ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রিয় রুহের মাহরাম (১ম খন্ড)

১২তম পর্ব

লেখক: মারিয়াম হোসাইন

#প্রিয়_রুহের_মাহরাম 🌿

#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন

পর্বঃ- ১২

🌿🌿🌿

এক বুক হতাশা ছেয়ে গেল সবার মাঝে, ওদের নিরাশা যেন চারপাশ থেকে ঘিরে নিয়েছে। কিরণ চুপ হয়ে যেতেই মেঘলা বলল...

ঃ- আচ্ছা এই কাজী অফিস ছাড়া কী অন্য কোনো কাজী অফিস আছে আশেপাশে? অথবা এই এলাকায়?..

ঃ- হ্যাঁ আছে। এই এলাকার পূর্ব দিগন্তে সৈয়দ কাজীর অফিস আছে। আপনারা সেখানে খোঁজ করে দেখতে পারেন।

ঃ- আমরা সেখান থেকেই এসেছি মাত্র। ওরাই আমাদের এখানের অফিসের ঠিকানা দিয়েছে। ওদের কাছেও আমাদের কাঙ্ক্ষিত কাবিননামা পায়নি।

'ঃ- তাহলে দুঃখীত !..জনাবা, আর কোনো কাজী অফিস নেই এই এলাকায়। আপাতত এই দুটোই আছে। আপনারা হয়তো ভুল এলাকায় এসেছেন মনে হয়।

একরাশ হতশা নিয়ে উঠতে চাইল সবাই। কিন্তু কিয়ারা বসে রইল। কারণ ওকে যে ঐদিন রাতে বিয়ে দিয়েছিল ঐ কাজীর নামটা না জানলেও উনার ছেলে মহেজ সাহেবের নামটা ঠিকই মনে পড়েছে কিয়ারার। সেই ভদ্রলোক ওদের সেদিন রাতে সাহায্য করেছিল। হয়তো এখন উনার নামটা বললে বাকি পরিচয়টা পেয়ে যাবে। তাই কিয়ারা প্রশ্ন করে বললো…

ঃ- আচ্ছা আপনি মহেজ সাহেব নামে কাউকে চিনেন এই এলাকার? উনার একটা ছেলেও আছে হয়তোবা শফিক নামের।

কিয়ারার কথায় সবাই আবার বসে পড়ল। কৌতূহলী হয়ে চোখ ঘুরাল কিয়ারার দিকে। কাজী সাহেবও ওর প্রশ্নের পাল্টা একটা প্রশ্ন করল কিয়ারা কে...

ঃ- কোন মহেজ সাহেবে কথা বলছেন আপনি? কোন গলির মহেজ ?..

ঃ- কোন গলির সেটা আপাতত বলতে পারছি নাহ । তবে উনার বাবাও মানুষের বিয়ে পড়ান। কাজীর টাইপের মানুষ ছিল উনার বাবা আর সেই সাথে কোন মসজিদের ইমাম হন । আমার এতটুকু জানা আছে মাত্র।

আমার কথায় উনি দ্রুত সম্মতি দিয়ে বলল...

ঃ- আচ্ছা! আচ্ছা! আপনি কাজী মোল্লা হুজুরের কথা বলছেন? উনিই মসজিদের ইমামতি করতেন । উনার কথাই বলছেন হয়তো আপনি..।

সঠিক জানা নেই কিয়ারার যে সেটা এই লোকটাই কিনা। তারপরও শেষ সম্বল মনে করে সম্মতি দিয়ে বললো...

ঃ- জ্বি জ্বি !. উনিই। উনার বাসার এড্রেসটা দেওয়া যাবে? তাহলে আমাদের অনেক উপকার হতো।

ঃ- হ্যাঁ অবশ্যই। আমি এক্ষুনি এড্রেসটা লিখে দিচ্ছি। তবে এখান থেকে বেশ দূরে নয় হুজুরের বাড়ি। মিনিট দশেক পথ গেলেই সামনে পেয়ে যাবেন হুজুরের বাড়ি।

ঃ- জ্বি আচ্ছা! ধন্যবাদ! আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনি হয়তো জানেন না আমাদের কত বড় উপকার করলেন।

লোকটার থেকে কাগজের টুকরোটা হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো কিয়ারা। ওর সাথে সাথে বাকিরাও উঠে দাঁড়াল। সবার চোখেমুখে কৌতূহলের ঝড় বইছে। ওরা হয়তো ভাবছে এই নামটা এতক্ষণ যাবত ওদেরকে কেন বললো না। আসলে নামটা কিয়ারার নিজেরও স্মরণে ছিল না। হঠাৎ করেই স্বরনে এলো এই নামটা । এবার দেখা যাক এটা সত্যি সত্যিই সেই লোকটার বাড়ি কী না। আর সেটা তো এই ঠিকানায় গেলেই জানা যাবে।

~~

অনেক চেষ্টায় অবশেষে সফল হলো ওরা, এতো কিছুর পরে ওদের বিয়ে দেওয়া সেই কাজি বাড়িতে পৌছাতে সক্ষম হলো। এই মূহুর্তে ওরা সবাই দাঁড়িয়ে আছে সেই মহেজ সাহেবের বাড়িতে। এই বাড়ি থেকেই কিয়ারার বিয়ে হয়েছিল দেড় বছর আগে সেই অজানা অচেনা লোকটার সাথে। অবশেষে এতো বাঁধ পেরিয়ে স্বামী নামক লোকটার পরিচয় পেতে যাচ্ছে বলে ওর বুকের ভিতর অজানা একটা অস্থিরতা কাজ করছে। মনে হচ্ছে হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে।

ওরা মহেজ সাহেবের বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে আছে, ওদের ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আছে কিয়ারার বলা সেই শফিক নামের মহেজ সাহেবের ছেলে। এই ছেলেকেই তো কিয়ারা ওর বিয়ের রাতে একটু করে দেখেছিলো মহেজ সাহেব আর তার আব্বা কাজী মোল্লার পিছনে দাঁড়িয়ে থাকতে।

ছেলেটার চেহারাটা মনে ছিল না তবে এখানে এসে ছেলেটার চেহারা ওর একটু একটু চেনা চেনা লাগছে।এই মূহুর্তে ওদের সবার মাঝে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। আর সেই উত্তেজনা থেকেই শফিক নামক ছেলেটি কে প্রথম প্রশ্নটা করলো মাইমুনা...

ঃ- আমরা অনেক দূর থেকে মহেজ সাহেবের খোঁজে এসেছি ভাইয়া। উনি কি এখন বাসায় আছেন?...

বোরকা পরিহিত ওদের সাত জন মেয়েদের দিকে এক পলক তাকিয়ে দেখলো ছেলেটি। এতো গুলো মেয়ের সাথে একত্রে কথা বলতে বেশ উসখুস করতে দেখাল তাঁকে। এজন্য ওদের থেকে চোখ সরিয়ে তাকাল মাইমুনার দিকে। বিনীত সহিত বলল...

ঃ- জ্বি না!.. আব্বা রাজেন্দ্রপুরে নেই। উনি কুমিল্লায় আছেন, বিগত কয়েক মাস ধরে।

মেঘলা ফট করেই প্রশ্ন করে বসল....

ঃ- আ.ব..উনি ঐখানে কি করেন?...আর ঠিক কবে আসবেন?..

ঃ- জ্বি আসলে ঐখানে আমাদের গ্ৰামের বাড়ি আমার দাদাজান কে নিয়ে গেছেন আব্বা কোন জরুরী কাজে। তবে কবে আসবে সেটা ঠিক করে বলতে পারছি না।

ছেলেটির কথায় এবার কিরণ বলল...

ঃ- আসলে আমরা অনেক বিপদে পরে আপনার আব্বার কাছে এসেছিলাম সাহায্যের জন্য। আপনার দাদাজান আমার ছোট বোনের বিয়ে দিয়েছিল দেড় বছর আগে আপনাদের বাড়িতে, এজন্য উনার সাথে জরুরি ভিত্তিতে দেখা করতে চাই। আমরা তাই সেই গাজীপুর থেকে এসেছি। অনেক কষ্টে আপনাদের বাড়ির ঠিকানা টা পেয়েছি আর এই পর্যন্ত এসেছি।

কিরণের কথায় হাল্কা ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল ছেলেটি। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ওদের সবাইকে এক পলক দেখে বলল...

ঃ- বিয়ে পড়ানোর কাজ তো আমার দাদা অনেক আগে থেকেই করতো। আপনার বোনের বিয়ে যদি আমাদের বাড়ি থেকে হয়ে থাকে, তাহলে সেটা আমার দাদাভাই-ই দিয়েছিলেন আপনি হয়তো ঠিক বলছেন।

ছেলেটির কথায় তৎক্ষনাৎ ওদের সবার চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠল‌। আর তখনই একদম হুট করেই ঝটপট উত্তরে কিয়ারা বলে উঠলো...

ঃ- হ্যাঁ হ্যাঁ আপনার আব্বা নয় তো আপনার দাদার কথাই বলছি। উনিই আমাকে বিয়ে দেওয়া কাজী ছিলেন। উনি কোথায় , উনাকে একটু ডাকুন দয়া করে।

হটাৎ চমকে উঠে ছেলেটি কিয়ারার দিকে তাকাল। ওর এমন হুট করে বলা কথায় যেন সবাই ই বেশ চমকে গেল। কিয়ারা যে এমন ভাবে নিজের বিয়ের বিষয়টা ফাস করে দিবে এটা ওর বান্ধবীদের ধারণাই ছিল না। কারণ এখানে আসার আগে ওদের কথাই ছিল কেউ যেন ভুলেও না বলে খুদ পাত্রী নিজেই নিজের কাবিননামা এতো তোড়জোড় করে খুঁজতে এসেছে।

আর তাই এই ওয়াদা কেউ ভঙ্গ করেনি কিন্তু কিয়ারা অতিমাত্রায় উত্তেজিত হয়ে মুখ ফসকে বলে ফেলল। এই হুটহাট করে মুখ স্লিভ করার বিষয়টির জন্য না জানি কোনদিন বড় ধরণের বিপদে পড়তে হয় ওকে, আল্লাহ জানে। কিয়ারা বান্ধবীদের কড়া দৃষ্টি এড়াতে ছেলেটির দিকে তাকালো । ছেলেটি বিস্ময় কাটিয়ে বলল...

ঃ- আমার দাদা কথা বলার মতো সুস্থ নেই। উনি এক্সিডেন্ট করে সম্পূর্ণ প্যারালাইসিস আজ বিগত এক বছর হয়েছে। সেই থেকেই দাদাজানের কাজী অফিসটা বন্ধ। আর তাই আপনাদের এতো কষ্ট করতে হয়েছে।

শফিক নামক ছেলেটির কথায় মাথা চক্কর দিয়ে উঠল সবার। তৎক্ষনাৎ হতাশার অন্ধকার চোখে মুখে ফুটে উঠল। এতো কষ্ট করেও কি অবশেষে অচেনা অজানা স্বামী নামক লোকটার পরিচয় পাবে না?

এই কাজী সাহেবই তো চিনতেন ওর স্বামী নামক লোকটাকে। এখন তিনি যদি কথা বলার মত অবস্থাতেই না থাকেন তাহলে কিভাবে পৌছাবে ঐ লোকটা অবধি? হতাশার অন্ধকারে যখন কিয়ারার গলা শুকিয়ে আসছিল, তখন সাফা আশার আলো জ্বালিয়ে দ্রুত প্রশ্ন করলো ছেলেটাকে, বলল...

ঃ- আপনার দাদাজান নাহয় অসুস্থ । আর তাই উনার অফিস বন্ধ হলেও উনার কাজী অফিসের কাগজ পত্র তো এখনো রয়েছে তাই না? ওখানে নিশ্চয়ই বিয়ের পুরাতন রেজিস্ট্রার খাতা গুলো আছে?

আসলে আমাদের ২০১৮ সালের মার্চের তিন তারিখের বিয়ে পড়ানো সকল লিস্টা গুলো লাগবে। এই তারিখে আপনাদের বাড়িতে কিয়ারা চৌধুরী নামক একটা মেয়ের বিয়ে দিয়েছিল আপনার দাদাজান। এই মেয়েটিই আমার বান্ধবী ওহ , কিয়ারা কে দেখিয়ে বললো।

ওর কাবিননামাটা আমাদের খুব দরকার। আপনি কি একটু কষ্ট করে আপনার দাদার অফিসের পুরাতন রেজিস্ট্রার খাতা ঘেঁটে আমাদের সেই কাবিননামার একটা ছবি দিতে পারবেন?

একটা ছবি হলেও হবে আসলে আমরা অনেক আশা নিয়ে এসেছিলাম এখানে। দয়া করে আমাদের আশা ভাঙ্গবেন না। কষ্ট করে আমাদের একটু সাহায্য করুন না, দয়া করে এই নামের কাবিননামা টা খুঁজে দিন।

সাফার এমন কথায় যেন এক আকাশ সমান চমকে উঠল ছেলেটি। ওর কথা শেষ হতে না হতেই ঝড়ের গতিতে কিয়ারার দিকে তাকিয়ে বলল...

ঃ- আপনিই তাহলে সেই মেয়ে?.. যার উদ্দেশ্যে কিছুদিন আগে কিছু লোক এসেছিল আমাদের বাড়িতে। তারাও আপনাদের মতো করে একই তারিখের কাবিননামার কাগজটার খোঁজ করছিল। উনি সম্ভব আপনার স্বামী হবেন আবার নাও হতে পারে।

কারণ লোকটার সাথে আরও দুজন মানুষ ছিল একই রকম কালো পোশাক পরিহিত তাই ঠিকঠাক বলতে পারছিলাম না কোন লোকটা আপনার স্বামী হবে।

ছেলেটির কথায় এবার ওদের মাথায় সম্পুর্ন আকাশটা ভেঙ্গে পরলো। সবর্নাশ !..সেই অচেনা অজানা লোকটা কিয়ারার খোঁজ করছে? কিন্তু কেন? ওকে দিয়ে তার কি প্রয়োজন? নিশ্চয়ই কোনো খারাপ মতলবো হতে পারে।

ভয়ে ওদের সবার কলিজা শুকিয়ে কাঠ। সেই সাথে তুমুল উত্তেজনা দেখা গেল ওদের এক একেকজন বান্ধবীদের চেহারায়। ওরা একে একে ছেলেটিকে প্রশ্ন করতে লাগল। প্রথমে রাফিয়া বলল..

ঃ- ভাইয়া আপনি কি উনাদের কাবিননামার কাগজটা দিয়ে দিয়েছেন?

ঃ- নাহ দেয়নি! কারণ...

ছেলেটিকে বলতে না দিয়ে তাড়াহুড়ো করে বৃষ্টি বলল...

ঃ- অনেক ধন্যবাদ!..কাগজ টি না দেওয়ার জন্য । এখন যান কাবিননামার কাগজটি আমাদের জন্য নিয়ে আসুন। যান! তাড়াতাড়ি যান ভাইয়া।

শফিক নামক ছেলেটি কিয়ারা কে দেখিয়ে বলল...

ঃ- কিন্তু উনার কাবিননামার কাগজটি তো আমার কাছে নেই। সেটা তো...

আবারও ছেলেটিকে বলতে না দিয়ে কিরণ বলল...

ঃ- সেকি নেই মানে? কাবিননামার কাগজ দিয়ে আপনারা কি করেছেন? কাজী অফিসে তো বিয়ের কাবিননামার একটা কাগজ থাকেই তাহলে আপনাদের কাছে থাকবে না কেন বলুন?

সবার এতো এতো প্রশ্নে ছেলেটি এবার বেশ বিরক্ত হয়ে বললো...

ঃ- আপনারা দয়া করে আমাকে আমার কথা টা তো শেষ করতে দিন। আপনারা সবাই এতো প্রশ্ন করলে আমি উত্তর দিব কিভাবে?

অদ্ভুত!..

সাফা সবাইকে থামিয়ে দিয়ে শান্ত কন্ঠে বলল...

ঃ- আপনি বলুন ভাইয়া, আমরা আপনার কথা শুনছি। এই উনার কথার মাঝে কেউ হস্তক্ষেপ করবি না।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে ছেলেটি বলতে লাগল...

ঃ- আসলে দাদার অফিসের ইলেক্ট্রক শর্টসার্কিটের কারণে হঠাৎ করে একদিন আগুন লেগে যায়। সেই আগুনে অফিসের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আর সেই একই দিনে আমার দাদাজান গাড়ি এক্সিডেন্ট করে, তাই তখন আমরা তাকে নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম।

আর তখন হঠাৎ করে এদিকে এই বিপদ হয়ে যায়। তাই তখন অফিসের কিছুই বাঁচাতে পারিনি। এজন্যই মূলত আপনাদের এই মূহুর্তে সাহায্য করতে পারছিনা। কারণ আমাদের কাছে আর কিছুই নেই। একিই কথা আমি সেদিন ঐ লোক গুলোকেও বলেছিলাম।

তিনটা লোক এসেছিল। আর আমাকে আপনার বিয়ের কাবিননামাটা দিতে বলেছিল। আমি কাবিননামাটা দিতে না পারায় আপনার তথ্য চাচ্ছিল আমার কাছে। আপনি আমাদের পরিচিত কেউ হন কিনা বা আপনি কখনো কাবিননামা খোঁজে এখানে এসেছেন কিনা কাউকে নিয়ে এসব। আমি না করেছিলাম সেদিন কারণ আপনি তো এতোদিনে আসেননি।

কিন্তু আজ আপনি আসবেন আমি ভাবতেও পারিনি। এমনটা জানলে আমি তাদের নাম্বার রেখে দিতাম। কল করে বলতাম আপনারা এখানে এসেছেন। আসলে আমি যতদূর বুঝলাম ওরাও আপনায় খুঁজছে। কিন্তু কেউ কারও খোঁজ পাচ্ছেন না।

ছেলেটির কথায় রাফিয়া বলল...

ঃ- আপনার কাছে উনাদের কোনো তথ্য আছে? উনারা কোথাকার মানুষ? নাম কি তাদের? এমন কোনো তথ্য আছে আপনার কাছে? দিতে পারবেন? তাহলে অন্তত কিছুটা সাহায্য হতো ।

ঃ- জ্বি না পারব না। আসলে তখন বিষয়টি এতো গুরুত্ব দেয়নি। লোক গুলো আমাকে যা প্রশ্ন করেছিল আমি সেই প্রশ্নের ঠিক ঠিক উত্তর করেছিলাম শুধু। তাছাড়া সবার মুখে মাক্স পরা ছিল তাই কাউকে চেনার উপায় ছিল না আমার।

তবে উনাদের কথায় বুঝলাম ওরা ঢাকার মানুষ হবে। হয়তো কারও পাঠানো লোক হবেন। পোষাকে তেমনই মনে হয়েছিল আমার কাছে। আপনার স্বামী নিশ্চয়ই হাইফাই, উচ্চবিত্ত পরিবারের কেউ হবে।

হতাশার উপর হতাশ হচ্ছিলো ওরা সবাই। সেই হতাশা নিয়েই কিরণ আবার বলল...

ঃ- আচ্ছা ওর(কিয়ারা কে দেখিয়ে) যেদিন বিয়ে হয়েছিল সেদিন রাতে ওর স্বামীকে নিশ্চয়ই আপনি দেখেছেন? নামটাও শুনেছেন? আমাদের নামটা বলতে পারবেন একটু?

সবার কৌতূহলী চোখ ছেলেটির দিকে তাক করা। কিন্তু ছেলেটি ইতস্তত চোখে কিয়ারার দিকে এক পলক তাকিয়ে বলল...

ঃ- আসলে সেদিন ঘুমের ঘোরে ছিলাম আমি, এজন্য ঠিকঠাক বর-কনে কাউকেই দেখিনি। বরের নামটা সেদিন রাতে শুনলেও এখন আমার মনে নেই, অনেক আগের কথা তো তাই। আর সেদিন রাতে ঘুমের রেশের মধ্যে বর-বউকে দেখেছিলাম তাই কারও চেহারাটাও মনে নেই।

সকালে উঠে আমি কাউকেই দেখতে পায়নি। মেয়ে নাকি রাতেই স্বামীকে রেখে পালিয়ে গিয়েছিল এমনটা শুনেছিলাম আব্বার মুখে। বাকিটা আমার আব্বাই বলতে পারবেন ভালো। তিনিই আপনার বোনকে আমাদের বাসায় এনেছিল।

কিরণ আবার প্রশ্ন করে বলল...

ঃ- আপনার বাবা নিশ্চয়ই ঐ ছেলেকে চিনবে রাইট?

ঃ- জ্বিই আব্বা চিনে উনার স্বামীকে। আব্বা মুখে শুনেছিলাম উনার(কিয়ারা কে দেখিয়ে) স্বামী নাকি অনেক বড় মাপের একজন লোক। উনাকে নাকি সবাই এক নামে চিনে। আবার সবাই ভয়ও পায় নাকি।

তাড়াহুড়োয় সাফা প্রশ্ন করে বলল...

ঃ- কেন ভয় পায় কেন? উনি কি সন্ত্রাস টাইপের লোক নাকি? নাকি কোন চোর-ডাকাত?..

সাফার প্রশ্নে ছেলেটি আবার কিয়ারার দিকে তাকাল। ইতস্ততায় বলল...

ঃ- হবে হয়তো! আমি সঠিক জানি না। আব্বা জানেন।

কিরণ বলল...

ঃ- আচ্ছা আপনার আব্বা আসবে কবে?.. সঠিক ভাবে বলতে পারেন?

ঃ- জ্বি আসলে আমার আব্বা এখন আসবে না। শুনলেন ই তো আমার দাদাজান কেও নিয়ে গেছেন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ কোনো সমস্যার কারণে অসুস্থ দাদাজান কেও নিয়ে গেছেন।

তাই এখন ওদিকের সব সমস্যা মিটমাট না করে উনারা ফিরতে পারবেন না। আর সমস্যা সমাধানে কতদিন লাগবে সেটা ঠিক ভাবে বলতে পারছি না। দুঃখিত!..

~~

কাঁচের দরজা ঠেলে মাহাদের অফিসের কেবিনে প্রবেশ করলো রাহুল। হাতে এক টুকরো কাগজে নাম্বার লেখা। মাহাদ অফিসিয়াল গেটআপে ল্যাপটপের সামনে বসে আছে। রাহুলকে ওর কেভিনে প্রবেশ করতে দেখেও চোখ তুলে তাকাল না পর্যন্ত। মনোযোগ সব ল্যাপটপে টাইপিং এ দিয়ে রেখেছে।

রাহুল মাহাদের কাজের প্রতি গভীর মনোযোগ বুঝে খানিকটা দ্বিধা করল কিছু বলতে। কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে ওর দৃষ্টি আর্কষণ করতে হাতের এক টুকরো কাগজটা টেবিলের উপর রেখে মাহাদের দিকে বাড়িয়ে দিতে দিতে ইতস্তত গলায় বলল...

ঃ- ভাই কোনো কাজ হয়নি। আমাদের লোক পাঠিয়েছিলাম কয়েকদিন আগে। তাঁরা খোঁজ চালিয়েও ভাবির কোনো তথ্য যোগাড় করতে পারেনি। কারণ কাজি এক্সিডেন্ট করে পুরো প্যারালাইসিস আর উনার অফিসের সবকিছু শর্টসার্কিটের কারণে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

আর তাই আপনাদের কাবিননামার কাগজ টাও পাওয়া যায় নি। আর দ্বিতীয় কথা হলো ভাবি কে ওখানের কেউই চিনে না। তার সাথে ঐ বাড়ির কারো সাথে কোন সম্পর্ক নেই। ভাবি আপনার মতোই ওনাদের ও সম্পূর্ণ অচেনা একজন নারী। তাই সেখান থেকেও কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি।

রাহুলের দীর্ঘ বক্তব্যে মাহাদের হাত থেমে যায় কিবোর্ডের উপরে। ওর এই কথা গুলো শুনে মাহাদ রাহুলের বাড়িয়ে দেওয়া কাগজটা হাতে নিয়ে ভ্রু কুঁচকে তাকালো রাহুলের দিকে, রাহুল মাহাদ কে ওর দিকে তাকাতে দেখে বলে উঠল..

ঃ- ভাই!.. এখানে কাজী সাহেবের ছেলের নম্বর আছে। হয়তো তার সাথে কথা বলে ভাবির বিষয়ে কিছু জানা যেতে পারে। এজন্য লোকটার নম্বর আনতে বলেছিলাম আমাদের লোকদের।

মাহাদ রাহুলের কথায় কোন উত্তর দিল না বরং হাতের কাগজটিতে থাকা ফোন নম্বর টায় চোখ বুলিয়ে নিল । তারপর চেয়ারে গা এলিয়ে বসে হাতের কাগজটি ঘুরাতে ঘুরাতে রাহুলের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো..

ঃ- তোর ভাবির এই লুকোচুরি খেলা আমার আর পছন্দ হচ্ছে না বুঝলি। কি করা যায় বলতো?.. আমি যতোই তাকে ধরার চেষ্টা করেছি সেটা ততই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আর তুই তো খুব ভালো করেই জানিস, নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের আকর্ষন বরাবরই একটু বেশি থাকে।

তবে আমার এখন এই অচেনা অজানা হাড়ানো বউয়ের প্রতিও আকর্ষণ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। কি করি বলতো?.. তাই এই আকর্ষণ কমানোর জন্য হলেও তোর ভাবি কে আমার দরকার। তাই এখন তোর কাজ হলো এই শালা কে ধরে আনা। যেখান থেকে পারিস। আমার সামনে একে হাজির করবি। এখন যাহ তুই , তোর কাজ কর গিয়ে।

—চলবে—

ইনশাআল্লাহ

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন