ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমার ব্যারিস্টার সাহেব

৫ম পর্ব

লেখক: মারিয়াম হোসাইন

#আমার_ব্যারিস্টার_সাহেব🎓

#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন

#পর্বঃ- ০৫

☣☘ᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔ☘☣

🚫⛔নাম ও হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।⛔🚫

☣☘ᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔᚔ☘☣

রিসেপশনের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতে হতে রাত প্রায় বারোটা বেজে গেল। আত্মীয়-স্বজনরা একে একে বিদায় নিয়েছেন। নাদিয়া চৌধুরী নিজের রুমে চলে গেছেন ক্লান্তির কারণে। বিশাল চৌধুরী ভিলার চারপাশ এখন নিঝুম।

তাওহীদ সিদরাকে নিয়ে নিজের প্রধান শয়নকক্ষে প্রবেশ করল। ঘরটি বেশ বড় এবং রাজকীয় আসবাবে সাজানো। এক কোণে তোহফার জন্য একটি ছোট কিউট কাঠের খাট আছে, যেখানে তোহফা ঘুমালে তাওহীদ নিজের চোখের সামনে দেখতে পায়। কিন্তু আজ তোহফা নিজের খাটে ঘুমাতে রাজি হয়নি। সে অলরেডি তাওহীদের বিশাল খাটের ঠিক মাঝখানে শুয়ে দুই হাত-পা ছড়িয়ে ঘুমের দেশে তলিয়ে গেছে। তার ডলটা তার বুকের কাছে শক্ত করে ধরা।

তাওহীদ ঘরে ঢুকে দরজাটা আলতো করে ভিজিয়ে দিল। সে তার শেরওয়ানির ভারী কাজের ব্লেজারটা খুলে হ্যাঙ্গারে রাখল। সিদরা তখন ঘরের এক কোণে লজ্জিত এবং কিছুটা জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মাথায় তার এখনো সেই মেরুন আবায়ার ওড়নাটা জড়ানো।

তাওহীদ সিদরার দিকে তাকাল। তার চশমাটা টেবিলের ওপর রেখে অত্যন্ত শান্ত এবং মার্জিত গলায় বলল,

❝মিস সিদরা... দুঃখিত, আজ থেকে তো আপনি আমার স্ত্রী। আপনাকে সিদরা বলেই ডাকতে পারি?❠

সিদরা মাটির দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ল,

❝জ্বী, অবশ্যই।❠

তাওহীদ আলতো করে একটা চেয়ার টেনে সিদরার মুখোমুখি বসল, তবে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে। সে বলল, ❝আজ সারাদিন অনেক ধকল গেছে আপনার ওপর দিয়ে। আমার আত্মীয়-স্বজনদের অনেকেই অনেক কথা বলেছেন, যা আমার কানেও এসেছে। আমাদের সোসাইটির মানুষগুলো পর্দার গুরুত্বটা ঠিক বোঝে না। আপনি ওনাদের কথায় কিছু মনে করবেন না।❠

সিদরা ধীর হাতে তার মুখের নেকাবটি খুলে ফেলল। নেকাব সরতেই তাওহীদের সামনে উন্মোচিত হলো এক অপূর্ব, স্নিগ্ধ এবং চাঁদের মতো উজ্জ্বল মুখমন্ডল। সিদরার চোখে কোনো কৃত্রিম মেকআপ নেই, কিন্তু তার চেহারার নূর যেন পুরো ঘরটাকে আলোকময় করে দিল। তাওহীদ এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল, তারপরই সে নিজের দৃষ্টি নিচু করে ফেলল—একজন মুমিনের আসল সৌন্দর্যের পরিচয় দিয়ে।

সিদরা নিচু স্বরে বলল,

❝আমি ওনাদের কথায় কিছু মনে করিনি। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগেও দ্বীনের পথে চলতে গেলে মানুষ কত কথা বলত। আমার পর্দা আমার আল্লাহর হুকুম, দুনিয়ার মানুষ কী বলল তাতে আমার কিছু আসে যায় না। তবে...❠

সিদরা বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা তোহফার দিকে তাকাল। তোহফা ঘুমের ঘোরেও তার ফ্রকটা হাত দিয়ে ধরে রেখেছে। সিদরার চোখ দুটো মমতায় ভিজে উঠল,

❝তোহফা খুব মিষ্টি। ও যেভাবে আজকে আমাকে ‘আম্মু’ বলে ডাকল, আমার মনে হলো আমার চব্বিশ বছরের জীবন আজ ধন্য হয়ে গেছে। আমি ওকে কোনোদিন কোনো কষ্ট পেতে দেব না। অন্তত আমার কারণে নয়।❠

তাওহীদের বুকের ভেতর এক গভীর কৃতজ্ঞতাবোধ কাজ করল। সে উঠে দাঁড়িয়ে আলমারি থেকে একটি নতুন জেনামাজ বের করল। সিদরার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,

❝শুকরিয়া, সিদরা। আমাদের এই নতুন জীবনের শুরুটা চলুন আল্লাহর ইবাদত দিয়ে করি। আপনি ফ্রেশ হয়ে নিন, আমরা একসাথে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে আমাদের এই পরিবারের জন্য দোয়া করব।❠

সিদরা মাথা নাড়ল। সে বাথরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে ওযু করে এলো। তাওহীদ সামনে দাঁড়াল ইমাম হিসেবে, আর সিদরা তার পেছনে দাঁড়াল মুক্তাদী হিসেবে। বিয়ের প্রথম রাতে, কোনো রকম দুনিয়াবী আনন্দ-উল্লাসের চেয়ে আল্লাহর দরবারে সেজদা করাটাই ছিল তাদের কাছে সবচেয়ে বড় পবিত্রতা।

নামাজ শেষে তাওহীদ যখন দীর্ঘ মোনাজাত করল, তখন সিদরার চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল। মোনাজাত শেষ করে তাওহীদ ঘুরে বসল। সে তোহফার দিকে তাকিয়ে সিদরাকে বলল,

❝সিদরা, আপনাকে বলা দরকার। যদিও আপনি সবটা জেনেই এই বিয়েতে সম্মতি দিয়েছেন। আমার তোহফা আমার জন্য আল্লাহর বিশেষ উপহার!.. ওকে জন্মের পর থেকে তিল তিল করে আমি নিজের হাতে বড় করেছি। আমার বাচ্চা টা ওর জন্মদাত্রী মায়ের সম্পর্কে কিছুই জানে না। শুধু জানে আল্লাহ তাকে নিয়ে গেছেন। আপনি আমার বাচ্চাটাকে নিজের সবটুকু দিয়ে আগলে রাখবেন। আর আমি জানি এটা আমার দ্বিতীয় বার হলেও আপনার এটাই প্রথম বার, আর আল্লাহ চাইলে এটাই শেষ বার হবে। আপনার হয়তো এই রাতটা নিয়ে কিছু ভাবনা ছিল। কিন্তু... সত্যিই আমার সময় প্রয়োজন, আর হয়তো আপনারও!...❠

তাওহীদের কন্ঠস্বর হঠাৎ করেই খুব ভারী এবং গম্ভীর হয়ে গেল। তার চোখের কোণে এক অজানা ঝড় ও ভয়ের কালো মেঘ দেখা দিল। সে বলল,

❝আমি নিজের সবটুকু দিয়ে তাড়াতাড়ি সবটা আপনার মনের মত করার চেষ্টা করবো। আপনার কাছে শুধুই এটুকু চাওয়া, আমার বাচ্চাটাকে মায়ের অভাব বুঝতে দিয়েন না।❠

সিদরা তাওহীদের কথার গভীরতা বুঝতে পারল। সে তাওহীদের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত দৃঢ় গলায় বলল,

❝ব্যারিস্টার সাহেব, আমি যখন আপনার হাত ধরে এই বাড়িতে পা রেখেছি, তখন আপনার আলো আর অন্ধকার—দুটোকেই আপন করে নিয়েছি। তোহফা এখন আমারও মেয়ে। ওর গায়ে কোনো আঁচ আসার আগে তা আমার ওপর দিয়ে যাবে। আপনি একা নন, এখন থেকে আমিও নিজের সবটুকু দিয়ে আমাদের বাচ্চাকে আগলে রাখবো।❠

বিয়ের প্রথম রাতেই সিদরার এই মানসিক দৃঢ়তা দেখে তাওহীদ বুঝতে পারল—আল্লাহ তাকে কোনো সাধারণ নারী দেননি, তাকে এক অসাধারণ জীবনসঙ্গী উপহার দিয়েছেন।

ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ

ভোরের নরম আলো এসে পড়েছে চৌধুরী ভিলার রাজকীয় বেডরুমে। হালকা বাতাসে জানালার সাদা পর্দাগুলো উড়ছে। বিছানার ঠিক মাঝখানটায় চার বছরের তোহফা চৌধুরী তখনো ঘুমিয়ে। তার একটা পা চাদরের বাইরে, আর দুই হাত ছড়ানো।

সিদরা অলরেডি অনেক ভোরে উঠে ফজরের নামাজ শেষ করেছে। তার পরনে এখন একটা খুব মিষ্টি হালকা গোলাপি রঙের ঘরোয়া সুতি থ্রি-পিস, মাথায় ওড়নাটা সুন্দর করে ঘোমটা দেওয়া। সে অত্যন্ত নরম পায়ে বিছানার পাশে এসে বসল। নেকাব ছাড়া সিদরার মুখটা এই সকালের আলোয় এক টুকরো জান্নাতী আলোর মতো লাগছে।

সে ঝুঁকে পড়ে তোহফার কপালে আলতো করে চুমু খেল। তারপর তোহফার কুচকুচে কালো কোঁকড়ানো চুলগুলো আঙুল দিয়ে সরিয়ে দিতে দিতে খুব মিষ্টি সুরে ডাকল,

❝তোহফামণি... আমার লক্ষ্মী সোনা, ওঠো। সকাল হয়ে গেছে তো মা।❠

তোহফা ঘুমের ঘোরেই একটু নড়েচড়ে বসল। সে চোখ না খুলেই তার ছোট ছোট হাত দুটো দিয়ে চোখ ডলতে ডলতে আধো-আধো গলায় বলল, ❝উহুঁ... আব্বুউ, আমি এখন উঠবো না। তোহফাকে আর একটু ঘুমাতে দাও না, প্লিজ...❠

সিদরা মৃদু হেসে তোহফার ছোট হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিল, ❝আমি তো আব্বু নই মা। তাকিয়ে দেখো তো আমি কে?❠

‘আব্বু নই’ শুনে তোহফার চোখের পাতা দুটো পিটপিট করে খুলল। সে চোখ বড় বড় করে সামনে বসা সিদরাকে দেখল। কাল রাতে রিসেপশনে সে এই আন্টিটাকে নেকাব পরা দেখেছিল, কিন্তু আজ সকালে নেকাব ছাড়া সিদরার এই মায়াবী হাসিমুখ দেখে তোহফা যেন পুরো হাঁ হয়ে গেল। সে বিছানায় চট করে উঠে বসল।

❝ওয়াও! তুমি... তুমিই আমার সেই চকলেট-আন্টি? নো নো, তুমি আমার নতুন আম্মু?❠

তোহফা উত্তেজিত হয়ে সিদরার দুই গাল নিজের ছোট ছোট হাত দিয়ে ধরে ফেলল।

সিদরার চোখ দুটো মায়ায় ভিজে উঠল। সে তোহফাকে জড়িয়ে ধরে বুকে টেনে নিল,

❝হ্যাঁ মা, আমি তোমার আম্মু। আজ থেকে আমি সবসময় তোহফার কাছে থাকবো। তোহফাকে নিজ হাতে খাইয়ে দেবো, গল্প শোনাবো।❠

তোহফা সিদরার কোল থেকে একটু পিছিয়ে গিয়ে সিদরার ড্রেসের ওড়নাটা দেখল, তারপর সিদরার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,

❝আম্মুউ! তোমার ফেসটা কত সুন্দর! একদম ওই যে ড্রয়িংরুমে একটা পরীর ছবি আছে না? ওটার মতো! কিন্তু আম্মু, তুমি কালকে ওই কালো কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছিলে কেন? তোহফা তো ভাবছিল তুমি আমার সাথে লুকোচুরি খেলছো!❠

সিদরা তোহফার এই আদুরে কথায় না হেসে পারল না। সে বলল,

❝বাইরে অনেক দুষ্টু হাওয়া থাকে তো মা, তাই মুখটা ঢেকে রাখতে হয়। কিন্তু ঘরের ভেতরে তোহফার সামনে মা কখনো মুখ ঢাকবো না। এখন চলো, আমার লক্ষ্মী আম্মুজান ব্রাশ করে নেবে।❠

তোহফা এক লাফে বিছানা থেকে নেমে পড়ল এবং সিদরার হাত শক্ত করে ধরে বলল,

❝আজকে কিন্তু তুমি আমাকে ব্রাশ করিয়ে দেবে, ওকে? প্রতিদিন আব্বু করিয়ে দেয়, আজ থেকে তুমি!❠

❝একদম! আজ থেকে সব কাজ মা করিয়ে দেবো।❠

সিদরা তোহফাকে কোলে তুলে নিয়ে বাথরুমের দিকে এগিয়ে গেল।

ᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔᚔᚓᚔᚓᚔᚓᚔ

দশ মিনিটের মধ্যে তোহফাকে ফ্রেশ করিয়ে, তার চুলগুলো সুন্দর করে দুটো ঝুঁটি বেঁধে দিল সিদরা। তোহফা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ঝুঁটি দুটো হাত দিয়ে নাড়িয়ে খিলখিল করে হেসে উঠল,

❝আম্মুউ! দেখো দেখো, ঝুঁটি দুটো কেমন লাফাচ্ছে! আব্বু কিন্তু এত সুন্দর করে বাঁধতে পারে না। আব্বু বাঁধলে একটা উঁচুতে থাকে, আরেকটা নিচুতে থাকে!❠

ঠিক তখনই ঘরের দরজায় এসে দাঁড়াল ব্যারিস্টার তাওহীদ চৌধুরী। সে অলরেডি গোসল শেষ করে একটি অফ-হোয়াইট ট্রাউজার আর কালো টি-শার্ট পরে এসেছে। তার চুলগুলো হালকা ভেজা। মেয়ের মুখে নিজের হেয়ার স্টাইলিংয়ের সমালোচনা শুনে সে দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে কৃত্রিম রাগের ভান করে বলল,

❝কী ব্যাপার তোহফা চৌধুরী? নতুন আম্মু আসতে না আসতেই আব্বুর নামে কমপ্লেন শুরু হয়ে গেল?❠

আব্বুর গলা শুনে তোহফা ঘুরে দাঁড়িয়ে ছুটে গিয়ে তাওহীদের পা জড়িয়ে ধরল,

❝আব্বুউ! দেখো, আম্মু আমাকে কত সুন্দর করে রেডি করে দিয়েছে! আর আম্মুর হাতটা না অনেক সফট। তোমার মতো শক্ত নয়!❠

তাওহীদ তোহফাকে কোলে তুলে নিয়ে সিদরার দিকে তাকাল। সিদরা তখন বিনম্রতায় চোখ নিচু করে ঘরের চাদরটা ঠিক করছিল। তাওহীদ তোহফার গালে নাক ঘষে বলল,

❝তা তো হবেই। এখন থেকে তোহফা আর আম্মু এক দল, আর আব্বু একা, তাই না?❠

তোহফা চট করে তাওহীদের গালে একটা চুমু খেয়ে বলল,

❝না না! তুমিও আমাদের দলে। আমরা সবাই একসাথে লাঞ্চু করব, ব্রেকফাস্টু করব।❠

তাওহীদ সিদরার দিকে তাকিয়ে একটু গলা ঝেড়ে বলল,

❝সিদরা, চলুন নিচে যাই। আব্বু আর আপা হয়তো ডাইনিংয়ে অপেক্ষা করছেন।❠

সিদরা মাথা নেড়ে তাওহীদ আর তোহফার পেছু পেছু নিচে ডাইনিং রুমের দিকে রওনা হলো।

চৌধুরী ভিলার বিশাল ডাইনিং টেবিলে অলরেডি বসে আছেন রাশেদ চৌধুরী এবং তাওহীদের বড় বোন নাদিয়া চৌধুরী। নাদিয়া চৌধুরীর পরনে একটি দামী মডার্ন কুর্তি, চোখে-মুখে কিছুটা অহংকারের ছাপ। সে বিদেশ থাকে বলে নিজেকে একটু বেশি আধুনিক মনে করে।

তারা টেবিলে বসতেই গৃহকর্মী নাস্তা নিয়ে এলো। সিদরা ডাইনিংয়ে ঢোকার আগেই তার মাথার ওড়নাটা খুব সুন্দর করে টেনে বুক পর্যন্ত ঢেকে নিয়েছে, কারণ টেবিলে শ্বশুরমশাই আছেন।

রাশেদ চৌধুরী সিদরাকে দেখে হাসিমুখে বললেন,

❝এসো মা সিদরা, বসো। আমার তোহফাকে তো দেখছি আজ খুব খুশি লাগছে!❠

তোহফা রাশেদ চৌধুরীর পাশের চেয়ারে বসে পা দোলাতে দোলাতে বলল,

❝দাদুভাই! জানো, আম্মু আমাকে আজকে নিজের হাতে ব্রাশ করিয়ে দিয়েছে, ঝুঁটি করে দিয়েছে। আজ থেকে আমি আর পচা সুজি খাবো না, আম্মু আমাকে যা দেবে আমি তাই খাবো!❠

নাদিয়া চৌধুরী চায়ে চুমুক দিতে দিতে সিদরার দিকে আড়চোখে তাকাল। সিদরার এই এত পর্দা আর শান্ত ভাবটা তার ঠিক পছন্দ হচ্ছে না। সে একটু বাঁকা হেসে বলল,

❝তা সিদরা, শুনলাম তুমি নাকি সারাদিন বোরকা-নেকাব পরে এতিমখানায় পড়ে থাকো? এখন তো চৌধুরী বাড়ির বউ। এই বাড়িতে কিন্তু অনেক হাই-প্রোফাইল গেস্ট আসে। তখনও কি এভাবে ঘোমটা টেনে ঘরের কোণায় বসে থাকবে? একটু স্মার্ট হওয়া দরকার কিন্তু!❠

ডাইনিং টেবিলের পরিবেশটা এক সেকেন্ডে গম্ভীর হয়ে গেল। তাওহীদ তার কফির মগে চামচ নাড়াচাড়া করছিল, নাদিয়ার কথা শুনে তার হাতটা থেমে গেল। সে কিছু একটা বলতে চাইল, কিন্তু তার আগেই সিদরা অত্যন্ত শান্ত এবং ধীর কন্ঠে জবাব দিল।

সিদরা রাশেদ চৌধুরী এবং নাদিয়ার দিকে তাকিয়ে বিনম্র সুরে বলল,

❝আপা, স্মার্টনেস তো পোশাকে নয়, চলায় আর আচরণে। আল্লাহ আমাকে যেভাবে পর্দায় থাকার তৌফিক দিয়েছেন, আমি ওটাকেই আমার সবচেয়ে বড় সম্মান মনে করি। আর অতিথিদের আপ্যায়ন করার কথা যদি বলেন, ইনশাআল্লাহ এই বাড়ির বউ হিসেবে তাদের সেবা করতে আমার কোনো কমতি হবেতি হবে না। তবে তা আমার পর্দার ভেতরে থেকেই।❠

সিদরার এই জাস্ট টু দ্য পয়েন্ট এবং মিষ্টি কিন্তু দৃঢ় উত্তর শুনে নাদিয়া চৌধুরী আর কথা বাড়ানোর সাহস পেল না। রাশেদ চৌধুরী মনে মনে খুব খুশি হলেন ছেলের বউয়ের এমন বুদ্ধিমত্তা দেখে।

তোহফা নাদিয়া চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে তার ছোট চামচটা উঁচিয়ে বলল,

❝ফুপি! তুমি আমার আম্মুকে বকবে না কিন্তু! আমার আম্মু অনেক স্মার্ট! আম্মু আমাকে পরীর গল্প শোনাবে বলেছে!❠

তোহফার এই কিউট প্রটেকশন দেখে তাওহীদের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। সে কফির মগটা মুখে নিয়ে ভাবল, তার মেয়ে সত্যিই তার জীবনের সেরা ছায়াটা পেয়ে গেছে।

✤✣ᚔᚔ✤✣

—চলবে—

✤✣ᚔᚔ✤✣

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন