#প্রিয়_রুহের_মাহরাম 🌿
#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন
পর্বঃ- ৩৩
🌿🌿🌿
কিয়ারা সেদিন কোনো মতে লোকটার থেকে পালিয়ে এসেছিল। তারপর কেটে গেছে আরো এক সপ্তাহ। কিয়ারা এখন মাহাদ এর ঠিক করে দেওয়া রিকশা দিয়েই কলেজে যাতায়াত করে। সেদিনের পর আর অমান্য করেনি। অমান্য করেনি বলতে ঠিক তেমনটি নয়, আসলে ওর আর অমান্য করার সাহস হয়ে উঠেনি। কারণ সেদিন লোকটা ওকে তেমন কিছু বলেননি। শাস্তি দিবে দিবে করেও কিছু বলেনি উল্টো আরো ওকে দুপুরে ওর প্রিয় খাবার কাচ্চি বিরিয়ানি এনে খাইয়েছেন। তাই কিয়ারা এই পর্যায়ে এসে উনার উপর একটু গলে গিয়েছে। বেশি না ঐ একটুখানি গলেছে। কিন্তু এবার কিয়ারার মনে হচ্ছে ও ঐ একটুখানি গলে গিয়ে বিরাট বড় ভূল করে ফেলেছে। কারণ লোকটার সাথে ওর এই গত এক সপ্তাহ ধরে কোনো দেখা সাক্ষাৎ নেই। আরে দেখা সাক্ষাৎ তো বহুত দূর কি বাত কোনো খোঁজখবরই নেই ঐ লোকের। কিয়ারা আশা করছিল যে লোকটা ওর খোঁজখবর নিবে। কিন্তু ওর আশায় এক বালতি পানি ঢেলে দিয়ে লোকটার নিজেরই কোন খোঁজখবর নেই। ও কিন্তু ভালোবাসে বলে স্বামী খোঁজ খবর নিবে এই আশা করেনি। ভালো তো ও এখনো বাসে না ঐ লোকটাকে। কিন্তু ওকে ঐ খবিস লোকটা দু দু বার বিয়ে করেছে। তো ওর উপর লোকটার একটা দায়িত্ব আছে না??... ভালোবাসা নাই বা থাকুক দায়িত্ব তো আছে তাইনা। ওও হ্যাঁ পালন করেনি কে বলেছে?.. একটা রিকশা ঠিক করে দিয়েই দু দু বার করে বিয়ে করা বউয়ের প্রতি উনার দায়িত্ব শেষ। ও আর মানুষ খুঁজে পেল না। হাহ্ !..
ঃ- কিরে তুই মুখটাকে বিড়ালের পিছন সাইড এর মতো করে রেখেছিস কেন???... দুলাভাই এর সাথে দেখা হয়নি বলে??...
আহারে কি বালুপাশা!... এই তুই সত্যি কথা বলতো, তুই ভাইয়া কে মিস্ করছিস??...
কিরণ কিয়ারার দিকে তাকিয়ে বলে উঠল। ওরা দুজনে বর্তমানে রিকশায় আছে। কলেজে যাচ্ছে আর কি। কিয়ারা ওর এই কথা শুনে বলল…
ঃ- এই বিড়ালের পিছন সাইড মানে??... এই বেডি তুই কি আমার চেহারা কে বিড়ালের পাছার সাথে তুলনা করলি??...
এই বলে কিরণের পিঠে ধাপ্ করে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিল। কিরণ মা গো বলে চিৎকার করে উঠল।
ঃ- তারপর আবার কী বললি… আমি ঐ নীল চোখের খবিস লোকটা কে ভালোবাসি??... আমি উনাকে মিস্ করছি??... আজকে তোর রেহাই নেই। তোকে এতো বেশি বুঝতে বলেছে কে।
এই বলে কিয়ারা যে আরও একটা থাপ্পড় বসাতে গেল, কিরণ লাফ দিয়ে রিকশা থেকে নেমে গেল। কারণ ওরা প্রায় কলেজের গেটের সামনে চলে এসেছে। কিরণ নেমে যাওয়ায় কিয়ারার দ্বিতীয় থাপ্পড় থেকে বেঁচে গেল। তারপর কিয়ারা ও রাগে গজগজ করতে করতে রিকশা থেকে নেমে আসলো।
ঃ- ভূল হয়েছে মা আমার… , তোর হাতে কি শক্তি মাইরি। আর একটা যদি পড়ে আমার পিঠে তাহলে এই জন্মে আমার আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে না। আর তখন তোদের হবু দুলাভাই আর আমার ভবিষ্যৎ জামাই একটা কুঁজো বউ পাবে। আমার ভবিষ্যৎ জামাই টা বেচারা আহারে!... তোর কী ভালো লাগবে বল একজন নিষ্পাপ লোকের হবু বউ কে মেরে কুঁজো বানিয়ে দিতে, বল?... নিশ্চয়ই ভালো লাগবে না, আমি জানি। তাই দয়া করে আর আমার পিঠে তাল ফেলিস না মা!...
কিরণ আগে আগে কলেজের ভিতরে ঢুকে ক্লাসের দিকে যেতে যেতে বলল কিয়ারা কে উদ্দেশ্য করে। ওর কথায় কিয়ারা আবার তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো।
ঃ- তুই আবার কথার ছলে আমায় ইনসাল্ট করলি??... তোরা আমাকে পেয়েছিস টা কি শুনি?... আমাকে দেখতে কি বড় মায়ের বয়সী যে তুই সব কথার শেষে মা বলছিস। আজ তোর রেহাই নেই। দাঁড়া বলছি, দাড়াআআআআ…
কিয়ারা কিরণের পিছনে পিছনে রেগেমেগে ক্লাসের ভিতরে ঢুকলো। কিরণ এতক্ষণ দৌড়ে এসে হাঁপিয়ে গিয়েছে। তাই ঠাস করে গিয়ে বেঞ্চে বসে পড়ল। ওদের দুজন কে এমন হাড্ডাহাড্ডি ঝগড়া করতে দেখে বাকিরা সবাই হতবাক। এদের মধ্যে আবার কী হলো আজকে??...
ঃ- এই কিরণ , কি হয়েছে তুই কি রাস্তায় কারো সাথে মারামারি করে আসলি?... এভাবে হাঁপাচ্ছিস কেন??...
কিরণের দিকে তাকিয়ে বলল মেঘলা। ওর কথায় বাকিরা হেসে উঠলো।
ঃ- আর কিরা , তোর এমন ল্যাবরচ্যাবর অবস্থা হলো কি করে??... ঘেমেনেয়ে একেবারে যাচ্ছেতাই অবস্থা। এই তোরা দুজনে কী ঘটিয়েছিস আবার??...
কিয়ারার দিকে তাকিয়ে থেকে বলে উঠলো বৃষ্টি। কিয়ারাও ইতিমধ্যেই বেঞ্চে এসে বসেছে।
ঃ- ঘরের শত্রু বিভীষণ থাকতে আমি আবার রাস্তার কারো সাথে মারামারি করতে যাবো কেন শুনি?.. এই ছেমড়ি আমার পিঠটা ফাটিয়ে দিয়েছে এক থাপ্পড় মেরে। উফফফ্….
মৃদু আর্তনাদ করে বলে উঠলো কিরণ। ওর কথায় বাকিরা সবাই মোটামুটি ঘটনা বুঝে গেছে।
ঃ- কিন্তু এই বেডি পালোয়ানী এতো রেগে গেল কেন??... তুই কি কিছু বলেছিস??... নিশ্চয়ই কিছু বলেছিস।
কিরণের পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল সাফা। ওর এই কথায় এতোক্ষণে কিয়ারা সুযোগ পেয়েছে। তারপর সুযোগের সদ্ব্যবহার করে কিয়ারা রিকশায় ঘটে যাওয়া সব বললো ওদের কে। সব কিছু শুনে ওরা তো হাসতে হাসতে একজন অন্যজনের উপর ঢলে পরছে।
ওদের সবকটি কে এভাবে ঢলে পরতে দেখে কিয়ারা দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠলো…
ঃ- আমি কী কোনো হাস্যকর জোকস শুনিয়েছি তোদের??... যে এভাবে হাসতে হাসতে একজন আরেকজনের গায়ের উপর ঢলে পরছিস।
ওকে আবার রেগে যেতে দেখে এবার ওরা সবাই চুপ করলো। তারপর রাফিয়া মিটি মিটি হেঁসে বলল….
ঃ- আচ্ছা আর কেউ হাসছি না। এবার তুই একটা কথা বলতো, তুই তো ভাইয়া কে ভালোই বাসিস না। তাহলে সে তোর কোনো খোঁজখবর নিল কি নিল
তাতে তোর প্রবলেম টা কোথায়। তুই মুখ গোমড়া করে রেখেছিস কেন??...
ঃ- হ্যাঁ ওরা ঠিকই তো বলেছে। তুই যাকে ভালোই বাসিস না, তাহলে তার জন্য তোর মুড অফ হবে কেন??... বল…বল …।
বলে উঠলো মাইমুনা। ওর কথায় তাল মিলিয়ে মেঘলা দুষ্টু হেসে বলল…
ঃ- নাকি আবার তলে তলে সামথিং সামথিং হয়ে গিয়েছে?..?... হুঁ হুঁ…. হলে আমাকে বলতে পারিস। আমি কাউকে বলবো না এই পিংকি প্রমিস।
ঃ- ওওও তুই কাউকে বলবি না পিংকি প্রমিস তাইনা??... আর আমরা মনে হয় শুনে ফেললে রাস্তায় রাস্তায় মাইকিং করবো???...
কটমট করে ওর দিকে তাকিয়ে বলল কিরণ। ওর কথায় বাকিরাও সায় দিয়ে মেঘলার দিকে তাকালো। মেঘলা ওদের সবার রাগান্বিত দৃষ্টি নিজের দিকে দেখে বেশ ভড়কে গেল।
ঃ- আব…তোরা সবাই আমার দিকে এভাবে খেয়ে ফেলা লুক নিয়ে তাকিয়ে আছিস কেন??... আমি কি তেমন কিছু বলেছি বল….?... আমার কী ওতো সাহস আছে কলিজায়??... আমার না কঈ মাছের মত এইটুকুন কলিজা।
দাঁত বের করে হেসে বলে উঠলো মেঘলা।
ঃ- কঈ মাছের মত এইটুকুন কলিজা তোর???... তাহলে তোকে যেই ছেলেটা দুদিন পর পর প্রেম পত্র দেয় ওকে গিয়ে এটা বলে আসি আমি??... যে তার হবু প্রেমিকার কঈ মাছের মত এইটুকুন কলিজা আছে।
ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থেকে মেঘলা কে জিজ্ঞেস করল কিয়ারা।
ঃ- না না না!... তুই এমনটা করতেই পারিস নাহ। তুই আমার জানে জিগার বান্ধু্পি না বল??... এই সবে মাত্র একটা প্রেম করবো করবো ভাব, এর মধ্যে তুই আমার জানের বান্ধপি হইয়া আমার পিছনে এতো বড় বাঁশ টা দিতে পারবি?... তোর ছত্রিশ ইঞ্চি বুকের পাটা টা একটুখানিও কাঁপবে না বল??....
ঃ- এই ওকে আমার সামনে থেকে সরা এক্ষুনি। নাহলে কিন্তু এটাকে লাত্থি মাইরা বেঞ্চের নিচে ঢুকিয়ে দিবো। অশ্লীল বেডি মানুষ কোথাকার।
রাগে দুঃখে গজগজ করতে করতে বলে উঠলো কিয়ারা। এদিকে মেঘলার বলার ভঙ্গিমা দেখে ওরা সবাই মুখ চেপে ধরে হাসছে। কারণ এখন জোরে হাসলে সামনে বসে রাগে ফুঁসতে থাকা বেডি ওদের ও পিঠ ফাটিয়ে দিবে।
ওদের কথাবার্তার মধ্যেই ক্লাসে বাকিরা আস্তে আস্তে আসতে শুরু করেছে। তাই আর কেউ মারামারি ঝগড়াঝাঁটি করলো না। অল্পক্ষণ পরেই ক্লাসে স্যার চলে এলো। তারপর ওরা সবাই ক্লাসে মনোযোগ দিলো।
—-----—-----—-----—
ক্লাস শেষে টিফিন পিরিয়ডে সবাই কলেজের ক্যান্টিনে গিয়ে বসলো। তারপর রাফিয়া বলে উঠলো….
ঃ- তা আজকে কে কি এনেছিস। নাকি আমি গিয়ে কিছু অর্ডার দিয়ে আসবো ।
ঃ- আজকে কিরা পায়েশ….
কিরণ আর কথাটা বলে শেষ করতে পারলো না। ওর ঐটুকু কথা শুনেই বাকিরা সবকটা হামলে পড়লো কিয়ারার হটপটের উপরে। রাফিয়া খুলে দেখলো গরমাগরম পায়েশ। আহা দেখেই খিদে বেড়ে যাচ্ছে যেন।
ঃ- তোরা যাই বলিস না কেন, কিরা বেডি পায়েশ টা কিন্তু দারুন রাঁধে। আহা একবার খেলে বার বার খেতে ইচ্ছে করবে।
এই বলে রাফিয়া এক চামচ তুলে মুখে দিল। বাকিরাও ওর কথায় সায় জানালো। কিয়ারা ওদের সবার প্রশংসা পেয়ে এবার একটু লজ্জা পেল।
ঃ- যাহ্ এভাবে বলছিস কেন?.. এ আর এমন কি, তোরাও তো খুব ভালো রান্না পারিস। কিন্তু আমি তো সেগুলো ওতোটা ভালো পারিনা। বিশেষ করে আমার সাথে বাস করা এই কিরণ বেডি তো প্রায় মোটামুটি অনেক রান্নাই পারে। আর সেখানে আমি তো হাতে গোনা কয়েকটা রেসিপি ভালো রান্না করতে পারি।
ঃ- হয়েছে…হয়েছে এবার খাওয়া শুরু কর। তোদের প্যাচাল এ পড়ে টিফিন পিরিয়ড শেষ হয়ে যাবে। তাই আর কথা না বাড়িয়ে খাওয়া শুরু কর।
এই বলে কিরণ রাফিয়ার আনা নুডুলস নিয়ে খেতে শুরু করলো।
তারপর ওরা একে অপরের আনা টিফিন ভাগ করে খেয়ে নিল। আর তারপর বেল বেজে উঠতেই সবাই আবার ক্লাসে চলে গেল।
কলেজ ছুটি হলে ওরা সবাই যে যার মতো নিজেদের বাসায় চলে গেল। কিয়ারা ও কিরণ রিকশায় করে নিজেদের বাসার দিকে চলে এলো। ওরা বাসায় এসে দুজনে গোসল করে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে-দেয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।
বিকেলে ঘুম থেকে উঠে আসরের নামাজ পড়ে ওরা দুজনে সিঁড়ি বেয়ে ছাদে গেল। এই ব্লিডিং এর ছাদ টা ভীষণ সুন্দর। বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি ফুল ফলের গাছ লাগানো আছে। তারপর আবার ছাদে বিশাল আকারের একটা সুন্দর দোলনাও আছে। কিয়ারা হাতে টমেটো মাখানো বাটি টা নিয়ে দোলনায় বসল। লাল লাল টমেটো লবন, মরিচ, টেস্টিং সল্ট, আর তেঁতুল দিয়ে মাখানো।
ঃ- উমমম!... মনে হচ্ছে যেন আমি অমৃত খাচ্ছি। কিরণ একটু খানি খাবি বেশি খেলে আমার ভাগে কম পড়বে। উমমম্ কি যে স্বাধ, এতো মজা লাগছে না। সবাই যে কেন আমাকে এটার জন্য কথা শুনায়, বুঝিনা বাবাহ।
ঃ- আসলেই মজা হয়েছে। কিন্তু সবাই তো আর তোর মতো এতো টমেটো খায় না। তুই হলি আস্ত একটা টমেটোখোর।
ঃ- সবার মতো তুইও শুরু করলি এখন!.. টমেটো খেলে তো আর কোন ক্ষতি নেই তাইনা। তাহলে খেলে সবার এতো সমস্যা কেন হবে ??...
ঃ- হয়েছে হয়েছে খা তুই, কেউ কিছু বলছে না এখন।
ওরা দুজনে ছাদে একটু ঘুরে- টুরে তারপর মাগরিবের আগে আগে ছাদ থেকে নেমে বাসায় চলে আসলো। তারপর মাগরিবের নামাজ শেষে দুজনে নুডুলস রান্না করবে বলে ঠিক করলো। তারপর যেই ভাবা সেই কাজ।
তারপর ওরা নুডুলস রান্না করে ডাইনিং টেবিলে গিয়ে বসলো নুডুলস এর বাটি নিয়ে। এর মধ্যেই বাসার কলিং বেল বেজে উঠল। কিয়ারা উঠে গিয়ে দরজাটা খুলে দিল। দরজা খুলে দেখলো কিয়ান এসেছে। ওর সাথে আবার নতুন মেহমান এসেছে। কিয়ারা নাঈম কে দেখে ভীষণ অবাক হয়ে গেল।
ঃ- একি নাঈম ভাইয়া!.. আপনি, হঠাৎ করে কী মনে করে, কিভাবে এলেন??..
কিয়ারা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল।
ঃ- কেন শালি সাহেবা, হঠাৎ করে কী আসতে পারি না?.
আপনাদের চমকে দিতে এলাম। আমি একটু এদিকে এসেছিলাম। তাই ভাবলাম আপনাদের সাথে দেখা করে যাই।
মৃদু হেসে বলল নাঈম। ওর কথায় কিয়ারা হেসে বলে উঠলো…
ঃ- খুব ভালো করেছেন। অনেক অবাক হয়েছি। তবে আপাই কে নিয়ে এলে আরও খুশি হতাম।
ঃ- সে নাহয় অন্য কোনো দিন আবার তোমার আপাই কে নিয়ে আসবো। তবে তোমার জন্য একটা বিশেষ গিফট আছে শালি সাহেবা।
ঃ- গিফট!.. তাও আবার আমার জন্য?.. কৌতুহল জাগছে কিন্তু ভাইয়া। তাড়াতাড়ি বলুন তো কী গিফট।
ওরা কথা বলতে বলতে ড্রইংরুমের সোফায় গিয়ে বসল।
কিরণ ওদের সাথে নাঈম কে দেখে ভীষণ অবাক হয়ে গেল।
ঃ- আরে দুলাভাই যে, তা এদিকে হঠাৎ কী মনে করে। আমাদের কথা মনে আছে নাকি আমি তো ভেবেছিলাম বোন কে পেয়ে দুলাভাই আমাদের কে ভূলেই গিয়েছে। যাক আপনি এসেছেন দেখে খুব ভালো লাগলো। কিন্তু কায়রা আপু কোথায়??... আপুকে আনেননি?..
ঃ- না তোমাদের আপুকে নিয়ে আসিনি। আমি এদিকে একটু কাজে এসেছিলাম। তারপর ফিরে যাওয়ার সময় ভাবলাম তোমাদের সাথে একটু দেখার করে যাই। তারপর কিয়ান ভাইয়া কে ফোন দিলাম। উনিও তখন হসপিটাল থেকে বের হচ্ছিল। তারপর দুজনে একসাথে চলে এসেছি।
ঃ- ওও আচ্ছা। ভালো করেছেন। রাতে কিন্তু এখানে খেয়ে তারপর যাবেন। না খাইয়ে ছাড়ছি না আজ।
তারপর কিয়ারা ও কিরণ নাস্তার ব্যবস্থা করতে রান্নাঘরে চলে গেল। আর কিয়ান ও নাঈম দুজনে ড্রইং রুমের সোফায় বসে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করছিল।
কিছুক্ষণ পরে কিয়ারা হালকা কিছু নাস্তা নিয়ে এলো। ওরা নুডুলস রান্না করেছিল সেটা। তারপর কিয়ান ও আসার সময় কিছু নাস্তা নিয়ে এসেছে। আর ফ্রিজে ফলমূল ছিল সেগুলো আর শরবত। এগুলো নিয়ে দিল ওদের কে সোফার সামনে থাকা টি টেবিলের উপর। ওদিকে কিরণ রাতের খাবার এর ব্যবস্থা করছে। নাঈম তো থাকবে না খেয়ে চলে যাবে। তাই ওদের কে তাড়াতাড়ি খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। এরমধ্যে কিয়ান এলো রান্না ঘরে।
ঃ- কী করছিস?... তোদের এখন রান্নার ঝামেলা করার দরকার নেই। আমি খাবার অর্ডার করে দিয়েছি। আর তাছাড়াও তোদের রান্না আদৌও খাওয়ার যোগ্য হবে কিনা তাও সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। নতুন বোন জামাই কে তো আর তোদের মতো পিচ্চিদের রান্নার আশায় রাখতে পারিনা। দেখা গেল তখন মানইজ্জত সব ফ্লোরে গড়াগড়ি খাচ্ছে।
ঃ- তুমি একদম এভাবে অপমান করবে না ভাইয়া। কিয়ারা রান্না টা ভালো করে করতে না পারলেও আমি কিন্তু মোটামুটি ভালোই রান্না করতে পারি। আর তোমরা সেটা মজা করে গিলোওও। তাই একদম এভাবে ইনসাল্ট করবে না। হুহহহ
ভেংচি কেটে বলে উঠলো কিরণ।
কিয়ান কিরণের মাথায় একটা চাটি মেরে ড্রইং রুমে ওদের কাছে চলে গেল।
তারপর কিরণ ও মাথা টা ডলতে ডলতে ড্রইং রুমে গিয়ে কিয়ারার পাশে সোফায় বসলো। ওদের কথাবার্তার মধ্যেই খাবার ডেলিভারি এসে গেল। কিয়ান গিয়ে দরজা খুলে খাবার রিসিভ করলো। তারপর কিয়ারার হাতে দিল। কিয়ারা ও কিরণ খাবারের প্যাকেট নিয়ে রান্নাঘরে চলে গেল। কিয়ারা খাবারের প্যাকেট খুলে দেখলো কাচ্চি বিরিয়ানী আছে প্যাকেটে। তারপর কিয়ারা একটা কাঁচের বলে সব বিরিয়ানী ঢেলে নিল। খাবার টা গরমই আছে তাই আর গরম করার ঝামেলা নেই। কিরণ শসা ,টমেটো পেঁয়াজ কুচি, কাঁচামরিচ কুচি দিয়ে সালাদ বানিয়ে নিল। তারপর ডাইনিং টেবিলে পরিবেশন করলো সব সুন্দর করে। এরপর কিয়ারা ওদের কে খেতে ডাক দিল।
তারপর সবাই মিলে একসাথে ডাইনিং টেবিলে বসে খাওয়া দাওয়া শেষ করলো।
---চলবে---
ইনশাআল্লাহ