ফন্ট সাইজ:
থিম:
নূরের পথে ফিরে আসো (২য় খন্ড)

১৩তম পর্ব

লেখক: নূরায়া মেহনাজ

#নূরের_পথে_ফিরে_আসা { ২য় খন্ড }

#পর্ব_১৩

#Nuraya_Mehnaz_নূরায়া_মেহনাজ

[ 🚫কপি করা নিষেধ 🚫]

​কুরিয়ার সার্ভিসে আসা আয়েশা আপুর সেই পুরনো ছবিটা হাতে নিয়ে ওমর অনেকক্ষণ নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ছবিটা অনেক বছরের পুরনো, যখন আয়েশা আপু প্রথমবার হিজাব পড়া শুরু করেছিলেন। ছবিতে তাঁর মুখে যে নূরানি হাসি ছিল, তা যেন আজও সবকিছুকে আলোকিত করে রেখেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই দুষ্প্রাপ্য ছবিটা এখন কার কাছ থেকে এলো? ছবির পেছনের লেখা—

— "হক এখনো জিন্দা আছে"—এটি কি কোনো আশার বাণী, নাকি কোনো প্রচ্ছন্ন হুমকি?

​হায়াত ওমরের পাশে এসে দাঁড়াল। ছবির দিকে তাকাতেই তার চোখ ভিজে এল। সে অস্ফুট স্বরে বলল,

—"ওমর, আয়েশা আপু চলে গিয়েও আমাদেরকে একা ছাড়েননি। দেখছেন, কীভাবে বার বার তাঁর স্মৃতি আমাদের সাহস জোগাচ্ছে?"

​ওমর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

— "হ্যাঁ হায়াত। তবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। এই ছবিটা যে পাঠিয়েছে, সে হয়তো আমাদের খুব কাছের কেউ, অথবা কেউ আমাদের ওপর নজর রাখছে।"

​পরদিন ভোরেই তাদের রওনা হওয়ার কথা ছিল 'নূরের পল্লী'র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য। এটি শহরের কোলাহল থেকে বেশ দূরে, প্রকৃতির কাছাকাছি এক শান্ত জনপদ। ওমরের বাবা চৌধুরী সাহেব চেয়েছিলেন বিশাল বহর নিয়ে যেতে, কিন্তু ওমর বিনয়ের সাথে তা প্রত্যাখ্যান করল। সে চাইল যাত্রাটা হবে একদম সাধারণ, ঠিক যেমনটা রাসূলুল্লাহ (সা.) পছন্দ করতেন।

​সকাল সাতটায় তারা যখন গাড়ি নিয়ে বের হলো, আকাশ ছিল পরিষ্কার। হায়াত গাড়ির জানালার কাঁচ নামিয়ে বাইরের সতেজ বাতাস বুক ভরে নিচ্ছিল। তার গর্ভাবস্থার এই সময়ে প্রকৃতির সান্নিধ্য খুব প্রয়োজন ছিল। গাড়িতে ওমরের সাথে ছিল ড্রাইভার কাশেম ভাই, যিনি দীর্ঘ বিশ বছর ধরে চৌধুরী সাহেবের বিশ্বস্ত সারথি।

​সারা ওমরের দিকে তাকিয়ে বলল,

—"ওমর আমার কেন জানি মনে হচ্ছে আজ খুব ভালো কিছু ঘটবে। আয়েশা আপুর স্বপ্নটা আজ বাস্তব হতে চলেছে। যেখানে অসহায় মেয়েরা শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে না, বরং তাদের রূহকেও পরিশুদ্ধ করতে পারবে।"

​ওমর ড্রাইভ করতে করতে হাসল।

—"ইনশাআল্লাহ সারা। আল্লাহ বলেছেন—

​‘নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, পরম দয়াময় তাদের জন্য (মানুষের হৃদয়ে) ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেবেন।’

(সূরা মারিয়াম, ১৯:৯৬)

দেখো সমাজের চারপাশের মানুষজন একসময় আমাদের ঘৃণা করত, কথায় কথায় অপমান করত আর আজ সেই সমাজের মানুষগুলোই আমাদের সাথে এই মহৎ কাজে শরিক হতে চাচ্ছে। এর থেকে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে?”

​

​শহর পেরিয়ে গাড়ি যখন হাইওয়েতে উঠল, তখন চারপাশটা কিছুটা নির্জন হয়ে এল। দুই পাশে দিগন্ত বিস্তৃত ধানক্ষেত। ঠিক এই সময়েই হায়াত লক্ষ্য করল, পেছনে একটি বিশাল মালবাহী ট্রাক বেশ কিছুক্ষণ ধরে তাদের অনুসরণ করছে। হাইওয়েতে ট্রাক থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু এই ট্রাকটি অদ্ভুতভাবে ওমরের গাড়ির খুব কাছাকাছি চলে আসছিল। ​ওমর আয়নায় ট্রাকটি দেখে সতর্ক হলো। সে গতি কিছুটা বাড়াল, কিন্তু ট্রাকটিও গতি বাড়িয়ে ঠিক তাদের পেছনে আঠার মতো লেগে রইল। হায়াতের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। তার মনে পড়ল গত রাতের সেই ছবির কথা।

—​"ওমর ভাই ট্রাকটা কি আমাদের অনুসরণ করছে?"

​ওমর স্টিয়ারিং শক্ত করে ধরল।

— "হায়াত সিট বেল্টটা ভালো করে চেক করো। আর আল্লাহকে ডাকো। ভয় পেয়ো না।"

​হঠাৎ ট্রাকটি সজোরে হর্ন বাজিয়ে ওমরের গাড়িকে পাশ কাটিয়ে ওভারটেক করতে চাইল। কিন্তু ট্রাকের চালক এমনভাবে চাকা ঘুরালো যে ওমরের গাড়িটি রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। ঠিক সেই মুহূর্তে ওমরের মাথায় কাজ করল এক অলৌকিক শীতলতা। সে ব্রেক না চেপে বরং সুনিপুণ দক্ষতায় গাড়িটিকে একটু ডানে সরিয়ে নিয়ে আবার নিয়ন্ত্রণে আনল। ট্রাকটি প্রচণ্ড গতিতে সামনে এগিয়ে গেল এবং কিছুদূর গিয়ে একটি মোড় পার হয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। ​ড্রাইভার কাশেম কপালে হাত দিয়ে ঘাম মুছলেন।

— "ওমর সাহেব, এটা তো দুর্ঘটনা ছিল না। লোকটা ইচ্ছে করে আমাদের গাড়িতে ধাক্কা দিতে চেয়েছিল।"

​হায়াত এখনো কাঁপছে। ওমর গাড়ি থামিয়ে হায়াতকে এক গ্লাস পানি দিল। সে দেখল ভয়ে হায়াতের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। ওমর তার হাত ধরে বলল,

— "হায়াত দেখছ? শয়তানের কাজ শয়তানি করা আর তার কাজ সে করবেই। কিন্তু আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। সূরা আল-বুরুজের সেই আসহাবুল উখদুদদের কথা মনে করো, তাদের কত অত্যাচার করা হয়েছিল, কিন্তু তাদের ঈমান টলাতে পারেনি কেউ।"

হায়াত মনে করল ​আসহাবুল উখদুদের সেই পূর্ণাঙ্গ ঘটনা —

​প্রাচীন ইয়েমেনের নাজরান অঞ্চলের এক জালেম ও অহংকারী বাদশা ছিল। তার দরবারে একজন বয়স্ক জাদুকর ছিল। সেই জাদুকর যখন বুঝতে পারল তার বয়স হয়ে এসেছে, তখন সে বাদশাকে বলল, "আমার বয়স হয়েছে, আমাকে একটি মেধাবী ছেলে দিন, যাকে আমি জাদুবিদ্যা শিখিয়ে যেতে পারি।" বাদশা তাকে একটি কিশোর বালক দিল। ​বালকটি প্রতিদিন জাদুকরের কাছে আসা-যাওয়ার পথে রাস্তার পাশে এক পরহেজগার আলেম এর কুটির দেখতে পেত। বালকটি আলেমের কাছে বসে তাঁর কথা শুনত এবং তাঁর তাওহীদি উপদেশ শুনে তার মন ঈমানের দিকে আকৃষ্ট হয়ে পড়ল।

একদিন একটি বিশাল হিংস্র প্রাণী মানুষের যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে ছিল। বালকটি মনে মনে বলল, "আজ পরীক্ষা করার সময় এসেছে—আল্লাহর কাছে জাদুকর প্রিয়, নাকি পরহেজগার আলেম প্রিয়!" সে একটি পাথর হাতে নিয়ে বলল,

​"হে আল্লাহ! জাদুকরের কাজ থেকে পরহেজগার আলেমের কাজ যদি তোমার কাছে বেশি প্রিয় হয়, তবে এই পাথর দিয়ে প্রাণীটিকে হত্যা করে মানুষের পথ সুগম করে দাও।" ​সে পাথরটি মারতেই প্রাণীটি মারা গেল। বালকটি পরহেজগার আলেমের কাছে গিয়ে ঘটনা বললে তিনি বললেন, "বাছা, আজ তুমি আমার চেয়েও উত্তম স্থানে পৌঁছে গেছ। শীঘ্রই তোমার পরীক্ষা আসবে। যদি তুমি বিপদে পড়ো, তবে আমার নাম প্রকাশ কোরো না।”

আল্লাহ তাআলা সেই বালককে রোগ নিরাময়ের অলৌকিক ক্ষমতা দান করলেন। সে অন্ধ ও কুষ্ঠ রোগীদের চিকিৎসা করত। বাদশাহর এক অন্ধ দরবারী এই খবর পেয়ে বিপুল উপহার নিয়ে বালকের কাছে এল এবং চোখের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করল। বালক বলল,

​"আমি তো কাউকে সুস্থ করতে পারি না, সুস্থ করেন কেবল মহান আল্লাহ। আপনি যদি এক আল্লাহর ওপর ঈমান আনেন, তবে আমি তাঁর কাছে দোয়া করব।"

​লোকটি ঈমান আনল এবং আল্লাহ তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন। যখন সে বাদশাহর দরবারে গেল, বাদশাহ জিজ্ঞেস করল, "তোমার চোখ কে ভালো করল?" সে বলল, "আমার রব (প্রতিপালক)।" বাদশাহ বলল, "আমি ছাড়া তোমার আবার কে রব আছে?" সে বলল, "আমার এবং তোমার রব একমাত্র আল্লাহ।”

​বাদশাহ ক্ষিপ্ত হয়ে লোকটিকে শাস্তি দিলেন এবং সেই বালকের সন্ধান পেলেন। এরপর বালককে এনে নির্যাতন করে সেই পরহেজগার আলেমের নাম বের করল। বাদশাহ খোঁজ নিয়ে পরহেজগার আলেমকে হাজির করে এনে বলল, "তোমার দ্বীন ত্যাগ করো।" আলেম লোকটি অস্বীকার করল বাদশাহর কথায়। এতে করে করাত দিয়ে তাঁর মাথার মাঝখান থেকে কেটে দু-ফাঁক করে শহীদ করা হলো। একই অত্যাচার করা হলো সেই ঈমানদার দরবারীর ওপরও।

​এরপর বাদশাহ বালকটিকে পাহাড়ের চূড়া থেকে ফেলে দেওয়ার জন্য সৈন্যদের পাঠাল। বালকটি দোয়া করল, "হে আল্লাহ! তুমি যেভাবে চাও এদের হাত থেকে আমাকে রক্ষা করো।" সাথে সাথে পাহাড় কেঁপে উঠল এবং সমস্ত সৈন্য নিচে পড়ে মারা গেল, বালকটি হেঁটে হেঁটে বাদশাহর কাছে ফিরে এল। ​পরবর্তীতে বাদশাহ তাকে সমুদ্রের মাঝে নিয়ে গিয়ে ডুবিয়ে মারার চেষ্টা করল। বালকটি একই দোয়া করল, ফলে নৌকা উল্টে সব সৈন্য ডুবে মরল এবং বালকটি আবার হেঁটে বাদশাহর দরবারে ফিরে এল।

​বালকটি বাদশাহকে বলল, "আপনি কোনোভাবেই আমাকে মারতে পারবেন না, যতক্ষণ না আমি যেভাবে বলব সেভাবে চেষ্টা করেন।" বাদশাহ জিজ্ঞেস করল, "কীভাবে?”

বালকটি বলল,​"সমস্ত মানুষকে একটি খোলা ময়দানে একত্র করুন। আমাকে একটি গাছের গুঁড়িতে ফাঁসি কাষ্ঠের মতো বাঁধুন। তারপর আমার তুনীর (তীর রাখার পাত্র) থেকে একটি তীর নিয়ে ধনুকে বসান এবং বলুন—‘বিসমিল্লাহি রব্বিল গোলাম’ (অর্থ: এই বালকের রবের নামে)। এরপর তীর ছুড়লে তবেই আমি মারা যাব।"

​বাদশাহ তা-ই করল। জনসমক্ষে বলল, "বিসমিল্লাহি রব্বিল গোলাম" এবং তীরটি বালকের রগ বরাবর বিধল। বালকটি কপালে হাত রেখে শাহাদাত বরণ করল। ​এই অলৌকিক দৃশ্য দেখে সমবেত হাজার হাজার সাধারণ মানুষ একস্বরে চিৎকার করে উঠে বলল,

​"আমন্না বি-রব্বিল গোলাম!" (আমরা এই বালকের রবের ওপর ঈমান আনলাম!)

বাদশাহ যা ভয় পাচ্ছিল, ঠিক তা-ই ঘটল। পুরো রাজ্য এক মুহূর্তে ঈমানদার হয়ে গেল। বাদশাহ ক্রুদ্ধ হয়ে শহরের রাস্তায় রাস্তায় বড় বড় গর্ত (উখদুদ) খনন করার নির্দেশ দিল এবং তাতে আগুন জ্বালিয়ে দিল। ঘোষণা দেওয়া হলো—যে ব্যক্তি দ্বীন ত্যাগ না করবে, তাকে এই আগুনে ছুঁড়ে ফেলা হবে। ​ঈমানদাররা হাসিমুখে আগুনে ঝাঁপ দিতে লাগলেন। একপর্যায়ে এক নারী তার দুধের শিশুকে কোলে নিয়ে গর্তের পাশে এসে আগুনে ঝাঁপ দিতে দ্বিধা করছিলেন। তখন মহান আল্লাহর কুদরতে সেই দুগ্ধপোষ্য শিশুটি কথা বলে উঠল,

​"হে মা! ধৈর্য ধরো, নিশ্চয়ই তুমি সত্যের ওপর আছো!" মা তাঁর সন্তানকে নিয়ে আগুনে ঝাঁপ দিলেন এবং ঈমানের ওপর অবিচল রইলেন।

হায়াত ভাবনা থেকে ফিরে এল। সে তার স্বামীর দিকে তাকাতেই ওমর বলে উঠল,

—“আমরা সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা পাই সত্য পথের পথিককে যত বড় বাধার মুখেই পড়তে হোক না কেন, চূড়ান্ত সত্যের জয় নিশ্চিত। দুনিয়ার সাময়িক কষ্টের চেয়ে আখেরাতের সাফল্যই চূড়ান্ত। বালকটি নিজের জীবন উৎসর্গ করে পুরো জাতিকে সত্য ও একাত্ববাদের পথ দেখিয়ে গেছে। কঠিন বিপদে আর শত্রুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও কেবল আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার শিক্ষা দেয় এই ঘটনা। জালেম শাসক মনে করেছিল হত্যা করে সে সত্যকে ধামাচাপ দেবে, কিন্তু তার নিজের কাজের মাধ্যমেই তাওহীদের আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।”

​প্রায় এক ঘণ্টা পর তারা গন্তব্যে পৌঁছাল। নূরের পল্লীর এলাকাটি অপূর্ব সুন্দর। একটি ছোট নদী বয়ে গেছে পাশ দিয়ে। গ্রামের সাধারণ মানুষগুলো হাসিমুখে তাদের স্বাগত জানাল। সেখানে একটি ছোট প্যান্ডেল করা হয়েছিল। ​ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগে ওমর যখন দুআ করার জন্য হাত তুলল, তখন ভিড়ের মধ্যে এক বৃদ্ধ মুসাফিরকে দেখা গেল। তাঁর পরনে জীর্ণ পোশাক, কিন্তু চোখ দুটো ছিল তীক্ষ্ণ। দুআ শেষ হওয়ার পর সেই বৃদ্ধ ওমরের খুব কাছে এসে দাঁড়ালেন। ভিড়ের চাপে কেউ খেয়াল করল না, কিন্তু বৃদ্ধ ওমরের পকেটে একটি ছোট কাগজ গুঁজে দিয়ে ভিড়ের মধ্যে মিশে গেলেন। ​ওমর অবাক হয়ে কাগজটি বের করল। সেখানে কাঁচা হাতের লেখায় লেখা ছিল,

—"রাজপথের ট্রাকটির মাধ্যমে আপনাদের শেষ করার চেষ্টাটা কেবলমাত্র শুরু ছিল। এবারের লক্ষ্য আপনার সন্তানের ওপর। সাবধান।"

​ওমরের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ল। এই বৃদ্ধ কে? সে কি বন্ধু হিসেবে এই চিরকুটের মাধ্যমে আমাকে সাবধান করে গেল নাকি বন্ধু রূপে সে আমাদের কোনো শত্রু? এই বৃদ্ধই কি আয়েশা আপুর ছবি পাঠিয়ে ছিল আমাদের কাছে?

—”এসব নিয়ে চিন্তা পরে করা যাবে, আগে যে কাজের জন্য এসেছি সেটা আল্লাহর নামে শেষ করি।”

​​হায়াত যখন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য ইট রাখছিল, তার মনে এক অন্যরকম শক্তি কাজ করছিল। সে অনুভব করল, তার গর্ভের সন্তানটি যেন একটু নড়ে উঠল। সে মনে মনে বলল,

— " আমার সন্তান, তুমি যে পৃথিবীতে আসছ, সেখানে আলো আর অন্ধকার পাশাপাশি থাকে। কিন্তু মনে রেখো, অন্ধকার কখনো আলোকে জয় করতে পারে না যদি তোমার হৃদয়ে আল্লাহর নূর থাকে।"

​সেদিন বিকেলে তারা যখন ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন গ্রামের এক অভাবী নারী হায়াতের কাছে এসে বসল। তার নাম রহিমা। রহিমা বলল,

—"মা, আমি শুনছি আপনি এহানে মাদ্রাসা বানাইবেন। আমার ছোট মাইয়াডারে আপনার কাছে আমানত হিসেবে দিমু। ও যেন আপনার মতো পর্দা করতে শেখে।"

​হায়াত রহিমার হাত ধরে বলল,

—"খালা এই মাদ্রাসাটা আমার না এটা আল্লাহর। আমরা সবাই এখানে শিখতে আসব। আপনার মেয়ে ইনশাআল্লাহ আয়েশা আপুর মতো একজন দাঈ হবে।"

​ফেরার পথে হায়াত গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়ল। ওমরের চোখ তখনো রাস্তার দিকে, কিন্তু মন তার সেই রহস্যময় চিরকুটের দিকে ঝুকে আছো। ওমর কিছুটা হলেও বুঝতে পারছে রোহান সরাসরি তাদের সামনে না এলেও তার লোকবল চারিদিকে ছড়িয়ে রেখেছে। ওমর তার ফোন বের করে আমিনা আপুকে একটি মেসেজ দিল-

— "নিরাপত্তা আরও বাড়াতে হবে। আমাদের গতিবিধি কেউ লক্ষ্য করছে।"

​বাসায় ফেরার পর হায়াত প্রতিদিনের মতো তার ডায়েরি লিখতে বসল—

"আজ মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখে এলাম। ট্রাকের সেই বিকট শব্দ আর বাতাসের ঝাপটা এখনো কানে বাজছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমি যখন ভয় পাচ্ছিলাম, তখন আমার রূহ যেন বলছিল—‘ভয় পেয়ো না হায়াত, তুমি তো এখন একা নও। তোমার ভেতরে একটি জীবন আছে যার জিম্মাদার স্বয়ং আল্লাহ।’

আজ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হলো নূরের পল্লীর। হয়তো এই পল্লীই হবে আমাদের আগামী দিনের আশ্রয়।"

​ওমর রাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। সে ভাবছিল সেই বৃদ্ধের কথা। বৃদ্ধের চেহারায় একটা পরিচিত ছাপ ছিল, কিন্তু সে ঠিক মনে করতে পারছে না। হঠাৎ তার মনে পড়ল—আয়েশা আপুর পুরনো ড্রাইভারের কথা। হ্যাঁ সেই তো ছিলেন! যিনি আয়েশা আপুর মৃত্যুর পর নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন?

​রহস্যের জাল যেন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। আয়েশা আপুর অতীতে কি কিছু হয়েছিল যা এখনো আমরা জানিনা। নাকি রোহান নতুন কোনো খেলা শুরু করেছে?

#চলবে_ইনশাআল্লাহ

[ আসসালামু আলাইকুম 🌸 প্রিয় পাঠক-পাঠিকা,

অনেকদিন পর আবার এই পেজে ইসলামিক গল্প নিয়ে নিয়মিত ফিরে এলাম। মাঝখানে দীর্ঘ বিরতি হয়ে যাওয়ায় আপনাদের অনেকেই হয়তো #নূরের_পথে_ফিরে_আসা গল্পের আগের ঘটনাগুলো ভুলে গেছেন। তাই নতুন পর্ব পড়ার আগে সময় করে আগের পর্বগুলো একবার পড়ে নিলে গল্পটি আরও ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবেন। কমেন্টে আমি আগের সকল পর্বের লিংক দিয়ে দিব।

ইনশাআল্লাহ, এবার থেকে নিয়মিত পর্ব দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। পেজটি যদি এখনো Follow না করে থাকেন, তাহলে অবশ্যই Follow করে পাশে থাকবেন, যাতে নতুন কোনো পর্ব মিস না হয়। 🤍]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন