ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রিয় রুহের মাহরাম (২য় খন্ড)

৩৬তম পর্ব

লেখক: মারিয়াম হোসাইন

#প্রিয়_রুহের_মাহরাম🌿

#দ্বিতীয়_খণ্ড 
#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন 
পর্বঃ- ৩৬
🌿🌿🌿
ঃ- আমরা আপনার কথা বুঝতে পারছি। তবে কিয়ারার অবশ্যই বাচ্চাদের কথাটা লুকানো উচিত হয়নি।
মাহাদের ছোট চাচী মাহমুদা খান গম্ভীর গলায় বলে উঠলেন। 
ঃ- ওও আচ্ছা, এখন আমার বাচ্চাদের কথাটা লুকানো উচিত হয়নি!..?.. আর যখন ভরা বাড়ির সকলের সামনে আপনাদের ছেলে আমাকে অস্বীকার করেছিল?.. তখন সেটা উচিত হয়েছিল বুঝি??.. আমার পুরো পরিবার কে যখন আপনারা সত্য মিথ্যা যাচাই না করেই সবাই মিলে অপমান করছিলেন??.. তখন সেটা উচিত হয়েছিল বুঝি??!... যখন আমার কারণে বিনা দোষে আমার অসুস্থ বোনকে কথার দ্বারা মানুষিক আঘাত করেছিলেন, তখন সেটা উচিত ছিল বুঝি??!... 
কিয়ারা এগিয়ে এসে প্রচন্ড রেগে গম্ভীর গলায় বলে উঠলো। রাগে ওর পুরো মুখ লাল হয়ে গিয়েছে। কায়রা বোনের কথা শুনে অনুশোচনায় কেদে ফেলল। মেয়েটা ছোট হয়েও ওর পরিস্তিতি বুঝতে পেরেছিল। অথচ ও বড় বোন হয়েও ওকে কত ভাবেই না আঘাত দিয়েছে। এদিকে সবাই ওর তেজ দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। তারা সবাই জানতো কিয়ারা সহজ সরল, নরম মনের মানুষ। কিন্তু এখন তার একি রূপ দেখছে সবাই। 
ঃ- বাড়ির সকলের সামনেই যেই মানুষটা আমার সম্মানের পড়োয়া না করেই আমাকে স্পষ্ট ভাষায় অস্বীকার করতে পারে। সে যে তখন আমার বাচ্চাদের অস্বীকার করতো না তার কি গ্যারান্টি ছিল??.. আর তখন এই আপনারাই সবার আগে আমার চরিত্রের উপর চুন কালি মাখতে উঠে পড়ে লাগলেন। এক মুখে দু রকমের কথা বলবেন না দয়া করে। 
এবার কিয়ারার এই কথায় কেউ আর কিচ্ছুটি বলতে পারলো না। সবাই লজ্জায়, অনুশোচনায় মাথা নিচু করে ফেলল।‌
ঃ- আহ কিয়ারা, উনারা তোমার বড়। আর বড়দের সাথে এভাবে কথা বলতে হয়না। 
নেহাল চৌধুরী মেয়েকে একটু ধমকের সুরে বলে উঠলেন। কিয়ারা বাবার কথায় প্রতিউত্তর করে বলল…
ঃ- আজকে আমাকে বাধা দিয়ো না আব্বু। এখানে আমার বাচ্চাদের নিয়ে কথা হচ্ছে, গত পাঁচটি বছর আমি একা একা সবকিছুর সাথে লড়াই করেছি। এই লোকের কারণে আমাকে আমার বাচ্চাদের সমাজের থেকে লুকিয়ে রাখতে হয়েছিল। এই নিষ্ঠুর, স্বার্থপর লোকটার জন্য আমাকে পৃথিবীর অপর প্রান্তে পড়ে থাকতে হয়েছিল। আমি আজকে একটুও চুপ করে থাকবো না। সেদিন আমার কাছে কোনো প্রমাণ ছিল না, তাই সবার সকল অপমান, সকল তাচ্ছিল্য চুপচাপ মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু আজকে কেউ আমাকে বা আমার বাচ্চাদের নিয়ে কিছু বললে একদম ছেড়ে দেবো না। 
এদিকে কিয়ারার এমন প্রতিবাদী প্রতিক্রিয়া দেখে চৌধুরী বাড়ির সকলেই মনে মনে ভীষণ পুলকিত হয়ে উঠল। এটাই তো তাদের বংশের রক্ত, তাদের লুকায়িত শেরনি!... 
মাহাদ নিজেও কিয়ারার এমন রুপ দেখে বেশ অবাক হয়েছে। বউ তো তার আস্ত একটা আগুনের গোলা। 
ঃ- আচ্ছা ঠিক আছে, আমরা আমাদের ভুল স্বীকার করেছি। তুমি নিশ্চয়ই চাও বাচ্চাদের একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ। আর তার জন্য ওদের একটা সুন্দর পরিবারের দরকার আছে। তাই আমরা আমাদের তরফ থেকে সকল ভুলের জন্য তোমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। তুমি বাচ্চাদের কথা ভেবে হলেও আমাদের পরিবারে ফিরে চলো। এরপর থেকে তোমার সম্মানের জিম্মাদারি আমি নিলাম। আমার ছেলে কে ক্ষমা করে দিও, ও তখন পরিবারের বাহিরে আর কিছু ভাবার সময় পায়নি। আর তখন যা হয়েছিল, সেটার 100% থেকে 60% কিন্তু তোমার ফুফাতো বোন দায়ী। 
মাহাদের মা মিতালী খান বলে উঠলেন। উনি এতক্ষণ এসব কিছুতেই নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। উনার আজকে ঢাকাতে কেসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল। কিন্তু শুধু মাত্র ছেলের ভাঙ্গা সংসার জোড়া লাগানোর জন্য আজকেও এখানে থেকে গিয়েছেন। নাহলে উনার সকালেই ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিয়ারা উনার মুখের উপর আর কিছুই বলতে পারলো না। আর উনি তো ভুল কিছুও বলেননি। 
এই সবকিছু শুনে আলিশা মাথা নিচু করে ফেলল। আসলেই ওর একটা ভুলের কারণে কিয়ারা সহ সবাইকে কতটা সাফার করতে হলো। আলিশা নিজের কৃতকর্মের জন্য ভীষণ অনুতপ্ত হয়েছে। 
ঃ- আমি সবাইকে মাফ করে দিয়েছি, কারো কোনো কথাই মনে রাখিনি। আপনারাও আমাকে মাফ করে দিবেন। তবে ঐ বাড়িতে আমি আর কখনো যাবো না। যে লোক একবার আমার সম্মান নিলামে তুলতে পেরেছে, সে ভবিষ্যতেও আবার এমন করতে পারবে। 
কিয়ারার প্রথম কথায় সবাই বেশ খুশি হলেও শেষেল কথাটা শুনে চিন্তিত হয়ে মাহাদের দিকে তাকালো। মাহাদ এক পা এগিয়ে এসে কিয়ারার মুখোমুখি দাঁড়ালো।
ঃ- তুমি যাও আর না যাও, সেটা তোমার ব্যাপার। কিন্তু আমি তো আমার বাচ্চাদের এখানে রেখে যাবো না। আমার বাচ্চাদের এতো বছর পর পেয়েও আমি ওদের এখানে রাখবো সেটা ভাবলে কিভাবে??.. বাচ্চারা আমার সাথেই থাকবে, ওদের পরিবারের সাথে থাকবে। তুমি যেতে চাইলে ভালো না চাইলে নাই। মুক্তা বাচ্চাদের নিয়ে এসো। 
মাহাদ গম্ভীরভাবে কথাগুলো বলে উঠলো। মুক্তা ভাইয়ের আদেশ পাওয়া মাত্রই উপরে চলে গেল। মাহাদ জানে কিয়ারা বাচ্চাদের ছাড়া থাকতে পারবে না। কারণ মাত্র কয়েক ঘণ্টাতেই ওর যে অবস্থা হয়েছে, তাতে বাচ্চাদের মাহাদ নিয়ে গেলে ও কিছুতেই থাকতে পারবে না। আর তখন বাচ্চাদের জন্য ও নিজেও যেতে রাজি হবে। কিন্তু মাহাদের এমন হুমকি শুনেও কিয়ারার চেহারায় কোনো ভয়ের ছাপ দেখা যাচ্ছে না। 
ঃ- বার বার আমার বাচ্চারা, আমার বাচ্চারা বলা বন্ধ করুন। ওরা আপনার কেউ নয়, ওরা শুধু মাত্র আমার সন্তান। যখন আমি প্রসব বেদনায় অপরিচিত দেশের হসপিটালের বেডে শুয়ে চিৎকার করছিলাম, তখন কোথায় ছিলেন আপনি??.. 
আমি আপনার সাথে রাগ করে দূরে সরে গিয়েছিলাম। অথচ আপনি একটা বার আমাকে খুঁজে, আমার ভুল ভাঙ্গনোর চেষ্টা করেননি। আপনার জন্য আমাকে কি না সহ্য করতে হয়েছে, আমি হাসি খুশি কিয়ারা। যে ছোট থেকেই ভীষণ নরম স্বভাবের ছিলাম, হাঁসি খুশি ছটফটে স্বভাবের। 
সেই আমাকে আপনার কারণে মানুষিক রোগের স্বীকার হতে হয়েছে। শুধু মাত্র আপনার কারণে আমাকে মনরোগ বিশেষজ্ঞ সাইকোলজিস্ট দেখাতে হয়েছে। এগুলো কেউ বললে বিশ্বাস করবে না। তবে আমার কাছে তখন যারা ছিল, তারা দেখেছে আমি কিভাবে দিনের পর দিন আপনার দেওয়া আঘাতে ছটফট করে মরেছি।
কথাগুলো বলতে বলতেই কিয়ারার চোখে পানি চলে এসেছে। বাকিরাও সবাই চুপ করে ওর কথাগুলো শুনলো। তাদেরও ভীষণ খারাপ লাগছে। মাহাদ নিজেও মনে মনে এগুলো শুনে ভীষণ কষ্ট পেলো। তবে সেটা উপস্থিত কাউকেই বুঝতে দিল না। 
ঃ- দেখো কিয়ারা, আমরা মানছি তুমি অনেক কষ্ট পেয়েছো। তবে যেনে রাখো মাহাদ নিজেও যে খুব ভালো ছিল তা কিন্তু নয়। ও নিজেও তোমার জন্য কষ্ট পেয়েছে, তোমার জন্য একা একাই নীরবে ছটফট করেছে। ওর সকল কষ্টের সময় আমি নিজে সাক্ষী হয়েছি। তুমি ওকে ক্ষমা করে দাও, প্লিজ ফিরে চলো। 
নাঈম কোমল কন্ঠে কিয়ারা কে বলে উঠলো। কিয়ারা যেন এবার আরও ফুঁসে উঠলো। 
ঃ- এখন আপনি ভাইয়ের হয়ে সাফাই গাইছেন। অথচ সেদিন আপনি সবকিছু জেনেও আমার হয়ে কারো সাথে একটা শব্দ বলেননি। কেন??.. কারণ আপনি আপনার ভাইয়ের সাপোর্টে ছিলেন। সে যা করবে সেটাতেই আপনি সাপোর্ট করবেন, এখন সেটা ভুল হোক বা অন্যায় হোক। আপনার মতো মানুষের কাছ থেকে আমি অন্তত কিচ্ছু শুনতে চাইছি না। তাই প্লিজ আপনি এগুলো থেকে দূরে থাকুন। 
সবাই কিয়ারার এই কথায় ভীষণ অবাক হয়ে গেল। মানে নাঈম আগে থেকেই ওদের বিয়ের ব্যাপারে সবকিছু জানতো?. নাঈমের মুখ শুকিয়ে এইটুকুন হয়ে গেল। কায়রা বিষ্ময় কাটিয়ে উঠতে না পেরে ওর দিকে এগিয়ে গেল। 
ঃ- তুমি?. তুমি আগে থেকেই সবকিছু জানতে ?.. আমাকে তাও কখনো কিছু জানাওনি?. আমার পরিবার, আমার বোনকে তোমার পরিবারের সদস্যরা বিনা দোষে অপমান করেছে, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছে। অথচ তুমি সবকিছু ভুল, অন্যায় জেনেও তাদের কে কিছুই বলোনি??.. 
কায়রার চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। ও আসলে নাঈমের এমন বেঈমানি মেনে নিতে পারছে না। লোকটা এমনটা কিভাবে করতে পারে??...
এর মধ্যেই মুক্তা ও কিরণ বাচ্চাদের নিয়ে নীচে নেমে আসলো। 
ঃ- বাবা তুমি মাম্মা কে কষ্ট দিয়েছো??.. মাম্মা কাঁদছে কেন?.. ও মাম্মা তুমি কাঁদছো কেন?..?.. 
ছোট্ট মাহিরা মায়ের চোখে পানি দেখে কাঁদো কাঁদো হয়ে বাবাকে জিজ্ঞেস করল। মিরান এগিয়ে এসে মায়ের চোখের পানি মুছে দিল। কিয়ারা শক্ত করে দু বাচ্চাকে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরল। এদের জন্যই তো ও এখনো শান্তিতে বেঁচে আছে, নাহলে সুখ শান্তি নামক বস্তুটা তো আরও ছ’বছর আগেই ওর জীবন থেকে উঠে গিয়েছে। ও ওর বাচ্চাদের কাউকে নিতে দিবে না, কাউকে না। 
— — — 
ঃ- বাচ্চারা বাবার কাছে চলে এসো। আমরা এখন বাড়িতে ফিরে যাবো। তোমাদের মাম্মা যেতে চাইছে না, তাই কাঁদছে। ও এখানেই থাকুক তাহলে, তোমরা বাবার কাছে চলে এসো। 
কিয়ারা মাহাদের এমন কথায় কটমট করে ওর দিকে তাকালো। ও নিজের এতো কষ্টের কথা বললো, আর লোকটা ওর সাথে মজা করছে?!..
ঃ- ও মাম্মা , তুমি সত্যিই এজন্য কাঁদছো?.. আমার বোকা মাম্মা, কেঁদো না কেঁদো না। ওখানে সবাই আমাদের পরিবার। সবাই তোমাকে খুব ভালোবাসবে, তুমি একটুও ভয় পেয়ো না। 
ছোট্ট মাহিয়া পাকা পাকা কন্ঠে বলে উঠলো। বাকিরা ওদের কাহিনী দেখে মিটি মিটি হাসছে। কিয়ারা পাকা মেয়ের এমন কথায় কি বলবে বুঝতে পারছে না। মেয়েটা এতো বেশি পাকা হয়েছে না!.. 
ঃ- আম্মু, আমরা আমাদের বাসায় যাবো। যেখানে তুমি আমি তোমার ভাইয়া আর তোমার খালামুনি একসাথে থাকবো।‌
কিয়ারা মেয়ে কে বুঝিয়ে বলে উঠলো। তবে মাহিরা বুঝতে পারলো না।
ঃ- ও মাম্মা সেখানে বাবা থাকবে না?.. আমি তুমি ভাইয়া বাবা একসাথে থাকবো না??.. 
বুঝদার ছেলে মিরান মাকে জিজ্ঞেস করল। এবার কিয়ারা ছেলে কে কি বলবে??.. যদি না বলে, তাহলে ছেলে জিগ্গেস করবে কেন থাকবে না?. তখন কিয়ারা কি বলবে??.. 
মাহাদ এগিয়ে এসে ছেলে কে কোলে তুলে নিল। তারপর ছেলের কপালে চুমু খেয়ে বললো..
ঃ- আমরা সবাই একসাথে থাকবো। তোমার মাম্মা গেলে যাবে না গেলে নাই।‌ তুমি আমি তোমার বোনু তারপর তোমার দাদুভাই, তোমার ফুপিরা চাচ্চুরা, আমরা সবাই একসাথে থাকবো। 
মিরান মাহিরা বাবার কথা শুনে ভীষণ খুশি হয়েছে। কিন্তু মাম্মা যাবে না কেন??.. ওরা মন খারাপ করে মায়ের দিকে তাকিয়ে রইল। 
কিয়ারা বাচ্চাদের দিকে হতাশ দৃষ্টিতে তাকালো। আসলে ও কি করবে বুঝতে পারছে না। কিয়ারার‌ মা ওর দিকে এগিয়ে আসলো। 
ঃ- আমরা সবাই জানি তুই অনেক কষ্ট করেছিস, বাচ্চাদের নিয়ে একাই লড়াই করে এই পর্যন্ত এসেছিস। এতো কিছুর পরেও এখানে এসেও কতজনের সমালোচনার স্বীকার হতে হয়েছে। কিন্তু আমি বলবো তুই বাচ্চাদের দিকে চেয়ে হলেও মেনে নে। এমনটা নয় যে আমরা তোকে ও বাচ্চাদের রাখতে পারবো না। 
কিন্তু এটা বাচ্চাদের মনে খারাপ প্রভাব পড়বে। তাই বলছি তুই মাহাদের সঙ্গে কথা বলিস না, ওর সাথে তোকে মানিয়ে নিতে হবে না। তোর ওকে ক্ষমাও করতে হবে না। তবে বাচ্চাদের জন্য হলেও ফিরে যা। 
কিয়ারা মায়ের সকল কথাগুলো মনযোগ দিয়ে শুনলো। আসলেই তিনি তো ভুল কিছু বলছেন না। কিয়ারাও বাচ্চাদের দিকটা ভেবে দেখলো, এখন ওরা বড়ো হচ্ছে। ক'দিন পর স্কুলে যাবে, তখন বাকি বাচ্চাদের মা বাবা কে একসাথে দেখে ওদের মনে বিরূপ প্রভাব পড়বে। 
আর যেটা মা হয়ে কিয়ারা একদম চাইছে না। ও একে একে বাবা মা, বাড়ির সবার দিকে তাকালো। সবাই ওকে ক্ষমা করে বাচ্চাদের জন্য হলেও ফিরে যেতে বলছে। কিয়ারা আবার মাথা নিচু করে বাচ্চাদের দিকে তাকালো। তারপর মুখ তুলে মাহাদের দিকে তাকালো। যে আগে থেকেই ওর দিকে তাকিয়ে ছিল। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাচ্চাদের নিয়ে উপরে উঠে গেল।‌
— — — 
কিয়ারা বাচ্চাদের নিয়ে উপরে উঠে গেল। সবাই ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল। 
ঃ- বেয়াই সাহেব, মেয়েটা তো কিছু না বলেই চলে গেল। ও কি সবকিছু ক্ষমা করে মেনে নিবে??... আমাদের সাথে ফিরে যেতে রাজি হবে তো??..
মাহাদের মা মিতালী খান কিয়ারার বাবা নেহাল চৌধুরী কে জিজ্ঞেস করলেন। 
ঃ- আপনি চিন্তা করবেন না, ও অবশ্যই সবকিছু ক্ষমা করে ভুলে যাবে। কিয়ারা বাচ্চাদের জন্যাই এখনো স্বাভাবিক ভাবে জীবন যাপন করতে পারছে। নাহলে বাচ্চারা পেটে থাকতে ওর মানুষিক অবস্থা ভীষণ খারাপ হয়ে গিয়েছিল। ও বাচ্চাদের জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত। 
কিয়ারার মা নীলাশা চৌধুরী মিতালী খান কে আস্বস্ত করে বলে উঠলেন। মাহাদ গম্ভীর হয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে উনাদের কথাবর্তা শুনছিল। রাত এখন প্রায় সাড়ে দশটা বাজে। এখন এমনিতেই শীতের দিন, তাই বেশি রাত করে গেলে বাচ্চাদের ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও ওরা নিজেদের গাড়িতেই যাবে। কিন্তু তাও সদ্য বাবা হওয়ার অনুভূতি অনুভব করতে পারা মাহাদ খান বাচ্চাদের নিয়ে ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়ে। 
এর মধ্যেই কিয়ারা বাচ্চাদের নিয়ে নীচে নেমে আসলো। ওকে সবকিছু তাড়াতাড়ি গুছাতে নামিরা ও কিরণ সাহায্য করেছে। ওকে নীচে আসতে দেখে সবাই সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। কিয়ারা এগিয়ে এসে ড্রইং রুমের মাঝখানে দাঁড়ালো। 
কিয়ারা বোরকা পরে এসেছে, আর বোরকার উপরে একটা শাল জড়িয়ে নিয়েছে। বাচ্চাদের শীতের পোশাক পড়িয়ে দিয়েছে। মাহাদ বাচ্চাদের নিয়ে সবার থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে এলো। কিয়ারা সবার থেকে বিদায় নিয়ে মিতালী খান কে নিয়ে কথা বলতে বলতে বেরিয়ে এলো। বাড়ির সবাই ওদের কে এগিয়ে দিতে বাহিরে এসে পরেছে। 
ঃ- সাবধানে থাকিস, বাচ্চাদের খেয়াল রাখিস। আর মাহাদের সাথে রাগারাগী করিস না মা!.. তাহলে ওরা তোকে খারাপ ভাববে, ভুল ও নিজেও করেছে, তুইও করেছিস। তাই তোরা খবরদার বাচ্চাদের সামনে আর রাগারাগী করিস না।
নীলাশা চৌধুরী মেয়ে কে বুঝিয়ে বলতে লাগলেন। তারপর কিয়ারার কপালে চুমু খেয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।‌ একে একে সবাই গাড়িতে উঠে বসলো। কিয়ারা SUV গাড়িটার দিকে এগিয়ে গেল। তারপর গিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়াতেই ভিতর থেকে দরজা টা খুলে গেল। কিয়ারা গম্ভীর হয়ে গাড়িতে উঠে বসলো। রাহুল সামনে ড্রাইভারের পাশে বসেছে। মাহাদ ও কিয়ারার মাঝখানে বাচ্চারা বসেছে। 
ঃ- আম্মু ঠান্ডা লাগছে?.. বাবা তোমার শীত করছে??.. 
কিয়ারা বাচ্চাদের জিজ্ঞেস করল। বাচ্চারা মাথা নাড়িয়ে না বললো। তারা আজকে ভীষণ খুশি, মা বাবা কে এই প্রথম বার একসাথে কাছে পেয়েছে। তাই মিরান ও মাহিরা ভীষণ খুশি হয়েছে। দু ভাই বোন মা বাবার হাত ধরে বসে আছে , কিছুক্ষণ পর পর খুশিতে হেঁসে উঠছে। 
কিয়ারা বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে আছে। এদের এই খুশি দেখার জন্যই তো নিজের সকল অসম্মান অপমান ভুলে ফিরে যাচ্ছে। মাহাদ ঘাড় ঘুরিয়ে কিয়ারার দিকে তাকালো, কিয়ারা ওকে তাকাতে দেখে অন্যদিকে ফিরে গেল। মাহাদ ঠোঁট কামড়ে হেঁসে সামনে ফিরে গেল। 
আজকে বাচ্চাদের মতো ওরও মন খুলে হাসতে ইচ্ছে করছে। কেননা মনে হচ্ছে আজকেই ওর পরিবার সম্পূর্ণ হয়েছে। কিয়ারা আড় চোখে একবার মাহাদের দিকে তাকালো। ইস্ ডং দেখো, কিভাবে মিটি মিটি হাসছে। অসভ্য লোক, এই লোকের সাথে ও একটুও কথা বলবে না। 
কিয়ারা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে গাড়ির ব্যাক সিটে শরীর এলিয়ে দিয়ে চোখ বুঝে নিল।‌ মাহাদ ওর মনের অবস্থা বুঝতে পেরে ওকে আর ডিস্টার্ব করলো না। ও বাচ্চাদের নিজের গাড়িতে থাকা এক্সট্রা শাল জড়িয়ে দিল। তারপর কিছুক্ষণের মধ্যে বাচ্চারাও ঘুমিয়ে পড়লো। আর মাহাদ সারা রাস্তা জেগে থেকেই মন ভরে নিজের ছোট্ট পৃথিবী দেখতে দেখতে বাড়ি পৌঁছে গেল। 
---চলবে--- 
ইনশাআল্লাহ

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন