প্রিয়দের কাল্পনিক সাক্ষাৎ (কিছুঅংশ)
লেখনীতে- নৌশিন আহমেদ রোদেলা
2.1
' অস্থিরতম মাইয়া। দোস্ত, আমি কাইত। এই মাইয়াকে না পটাতে পারলে বাঁইচা থাইকা কী লাভ?'
রোজা ভ্রু বাঁকিয়ে তাকাল। বিরক্ত কন্ঠে বলল,
' তুই শালা মইরাই যা। দিনে একশোটার লগে ফ্লার্ট না করলে চলে না তোর? আমি মালিহাকে বলব সব, দাঁড়া।'
তীর্থ বিরক্ত চোখে তাকাল। পরমুহূর্তেই অনুনয়ের সুরে বলল,
' ওমন করছ ক্যান দোস্ত? ছেলে হিসেবে জন্মানোর প্রথম কোডই হলো ফ্লার্টিং সার্টিং করা। এমনে ত্যাগদা মাইরা পইড়া থাকলে লাইফ জিংগ্গালালা হইব কেমনে?'
রোজা-তীর্থের ফিসফাস কানে যেতেই নীরবে হাসল মৃন্ময়। ধবধবে সাদা শার্ট আর ডেনিম জিন্সে উজ্জ্বল শ্যামবর্ণের মানুষটিকে আকর্ষণীয় দেখাচ্ছে। কাটা কাটা চেহারায় কালো রোদচশমাটা সেই আকর্ষণীয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। মৃন্ময় পকেটে হাত ঢুকিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। সামনে থেকে ফর্সা, সুন্দর একটি ছেলেকে এগিয়ে আসতে দেখেই হাসিমুখে হাত বাড়িয়ে দিল। ছেলেটি চমৎকার হেসে হাত মেলাল। বিস্মিয় নিয়ে বলল,
' আরিয়ান মৃন্ময়! আই এম সারপ্রাইজড। আপনি এখানে?'
মৃন্ময় ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে বলল,
' একটা পার্সোনাল কাজে এসেছি। কিপ ইট সিক্রেট মিষ্টার আহমেদ।'
' ওহ্। অফকোর্স অফকোর্স।'
' আপনি এখানে? ফ্যামিলি ট্যুর?'
শুভ্র হাসল। সাথে সাথেই তার ফর্সা গালে সুন্দর এক গর্ত দেখা গেল। ডানপাশের ব্যাঁকা সুন্দর দাঁতটা ঝলক দিয়ে উঠল। চোখ থেকে রোদচশমাটা খুলে নিয়ে বলল,
' অলমোস্ট। এসেছি অফিসের কাজে। তবে, ফুল ফ্যামিলি কোম্পানি দিচ্ছে আমায়। ফ্যামিলি ট্যুর, অফিস ট্যুর সব একসাথে।'
মৃন্ময় আবারও হাসল। শুভ্র পেছন ফিরে একটা মেয়েকে ইশারায় ডাকল। ছোটো খাটো মিষ্টি দেখতে একটি মেয়ে গুটি গুটি পায়ে ওদের পাশে এসে দাঁড়াল। শুভ্র মেয়েটিকে ইশারা করে বলল,
' মিষ্টার আরিয়ান, মিট মাই ওয়াইফ রোদেলা।'
রোদ চোখ বড় বড় করে তাকাল। বিস্মিত কন্ঠে বলল,
' মৃন্ময়? ওহ মাই গড! আরিয়ান মৃন্ময়? আই কান্ট বিলিভ!'
শুভ্র ভ্রু কুঁচকে বলল,
' আশ্চর্য! এমন উইয়ার্ড রিয়েকশন কেন দিচ্ছ? প্লিজ ক্রাশ টাশ খেও না, প্লিজ। ক্রাশ খাওয়ার জন্য তোমার আস্ত একটা বর আছে। খাওয়ার হলে এদিকে তাকিয়ে খাও।'
শুভ্রর কথায় হেসে ফেলল মৃন্ময়। হাসি হাসি মুখে বলল,
' আসসালামু আলাইকুম মিসেস. আহমেদ। আমি আপনাকে ছবিতে দেখেছিলাম। কয়েক বছর আগে মিষ্টার আহমেদের কোম্পানির সাথে একটা বিজ্ঞাপনের কনট্রাক হয়েছিল। মিষ্টার আহমেদের অফিস রুমে ঢুকতেই ফ্রেমেবন্ধী আপনাকে চোখে পড়ে।'
ওদের কথাবার্তা শুনে হা-হুতাশ করে উঠল তীর্থ। অসহায় মুখে ফিসফিস করে বলল,
' আমি বিশ্বাস করি না। এই মেয়ে বিবাহিত? হায় আল্লাহ! বুকটা আমার দরফর করতাছে দোস্ত। আমি বোধহয় আর বাঁচব না। একটুও না।'
রোজা প্রত্তিত্যুরে কিছু বলবে তার আগেই দৌঁড়ে এলো বাচ্চা একটা মেয়ে। রোদের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে বড় বড় চোখে অপরিচিত মানুষগুলোর দিকে তাকাল। শুভ্র মেয়েকে কোলে তুলে নিয়ে আদর করল। গালে চুমু দিয়ে বলল,
' আম্মু? চাচ্চুকে সালাম দিয়ে নিজের পরিচয় দাও।'
শুভ্রতা মৃন্ময়ের দিকে তাকাল। মৃন্ময় মুচকি হাসতেই মিষ্টি করে হাসল শুভ্রতা। একহাতে নিজের ঝুঁটি বাঁধা চুলগুলো টেনে ধরে মৃদু কন্ঠে বলল,
' আছছামুয়াইকুম চাচু। আমি শুভ্ভতা আমেদ।'
' ওয়ালাইকুম আসসালাম মা-মণি।'
রোজা উচ্ছ্বসিত কন্ঠে বলল,
' বাহ! বাচ্চাটা তো খুব কিউট। বাবা-মায়ের সাথে মানিয়েছে খুব। বাবার মতো অতিরিক্ত সুন্দর আর মায়ের মতো অতিরিক্ত কিউট।'
রোজার কথায় হেসে মেয়ের দিকে তাকাল শুভ্র-রোদ। তীর্থ চাপা আর্তনাদ করে বলল,
' দোস্ত! আমারে ধর। একের পর এক ছ্যাঁকা খেয়ে যাচ্ছি আমি। প্রথমে শুনলাম ম্যারিড। ওকে ফাইন, মেনে নিলাম। এখন আবার বাচ্চা? এই কচি মেয়েটার এতো বড় বাচ্চা? আমার বুক দরফর বাড়ছে দোস্ত। এতো বড় ধোঁকা!'
রোজা হেসে ফেলে বলল,
' ঢং কমিয়ে কর। এই আপু তোর থেকে সিনিয়র। আমরা কেবল সেকেন্ড সেমিস্টার আর আপু মাস্টার্স। তিন বছরের সিনিয়র।'
' হায় খোদা! আবার ছ্যাকা! কলিজাডা ঝাঁঝরা করে দিলি রে দোস্ত। আহ্!'
তীর্থর কথার ভঙ্গিমায় মুখ চেপে হেসে ফেলল রোজা। চাপা কন্ঠে বলল,
' মালিহা জানলে শুধু ঝাঁঝরা না। তোর অতিসুন্দর কলিজা টা ভেজে ফ্রাই করে ফেলবে, ডাফার।'