আমার সদ্য বিবাহিত বর আমাকে ক্লাসে কান ধরিয়ে ধার করিয়ে রেখেছে । কারন ,, আমি তাকে প্রেমপত্র দিয়েছি? তাও সেটা আমার বেষ্ট ফ্রেন্ডদের হয়ে । আর এই অপরাধের কারনেই আমাকে কলেজের সবার সামনে পুরো এক ঘন্টা দাড়িয়ে থাকতে হয়েছে ।
আমি " ইনান অরি " । সবাই অরি বলেই ডাকে । ঢাকা ডিএইম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী । আর আমার বর " নায়েবান চৌদুরী অহন " এই কলেজের লেকচার । আমরা অহন স্যার বলেই সম্বোধন করি । গত পুরশো আমাদের বিয়ে হয়েছে । মূলত আমাদের বিয়েটা হুট করেই হয় । তাই এখনো আমাদের পরিবার বাদে কেউ জানে না এই সম্পর্কে । আমার দাদী আর অহন স্যারের দাদী দুজনে বেষ্ট ফ্রেন্ড । আর সেই সম্পর্কই মজবুত করতে আমাদেরকে বলির পাঠা বানিয়েছে । যদিও আমি এখন নিজ বাড়িতেই আছি । ওনাদের মানে আমার বরের বাড়ি থেকে বলা হয়েছে, আমার এডমিশনের পর তুলে নেওয়া হবে ।
একটু আগে ,,, আমার একমাত্র বেষ্টি আয়রা একটা খাম দেখিয়ে আমাকে বলেছিল ,,,,
----"দোস্ত , শোন না ? আজকে একটা প্রেমপত্র লিখছি বুঝলি ?
আমি অবাক হয়ে জবাব দিলাম ,,,,,,
বাহ ! প্রেমপত্র? তা কার কপালে জুটবে শুনি ? কাকে দিবি ?
আর কাকে দিবো ? আমার সাইত্রিশ নাম্বার আর জীবনের শেষ ক্রাশ ওয়ান এন অনলি " অহন স্যার কে"
অহন স্যারের নাম শুনতেই আমার কপাল কুচকে গেল । আমি জানতাম আয়রা স্যার কে পছন্দ করে । কিন্তু তাই বলে ডিরেক্ট প্রেমপত্র ? আমার কেনো জানি রাগ হচ্ছে ? আমার জামাই কে কেউ কেনো প্রেমপত্র লিখবে ? হোক না সে সদ্য বিয়ে করা । জামাই তো জামাই- ই । বাঙালি নারি বলে কথা । এদিকে আয়রাকেও তো কিছু বলতে পারবে না । একে তো আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড তার উপর সে আমার বিয়ের কথা জানে না ।
"এই অরি " ?
আয়রার ডাকে আমার ধ্যান ভাঙল ! বললাম,,,,,
"বল "
' ইয়ে - মানে ..... লেটারটা তুই দে না । আমার তো সাহসৃ কুলাচ্ছে না "
আমি কপালে ভাজ ফেলে বললাম,,,,
আমি কেন দিবো ? লিখতে যেহেতু পারছিস , দিতেও পারবি । আমাকে বলবি না ।
'প্লিজ বান্ধবী না করিস না । দে না , তুই না আমার জানের বান্ধবী । আমার জন্য এটা করতে পারবি না ?
অবশেষে আয়রার ইমোশনাল ব্ল্যামেইলের কারনে কেনো জানি রাজি হলাম । আর রাজি হয়েই বাশ খেলাম । স্যার কে চিঠিটা দিতেই, ওনি পুরো ক্লাসের সামনে, কলেজের প্রফেস্যার কে চিঠি দেওয়ার অপরাধে আমাকে টানা এক ঘন্টা কান ধরে দাঁড় করিয়ে রেখেছে । আর আমিও উনার দিকে কটকম চোখে তাকিয়ে মনে মনে ইচ্ছে মত বকেছি । বউকে কেউ এমন করে শাস্তি দেয় ?
-----------
--ভাই কথা বল ,,, এই যে কানে ধরেছি । তারপরেও কথা বল । কেন বলবো , সব দোষ তো ওরই ? ওর জন্যই আমাকে পুরো ক্লাসের সামনে অপমানিত হতে হয়েছে । চিঠিটা শুধু দিয়েছি আমি কিন্তু লিখেছে তো ও নিজেই । ও যদি না লিখতো আর না বলতো আমাকে স্যার কে দিতে । তাহলে কী আজকে এমন অপমানিত হতে হতো আমার ?
তাই আমি আয়রার কথাই পাত্তা না দিয়ে, মুখ ফিরিয়ে আবার নিজের মত করে হাঁটা শুরু করলাম । আজকে কোনোভাবেই আর ওর সাথে কথা বলবো না । আয়রা দৌড়ে এসে এবার আমার সামনে দাঁড়ালো । দুহাত জোর করে ক্ষমা চাওয়ার মত করে বলল,,,,
-- ভাই ক্ষ্যামা করে দে ? এই যে মাফ চাইছি তো । তুই যা বলবি , তাই করবো । তবুও কথা বল মা "
আয়রার এমন অসহায় অবস্থা দেখে আমার পুরো কলেজ কাপিয়ে হাসতে ইচ্ছে হলো । তবে জুড়করে মুখটা কে বন্ধ করে রাখলাম । কারন , এটাই তো সুযোগ ? এমন সুযোগ হাতছাড়া করা যায় নাকি ? আমি একটু ভাব দেখিয়ে বুকে দুহাত রেখে বললাম,,,,
' সত্যি বলছিস "
আয়রা তেমনি মাথা ঝাকিয়ে ঝাকিয়ে বললো ,,,,,
"হ্যাঁ সত্যি "
" তাহলে চল রেস্টুরেন্টে যাব এখন । পেট ভরে কাচ্চি খাওয়াবি তাহলে ক্ষমা করবো ।
আমার কথার আয়রার মুখটা আরও অসহায় হয়ে গেল । মুখটাকে কাদো কাঁদো করে বলল,,,
"ভাই বিশ্বাস কর । আমার পকেট একদম খালি কচাচি খাওয়াতে পারবো না । চল ফুচকা খাওয়াই ।
আমি এক পাও লড়লাম না । ওর পকেট কখন ফাঁকা থাকে । না তা আমে জানি না বুঝী । মাসের শুরু এখন ওর ব্যাগের আনাছে - কানাচে টাকা পাওয়া যাবে ।
'কি হলো , ফুচকা চলবে না ?
আমি রাগত মুখে প্রতিওর করে বললাম,,,
আমি যা চাই তা না পেলে চলবে না ?
আয়রা শিষ মেষ হার মেনে নিলো ? বললো ,,
" আচ্ছা, চল কাচ্চিই খাওয়াবো "
আমি মুখে একটু হাসি ফুটিয়ে , আয়রার গলা জরিয়ে ধরলাম । কিটকিটিয়ে একটা হাসি দিয়ে বললাম,,,,,,
এই না হলে আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড ,? চল , চল ।
*
বিকেল বলা , আমি রুমে বসি বসে রিলস দেগছি । আমার নেশা হলো রিলস দেখা । মন ভালো থাকলেও রিলস দেখি, আবার মন খারাপ থাকলেও রিলস দেখি । এমনকি পড়তে বসলেও রিলস দেখি । এমন সময় আমার মাতারাণী ওরে মা আমার রুমে এসে বললেন,,,,,,
'নিচে নায়েবান এসেছে ! যা রেডি হো ! তোকে নিয়ে যাবে ।
আমি ঝট করে উঠে বসলাম । বললাম,,,,,
" নিয়ে যাবে মানে , কোথায় নিয়ে যাবে ?
" জানি না বলল তোকে রেডি হতে ?
আমি ভ্রু গুটালাম । স্যার এখানে কেন এসেছে ? কোথায় নিয়ে যাবে ? আমার মান ভাঙ্গতে বুঝি ? কিন্তু আমি তো পন করেছি ।
আজকে যত যায় হোক না কেন কারো কোনো কথাতেই গলবো না ? তাই মাকেও রাগ দেখিয়ে বললাম,,,,
" যেতে পারবো না কোথায়ও আমি "
মা একটা ধমক দিয়ে বলল,,,,
যাবি না কেন? জামাই এসে বসে আছে নিচে । ওকে কী বলবো আমি ।
" বলো চলে যেতে "
" বলতে পারবো না , রেডি হয়ে নে ?
আমি এবার জোরে চিৎকার দিয়ে বললাম,,,
বললাম তো যাব না ,? গিয়ে বলো তোমার জামাই কে , আমি কোথায়ও যাবো না ।
জেরিন বেগম আর কথা বাড়ালেন না । নিচে চলে গেল । এই মেয়ের যা গলা তাকে আর বলতে হবে না । নিশ্চয়ই নিচে বসা অহন সব শুনছে ।
কিছুক্ষণ পর আবার দরজায় নক হলো , আমি মাকে ভেবে কপাল কুচকে বললাম ।
" কি হলো ? আবার বিরক্ত করছো কেন ? বললাম না তখন আমি যাফো না ?
এবার দরজার নক করার শব্দ থেমে গেল । কিন্তু কিছু মিনিট খানেক বাদে একটা গুরুগম্ভীর ঠান্ডা গমগমে কন্ঠ ভেসে আসল ,,,,
' না যাওয়ার কারন ?
আমি প্রায় লাফিয়ে পিছনে ফিরলাম । দেখলাম আমার প্রফেস্যার বর বুকে দুহাত গুজে , আমার দিকে ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছে । আমি বুকে থুথু দিয়ে আবার ওনার দকে ফিরলাম। উনার কপাল কুচকে গিয়েছে ; দেখে মনে হচ্ছে ।আমার কাজটা পছন্দ হয়নি । কিন্তু তাতে আমার কী ? আমি এসব থোরাই কেয়ার করি ।
" আপনাকে বলতে বাধ্য নয় "
স্যার কপালটা শিথিল করে হাতদুটো নিজের প্যান্টের পকেটে পুরলো । এরপর আমার দিকে একটু ঝুকে এসে গম্ভীর স্বরে শুধালো ,,
" সত্যিই বাধ্য নন ?
আমি এমন গম্ভীর কন্ঠে একটু দমে গেলাম । আমতা আমতা করে খানিকটা তোতলাতে তোতলাতে বললাম,,,,,,
" ইয়ে ...মানে ..হ্যাঁ মানে না । আমি ...আমি কেনো বাধ্য হতে যাব ।? আপনি কে আমার?
অহন স্যার আমার মুখের উপর থেকে সরে গেল । এরপর এক ভ্রু উচু করে মাথা নাড়াতে নাড়াতে বলল,,,,
"আচ্ছা"
এরপর হুট করেই আমার গলা পেছিয়ে ধরলো আমার । আমার মুখের উপর ফু দিয়ে আলতো করে কপালে দুটো চুমু দিয়ে সরে গেল । আমি তো স্যারের এমন কান্ডে একদম জমে গেলাম কি করল এটা ? কেন করলো ? আমার বুক কাঁপছে । একদম থরথর করে , যেনো এক্ষুণি লাফ দিয়ে হৃদপিন্ডটা বেড়িয়ে আসবে ।
আমাকে এমন জমে যেতে দেখে অহন স্যার একটু ঠোট বাকিয়ে হাসলো । এরপর স্বাভাবিক স্বরে বললো .....
"এবার বুঝতে পেরেছো আমি কে তোমার" ?