ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রিয় রুহের মাহরাম (১ম খন্ড)

৪৫তম পর্ব

লেখক: মারিয়াম হোসাইন

#প্রিয়_রুহের_মাহরাম 🌿

#লেখিকাঃ_মারিয়াম_হোসাইন

#প্রাপ্তমনস্ক_এলার্ট 🔞

পর্বঃ- ৪৫

🌿🌿🌿

ওরা দুজনে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে এলো। এবার আলাদা হয়ে যেতে হবে যে, গাড়ির ভিতর নীরবতা, শুধু হালকা মিউজিকের সুর আর বাইরের বাতাসের নরম ঝাপটা।

কিয়ারা আর মাহাদ পাশে পাশে বসে আছে, সামনের সিটে। মাহাদের হাত স্বাভাবিকভাবেই কিয়ারার হাতের খুব কাছে, একটুও দুরত্ব নেই।ওর হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে শক্ত করে ধরে আছে। অন্যহাতে ড্রাইভ করছে।

ঃ- আজকের দিনটা… খুব সুন্দর ছিল, তাই না?...

মাহাদ হালকা ভয়েসে বললো, চোখ মৃদু অন্ধকারে উজ্জ্বল।

ঃ- হ্যাঁ… অনেক সুন্দর ছিল। একদম স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছিল। তবে আপনার সঙ্গে থাকলে সবকিছু শান্ত মনে হচ্ছে।

কিয়ারা হেসে বললো, এবং নিজের হাত একচিলতে মাহাদের দিকে ঠেসে দিল। মুহূর্তটা হঠাৎ কিছুটা সরল হলেও ভেতরে অদ্ভুত উত্তেজনা।

গাড়ি বাঁক কেটে যায়, মাহাদের হাত কিয়ারার হাত আরও শক্ত করে ধরে। কিয়ারা হালকা শিউরে ওঠে, চোখে লুকানো লাজ। মাহাদের চোখে সেই অদ্ভুত উষ্ণতা, যা শুধু কিয়ারার জন্য।

ঃ- আমি চাই তুমি সবসময় এমন খুশি থাকো… সবসময়।

মাহাদ বললো, এবং কিয়ারার দিকে সরাসরি তাকিয়ে একটি নরম হাসি দিল।

কিয়ারা লাজুকভাবে তাকালো, আর হালকা হেসে বললো,

ঃ- আমি জানি… আপনি সবসময় এমন করেই খেয়াল রাখবেন।

গাড়ি থেমেছে, কিন্তু তারা এখনও পাশে বসে আছে। মাহাদ কেবল হাতে হাত রাখে না, বরং শক্ত ভাবে কিয়ারার হাতের সাথে আঙ্গুল মিশিয়ে নরম স্পর্শ করছে। কিয়ারা হঠাৎ ছোট্ট নিশ্বাস ফেলে, মনে হচ্ছে এই ছোট্ট মুহূর্তই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অনুভূতি।

মুহূর্তটা স্থির, অন্ধকারে রাতের বাতাস খেলছে তাদের চুলে, এবং দুই মানুষ—একসাথে, পাশে, অপেক্ষায়—একটি অদ্ভুত শান্তি ও উত্তেজনার মিশ্রণে।

এবার তো আলাদা হয়ে যেতে হবে। কিয়ারার প্রচন্ড মন খারাপ হয়ে গেল। মাহাদ ওকে এভাবে মন খারাপ করতে দেখে টান দিয়ে সিট থেকে বুকের উপর নিয়ে এল।

তারপর ওর কপালে চুমু খেয়ে বললো…

ঃ- রায়া… আমার হুরপরি!.. মন খারাপ করছে কেন??... এইযে আমার এতো ব্যস্ততার মধ্যেও তোমার জন্য আজকে সারাদিনের সিডিউল ক্যান্সেল করেছি। তাও এখন এসে মন খারাপ করলে আমি কিন্তু যেতে দিবো না।

মাহাদের এমন আদুরেপনায় কিয়ারার আরো কান্না পাচ্ছে। চোখ থেকে টপটপ করে পানি পরছে। মাহাদ ওকে এভাবে কাঁদতে দেখে এবার ওর মাথা টা বুকের উপর থেকে তুলে সামনে এনে চোখের পানি মুছে দিল।

ঃ- রায়া… আমার হুরপরি!... আমি বারণ করেছি তো!... বললাম না তোমার জন্য বাসায় সারপ্রাইজ আছে। তাহলে কান্না কিসের জন্য?.. বললাম না তোমার আজকের রাতটাও আমার জন্য হবে। এখন কান্না থামাও কলিজা।

এভাবে তোমায় কিন্তু আমার সহ্য হচ্ছে না রায়া!..

শেষের কথাটা একটু জোর দিয়ে বলে উঠলো মাহাদ। কিয়ারা এবার চোখ মুছে কান্না থামিয়ে ফেলল। কিন্তু তাও মনে হচ্ছে আবার কেঁদে ফেলবে। লোকটার ভয়ে কাঁদতেও পারছে না । এবার কাঁদলে নিশ্চিত একটা বড় ধরনের ধমক খেতে হবে।

তাই চুপ করে রইলো কিয়ারা। তারপর নিজের গায়ের দিকে তাকিয়ে খেয়াল হলো যে, ওর গায়ে এখনো সেই গাউন রয়েছে। কিন্তু এভাবে তো বাসায় যাওয়া যাবে না। বাসায় ভাইয়া রা থাকে যদি??!... তাহলে ভুজুং ভাজুং বললেও শেষে এই ড্রেসের জন্য ফেঁসে যাবে।

ঃ- কিন্তু আমি তো এই ড্রেস পরে বাসায় যেতে পারবো না। তাহলে বিরাট ঝামেলায় পড়তে হবে। এখন কী করবো??!...

ঃ- তাহলে তুমি গাড়িতেই ড্রেস টা চেঞ্জ করে নাও‌। তাহলেই তো ঝামেলা শেষ।

মাহাদ ভ্রু উঁচিয়ে ধরে বলে উঠলো কিয়ারা কে। কিয়ারা এই কথা শুনে মাথা নাড়ল। এখন এছাড়া তো আর কোনো উপায় নেই।

ঃ- আচ্ছা ঠিক আছে। আপনি প্লিজ একটু বাহিরে গিয়ে দাঁড়ান। আমি চেঞ্জ করে আপনাকে ডাকছি!... হ্যাঁ?..

ঃ- পারবো না।

ঃ- মানে?.. পারবেন না মানে?... এটা কেমন কথা?..

ঃ- আমি তো সব দেখেই ফেলেছি। আর আমার জিনিস আমি দেখতেই পারি। তাহলে আমি বাহিরে যাবো কেন??... আমি বাহিরে যাবো না , তুমি এখানেই চেঞ্জ করে নাও। আমি লাইট অফ করে দিচ্ছি।

এই বলে মাহাদ গাড়ির ভিতরের লাইট টা অফ করে দিল।

আর কিয়ারা হতভম্ব হয়ে বসে রইল। মানে লোকটা যা বলবে তাই করবে?... ওর কি লাজ লজ্জা নেই নাকি?... মানলাম তিনি সব দেখে নিয়েছে। তাই বলে কি ওর লজ্জা নেই নাকি??... এটা কেমন কথা হলো?..

ঃ- কি হলো বসে আছো কেন?.. নাকি আমি সাহায্য করবো?.. তুমি চাইলে করতেই পারি। আমার কোনো সমস্যা নেই।

মাহাদ ঠোঁট কামড়ে ধরে বলল কিয়ারা কে।

ওর এই কথা আর ভাবভঙ্গি দেখে কিয়ারা তড়িঘড়ি করে বলে উঠলো….

ঃ- না নাহ, তার কোনো প্রয়োজন নেই। দয়া করে আমার এই অপকার টুকু করবেন না আপনি। আমার টা আমিই করে নিচ্ছি।

এই বলে কিয়ারা পিছনের সিটে চলে গেল। তারপর পিছন ফিরে চেঞ্জ করতে লাগলো।

আর একটু পর পর মাহাদ কে বলছে…

ঃ- খবরদার আপনি কিন্তু একদম এদিকে ফিরবেন না।

ঃ- আচ্ছা ঠিক আছে।

বলে উঠলো মাহাদ অথচ গাড়ির ভিউ মিররে সবকিছু দেখতে পাচ্ছে ও পিছনে না ফিরেই।

কিয়ারা মাত্র গাউন টা খুলেছে। এখন কলেজের ড্রেস টা পড়ে ফেললেই হলো। কিন্তু ওর ভাবনায় পানি ঢেলে দিয়ে লোকটা হুট করেই পিছনে ফিরে দেখল। কিয়ারা তড়িঘড়ি করে কোনো রকমে নিজেকে আবার গাউনে পেঁচিয়ে চিৎকার করে উঠল।

ঃ- একি?!.. আপনি এদিকে ফিরলেন কেন??... দয়া করে ওদিকে ফিরে যান ।

কিন্তু কিয়ারার কোনো কথাই যেন ওর কর্ণকুহরে প্রবেশ করতে পারছে না।

মাহাদ তীব্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কিয়ারার অর্ধনগ্ন শরীরের দিকে। ও যেন মূহুর্তেই উন্মাদ বনে গেছে। ওর দিকে তাকিয়ে থেকেই শার্টের উপরের দুটো বোতাম খুলে ফেলল। তারপর লাফ মেরে পিছনের সিটে চলে গেল।

ওকে এমন অদ্ভুত বিহ্যাভ করতে দেখে এবার কিয়ারা প্রচন্ড ভড়কে গেল। লোকটা এমন কলছে কেন??... এই কিছুক্ষণ আগেও তো ঠিকঠাকই ছিল। এখন হঠাৎ করেই কি হলো উনার?...

ঃ- ক…কি হয়েছে?... আপনি এমন করছেন কেন?.. আর ব্যাক সিটে এলেন কেন??... আমি না বারণ করেছি?!!...

কিন্তু ওর এতো কথার কোনো টাই মাহাদের কানে গেল না। ও উন্মাদের মত কিয়ারা কে টেনে নিয়ে নিজের কোলের উপর বসিয়ে দিল। তারপর ওর ঠোঁট দুটো পরম আসক্তিতে টেনে নিল।

কিয়ারা হতবাক হয়ে কেবল ওর কোলের উপর বসে রইল। ওর বুঝতে সময় লাগলো যে, আসলে কি হচ্ছে ওর সাথে।

বেশ কিছুক্ষণ পরে লোকটা ওকে ছাড়লো। দু'জনেই খুব দ্রুত শ্বাস নিচ্ছিলো।

ঃ- আপ…আ.. আপনি কি করছেন??!!.... আমরা গাড়িতে আছি।

মাহাদ উন্মাদের মত কিয়ারার গলায় চুমু খেতে খেতে বলল…

ঃ- আমি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছি না কলিজা!... প্লিজ একটু সহ্য কর। আমাকে বাঁধা দিসনা কলিজা।

বলতে বলতেই কিয়ারার সারা গলায় চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে দিল। তারপর গলা বেয়ে নিচে মুখ নামিয়ে ওর বুকের খাঁজে মুখ গুঁজে দিল।

কিয়ারা লোকটার মাথার চুল খামচে ধরে উনার কোলের উপরে বসে রইল।

ও লোকটা কে বাঁধা দিতে চেয়েও বাঁধা দিতে পারলো না কেন যেন।

বেশ কিছুক্ষণ পরে লোকটা নিজে কে শান্ত করে ওর বুকের খাঁজ থেকে মুখ তুলে ওর দিকে তাকালো। কিয়ারা চোখ বন্ধ করে ওর কোলের উপর নেতিয়ে পড়ে আছে। ওকে দেখতেই মাহাদের নিজেকে আরও উন্মাদ মনে হচ্ছে।

কিন্তু এখন এটার জন্য সঠিক সময় নয়। তাই ও আবার মাথা টা নিচু করে কিয়ারার বুকের খাঁজের মধ্যিখানে থাকা কালো কুচকুচে তিলটায় চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে দিল। আর তারপরেই প্রচন্ড জোরে দাঁত বসিয়ে কামড়ে ধরলো তিলের জায়গা টা।

কিয়ারা হঠাৎ করেই এমন ব্যাথা অনুভব করে লোকটাকে আরো জোরে চেপে ধরল বুকের সাথে। জায়গাটা মনে হচ্ছে জ্বলেপুড়ে যাচ্ছে। ব্যাথায় ওর চোখে পানি চলে এসেছে। লোকটা যেন উন্মাদ হয়ে গিয়েছে।

মাহাদ ওর বুক থেকে মুখ তুলে তাকিয়ে দেখলো জায়গা টা খয়েরী বর্ণ ধারণ করেছে। বেশ ভালই ব্যাথা দিয়েছে। ও ওখানে শব্দ করে একটা চুমু খেয়ে সামনের সিটে চলে গেল। তারপর গম্ভীর হয়ে বলল…

ঃ- দু মিনিটে নিজেকে ঢেকে নাও। যাস্ট দু মিনিটে!.. নাহলে এরপর এমন অবস্থা হবে যে, তুমি গাড়ি থেকে নেমে বাসা পর্যন্ত হেঁটে যাওয়ার মতো অবস্থায় থাকবে না।

কিয়ারা এবার এই কথা শুনে তড়িঘড়ি করে নিজের পোশাক পরে নিল। তারপর মাহাদ কে কিছু বলতে না দিয়েই গাড়ি থেকে নেমে এক দৌড়ে ব্লিডিং এর গেইট দিয়ে ভিতরে ঢুকে গেল।

মাহাদ গম্ভীর হয়ে ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল। এভাবে কিছু না বলে চলে গেল??... এর মজা রাতে বুঝাবে ওকে। মনে মনে এই ভেবে মাহাদ গাড়ি ঘুরিয়ে খাঁন ম্যানশনের দিকে চলে গেল।

— — —

এদিকে কিয়ারা বাসায় এসে ভয়ে ভয়ে কলিং বেল চাপলো। কিরণ এসে দরজা খুলে ওর পিঠে এক থাবড়া মেরে দিল। কিয়ারা মাগো বলে চিৎকার করে ভিতরে ঢুকলো।

ঃ- কটা বাজে এখন??... এই ছেড়ি, তুই সকালে কখন বেরিয়েছিলি ??... আর এখন কটা বাজে?...

কিরণ মারকুটে চেহারা নিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো।

ঃ- সরি রে…

এই বলে কিয়ারা চুপ করে রইলো। কিরণ ওর দিকে তাকিয়ে রইল। কিয়ারা ঘরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এলো।

ঃ- আর একটু দেরি করে আসতি!.. তাহলে দেখতি তোর জন্য বাসায় কত বড় সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে।

কিরণ দাঁত কিরমিরিয়ে বলে উঠলো।

কিয়ারার মনে পড়লো লোকটা ওকে বলেছিল, যে বাসায় ওর জন্য সারপ্রাইজ আছে। কিয়ারা এদিকে ওদিকে খুঁজতে শুরু করলো।

কিরণ ওকে এমনভাবে এদিকে ওদিকে তাকাতে দেখে বলল…

ঃ- কিরে, এখন আবার এভাবে কি খুঁজছিস ?..?...

ঃ- সারপ্রাইজ খুঁজছি।

কিয়ামতের এদিকে ওদিকে খুঁজতে খুঁজতে বলে উঠলো। কিরণ হতবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ওকে মারার জন্য ধাওয়া করলো।

ঃ- ছেড়ি খবিস, আজকে তোর খবর আছে। আমার সাথে ফাজলামি হচ্ছে?... আমি এদিকে টেনশনে মরেই যাচ্ছিলাম। আর তুই এখন এসে মশকরা করছিস?!..

ঃ- আরে থাম, থাম, এভাবে ধাওয়া করছিস কেন??... আমি সত্যিই সারপ্রাইজ খুঁজছিলাম। উনি বলেছিলেন যে, বাসায় আমার জন্য কি যেন সারপ্রাইজ আছে। তো আমি সেটাই খুঁজছিলাম।

কিরণ ওর কথা শুনে দৌড়ে থেমে গেল।

তারপর সোফার উপর বসে বললো…

ঃ- ওও আচ্ছা, তাহলে এই ব্যাপার। তোর উনি তোকে যে সারপ্রাইজ এর কথা বলেছেন!... তাঁরা এখনো বাসায় এসে পৌঁছায়নি। এখনো রাস্তায় আছে, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই এসে পরবে।

কিয়ারা এবার প্রচন্ড অবাক হয়ে কিরণের দিকে তাকালো।

ঃ- মানে?.. কি বলছিস তুই?.. আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।

ঃ- মানে এটাই যে, বাড়ি থেকে মেজো চাচ্চু তারপর নামিরা আপু রা সবাই আসছে এখানে। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই এসে পড়বে হয়তো।

কিয়ারা ওর এই কথা শুনে লাফ মেরে সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে গেল।

ঃ- মানে?. সবাই হঠাৎ করে এখানে কেন আসবে??... আর আমি যদি আর একটু দেরি করতাম তাহলে কি হতো রে??!... আল্লাহ এবারের মতোন বাঁচিয়ে নিয়েছেন।

স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে বললো কিয়ারা।

তারপর আবার জিজ্ঞেস করল…

ঃ- কিন্তু সবাই হঠাৎ এখানে কেন আসছে??... তুই জানিস কিছু??...

ঃ- হ্যাঁ আমাদের আগেই রেডি হয়ে থাকতে বলেছে। উনারা সবাই চলে এলে আমরা খাঁন ম্যানশনে যাবো।

ঃ- মানে ওখানে কিসের জন্য??... এই কেউ কি আমার আর উনার বিষয়ে কিছু বুঝতে পেরেছে ??...

কিয়ারা প্রচন্ড আতঙ্কিত হয়ে বলে উঠলো। কিরণ ওর দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ।

তারপর বলল…

ঃ- না মনে হচ্ছে এখনো কেউ কিছু বুঝতে পারেনি। কিন্তু তুই যদি আর একটু দেরি করে আসতি!.. তাহলেই সবাই বুঝতেও পারতো , আর জেনেও নিতো। কিন্তু এখন উনারা খান ম্যানশনে কায়রা আপু কে দেখতে যাবে।

ঃ- কেন?.. আপাইয়ের কি হয়েছে??...

ঃ- সেটা তো গেলেই জানতে পারবো। তবে আমার মনে হচ্ছে সুখবর আছে। নাহলে আপু অসুস্থ হলে তো আমরা হসপিটালে দেখতে যেতাম??!.. তাইনা?..

কিয়ারা প্রচন্ড খুশি হয়ে বললো…

ঃ- তারমানে তুই বলতে চাইছিস যে, আমরা খালামনি হচ্ছি!... আলহামদুলিল্লাহ… আলহামদুলিল্লাহ… চল তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নি। আব্বু রা হয়তো এক্ষুনি চলে আসবে।

ঃ- আমি তো রেডি হতেই চাইছিলাম। কিন্তু তোর জ্বালায় আমার এখনো রেডি হওয়া হলো না।

কিরণ কটমট করে ওর দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো। তারপর ওরা দুজনে চলে গেল রেডি হতে।

— — —

কিয়ারা আজ একটা সাধারণ কিন্তু মার্জিত নেভি ব্লু শাড়ি পরেছে, হালকা সিল্কের, যার উপর সূক্ষ্ম গোল্ডেন এমব্রয়ডারি। শাড়ির পাল্লু‌ নরমভাবে ঝুলছে, ধীরে ধীরে তার গলাকে আলতো স্পর্শ করছে।

বডি ফিটিং শাড়ি, কিন্তু খুব বেশি আঁকসাঁক নয়, যাতে পরিবারিক অনুষ্ঠানে মানায়। হালকা সোনালি বর্ডার শাড়ির শেষ প্রান্তে, যা আলোয় ঝলমল করছে।

লাইট ফ্লোয়িং ফ্যাব্রিক, যা কিয়ারার চলাফেরায় নরমভাবে দুলছে।

কিয়ারা হালকা গোল্ডেন জুয়েলারি পরেছে—নেকলেসের সাথে মাহাদের দেওয়া পেনডেন্ট লকেট, ছোট্ট ইয়াররিংস এবং একটি চমৎকার ব্রেসলেট।

মেকআপও লাইট, লাজুক আর সুন্দর, যাতে কিয়ারার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঝলমল করে।

হেয়ার স্টাইল হালকা ওয়েভস, যা তার গলায় কোমলভাবে পড়ছে। আজ প্রথম বারের মত চুলগুলো খুলে রেখেছে। প্রথমত সাজের সঙ্গে খোলা চুলই মানানসই। আর দ্বিতীয়ত‌ সবে মাত্র গোসল করায় চুলগুলো ভিজে আছে।

শাড়িটা পুরো সিম্পল, মার্জিত, পরিবারের সঙ্গে মিলিয়ে মানানসই। কিরণ ওর ঘরে ঢুকে ওকে এভাবে শাড়ি পরিহিত অবস্থায় দেখে অবাক হয়ে গেল।

ঃ- কিরে, শাড়ি পরে যাবি?!!...

ঃ- হ্যাঁ, আর শুধু আমি নই। তুই ও আমার সাথে শাড়ি পরবি। বিছানার উপরে দেখ শাড়ি ব্লাউজ পেটিকোট সব কিছু বের করে রেখেছি।

ঃ- কিন্তু?.. যদি..

ঃ- কোনো কিন্তু নেই। তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নে। আব্বু রা চলে এলো বলে।

কিরণ ও আর কোনো দ্বিমত না করে কিয়ারার বের করে রাখা শাড়ি টা তুলে নিল। সেম একরকম শাড়ি, শুধু কালার টা আলাদা কিয়ারার টা নেভি ব্লু। আর ওরটা পার্পল রঙের শাড়ি। কিরণ ও তৈরি হয়ে নিল।

ওদের দুজনের রেডি হতে হতেই সবাই এসে পরলো। ওদের মধ্যে আরিয়া, আরিফা, আলিশা আপুও আছে। আর নামিরা ও কিয়ারার আব্বু আম্মু আর কিরণের আব্বু।

ঃ- কিরে তোদের এখনো হয়নি??.. সেই কখন ফোন করে রেডি হতে বলেছি!..

এই কথা বলতে বলতে আলিশা ও নামিরা কিয়ারার ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। ওরা দুজনেও শাড়ি পরেছে। কিন্তু আলাদা আলাদা রকমের। আর আরিয়া ও আরিফা দুই চুন্নিবেডি গাউন পড়েছে।

ওরা কিয়ারা ও কিরণ কে দেখে বেশ বড়সড় একটা চমক পেলো।

ঃ- কিরে , এ আমি কী দেখছি?... তোরা দুজনেও শাড়ি পরেছিস??...

নামিরা প্রচন্ড বিষ্ময় নিয়ে তাকিয়ে রইল। ওদের কে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে কিয়ারা প্রচন্ড লজ্জা পাচ্ছে।

ঃ- একি তোমরাও দেখছি শাড়ি পরেছো!..

কিরণ অবাক হয়ে বলে উঠলো।

ঃ- ‌‌‍ হ্যাঁ , কিন্তু তোরা কি মনে করে শাড়ি পরলি??..

আলিশা বলে উঠলো।

কিয়ারা বলল…

ঃ- না তেমন কিছু না, এমনিতেই ভাবলাম শাড়ি পরে যাবো।

ঃ- আচ্ছা ঠিক আছে। ভালোই হলো আমাদের কাকতালীয় ভাবে ড্রেস মিলে গেল।

নামিরা বলে উঠলো। আরিয়া ও আরিফা চুপচাপ দাঁড়িয়ে রাগে ফুঁসছে। কারণ কিয়ারা ও কিরণ কে ওদের থেকে বেশি সুন্দর লাগছে দেখতে।

ঃ- কিরে, তোদের হলো?.. আমাদের বেরুতে হবে তো।

এই বলে কিয়ারার আম্মু ওর রুমে ঢুকল। ওদের কে দেখে

ভীষণ খুশি হয়ে বলল…

ঃ- মাশাআল্লাহ!.. আমার দুই মেয়েকেই একদম হুরপরির মতো লাগছে। কারো নজর না লাগুক।

উনার শেষের কথাটা শুনে কিরণ কিয়ারা কে শুনিয়ে শুনিয়ে বলল…

ঃ- তোমার মেয়ের উপর তো নজর আগেই লেগে গিয়েছে মেজো মা!...

কিয়ারা এটা শুনে কিরণ কে কনুই দিয়ে খোঁচা মেরে চুপ করতে বললো।

তারপর ওরা সবাই রুম থেকে বেরিয়ে এসে ড্রইং রুমে দাঁড়ালো।

তারপর সবাই একসাথে বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে এলো। কিয়ারার বাবা রা বাড়ির গাড়ি নিয়ে এসেছেন। তাই ওরা সেই গাড়িতেই যাচ্ছে। সবাই প্রচন্ড খুশি হয়ে আছে।

---চলবে---

ইনশাআল্লাহ

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন