পর্ব পাঁচ
---
পরের দিন। সকাল ১০টা। কলেজ ক্যান্টিন।
৭ জন একসাথে বসা। সবার মুড অফ। কালকের ঘটনার পর।
নওরিন বললো, "সবার মন খারাপ। চল কোথাও ঘুরতে যাই।"
আদি বললো, "টাকা কই? আমরা গরিবস।"
সিয়াম বললো, "সাজেক যাই। ৭ জন মিলে খরচ কম হবে।"
ঐশি লাফ দিয়ে উঠলো, "হ্যাঁ ভাইয়া প্লিজ। আমি কখনো পাহাড় দেখি নাই।"
রদ্রো চুপ করে আছে। ওর পকেটে টাকা নাই।
অরিন বুঝতে পারলো। বললো, "আমি ট্রিট দিবো। প্লিজ মানা করো না। আমার অনেক দিনের ইচ্ছা সবার সাথে ঘুরতে যাওয়ার।"
রদ্রো শক্ত গলায় বললো, "লাগবে না। আমি নিজেরটা নিজে দিবো। ২টা শিফট কাজ করবো।"
অরিন রেগে বললো, "আপনার জেদ বেশি। ফ্রেন্ডরা হেল্প করলে কি হয়?"
"ফ্রেন্ড আর দয়া এক না" - রদ্রো উঠে গেল।
আদি ঐশি কে বললো, "তোমার ভাইটা একটা পাগল
---
বিকাল ৫টা। রদ্রোর দোকান।
অরিন একা দোকানে আসলো।
রদ্রো বললো, "কি?"
অরিন একটা ছোট ব্যাগ এগিয়ে দিলো, "এটা নেন।"
"কি এটা?"
"খুলে দেখেন" - অরিন হাসলো।
রদ্রো খুলে দেখলো। একটা নীল রঙের শার্ট আর একটা ছাতা।
রদ্রো রেগে বললো, "আমি ভিক্ষা নেই না।"
অরিনের চোখে পানি, "ভিক্ষা না। বন্ধু হিসেবে গিফট। এই শার্টটা আপনারে মানাবে।"
রদ্রো চুপ করে গেল। মেয়েটার চোখ দেখে আর কিছু বলতে পারলো না।
আস্তে করে বললো, "থ্যাংক ইউ।"
অরিন খুশি হয়ে বললো, "তাহলে সাজেক যাচ্ছি তো?"
রদ্রো দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, "হুম যাচ্ছি।"
---
রাত ১০টা। গ্রুপ চ্যাট "টিম রোদ-বৃষ্টি"
তাসনিম: "কাল রাতের বাস। সবাই রেডি তো?"
নওরিন: "ইয়েসসস। আমি ব্যাগ গোছানো শেষ।"
ঐশি: "ভাইয়া তুমি?"
রদ্রো: "হুম"
অরিন: "ভাইয়া শার্ট পরে ছবি তুলতে হবে কিন্তু 😁"
রদ্রো: "😒"
সিয়াম: "আমাদের রদ্রো ভাই লজ্জা পাইছে রে। 🤣"
রদ্রো ফোন রেখে শার্টটা হাতে নিলো। নীল রঙের। অরিনের পছন্দ।
ছাদে গিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো, "আল্লাহ, এই মেয়েটাকে আগলে রেখো।"
---
পরের দিন। রাত ১টা। বাস স্ট্যান্ড।
৭ জন। সবাই এক্সাইটেড।
বাস ছাড়ার আগে রদ্রো অরিনকে বললো, "জানালার পাশের সিটে বসো। বমি আসলে সমস্যা হবে।"
অরিন অবাক, "আপনি কিভাবে জানলেন আমার বমির সমস্যা আছে?"
"কাল নওরিন বলছিলো" - রদ্রো চোখ নামিয়ে নিলো।
সিয়াম তাসনিম কে বললো, "জানালার পাশে বসবে।" তাসনিম হুম বললো
অরিনের বুকের ভিতর ধুকপুক করছে। ছেলেটা সব খেয়াল করে।
বাস ছেড়ে দিলো। সাজেকের উদ্দেশ্যে।
বাইরে অন্ধকার।
কাল আরিন এর জন্মদিন। রদ্রো ভাবলো আরিন কে কাল তার মনের কথা বলবে।
চলবে...