᪥🩸#𝑩𝒍𝒐𝒐𝒅𝒕𝒐𝒖𝒄𝒉🩸᪥
#𝗪𝗿𝗶𝘁𝗲𝗿_𝗠𝗮𝗿𝗶𝗮𝗺_𝗛𝗼𝘀𝘀𝗮𝗶𝗻
#𝐏𝐚𝐫𝐭⦄• 𝟏6
✿❃ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❉ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❃✿
🚫⛔নাম ও হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।⛔🚫
✿❃ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❉ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❃✿
রিভানের সেই গভীর স্বীকারোক্তি আর তার সাম্রাজ্যের আসল উদ্দেশ্য জানার পর দিলরুবার মনের মেঘ অনেকটাই কেটে গেল। সে বুঝতে পারল, রিভানের এই বিশাল ‘ক্রিমসন পাওয়ার ইন্ডাস্ট্রি’ আসলে এক আধুনিক দুর্গ, যা সে গড়েছে কেবল দিলরুবার পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। রিভানের ভালোবাসা যেমন ভয়ংকর, তার ত্যাগের গভীরতাও তেমনই অগাধ।
পরদিন সকালে রিভান দিলরুবাকে নিয়ে গেল CPI-এর সেই গোপন ল্যাবে, যেটির কথা আরিয়ান তাকে অর্ধেক বলেছিল। তবে আজ কোনো বডিগার্ড বা জোরজবরদস্তি নয়, রিভান নিজে দিলরুবাকে তার এই অন্ধকার সাম্রাজ্যের অন্দরমহল দেখাতে নিয়ে এসেছে।
ল্যাবটি ছিল মাটির অনেক নিচে, আধুনিক প্রযুক্তিতে ঠাসা। সেখানে সাদা ল্যাব কোট পরা বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন। রিভান যখন দিলরুবাকে নিয়ে ভেতরে ঢুকল, সবাই মাথা নত করে সম্মান জানাল। রিভান দিলরুবাকে একটি বড় কাঁচের চেম্বারের সামনে নিয়ে গেল। ভেতরে এক ধরণের রুপোলি তরল তৈরি হচ্ছে।
❝এটিই সেই প্রজেক্ট, দিল।❠
রিভান তার গম্ভীর স্বরে বলল।
❝এটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করালে তাদের রক্ত পিশাচদের জন্য বিস্বাদ হয়ে যাবে। আমি চাই না আমার জাতির কেউ আর কোনো মানুষের দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকাক। আমি চাই তুমি এই প্রজেক্টের প্রধান হও। ডক্টর দিলরুবা ক্রিমসন হিসেবে তুমি মানবজাতিকে রক্ষা করবে, আর আমি থাকব তোমার ছায়া হয়ে।❠
দিলরুবা অবাক হয়ে রিভানের দিকে তাকাল। যে মানুষটাকে সে নিষ্ঠুর ভেবেছিল, সে আসলে পর্দার আড়াল থেকে এক নতুন পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন দেখছে—যেখানে সে নিজে অভুক্ত থাকবে, তবুও দিলরুবার জাতের ক্ষতি হতে দেবে না।
সেদিন সন্ধ্যায় তারা যখন পেন্টহাউসে ফিরল, রিভানের মধ্যে এক ধরণের প্রশান্তি দেখা গেল। সে দিলরুবাকে ল্যাবের দায়িত্ব দিয়ে তার ওপর এক বিশাল ভরসা রেখেছে। রিভান দিলরুবাকে ড্রয়িংরুমের সেই বিশাল সোফায় বসিয়ে তার পায়ের জুতো জোড়া খুলে দিল। এক প্রতাপশালী সম্রাট আজ তার স্ত্রীর চরণে সমর্পিত।
রিভান দিলরুবার পায়ের পাতায় নিজের ঠোঁট ছোঁয়াল।
❝আজ থেকে তুমি কেবল আমার স্ত্রী নও, তুমি আমার অর্ধেক সাম্রাজ্যের মালিক।❠
রিভান ধীরে ধীরে ওপরের দিকে উঠে এল। সে দিলরুবার সিল্কের নাইটগাউনটা কাঁধ থেকে নামিয়ে দিল। জানালার বাইরে মেগাসিটির আলোকসজ্জা আজ তাদের মিলনের সাক্ষী। রিভান দিলরুবাকে সোফার ওপরই শুইয়ে দিল। তার স্পর্শে আজ কোনো প্রতিহিংসা ছিল না, ছিল এক নিবিড় আর তৃষ্ণার্ত ভালোবাসা।
রিভান দিলরুবার নগ্ন পেটের ওপর নিজের মুখ রেখে এক প্রগাঢ় চুম্বন আঁকল। তার হাতের আঙুলগুলো দিলরুবার উরুর খাঁজে বিচরণ করছিল এক অভিজ্ঞ প্রেমিকের মতো। দিলরুবা অনুভব করল রিভানের সেই পাথুরে বুকের উষ্ণতা। রিভান যখন চূড়ান্তভাবে দিলরুবার সাথে মিলিত হলো, সে তার চোখের দিকে তাকিয়ে ছিল। সেই চাহনিতে ছিল এক আদিম অধিকারবোধ—যেন সে দিলরুবার শরীরের প্রতিটি রক্তবিন্দুর সাথে নিজের নাম মিশিয়ে দিতে চায়। রিভানের বন্য গতির সাথে তাল মিলিয়ে দিলরুবাও আজ নিজেকে পুরোপুরি বিলিয়ে দিল। তার আর্তনাদ আর রিভানের তৃপ্ত গোঙানি মিলেমিশে সেই বিশাল পেন্টহাউসে এক নিষিদ্ধ সুর তৈরি করল।
মিলনের পর রিভান যখন দিলরুবাকে নিজের বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে, তখন ল্যাবের সিকিউরিটি অ্যালার্ম মৃদুভাবে বেজে উঠল রিভানের হাতে থাকা ঘড়িতে। রিভান উঠে বসল। তার চোখে আবার সেই শিকারি ভাব।
❝কী হয়েছে এ্যারোন.?.?...❠
দিলরুবা আধোঘুমে প্রশ্ন করল।
❝কিছু না, তুমি ঘুমাও আমার দিল।❠
রিভান তার কপালে চুমু খেয়ে বলল।
❝কিছু ইঁদুর বোধহয় আবার গর্ত থেকে বেরোনোর চেষ্টা করছে।❠
আসলে এড্রিয়ান পালিয়ে গেলেও সে একা নয়। সে শহরের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর সাথে হাত মিলিয়েছে যারা রিভানের এই CPI সাম্রাজ্য দখল করতে চায়। তারা ল্যাবে হামলা করার ছক কষছে যাতে সেই ভ্যাকসিনটা চুরি করে তারা ব্ল্যাক মার্কেটে চড়া দামে বিক্রি করতে পারে।
রিভান ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। তার হাতে এখন একটি কালো পিস্তল, যাতে রুপোলি গুলি ভরা। সে বিড়বিড় করে বলল,
❝যারা আমার স্ত্রীর স্বপ্ন নিয়ে খেলা করবে, তাদের জন্য আমার নরকেও জায়গা হবে না।❠
ᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔ
রিভানের চোখের সেই চিরচেনা আগ্নেয়গিরি আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সে যখন ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল, দিলরুবা তার পিছু নিল। সে জানে রিভান তাকে আড়াল করতে চায়, কিন্তু এই যুদ্ধের অংশ এখন সে নিজেও। পেন্টহাউসের নিচে রাখা কালো ল্যাম্বরগিনিতে চড়ে রিভান যখন হাই স্পিডে ল্যাবের দিকে ছুটছে, তার চোয়াল শক্ত হয়ে আছে। আজ রাতে কেউ একজন সীমা লঙ্ঘন করেছে, আর রিভানের সাম্রাজ্যে এর শাস্তি কেবল মৃত্যু।
ল্যাবের সামনে পৌঁছাতেই দেখা গেল এক ভয়াবহ দৃশ্য। এড্রিয়ানের পাঠানো ভাড়াটে বাহিনী ল্যাবের প্রধান ফটক উড়িয়ে দিয়েছে। চারদিকে ধোঁয়া আর আগুনের লেলিহান শিখা। রিভান গাড়ি থেকে নেমেই এক অলৌকিক গতিতে অন্ধকারের সাথে মিশে গেল। দিলরুবা গাড়ি থেকে নেমে দেখল, রিভান যেন কোনো কালান্তক যমরাজ হয়ে উঠেছে। সে অস্ত্রের বদলে নিজের খালি হাত ব্যবহার করছে—কারো ঘাড় মটকে দিচ্ছে, কারো বুক চিরে হৃদপিণ্ড বের করে আনছে। তার প্রতিটি নড়াচড়া এত দ্রুত যে সাধারণ মানুষের চোখে তা কেবল এক কালো ছায়া।
❝এ্যারোন, থামো! এভাবে মেরো না!❠ দিলরুবা চিৎকার করে উঠল, কিন্তু তার কণ্ঠস্বর রিভানের সেই যুদ্ধের উন্মাদনায় হারিয়ে গেল।
রিভান যখন শেষ শত্রুটিকে মেঝের ওপর আছড়ে ফেলল, তখন তার সারা শরীর রক্তে ভিজে গেছে। সে ধীরপায়ে দিলরুবার দিকে এগিয়ে এল। তার চোখের লাল আভা এখন পুরো ল্যাবকে আলোকিত করছে। রিভান দিলরুবার সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসল, যেন সে এক রক্তাক্ত প্রহরী যে তার মালকিনের কাছে ক্ষমা চাইছে।
❝আমি বলেছিলাম না আমার দিল, যারা তোমার স্বপ্নে হাত দেবে, তাদের আমি নরকেও ঠাঁই দেব না।❠
রিভান হাঁপাতে হাঁপাতে বলল। তার হাত থেকে টপ টপ করে রক্ত পড়ছে।
ল্যাবের ভেতরেই রিভানের ব্যক্তিগত যে চেম্বার ছিল, সেখানে সে দিলরুবাকে নিয়ে এল। চারদিকে কাঁচের দেয়ালের ওপাশে আগুনের শিখা জ্বলছে, আর ভেতরে এক আদিম উত্তাপ। রিভান দিলরুবাকে এক ঝটকায় সেই স্টিলের টেবিলের ওপর বসিয়ে দিল। তার রক্তাক্ত হাত দিলরুবার শ্বেতশুভ্র গালে এক লালচে আভা তৈরি করল।
❝ আমার দিল,তুমি আমাকে ভয় পাচ্ছ?.?..❠
রিভান ফিসফিস করে বলল। তার কণ্ঠস্বর এখন এক অদ্ভুত যৌনতায় ভরা।
দিলরুবা কিছু বলতে পারল না, রিভানের এই হিংস্র রূপ তাকে একদিকে যেমন আতঙ্কিত করে, অন্যদিকে এক পৈশাচিক আকর্ষণে আচ্ছন্ন করে ফেলে। রিভান দিলরুবার ওপর ঝুঁকে পড়ল। সে তার রক্তাক্ত শার্টটা ছিঁড়ে ফেলে দিলরুবার নগ্ন কাঁধের ওপর নিজের মুখ ডুবিয়ে দিল। তার শীতল ঠোঁট আর উত্তপ্ত নিঃশ্বাসের দ্বন্দ্বে দিলরুবা কেঁপে উঠল।
রিভান দিলরুবার ড্রেসের সামনের অংশটা এক টানে ছিঁড়ে ফেলল। আগুনের সেই ম্লান আলোয় দিলরুবার স্তনযুগল যেন এক নিষিদ্ধ ফল, যা রিভানের শতাব্দীর তৃষ্ণা মিটিয়ে দিতে পারে। রিভান তার আঙুলগুলো দিলরুবার উরুর গভীরে এমনভাবে প্রবেশ করাল যে দিলরুবা যন্ত্রণায় আর এক চরম সুখে টেবিলটা খামচে ধরল। রিভান যখন চূড়ান্তভাবে দিলরুবার ভেতরে নিজেকে সমর্পণ করল, তখন ল্যাবের সেই শান্ত পরিবেশ তাদের দুজনের মিলিত চিৎকারে প্রকম্পিত হয়ে উঠল। রিভানের গতি আজ ছিল প্রতিশোধের মতো তীব্র—সে প্রতিটি ধাক্কায় দিলরুবাকে বুঝিয়ে দিচ্ছিল যে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেলেও সে কেবল রিভানেরই থাকবে।
দিলরুবা রিভানের পিঠের চামড়া নিজের নখ দিয়ে চিরে ফেলল। তাদের এই মিলন আজ আর কেবল ভালোবাসা ছিল না; এটি ছিল রক্তের সাথে রক্তের, অন্ধকারের সাথে আলোর এক চূড়ান্ত সন্ধি। রিভান দিলরুবার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল—
❝তোমার এই শরীরই আমার একমাত্র ঠিকানা, আর এই রক্তই আমার একমাত্র ধর্ম। আজ থেকে ‘ক্রিমসন পাওয়ার’ কেবল আমার নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ সন্তানের জন্য এক সুরক্ষিত দুর্গ হয়ে থাকবে।❠
মিলনের পর রিভান যখন দিলরুবাকে নিজের বড় কোটটা দিয়ে ঢেকে দিল, দিলরুবা অনুভব করল তার ভেতরে এক অদ্ভুত পরিবর্তন। সে রিভানের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
❝রিভান, এই যুদ্ধের শেষ কোথায়?.?.. আমি চাই না ভবিষ্যতে আমাদের অনাগত সন্তান এই রক্তের সাগরে বড় হোক।❠
রিভান স্তব্ধ হয়ে গেল। সে দিলরুবার পেটের ওপর কান রাখল। তার অতিপ্রাকৃত ইন্দ্রিয় দিয়ে সে বুঝতে পারল—দিলরুবার ভেতরে এক নতুন প্রাণের স্পন্দন তৈরি হয়েছে। একটি হাইব্রিড সন্তান—যার অর্ধেক মানুষ আর অর্ধেক ভ্যাম্পায়ার।
রিভানের চোখে প্রথমবারের মতো জল এল। সে এক বিশাল অট্টহাসি দিয়ে দিলরুবাকে জড়িয়ে ধরল।
❝তাহলে এড্রিয়ানের মৃত্যু আজ রাতেই হতে হবে। আমার সন্তান কোনো শত্রুর ছায়ায় জন্ম নেবে না।❠
রিভান তার সি.পি.আই (CPI) এর সিকিউরিটি টিমকে অর্ডার দিল পুরো শহর লকডাউন করে দিতে। সে এড্রিয়ানের লুকানোর জায়গা খুঁজে পেয়েছে। এটি শহরের পুরনো সেই চার্চ, যেখানে তাদের বিয়ে হয়েছিল। এড্রিয়ান সেখানে এক মারণাস্ত্র তৈরি করেছে যা রিভানের পুরো বাহিনীকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
রিভান দিলরুবার কপালে এক দীর্ঘ চুম্বন এঁকে দিল।
❝তুমি এখানে থাকো। আজ রাতে আমি এক পিশাচের মতো নয়, এক বাবার মতো লড়ব। আর কাল সকালে সূর্য উঠলে তুমি দেখবে এক নতুন মেগাসিটি—যেখানে কোনো ভয় থাকবে না।❠
ᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔ
রিভানের সেই চেম্বারে যখন আগুনের শিখাগুলো ম্লান হয়ে আসছিল, তখন তার চোখের দৃষ্টিতে এক নতুন উন্মাদনা খেলে গেল। দিলরুবার পেটে কান রেখে রিভান যে প্রাণের স্পন্দন অনুভব করেছে, তা তার শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা একাকীত্বের অবসান। সে বুঝতে পারল, এই সন্তান কেবল এক উত্তরাধিকার নয়, এটি হলো এক নতুন প্রজাতির জন্ম—যার মধ্যে থাকবে মানুষের পবিত্রতা আর ভ্যাম্পায়ারের অপরাজেয় শক্তি।
রিভান দিলরুবাকে তার চওড়া বাহুবন্ধনে জড়িয়ে ধরল। তার স্পর্শে আজ এক অদ্ভুত আর্দ্রতা। সে দিলরুবার কপালে নিজের ঠোঁট ঠেকিয়ে শান্ত স্বরে বলল,
❝তুমি জানো না আমার দিল, এই সন্তান আমার জন্য কী। আমার রাজত্বের প্রতিটি ইটের বিনিময়েও আমি এই ছোট জীবনটাকে রক্ষা করব। এড্রিয়ান আজ রাতে ভুল করেছে আমার ল্যাবে হাত দিয়ে, কিন্তু সে যদি জানতে পারে তোমার ভেতরে আমার রক্ত বেড়ে উঠছে, তবে সে পুরো পৃথিবী নরকে পরিণত করতে চাইবে।❠
দিলরুবা রিভানের শার্টের কলার খামচে ধরল। তার চোখে ভয় আর ভালোবাসার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ।
❝রিভান, যে চার্চে আমাদের বিয়ে হয়েছিল, সেখানে এড্রিয়ান কী করছে? তুমি কেন একা যাচ্ছ?.?..❠
❝কারণ এটি আমাদের পারিবারিক লড়াই, দিলরুবা। এড্রিয়ান চায় আমার এই 'ক্রিমসন পাওয়ার' কেড়ে নিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে। কিন্তু সে জানে না, রিভান ক্রিমসন তার ভালোবাসার জন্য শয়তানের সাথেও সন্ধি করতে পারে।❠
রিভান যাওয়ার আগে দিলরুবাকে আরও একবার নিজের করে পেতে চাইল। সে জানে এই যুদ্ধ তার জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে পারে। সে দিলরুবাকে সেই ল্যাবের সোফায় আধশোয়া করে দিয়ে তার ওপরে ঝুঁকে পড়ল। তার আঙুলগুলো দিলরুবার পেটের ওপর দিয়ে এমনভাবে বিচরণ করছিল যেন সে তার অনাগত সন্তানকে স্পর্শ করতে চাইছে।
রিভান দিলরুবার ঘাড়ের সেই রক্তিম দংশনের চিহ্নের ওপর মুখ ডুবিয়ে দিল। তার জিবের উষ্ণ ছোঁয়ায় দিলরুবা এক তীব্র শিহরণ অনুভব করল। রিভানের হাত এখন দিলরুবার উরুর ভেতরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে তার প্রতিটি ছোঁয়ায় এক নেশাতুর যন্ত্রণা ছড়িয়ে পড়ছে।
❝আজ রাতে আমাকে তোমার প্রতিটি কোষ দিয়ে অনুভব করো, দিল!...❠
রিভান ফিসফিস করে বলল। সে তার নিজের ঠোঁট দিয়ে দিলরুবার চোখের জলটুকু মুছে নিল।
রিভান যখন চূড়ান্তভাবে দিলরুবার সাথে মিলিত হলো, তখন তার প্রতিটি ধাক্কায় ছিল এক আদিম সুরক্ষাবোধ। সে কোনো তাড়াহুড়ো করল না, বরং প্রতিটি মুহূর্তকে এক দীর্ঘস্থায়ী উৎসবে পরিণত করল। দিলরুবা অনুভব করল রিভানের সেই পাথুরে বুকের কাঠিন্য আর তার নিশ্বাসের তপ্ত লহর। এই মিলন আজ আর লালসা ছিল না; এটি ছিল এক নতুন জীবনের আবাহন। রিভান দিলরুবার ঠোঁটে এমন এক সর্বগ্রাসী চুম্বন দিল যে দিলরুবার মনে হলো তার শরীরের প্রতিটি রক্তবিন্দু এখন রিভানের নামের জয়গান গাইছে।
মিলন শেষে রিভান তার কালো লং-কোটটা পরে নিল। তার কোমরে খাপবদ্ধ সেই প্রাচীন রুপোলি তরবারি, যা কেবল রাজকীয় ভ্যাম্পায়ারেরাই ব্যবহার করতে পারে। সে ল্যাবের সিকিউরিটি লক চেক করে দিলরুবাকে এক হাজার গার্ডের পাহারায় রেখে বেরিয়ে গেল।
❝আমি ফিরে আসব দিলরুবা। কাল সকালে সূর্য যখন এই শহরের ওপর নামবে, তখন তুমি এক নতুন রাজত্বের অধিপতি হবে।❠
রিভান গাড়িতে ওঠার আগে শেষবারের মতো ফিরে তাকিয়ে বলল।
শহরের সেই পরিত্যক্ত গির্জাটি এখন এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এড্রিয়ান সেখানে এক বিশাল জাদুকরী বৃত্ত তৈরি করেছে। সে জানত রিভান আসবেই। এড্রিয়ানের পাশে দাঁড়িয়ে আছে তার গোপন বাহিনী—যাদেরকে সে বিশেষ এক ড্রাগ দিয়ে ‘সুপার ভ্যাম্পায়ার’ বানিয়ে ফেলেছে।
রিভান যখন গির্জার দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকল, তখন চারদিকে এক ভৌতিক নিস্তব্ধতা। এড্রিয়ান বেদীর ওপর বসে হাসছে।
❝স্বাগতম, প্রিয় ভাই রিভান❠
এড্রিয়ান ব্যঙ্গাত্মক স্বরে বলল।
❝আমি শুনেছি ডক্টর দিলরুবা এখন কেবল তোমার স্ত্রী নয়, সে তোমার এক অদ্ভুত সংকর সন্তানের মা হতে চলেছে। কী করুণ ব্যাপার, না? এক রাজকীয় রক্ত এখন মানুষের নোংরা গর্ভে বেড়ে উঠছে!❠
রিভানের চোখের লাল আভা এখন পুরো গির্জাকে রক্তিম করে তুলল। সে এক সেকেন্ডের জন্য স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল, তারপর এক অমানুষিক গর্জন দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল এড্রিয়ানের বাহিনীর ওপর।
রিভান আজ কোনো দয়া দেখাচ্ছে না। সে তার তরবারির এক কোপে তিনজনের মাথা দেহচ্যুত করে দিল। তার প্রতিটি নড়াচড়া যেন মৃত্যুর এক ছান্দিক নৃত্য। এড্রিয়ান তার জাদুকরী অস্ত্র দিয়ে রিভানের দিকে কালো আগুনের গোলা ছুড়ল, কিন্তু রিভান তার জাদুবলে সেই আগুনকে নিজের শরীরে শুষে নিল।
❝তুই আমার পরিবারকে ছুঁতে চেয়েছিস এড্রিয়ান। আজ আমি তোর অস্তিত্ব এই মহাবিশ্ব থেকে মুছে দেব।❠
রিভান এড্রিয়ানের গলা চেপে ধরে তাকে দেওয়ালের সাথে বিদ্ধ করল।
কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে গির্জার বাইরে এক বিশাল বিস্ফোরণ হলো। দিলরুবা যে ল্যাবে ছিল, সেখানকার সিসিটিভি স্ক্রিনে রিভান দেখল—ল্যাবের গেট ভেঙে কেউ ভেতরে ঢুকেছে। এড্রিয়ান এটা জানত। সে একাই লড়ছে না, তার এক গোপন সঙ্গী ল্যাবে পৌঁছে গেছে দিলরুবাকে অপহরণ করতে।
✤ᚔᚓᚔᚓ✤✥
—চলবে—?.?...
✤ᚔᚓᚔᚓ✤✥