজ পড়েছিল বিয়ের কথা শুনে। সৈয়দ বাড়ির কথা শুনে কপালের ভাঁজটা মিলিয়ে গেল সামান্য। বললেন,”তোমাগো বাড়িতে নিশিরাত ছাড়া বিয়া হয় না? আগে আমারে জ্বালাতন করতা আর এখন আমার পোলাডারে জ্বালাইতে আইছো?
আহানের থেকে বিরক্তি নজরে তাকালে ছেলের দিকে তাকালেন নমনীয় হয়ে মুরব্বি। ইমাম না করে দিবেন ভাবছিলেন। কিন্তু তার বাবা বললেন,”যাউ বাপ, যাউ। বিয়া পরাইয়া গিয়া আহো। ভালা ট্যাকা পইসা দিব। 
গাড়ি সাথে আনছ?
আহানকে উদ্দেশ্য করে শেষের কথাখানা জিজ্ঞেস করেছেন। আহান উত্তর দিল,”জ্বি!
ইমাম নিয়ে হাজির হতে হতে একদফা ঝগড়া হয়ে গেছে বাড়িতে ইরহাম নুসরাতের। ইরহাম রাজী না এই বিয়েতে। নুসরাত বলল,”অশিক্ষিত মানুষদের সাথে আমি বাক্য ব্যয় করিনা।  
ইরহাম চ্যাঁচিয়ে উঠল,”আমি অশিক্ষিত?
শোহেব সাহেব বললেন,”একটা চড় দিব। চুপ..!
ইরহাম চুপ করবে কী, সে আরো গলা ফাটিয়ে চ্যাঁচাল। বলল,”আমি আমার মেয়ের বিয়ে দিব না। এটা আমার মেয়ে। আজ যদি ওর বিয়ে দাও, আমি এই বাড়িতে আগুন লাগাব। 
সোহেদ সাহেব ভাইয়ের দিকে একবার তাকালেন। জায়ান আরাম করে সোফায় বসে বলল,”দেখি ইরহাম কীভাবে বিয়ে আটকায়? আজ যদি ইরহাম বিয়ে আটকাতে পারে, আমার সম্পত্তির এক পার্সেন্ট ওকে দিয়ে দিব। এই বসলাম আমি। 
হেলাল সাহেব জায়ানের কথা জের ধরে বললেন,”তোমার সম্পত্তি না থাকলে ওকে দিবে এক পার্সেন্ট। আছে?
জায়ান জিভ কাটল। জারা বাবার পাশে বসেছে কাছ ঘেঁষে একদম। জায়ান বলল,’'আব্বু এভাবে অপমান করলেন কেন? আমার বাচ্চারা শুনছে না?
হেলাল সাহেব পাত্তা দিলেন না তার কথা। ইরহাম তখনো চ্যাঁচাচ্ছে, মেয়ের বাবা রাজী নেই যে বিয়েতে সে বিয়ে আবার কীসের বিয়ে! নাছির সাহেব কপাল টিপলেন বিরক্তিতে। ছোট ভাই শোহেবের দিকে তাকিয়ে বললেন,”শোহেব, এটার মুখে কস্টিপ মেরে রাখ। যতক্ষণ বিয়ে শেষ হচ্ছে না, ততক্ষণ কস্টিপ মেরে হাত-পা বেঁধে রেখে দে। না পারবে লাফাতে, না পারবে কিছু বলতে। পরিবেশ নষ্ট করছে অযথা চিৎকার চেচামেচি করে। 
মেঝ ভাইয়ের আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করলেন ছোট দু-জন। ইরহামের চ্যাঁচানোর মধ্যেই তাকে বেঁধে ফেলা হলো সোফার সাথে শক্ত করে। জায়ানকে বসে থাকতে হেলাল সাহেব ধমক দিলেন,”তুমি বসে আছো কেন, যাও, চাচাদের সাহায্য করো গিয়ে। 
মুখ লটকে উঠল সে। ইরহামকে শক্তপোক্ত করে বাঁধা হলো। ইরহাম খুব একটা শক্তি প্রয়োগ করল না। করলে কী এরা টিকতে পারত তার সামনে? ভেতরে ভেতরে খুশিতে ফেটে পড়লেও সামনে এমন ভান করল, রাগে, ক্রোধে সে ফেটে যাবে এক্ষুনি। ঝর্ণা বেগম ছেলেকে বাঁধা দেখে বললেন,”হয়েছে একদম আম্মার মতো নাটকবাজ। এমনি চেচামেচি করে কেন পরিবেশ নষ্ট করছিলি এতক্ষণ?
আরমান, মাহাদি বসে বসে এদের কান্ডকারখানা দেখছে। পাগলদের কারখানা এই বাড়িতেই মনে হয়। ঘড়ির কাটা রাতের প্রথম প্রহর ছুঁতেই পাত্র পাত্রীকে আনতে ছুটলেন। নুসরাত আরশ আইজানকে আনতে উপরে গেল। ওদিকে সৌরভিকে একাই যেতে হলো। বিরক্ত হলো স্বামীর উপর। হুদাই নাটক করে মুহুর্তটা নষ্ট করেছে, কিন্তু শেষ মুহুর্তে নাছির সাহেব কী মনে করে বললেন,”খুলে দেউ এটাকে, যাক, গিয়ে মেয়েকে নিয়ে আসুক। বউ সাজে কেমন লাগছে আগে বাপ দেখুক।
ইরহামকে খুলে দেওয়া হলো। কোনোপ্রকার চেচামেচি না করেই আগাল মেয়েকে আনতে। দো-তলার করিডোরে দাঁড়িয়ে বলতে ভুলল না,’'আমি এই বিয়েতে রাজী না, মনে রাখবে সবাই। 
তার কথায় অটঠাসিতে ফেটে পড়ল পুরো পরিবার। হেলাল সাহেব বললেন,”যাও, যাও, তোমাকে দেখেই মনে হচ্ছে খুশিতে এই নাচতে শুরু করবে।
ইরহাম বোকার ন্যায় মুখে হাত দিয়ে পরীক্ষা করল, যেতে যেতে বিড়বিড় করল,”আসলেই?
নুসরাত চিলেকোঠার দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই গায়ে আতর লাগাতে দেখল আইজানকে। মাকে দেখে হাসল সে। দু-হাত বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরল নুসরাত। নিজের আলিঙ্গনে নিয়ে নিল ছেলেকে। ফিসফিসিয়ে বলল,”মাশাল্লাহ, সুন্দর লাগছে আপনাকে। আজকের বিশেষ দিনের অনুভূতি কেমন? 
আইজান হাসল শুধু। উত্তর দিতে পারল না। নুসরাত তাকে আলিঙ্গনে রেখেই বলল,”আদর্শ ভাই, সন্তান যেমন হয়েছেন, স্বামী, বাবা হিসেবে আশা করি তেমন হবেন। 
আরশ এসে দাঁড়াতেই দেখল মা ছেলে গলা জড়াজড়ি করছে। আলগোছে বাহিরে চলে যেতে নিবে তখনই আইজান বলল,”পাপা আপনি ও আসুন। জড়িয়ে ধরে দোয়া দিবেন না?
আরশ চোখের চশমা ঠেলে এগিয়ে গেল। ছেলে সহ স্ত্রীকে আলিঙ্গন করে নিয়ে বলল,”অনেক বড় হোন আপনি। যাকে বিয়ে করছেন তাকে সবসময় সম্মান করবেন। তার মনে কষ্ট দিবেন না। বিবাহিত জীবন সুখের হোক আপনার। 
নুসরাত হঠাৎ হেসে ফেলল কী মনে করে! আরশ ও হাসল তাল মিলিয়ে। বলল,”আপনাকে ভালো দেখাচ্ছে। 
_
ড্রয়িং রুমে তখন সবাই অপেক্ষামান কন্যা ও বরের আসার অপেক্ষায়। তাদের সেই অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো যখন দেখা গেল বর নেমে আসছেন সিঁড়ি বেয়ে। তার সাথে নিচে নেমে আসলো নুসরাত আরশ। তাদের পিছু পিছু নুসরাত আর আইজানের পছন্দ করা শাড়ি পরে নামল জায়রা। লজ্জায় লাল টুকটুকে হয়ে আছে সে। সৌরভি মেয়ের দিকে তাকিয়ে খিলখিল করে হাসছে। ইরহাম মেকি পাংশুটে মুখ বানিয়ে রেখেছিল, জায়রাকে কাচুমাচু করতে দেখে নিজেও হেসে ফেলল। তার বিরুধীতার ভান ঠেকল না। বর কনেকে পাশাপাশি বসানো হলো। আইজান জায়রার দিকে তাকাতেই চোখ স্থির হলো তার সেই দিকে। সেই মুহূর্তে জারা, জাইনাস, জুনাইসা, আনাভিয়া, আর ভিডিও কলে থাকা ঈশানী, জোহান চ্যাঁচিয়ে উঠল। বলল একসাথে,”চোখ তুলুন ভাবী সাহেবা, ভাইয়ার সাথে আই কন্ট্যাক্ট হওয়ার সুযোগ করে দিন।’’
তাদের চিৎকারে ভারী হয়ে উঠল আশপাশ। আনিয়া বিরক্ত! এই পরিবারের উপর তার বিরক্তির মাত্রা আকাশ ছোঁয়া। তার পাশে দাঁড়ানো আয়দান। সে ও বিরক্ত সমপরিমাণ। দু-জনেই বিরক্ত হয়ে বর্তমানে পরিস্থিতিতে থাকা সবাইকে দেখাচ্ছে। মোবাইল ধরে রাখার দায়িত্ব তাদের ভাগ্যে পড়েছে। ইমাম সাহেব বিয়ে পড়াতে যাবেন জায়ান থামিয়ে দিল তাকে। বলল,”আজ ইমাম বাদ দিন, আমি বিয়ের প্রস্তাব রাখব মেয়ের কাছে। 
হেলাল সাহেব বিরক্ত কন্ঠে বললেন,”তাহলে ইমামকে আনিয়েছি কেন?
“তা আপনি জানেন..”
ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বসল স্বীকারোক্তি নেওয়ার জন্য সে। নববধূ সাজা মেয়েটা তখন মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে। থুতনি গিয়ে কখন ঠেকেছে গলায় বুঝতে পারেনি। আরেকটু নিচু করতে চাইলে হয় না তা। বিয়েতে যে এত লজ্জার তাকে তো কেউ আগে বলেনি! জায়ান বসল মুখোমুখি একদম। তখনই জিহানকে কোথা থেকে ধরে নিয়ে আসলো ইনায়া টেনে হিঁচড়ে। চোখ রাঙিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে বলল। সকলেই পরিপাটি হয়ে দাঁড়ানো। একমাত্র সে-ই অগোছালো। বিশেষ পাত্তা দিল না কেউই তাকে। জায়ান গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,”হু শুরু করছি!
বাড়ির বয়স্ক কর্তারা বললেন,”শুরু করো। 
জায়ান মুখের হাসি মিটতে দিল না। গম্ভীর চিত্ত কখনো তার ছিল না। তাই স্বাভাবিক কন্ঠেই বলল,"আসসালামু আলাইকুম! আমি সৈয়দ তেহবিন আইজানের তরফ থেকে আপনার জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছি। সৈয়দ আরশ হেলালের বড় পুত্র সৈয়দ তেহবিন আইজানকে নগদ পনেরো লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করিয়া আপনি কী এই বিবাহে রাজী আছেন? রাজী থাকলে বলুন আলহামদুলিল্লাহ কবুল..!
নীরবতা নামল দু-মিনিটের জন্য ড্রয়িংরুমে। অতঃপর নারী কন্ঠের ক্ষীণ স্বর শোনা গেল,'আলহামদুল্লিলাহ কবুল।  
‘রাজী থাকলে বলুন, আবারো আলহামদুলিল্লাহ কবুল!
“আলহামদুলিল্লাহ কবুল!
“রাজী থাকলে বলুন, আলহামদুলিল্লাহ কবুল!
এবার একটু হিচকিচাল রমনী। আরেকবার কবুল করলেই তো সে একেবারের জন্য আইজানের হয়ে যাবে! এরপর কী! এরপর জায়রা বিবাহিতা হয়ে যাবে। এই লোক আর এই লোকের সমগ্র সত্ত্বার বিচরণ থাকবে তার উপর। লোকটা তার নামে দখল হয়ে যাবে। একান্ত জায়রার মানুষ হয়ে যাবে। তার হাত কেঁপে উঠল থরথর করে। গলার কাছে কান্নারা দলা পাঁকাল না চাইতেও। আকস্মিক তার হাতের উপর একটা শক্ত সামর্থ হাত রাখা হলো। ভরসা দেওয়ার ন্যায় চাপ পড়ল হাতের পিঠে। চোখ তুলে সবার আগে দেখল বাবাকে, এরপর মাকে, ছোট বাবা, ছোট মা, মেঝ বাবা, মেঝ মা, আঙ্কেল, আন্টি, একে একে বড় মা, বড় দাদা, বড় দাদি, মেঝ দাদা, মেঝ দাদি, তার দাদা, দাদি, আপু আর ভাইয়া, সবাইকে। সব শেষে পাশ বসা লোকটাকে দেখল। অই চোখের দিকে তাকাতেই চোখাচোখি হলো।সেখানে যে আস্থা খুঁজে পেল মানবী, তার উপরই বিশ্বাস, ভরসা রেখে নিজের নাম, নিজের সমগ্র সত্ত্বা লিখে দিল মানবের নামে। কন্ঠস্বরটা নিচু থাকলেও, এতক্ষণে নামা নীরবতায় প্রতিধ্বনি হলো কয়েকবার,”'আ-আলহামদুলিল্লাহ কবুল!
সকলে হাপ ছেড়ে বাঁচলেন যেন। এবার স্বীকারোক্তি নেওয়ার পালা ছিল আইজানের। তার দিকে তাকিয়ে জায়ান প্রথমে গলা খাঁকারি দিলেন,”আপনি প্রস্তুত, বাবা?
সে মাথা দোলাল জ্বি হ্যাঁ বলে উপর নিচ। জায়ান বলতে শুরু করলেন,”আসসালামু আলাইকুম! আমি সৈয়দা জায়রা ইরহামের তরফ থেকে আপনার জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছি। সৈয়দ ইরহাম শোহেবের কনিষ্ঠ কন্যা সৈয়দা জায়রা ইরহামকে নগদ পনেরো লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করিয়া আপনি কী এই বিবাহে রাজী আছেন? রাজী থাকলে বলুন আলহামদুলিল্লাহ কবুল..!
গম্ভীর কন্ঠটা আলহামদুলিল্লাহ কবুল বলার পূর্বেই একদল বিচ্চুরা চ্যাঁচাল,”তাড়াতাড়ি ভাইয়া, তাড়াতাড়ি বলুন।
নুসরাত তাদের দিকে চোখ ঘুরিয়ে তাকাতেই ঠোঁটে কুলুপ আটল সবাই। আইজান ধীরে সুস্থিরেই বলল,”আলহামদুলিল্লাহ কবুল!
‘রাজী থাকলে বলুন, আবারো আলহামদুলিল্লাহ কবুল!
“আলহামদুলিল্লাহ কবুল
‘রাজী থাকলে বলুন, আবারো আলহামদুলিল্লাহ কবুল!
“আলহামদুলিল্লাহ কবুল..”
ড্রয়িং রুমে স্বস্থির নিঃশ্বাস আর একসাথে বলা ‘আলহামদুলিল্লাহ!’ শব্দটা গুঞ্জরিত হলো।
এরপর নবদম্পতির সুখ শান্তি কামনা করে দোয়া করলেন সবাই মিলে। বিয়ে শেষ হতেই সবাই মিষ্টি মুখ করতে শুরু করল। একে অন্যের মুখে মিষ্টি ঠুসে ঠুসে ভরে দিল একপ্রকার। বড়রা একটা মিষ্টি খাওয়ার জায়গায় দুটো খেলেন। বিয়ে শেষে যখন ইরহাম মেয়েকে জড়িয়ে ধরল তখন কাঁদছে জায়রা। হাউমাউ করে। ইরহামের মতে সে নরম হৃদয়ের মানুষ হওয়ায় নিজেও মেয়ের কান্নায় গলে পড়ল। সামান্য কাঁদল ও সে। হঠাৎ মেয়ের কানের কাছে গিয়ে বলল,’’দেখেছিস মাথামোটা-টাকে চ্যাতিয়ে কীভাবে বিয়ে পরিয়ে দিলাম? পাগলিটা বুঝলই না সব আমার চাল!আজকালকার দূরমূল্যের বাজারে তেহবিন আইজানের মতো পাত্র পাওয়া মুশকিল। এমন পাত্র কে হাতছাড়া করে? আমার মতো বুদ্ধিমানরা সুযোগের সঠিক ব্যবহার করে।
যে ইমামকে আহান ধরে নিয়ে আসছিল বিয়ে পড়ানোর জন্য তিনি মুখ ফুলিয়ে বসে ছিলেন। একে কাচা ঘুম রেখে এসেছেন, তার মধ্যে আবার বিয়েও পড়াতে পারলেন না। তাই কপালে মোটা ভাঁজ পড়েছিল উনার। সেই ভাঁজ বিলীন হলো যখন বিয়ে না পড়িয়েও পকেট ভরে টাকা পেলেন। ভদ্রলোক সেই টাকা নিয়ে একাই চলে গেলেন নিজ বাড়িতে। 
ফ্যামেলি পিকচার নেওয়ার জন্য বসল সবাই। সবার মধ্যে লাঠি হাতে অভিজাত্যদের ন্যায় মেহেরুন নেছা বসলেন। তার পাশে তার ছেলে ছেলের বউরা, তাদের পাশে নাতী নাতনী, ও তাদের পাশেই নাতীর ঘরের পুতিরা। ক্যামেরায় আবদ্ধ হলো বিশাল পরিবারের সেই ছবিটা। ভিডিও কলে থাকা জায়িন, ইসরাত, ঈশানী জোহান আর জায়দান বাদ পড়ল না সেই ছবি থেকে। কাছে না থেকেও তারা আত্মিক ভাবে পরিবারের সান্নিধ্যে থাকল।
সৈয়দ বাড়ির সবাই রাতের খাবার খেলেন তিনটের সময়। একচোট আড্ডা হলো দেশি বিদেশি সবাই মিলে।। ফজরের নামাজ পড়ে একদম শুতে গেলেন সবাই। ঘুমে তখন টালমাটাল করছিল। কারোর মাথায় রইল না নতুন দম্পতিকে তাদের রুমে পৌঁছে দেওয়ার কথা। জায়রাকে বগলদাবা করে নিয়ে চলে গেল জারা, জুনাইসা। ঈশানী নাকি কী বলবে তাদের! আইজান নিজেও জায়রাকে ডাকল না রুমে আসার জন্য। চুপচাপ নিজের রুমে গিয়ে দরজা দিল। 
_ 
পরেরদিন খুব ঝাকজমক ভাবে না শুরু হলেও সাধারণ দিনের তুলনায় একটু আয়োজন করে শুরু হলো। দুপুরের খাবার খেল সবাই একসাথে বসে। অফিসে আজ কেউই যায়নি। তখনো কেউ বুঝল না একটু পর কী ঘটতে চলেছে তাদের সাথে। দুপুরের খাবার শেষে সবাই বসল একসাথে গল্প করার জন্য। নুসরাত আলোচনা সভা ছেড়ে উঠল তার একটা কল আসায়। এক্সকিউজ মি বলে উপরে নিজের রুমে চলে গেল। সবাই নিজেদের মতো কথা বলছিল, ইনায়া আর সৌরভিকে আজ কিচেন থেকে বেরিয়ে পারিবারিক আড্ডায় বসতে দেখা যাচ্ছে। তাদের সেই আলোচনার ব্যাঘাত ঘটিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নামতে দেখা গেল জিহানকে। তার একহাতের মুঠিতে শীর্ণ মেয়েলি একটা হাত। আনাভিয়া ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে। সিঁড়ির রেলিঙ ধরে আটকে বসে থাকতে চাইলেও অসুরের শক্তি ভর করা শরীরের লোকটা সেসবের তোয়াক্কা করল না। আশপাশে বাবাকে খুঁজল সে। তক্ষুণি জায়ান ধমকে উঠল,”ওর হাত ধরে টানছেন কেন? হাত ছাড়ুন। 
জিহান ডিটের ন্যায় হাত চেপে ধরে রইল। টেনে টেনে সদর দরজার কাছে গেল। সবাই এতক্ষণ স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে নিলেও আর নিতে পারল না। জিহানকে বেপরোয়া আচরণ করতে দেখে ইরহাম শুধাল,”কী হয়েছে? আনাভিয়া কিছু করেছে? করলে বল আমাকে, আমরা আছি, বিচার করব। আপনি ওকে টানা হিঁচড়া করছেন কেন? ব্যথা পাচ্ছে দেখছ না। 
ত্যাড়া ছেলেটা শুনল তো কথাটা? শুনল না। আরশ কিচেন থেকে বেরিয়ে এসে আনাভিয়ার কাঁদো কাঁদো কন্ঠের, -বাবা ডাক শুনতেই থমকে গেল। চেহারায় আঁধার নামল যখন দেখল জিহান হাত চেপে ধরে রেখেছে। আনাভিয়া যেতে চাচ্ছে না তারপরও টেনে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। চোখ মুখের ভঙ্গি বদলে নিমেষেই ক্রোধ জায়গা করল। বলল,”আনাভিয়ার হাত ধরেছেন কেন? ছাড়ুন ওর হাত। আপনার বেপরোয়া আচরণ মেনে নিচ্ছি বলে ভাববেন না, আমার মেয়ের হআত ধরে টানাটানি করে ছাড় পাবেন। হাত ছাড়তে বলছি। 
আহান পা টিপে টিপে যুবকের দিকে এগোতে নিবে তখুনি ধারাল একটা ছুরি স্পর্শ করল আনাভিয়ার গলা। এতক্ষণে সবাই বুঝল এত ভয় পাচ্ছে কেন আনাভিয়া? পাগলাটে আচরণ করা যুবককে ইনায়া বলল,”বাবা, ছুরিটা রাখ। ব্যথা পেয়ে যাবে। বসে কথা বলি, হু? মায়ের কথা শোন, সোনা!
সেসব কানে তুলল না জিহান। আনাভিয়া ছলছল চোখে চেয়ে ডাকল,”বা-বাবা, ব্যথা পাচ্ছি গলায়। 
আরশের পুরো পৃথিবী কেঁপে উঠল নিমেষেই। ছলছল চোখ দুটোর দিকে তাকিয়ে থেকে মনে পড়ে গেল দেড় বছরের ছোট ছোট হাত-পা নিয়ে শুয়ে থাকা আই-সি-ইউ এর ভেতর থাকা আনাভিয়ার কথা। স্থির দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না, তার বাবা সত্ত্বা তাকে তাড়া দিল মেয়েকে চিলের মতো ছুঁ মেরে আনার জন্য। চট জলদি আগাতে নিবে ছুরিটা গলায় একদম গেথে চেপে ধরল জিহান। আগাতে মানা করল ইশারায়। ভিয়ার চামড়া কেটে রক্ত বেরোল ফুটে ফুটে। ক্ষীন স্বরে সেই মুহুর্তে চ্যাঁচাল ব্যথায়। জিহান হাসল ঠোঁট বাঁকিয়ে। বলল,”সামনে আগানোর স্পর্ধা দেখাবেন না কেউ। 
আইজান ধুপধাপ করে নেমেছে। জাইনাস ও সাথে। দু-জনই সামনে এগিয়ে আসতে আসতে বোঝানোর চেষ্টা করল,”জিহান, ওটা রাখুন। ব্যথা পাচ্ছে না ভিয়া? কী হয়েছে কথা বলে সলভড আউট করুন। রাস্তার মাস্তানের মতো গলায় ছুরি চেপে ধরেছেন কেন?
আইজানের কথায় হাসল সে। গলায় ছুরি চেপে পেছন দিকে গেল সে। সতর্কতা বজায় রাখছে।কেউ আগালে যে ছুরি বসাতে হাত কাঁপবে না তার তা বুঝিয়ে দিচ্ছে চোখের ইশারায়। আইজানের কথার উত্তরে বলল,”কথা বলে সলভড আউট হলে কথাই বলতাম। হবে না বলেই নিয়ে যাচ্ছি। কেউ আমাকে থামানোর চেষ্টা করলে ভিয়ার লাশ ভাসবে। আমাকে যেতে দিন, আটকানোর দুঃসাহস করবেন না। কাজ শেষ হলেই এনে দিয়ে যাব। 
জাইনাস সাবধান করে বলল,”আপনি দুঃসাহস দেখাচ্ছেন জিহান? থেমে যান, জল এখনো গড়ায়নি দূরে। ছোট মা আপনাকে আস্তো রাখবে না। 
জিহান হাসল। হাসলে তারও গালে টোল পড়ে। বলল নির্বিকার চিত্তে,”আমি তো তাই দেখতে চাচ্ছি, উনি কী করেন। 
ইনায়া ছেলের কান্ড দেখে ডুকরে কেঁদে উঠল,”বাবা, যাস না। নুসরাত খারাপ করে ফেলবে তোর জন্য। 
 মায়ের কথা না শুনেই টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেল মেয়েটাকে সদর দরজা দিয়ে। আরশ পা বাড়াতে গেলেই আইজান কাঁধ চেপে ধরল। বলল,”যাবেন না। জেদ ধরে যা ইচ্ছে করে ফেলতে পারে। 
লাল রঙের স্পোর্টস কারের ইঞ্জিন শব্দ করে উঠল। সদর দরজা দিয়ে বেরোল আইজান, জাইনাস। গাড়ি তখন ফুল স্প্রিডে গেটের দিকে এগোচ্ছে। আইজান থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো। নিজেও ছুটল গ্যারেজের দিকে। 
জিহানের স্পোর্টস কারটা তখন গেটের কাছাকাছি। বিশাল লোহার গেটটা খোলা হয়নি। জাইনাস দেখল গম্ভীর মুখে ঝুঁকে তেড়ে যাওয়া লাল রঙের স্পোর্টস কারটা যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে নুসরাত। বাঁহাতে কানে ফোন চেপে ধরা। মুখটা নির্লিপ্ত। হাত তুলে বাড়ির দারোয়ান রহমানের দিকে কী একটা ইশারা করতেই সে লোহার গেটটা খুলে দিল। এরপর শো করে বেরিয়ে গেল জিহানের গাড়ি। তার পিছু পিছু ছুটল আইজান, জাইনাস আর আরশের গাড়ি। জিহানের লাল রঙের স্পোর্টস কারটা ঝড়ের গতিতে বের হতেই পেছন পেছন আইজানের ব্ল্যাক রঙের মার্সিডিজ ব্রাঞ্চের গাড়িটা বের হলো। ধুলো উড়িয়ে পরপর তিনটা গাড়ি লাল রঙের স্পোর্টস কারটাকে পিছু করল। ধাওয়া করে যাওয়ায় গাড়ির ইঞ্চিনের শব্দে চারিদিক ছেয়ে গেল। গাছের পাতা উড়ল বাতাসের দাপটে, কিন্তু জিহানের গাড়িকে চারিদিক থেকে ঘেরাও করার আগেই হাওয়ায় মিলিয়ে যাওয়ার ন্যায় মিলিয়ে গেল সে ও তার গাড়ি।
সবাই বাড়িতে ফিরে আসলো খালি হাতে। জইহান বেরিয়েছিল তখন ঘড়িতে বাজছিল আড়াইটা। এখন সাড়ে চারটা। দু-ঘন্টা পার হয়ে গেছে। আনাভিয়া বা জিহানকে খুএনা পাওয়ায় যখন মাথা ব্যথায় মথা ফাটবে ফাটবে ভাব সবার, তখন নুসরাত খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে নামল ফোনে কথা বলতে বলতে। বলল,”ওকে নিয়ে কোথায় গিয়েছেন জিহান?
জিহান সেই কথার উত্তর দিল না। সে যে গতকাল সাবধান করেছিল, সেই কথার জের ধরে বলল,”আপনি আমাকে ওর থেকে দূরে থাকতে বলেছিলেন, আর আমি ওকে বিয়ে করে নিয়েছি। নাউ আ'ম হার হাজেবন্ড। এখন কীভাবে আমার থেকে ওকে দূরে রাখবেন? দ্যা গেইম ইজ অভার, ছোট মা,চেকমেট!
নুসরাত হাসল। পাগলের মতো হো হো করে হেসে নামল নিচে। হাত দিয়ে রেলিঙের উপর টোকা দিয়ে বলল,”গেম ডাজেন্ট অভার, বাবা। বাড়িতে আসুন, আসল খেলা হবে এবার। নুসরাত নাছিরকে মাঠে নামতে না দিয়ে চেকমেট করে দিলেন! কষ্ট পেলাম খুব..! 
জিভ আর তালু দিয়ে চুক চুক জাতীয় কিছু শব্দ করল সে। অপরপাশের জনকে রাগানোর সামান্য প্রয়াস,”চিনেননি তো আমাকে? চিনতে চাইলে, আসল খেইম খেলতে চাইলে বাড়িতে আসুন আপনি, আসলে কথা হবে! আল্লাহ আপনার সহায় হোন। 
কথা শেষ করেই কল কেটে দিল নুসরাত। টু টু করে শব্দ হলো। অপাশের জিহানের মুখভঙ্গি কতটুকু শক্ত হয়েছে তা ভাবতে চাইল নুসরাত, হলো না। রয়েসয়ে হাঁটল। ইনায়া ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে আছে নুসরাতের দিকে। এতটা ঠান্ডা ব্যবহার কেন? একটু চ্যাঁচালে তো রাগ কতটুকু বোঝা যেত? এতটা ঠান্ডা আবহাওয়া তখন হয়…যখন……. ভাবতে গিয়ে বুক কেঁপে উঠল। ঘূর্ণিঝড় না প্রলয় আসাছে। এই দুটো আসার পূর্বেই তো প্রকৃতি এমন শান্ত থাকে? প্রলয় আসলে তো সব উড়িয়ে নিয়ে যাবে। জিহানের এই কাজের জন্য না এই পরিবার ভেঙে চূরমার না হয়ে যায়। ছেলেটা এই গাধামি করল কীভাবে? নুসরাতের পিছে আঙুল নাড়ল কীভাবে? এতটা বোকা কেউ হয়? 
ইনায়া ভাবতে গিয়েও তার কোমল হৃদয় কেঁপে উঠল। 
সোফায় বসা আরশের কপালে হাত। সে ভাইয়ের ছেলের উপর হতাশ। জায়ান ছেলের উপর মোটেও হতাশ না, ক্রোধান্বিত। সামনে পেলে জবাই করত। বেশি বাড় বেড়েছে ও-ই ছেলে। তার বারবার আজ একটা কথাই মাথায় বাজছে,’পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে..!’
ঘড়ির কাটা চলতে চলতে একসময় পাঁচটায় গিয়ে থামল। বসা সকলেই উঠে গেল নামাজ পড়তে। নুসরাত গেল না। আছরের ও নামাজ পড়ল না। কেন পড়ল না, বোঝা গেল না। বাড়ির কাঠের সদর দরজাটা টেনে লাগিয়ে দিল রাত হওয়ার পূর্বেই। সবাই শুধু তার কান্ডকারখানা বসে বসে দেখল। কার সাধ্য তাকে থামানোর? 
ইনায়া নফল নামাজ পড়ল ছেলের জন্য। মনে মনে দোয়া ইউনুস পাঠ করল। নুসরাতকে দেখেই তার ভয় হচ্ছে। বুকের ভেতর তান্ডব হচ্ছে। কী হবে ভেবেই..!
নুসরাত কী করবে সামনে কিছুই ভাবল না। জিহানের অপেক্ষায় বসল গিয়ে সোফায়। রানীদের মতো বসল পায়ের উপর পা তুলে। ইনায়া উপর থেকে তা দেখে ভয়ে আতঙ্কে একসার । নুসরাত তা দেখল না। এক দৃষ্টিতেই ঘড়ির দিকে তাকিয়ে রইল। বাঁ-পা দোলাল আর ডান পা দিয়ে টাইলসে আঘাত করল। সময় অতিবাহিত হলো। সে বসে বসে তখনো প্রহর গুণছে জিহান আসার। সেই প্রহরের অন্তিম ঘটিয়ে কলিং বেল বেজে ওঠল। নুসরাত ওঠে দাঁড়াল। ইনায়া উঁকি দিল কে এসেছে দেখতে। জিহান নয়তো? হলে দৌড়ে গিয়ে আঁচলের নিচে ঢোকাবে। নুসরাত এগিয়ে গেল রয়েসয়ে সদর দরজার দিকে। তাড়াহুড়ো নেই তার কাজে। ইনায়ার হৃৎপিন্ড বেরিয়ে হাতে চলে আসছিল। এত জোরে জোরে বিট করছিল সেটা। 
সৈয়দ বাড়ির দরজার ভারী দুটো কপাট একা একজন নারীর জন্য খোলা দুষ্কর, তবুও নুসরাত টেনে খোলার চেষ্টা করল। বাহির থেকে অনবরত কলিং বেলের শব্দ ভেসে আসছে। দরজার কপাট ঠেলে সরাতেই সন্ধ্যার একচ্ছত্র আলোয় তেছরাভাবে এসে পড়ল। সেই আলোয় সুঠাম দেহি, উঁচু লম্বা একটা লোককে দেখা গেল। লোকটার মুখ থমথমে। কপাট পুরোপুরি না খুলেই সে শুধাল,'কে আপনি?
লোকটা খুব ক্ষীন স্বরে কথা বলল, তবুও সেই ভারী শব্দে আশপাশের আবহ আরো বেশি থমথমে করে দিল। রাশভারী তার সেই স্বর,"নাইস টু মিট ইউ, মিসেস আরশ হেলাল। লেট মি ইনট্রোডিউস মাই সেল্ফ, আ'ম নির্বাণ, সৈয়দ নির্বাণ ওয়াহাব!
  
“কী চাই?
লোকটা হাসল। রহস্যময়ী। ঘাড়ে হাত দিয়ে মালিশ করে বলল,” এই মুহুর্তে আপনাকে।
      -------------
তেরো হাজার তিনশো শব্দের লেখাটা লিখতে গিয়ে আমার মোটামুটি মাথা ঘোরাচ্ছে। ভেবেছিলাম অনেক কিছু লিখব এখন আর মাথায় কিছু নেই বিবশ হয়ে গেছে। পাঠকেরা অনেকে হয়তো জানে না আরশ নুসরাত বইয়ের পাতায় আসছে। এবং সেখানে তাদের পরিপূর্ণ ভাবে পাবেন আপনারা। কবে বই আসবে, কতটুকু পরিবর্তন হবে, কতটাকা এসব পরে পেইজে পোস্ট করে জানিয়ে দিব।
এবার #প্রিয়_প্রণয়িনী২ নিয়ে বলি, #প্রিয়_প্রণয়িনী সিজন এক আমাকে যতটা পরিচিতি দিয়েছে তার তুলনায় দ্বিতীয়টা আমাকে পাঠকের নিকট আরো বেশি পরিচিত করেছে। এজন্য আমি আমার সেইসব পাঠককে জানাই ধন্যবাদ যারা আমার জন্য বা আমার গল্পের রিলস বানিয়েছে। আমি তাদের প্রতি যতটা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব ততটাই কম। আমি আমার পাঠকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা আমার সিজন একের সেই খারাপ, গুলমাল, লেখা পড়েছে। এবং এরপর সেটার সমালোচনা আলোচনা করেছে। সিজন এক না পড়ার অনুরোধ রইল। অই কাহিনি পড়লে আপনারা আমাকে নিশ্চিত গালি দিবেন। কী সব বকের ঠ্যাং লিখে রেখেছি আল্লাহ ভালো জানে। এই সিজনে খুব ভালো কিছু লিখেছি তেমন কিন্তু না। এখনো আজগুবি, লজিকহীন কিছু কাহিনি লিখেছি, আপনারা তা পড়ে আমাকে সমর্থন করেছেন এটাই অনেক। হ্যাঁ ইম্পর্ট্যান্ট বিষয় আমি যে যে সিন নিয়েছি সেই পর্বের নিচে অনুপ্রাণিত হয়ে নেয়া উল্লেখ করেছি। তাই কখনো যদি কোনোপ্রকার কারোর সাথে কিছুর মিল পান আমাকে জানাবেন। আমি বদলে ফেলব। 
এবার প্রশ্ন থাকতে পারে গল্পের সমাপ্তির পর্ব তো আজ ছিল, তাহলে সমাপ্তি কোথায়? আসলে আমার কাছে মনে হয় একটা গল্প বা উপন্যাসের কোনো সমাপ্তি নেই। যুগ যুগ ধরে চলতে থাকে নানা গল্প, নানা কল্প কাহিনি। যতদিন পর্যন্ত চরিত্ররা বেঁচে আছে ততদিন পর্যন্ত তাদের নিয়ে লিখার শেষ কোথাও নেই। তাইই ভবিষ্যতে এদের নিয়ে কী লিখব নাকি লিখব না তার নিশ্চয়তা দিতে পারছি না, কিন্তু টুকরো অংশ দিব অবশ্যই। 
এমন ওপেন এন্ডিং দিয়ে দেওয়ায় কিছুটা কী বিরক্ত হচ্ছেন? আসলে এভাবে এন্ডিং টানা ছাড়া আমার উপায় ছিল না। আমার কাছে মনে হলো কিছু ঘটনা পাঠকরা নিজে নিজে মিলিয়ে নিক। নুসরাত কী করবে জিহানের সাথে বা নির্বাণ কেন এসেছে এই গল্পে বা সে কে? তা আপনারা খুঁজে বের করুন। 
নির্বাণের কথা একটু বলি সে আমার সামনে লিখতে যাওয়া একটা গল্পের মেইন লিড। মনে আছে মোহ, নির্বাণ ওয়াহাবের কথা? মন বলেছে তাই এর কথা? যাদের ইট্টু দিয়েছিলাম আমি। যদি তাদের ভালো লাগে তাহলে পেইজে চোখ রাখবেন, ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে। অনেকেই তাদের অপেক্ষায় আছেন, আমার সেসব পাঠকদের জন্য খুব শীগ্রই তারা আসবে ফেসবুকে। 
ভেবেছিলাম অনেক কথা বলব, এখন কী লিখব গুলিয়ে ফেলছি। গত বছর এপ্রিল মাসে লিখাটা আমি শুরু করেছি, এবং পাক্কা দেড় বছর পর এই গল্পটা শেষ হচ্ছে। পাঠকেরা অনেকেই হতাশ যে আমি কেন পান্ডুলিপির এটা কাহিনি দিলাম, কিন্তু কেউই এটা দেখল না জায়রা নয় এই গল্পটা নাবিলা সৈয়দ, মানে আমি লিখেছি। আমার হাজারো ক্লান্তি, লো প্রেশার, আয়রন নিচে নামা, এলার্জি এসব নিয়ে লিখেছি। আসলে আমি আগে এত অসুস্থ থাকতাম না, কিন্তু হঠাৎ করে আমার এলার্জি নামক একটা রোগ হলো। আমাদের বাসার সবার সেটা থাকলেও আমার ছিল না। কিন্তু এখন রীতিমতো আমার বেশি হয়ে গেছে এটা। নাক, চোখ, গলা চুলকায় প্রতিদিন। এই যে শীত আসছে সকালে উঠার পর হাচ্চি দিতে দিতে আমার চোখ মুখের অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। এলার্জি আমার এত বাজে যে চোখ ফুলে যায়। এসব বলার কারণ হলো, আমি এজন্যই লিখতে পারিনা। 
অনেক অপেক্ষা করিয়েছি না গল্পের জন্য? আপনারা হয়তো অনেকে বিরক্ত হয়েছেন আমার উপর? স্বাভাবিক! আমি পাঠক যখন ছিলাম আমি ও হতাম। এত দিন এত অপেক্ষার পর যারা এখনো আমার সাথে আছেন তাদেরকে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা। এবং মাঝপথে ছেড়ে গিয়েছেন তাদের জন্য ও ভালোবাসা। আবার যারা গালি দিয়েছেন, মরে গেছি নাকি জিজ্ঞেস করেছেন, তাদেরকে মন থেকে জানাই ধন্যবাদ। আর এটা একান্ত আমার পাঠক, যারা সামনে ও আমার সাথে থাকবেন বা আমাকে বিশ্বাস করেন আরশ নুসরাত ছাড়া আমি কিছু লিখতে পারি তাদের বলছি, আপনারা জেনে রাখুন, আমি আপনাদের ভীষণ ভালোবাসি।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন