ফন্ট সাইজ:
থিম:
তীরন্দাজ

১ম পর্ব

লেখক: উমামা সারা
#তীরন্দাজ 
#উমামা_সারা 
#পর্ব _০১
❌কপি করা নিষেধ❌
 🚨 পাঠক সতর্কীকরণ 🚨 : এই উপন্যাসে রূপায়িত চরিত্র, ঘটনা ও প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং কল্পনানির্ভর। গল্পটিতে রাজকীয় চক্রান্ত, রণক্ষেত্রের তীব্র রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ডার্ক-থ্রিলার আমেজের কিছু গা ছমছমে দৃশ্য রয়েছে। সংবেদনশীল পাঠকদের নিজ দায়িত্বে পড়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
রুদ্রপুরের ধু-ধু করা অস্ত্রাগার শিবিরের খোলা ময়দানে তখন তীর চালনার কঠোর প্রশিক্ষণ চলছিল। চারদিকে ধনুকের ছিলার তীব্র টংকার আর লক্ষ্যভেদের সপাং সপাং শব্দ। ঠিক সেই সৈন্যদলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে নিখুঁত নিশানায় তীর ছুড়ছিল মাত্র ষোল বছর বয়সী এক তরুণী। পরনে তার তনুদেহে আঁটসাঁট হয়ে বসা সামরিক পোশাক, হাত দুটো ধনুক সামলাতে গিয়ে শক্ত আর চোখ দুটি শিকারী বাজপাখির মতো তীক্ষ্ণ।
এমন সময় শিবিরের ভারী আবহাওয়ার তোয়াক্কা না করে দৌড়ে এলো এক ছোট্ট খুদে মেয়ে। তার নাম রাহা। ফোলা ফোলা দুটি গাল আর অভিমানে লাল হয়ে থাকা মুখ নিয়ে সে এসে একপ্রকার আঁকড়ে ধরল ষোল বছরের সেই তরুণীকে।
তীর ছাড়ার জন্য টেনে ধরা ছিলাটা মাঝপথেই খানিক শিথিল করে তরুণীটি প্রশ্নবোধক চোখে তাকাল। রাহা মুখ হাঁড়ি করে নালিশের সুরে বলে উঠল,
—"আমায় ওই ছেলেটা বড্ড জ্বালাচ্ছে! তুমি ওকে কিচ্ছু বলছ না কেন? গিয়ে কিছু বলো ওকে!"
মেয়েটির অভিমানের ধরন দেখে তরুণীর গম্ভীর মুখে হালকা হাসির ঝিলিক খেলে গেল। ধনুকটা একহাতে নামিয়ে রেখে সে একটু নিচু হয়ে ছোট মেয়েটির দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হেসে বলল, 
—"তোদের এই ঝগড়া কখনো শেষ হয়? আগে বল কী হয়েছে।"
রাহা এবার পা ঠুকে রাগে গজগজ করে বলল,
— "সায়োর আমায় সবসময় জ্বালাতন করে! আর তুমি ওকে কিচ্ছু বলো না। আমি এখন ভীষণ রাগ করছি তোমার ওপর, মাস্টার!"
মেয়েটি না হেসে পারল না। রাহার রাগ ভাঙাতে আর ওকে একটু শান্ত করতে সে হেসে উঠে বলল, 
— "আচ্ছা দাঁড়া, দেখছি আমি।"
এরপর চারপাশে চোখ বুলিয়ে তরুণীটি গলা উঁচিয়ে ডেকে উঠল, 
— "সায়োর! এই দিকে আয় তো একবার।"
মাস্টারের ডাক শুনেই প্রশিক্ষণরত সৈন্যদের মাঝখান থেকে কিছুটা দূরে থাকা দুষ্টুমি ভরা চেহারার ছেলে সায়োর কুণ্ঠাবোধ না করেই ছুটে এলো। কাছে আসতেই ষোল বছরের সেই তরুণী চট করে হাত বাড়িয়ে সায়োরের কানটা শক্ত করে চেপে ধরল। কৃত্রিম রাগ দেখিয়ে বললো,
—"ফাযিল ছেলে! তোর কি আর কোনো কাজ নেই? রাহাকে সারাক্ষণ এভাবে জ্বালাচ্ছিস কেন, বল?" 
চিমটি কেটে কান মোচড় দিতে দিতে কড়া গলায় শুধাল তরুণীটি। সায়োর ব্যথায় এক চোখ বন্ধ করে, কান ছাড়ানোর আকুতি না জানিয়ে উল্টো মুখে দুষ্টু হাসি ফুটিয়ে বলল, 
— "ভালো লাগে আমার, তাই জ্বালাই!"
কথাটা বলেই সে ক্ষিপ্র গতিতে রাহার দিকে ঘুরল। ভেংচি কেটে চোখ নাচিয়ে বলল, 
— "এই মেয়ে, মাস্টারকে বিচার দিচ্ছিস কেন রে? ক্ষমতা থাকলে আমায় ধরে দেখা দিকি!"
বলেই সায়োর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না, উল্টো ঘুরে ট্রেনিং গ্রাউন্ডের দিকে দৌড় লাগাল। রাহা রাগে চিৎকার করে তার পেছনে ছুড়তে যেতেই তরুণীটি তাকে সামলে নিল। চঞ্চল এই দুটো ছোট ছেলে-মেয়ের দৌড়াদৌড়ি আর খুনসুটি দেখে ষোল বছর বয়সী তরুণীটির চোখদুটো স্নেহে আর হাসিতে ভরে উঠল। অস্ত্রাগার শিবিরের কঠোর পরিবেশের মাঝেই তাদের শৈশবের এই অনাবিল আনন্দ দেখে সে মৃদু হেসে আবার নিজের ধনুক হাতে তুলে নিল।সায়োর আর রাহার সেই দূরন্ত দৌড়াদৌড়ি দেখে তখনো মৃদু হাসছিল অপ্সরা। এমন সময় তার ঠিক পেছনে এসে দাঁড়াল বীর। অপ্সরার দিকে তাকিয়ে একটু চিন্তাগ্রস্ত গলায় বলল, 
— "কীরে, তুই এই ময়দানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন ? হাতে আবার ব্যথা পেলি নাকি? দেখি হাতটা।"
অপ্সরা নিজের হাতটা হালকা গুটিয়ে নিয়ে হেসে বলল,
— "আরে না, তেমন কিছু হয়নি। আমি রাহা আর সায়োরকে দেখছিলাম। দুটোই বড্ড দুষ্টু!"
কথাটা শেষ হতেই তাদের দিকে এগিয়ে এলো শেখর। তার মুখে ছিল গভীর চিন্তার ছাপ। সে বলল, 
— "সামনের কিছুদিনের মধ্যেই চন্দ্রদ্বীপ সাম্রাজ্যের সাথে আমাদের যুদ্ধ শুরু হবে। তখন আমাদের কাঁধে অনেক বড় বড় দায়িত্ব এসে পড়বে।"
বীর সঙ্গে সঙ্গে মাথা নেড়ে সায় দিয়ে বলল, 
—"হ্যাঁ, যুদ্ধক্ষেত্রে আমাদের তিনটা প্রধান সেক্টর থাকবে। একটার দায়িত্বে থাকব আমি, অন্যটায় তুই, আর শেষ সেক্টরটার দায়িত্বে থাকবে অপ্সরা।"
কথাটা শুনে অপ্সরা যেন আকাশ থেকে পড়ল। চোখ দুটো বড় বড় করে সে বীরের দিকে তাকিয়ে বলল, 
— "কী! তোর মাথা ঠিক আছে তো? একটা মেয়ে কীভাবে পুরো সেক্টরের কমান্ডার হবে? আমি এসবের মধ্যে একদম নেই, আমায় এসব দায়িত্বে ডাকবি না। আমি সাধারণ একজন যোদ্ধা হিসেবেই ঠিক আছি।"
শেখর এবার অপ্সরার সামনে এসে দাঁড়িয়ে একটু গম্ভীর স্বরে বোঝানোর চেষ্টা করল, 
— "দেখ অপ্সরা, তোর মা-বাবাও তো এই সাম্রাজ্যের পরাক্রান্ত যোদ্ধা ছিলেন। তিন বছর আগে শত্রুদের সাথে যুদ্ধে তারা প্রাণ দেন। যেহেতু তোর বাবা ওই সেক্টরের প্রধান কমান্ডার ছিলেন, তাঁর পর সেই পদের যোগ্যতা তোরই। এই পদটা মেনে নে।"
অপ্সরা একটু জেদ দেখিয়ে বলে উঠল,
— "তাই বলে আমি? কে ঠিক করেছে এসব?"
ঠিক তখনই পেছন থেকে এক গাঢ় ও প্রখর কণ্ঠ ভেসে এলো, 
— "আমি ঠিক করেছি।"
অপ্সরা চট করে পেছনে ফিরে তাকাল। সেখানে দাঁড়িয়ে আছে রাজকুমার রণবীর। তাকে দেখে অপ্সরা খানিকটা অবাক হয়ে বলল, 
— "তুমি? তুমি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিতে গেলে?"
রণবীর শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বলল, 
— "তুমি সবচেয়ে ভালো তীর পরিচালনা করতে পারো। তাছাড়া তুমি একজন অত্যন্ত গুণী মাস্টারও। এই পদের জন্য তুমিই শতভাগ উপযুক্ত।"
অপ্সরা দুদিকে মাথা নেড়ে বিরক্ত হয়ে বলে উঠল, 
— "গেছে! সবগুলোর মাথা গেছে! তোমরা সবাই পাগল হয়ে গেছ, আমি বুঝতে পেরেছি। সরো, সরো সব সামনে থেকে! আমি যাই, এসব পাগলামি আমি আর নিতে পারছি না।"
কথাগুলো বলেই অপ্সরা আর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে দ্রুত পায়ে প্রশিক্ষণ ময়দান ছেড়ে চলে গেল।
রণবীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে শেখরের দিকে তাকিয়ে বলল,
— "আমি কিছু জানি না, তোরা যেভাবে পারিস অপ্সরাকে বুঝিয়ে রাজি করা।"
বীর হাত উল্টে বিরক্ত হয়ে বলল, 
— "এটা কেমন কথা! যেখানে সবাই কমান্ডার হওয়ার জন্য কত কৌশল করে, রক্ত জল করে ফেলে, আর এই মেয়ে পদ পেয়েও এভাবে পালিয়ে যাচ্ছে! পারি না আর একে নিয়ে।"
ঠিক এমন মুহূর্তে এক সিপাহি দ্রুত হেঁটে এসে রাজকুমারের সামনে এসে মাথা নোয়াল। অত্যন্ত বিনীত স্বরে বলল, 
— "যুবরাজ! আপনাকে রাজমাতা এখনই রাজমহলে ডেকে পাঠিয়েছেন।"
রণবীর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল, 
— "ঠিক আছে, আমি আসছি।"
সিপাহি সম্ভাষণ জানিয়ে চলে যাওয়ার পর রণবীর যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়ে বীর আর শেখরের দিকে ফিরে বলল,
— "আমি আর কিছু জানি না, তোরা যেভাবেই হোক অপ্সরাকে রাজি করা। আমি যাই, দেখি মা আবার কী দরকারে ডেকে পাঠালেন।"
•••••••••••••••••••••••••••••••••••
সন্ধ্যা নেমে আসায় রুদ্রপুরের আকাশ তখন রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। নির্জন নদীর ঘাটে পাথরের ওপর চুপচাপ বসে ছিল অপ্সরা। বুকচাপা অভিমান আর মানসিক অস্থিরতায় সে একে একে ছোট ছোট পাথর কুড়িয়ে নদীর জলে ছুড়ে মারছিল। প্রতিটা পাথরের আঘাতে শান্ত জলে ঢেউ খেলে যাচ্ছিল।
এমন সময় পেছনে শুকনো পাতায় পায়ের শব্দ হলো। বীর ধীর পায়ে এগিয়ে এসে বলল,
— "অপ্সরা, তোর সাথে আমার কিছু কথা ছিল।"
বীরকে দেখেই অপ্সরার ভেতরের জমাট বাঁধা রাগটা হঠাৎ যেন বিস্ফোরণের মতো ফেটে পড়ল। চটজলদি কোমর থেকে খাপ খোলা তলোয়ার বের করে সে বীরের বুকের দিকে উঁচিয়ে ধরল। চোখ দুটো প্রখর করে রুদ্ধ স্বরে বলল,
— "আমায় যদি জোর করতে আসিস, আমি কিন্তু ছেড়ে কথা বলব না বলে দিলাম!"
বীর বিন্দুমাত্র চমকাল না। অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নিজের তলোয়ার বের করে অপ্সরার তলোয়ারের আঘাত আটকে দিল। ইস্পাতে ইস্পাতে ঠোকাঠুকির ধাতব শব্দে কেঁপে উঠল চারিধায়।বীর পরম স্নেহে শান্ত গলায় বলল, 
— "বোন আমার... আমার কথাটা বোঝার চেষ্টা কর। এই পদ গ্রহণ করা ছাড়া আমাদের সামনে আর দ্বিতীয় কোনো উপায় নেই। তুই কি চাস আমরা এই যুদ্ধে হেরে যাই? আর এমনিতেও তুই ভালো করেই জানিস, তোর সেই ক্ষমতা ও যোগ্যতা আছে। তবে তুই কেন এভাবে পিছিয়ে যাচ্ছিস?"
অপ্সরার হাতের তলোয়ার কিছুটা শিথিল হয়ে এলো। চোখ দুটোতে ফুটে উঠল এক অজানা আশঙ্কা। নিচু স্বরে সে বলল, 
— "কিন্তু আমার বড্ড ভয় হয় রে... যদি আমি সবটা সামলাতে না পারি? তখন কী হবে?"
বীর মৃদু হেসে তার কাঁধে হাত রেখে বলল, 
— "কেন পারবি না? আমরা সবাই আছি তো তোর সাথে। তুই ঠিক পারবি। দেখ, এখন অনেক সন্ধ্যা হয়ে গেছে। আর বাইরে এভাবে একা না থেকে ভেতরে চল।"
অপ্সরা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তলোয়ার খাপে পুরে বলল,
— "ঠিক আছে, আমি যাচ্ছি।"
রাত তখন অনেক গভীর। রাজমহলের চারপাশ নিঝুম হয়ে এসেছে। অপ্সরা নিজের শোয়ার ঘরে এসে বিছানায় শুয়ে পড়েছিল ঘুমোনোর উদ্দেশ্যে। কামরার ভেতরের শেষ প্রদীপটা নিভিয়ে দিতেই ঘরজুড়ে ঘন অন্ধকার নেমে এলো।
ঠিক সেই মুহূর্তে অপ্সরার সূক্ষ্ম অনুভূতি জানান দিল এই ঘরে সে একা নেই! অন্ধকারে কে যেন অতি সাবধানে নিঃশব্দ পায়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে।
মুহূর্তের মধ্যে অপ্সরা বিছানার ওপর সোজা হয়ে বসে পড়ল। অন্ধকারের মাঝে ছায়ামূর্তিটি যেই অপ্সরার কাছাকাছি এগিয়ে এলো, চটজলদি অপ্সরা তার তীরের মতো প্রখর হাত বাড়িয়ে লোকটির গলায় ধারালো ছুরি চেপে ধরল। গলায় ঠান্ডা লোহার স্পর্শ পেতেই লোকটা আঁতকে উঠে চিস্কার সামলে বলে উঠল, 
—"আরে! আরে! কী করছ কী এটা? আমি!"
কণ্ঠস্বর চিনতে পেরে অপ্সরা সঙ্গে সঙ্গে ছুরিটা স্রেফ কয়েক ইঞ্চি সরিয়ে নিল। বিরক্তি ও বিস্ময় মিশিয়ে চাপা গলায় বলল, 
— "এত রাতে আমার ঘরে কী করছ? এভাবে চোরের মতো ঢুকছ কেন? লোকজনে যদি জানতে পারে, তোমার মান-সম্মান বলে আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে?"
অন্ধকারেই আবছায়ায় মৃদু হাসল যুবরাজ রণবীর। পরম যত্নে বলল,
— "আমার সাথে এসো।"
অপ্সরা ভ্রু কুঁচকে শুধাল,
— "এত রাতে আবার কোথায় যাব?"
— "আহা, চলোই না! ওইখানে গেলেই জানতে পারবে," রণবীর মৃদু হেসে হাত বাড়াল।
অপ্সরা আর তর্ক না করে একটা লণ্ঠন হাতে তুলে নিল। এরপর রাজমহলের পেছনের গোপন দরজা দিয়ে রণবীরের সাথে নদীর পাড়ে এসে বসল।
সেখানে দৃশ্যটা ছিল অপূর্ব। রাতটি পূর্ণিমার হওয়ায় রুপোলি চাঁদের আলোয় পুরো নদীর পার আর চারপাশ ধোওয়া ফর্সা হয়ে ছিল। মাথার ওপর ও চারপাশের ঝোপঝাড়ে হাজার হাজার জোনাকি পোকা আলোর বিন্দু হয়ে উড়ে বেড়াচ্ছিল। লণ্ঠনটা পাশে নামিয়ে রাখতেই চারপাশের স্নিগ্ধ বাতাসে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি হলো। অপ্সরার পাশাপাশি বসে নদীর জলের দিকে তাকিয়ে রণবীর শান্ত গলায় বলল,
— "আমি মায়ের সাথে কথা বলেছি, অপ্সরা। এই যুদ্ধটা শেষ হলেই আমরা বিয়ে করব। মা বলেছেন, আমি যাকে চাইব, তাকেই আমার বধূ করে এনে দেবেন।"
অপ্সরা অবাক চোখে রণবীরের দিকে তাকাল। কিছুটা দ্বিধা নিয়ে জিজ্ঞেস করল, 
— "উনি সত্যি আমাদের এই সম্পর্ক মেনে নেবেন?"
রণবীর অপ্সরার চোখে চোখ রেখে পরম আশ্বাসে বলল, 
— "হ্যাঁ, অবশ্যই মানবেন। আমি তাঁকে সব বুঝিয়ে বলব।"
অপ্সরা একটু লাজুক হেসে রণবীরের হাত ছুঁয়ে মৃদু স্বরে শুধাল, 
— "তুমি আমায় ভালোবাসো?"
রণবীর নরম চোখে অপ্সরার দিকে তাকিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে বলল,
— "হ্যাঁ, ভালোবাসি... অনেক ভালোবাসাই।"
কথাটা বলেই রণবীর নদীর পাড়ের ঝোপ থেকে ফুটে থাকা একটি বুনো ফুল তুলে নিল। তারপর অত্যন্ত যত্নে ও পরম মায়ায় অপ্সরার ঘন চুল সরিয়ে কানের পাশে ফুলটি গুঁজে দিল।
ঠিক সেই স্বর্গীয় মুহূর্তে হঠাৎ করেই রাজমহলের উঁচুমিনার থেকে প্রহরীদের বিকট বিপদঘণ্টা বাজতে শুরু করল! পাহারাদারদের হাঁকডাক আর যুদ্ধের দামামার আওয়াজে রাতের নিস্তব্ধতা চুরমার হয়ে গেল।
ঝটকা দিয়ে উঠে দাঁড়াল অপ্সরা। আতঙ্কে চোখ বড় বড় করে বলল, 
— "রাজ্যে হামলা হয়েছে! তাড়াতাড়ি চলো!"
রণবীরও মুহূর্তে রাজকীয় গম্ভীরতায় নিজের তলোয়ারের বাঁটে হাত রেখে সোজা হয়ে দাঁড়াল। অপ্সরার দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত সতর্ক গলায় বলল,
— "অপ্সরা, সাবধানে থাকবে কিন্তু! ঠিক আছে?"
অপ্সরা দৃঢ় প্রত্যয়ে মাথা নেড়ে বলল, 
— "ঠিক আছে! চলো এখন!"
কথা শেষ করেই আর এক মুহূর্ত বিলম্ব না করে তারা দুজনে ছুটে চলল প্রশিক্ষণ ময়দান ও প্রধান সেনাশিবিরের দিকে।
( চলবে......!! )

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন