#নূরের_পথে_ফিরে_আসা
#নূরায়া_মেহনাজ
#পর্ব_১১
আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে পরীক্ষার সম্মুখীন করেন, তখন তাঁর উদ্দেশ্য থাকে না সেই বান্দাকে ধ্বংস করে দেওয়া। বরং তাঁর অন্যতম লক্ষ্য হলো সেই বান্দাকে পরীক্ষার মাধ্যমে পরিশুদ্ধ ও শক্তিশালী করে গড়ে তোলা।
এ পরীক্ষা বান্দার জন্য এক অভিজ্ঞতা, যা তাকে জীবনের বাস্তবতা সম্পর্কে আরও সচেতন করে তোলে। এ পরীক্ষা তাকে নিজের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেয় এবং আল্লাহর প্রতি তার বিশ্বাস ও তাওয়াক্কুল বৃদ্ধি করে।
★
সকালের মিষ্টি আজানের ধ্বনি ভেসে আসতেই আয়েশার চোখ খুলে যায়। বিছানা ছেড়ে উঠে বসে সে। এক অদ্ভুত শান্তি অনুভব করে তার মন। আজানের শব্দে তার অন্তর যেন শান্তির এক অনুভূতি খুঁজে পাই। সে মনে মনে বলে, “হে আল্লাহ, আজকের দিনটিও যেন হয় তোমার সন্তুষ্টির জন্য।”
নামাজ শেষে আয়েশা তার ডায়েরি খুলে গভীর অনুভূতি নিয়ে লিখল-
“অতীত ছিল আমার পথের দিশা, পরীক্ষা ছিল আমার আত্মার পরিশুদ্ধি, আর ভবিষ্যৎ হবে আমার দাওয়াতের আলো।”
"নূরের ছায়া" এখন নতুন লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে। আয়েশা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ,এবার শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দাওয়াতই নয় এবার তারা সরাসরি মানুষের পাশে দাঁড়াবে ছড়িয়ে দেবে মানবতার সেবা।
আয়েশা বলল, "আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যদি মানুষকে ভালোবাসতে না শিখি, তাহলে আমাদের দাওয়াত অর্থহীন। ইসলাম মানে দয়া, দায়িত্ব এবং ভালোবাসা।"
সেই দিন থেকেই তারা কাজ শুরু করল।
দরিদ্র এলাকার মেয়েদের জন্য কুরআনের আলো নিয়ে এলো "নূরের ছায়া"। শুরু হলো আত্মোন্নয়ন ক্লাস, যেখানে মেয়েরা শিখছে জীবনের পথে চলার দিশা।
অনাথ বাচ্চাদের হাত ধরে এগিয়ে চলল প্রতিষ্ঠানটি। তাদের জন্য ইসলামি শিক্ষা আর নৈতিক সহায়তার দরজা খুলে দেওয়া হলো।
বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে কুরআন তেলাওয়াত আর দোয়ার মাধ্যমে বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রাণে ছড়িয়ে দেওয়া হলো শান্তির পরশ।
রমজানে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে ইফতার বিতরণের মাধ্যমে পৌঁছে গেল ভালোবাসার বার্তা।
সব জায়গায় একটাই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হলো,
— “ইসলাম শুধু নামাজ নয়, ইসলাম হলো দয়া, দায়িত্ব আর ভালোবাসার নাম।”
একদিন এক অনাথ বালিকা আয়েশার হাত ধরে ফুঁপিয়ে উঠল। তার কাঁধে মাথা রেখে বলল,
" আপু, আপনার মুখে ইসলামিক হাদিসের বার্তাগুলো শুনলে আমি মনে আলাদা একটা প্রশান্তি খুঁজে পাই, যা আগে কখনো অনুভব করিনি।"
মেয়েটার কথা শুনে আয়েশার চোখেও পানি চিকচিক করে উঠল। মেয়েটির মাথায় হাত বুলিয়ে আয়েশা বলল,
"তুমি শান্তি পাচ্ছো কারণ তোমার হৃদয়ে আল্লাহর নূর প্রবেশ করছে।"
তারপর আয়েশা মৃদু কন্ঠে তিলাওয়াত করল -
" যে আল্লাহর পথে তার হৃদয়কে ফেরায়, মহান আল্লাহ তায়ালা তার জন্য প্রশান্তির দরজা খুলে দেন।"
(সূরা আয-যুমার (৩৯:২২)
সেই ছোট্ট মেয়েটির মুখে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। সেই হাসিতে আয়েশার চোখে জমে উঠল আনন্দের অশ্রু। আয়েশা অনুভব করল, এটাই তার জীবনের সেরা মুহুর্ত। কারণ সে কাউকে নূরের পথে আনতে পেরেছে৷
-------------------------------
"নূরের ছায়া" এখন শহরের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। যুবক -যুবতীরা দলে দলে যুক্ত হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানে।
এক সেমিনারে আয়েশা বলল,
"তুমি যেখানেই থাকো, যত পাপেই ডুবে থাকো আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে কখনো দেরি নয়। কারণ আল্লাহ নিজেই বলেন-
" হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।" ( সূরা আয-যুমার ৩৯:৫৩)
সেদিন অনেকেই তওবার অঙ্গীকার করল, কেউ ফিরে গেল ইসলামের নূরের পথে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা আয়েশাকে ভুল বুঝেছিল, আজ সেই মিডিয়ায় "নূরের ছায়া’র" কাজ নিয়ে ইতিবাচক প্রচার ছড়িয়ে দিচ্ছে পুরো দেশে। প্রচারটি ছিল এমন -
" যুব সমাজে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার এক সুন্দর উদ্যোগ।"
এক সাংবাদিক আয়েশাকে প্রশ্ন করল,
"এত বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে আপনি কীভাবে এতটা শক্তি পান নিজের মধ্যে?"
আয়েশা মৃদু হেসে বলল,
"শক্তি পাই একটি উৎস থেকে। ইব্রাহিম (আ.) বলেছিলেন, “আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি উত্তম কর্মবিধায়ক।”
*******
একদিন রাতে আয়েশা ছাদে দাঁড়িয়ে একা একা ভাবছিল, " আগে আমি সুখ খুঁজতাম মানুষের প্রশংসায় আর আজ সুখ পাই আল্লাহর সন্তুষ্টিতে।"
আয়েশা বিরবির করে একটি আয়াত পড়ল -
“নিশ্চয়ই আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের প্রশান্তি।"
( সূরা আর-রাদ ১৩:২৮)
আয়েশা চোখ বন্ধ করে দোয়া করল, " হে আল্লাহ! আমার এই নূরের আলো যেন কখনো নিভে না যায়, আর যেন আমি সবসময় মানুষকে তোমার পথে আহ্বান করতে পারি ভালোবাসা দিয়ে।"
সমাজে এখন আয়েশার জীবনের নূরের আলো ছড়িয়ে পড়ছে। শত শত মানুষের অন্ধকার জীবন আলোকিত করছে এই নূরের আলো।
#চলবে_ইনশাআল্লাহ