᪥🩸#𝑩𝒍𝒐𝒐𝒅𝒕𝒐𝒖𝒄𝒉🩸᪥
#𝗪𝗿𝗶𝘁𝗲𝗿_𝗠𝗮𝗿𝗶𝗮𝗺_𝗛𝗼𝘀𝘀𝗮𝗶𝗻
#𝐏𝐚𝐫𝐭⦄• 𝟏8
✿❃ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❉ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❃✿
🚫⛔নাম ও হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।⛔🚫
✿❃ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❉ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ❃✿
মেগাসিটির আকাশে সেই রক্তবর্ণের পোর্টালটি একবার শেষবারের মতো কেঁপে উঠে চিরতরে মিলিয়ে গেল। রিভান আর্কানাসে প্রবেশের পর মহাজাগতিক সেই দরজাটি যেন কোনো এক অভিশপ্ত জাদুবলে সিল হয়ে গেছে। রিভান আর ফিরবে না—এই সত্যটা যখন বাতাসের হাহাকারের মতো দিলরুবার কানে পৌঁছাল, তখন পুরো ‘ক্রিমসন পাওয়ার ইন্ডাস্ট্রি’ এক শোকাতুর স্তব্ধতায় ডুবে গেল।
রিভানের চলে যাওয়া মানে কেবল একটি প্রাণের চলে যাওয়া নয়, একটি যুগের অবসান। কিন্তু রিভান ক্রিমসন সাধারণ কেউ ছিল না; সে জানত তার অবর্তমানে কী হতে পারে। তাই সে তার সাম্রাজ্যের প্রতিটি ইটে, প্রতিটি রক্তবিন্দুতে নিজের অস্তিত্ব রেখে গেছে।
পেন্টহাউসের সেই বিশাল কক্ষটি এখন দিলরুবার কাছে এক জীবন্ত সমাধি। প্রতি রাতে সে যখন রিভানের বালিশে মাথা রাখে, তখনো সেখান থেকে রিভানের সেই তীব্র পুরুষালি ঘ্রাণ আর রক্তের মাদকতা ভেসে আসে। রিভান নেই, কিন্তু তার সেই 'ডার্ক অবসেসন' এখনো ঘরের প্রতিটি কোণে ঘুরে বেড়ায়।
দিলরুবা মাঝরাতে জেগে উঠে দেখে রিভানের সেই রাজকীয় ইজিচেয়ারটা খালি। সে নিজের নগ্ন শরীরের ওপর রিভানের ফেলে যাওয়া সেই ব্ল্যাক সিল্কের শার্টটি জড়িয়ে নেয়। শার্টের স্পর্শে সে অনুভব করে রিভানের সেই বলিষ্ঠ হাত দুটো যেন এখনো তার কোমর জড়িয়ে ধরছে। তার শরীরে রিভানের দেওয়া সেই ‘ব্লু এনার্জি’ এখন এক অদ্ভুত অস্থিরতা তৈরি করে। সে রিভানের সেই বিশাল আয়নার সামনে দাঁড়ায়—তার শরীরে রিভানের কামড়ের সেই দাগগুলো এখনো হালকা বেগুনি হয়ে আছে, যেন রিভান দূর থেকেও তাকে নিজের মালিকানায় বেঁধে রেখেছে।
দিলরুবা নিচু স্বরে ফিসফিস করে,
❝তুমি ফেরোনি রিভান, কিন্তু তোমার আসক্তি আমাকে এক মুহূর্তের জন্যও একা হতে দিচ্ছে না।❠
রিভানের নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে মেগাসিটির আন্ডারওয়ার্ল্ড আর ডক্টর আরিয়ানের মতো শুভাকাঙ্ক্ষীরা ভেবেছিল দিলরুবা ভেঙে পড়বে। কিন্তু তারা জানত না, এক ভ্যাম্পায়ার প্রিন্সের সন্তানের মা হওয়া মানে নিজের ভেতরে এক দানবকে লালন করা।
দিলরুবা এখন CPI (Crimson Power Industry)-র পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে। সে রিভানের সেই ল্যাবে দিনরাত কাজ করে 'Project Sanguine' পূর্ণ করল। সে এখন আর কেবল ডাক্তার নয়, সে একাধারে গবেষক আর এক বিশাল কর্পোরেট সাম্রাজ্যের প্রধান। এড্রিয়ান যখন আবার মাথা চাড়া দেওয়ার চেষ্টা করল, দিলরুবা কোনো দয়া দেখাল না। সে রিভানের সেই রোবটিক ড্রোন বাহিনীকে লেলিয়ে দিল।
❝রিভান নেই বলে ভেবো না তার রক্ত শুকিয়ে গেছে।❠
বোর্ড মিটিংয়ে মেগাসিটির বাঘা বাঘা ব্যবসায়ীদের সামনে দাঁড়িয়ে দিলরুবা বলল।
তার চোখের মণি এখন স্থায়ীভাবে ঈষৎ রক্তিম আভা ছড়ায়।
❝আমি ডক্টর দিলরুবা ক্রিমসন, আর এই শহর এখন আমার হুকুমে চলবে।❠
দিলরুবার গর্ভাবস্থার নবম মাস। রিভানের অনুপস্থিতিতে তার একাকীত্ব এখন এক ভয়ংকর শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। ল্যাবের বিশেষ বেডে যখন সে শুয়ে ছিল, হঠাৎ তার সারা শরীরে এক নীল বৈদ্যুতিক তরঙ্গ খেলে গেল। রিভানের সেই ‘ব্লাড-বন্ড’ আজ চরম সীমায় পৌঁছেছে।
হঠাৎ করেই ল্যাবের সমস্ত কম্পিউটার স্ক্রিনে রিভানের সেই লোগো ফুটে উঠল। যদিও রিভান ফেরেনি, কিন্তু তার সংরক্ষিত ‘ডিজিটাল কনশাসনেস’ বা যান্ত্রিক চেতনা কথা বলে উঠল।
❝ভয় পেয়ো না আমার সম্রাজ্ঞী। আমি তোমার পাশেই আছি। আমাদের উত্তরাধিকারের আসার সময় হয়েছে।❠
দিলরুবা যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গেল, কিন্তু তার মুখে ছিল এক পৈশাচিক হাসি। প্রসবের সেই চরম মুহূর্তে সে অনুভব করল রিভানের সেই অদৃশ্য আত্মা তাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে শক্তি দিচ্ছে। রিভান না থাকলেও তার শক্তি দিলরুবার প্রতিটি কোষে প্রবাহিত হচ্ছিল।
ভোর হওয়ার ঠিক আগে, যখন মেগাসিটির আকাশে প্রথম সূর্যের আলো ফুটল, ল্যাবের ভেতরে এক শিশুর কান্নার আওয়াজ শোনা গেল। কিন্তু এ কোনো সাধারণ শিশুর কান্না নয়; এ যেন এক গভীর গর্জন। শিশুটির জন্ম হওয়ার সাথে সাথে ল্যাবের সব কাঁচ চুরমার হয়ে গেল।
দিলরুবা তার সন্তানকে বুকে নিল। শিশুটির ত্বক রিভানের মতো তুষারশুভ্র, আর তার চোখ দুটো ঠিক রিভানের মতোই প্রগাঢ় লাল। শিশুটি জন্মানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার হাত দিয়ে দিলরুবার আঙুল এমনভাবে আঁকড়ে ধরল যে দিলরুবা শিউরে উঠল। এই শিশুটিই হবে পরবর্তী 'ডার্ক লর্ড'।
রিভান ফেরেনি ঠিকই, কিন্তু সে দিলরুবার মাধ্যমে পৃথিবীকে দিয়ে গেল তার সবচেয়ে শক্তিশালী সংস্করণ। দিলরুবা পেন্টহাউসের বারান্দায় দাঁড়িয়ে পুরো শহরের দিকে তাকাল। তার কোলে রিভানের সেই ছোট প্রতিচ্ছবি।
❝শহরবাসী দেখুক❠
দিলরুবা গর্জন করে বলল,
❝রিভান ক্রিমসন মরেনি। সে ফিরে এসেছে তার রক্তে, তার সিংহাসনে।❠
ᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔ
মেগাসিটির আকাশ আজ হঠাৎ করেই তামাটে বর্ণ ধারণ করল। রিভান নেই, কিন্তু তার রেখে যাওয়া সুরক্ষাবলয় ছিঁড়ে ফেলার মতো এক অশুভ শক্তি আর্কানাস থেকে পৃথিবীতে পা রেখেছে। রিভানের সাম্রাজ্য যখন তার উত্তরাধিকারীর আগমনে উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই রাজপ্রাসাদের প্রধান ফটক চুরমার করে ভেতরে ঢুকল ভ্যাম্পায়ার রাজ্যের এক উচ্চপদস্থ দল।
পেন্টহাউসের বিশাল ড্রয়িংরুমে যখন দিলরুবা তার সন্তানকে নিয়ে বসে ছিল, তখন শীতল বাতাসের এক ঝাপটায় সব মোমবাতি নিভে গেল। অন্ধকারের ভেতর থেকে হেঁটে এল এক নারী—তার পরনে রুপোলি বর্ম, চোখে বরফশীতল নীল আভা। তার নাম ইলেক্ট্রা, ভ্যাম্পায়ার কাউন্সিলের প্রধান সেনাপতি এবং রিভানের এককালের বাগদত্তা, যাকে রিভান দিলরুবার জন্য প্রত্যাখ্যান করেছিল।
ইলেক্ট্রার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে একদল কুখ্যাত 'ব্লাড-গার্ডস'। তাদের প্রত্যেকের হাতে প্রাচীন অভিশপ্ত তরবারি।
❝অনেক হয়েছে মানবী।❠
ইলেক্ট্রোার কণ্ঠস্বর যেন তলোয়ারের ধার। সে দিলরুবার দিকে এক ঘৃণার দৃষ্টিতে তাকাল।
❝রিভান আর্কানাসে তার ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করছে। সে আর ফিরবে না। আর তার এই সাম্রাজ্য, এই 'ক্রিমসন পাওয়ার'—সবই এখন আর্কানাসের সম্পত্তি। একজন তুচ্ছ মানুষের এখানে কোনো অধিকার নেই।❠
দিলরুবা উঠে দাঁড়াল, তার বুকে রিভানের সেই ছোট প্রতিচ্ছবি—যাকে সে একটি কালো চাদরে এমনভাবে জড়িয়ে রেখেছে যে বাইরে থেকে কেবল একটি কাপড়ের পুটুলি মনে হচ্ছে। দিলরুবা জানত, যদি তারা জানতে পারে এটি রিভানের হাইব্রিড সন্তান, তবে তারা এখনই একে ছিঁড়ে ফেলবে।
❝তিনি আমাকে এই সাম্রাজ্যের দায়িত্ব দিয়ে গেছেন।❠
দিলরুবা দৃঢ় গলায় বলল।
❝রিভান একজন ভ্যাম্পায়ার প্রিন্স, আমাদের ভবিষ্যৎ সম্রাট হবেন। তাই তার কাছে তোমার মতো মানবীর কোন মূল্য নেই। সে তুমি হতেই পারো পিউর ব্লাড গার্ল।❠
ইলেক্ট্রা অট্টহাসি দিয়ে উঠল।
সে এক ঝটকায় দিলরুবার গলার সেই রুবি লকেটটি ছিঁড়ে নিল।
❝তুমি আজই এই শহর ছাড়বে। এই প্রাসাদ, এই ল্যাব—সব এখন আমাদের। যদি বাঁচতে চাও, তবে তোমার এই নশ্বর প্রাণ নিয়ে এখনই হারিয়ে যাও। নইলে আমার গার্ডরা তোমার রক্ত দিয়ে আজ হোলি খেলবে।❠
ইলেক্ট্রার আদেশে গার্ডরা দিলরুবাকে ধাক্কা দিতে দিতে প্রাসাদের বাইরে বের করে দিল। মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে, যেন আকাশও আজ এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করছে। দিলরুবা তার ভেজা কাপড়ের নিচে সন্তানকে পরম মমতায় আগলে রেখেছে। শিশুটি অদ্ভুতভাবে শান্ত, যেন সে বুঝতে পারছে তার মা এখন মহাবিপদে।
দিলরুবা এক মুহূর্তের জন্য ফিরে তাকাল সেই বিশাল অট্টালিকার দিকে, যেখানে রিভানের সাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত পাথরের গায়ে খোদাই করা আছে। ইলেক্ট্রা বারান্দায় দাঁড়িয়ে হাসছে, তার হাতে এখন রিভানের সেই রাজকীয় পানপাত্র।
❝মনে রেখো তুচ্ছ মানবী দিলরুবা হানিফ❠
ইলেক্ট্রা চিৎকার করে বলল,
❝যদি কোনোদিন ফিরে আসার চেষ্টা করো, তবে তোমার এই ছোট্ট বোঝাটিকে (সন্তানকে ইশারা করে) আমি নিজের হাতে শেষ করব।❠
শহরের এক অন্ধকার গলিতে এসে দিলরুবা আশ্রয় নিল। তার হাতে কোনো টাকা নেই, ক্ষমতা নেই, এমনকি পরার মতো ভালো কাপড়ও নেই। সে এক পরিত্যক্ত গুদামের কোণে বসে তার সন্তানকে বের করল। শিশুটির চোখ দুটো অন্ধকারে জ্বলজ্বল করছে। সে কাঁদছে না, বরং তার ছোট ছোট হাত দিয়ে দিলরুবার চোখের জল মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
দিলরুবা অনুভব করল, রিভান নেই ঠিকই, কিন্তু তার প্রতিটি রক্তবিন্দু এই শিশুর শরীরে বইছে। সে জানত না আর্কানাসের লোকেরা বাচ্চার কথা জানতে পারেনি—তারা ভেবেছে দিলরুবা তার কিছু ব্যক্তিগত জিনিস নিয়ে পালাচ্ছে।
❝ওরা ভেবেছে আমি হেরে গেছি, বাবা।❠ দিলরুবা তার সন্তানের কপালে চুমু খেয়ে ফিসফিস করে বলল।
❝ওরা জানে না যে রিভানের আসল সাম্রাজ্য এখন আমার কোলে। আমরা ফিরব। যখন তুমি বড় হবে, তখন এই মেগাসিটি আবার তোমার পায়ের নিচে লুটিয়ে পড়বে।❠
দিলরুবা এখন ছদ্মবেশে এক বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে। সে দিনের বেলা সাধারণ মানুষের মতো কাজ করে, আর রাতে তার সন্তানকে রিভানের সেই ‘ব্লু এনার্জি’ দিয়ে শিক্ষা দেয়। শিশুটি সাধারণ মানুষের চেয়ে দশগুণ দ্রুত বড় হচ্ছে। মাত্র এক মাসেই সে কথা বলতে শিখল, আর অদ্ভুত ভাবে তার প্রথম শব্দটি ছিল—
❝বাবা❠
দিলরুবা বুঝতে পারল, রিভানের ডিজিটাল চেতনা ল্যাপটপের মাধ্যমে এখনো তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে। এক রাতে ল্যাপটপের স্ক্রিন জ্বলে উঠল:
❝আর অপেক্ষা করো দিলরুবা। আমি আর কখনো তোমার মতো তুচ্ছ মানবী কে দেখতে চাইনা। আর কখনো আমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করো না।❠
ᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔ
❝মাম্মা, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। হাত পা জ্বলছে, চোখমুখে জ্বলছে। আআআআআ!..❠
❝কিচ্ছু হবে না সোনা, আমরা এক্ষুনি ডক্টরের কাছে যাচ্ছি। ডক্টর আঙ্কেল তোমার সব ব্যাথা ভালো করে দিবে বাবা।❠
দিলরুবা কাঁদতে কাঁদতে ছেলেকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে ছুটছে। দেখতে দেখতে তিন বছর কেটে গিয়েছে। দিলরুবা একটা রাজপুত্র জন্ম দিয়েছে। তবে বেশ কিছুদিন থেকেই বাচ্চাটা বারবার বলছে ওর কষ্ট হচ্ছে, সারা শরীর ঝলসে যাচ্ছে। কিন্তু দিলরুবা নিজেও একজন ডক্টর হয়েও কিছুই বুঝতে পারছিল না। আর না বাহিরের কোনো ডক্টর দেখাতে সাহস পাচ্ছিল। কারণ আর কেউ না জানলেও ও তো জানে যে ওর ছেলেটা আর বাকি পাঁচজন বাচ্চার মতো স্বাভাবিক নয়। তাই তো তিন বছরের ছেলেকে দেখতে পাঁচ বছরের মনে হয়।
বাহিরে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে, কিন্তু আজকে আর দিলরুবা চুপচাপ বসে থেকে ছেলের যন্ত্রণা সহ্য করতে পারেনি। ডক্টরের কাছে নিয়ে এসেছে, এবার যা হওয়ার হবে। কিন্তু ছেলের এই কষ্ট ও আর সহ্য করতে পারবে না। দিলরুবা ছেলেকে কোলে নিয়ে ডক্টরের চেম্বারে ঢুকে গেল।
❝নো নো নো এসব কি !...❠
ডক্টর এরিয়েল বেশ চিন্তিত হয়ে বাচ্চার রিপোর্ট গুলো দেখতে দেখতে বলে উঠলেন।
❝ডক্টর, আমার ছেলের এক্সজাক্টলি হয়েছে টা কি?.?.. আপনি এভাবে বলছেন কেন?.?..❠
❝আমি বিগত বিশ বছর ধরে মেডিসিন প্র্যাকটিস করছি। আমার পনেরো বছরের ডাক্তারি ক্যারিয়ারে আমি এমন রোগের সিমটমস এর আগে কখনো দেখিনি। এটা হয়তো Y- gene জেনেটিক ডিসওয়ার্ডার হতে পারে। বাচ্চার বাবার মধ্যেও কি এমন কোন সিমটমস আছে?.?..❠
❝বাচ্চার বাবার মধ্যে?.?..❠
দিলরুবা কল্পনায় ডুবে গেল। ও তো এ্যারোনের শরীরে কখনো এমন কিছু দেখেনি!.. অন্তত ওর সাথে যতদিন ছিল, ততদিন তো নয়। তাহলে ওর ছেলের সাথে এগুলো হচ্ছে কেন?.?.. এগুলো কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে??.?...
❝আপনি কিছু বলছেন না কেন?.?..❠
❝ডক্টর, বাচ্চার বাবার আছে কি না, আমার সেটা সঠিক জানা নেই। আর এই মুহূর্তে জানা টা সম্ভবও নয়।❠
❝তাহলে আমি বলবো বাচ্চা gene screening test করাতে হবে। তারপর সেটার রিপোর্ট দেখেই আমরা বাচ্চার ট্রিটমেন্ট শুরু করতে পারবো।❠
❝আ আচ্ছা ঠিক আছে। এটার টোটাল কস্ট কত হবে ডক্টর?.?...❠
❝হঠাৎ করে তো বলতে পারছি না। আনুমানিক দশ লাখ , তারচেয়ে কম বেশিও হতে পারে।❠
❝দশ লাখ!.?!... এতো টাকা?.?..❠
দিলরুবা প্রচন্ড চিন্তিত হয়ে বলে উঠলো। এই মুহূর্তে এতো গুলো টাকা ও কিভাবে ম্যানেজ করবে?!...
❝মাম্মা, আমি ট্রিটমেন্ট করাবো না। তুমি চিন্তা করো না, প্লিজ মাম্মা।❠
❝এসব কি বলছো সোনা, ট্রিটমেন্ট কেন করাবে না?.?.. ট্রিটমেন্ট না নিলে তো তুমি সুস্থ হবে না বাবা।❠
দিলরুবা বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে রাখা ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল,
❝ভয় পেওনা বাবা, মাম্মা ঠিক তোমাকে সুস্থ করে নিবো। তুমি একদম সুস্থ হয়ে যাবে।❠
এরপর দিলরুবা ছেলেকে কোলে নিয়ে হসপিটাল থেকে বেরিয়ে এলো। আর হাঁটতে হাঁটতে আবারো আজকে কারো কথা মনে পড়ে। যদি সে এখানে থাকতো, তবে সে নিশ্চয়ই বুঝতে পারতো কায়রাভের সাথে এগুলো কি হচ্ছে। আর কিভাবে এসব ঠিক করা যাবে। কিন্তু আফসোস, এতগুলো বছর কেটে গেল, সেই মানুষটি আর ফিরে আসলো না। দিলরুবা এখনো বিশ্বাস করতে পারে না যে ওর স্বপ্নের মতো দুনিয়া টা এভাবে কয়েক দিনের মধ্যেই ওলটপালট হয়ে গেল।
ᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔ
বিশাল অফিসের সামনে একটা মার্সিডিজ গাড়ি এসে দাঁড়িয়েছে। গাড়িটার পেছনে ডানে বামে আরো দশটা গাড়ি রয়েছে। গাড়ি গুলো থেকে গার্ডস গুলো একে একে বেরিয়ে এসে মাঝখানে থাকা মার্সিডিজের সামনে এসে দাঁড়ায়। মার্সিডিজের দরজা খুলে আনুমানিক ত্রিশ বছরের একটা ছেলে বেরিয়ে এসে অপর পাশের দরজাটা খুলে দিল।
অপর পাশের দরজাটা দিয়ে কালো সুট পড়া একজন পুরুষ বেরিয়ে এলো। যার চোখে কালো সানগ্লাস, চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে।
❝মাস্টার, আমরা এসে গেছি।❠
সেই ছেলেটা বলে উঠলো।
তারপর তারা অফিসের দিকে হাঁটতে শুরু করলো। মাস্টার বলে সম্বোধন করা ছেলেটা আবারো বলে উঠলো,
❝মাস্টার, রানী ক্যাথরিন আপনাকে আবারো নতুন সঙ্গীনি পছন্দ করতে বলেছেন। আর তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন।❠
ছেলেটার এই কথা শুনে পুরুষটি থমকে দাঁড়ালো। আর তারপর মুখ ঘুরিয়ে পাশ ফিরে ছেলেটার দিকে তাকালো।
❝লুকাস, সবসময় একই কথা পছন্দ করছি না আমি। ভ্যাম্পায়ার রা নিজেদের সঙ্গীনির প্রতি লয়্যাল থাকার শপথ নিয়ে পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হয়। আর সারাজীবন তারা একজনের সাথেই কাটায়। সেটা কি মাদার ক্যাথরিন জানেন না?.?.. তবুও আমাকে বার বার একই কথা বলে বিরক্ত কেন করছে সে?.?...❠
❝এটা আমার ভুল মাস্টার। তিন বছর আগে সেদিন আমার ইলেক্ট্রা কে পৃথিবীতে পাঠানোই উচিত হয়নি। আমি নিশ্চিত ওই কিছু করেছে হয়তো। আমাকে ক্ষমা করুন মাস্টার। তবে আপনি অনুমতি দিলে আমরা সেই মেয়েটির অনুসন্ধান করতে পারি।❠
❝খামোশ!.. এমনটা হয় কখনো করবে না।
যে ইচ্ছে করে চলে যায়, তাকে খুঁজে কি লাভ হবে?.?.. আর মানুষ তো স্বভাবগত ভাবেই নির্দয় আর জালিম হয়। ওদের কাছে সম্পর্কের ভ্যালু খুবই কম, যখন তখন নিজেকে পাল্টে ফেলতে পারে। আমি আর কখনো কোন মেয়ের সাথে নিজেকে জড়াবো না, বিশেষ করে কোন তুচ্ছ মানবী তো নয়ই।❠
❝কিন্তু মাস্টার….❠
❝কোন কিন্তু নয়। এই বিষয়ে আমি আর কিচ্ছু শুনতে পছন্দ করবো না, লুকাস।❠
এই বলে রিভান গটগট করে হেঁটে অফিসে নিজের কেবিনের দিকে এগিয়ে গেল। আর বাহিরে লুকাস আর বাকি বডিগার্ড রা দাঁড়িয়ে রইলো। লুকাস দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছিল, রানী ক্যাথরিন কে ও গিয়ে কি জবাব দিবে!..
✤ᚔᚓᚔᚓ✤✥
—চলবে—?.?...
✤ᚔᚓᚔᚓ✤✥