পর্ব তিন
---
পরের দিন। সকাল ১০টা। কলেজ ক্যান্টিন।
আজকে ক্যান্টিনে ৭ জন।
রদ্রো, আদি, সিয়াম, অরিন, তাসনিম, ঐশি আর নওরিন।
নওরিন সিয়ামের ফ্রেন্ড। কথায় কথায় হাসে, মনটা সোনার মতো।
তাসনিম চিল্লায়ে বললো, "আমাদের একটা নাম লাগবে।"
আদি বললো, "টিম ফুচকা কেমন?"
সবাই একসাথে "ছি" বলে উঠলো।
নওরিন হেসে বললো, "টিম রোদ-বৃষ্টি। কারণ ভাইয়া রোদ্রো আর অরিন আপু বৃষ্টির মতো ঠান্ডা।"
রদ্রো আর অরিন দুইজনই লজ্জা পেয়ে অন্যদিকে তাকালো।
রদ্রো ফুচকার প্লেট দিতে দিতে বললো, "নাম যাই হোক, ঝগড়া যেন না হয়।"
অরিন মনে মনে ভাবলো, "ছেলেটা কত সুন্দর করে কথা বলে।"
---
বিকাল ৩টা। স্টেডিয়াম মাঠ।
সবাই আড্ডা দিতেছে। সিয়াম গিটার নিয়ে আসছে।
রদ্রো তখন বাইক নিয়ে আসলো। তাদের মধ্যে বসে পরলো
সিয়াম বললো, "রদ্রো গান গা।"
রদ্রো প্রথমে মানা করলো। পরে অরিন বললো, "প্লিজ একটা গান।"
রদ্রো অরিনের দিকে ২ সেকেন্ড তাকিয়ে গান ধরলো,
তুই দেখবি ঠিকি জিতে নেবো একদিন তোকে।
অরিন চুপ করে শুনতেছে। বুকের ভিতর কেমন করতেছে।
গান শেষ হতেই হুট করে আকাশ কালো করে বৃষ্টি।
সবাই দৌড়।
রদ্রো অরিনের দিকে নিজের ছাতা এগিয়ে দিলো, "এটা নাও। ভিজো না। জ্বর আসবে।"
অরিন বললো, "আর আপনি?"
"আমার অভ্যাস আছে ভেজার" - বলে রদ্রো নিজেই ভিজে গেল।
ঐশি পাশ থেকে ফিসফিস করে বললো, "আপু ভাইয়া কিন্তু তোমাকে স্পেশাল কেয়ার করে।"
অরিন কিছু বললো না। শুধু লজ্জায় মাথা নিচু করলো।
---
রাত ৯টা। রদ্রোর বাসা।
বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর এসে গেছে রদ্রোর।
ঐশি মাথায় পানি দিচ্ছে আর বলতেছে, "ভাইয়া নিজের খেয়াল রাখো। দোকান বন্ধ করে রেস্ট নাও।"
রদ্রো হেসে বললো, "রেস্ট নিলে খাবি কি?
ঐশি বললো,
"কে বলছিলো তোমাকে বৃষ্টিতে ভিজে বাইক রেস করতে
রদ্রো চুপ করে রইলো।
---
রাত ১টা। অরিনের রুম।
অরিনের ফোনে আননোন নাম্বার থেকে মেসেজ।
"বাসায় ঠিক মতো পৌঁছাইছো? ভিজো নাই তো? - রদ্রো"
অরিন বুকের ভিতর ধুক করে উঠলো।
রিপ্লাই দিলো, "হুম পৌঁছাইছি। আপনি পৌঁছাইছেন।
ওপাশ থেকে রিপ্লাই আসলো, "হুম
অরিন ফোন বুকের সাথে চেপে ধরে শুয়ে পড়লো।
ও বুঝতেছে... এই ছেলেটার প্রতি ওর মায়া দিন বাড়তেছে।
কিন্তু বাড়ির সবাই মানবে তো?
চলবে...