ফন্ট সাইজ:
থিম:
Blood Touch

৮ম পর্ব

লেখক: মারিয়াম হোসাইন

᪥🩸#𝑩𝒍𝒐𝒐𝒅𝒕𝒐𝒖𝒄𝒉🩸᪥

#𝗪𝗿𝗶𝘁𝗲𝗿_𝗠𝗮𝗿𝗶𝗮𝗺_𝗛𝗼𝘀𝘀𝗮𝗶𝗻

#𝐏𝐚𝐫𝐭⦄• 𝟎8

✿❃ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❉ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❃✿

🚫⛔নাম ও হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।⛔🚫

✿❃ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❉ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❃✿

পাতালঘরের নিস্তব্ধতা ভেঙে ক্ষুধার্ত নেকড়েদের ঘড়ঘড় শব্দ আর তাদের নখের আঁচড় মেঝেতে এক বিভীষিকাময় সুর তৈরি করেছে। রিভান চলে যাওয়ার পর ঘরের তাপমাত্রা আরও কয়েক ডিগ্রি কমে গেছে। দিলরুবা শিকলে বাঁধা অবস্থায় দেখল, নেকড়েগুলোর মুখ থেকে লালা ঝরছে এবং তাদের একেকটি নিঃশ্বাসে পচা মাংসের গন্ধ বেরোচ্ছে।

সবচেয়ে বড় নেকড়েটা লাফিয়ে দিলরুবার উরুর ওপর দাঁত বসাতে চাইল। দিলরুবা তীব্র চিৎকারে নিজের পা গুটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু শিকলের টানে সে উল্টে পড়ে যেতে লাগল। তার কাঁধের সেই রিভানের দেওয়া কামড়ের ক্ষতটা তখনো তাজা, সেখান থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় নীলচে রক্ত ঝরছে।

নেকড়েটা যখন তার গলার কাছে মুখ নিয়ে এল, দিলরুবা অনুভব করল তার ভেতরে এক অদ্ভুত উত্তাপ। এটা কোনো সাধারণ ভয় নয়, এটি এক আদিম ঘৃণা। রিভানের ওই নিষ্ঠুর আচরণ, তার রক্ত পান করা এবং তাকে পশুর মতো শিকলে বেঁধে রাখা—সব মিলিয়ে দিলরুবার মনের কোণে লুকিয়ে থাকা সেই শান্ত ডক্টর মেয়েটি যেন মুহূর্তে ছাই হয়ে গেল।

❝আমাকে মারতে চাও? তবে তাই হোক!❠

দিলরুবা দাঁতে দাঁত চেপে আর্তনাদ করে উঠল।

ঠিক সেই মুহূর্তে তার হাতের তালু থেকে এক তীব্র নীল আভা বের হতে শুরু করল। তার পিউর ব্লাড এখন আর কেবল তার শিরায় বইছে না, ওটা যেন আগ্নেয়গিরির লাভার মতো তার হাত দিয়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে। সে তার রক্তমাখা হাতটা দিয়ে নেকড়েটার মাথায় এক চড় মারল।

এক অলৌকিক বিস্ফোরণ ঘটল। নেকড়েটা কোনো চিৎকার করার সুযোগ পাওয়ার আগেই নীল আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। আগুনের সেই শিখা ছিল বরফের মতো শীতল কিন্তু হাড় গলিয়ে দেওয়ার মতো শক্তিশালী।

বাকি নেকড়েগুলো ভয় পেয়ে পিছিয়ে গেল, তাদের আগুনের মতো চোখগুলোতে এখন প্রাণের ভয়।

দিলরুবা থামল না। সে তার শিকলগুলোর দিকে তাকাল। সে অনুভব করল তার রক্ত এখন তার ইচ্ছামতো কাজ করছে। সে তার কবজি দিয়ে সেই রুপোলি শিকলগুলো জাপটে ধরল।

❝গলে যাও!❠

সে আদেশ দিল। তার হাত থেকে নির্গত নীল তেজ শিকলগুলোকে মুহূর্তের মধ্যে তরল ধাতুতে পরিণত করল। দিলরুবা এখন মুক্ত। সে উঠে দাঁড়াল, তার ছেঁড়া পোশাকে সে এখন আর কোনো অসহায় শিকার নয়। তার নীল চোখের সেই লাল বিন্দুটি এখন মণির অর্ধেকটা দখল করে নিয়েছে। সে যখন মেঝেতে পা রাখল, তার পায়ের ছাপগুলো নীল আগুনের মতো জ্বলতে লাগল।

ওপর তলায়, বিশাল এক পাথরের সিংহাসনে বসে রিভান একাই অন্ধকারকে উপভোগ করছিল। তার হাতে একটি করোটি দিয়ে তৈরি পানপাত্র, যাতে টলমল করছে দিলরুবার সেই পবিত্র রক্ত। সে অনুভব করতে পারল নিচের পাতালঘরের সেই শক্তির বিস্ফোরণ। তার ঠোঁটের কোণে এক পৈশাচিক এবং তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল।

হঠাৎ কক্ষের বিশাল দরজাগুলো দড়াম করে খুলে গেল। দিলরুবা সেখানে দাঁড়িয়ে। তার চুলগুলো অবিন্যস্ত, শরীর রক্তে ভেজা, আর তার চারপাশ ঘিরে রয়েছে এক নীলচে কুয়াশা।

❝ওহ, তবে তুমি বেঁচে ফিরলে?❠

রিভান তার সিংহাসন থেকে উঠল না।

সে অবজ্ঞার সাথে পানপাত্রে এক চুমুক দিল।

❝আমি ভেবেছিলাম আমার নেকড়েরা আজ এক রাজকীয় ভোজ পাবে। তুমি বড্ড দেরি করে ফেললে, দিল….রুবা।❠

দিলরুবা দ্রুত পায়ে সিংহাসনের দিকে এগিয়ে গেল।

❝আপনি আমাকে মারতে চেয়েছিলেন এ্যারোন? দেখুন, আমি এখন আপনার ওই শিকলের চেয়েও বেশি শক্তিশালী!❠

রিভান মুহূর্তের মধ্যে সিংহাসন থেকে উঠে দিলরুবার সামনে এসে তার গলা টিপে ধরল। এবার তার শক্তি ছিল দানবীয়। সে দিলরুবাকে শূন্যে তুলে ধরল এবং পেছনের পাথরের দেয়ালের সাথে আছড়ে মারল।

❝শক্তির দম্ভ দেখিও না, ছোট্ট মানবী!❠ রিভানের কণ্ঠস্বর এখন বজ্রের মতো। সে দিলরুবার গলার ওপর তার হাতটা আরও জোরে চেপে ধরল।

❝তুমি কেবল একটা ক্ষমতা অর্জন করেছ, কিন্তু আমি সেই ক্ষমতার অধিকারী। তুমি আমার অবাধ্য হওয়ার সাহস কোরো না।❠

রিভান তার অন্য হাত দিয়ে দিলরুবার গালের ওপর একটা গভীর আঁচড় কেটে দিল।

❝তোমার এই রক্ত যতবার ঝরবে, ততবার আমি তোমাকে মনে করিয়ে দেব যে তুমি আমার সম্পত্তি। আমার এই রাজত্বে দয়া বলে কিছু নেই। যাও, গিয়ে নিজের ক্ষত সারাও। কাল আমরা দেখব তোমার এই নীল আগুন আমার তরবারির সামনে কতক্ষণ টিকে থাকে।❠

রিভান তাকে মেঝের ওপর অবজ্ঞার সাথে ছুঁড়ে ফেলে দিল এবং নিজের আলখাল্লাটা ঝেড়ে জানালার দিকে চলে গেল। দিলরুবা মেঝেতে পড়ে হাঁপাতে লাগল। সে ঘৃণাভরে রিভানের পিঠের দিকে তাকাল। সে বুঝতে পারল, রিভান তাকে কেবল শক্তিশালী করছে না, সে তাকে ঘৃণা করতে শেখাচ্ছে—যাতে সে একদিন রিভানকেও ধ্বংস করতে পারে।

অন্ধকারের ভেতর রিভানের চোখ দুটো তখন লালচে আভা ছড়াচ্ছিল। সে জানত, দিলরুবাকে সে যতটা আঘাত করছে, তার চেয়ে বেশি রক্তক্ষরণ হচ্ছে তার নিজের প্রাচীন হৃদপিণ্ডে। কিন্তু এই খেলা শুরু হয়ে গেছে, আর এর শেষ হবে রক্ত আর আগুনের এক মহাপ্রলয়ে।

ᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔ

রিভানের সেই পাশবিক আচরণ আর দম্ভ দিলরুবার সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেল। মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থায় সে যখন রিভানের সেই অবজ্ঞাপূর্ণ পিঠের দিকে তাকাল, তার ভেতরের সমস্ত ভয় এক প্রচণ্ড ঘৃণায় রূপান্তরিত হলো। সে বুঝতে পারল, এই ক্যাসেল কোনো স্বর্গ নয়—এটি একটি সুসজ্জিত কসাইখানা, আর রিভান তার পরমাত্মীয় কেউ নয়, বরং এক নিষ্ঠুর জল্লাদ।

সিংহাসন কক্ষের ভারী স্তব্ধতাকে চূর্ণ করে দিলরুবা উঠে দাঁড়াল। তার চোখে তখন আর পানি নেই, আছে কেবল প্রতিশোধের লেলিহান শিখা। রিভান তখনো জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল, যেন দিলরুবার অস্তিত্ব তার কাছে তুচ্ছ। দিলরুবা তার শরীরের অবশিষ্ট নীল আগুনকে সংহত করল। সে সরাসরি আক্রমণের ঝুঁকি নিল না, বরং তার 'Bloodtouch' ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজের পায়ের শব্দকে বাতাসের শব্দের সাথে মিশিয়ে দিল।

সে যখন ক্যাসেলের বিশাল বারান্দা দিয়ে ছুটছিল, প্রতিটি রক্তাক্ত গোলাপ যেন তাকে বাধা দেওয়ার জন্য লতা বাড়িয়ে দিচ্ছিল। কিন্তু দিলরুবার ভেতরের নীল রক্ত এখন বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। সে হাত দিয়ে লতাগুলো সরিয়ে দিল, আর তার ছোঁয়ায় সেই গোলাপগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যেতে লাগল।

❝আমি তোমার বন্দি হয়ে থাকব না, ক্রিমসন প্রিন্স!❠

সে দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করল।

সে ক্যাসেলের উঁচু প্রাচীর থেকে নিচে ঝাঁপ দিল। সাধারণ মানুষের হাড়গোড় চূর্ণ হয়ে যেত, কিন্তু দিলরুবা যখন মাটিতে পা রাখল, তার চারপাশের মাটি নীলচে আভায় কেঁপে উঠল। সে পাগলের মতো বনের ভেতর দিয়ে দৌড়াতে শুরু করল। ডালপালা তার মুখ আঁচড়ে দিচ্ছে, পায়ের নিচে কাঁটা ফুটছে, কিন্তু সে থামল না। তার মাথায় কেবল একটিই চিন্তা—নিজের বাড়ি, নিজের ঘর। যেখানে অন্তত সে মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিল।

ভোরের আলো তখনো ফুটেনি, মিস্টহ্যাভেন শহরটা কুয়াশার এক চাদরে ঢাকা। দিলরুবা যখন নিজের চেনা কটেজের সামনে এসে পৌঁছাল, দেখল দরজাটা আধখোলা। তার বুক ধড়ফড় করতে শুরু করল।

❝মাম্মি? মাম্মি?❠

সে চিৎকার করে ঘরে ঢুকল।

ঘরটা তছনছ হয়ে আছে। আসবাবপত্র ভাঙা, দেওয়ালে রক্তের দাগ। কিন্তু সেই রক্ত লাল নয়—ওটা কালচে পচা রক্তের মতো, যা এড্রিয়ানের পিশাচদের কথা মনে করিয়ে দেয়। দিলরুবা সোফার পাশে দেখল তার মায়ের সেই প্রিয় সেলাইয়ের ফ্রেমটা পড়ে আছে, যেটা এখন দুই টুকরো।

সে বিধ্বস্ত হয়ে মেঝেতে বসে পড়ল। রিভানের হাত থেকে বাঁচতে সে নিজের ঘরে ফিরে এসেছে, কিন্তু এখানে মৃত্যু আগে থেকেই তার জন্য অপেক্ষা করছিল। ঠিক তখন ঘরের অন্ধকার কোণ থেকে একটা খসখসে শব্দ এল।

দিলরুবা তার সেই নীল আগুনের মুষ্টি তৈরি করল।

❝সামনে এসো! কে আছো ওখানে?❠

ছায়া থেকে বেরিয়ে এল ডক্টর এড্রিয়ান। তার পরনে এবার সেই হসপিটালের সাদা কোট, কিন্তু সেটা এখন রক্তে ভেজা। তার হাতে একটি ছোট শিশি, যাতে আধ ফোঁটা নীল রক্ত টলমল করছে—দিলরুবার রক্ত।

❝স্বাগত জানাই, ডক্টর হানিফ❠

এড্রিয়ান এক বীভৎস হাসি দিল।

❝রিভানের খাঁচা থেকে পালিয়ে নিজের কবরে ফিরে এলে তবে? তোমার মা-কে আমি নিয়ে গেছি। যদি তাকে জীবিত দেখতে চাও, তবে ওই পিউর ব্লাড নিয়ে আমার কাছে আত্মসমর্পণ করো। রিভান তোমাকে শুধু কষ্ট দিতে জানে, কিন্তু আমি জানি কীভাবে তোমাকে ব্যবহার করে এই পৃথিবীকে নরক বানাতে হয়।❠

দিলরুবা বুঝতে পারল সে এক গভীর ফাঁদে পা দিয়েছে। একদিকে রিভানের সেই পৈশাচিক আভিজাত্য আর অন্যদিকে এড্রিয়ানের এই ঘৃণ্য চক্রান্ত। সে একা, নিঃস্ব এবং মিস্টহ্যাভেনের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত শিকার।

তার বাড়ির জানালার কাঁচগুলো হঠাৎ ঝনঝন শব্দে ভেঙে পড়ল। বাইরে থেকে ভেসে এল সেই অতিপ্রাকৃত নেকড়েদের ডাক। তবে এবার তারা রিভানের পোষা নেকড়ে নয়, এগুলো এড্রিয়ানের জাদুবলে তৈরি করা নরকের প্রহরী।

দিলরুবা তার পকেট থেকে সেই বাবার দেওয়া লকেটটা আবার হাতে নিল, যা সে কুড়িয়ে এনেছিল। সে বুঝতে পারল, পালানোর আর কোনো পথ নেই। তাকে এখন হয় রিভানের দাসত্ব স্বীকার করতে হবে, নয়তো এড্রিয়ানের বিষাক্ত সাম্রাজ্যের বলি হতে হবে। কিন্তু তার নীল চোখের সেই লাল বিন্দুটি এখন টগবগ করে ফুটছে—সে হয়তো অন্য কোনো পথ বেছে নেবে, যা কেউ কল্পনাও করেনি।

ঘরের বিধ্বস্ত অবস্থা আর এড্রিয়ানের সেই বীভৎস হাসি দিলরুবার রক্ত হিম করে দিল। সে টলতে টলতে শোবার ঘরের দিকে এগোলো। দরজার সামনে পৌঁছাতেই তার পায়ের তলার মাটি যেন সরে গেল।

মায়ের নিথর শরীরের পাশে দিলরুবা যখন উঠে দাঁড়াল, তার ভেতরে আর কোনো মানুষের হাহাকার অবশিষ্ট নেই। এড্রিয়ান তাকে নিঃস্ব করেছে ঠিকই, কিন্তু সে আসলে এক ভয়ঙ্কর দানবকে জাগিয়ে দিয়েছে। দিলরুবা তার মায়ের গলার রূপোর চেনটা মুঠো করে ধরল—ধাতুটি তার নীল রক্তের ছোঁয়ায় মুহূর্তের মধ্যে তপ্ত হয়ে উঠল।

সে বাড়ির পেছনের গ্যারেজে গিয়ে তার কালো স্পোর্টস কারটার ইঞ্জিন স্টার্ট দিল। ইঞ্জিনের গর্জন যেন তার ভেতরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের প্রতিধ্বনি। সে জানে, এই মিস্টহ্যাভেনে এখন প্রতিটা মোড়ে এড্রিয়ানের পিশাচেরা ওত পেতে আছে। আর রিভান? সে তো আকাশ থেকে নজর রাখা সেই বাজপাখি, যে শিকারকে হাতছাড়া হতে দেবে না।

গাড়িটা ঝড়ের গতিতে হাইওয়ে দিয়ে ছুটছে। হেডলাইটের আলোয় কুয়াশা চিরে যাচ্ছে। দিলরুবা আয়নায় নিজের চোখের দিকে তাকাল—নীল মণির মাঝখানের সেই লাল বিন্দুটি এখন টকটকে আগুনের মতো জ্বলছে। সে আর সাধারণ কোনো ডক্টর নয়; সে এখন এক 'আউটল', যার পিছু নিয়েছে দুই জগতের দুই ক্ষমতাশালী শয়তান।

হঠাৎ গাড়ির রিয়ার-ভিউ মিররে সে একটা কালো ছায়া দেখতে পেল। কোনো বাহন নয়, স্রেফ একটা কালো অবয়ব বাতাসের চেয়েও দ্রুতগতিতে তার গাড়ির সমান্তরালে উড়ছে। রিভান! সে এত সহজে তার 'সম্পত্তি'কে সীমানা পার হতে দেবে না।

❝তুমি পালাচ্ছ কেন, দিলরুবা?❠

রিভানের সেই গম্ভীর কণ্ঠস্বর এবার সরাসরি গাড়ির ভেতর প্রতিধ্বনিত হলো, যদিও সে বাইরে।

❝অন্ধকার থেকে পালিয়ে তুমি যাবে কোথায়? তুমি যেখানেই পা রাখবে, তোমার পায়ের নিচে মাটি রক্ত হয়ে যাবে।❠

দিলরুবা স্টিয়ারিং শক্ত করে ধরল।

❝আপনার ওই বন্দিশালায় ফেরার চেয়ে মৃত্যু ভালো, এ্যারোন! আমি আপনাদের কারোরই ক্রীড়নক হব না।❠

সে এক্সিলারেটরে চাপ দিল। গাড়িটা মিস্টহ্যাভেনের সীমানা পার হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে এক প্রচণ্ড ঝটকা খেল। একটা অদৃশ্য শক্তি গাড়ির চাকাগুলো মাটির সাথে জমিয়ে দিল। টায়ার পোড়ার গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে উঠল। রিভান রাস্তার ঠিক মাঝখানে এসে দাঁড়িয়েছে। তার ডানা দুটো মেলা, চোখ দুটো আগুনের মতো লাল। সে একাই এক বিশাল প্রাচীর।

দিলরুবা গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়াল। তার হাতে সেই প্রাচীন খঞ্জর, যা এখন নীল বিদ্যুতে কাঁপছে।

❝সরে দাঁড়াও আমার পথ থেকে!❠ দিলরুবা চিৎকার করে উঠল।

রিভান এক নিমেষে তার সামনে চলে এল। সে দিলরুবার গলার কাছে ঝুঁকে এসে তার সেই শীতল নিশ্বাস ফেলল।

❝তুমি যাবে, কিন্তু একা নয়। আমি তোমাকে যেতে দিচ্ছি কারণ আমি চাই তুমি দেখো এই পৃথিবীটা কতটা নিষ্ঠুর। এড্রিয়ান তোমাকে যেখানেই খুঁজুক, সে আমার ছায়াকে অতিক্রম করতে পারবে না।❠

রিভান দিলরুবার ডান হাতে তার তর্জনী দিয়ে একটা রক্তিম চিহ্ন এঁকে দিল।

❝এই চিহ্ন তোমাকে আমার সাথে জুড়ে রাখবে। যেদিন তুমি ক্লান্ত হয়ে পড়বে, যেদিন তোমার রক্তের তৃষ্ণা তোমার মানুষের বিবেককে গ্রাস করবে—সেদিন তুমি নিজে থেকেই আমার কাছে ফিরে আসবে। যাও, নতুন শহরে গিয়ে তোমার ধ্বংসের লীলা শুরু করো।❠

রিভান কুয়াশার ভেতর মিলিয়ে গেল। দিলরুবা আর দেরি করল না। সে গাড়ি নিয়ে মিস্টহ্যাভেনের সীমানা পেরিয়ে প্রবেশ করল এক আধুনিক মেগাসিটিতে—যেখানে হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে সে নিজেকে লুকিয়ে ফেলতে পারবে। কিন্তু সে জানে না, তার এই নীল রক্ত শহরের নর্দমায় মিশে গেলে সেখান থেকেও নতুন কোনো বিভীষিকা জন্ম নেবে।

✤ᚔᚓᚔᚓ✤✥

চলবে—?.?..

✤ᚔᚓᚔᚓ✤✥

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন