#সঙ্গীন_প্রণয়াকাঙ্ক্ষা
#নূরায়া_মেহনাজ
#পর্ব_৪
" রেজওয়ান ভিলা " ~
চৌধুরী বংশের আদি নিবাস এই ঢাকা শহরের অভিজাত এলাকার মধ্যে একটি রেজওয়ান ভিলা। এটি কেবল একটি বাড়ি নয়, বরং এই পরিবারের আভিজাত্য, ক্ষমতা আর জটিল সম্পর্কের সাক্ষী। নূরায়ার বাবারা তিন ভাই। বড় চাচা জনাব সাদাত চৌধুরী। চৌধুরী পরিবারের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। চৌধুরী পরিবারের কর্তা। তার স্ত্রী নীলিমা। যিনি এই বাড়ির সকল সুবিধা অসুবিধার খেয়াল রাখেন। সংসারের সকল দায়িত্ব তার কাঁধে। তাদের বড় ছেলে আরহাম রেজওয়ান চৌধুরী । পেশায় একজন কার্ডিওলজিস্ট। দীর্ঘ প্রায় সাত বছর সে বিদেশে ছিল উচ্চশিক্ষা ও কাজের জন্য। মাত্র বছরখানেক আগে দেশে ফিরেছে। তার বাবা সাদাত চৌধুরীর সাথে তার দ্বন্দ্ব ছিল, যে কারণে সে রেজওয়ান ভিলাতে না থেকে শহরের অন্য এক বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে থাকে। ছোট ছেলে তেজ রেজওয়ান চৌধুরী । তেজ বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র। অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথার এবং মেধাবী, তবে তার ভেতরেও এক চাপা রহস্য লুকিয়ে আছে। সে আরহামকে প্রচণ্ড শ্রদ্ধা করে।
মেজ চাচা জনাব আশফাক চৌধুরী। তিনি খুবই শান্ত প্রকৃতির একজন মানুষ বড় ভাইকে খুবই শ্রদ্ধা করে এবং তার সকল সিদ্ধান্তের ওপর অগাধ আস্হা নিয়ে মেনে চলে। তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম। তাদের একমাত্র মেয়ে জান্নাত। যে নূরায়ার থেকে এক বছরের ছোট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী।
জনাব মিনহাজ চৌধুরী তিন চাচার মধ্যে তিনি বয়সে ছোট । তার স্ত্রী শিউলি। তাদের বড় ছেলে রাফি রেজওয়ান চৌধুরী এবং ছোট মেয়ে নূরায়া। রাফি এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য আইন বিষয়ে পাস করেছে। বুদ্ধিদীপ্ত কিন্তু কিছুটা ভীতু প্রকৃতির। সে আরহামকে এড়িয়ে চলে। অত্যন্ত সরল ও হাসিখুশি, নূরায়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক বেশ ভালো। নূরায়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স করছে। তার বয়স হিসেবে সে খুবই ম্যাচিউর্ড প্রকৃতির। তার বাবা মিনহাজ বর্তমানে হার্টের জটিল রোগে ভুগছেন।
এই রেজওয়ান ভিলার প্রতিটি কোণেই এক অদৃশ্য রহস্য খেলা করে। প্রত্যেকেই যেন প্রত্যেকের গতিবিধির উপর নজর রাখে। আরহাম নূরায়ার দূর্বল জায়গায় হাত দিয়েছে। তাকে বাগে আনার জন্য মিনহাজ চৌধুরীর দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে ।
হঠাৎ করেই নূরায়ার সেই ছেঁড়া ডায়েরির স্কেচটার কথা মনে পড়লো। জারিফ!
দরজার নিচে গুঁজে রাখা সেই রক্তমাখা বার্তার কথা মনে পড়তেই নূরায়ার শরীর ভয়ে শীতল হয়ে গেল। 'সে আমার টার্গেট।' তারমানে কি আরহাম ভাই জারিফের কোনো ক্ষতি করতে চাইছে?
না, আমি সেটা কখনোই হতে দিবো না। আমি চাই না আমার জন্য কোনো নিষ্পাপ প্রাণ অকালেই ঝড়ে যাক।
ঠিক সেই মুহূর্তেই তার ফোনটা বেজে উঠলো। জারিফ !
— "নূরা! আমি তোমার বাসার নিচে। দরজা খোল ।
নূরায়া দ্বিধাগ্রস্ত। জারিফ রেজওয়ান ভিলাতে কি করছে ! তুমি ভয় পাচ্ছো কেনো মায়াপাখি? আমি আজই কথা বলবো তোমার বাবা চাচাদের সাথে আমাদের বিষয়ে। জারিফের কণ্ঠস্বরের দৃঢ়তা এক ভরসা যোগাল নূরায়াকে । নূরায়া ভাবছে , এই মুহূর্তে জারিফের হাত ধরা ছাড়া তার আর কোনো গতি নেই। নূরায়া সিড়ি দিয়ে আকাশ-পাতাল ভাবতে ভাবতে দরজার কাছে দাঁড়াল, সে ভাবছে কোনটা ঠিক কোনটা ভুল!
নূরায়া দরজা খুলে দিল। জারিফ খুব দৃঢ়তার সাথে ভেতরে প্রবেশ করলো। তার চোখ দুটোতে আরহামের মতোই দৃঢ়তা, কিন্তু সেখানে আরহামের মতো কোনো এরোগেটেড অহংকার নেই। বরং এক শান্ত প্রতিজ্ঞা।
"চলো মায়াপাখি। আরহামের খেলা ওর নিজের বাড়িতেই শেষ হবে।"রেজওয়ান ভিলাতে শুরু হতে চলেছে এক নতুন যুদ্ধের সূচনা।
জারিফ আর নূরায়া কি রেজওয়ান ভিলাতে আরহামের ক্ষমতার সামনে দাঁড়াতে পারবে? তাদের জীবনে কি কোনো ভয়ংকর ঝড় আসতে চলেছে যা তাদের জীবনে খুব খারাপভাবে প্রভাব ফেলবে?
তাদের পরবর্তী পরিণতি কি হতে পারে?
#চলবে
( আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় পাঠক-পাঠিকা, 'সঙ্গীন প্রণয়াকাঙ্ক্ষা'-এর চতুর্থ পর্বটি কেমন লাগলো? চৌধুরী বংশের পরিচয় এবং রেজওয়ান ভিলার আভিজাত্য আপনাদের মনে কেমন ছাপ ফেললো? আপনাদের গঠনমূলক মন্তব্য জানান এবং পরবর্তী পর্ব পেতে ফলো দিয়ে পাশে থাকুন ❤️)