ফন্ট সাইজ:
থিম:
যতনে রাখিব তারে

২৪তম পর্ব

লেখক: সুরাইয়া জান্নাত সুমী

#যতনে_রাখিব_তারে

#পর্ব_২৪

#লেখনিতে_সুরাইয়া_জান্নাত_সুমী

(কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ)

"আমাকে ডাকলেন কেন এ সময়? বিকেলে বাড়িতে অনেক কাজ থাকে। মায়ের হাতে হাতে কাজ করে দিতে হয়। আর হঠাৎ করে যে গ্রামে আসলেন? মেহরিমার সাথে দেখা করতে বুঝি?

আপনার বোনটা না অনেক চালাক। কোনো কথা বললে চোখের পলক বারবার ফেলে দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিতে সক্ষম। তার বিপরীত পাশের মানুষটা কি বলতে চায় তা গুলিয়ে ফেলবে। দেখুন তো আমাকেও তেমন লাগে কিনা?"

রেশমা সায়ানের দিকে তাকিয়ে বারবার চোখের পলক ফেলে দেখায়। সায়ান মুচকি হেসে বলে,

"এমন করলে মেহরিমাকে লাগে শাঁকচুন্নি আর তোমাকে লাগছে পিশাচিনী। এত বকবক কিভাবে করো বলো তো? আমার তো মাথাতেই আসে না এত কথা।"

গোধূলি রাঙা বিকেল বেলায় গ্রামের মাটির রাস্তা ধরে সায়ান আর রেশমা পায়ে পা মিলিয়ে হেটে চলেছে আর গল্পের ভান্ডার তো সঙ্গে আছেই।

রেশমা এত কথা বলতে পারে! সায়ান তো রেশমার সামনে আসলে কথাই খুজে পায় না এখন। প্রথমে তো জমিয়ে ঝগড়া করেছে দুজন। তবে এখন আর ঝগড়া টা কোনোভাবেই হয় না। কি যে! এমনটা যে কেন হলো! রেশমা চোখ পাকিয়ে সায়ানের দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে সামনে তাকিয়ে বলে,

"মস্তিষ্কে কথাগুলো দানা বেঁধে ঘুরে বেড়ায়। আর মন খুলে কথা বলতে না পারলে নিজেকে বোবা প্রাণী মনে হয়। আর আমি মন খুলে কথা বলায় বিশ্বাসী। তবে স্বল্পভাষী মানুষরাই ভালো।"

"তাই? স্বল্পভাষী হওয়ার কিছু উপকারিতা?"

"এইযে আমাকেই দেখুন না! মন উজাড় করে কথা বলতে না পারলে, মনের ভাব প্রকাশ করতে না পারলে অস্থির লাগে। এর থেকে জঘন্য অনুভূতি আর দুটো নেই। ছটফট করতে থাকি। মনের কথাগুলো বলার জন্য মানুষ খুজতে থাকি। যখন কথা বলার জন্য কাওকে পাই না তখনকার অনুভূতি অনেক বেশি কষ্টদায়ক। আর যারা স্বল্পভাষী, তাদের সাথে আমার মতো মানুষরা বেশি কথা বলতে পারে না। বিরক্ত হয়। তাদের বেশি একটা মানুষের সঙ্গ লাগে না। তারা একা চলতে পছন্দ করে। তবে আমার আবার উঠতে বসতে মানুষের সঙ্গ লাগে। প্রীতি নেই এখন। কথা বলার মানুষ খুজে না পেলে মায়ের সামনে পিছনে ঘুরে ঘুরে বেড়াই। আপনি কোনো কথা বলছেন না যে?"

সায়ান রেশমার দিকে একপলক তাকিয়ে দূর আকাশের পানে চেয়ে বলে,

"বলতে থাকো, আমি শুনতে ভালোবাসি।"

সায়ান গোধূলি রাঙানো বিকেলের আকাশটার দিকে হাত তাক করে বলে,

"গোধূলির পরে আকাশটা রঙিন রূপে সেজেছে তাই না?"

"হ্যা, আর আমার বাড়িতে যাওয়ারও সময় হয়েছে।"

"চলে যাবে?"

"না গেলে বুঝি রেখে দিবেন?"

"থাকতে চাওয়ার বাহানা খুঁজছ বুঝি?"

"থেকে যাওয়ার বাহানা খোঁজার কোনো কারণ তো দেখছি না?"

"তবে একবার ডাক দিতেই সাহারা দিয়েছিলে যে?"

"সে তো পথে হাটতে থাকা কোনো পথিক ডাক দিলেও আমি সাড়া দিই।"

"তাহলে বারবার পথের পথিক হয়ে তোমার সামনে নাহয় গেলাম।"

"বারবার পথের পথিক রুপে আহ্বান করলে ফিরিয়ে দেওয়ার সাধ্য কি আর এই রেশমা সেন এর আছে?"

"উহু! সে তো আমি পূর্ণ বিশ্বাস মনে গেথে তবেই না মাঠে নেমেছি।"

রেশমা ভ্রু গুটিয়ে নেয়। সায়ানকে ভেংচি কেটে বলে,

"শুনে রাখুন তবে, আমি যে হিন্দু ধর্মের তা বুঝি ভুলে বসে আছেন?"

"প্রথম দেখায় বুঝি ধর্মের নাম কপালে লিখা ছিল? জেনে রাখুন তাহলে,আমি এক অন্ধ পথিক।"

বাঁচাল রেশমা সায়ানের কথার বিপরীতে কি বলবে ভুলে বসলো। উল্টো ঘুরে হাটা ধরল বাড়ির পথে।

হেঁটে চলা রেশমার দিকে তাকিয়ে সায়ান চিৎকার করে বলল,

"ধীরে হাঁটো রেশমা,তোমার চোখের আড়াল হওয়ার পর যে তোমার মনের আড়াল হব না তার নিশ্চয়তা কি?"

রেশমার চলতি পা থেমে যায়। পিছু না ঘুরে নিজেও চিৎকার করে বলে,

"এই না বললেন, মনে বিশ্বাস গেথে নিয়ে তবেই মাঠে নেমেছেন!"

রেশমার আর দাঁড়ায় না। ঝটপট পা চালিয়ে নিজের গন্তব্যে চলে যায় সে। সায়ান তাকিয়েই থাকলো। যতদূর পর্যন্ত রেশমাকে দেখা যায় ঠিক ততোদূর। দীর্ঘশ্বাস যেন তার নিত্য দিনের সঙ্গী এখন। কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে সবকিছু। বুকে কেমন চিনচিন ব্যথাও করছে। অদ্ভুত সব অনুভূতি। এমন অনুভূতি নিয়ে চলা আজকাল বড্ড মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। এবার কি নিজেকে সংযত করা উচিত? মন সায় জানায় না!

সায়ান পকেটে হাত গুজে সেখান থেকে আঁকাবাকা পথ ধরে হাটতে শুরু করে। কখনোবা ইচ্ছাকৃত নিজেও আঁকাবাকা পা ফেলে হাঁটে।

--------------------------------------

"আজকে অন্তত দেখা করতে দিন একটু আঙ্কেল। আপনার মেয়ে চেয়েছিল আমার যাতে একটা চাকরি হয়। চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি আঙ্কেল। আমি আর বেকার নই। এবার কি দেখা করতে দিবেন? আর কতবার ফিরিয়ে দিবেন এভাবে? আজকে নিঃশ্বাস থেমে গেলে কালকেই তো মৃত্যুর দু'দিন হয়ে যাবে আমার! এত আফসোস কোথায় রাখব আমি? শান্তি মিলবে না আমার। আপনি আপনার কথা কেন রাখছেন না? আমি তো বলেছি আপনাকে আমাদের লিখিত কোনো সম্পর্ক না থাকলেও আত্মার সাথে আত্মার সম্পর্ক টা জোরালো ভাবে রয়েছে। সে সাক্ষী এর! একবার জেগে উঠলেই সাক্ষ্য দিয়ে দিবে। তখন আপনি আর বিশ্বাস না করে থাকতে পারবেন না। আমাকে এতবার ফিরিয়ে দিবেন না দয়া করে। মরে যাবো আমি। তার বিরহে মৃত্যু আমার অনিবার্য। দেখবেন, একদিন এই হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস পতিত হবে আমার। তখন আপনিও আফসোস করে বলবেন, একটু সদয় হওয়াই যেত।"

মিনহাজ কিছুটা ক্ষোভ আর পাহাড় সমান যন্ত্রণা নিয়ে কথাগুলো বলল। তবুও মনে হয় সামনে থাকা মানুষটার হৃদয় গলল না। মানুষ কতটা নিষ্ঠুর। নাহিদ চৌধুরী মিনহাজের কাঁধে হাত রাখে। দু'বার কাঁধে চাপড় দিয়ে বলে,

"ভালো ছেলে তুমি, বাড়ি যাও। অপেক্ষা করো,সময় হলেই দেখা করতে পারবে। এখন না। আমার মেয়ে সুস্থ হোক আগে।"

মিনহাজের ধৈর্য্য যেন আর সয় না। সে তার চোখ থেকে গড়িয়ে পড়া অশ্রুকণা হাতের উপর পিঠের সাহায্যে মুছে নিয়ে ভাঙা কন্ঠে বলে,

"আমিই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি তবুও আপনার মেয়ে সুস্থ হচ্ছে না। চোখের দেখাটা অন্তত দেখতে দিন?"

মিনহাজের এত আহাজারি এবার বুঝি নাহিদ চৌধুরীর মন গলাতে সক্ষম হয়।

তিনি মিনহাজের হাত টেনে ধরে শানায়ার কেবিনের সামনে নিয়ে আসে।

হাতে থাকা ঘড়ি মিনহাজের সম্মুখে ধরে বলে,

"কতটুকু সময় চাও?"

মিনহাজের চোখ টলমল করে উঠলো। অবশেষে! অবশেষে সে তার শালিক পাখিকে দেখতে পারবে।

সে মাথা নাড়িয়ে বলে,

"শুধু যাবো আর আসব।"

"চলো।"

নাহিদ চৌধুরী দরজা ঠেলে ভেতরে ঢোকেন মিনহাজকে নিয়ে। কেবিনে সায়ন্তী বেগম, মাহির আর তৃপ্তি রয়েছে।

হাসপাতালের বেড এ শুয়ে থাকা শানায়াকেই শুধুমাত্র মিনহাজের চোখে পড়ল।

সায়ন্তী বেগম, মাহির, তৃপ্তি সহ চৌধুরী বাড়ির সকলে মিনহাজকে ভালো করে চিনে নিয়েছে এতদিনে। রোজ একবার করে এই হাসপাতালে পা রাখে মিনহাজ। তবে শানায়ার কেবিনে আসার অনুমতি তাকে দেওয়া হয় না। প্রতিদিন আসা যাওয়ায় অনেকেই এখন মিনহাজকে চিনে। ওহ হ্যা! আরও ভালো করে মনে গেথে থাকার কারণ হলো তার একটা পায়ের অর্ধেক অংশ না থাকা।

কি আজব মস্তিষ্ক আমাদের। ত্রুটি যুক্ত মানুষদের কোণা চোখে দেখে তাদের মনে রাখার যে একটা বিশ্রী ব্যাপার আমাদের মধ্যে রয়েছে।

নাহিদ চৌধুরী মিনহাজের হাত ছেড়ে দেন।

মিনহাজ দুচোখ ভরে দেখে নেয় তার শালিক পাখিকে। চোখদুটো কেমন আবছা লাগছে। ইশ্! কান্নারা দলবেঁধে আসার জন্য কেন যে এত তারাহুরো করছে কে জানে! অচল দেহ,মস্তিষ্ক নিয়ে তার পাখিটা কেমন নিশ্চল হয়ে শুয়ে রয়েছে। এমনটাই বুঝি নিয়তিতে লিখা ছিল? তবে মিনহাজ যে রোজ আল্লাহর দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা করে, তার আয়ু নিয়ে হলেও শানায়া যেন প্রাণে বেঁচে থাকে। অন্তত যেন একটু কথা বলতে পারে। আর একটুখানি সুখ যেন তার কপালে রয়। তার প্রার্থনা কি কবুল হবে না? নাকি নিয়তি তাদের আরও নিষ্ঠুরতম?

মিনহাজ একটু এগিয়ে গেল। আর কয়েক পা হাটলেই শানায়াকে ছোঁয়া যাবে। সে হাটতে চায় সে কয়েক পা। তার আগেই তার হাত চেপে ধরে নাহিদ। বোঝায় তাকে, তার সীমানা এতটুকুই।

এর বাহিরে পা রাখা তার জন্য নিষিদ্ধ।

"দেখা শেষ। চোখের দেখা দেখে নিয়েছ। এবার তাহলে বাহিরে যাওয়া যাক?"

"আমাদের তো কথা বলা হলো না!"

"এতটুকুই যথেষ্ট নয় কি?"

মিনহাজ চিৎকার করে বলতে চাইলো, এতটুকু যথেষ্ট নয়। মৃত্যুর শেষ নিঃশ্বাসের আগ পর্যন্ত দেখতে থাকলেও তার শালিক পাখিকে দেখার তৃষ্ণা মিটবার নয়। সে থাকতে চায় এখানে। সময় কাটাতে চায় তার শালিক পাখির সাথে। একাকী ভাগ করে নিতে চায় কিছু কথা। জানাতে চায় সে, তার চাকরি হয়েছে। এবার সম্বন্ধ করতে শানায়াদের বাড়িতে সে তার পরিবার কে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবে। তার শালিক পাখির ইচ্ছে পূরণ হবে। কোনো কিছুই তো এখনো করা হলো না।

তাদের অনেক কথা জমে রয়েছে। সে সব ও তো বলতে হবে নাকি! কেন যে শালিক পাখির বাবা বুঝছেন না! শালিক পাখির বাবা হয়ত কখনো কারো প্রেমে পড়েন নি। তা নাহলে মিনহাজের বিরহ তার চোখে পড়ছে না কেন?

মিনহাজের হাতে পুনরায় টান পড়ে। তার যাওয়ার সময় হয়েছে এখন। তাকে যেতে হবে। না, সে যেতে চায় না। তাকে বিদায় করে দেওয়া হচ্ছে। শালিক পাখির বাবার খুব বেশি তাড়া তাকে বিদায় করার। মিনহাজ পলকহীন চেয়ে রয় তার প্রেয়সীর মুখপানে। ইশ্ তার পাখিটা কি সুন্দর! এত আদুরে পাখিকে এই রুমটায় বন্দী করে রাখা হয়েছে।

তার হঠাৎ মনে হলো, মুক্ত আকাশের নিচে দুহাত প্রসারিত করে প্রকৃতির বাতাস শুষে নিলে হয়তো শালিক পাখি সুস্থ হয়ে যাবে। তবে দু'হাত প্রসারিত করার শক্তি তো তার নেই। মিনহাজ নাহয় সাহায্য করলো। আর শালিক পাখিকে নিয়ে সমুদ্র দেখাও বাকি। এত সব অপূর্ণতার ভীরে সে পূর্ণতা খুজে বেড়ায়,হাস্যকর। তার ঠোঁটের কোণে উপহাসের হাসি ফুটে উঠল। সেই হাসিটুকু মনকে কি পোড়ান পোড়ালো তার একাংশ যদি কেও জানতো!

মিনহাজ বিরবির করে বলল,

"কি যন্ত্রণা দিলি রে জান! তোর দহনে দগ্ধ হচ্ছে এই পরাণ।"

-----------------------------------

"হাত দেখান বলছি। হাত দেখাতে বলেছি কিন্তু। এবার আমি রেগে যাব হাত সামনে না আনলে। আপনি আমার কথা শুনছেন না কেন?"

তাহসিন তার হাত পিছনে মুঠো করে রেখেছে। সে কিছুতেই তার হাত দেখাতে ইচ্ছুক নয় মেহরিমাকে। তবুও মেহরিমা জেদ ধরে বসে আছে দেখেই ছাড়বে। সে বউয়ের সাথে ঝগড়া করতে ইচ্ছুক নয় যদিও। তবে হাত দেখাতেও তার বড়ই অনিহা। মেহরিমা এবার ছলছল চোখে তাহসিনের দিকে তাকায়। পরিহিত শার্টের এক কোণা ধরে টেনে বলে,

"দেখান না! এমন করছেন কেন?"

"এবার কি কান্না করা শুরু করবেন নাকি?"

"না দেখালে তো কান্না করবোই। আপনি আমার কথা না শুনলে আমার কষ্ট লাগে। মনে হয় আমাকে আপনি পর ভাবছেন।"

"নিজের বউকে আবার পর ভাবে কিভাবে? এই বোকা বউ ব্যাপারটা কি বলুন তো? বউ আবার পর আপন হয়?"

"আপনি কথা ঘোরাচ্ছেন কেন?"

মেহরিমা পুনরায় তাহসিনের শার্টের কোণা ধরে টান দেয়। তাহসিন গুলিয়ে ফেলে নিজেকে মেহরিমার কান্ডে। এই আদুরে মেয়েটা নির্ঘাত তাকে বস করে ছাড়বে। যদি বলে বসো, তার বসতে মন চায় আর যদি বলে ওঠো তার উঠতে মন চায়। কি জ্বালা! সে বাংলা সিনেমার ডায়লগ গুলোর মত কথা ভাবছে।

"এইযে সিকদার সাহেব দেখান না! কান্না করে দিব কিন্তু। দেখুন, চোখে পানিও চলে এসেছে।"

তাহসিন এবার হাত বাড়িয়ে দেয় মেহরিমা সামনে।

মেহরিমা তাকায় সেই কর্মঠ হাত দুটোর পানে।

তাহসিন কপাল কুচকে নেয়। তার হাতের উপর মাথা ঝুকিয়ে রাখা মেহরিমার চোখ থেকে অশ্রুকণা টপটপ করে তাহসিনের হাতের তালুর উপরে পড়ছে। মেহরিমা তাহসিনের ফোস্কা পড়া হাত দুটো নিজের হাত দিয়ে আলতে করে ধরে।

এই বুঝি তাহসিন ব্যথা পেল এই ভয়েই।

তাহসিন মেহরিমার হাত থেকে নিজের হাতদুটো ছাড়িয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।

মেহরিমা কান্না মাখা কন্ঠে বলতে শুরু করে,

"এরজন্যই বুঝি এখন দেরি হয় কাজ থেকে ফিরতে? বাড়তি কাজ কে করতে বলেছে আপনাকে? আমি কি খুব বেশি কিছু বায়না করি? নাকি বিলাসিতার জীবন কাটাতে চাই? তাহলে কেন এমনটা করেন? আপনার খুব বেশি কষ্ট হয় তাই না?"

স্ত্রীর মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে তাহসিন বলে,

"পুরুষ মানুষ কঠোর পরিশ্রম করবে এটাই তো নিয়ম। তা নাহলে স্ত্রীকে ভালে রাখবে কি করে? আমি জানি আপনার বেশি কিছু চাওয়ার নেই। তবে সামনে আমাদের অর্থের প্রয়োজন। আপনার স্বপ্নগুলো পূরণ করার দায়িত্ব নিয়েছি। ঠিকভাবে তা পালন করতে না পারলে নিজের কাছে নিজেই লজ্জিত হব। তাই এটা তেমন কিছু না। একটু অতিরিক্ত কাজ করা হয়েছে তাই এমনটা। তবে ঠিক হয়ে যাবে তারাতাড়ি। কর্মঠ হাতে বেশিদিন ক্ষত থাকে না বুঝলেন?"

"খুব বুঝেছি। তবে নিষেধ করে দিলাম আজকে। এরপর থেকে অতিরিক্ত কাজ যেন আর করা না হয়। তা নাহলে কান্না করে আপনার সবগুলো শার্টে এক এক করে সর্দি মুছে দিব। আর ধুয়েও দিব না। তখন একা একা ধুতে হবে সব বলে দিচ্ছি।"

"বেশ সমস্যায় ফেলে দিলেন তো! আচ্ছা যান মেনে নিলাম আমার বউয়ের কথা। এবার এই অধমকে একটু হাতে তুলে খাইয়ে দিন মহারানী। তাহলে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ সরুপ এক বুক ভালোবাসা দিতাম।"

মেহরিমা তাহসিনের বুক থেকে মাথা তুলে তাকায়।

সে তো না বললেও খাইয়ে দিত। তার ভালো লাগল তাহসিনের কথা। লোকটা এমন ই। সব কথাই মেহরিমার ভালো লাগে।

মেহরিমা সবকিছু রেডি করে প্লেটে খাবার নিয়ে তাহসিনকে খাইয়ে দেয় সাথে নিজেও খায়।

তাহসিন খেতে খেতেই বলল,

"ধান পেকেছে, কালকে কাটতে হবে আরো কয়েকজনকে সাথে নিয়ে। আমি সকাল সকাল চলে যাবো জমিতে। সকালে উঠে রান্না করতে পারবেন না?"

"হ্যা, খুব পারব। রান্না করতে আমার ভালোই লাগে। আপনার জন্য রান্না করতে তো আরো বেশিই ভালো লাগে। সবকিছু কচ্ছপের ন্যায় ধীরে ধীরে শিখিয়েছেন কিনা!"

"নাহ! আমার তো মনে হলো খুব জলদিই শিখে নিয়েছেন আপনি সব কিছু।"

"সকালে আমাকেও সঙ্গে করে নিয়ে যাবেন? ধানের খেত গুলো দেখব। আর একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নাহয় নিয়ে আসবেন। সবসময় তো বাড়িতেই থাকি।"

"আচ্ছা নিয়ে যাবো। বউয়ের আবদার অমান্য করার দুঃসাহস আমার নেই।"

মেহরিমা মুচকি হাসে তাহসিনের কথা শুনে। খাবার খাওয়া শেষ হলে মেহরিমা প্লেটে হাত ধুয়ে নেয়। তাহসিন মেহরিমার হাত দুটো নিজের হাতে নিয়ে দুহাতের উপরিভাগে চুমু দিয়ে বলে,

"খাবারটা অনেক বেশি সুস্বাদু ছিল।"

মেহরিমা লজ্জা পায় সবসময়ের মত।

মুচকি মুচকি হেসে বলে,

"সবসময় এভাবেই তো বলেন।"

চলবে ইনশাআল্লাহ,,,,,,,

[কমেন্ট করতে এত কিপ্টেমি করেন কেন হুম?🫤]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন