#যতনে_রাখিব_তারে
#পর্ব_৩৫
#লেখনিতে_সুরাইয়া_জান্নাত_সুমী
(কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ)
মেহরিমার জামিন হয়ে গেছে খুব সহজেই। বিচারক রায় দিয়েছেন মেহরিমার আত্মরক্ষার জন্য নেওয়া পদক্ষেপ যথাযথ ছিল। জামিনের সমস্ত কাজ শেষে মেহরিমাকে নিয়ে সবাই এক জায়গায় এসে দাড়িয়েছে।
সকলের মুখেই বিজয়ের হাসি। সুনেহরা শাম্মীকে সবাই ধন্যবাদ জানিয়েছে। সুনেহরা মুচকি হেসে শুধু বলেছে,
"আপনাদের মেয়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। সে ভেঙে না পড়ে যেভাবে নিজের হয়ে কথা বললো তা প্রশংসার যোগ্য নির্দ্বিধায়।"
তাহসিন উসখুস করছে। সকলের মাঝে মেহরিমার সাথে কি করে কথা বলবে তাই ভাবছে সে। মেহরিমা মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। এটা তার সবসময়ের স্বভাব। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকা। জাহিদ চৌধুরী সকলকে গাড়িতে উঠে বসতে বললেন। সকলে এখন চৌধুরী বাড়িতে যাবে।
একটা গাড়িতে বড়রা সবাই বসলো সেখানে মেহরিমাকে টেনে নিয়ে গিয়েছেন তারা। জয়ন্তী বেগম আর সায়ন্তী বেগমের মাঝখানে মেহরিমার ঠায় মিলেছে। তাদের সামনে নাহিদ চৌধুরী আর সাজিদ চৌধুরী বসেছেন।
অন্য গাড়িটায় সায়ান আর মাহির আগে উঠে বসে তাহসিনকে তাদের মাঝখানে নিয়ে বসায়। গাড়ি চলতে শুরু করবে তার আগেই তৈমুর এসে গাড়ির জানালার কাঁচে টোকা দেয়। কাচ নামালে সে মুখে একটা হাসি ফুটিয়ে বলল,
"তাহসিন ব্রো, আমাকেও তোর সাথে নে। কতযুগ হলো তোর সাথে আছি আমি। তোর শ্বশুর বাড়ির ভোজ টা অন্তত আমার কপালে রাখ। নিয়ে চল আমাকে তোর সঙ্গে করে ব্রো।"
সায়ান আর মাহির সঙ্গে সঙ্গে৷ তাকে ড্রাইভিং সিটে বসে থাকা জাহিদ চৌধুরীর পাশের সিট দেখিয়ে বলে,
"সামনে চলে যা ব্রো। বাঁচাল তুই আর গুরুগম্ভীর কাক্কু পারফেক্ট ম্যাচ।"
তৈমুর খুশিমনে জাহিদ চৌধুরীর পাশে বসে পড়লো।
জাহিদ চৌধুরী তার চোখে পরিহিত চশমাটা ঠিক করে গম্ভীর গলায় বলল,
"একে তো আমাকে ড্রাইভিং সিটে বসিয়ে দিয়েছো। তারউপর আবার আমাকে নিয়ে টিজ করছো। চুপচাপ সবাই বসে থাকো।"
জাহিদ চৌধুরী গাড়ি স্টার্ট দিলেন। তৈমুর সিটের উপর পা ভাজ করে বসলো। আড়চোখে একবার জাহিদ চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে তাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
"ব্রো? তোমার নাকি বিয়ে হয়নি?"
জাহিদ চৌধুরীর কপালে ভাজ পড়লো তৈমুরের কথা শুনে। গাড়ির স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে সে তৈমুরের দিকে না তাকিয়ে চোখ ছোট ছোট করে বলল,
"ব্রো নয় আঙ্কেল বলো। তোমার বাবার বয়সী আমি। আর বিয়ে করেছি কি করিনি সেটা না জানলেও চলবে।"
"তুমি যে আমার বাবার বয়সী, এটা তোমাকে দেখলে কে বলবে বলোতো? তোমাকে তো আমার নানা...."
জাহিদ রাগী দৃষ্টিতে তাকালে তৈমুর তার কথার সুর পাল্টে বলে,
"ভাইয়ের বয়সী, আমার বড় ভাইয়ের বয়সী বলবে তোমাকে। এবার থেকে তুমি আমার ব্রো বুঝলে তো আঙ্কেল"
"উল্টাপাল্টা কথা না বলে সিট বেল্ট বাঁধো আর পা নামিয়ে বসো ভদ্রভাবে।"
তৈমুর বিরবির করে বলল,
"ভদ্রলোক মনে হচ্ছে একটু বেশিই ভদ্র।"
সে আর জাহিদ চৌধুরীকে ঘাটালো না। ভদ্র ছেলের মতো পা নামিয়ে সিট বেল্ট বেধে বসলো। পকেট হাতরে ফোনটা বের করে একবার চেক করলো। নাহ, কাঙ্ক্ষিত মানুষটি এখনো কল দেয়নি। তৈমুর দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। এটা ভেবে স্বান্তনা দিলো নিজেকে, হয়তো বাবা ব্যস্ত আছেন। ফ্রি হলে ঠিক খোঁজ নিবেন। পরক্ষণেই বাস্তবতা হাতছানি দিয়ে বলল, তোর বাবা এতটাই ব্যস্ত যে তুই সারাদিন কোথায় থাকলি আর কি করলি এটাতে তার কিছুই আসে যায় না। আর না তো একবারও প্রয়োজনবোধ করবে তোর খোঁজ নেওয়ার। তৈমুর তার চুলের ভাঁজে আঙুল চালিয়ে চুলগুলো ঠিক করে নিল। জাহিদ চৌধুরী একবার আড়চোখে তাকালো তৈমুরের দিকে।
ছেলেটাকে চুপ করে থাকতে দেখে তিনি তপ্ত নিঃশ্বাস ফেললেন। একবার পিছনে তাকালেন। সায়ান আর মাহির ফোন ঘাঁটতে ব্যস্ত। আর তাহসিন তার ক্লান্ত শরীর সিটে এলিয়ে দিয়ে ঘুমে বিভোর। মনে হচ্ছে কতকাল সে ঘুমায়নি। জাহিদ চৌধুরী পুনরায় ড্রাইভিংয়ে মনোযোগ দিল।
মেহরিমা যে গাড়িতে ছিল সেই গাড়িটা আগে এসে পৌছালো। মেহরিমার হাসফাস লাগছিলো। এতক্ষণে তার জানে পানি এলো। সে গাড়ি থেকে নেমেই খুড়িয়ে খুড়িয়ে এগিয়ে গেলো বাড়ির ভেতরে। কাওকে ধরারও সুযোগ দিলো না সে নিজেকে। তৃপ্তি রান্না করছিলো। কলিংবেলের আওয়াজ পেয়ে সে ছুটে এসে দরজা খুলে দেয়। মেহরিমাকে দেখে তার মুখে খুশি উপচে পড়ে। তৃপ্তিকে কিছু বলতে না দিয়েই মেহরিমা ভেতরে ঢুকে পড়ে। দোতলায় নিজের রুমে যাওয়ার জন্য সে রওয়ানা হয়। তৃপ্তি তবুও মন খারাপ না করে মুখে হাসি রেখেই বলল,
"গোসল করে নিচে আয় মেহরিমা। রান্না করছি আজকে আমি। খাবি তো?"
মেহরিমা দাঁড়ালো। পিছনে ঘুরে তৃপ্তির কথার উত্তরে বলল,
"খাবো।"
তৃপ্তি উচ্ছসিত কন্ঠে বলল,
"সত্যি বলছিস?"
মেহরিমা ক্লান্ত গলায় আবারও উত্তর দেয়,
"সত্যি।"
মেহরিমা দোতলায় তার রুমে চলে গেল। মেহরিমা যে আজকে ভালো করে একটুখানি কথা বলল এতেই তৃপ্তির মন শান্তি পেল। অনুতাপের আগুনে সে দিনদিন দগ্ধ হচ্ছিলো। মেহরিমার একটু ভালো ব্যবহার যেন আগুনে পানি ঢেলে দেওয়ার মতো কাজ করলো। তৃপ্তি আবারও রান্নাঘরে ছুটলো। মেহরিমা জামিন পেয়েছে শুনেই সে সকলের জন্য রান্না করতে চলে এসেছিল রান্নাঘরে। সকলে নিশ্চয়ই খুব ক্লান্ত আর খিদেও পেয়েছে বোধহয় তাই তৃপ্তির এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা। নিশাতের তো দিন দুনিয়ার খেয়াল নেই। সে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে এই সন্ধ্যা বেলায়। মাঝপথে তৃপ্তি দুহাত তুলে প্রার্থনা করার ভঙ্গিতে উপরের দিকে তাকিয়ে বলল,
"ইয়া আল্লাহ! নিশাইত্তারে একটু ভালো বানায় দাও। সংসার যেন আমার চাঙ্গে না ওঠে। আজকে ওই খাইস্টারে ভালোবাসি বলে সংসার করছি। তা নাহলে কবেই মুখ ঝামটা দিয়ে চলে যেতাম।"
তৃপ্তির ভেতর থেকে হতাশার নিঃশ্বাস বের হলো। সে আর দেরি না তড়িঘড়ি করে রান্নাঘরে দৌড়ে গেল। কে জানে? তরকারি পুরে গেল কিনা!
মেহরিমা তার রুমে এসেই গা থেকে ওরনা খুলে দূরে ছুড়ে ফেলল। তার গা ঘিনঘিন করছে। ওই জানোয়ারটা তাকে ছুঁয়েছিল। গভীরভাবে ছুঁতে না পারলেও ছুঁয়ে ছিলো তো। মেহরিমা ওয়াশরুমে ঢুকে ঝরনা ছেড়ে দেয়। ঝরনার পানি তার সারা অঙ্গ ভিজিয়ে একাকার করে দিলো। পায়ের ক্ষতস্থান চিনচিন করে উঠলো ব্যাথায়। দাঁতে দাঁত চেপে মেহরিমা সে ব্যথা গিলে নিল। সে হাটু মুড়ে বসলো মেঝেতে। দুহাত দিয়ে মুখ চেপে ধরলে অনুশোচনায়। আরেকটু! আরেকটু সচেতন থাকলে এমনটা নাও হতে পারতো। আর না তো তাকে কেও স্পর্শ করতে পারতো। মেহরিমা তার মুখ ডলতে শুরু করে হাত দিয়ে। ক্লান্ত হয়ে একসময় শান্ত হয়ে বসে থাকলো সে কিছুক্ষণ। কঠোরতার আবরণে এতক্ষণ যাবত নিজেকে আটকে রাখলেও এবারে মেহরিমা তার নিজের স্বরুপে ফিরে আসলো। অঝোরে কান্না করতে শুরু করলো সে।
কতক্ষণ যাবত কান্না করলো তা বুঝতে পারলো না মেহরিমা। এখন আর কান্না পাচ্ছে না তার।
এক হাত তার উদরে গিয়ে ঠেকলো। ঠিক এখানটায় তো! ঠিক এখানটায় এখন একজনের অস্তিত্ব বেড়ে চলেছে দিনকে দিন। মেহরিমা আর তাহসিনের ভালোবাসার অস্তিত্ব। অজান্তেই মেহরিমার ঠোঁটে এক ঝলক হাসির দেখা মিললো। তাহসিনের কথা মাথায় আসতেই মেহরিমা নিজেকে সামলে নিল। ইশ! মানুষটার কথা ভুলে বসেছিল সে। তাহসিন কি রাগ করেছে? হয়তো! আবার নাও হতে পারে। সে তো তার বোকা বউটার উপর রাগটাও দেখাতে পারে না এখন ঠিকমতো। আগে যা একটু ধমক দিতো। কিন্তু এখন তো মেহরিমার নিজেকে মোম মনে হয়।
উত্তপ্ত তাপের পাশে রাখলে যে কি না নিষ্ক্রিয় হতে সময় নিবে না। এই ভয়েই হয়তোবা তাহসিনের এতটা যত্ন তার প্রতি।
তাহসিনের মতো শান্ত মানুষ সে আর দু'টো দেখেনি। এতটা ভালো মানুষও হয়? মানুষটার মাঝে এত ধৈর্য্য এত সহনশীলতা দেখে মেহরিমা মাঝে মাঝে অবাক হয়। কয়েকদিন আগেও মা'কে নিয়ে স্বপ্ন দেখে মাঝরাতে ঘুম ভাঙার পরে মেহরিমাকে জড়িয়ে ধরে সে কি কান্না তার।
মাথায় তাহসিনের এত কথা ঘুরপাক খাওয়ার পরে মেহরিমার মন খারাপ যেন নিমিষেই উধাও হয়ে গেল। সে উঠে দাঁড়ালো বসা থেকে। লম্বা একটা নিঃশ্বাস টেনে নিয়ে জলদি গোসল করে বের হলো।
এখন ভালো লাগছে।
মেহরিমা বিছানায় পা তুলে বসলো। দরজা ঠেলে তাহসিনকে আসতে দেখে মেহরিমার মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি আসলো। সে হাত বাড়িয়ে তাহসিনকে সেখানেই থামতে বলল। তাহসিন সেখানেই দাড়িয়ে যায়। হাসফাস করতে করতে সে বলে,
"কি হয়েছে মেহরিমা? থামতে বললেন কেন? পায়ের অবস্থা কেমন এখন?"
মেহরিমা থমথমে মুখ করে বলল,
"আমি একা থাকতে চাচ্ছি কিছুদিন। আমাকে একা থাকতে দিন।"
তাহসিনের কপালে ভাজ দেখা দিলো। সে মেহরিমার কাছে আসতে নিলে মেহরিমা আবারও তাকে বাঁধা দিয়ে বলল,
"যেখানে আছেন সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকুন।"
তাহসিন ক্লান্ত স্বরে বলল,
"আমি ক্লান্ত মেহরিমা। একটু বিশ্রাম নিতে দিন। আপনার উদর জড়িয়ে ধরতে দিন। আমার শান্তি লাগছে না একদম। আমি ছটফট করছি দেখুন! আপনাকে আর আমাদের অস্তিত্বকে খুব করে অনুভব করতে চাই আমি মেহরিমা। একটু কাছে আসি?"
তাহসিনের ছলছল চোখ দেখে মেহরিমার নিজেরও কান্না পেল। মেহরিমা তার দু'হাত প্রসারিত করে দিল। তাহসিন ছুটে এসে মেহরিমাকে তার বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলো।
মেহরিমা তাহসিনের হৃদয়ের ধুকপুক শব্দটা অনুভব করতে পারছে।
"যে মুহুর্তে শুনলাম আমি বাবা হবো। বিশ্বাস করুন আমি বুঝতে পারছিলাম না কি করা উচিত। তবে এখন বুজতে পারলাম কি করা উচিত।"
মেহরিমা তাহসিনের কথার প্রতিত্তোরে বলে,
"কি বুঝলেন? কি করা উচিত এখন আপনার?"
তাহসিন আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো মেহরিমাকে। তার ক্লান্তি উধাও হতে চলল। সে মেহরিমার পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল,
"প্রচুর ভালোবাসা উচিত। এতটাই ভালোবাসা উচিত যাতে করে আপনার মনে হয়, এত ভালোবাসা কই রাখি।"
"ভালেবাসার সাগরে ডুবিয়ে মারতে চান নাকি?"
"মারার জন্য ভালোবাসিনি আমার বউ।"
"তবে?"
"খুব যতনে ভালোবাসার জন্য ভালোবেসেছি।"
মেহরিমা মুচকি হাসলো। মন ভোলানো হাসি যাকে বলে।
এই মানুষটা পুরোটাই শান্তিতে ভরপুর। কাছাকাছি থাকলে এতটা শান্তি লাগে! সে যেন প্রতি মুহুর্তে এই মানুষটার প্রেমে পড়ে যায়। মেহরিমার তাহসিনকে একটু জ্বালাতে ইচ্ছে করলো। তাহসিনকে জোর করে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিলে তাহসিন অসন্তুষ্ট গলায় বলল,
"কি হলো মেহরিমা? আমার মন ভরেনি। আমি আরও কিছুক্ষণ জড়িয়ে ধরে থাকতে চাই। দেখি, কাছে আসুন।"
মেহরিমা আসলো না তাহসিনের কাছে। উল্টো থমথমে গলায় সে বলল,
"আমি বলেছি আমি একা থাকতে চাই। আপনি আমাকে ডিস্টার্ব করছেন তাহসিন সিকদার। আমার কথা শুনুন।"
তাহসিন তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
"আপনার উদরে মাথা রাখা এখনো বাকি মেহরিমা। এমন করছেন কেন? কি চান আপনি?"
"আপাতত আমাদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে একটা ফুল গাছের চারা লাগাবেন। যেদিন সেই গাছে ফুল ধরবে, সেদিন আমাকে ছুঁতে পারবেন।"
মেহরিমার কথা শুনে তাহসিন অবাক হলো। এটা আবার কেমন চাওয়া। সে মেহরিমাকে কিছু বলল না। হাতের কনুইয়ে শার্টের হাতা গুটিয়ে নিয়ে সে বের হলো রুম থেকে। মেহরিমার চোখ ছলছল করে উঠলো। তাহসিন রাগ করেছে এটা ভেবেই তার কান্না পেল খুব। মেহরিমা নিজেকে সামলে নিয়ে বালিশে মাথা রেখে শুয়ে পড়লো।
কেন যে তাহসিনকে এমনটা সে বলতে গেল!
তাহসিন সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তৈমুরের চিৎকার করে কান্না করার আওয়াজ কানে আসে। ব্যাপারটা কি হয়েছে দেখার জন্য তাহসিন ডাইনিং এরিয়াতে যায়। তৈমুর টেবিলে খাবার সাজাতে দেখে সবার আগে বসে পড়ে একা একাই খেতে শুরু করে দিয়েছিল। খাবারটা তার কাছে দারুণ লেগেছে। তাই সে চিৎকার করে কান্না করছে আর বলছে,
"খাবারটা দারুণ হয়েছে আন্টি। খুব মজার খাবারটা। অনেকদিন হলো বাড়িতে রান্না করা খাবার খাই না। আজ খেয়ে তৃপ্তি পাচ্ছি খুব।"
জয়ন্তী বেগমের মায়া লাগলো খুব তৈমুরের কথা শুনে। তৈমুরের মা কি তাকে রেঁধে খাওয়ায় না নাকি? এ কথা জিগ্যেস করলে জানতে পারেন, তৈমুরের মা নেই। জয়ন্তী বেগমের আরও বেশি মায়া লাগলো তৈমুরের জন্য। তৈমুরের পাতে আরো কয়েক টুকরো গোস্তো তুলে দিয়ে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন,
"তৃপ্তিই রান্না করেছে বাবা। তুমি ধীরে ধীরে খাও। তোমার যখন মন চাইবে তখনই তুমি আমাদের বাড়িতে এসে খেয়ে যেও কেমন? কান্না করো না আর। তাহলে স্বাধ পাবে না খাবারের।"
তৈমুর মাথা নাড়িয়ে খাবার খেতে খেতে বলল,
"তৃপ্তি আম্মাকে আসসালামু আলাইকুম। এত ভালো খাবার রান্না করেছে। আল্লাহ যেনো তার কপালে চারটা জামাই লিখে রাখেন।"
জয়ন্তী বেগম ভ্রু কুচকে বললেন,
"এ কেমন দোয়া বাবা? এসব বলতে নেই।"
"আরেহ আন্টি! তুমি কি এটা ভুলে গেছো? এখন ছেলেমেয়ে সমান অধিকার বুঝলে?"
জয়ন্তী বেগম তাহসিনকে দেখে খেতে বসতে বললেন। তাহসিনের তারাতাড়ি যেতে হবে। তাই সে বলল, তার জরুরি কাজ আছে। কাজটা করে এসেই সে খেতে বসবে। তারা যেন চিন্তা না করে।
তৈমুর তাহসিনের কথা শুনে বলল,
"ব্রো একটু দাঁড়া। আমি খেয়ে নেই তারাতাড়ি।"
"তোর কোনো কাজ নেই। খেয়েদেয়ে বাড়িতে যাবি।"
তাহসিন নিজের কথা শেষ করে চলে যায় সেখান থেকে। তৈমুর পুনরায় খাওয়ায় মনযোগী হয়।
তার বেশ ভালো লাগছে। অনেকদিন পর কোনো বাড়িতে বসে খাবার খাচ্ছে সে। তা নাহলে রেস্টুরেন্ট ই তো তার নিত্য দিনের সঙ্গী।
---------------------------------------------------------------
আজকে জাহিদ চৌধুরী পুরান ঢাকায় অবস্থিত সেই চিরচেনা কবরস্থানে হাজির হয়েছে। ওহ হ্যা! আজকে সে একা আসেনি। তার মেয়ে নিষ্পাপকে সঙ্গে করে এনেছে তার ভালোবাসা নিষ্পাপের সাথে দেখা করাতে।
চলবে ইনশাআল্লাহ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
চোখের অবস্থা খারাপ। এক চোখ লাল টকটকে হয়ে আছে। আর দুচোখ দিয়েই সমানে পানি পড়ছে।
এতটুকুই অনেক কসরত করে লিখা। রেসপন্স কইরেন সকলে। জাহিদকে নিয়ে কালকে লিখবো।