ফন্ট সাইজ:
থিম:
যতনে রাখিব তারে

১৫তম পর্ব

লেখক: সুরাইয়া জান্নাত সুমী

#যতনে_রাখিব_তারে

#পর্ব_১৫

#লেখনিতে_সুরাইয়া_জান্নাত_সুমী

(কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ)

"আর কত এভাবে থেকে নিজেকে কষ্ট দেবে আম্মু?ঠিক মতো খাচ্ছো না,ঘুমাচ্ছো না,নিজের যত্ন নিচ্ছো না।এমন করলে কিভাবে চলবে বলো তো একটু?একবার গিয়ে মেহরুর সাথে দেখা করে তো আসতেই পারো।অনেক অভিমান জমিয়ে রেখেছে ও তোমাদের প্রতি।অনেকদিন তো হলো!এবার নাহয় তোমার মেয়ের অভিমান ভাঙাতে চললে।"

সায়ানের কথা শুনে সায়ন্তী বেগম ডুকরে কেঁদে উঠলেন।সায়ান তার মায়ের ওপর বেজায় বিরক্ত এ নিয়ে।বাড়ির সবাই যেতে চাইছে মেহরিমাকে দেখতে।তবে তার নাটকি মার নাকি জোর করে বিয়ে দেওয়ার পর এখন আফসোস হচ্ছে।সে নাকি মেহরিমার চোখে চোখ রাখার সাহস করে উঠতে পারছে না। আরে বাবা আফসোস যখন করারই ছিল তো বিয়েটা দেওয়ার আগে ভাবতে।পড়ে যে আফসোস হবে।এখন প্রতিদিন এমন কান্না করা দেখে সায়ানের নিজের মাকে ন্যাকা মেয়েমানুষ মনে হচ্ছে।সব গেঞ্জাম যেন এই মেয়েদের মধ্যেই রয়েছে, এটাই সায়ানের মনে হচ্ছে।

সায়ান রাগ দেখিয়ে তার মায়ের ঘর থেকে উঠে চলে যায়।সায়ানের মা চোখ মুছে সাজিদ চৌধুরীর ফোনে কল দেয়।

সাজিদ চৌধুরি তার কল রিসিভ করলে বলেন,

"শুনছো?তারাতাড়ি বাড়িতে আসো।রংপুর যাবো মেহরিমাকে দেখতে।আমার মনটা আর মানছে না।তুমি একটু জলদি করে বাড়িতে আসো।রাতেই রওয়ানা হবো রংপুরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে।মেহরিমাকে বড্ড দেখতে ইচ্ছে করছে।"

সাজিদ চৌধুরী উচ্ছ্বসিত কন্ঠে বললেন,

"আমি এখনি আসছি।তুমি সবাইকে রেডি হয়ে থাকতে বলো।আমার বাড়িতে যেতে রাত আটটা বেজে যাবে।আমি গিয়েই সবাইকে নিয়ে বের হবো।"

সায়ন্তী বেগম ঠিক আছে বলে ফোন রেখে দিলেন।

ঘর থেকে বের হয়ে তিনি এক এক করে সবাইকে রেডি হয়ে থাকতে বললেন যেন সাজিদ চৌধুরী আসলেই সবাইকে নিয়ে তিনি বের হয়ে যেতে পারেন।শানায়া থমথমে মুখ নিয়ে রেডি হতে চললো।তার ভালো লাগে না এখন কোনো কিছুই।মনটা বিষিয়ে রয়েছে এমনিতেই।প্রতিদিন সে একবার করে মিনহাজদের বাড়িতে যায়।তবে প্রত্যেকবার তাকে নিরাশ হয়ে ফিরে আসতে হয়।

দুশ্চিন্তায় তার চোখের নিচে এক পাল্লা কালো দাগ পড়েছে।নিজের যত্ন ও আর নেওয়া হচ্ছে না ঠিকঠাক। এক মিনহাজ তাকে পাগল করে ছেড়েছে।সে তো এর শেষ দেখে তবেই শান্ত হবে।মিনহাজকে সে দেখে নিবে।একবার শুধু হাতের নাগালে পেয়ে যাক।তার থেকে কতগুলো মার ও পাওনা রয়েছে মিনহাজের।সব উশুল করে ছাড়বে সে।এক আনাও ছাড় পাবে না মিনহাজ।

সায়ানের রাগ এবার শান্ত হলো।তার মায়ের অবশেষে সুবুদ্ধি হয়েছে।

মাহিরকে সে নিজে গিয়ে জলদি বের হতে বললো।কেনোনা মাহির কোথাও যাওয়ার জন্য রেডি হতে নিলে মেয়েদের থেকে ডাবল সময় লাগায়।

-----

"এই প্রীতি?তারাতাড়ি কাজ শেষ করো।আর কতক্ষণ লাগবে তোমার কাজ করতে বলো তো?দেখছো যে তোমার স্বামী কষ্ট পাচ্ছে তোমাকে ছাড়া।তবুও সবসময় তুমি এমন করো।শুধু আমার থেকে পালাই পালাই ভাব।"

প্রীতি কপাল কুচকে রিশাদের দিকে তাকায়।কিছু না বলে সে থালাবাসনগুলে ভালো করে ধুয়ে জায়গা মতো রেখে দেয়।এরমধ্যেই যে রিশাদ কত কথা বলে ফেললো তার কোনো ইয়ত্তা নেই।

প্রীতির কাছে মনে হয় রিশাদ আর রুফাইয়াকে ভাইবোন হিসেবে মানিয়েছে ভালো।দুটোই এক, হারে বজ্জাত। সাথে বাঁচাল ও আছে।

প্রীতি হাত মুছে রিশাদের দিকে তাকায়।যে কিনা চাতক পাখির ন্যায় তার দিকেই তাকিয়ে আছে।

প্রীতি রাগ দেখিয়ে বললো,

"এমন করলে সত্যিই কিন্তু বাপের বাড়ি চলে যাবো।

তখন কেঁদেও কুল পাবেন না।এমনিতেই বউ পাগলু বলে সবাই ক্ষেপায় আমাকে।ভালো লাগে না আমার এসব।"

রিশাদ মুচকি হেসে বলে,

"বউ পাগলু হবো না তো কি পাড়ার ভাবির পাগলু হবো নাকি?তুমি অনুমতি দিলে হতেও পারি।"

প্রীতি চিল্লিয়ে রিশাদের বাহুতে থাপ্পড় মেরে বলল,

"রিশাদের বাচ্চা তোকে তো আমি দেখে নেবো আরেকটা বাজে কথা বললে।"

রিশাদ প্রীতিকে পাজা কোলে তুলে তার ঘরের দিকে যেতে শুরু করে।প্রীতি আতকে উঠে বলে,

"কি করছেন আপনি?নামিয়ে দিন আমাকে।বাড়িতে আরও মানুষ আছে তো।দেখে নিলে মানইজ্জত কিচ্ছু থাকবে না।"

"ইশ্, আমার বউকে আমি কোলে নিয়েছি তাতে ইজ্জত যাওয়ার কি হলো?দেখলে দেখবে!তাতে আমার কিছুই আসে যায় না।"

রিশাদের কথা শুনে প্রীতি বাঁকা একটা হাসি দিয়ে আতকে উঠার ভান করে বলে,

"রিশাদ জান্স!চোখ মেলে দেখো,সামনে তোমার আব্বাজান।"

রিশাদ সামনে না তাকিয়েই চটজলদি প্রীতিকে নামিয়ে দেয়।প্রীতি সুযোগ বুঝে ঘরে চলে যায় এক দৌড়ে।রিশাদ ব্যাপারটা বুঝতে পেরে নিজেও প্রীতির পিছনে দৌড় দেয়।ঘরে এসে প্রীতি জাপটে ধরে বিছানায় ধপ করে ফেলে দেয়।

প্রীতি হালকা চেচিয়ে বলে,

"কি করছেন রিশাদ?ছাড়ুন আমাকে।ভয় করছে কিন্তু আমার।"

রিশাদ প্রীতির কপালে ছিটিয়ে থাকা ছোট ছোট চুল গুলো শান্তভাবে সরিয়ে দিতে দিতে বলে,

"এখনো ভয় কাটেনি তোমার?তাহলে তো আমার সব চেষ্টা বৃথা গেলো।এখন কি করা যায় তাহলে বলো তো বেগম?আবার চেষ্টা করতে পারি ভয় ভাঙানোর।যদি তুমি সহমত প্রকাশ করো।"

"আপনি প্রত্যেকবার অনুমতি চান। তবে উত্তর দেওয়ার আগেই তো নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।তাহলে জিগ্যেস করে শব্দ কেনো অপচয় করেন বলুন তো?"

"তার মানে বেগম আমার হান্ড্রেড পার্সেন্ট সহমত প্রকাশ করেছেন।"

প্রীতি কিছু বলতে চায় তবে পারে না।তার অধর জোড়া রিশাদের দখলে চলে গেছে ইতিমধ্যে।

প্রীতি রিশাদের বুকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে চায় তবে রিশাদ প্রীতির হাত দুটোও মুঠোবন্দি করে নেয়।কিছু সময় পর রিশাদ প্রীতির অধর জড়ো ছেড়ে দিয়ে প্রীতির দিকে তাকায়।যে কিনা চোখ বন্ধ করে বড় বড় নিঃশ্বাস নেওয়ায় ব্যস্ত।

রিশাদ প্রীতির গালে হাত রেখে বলে,

"চোখ মেলে তাকাও বেগম।এত লজ্জা কেনো তোমার বলো তো?"

প্রীতি পিটপিট করে চোখ মেলে তাকায়।রিশাদ মুচকি হেসে প্রীতির পুরো মুখ জুরে চুমু দিতে থাকে।প্রীতি রিশাদের মুখ দু'হাতে তার মুখের সামনে আটকে ধরে বলে,

"বড্ড খারাপ হয়ে যাচ্ছেন দিনকে দিন। আমি কিন্তু সত্যি বলছি বাপের বাড়ি চলে যাবো।"

"আমিও তোমার পিছু পিছু শ্বশুর বাড়ি চলে যাবো।বউ ছাড়া একদিন ও থাকা যাবে না।"

কথাটা বলেই রিশাদ প্রীতির নাকের ডগায় টপাটপ কয়েকটা চুমু দেয়।এরপর নিজের গাল পেতে দেয় প্রীতির সামনে।আর বলে,

"এবার আমার গালে টপাটপ কয়েকটা চুমু দাও দেখি।বউয়ের ভালোবাসার অভাব বোধ করছি।"

প্রীতি কপাল কুচকে তাকায় রিশাদের দিকে।রিশাদ নিজেই নিজের গাল প্রীতির ঠোঁটে ছোয়ায়।

এরপর বুকের ওপর প্রীতিকে জাপটে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ে।প্রীতি আলতো করে নিজের মাথাটা রিশাদের বুকের ওপর রাখে।

তার শান্তির জায়গা এখন রিশাদের বুক।এই বুকে মাথা রাখলে সমস্ত মন যেন শান্তিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।বউ পাগল রিশাদকে স্বামী হিসেবে পেয়ে এখন প্রীতি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে।

-------

"বোকা মেয়ে!আপনি তারাতাড়ি সব কিছু গোছাচ্ছেন না কেন?প্রয়োজনীয় সবকিছু নিয়ে নিন।বইগুলো গুছিয়ে নিয়েছেন তো?আরেহ বাবা,তারাতাড়ি করুন একটু।এখনকার মতো শুধু দরকারী সব জিনিস নিয়ে নিন।পরে আমি এসে নাহয় বাকিগুলো নিয়ে যাবো।"

তাহসিন বরাবরের মতো কখনো ধমক দিয়ে কথা বলছে তো আবার কখনো নরম কন্ঠে।

মেহরিমা তাহসিনের সাথে কথা বললো না কোনো।নিজের মতো করে সে সব কিছু গোছাচ্ছে।

এইচএসসি পরীক্ষা তার, আর এক সপ্তাহ পর।তাহসিন এখনি মেহরিমাকে নিয়ে যেতে চাইছে গাজীপুর।সেখানে তাহসিনের পরিচিত একজন থাকে। তাকে বললে, সে কষ্ট করে হলেও তাহসিনের কথামতো স্বল্প ভাড়াতে একটা রুম ঠিক করেছে।

মেহরিমা ও তাহসিনের সম্পর্ক আগের মতোই আছে।না আছে কোনো উন্নতি আর না আছে কোনো অবনতি।দুজন আগ বাড়িয়ে কোনো রকম চেষ্টা চালায়নি আর।মেহরিমা গো ধরে বসে আছে মনে মনে।সেদিন সে এগিয়ে গেলেও তারপর থেকে আর আগ বাড়িয়ে তাহসিনকে স্পর্শ করেনি।সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছে নিজেকে।যেদিন তাহসিন তার দিকে এক পা এগিয়ে দিবে সে নিজেও সেদিন তাহসিনকে তার মনের সম্পূর্ণ জায়গা দিয়ে বসবে।তার আগে তার মন তালাবদ্ধ হয়ে থাকবে।

মেহরিমার চোখে পানি চলে আসে এমন ভাবনা মাথায় আসায়।

তাহসিন মেহরিমাকে বই গুছিয়ে সেখানেই মাথা নিচু করে বসে থাকতে দেখে তার কাছে যায়।নিজেও মেহরিমার পাশে বসে।তাকে আর ধমক না দিয়ে শান্ত কন্ঠে বলে,

"কি হয়েছে আপনার?মন খারাপ?আমি ইচ্ছা করে ধমক দিয়ে কথা বলিনি বিশ্বাস করুন।কেনো যে এমন ভাবে কথাগুলো বের হয় গলা থেকে বুঝতেই পারিনা।মন খারাপ করে থাকবেন না।আমি ভালো করে কথা বলার চেষ্টা করবো এখন থেকে।সব সময় তো ভালো করেই কথা বলি।মাঝে মাঝে একটু কঠিন হয়ে যায়।"

মেহরিমা মাথা তুলে তাহসিনের দিকে তাকায়।মেহরিমার চোখে পানি দেখে তাহসিন আঙুলের ডগা দিয়ে তা মুছে দেয়।

"কি হয়েছে বোকা মেয়ে?চোখে পানি কেনো?আমি কি একটু বেশিই খারাপ?খুব বেশি খারাপ ব্যবহার করে ফেলেছি?আচ্ছা,আর হবে না এমন।এখন উঠে আপনার চুলগুলো আচরে নিন।পাগল হয়ে আছে একদম মাথাটা।"

"আমি কি একবারও আপনাকে খারাপ বলেছি?নিজেই নিজেকে খারাপ বলছেন।"

"আচ্ছা আর বলবো না।এখন উঠুন তারাতাড়ি। বাহিরে ভ্যান চলে এসেছে।আপনি রেডি হয়ে নিন।আমি সবকিছু এক এক করে ভ্যানে উঠিয়ে দিয়ে আসছি।"

তাহসিন কথা শেষ করে নিজেদের গোছানো ব্যাগগুলো আর বই এক এক করে নিয়ে ভ্যানে তুলে দিয়ে আসে।মেহরিমা এখনো চুল আচরাচ্ছে।এদিকে ভ্যানওয়ালা তারাতাড়ি যেতে বলেছেন।তাহসিন মেহরিমার কাছে এসে তার হাত থেকে চিরুনি নিয়ে নিজেই চুল আচরে দেয় সুন্দর করে।মায়ের চুল অনেকবার বেধে দিয়েছিলো বিধায় মেহরিমার চুলগুলো খোপা করে দিতে কোনো সমস্যা হলো না।নিজেকে তাহসিন একবার আয়নায় দেখে,আরেকবার মেহরিমাকে দেখে।মেহরিমার পাশে তাহসিনের নিজেকে বেমানান লাগলো।দ্রুত আয়না থেকে চোখ সরিয়ে মেহরিমাকে তারাতাড়ি আসতে বললো তার সাথে।

মেহরিমা বের হলে তাহসিন সবগুলো ঘরে তালা লাগিয়ে দেয়।

মেহরিমাকে ভ্যানে ঠিকঠাক বসিয়ে দিয়ে তাহসিন তার পাশে বসে।ভ্যান চলতে শুরু করে।মেহরিমার খোলা ভ্যানে পা ঝুলিয়ে বসতে বেশ ভালোয় লাগলো।তাহসিন হাত বাড়িয়ে মেহরিমার কোমর ধরে টেনে তার কাছে নিয়ে আসলো।

মেহরিমার বুকটা কেমন ধক করে উঠলো তাহসিনের স্পর্শে।সে চোখ তুলে তাহসিনের দিকে তাকায়।তাহসিন গলার স্বর নিচু করে বলে,

"উঁচু নিচু রাস্তা।কোনো অঘটন ঘটতে পারে।"

মেহরিমা তাহসিনের হাত ছাড়াতে চায় নিজের কোমর থেকে।তাহসিন কপাল কুচকে নেয়।আরেকটু জোরে চেপে ধরে সে মেহরিমাকে নিজের সাথে।মেহরিমার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে,

"চুপচাপ বসে থাকুন।এমন করবেন না দয়া করে।পড়ে গেলে অঘটন ঘটে যাবে।আর কিছুটা পথ আছে।রাতের বেলায় কেও আমাদের দেখছে না।তাই নরচর কম করুন।"

মেহরিমা আর কোনো কথা বললো না।

সে থমথমে মুখ নিয়ে তাহসিনের সাথে লেগে বসে রইলো।বাস স্টান্ডে পৌছানোর কিছু মুহূর্ত আগে তাহসিন মেহরিমাকে ছেড়ে দেয়।ভ্যানওয়ালা বাসে তাহসিনের সাথে মিলে তাদের ব্যাগ গুলো তুলে দেয় ডিকিতে।তারপর নিজের পাওনা নিয়ে সে চলে যায়।

তাহসিন মেহরিমার হাত ধরে গাড়িতে উঠে বসে।গাড়ি ছেড়ে দিবে আর কয়েক মিনিট পরে।তাহসিন মেহরিমাকে বসতে বলে গাড়ি থেকে নেমে যায়।কিছুক্ষণ কেটে গেলেও তাহসিন আসে না।গাড়ি ছেড়ে দিবে এমন ভাব।মেহরিমার ভয়ে কান্না চলে আসার উপক্রম। তাহসিন কেনো এখনো আসছে না।তাহসিনকে দেখতে পাওয়ার আশায় মেহরিমা জানালা দিয়ে বাহিরে তাকায়।ওইতো তাহসিন দৌড়ে আসছে হাতে একটা পানির বোতল নিয়ে।মেহরিমা তাহসিনকে দেখে শান্ত হয়।তাহসিন গাড়িতে উঠে মেহরিমার পাশে বসে পড়ে।

প্যান্ট এর পকেট থেকে একটা ওষুধের প্যাকেট বের করে সেখান থেকে একটা ওষুধ খুলে নেয়।

মেহরিমার মুখের সামনে পানির বোতল দিয়ে বলে,

"পানি নিন মুখে জলদি করে।"

মেহরিমা কোনো কথা না বলে বোতল থেকে মুখে পানি নিয়ে হা করলে তাহসিন ওষুধটা তার মুখে পুড়ে দেয়।মেহরিমা ওষুধ গিলে নিয়ে তাহসিনকে বলে,

"বমি না হওয়ার ওষুধ তাই না?"

"হুমম।এবার বেশি বাহিরে না তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে সিটে হেলান দিয়ে থাকুন।গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে।"

"কিন্তু আমার তো ঘুম আসবে না।মাথা ঘুরাবে শুধু এখন।"

তাহসিন মেহরিমার দিকে এগিয়ে তার পাশ ঘেঁষে বসে।মেহরিমার মাথাটা কাঁধের উপর রেখে বলে,

"এবার আর মাথা ঘুরাবে না।চুপটি করে থাকবেন এভাবে,আমি আছি।"

ইতিমধ্যে বাসের লাইট অফ করে দেওয়া হয়েছে।মেহরিমা সাহস করে তাহসিনের কোমর জড়িয়ে তার বুকে মাথা রাখে।তাহসিন আরেকটু এগিয়ে মেহরিমার কোমর জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বলে,

"আপনার অপেক্ষাতেই ছিলাম আমি।এভাবে সবসময় এগিয়ে আসবেন।আমি তাহলে আরেকধাপ এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাবো।বড্ড ভয় হয় আমার আপনাকে নিয়ে।তাই এগোনোর সাহস করতে পারি না।কখনো ছেড়ে যাবেন না দয়া করে।তাহলে যে তাহসিন নিঃশেষ হয়ে যাবে।তার বেঁচে থাকার মতো এ পৃথিবীতে আর কিছুই থাকবে না।সর্বস্বান্ত হয়ে যাবো তাহলে আমি।"

তাহসিনের কথা শুনে মেহরিমা তাহসিনকে আরো টাইট করে জড়িয়ে ধরে।সে বোঝাতে চাচ্ছে তাহসিনকে,সে কখনোই তাকে ছেড়ে যাবে না।ছেড়ে দেওয়ার কথাই বা আসছে কোথা থেকে।

তবুও সে মুখে স্বীকারোক্তি দিলো তাহসিনের হৃদপিণ্ড শান্ত করতে।কেমন ধারামধারাম করে বাজছে তাহসিনের হৃদপিণ্ডটা।

তাহসিন এ প্রথম অতিরিক্ত আবেগে পড়ে মেহরিমার কপালে ঠোঁট নামিয়ে আলতো করে চুমু দেয়।

মেহরিমা চোখ তুলে তাহসিনের দিকে তাকায়।তাহসিন আরেকটু সাহস করে মেহরিমার নাকের ডগায় ঠোঁট স্পর্শ করে।মেহরিমা মাথা নিচু করে তাহসিনের বুকে মুখ লুকায়।ফিসফিস করে তাহসিনের শোনার মতো করে বলে,

"আপনাকে ছেড়ে যাওয়ার দুঃসাহস আমি এ জীবনে করতে পারবো না।তাই ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।তাহসিনকে আল্লাহ মেহরিমার জন্য সৃষ্টি করেছেন আর মেহরিমাকে তাহসিন সিকদারের জন্য।"

চলবে,,,,

গঠনমূলক মন্তব্য করো কেমন?আমি নতুন লেখালেখি করছি তাই ভুলত্রুটি থাকতে পারে।তবে তোমাদের মন্তব্য গুলো পড়ে আমার লেখার প্রতি আগ্রহ দিন দিন আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।তোমাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ আমার পাশে থাকার জন্য।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন