ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রিয় রুহের মাহরাম (১ম খন্ড)

১ম পর্ব

লেখক: মারিয়াম হোসাইন

#প্রিয়_রুহের_মাহরাম🌿

#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন

পর্বঃ- ০১

🌿🌿🌿

ঃ- এই যে শুনছেন?...কে আপনি? কী হয়েছে আপনার?.. এমন করছেন কেন?.. আপনি কি গাড়ি এক্সিডেন্ট করেছেন?..এই যে! ভাইয়া।

অর্ধ জ্ঞান হারানোর অবস্থায় রক্তাক্ত ছেলেটির সম্মুখে বসে পড়ল কিয়ারা। নির্জন রাস্তায় মানুষের চিহ্নমাত্র নেই। অথচ এমন নির্জন রাস্তায় কপাল ফাটিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে যুবকটি। উদ্বিগ্নতায় কিয়ারা অচেনা লোকটির সাহায্য করতে চাইল। তাই হাঁটু গেড়ে লোকটির সম্মুখে বসে আলতো হাতে লোকটির গাল নাড়িয়ে সজ্ঞানে আনার চেষ্টা করে পুনরায় একই ভাবে ডাকল কিয়ারা ...

ঃ- এই যে ভাইয়া শুনছেন ? এই যে!

ডাকতে ডাকতে কিয়ারা নিজের গোলাপী রঙের শাড়ির আঁচলটা ছিঁড়ে তা দিয়ে তৎক্ষণাৎ অচেতন লোকটার কপাল চেপে ধরল রক্ত পড়া বন্ধ করতে। অস্থির কিয়ারা আবারও ডেকে বলল...

ঃ- এই যে, আমাকে শুনতে পারছেন? কে আপনি? এখানে এভাবে পড়ে আছেন কেন? আপনি কি গাড়ি এক্সিডেন্ট করেছেন ?..আপনি কি একা? আপনার সাথে আর কেউ নেই? এই যে শুনছেন?

কিয়ারার অনবরত ডাকে অর্ধ-বেহুঁশ লোকটি নিভে যাওয়া দুর্বল চোখে তাকাতে চাইল। চোখে পড়ল মাথায় সাদা হিজাবধারী ঝাপসা একটি মেয়েলি মুখ। ঠোঁটের কোণে একটা কালো তিল আছে, দুর্বলতার রেশ এতটাই যে ঠিকঠাক চোখ মেলে তাকাতে পারল না লোকটা।

তবে ঝাপসা চোখে কিয়ারার উদ্বিগ্নতা দেখে অস্পষ্ট স্বরে ঠোঁট নাড়িয়ে কী যেন বলতে চাইলো কিয়ারা সেটা বুঝতে পেরে তৎক্ষণাৎ মাথা ঝুঁকে কান পাতল লোকটির মুখ বরাবর। অচেনা লোকটি নিভে যাওয়া দুর্বল গলায় বলতে চাইল...

ঃ- আ-আমার...মিষ্টি প্রয়োজন! আ-আমাকে মিষ্টি জাতীয় কিছু দেন মিস!... এক্ষুনি লাগবে।

লোকটির অস্পষ্ট স্বরে কথাগুলো কিয়ারা বুঝতে পেরে মাথা তুলে তাকাল লোকটির দিকে। বেশ অদ্ভুত লাগল লোকটিকে কিয়ারার কাছে। এক্সিডেন্ট করে,মাথা ফাটিয়ে রাস্তায় পড়ে আছে, নিজের জীবন-মরণ প্রশ্ন নিয়ে সেদিকে লোকটার খেয়াল নেই। অথচ সেসব চিন্তা না করে কিয়ারার কাছে এই অসময়ে মিষ্টি চাইছে? মিষ্টি দিয়ে কী করবে এই লোক?

কিয়ারা তখনো বুঝল না হঠাৎ লোকটির মিষ্টি চাওয়ার কারণটা। তাই শাড়ির আঁচল লোকটির কপালে চেপে রেখে আগের মতো বলল ...

ঃ- মিষ্টি? মিষ্টি দিয়ে কী করবেন আপনি? আপনার শরীরের যা অবস্থা, আপনাকে দ্রুত ডাক্তারের কাছে না নিলে আপনি আরও অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন ভাইয়া। আপনাকে সাহায্য করতে...

কিয়ারা কে বলতে না দিয়ে লোকটি ফের হাঁপিয়ে উঠে দুর্বল গলায় বলল...

ঃ- আমার ডায়াবেটিস এর প্রবলেম আছে মিস। সুগার প্রয়োজন। মিষ্টি কিছুর ব্যবস্থা করুন ফাস্ট।

কিয়ারা চমকে উঠল লোকটির কথায়। ডায়াবেটিসের সমস্যা কিয়ারার বাবারও হয় মাঝে মধ্যে। তখন মিষ্টি জাতীয় খাবার প্রয়োজন হয়। কিয়ারা দ্রুত নিজের কাঁধের ছোট পার্সটা ঘেঁটে একটা ডেইরি মিল্ক চকলেট হাতে নিল।

চকলেটের উপরের কাগজটা ছাড়িয়ে দ্রুত এক টুকরো চকলেট লোকটার মুখে তুলে দিল। আপাতত মিষ্টি বলতে ওর কাছে এটাই আছে। আর মিষ্টি তো আর কেউ সাথে সাথে নিয়ে ঘুরে না!..

আজ কিয়ারার এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট বেড়িয়েছে। বড় ভাই কিয়ানের সঙ্গে সেই উপলক্ষে গাজীপুরের দিকে এসেছিল ঘুরতে। বেশ ফুরফুরে সারাটা দিন কাটাল আনন্দ করে। সাথে অবশ্য চাচাতো বোন কিরণ ও ছিল। এই যে অচেনা অজানা লোকটাকে ও নিজের চকলেট খাওয়াচ্ছে, সেটাও রেজাল্ট এর উপহার পাওয়া চকলেট ছিল কিয়ারার।

চাচাতো ভাই কায়রান দিয়েছিল কিয়ারা কে আসার সময় আজ। এতক্ষণ যাবত কিয়ারা কিয়ানদের সঙ্গেই ছিল। দিন গিয়ে সন্ধ্যা হওয়ার পর সবাই পুনরায় উত্তরার উদ্দেশে ফিরে যাচ্ছিল। কিন্তু পথিমধ্যে হঠাৎ কিয়ানের বাইক চলতে চলতে থেমে যায়। তারপর কিয়ান বাইক চেক করতে গিয়ে বুঝল তেল ফুরিয়ে গেছে, সাথে টায়ার ও পাংচার। এজন্য মূলত কিয়ান বিপাকে পড়ে আর উত্তরার উদ্দেশে যেতে চাইল না।

বরং ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় থেকে গেল। আশেপাশে খুঁজে একটা হোটেলের দুটো রুমও বুকিং করল। একটা নিজের জন্য, অন্যটা কিরণ আর কিয়ারার জন্য। হোটেল থেকে খাওয়া দাওয়া করে বেশ কিছুক্ষন পর বোনদের নিয়ে পার্শ্ববর্তী মার্কেটে বের হয়েছিল কিয়ান, বাড়ির লোকেদের জন্য অল্পস্বল্প কেনাকাটা করতে। কিন্তু কিয়ারা কীভাবে যেন ওদের থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং এই অচেনা লোকটির খপ্পরে পড়ে যায় সাহায্য করতে। তারপর থেকে কিয়ারা আর বলতে পারছে না সে কোথায় আছে। আর এই অচেনা লোকটিই বা কে? যাকে ও সাহায্য করতে চাইছে।

কিয়ারা লোকটিকে ধীরে ধীরে পুরোটা চকলেট খাওয়ানোর পর লোকটা খানিকটা স্বস্তি পায়। বড় বড় নিশ্বাস ফেলে কিয়ারার পাশ ঘেঁষে শরীর ছেড়ে দেয় দুর্বলতায়। কিয়ারা , ভড়কাল, হতবিহ্বল হয়ে গেল লোকটির হঠাৎ এই কাণ্ডে। জড়তায় সিঁটিয়ে শিরশির করে উঠল শরীর-মন। কম্পনের দেখা মিলল ওর ছোট শরীরে। কিয়ারা কাঁপা কাঁপা হাতে ফের লোকটির মাথায় শাড়ির আঁচলটা ভালো করে চেপে ধরে বলল...

ঃ- এই যে শুনছেন ভাইয়া! আপনি কি গাড়ি এক্সিডেন্ট করেছেন?...

আপনার সাথে আর কেউ নেই?..

এই যে!... ভাইয়া...

লোকটি কোন সাড়া দিল না।

কিয়ারা আবারও বললো...

ঃ- এই যে ভাইয়া আপনার ফোন টা দিন। আপনার ও আমার বাড়িতে ফোন করে জানিয়ে দিই, যে আমরা মাঝরাস্তায় বিপদে পড়েছি। আমাদের যেন তাড়াতাড়ি এসে এখান থেকে নিয়ে যায়। আবহাওয়া ভালো না। দেখুন কি রকম ঝড় বাতাস বইছে। যেকোনো সময় মুষলধারে বৃষ্টি নেমে যেতে পারে। আর আমি এদিকের রাস্তাঘাট কিছুই চিনি না। তাই দয়া করে আপনার ফোন টা দিন আমাকে। বাড়িতে কল দিয়ে জানিয়ে দিই।

লোকটির মস্তিষ্ক অবধি পৌঁছাল না কিয়ারার কথাগুলো। দুর্বলতায় চোখ বন্ধ করে পড়ে আছে কিয়ারার কোলে। কিয়ারা নিজের অবস্থান অবলোকন করে ঠোঁট ভেঙে কান্না করে দিল। বেশ আচ্ছা মতো ফেঁসেছে তো সে। না নিজের একটা ফোন আছে, আর না লোকটা কিছু বলছে।

এদিকে রাতটা অনেক বেশি হয়ে গেল। তার উপর আবার আকাশের অবস্থাটাও বেশ খারাপ। যেকোনো সময় আকাশ ফেটে বৃষ্টি নামল বলে। প্রবল বাতাসে ফুটপাতের ধুলো পর্যন্ত গোল গোল ঘুরছে। এমন অবস্থায় কিয়ারা চোখে অন্ধকার দেখছে অচেনা অজানা লোকটিকে নিয়ে এই মাঝ রাস্তায়। কিয়ারার প্রবল কান্না পেল এই অসহায়ত্বে। সে নিজেও এই শহরের রাস্তাঘাট চেনে না।

বর্তমানে যে জায়গায় কিয়ারা আছে, সে জায়গাটার নামটাও জানা নেই ওর। কিয়ারা কী করবে বুঝতে পারছে না । শূন্য মস্তিষ্কে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে ঠোঁট ভেঙে কেঁদে উঠলো। তারপরও অচেনা লোকটিকে একা ছেড়ে গেল না। কিয়ারা চলে যেতে চাইলেও সেই রাস্তা বন্ধ। কারণ এখানের কোনো কিছুই ওর পরিচিত নয়। দেখা গেল এই লোকটাকে রাস্তায় ফেলে সে চলে গেল, কিন্তু কিছু দূর যেতেই আরও বড় কোনো বিপদের সম্মুখীন হয়ে গেল, কোনো বখাটে ছেলেদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারালো ,তখন কিয়ারা কী করবে?

ভয়ার্ত কিয়ারা মুখ তুলে আশপাশ পর্যবেক্ষণ করল। আপাতত আশেপাশে কোনো মানুষ তো ভালো কোন কুকুরের চিহ্ন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। যে কারও কাছ থেকে সাহায্য চাইবে ওহ। অসহায় কিয়ারা লোকটির কাঁধ চেপে কোনো মতে ধরে বসাতে চাইলে দুর্বলতায় লোকটি ফের নেতিয়ে পড়ল কিয়ারার কাঁধের উপর কপাল ঠেকিয়ে। অদ্ভুত শিহরণে কিয়ারার কিশোরী মন কেঁপে উঠল। কাঁপা কাঁপা হাতে লোকটির দু-বাহু ধরে বলল...

ঃ- এই যে ভা..ভাইয়া আ..আমাকে শুনতে পাচ্ছেন? আপনার ফোনটা কোথায় বলুন না প্লিজ।

তৎক্ষণাৎ শোনা গেল লোকটার মৃদু স্বরের ধ্বনি...

ঃ- দ্রুত কোনো সেইফ জায়গায় চলুন মিস। নয়তো বিপদ আমাদের কাছাকাছি। এই এরিয়াটা ভালো নয়। এ... এটা ভালো জায়গা নয়। ফাস্ট চলুন!..

ভয়ে কিয়ারা অস্থির হয়ে উঠলো। মনে কিছু সাহস জুগিয়ে অচেনা লোকটিকে ধরে উঠাতে চাইল। কিন্তু বলিষ্ঠবান লোকটির ওজনের সঙ্গে পারল না কিয়ারা। হাঁপিয়ে উঠল লোকটিকে দাঁড় করাতে গিয়ে। সেই সাথে উঠতে গিয়ে বেখেয়ালি লোকটির পায়ের নিচে শাড়ির কুঁচিগুলো পড়ে খুলে গেল তরতর করে।

আঁতকে উঠে কিয়ারা তৎক্ষণাৎ বাম হাতে খুলে যাওয়া শাড়ির কুচিগুলো ধরে এলোমেলো ভাবে পুনরায় কোমরে গুঁজে নিল। লোকটাকে ধরে দাঁড় করাতে গিয়েও কিয়ারা আরেক ঝামেলায় পড়ল, যখন দেখল কিয়ারা হাইটে লোকটির কাঁধ বরাবর হলো তখন। তারপর আবার লোকটির বডি ফিটনেস কিয়ারার সাধ্যের বাইরে ছিল। এত বড় মানুষকে কীভাবে কিয়ারা কাঁধে ভর দিয়ে সামনে এগোবে? যদি সে লোকটিকে পুরোপুরি নাগাল-ই না পেল?

অসহায় কিয়ারা এবার বেশ কান্না পেল। ও আর একটু লম্বা হলে কী এমন হতো? অন্তত লম্বা জোরে নাহয় এই লোকটিকে এই মুহূর্তে ঠিকঠাক সাহায্য করতে পারত। কিয়ারার এই ভাবনার মাঝেই পুনরায় আঁতকে উঠল, যখন বুঝতে পারল অজানা লোকটি কিয়ারার কাঁধ চেপে নিজের ভর ফেলছে ওর উপর। লোকটি বেশ লম্বা হওয়ায় কিয়ারার দিকে অনেকটাই ঝুঁকে পড়তে হয়েছে তাকে।

কিয়ারা কেঁপে উঠে বাঁধা দিতে চাইলে বুঝতে পারল লোকটির অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে ক্রমে ক্রমে। লোকটি নিজের দুর্বলতায় ঠিকঠাক দাঁড়াতে পারছে না বলে সে ওর উপর নিজের ভার ছেড়ে দিচ্ছে ধীরে ধীরে। তাছাড়া কিয়ারা যদি দ্রুত এই ঝড়-ঝাপটার মাঝে লোকটিকে নিয়ে সেইফলি কোনো জায়গায় না পৌঁছায়, তাহলে আরও বিপদে পড়বে তারা দু-জন।

অজানা লোকটি যেকোনো সময় জ্ঞান হারাতে পারে বলে মনে হচ্ছে কিয়ারার । অসহায়, আতংকিত কিয়ারা নিজের কাঁধের উপর লোকটির হাত চেপে ধরে সামনে এগোল। লোকটার হাইট আর ওয়েট সামলাতে গিয়ে ও বারবার খেই হারিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়তে গিয়েও নিজের ব্যালেন্স সামলিয়ে সামনে এগোল। বেশ অনেকটা পথ এলোমেলো হাঁটার পর দেখা মিলল এক অর্ধবয়স্ক লোকের সাথে। দ্রুত পায়ে হাঁটছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যক্রমে দেখা মিলল ওদের সাথে।

কিয়ারা বেশ আকুতি মিনতি করে সাহায্য চাইল নিজের আর অজানা লোকটির জন্য। বয়স্ক লোকটি প্রথমে অচেনা যুবক-যুবতীকে সাহায্য করতে মন বাঁধলেও মুখে কিছু বলল না মানবতার খাতিরে। বরং নিশ্চুপে এগিয়ে আসল কিয়ারার দিকে সাহায্য করতে। কিয়ারার কাঁধ থেকে অচেতন লোকটিকে নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে এগোল নিজের বাড়ির দিকে। কিয়ারা তাদের পিছন পিছন গেল। কিন্তু বিপদ বাজল অর্ধবয়স্ক লোকটির বয়স্ক বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে। তিনি কিয়ারা আর র'ক্তা'ক্ত যুবকটির অবস্থা দেখে বেঁকে বসলেন। সাহায্য করতে অমত করলেন।

উনার ধারণা ওরা প্রেমিকযুগল। এবং তারা পরিবারের চাপে পালিয়ে এসে হোটেল রুমে আশ্রয় নিয়ে পাপ করতে গিয়ে দুজন পুলিশের কাছে ধরা খেয়েছে এই ঝড়-ঝাপটার রাতে। উনার ধারণা মতে কিয়ারা আর ছেলেটি পুলিশের হাতে মার খেয়ে পালিয়ে এসেছেন উনার বাড়িতে আশ্রয় নিতে। বয়স্ক লোকটির এমন চিন্তা-ভাবনা অনুযায়ী ওকে এক চোট কথা শুনিয়ে ফেলেছেন এসব বিশ্লেষণ করে। অবশ্য বৃদ্ধা লোকটির এমন সব বিশ্লেষণ করার পিছনে যথেষ্ট কারণও আছে। আর সেটা হলো ওর পরনের এলোমেলো শাড়ি, আবার তাঁতে আঁচল টাও ছেঁড়া ।

অচেতন যুবকটির ইন করা শার্ট-প্যান্টের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য মূলত উনার অপবিত্র ধারণা আসল মনে ওদের কে নিয়ে। বৃদ্ধা লোকটার কথায় কিয়ারা কান্না করতে করতে নিজের দিকে তাকায়। অজানা লোকটিকে নিয়ে টানাটানি করাতে ওর গায়ের শাড়িটা অগোছালো হয়ে গেছে, সঙ্গে অবশ্য রক্তের লাল লাল দাগের ছিটায় সমস্ত শাড়ির তলিয়ে আছে। দূর্ভাগ্যবশত মায়ার মাথার হিজাবটাও ঠিক নেই। শাড়ির আঁচলটাতো পূর্বেই লোকটির রক্ত পড়া বন্ধ করতে ছিঁড়ে বেঁধে দিয়েছে লোকটির কপালে।

তাই উনার ধারণা হতেই পারে ও পাপ কাজে বেরিয়েছিল এই অচেনা লোকটির সাথে। কিয়ারা ঠোঁট চেপে কান্না আটকাতে চাইল। এ কেমন পরিস্থিতির শিকার হলো সে। এখন ও কিছু বললেও যে কেউ কিছুই বিশ্বাস করবে না, সেটা লোকটার তীক্ষ্ণ কথা শুনেই বুঝতে পারছে । কিয়ারা নিশ্চুপে কান্না করল, তারপরও মুখে কিছু বলল না।

ও নিজের চরিত্রে এই মিথ্যা অপবাদ মানতেই পারলো না। সাহায্যকারী অর্ধবয়স্ক লোকটির বাবা মসজিদের ইমাম , ইমামতির সাথে সাথে তিনি এলাকার গণ্যমান্য কাজী হিসেবে বেশ পরিচিত। তিনি শুধু অত্র এলাকার ছেলে-মেয়েদের বিয়েই নয়, বরং আশেপাশের পাঁচ এলাকার মানুষের বিয়েও দিয়ে থাকেন।

এমন সম্মানিত ব্যক্তির ঘরে কখনোই পাপধারী মানুষের জায়গা হবে না বলে তিনি মনে করেন। কিন্তু এই ঝড়-ঝাপটার রাতে এদের সাহায্য না করে বের করে দেওয়াটাও ঠিক হবে না। এতে আল্লাহ অখুশি হতে পারেন। অসহায় মানুষের সাহায্য করা উনার ধর্মের শিক্ষা। উনি অচেনা ছেলে-মেয়েদের সাহায্য করবেন, তবে হালালভাবে। বৈধভাবে।

পবিত্র ভাবে ‌। বৃদ্ধা কাজী লোকটা নিজের মোটা ফ্রেমের চশমার ভিতর দিয়ে চোখ উঁচিয়ে আবারও এক পলক তাকাল কিয়ারা আর র'ক্তা'ক্ত যুবকটির দিকে। অন্ধকারের ঘোরে কারও চেহারা স্পষ্ট হলো না উনার কাছে। তবে অচেনা যুবকটিকে বেশ চেনা চেনা লাগল উনার কাছে। তিনি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে যুবকটিকে আরও এক পলক দেখে নিয়ে নিজের ছেলেকে অনুমতি দিলেন সবাইকে নিয়ে ভিতরে যেতে।

ঃ- ওদের ভিতরে নিয়ে যাও মহেজ।"

ঃ- জ্বি আব্বাজান!...

বাবার অনুমতি পেয়ে অচেতন যুবকটিকে নিয়ে ভিতরে গেল মহেজ সাহেব। পিছন পিছন কিয়ারাও গেল। যুবকটিকে ধরে বিছানায় শুইয়ে দিতেই পিলে চমকে উঠলেন মহেজ সাহেব। আতঙ্কিত চোখে বিছানায় শয্যাশায়ী যুবকটির দিকে তাকিয়ে তৎক্ষণাৎ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালেন একটু দূরে দাঁড়ানো কিয়ারার দিকে।

ওকে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত চোখ বুলিয়ে দেখে দ্রুত বের হয়ে গেল রুম থেকে নিশ্চুপে। কিয়ারা হাঁসফাঁস করল মহেজ সাহেবের অদ্ভুত দৃষ্টিতে। তিনি চলে যেতেই ও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। ধীরে পায়ে এগিয়ে গেল যুবকটির কাছে। হালকা ঝুঁকে পড়ল যুবকটির অবস্থান অবলোকন করতে।

লোকটির নড়াচড়া না দেখে ও আস্তে করে বসল লোকটির পাশে। কিছুই ভালো লাগছে না ওর। অচেনা জায়গায় অচেনা মানুষের সাথে বসে থেকে কিয়ারার মনে বিপদের ভয় হচ্ছে। আবার না জানি কিসের মধ্যে পড়ে যায় ওহ।

—চলবে—

ইনশাআল্লাহ

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন