#He_Is_My_Villain
#প্রেরনা_জান্নাত_অরোরা
#পর্ব_২
———————————
মেহরিন আর রিয়াদ লুকিয়ে সামনে কি হয় দেখছিল।
(এদিকে প্রেরনা মেহরিন এর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে)
প্রেরনা....
পরিচিত পুরুষালী কন্ঠে নিজের নাম শুনে প্রেরনা ঘুরে তাকায়।
প্রেরনা- রা- রাফি ভাইয়া তুমি এখানে?
রাফি- হুম তোমায় একটা কথা বলার ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ।
প্রেরনা- কি কথা ভাইয়া?
রাফি- এই মেয়ে ভাইয়া বলবে না তো।
প্রেরনা- ওমা ভাইয়া বলব না তো কি বলব।
রাফি- আসো।
(এই বলে রাফি প্রেরনার হাত ধরে এক জায়গায় নিয়ে যায়। মেহরিন আর রিয়াদও তাদের পিছু যেতে থাকে।)
রাফি প্রেরনাকে একটা সুন্দর সাজানো জায়গায় নিয়ে আসে।
প্রেরনা- ওয়াও জায়গাটা তো অনেক সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। কে সাজিয়েছে রাফি ভাইয়া?
রাফি কিছু না বলে ফুলের বুকে নিয়ে প্রেরনার পিছু হাটু গেরে বসে পড়ে।
রাফি- তুমি কি আমার গার্লফ্রেন্ড হবে?
প্রেরনা- ক-ক-কিহ???
রাফি- বলো প্লিজ হবে?
প্রেরনা পিছন ঘুরে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায়। যাকে ছোট থেকে ভালোবাসে সেই আজ তাকে প্রপোজাল দিচ্ছে।
রাফি- প্রেরনা তোমায় আজ একটা কথা বলি। তুমি তোমার বেলকুনিতে বই নিয়ে পড়ার বাহানায় যে আমার জানালার দিকে তাকিয়ে থাকতে এক নজর আমায় দেখার জন্য আমিও তোমায় দেখতাম আর তোমার দিকে তাকিয়ে মুছকি হাসতাম। কিন্তু তুমি আমায় দেখতে পেতে না। আমার কার এর আওয়াজে তুমি যে দৌড়ে এসে বেলকুনি তে দাড়াতে আমায় একনজর দেখার জন্য এটাও আমি জানি। তুমি যে এই ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ ডিপার্টমেন্টে আমার জন্যই এডমিশন নিয়েছো এটাও আমি যানি।
প্রেরনা- মা- মানে ভা- ভা- ভাইয়া....
রাফি- আমি যানি তুমি আমায় ছোট থেকে পছন্দ করো। আমিও তোমায় অনেক বেশি পছন্দ করি প্রেরনা। তোমার মতো মেয়ে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। যে এই জুগে এসেও আমার জন্য অপেক্ষা করছো। যার পিছনে হাজার ছেলে পড়ে থাকা সত্ত্বেও আমাকে ভালোবাসে তাকে আমি সত্যি নিজের করে চাই। হবে কি আমার গার্লফ্রেন্ড??
প্রেরনা কিছু বলতে পারে না। সে কোনো উত্তর না দিয়ে দৌড়ে চলে যায়। প্রেরনা কে যেতে দেখে মেহরিনও প্রেরনার পিছু পিছু দৌড় দেয় রিয়াদ কে রেখেই।
রাফি প্রেরনার যাওয়ার দিকে একভাবে তাকিয়ে মুছকি হাসতে থাকে।
রিয়াদ- ভাই কি হলো এটা।
রাফি- বাচ্চা মেয়েতো একটু ভয় পেয়েছে।
রিয়াদ- ভাবলাম আজ তোরা এক হবি।
রাফি বাকা হেসে বলতে থাকে প্রেরনা বেইবি তোমায় আমি আমার নিজের করবোই। তুমি নিজেই আমার কাছে আসবে কারন আমি জানি তুমি আমাকে ভালোবাসো।
——————
( রিস হালকা আলোয় অন্ধকার রুমে একা বসে সামনে টানানো কারোর ছবি দেখছে। তখনি জেকশন রুমে প্রবেশ করে)
জেকশন- স্যার আসতে পারি?
জায়ান হাত দিয়ে ইশারা করে
জেকশম রুমের ভিতর আসতে আসতে বলে...
জেকশন- স্যার আর কত এই বাচ্চা মেয়ের ছবি দেখবেন? সে তো এতদিনে অনেক বড় হয়ে গিয়েছে। না আপনি তাকে চিনেন আর না সে আপনাকে। তাও কেনো স্যার?
জায়ান- (মুছকি হেসে) সে এখন কেমন দেখতে হয়েছে জানি না। তাকে আমি চাইও না। তবে সে এখন আমার অবসেশন হয়ে গিয়েছে। যার ছবি একদিন না দেখলে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়।
জেকশন-( একটু মজা করে) জায়ান রিস খান যার জন্য দুনিয়ার সব বড় বড় মডেল, এক্ট্রেস, বিজনেসওম্যান পাগল। যার একটু মনযোগ এর জন্য তারা অধির হয়ে বসে থাকে। যার নাম শুনলে ঘোরে থাকে। হাজারো মেয়ে যাকে একবার দেখার জন্য মরিয়া হয়ে থাকে কিন্তু নারীদের ঘৃণা করা নারী বিদ্বেষী জায়ান রিস খান এর নাকি একটা বাচ্চা মেয়ের ছবি অবসেশন? (জেকশন দুষ্টুমি করে হেসে বলে)
জায়ান কিছু না বলে ছবিটার দিকে তাকিয়ে অতীত ভাবতে থাকে।
১৩ বছর আগে। তখন জায়ানের ১৭ বছর বয়স। সবে মাত্র ইউনিভার্সিটিতে এডমিশন নিয়েছে।
(জায়ান ছিল পড়াশোনায় খুব ভালো, অত্যাধিক ট্যালেন্টে। সব টিচারদের প্রিয় ছাত্র। একরোখা, উন্মাদ, রুড হলেও পড়াশোনায় সবার থেকে এগিয়ে।)
জায়ান একা একা নিরব জায়গায় লং ড্রাইভে যেতে খুব পছন্দ করে। একদিন সে খুব নিরব জায়গা দিয়ে ড্রাইভ করছিল একা একা। তখন সে দূরে দেখতে পায় একটা কার গাছের সাথে এক্সিডেন্ট করেছে। ওইখানে একটা বাচ্চা মেয়ে কার এর বাইরে হাটু গেরে বসে কান্না করছে। বয়স ৫ হবে। জায়ান এটা পাত্তা না দিয়ে কার ড্রাইভ করতে থাকে। হঠাৎ তার খেয়ার হয় এই নিরজন রাস্তা দিয়ে সচরাচর কেউ যায় না। তাই সে না চাইতেও কার থেকে নেমে বাচ্চাটার কাছে যায়।
জায়ান- হ্যালো....
বাচ্চা মেয়েটি জায়ান এর দিকে তাকায়। মেয়েটির একদম ফর্সা দুধে আলতা গায়ের রং। কান্নার ফলে গাল, নাক লাল হয়ে আছে। দেখে মনে হচ্ছে যেনো একটু টোকা দিলেই রক্ত পড়বে।
মেয়েটি অনেক বেশি ভয় পাওয়ায় কিছু বলতে পারে না। শুধু হাত দিয়ে অ্যাক্সিডেন্ট হওয়া কার এর দিকে ইশারা করে বাপ্পা বাপ্পা বলতে থাকে।
জায়ান কার এর গ্লাস এর কাছে এসে দেখে একজন লোক বয়স ৩৫ হবে অ্যাক্সিডেন্টের ফলে মাথায় আঘাত পেয়ে অজ্ঞান হয়ে আছে। জায়ান ভালো করে চেক করে দেখে লোকটা বেচে আছে।
———————————
জায়ান কার এর গ্লাস এর কাছে এসে দেখে একজন লোক বয়স ৩৫ হবে অ্যাক্সিডেন্টের ফলে মাথায় আঘাত পেয়ে অজ্ঞান হয়ে আছে। জায়ান ভালো করে চেক করে দেখে লোকটা বেচে আছে। তাই সে সাথে সাথে লোকটিকে নিজের কার এ তুলে নেয় আর বাচ্চা মেয়েটিকে কোলে নিয়ে তার ড্রাইভিং সিটের পাশের সিটে বসায়। মেয়েটি এখনো ভয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে যাচ্ছে। জায়ানের এটা প্রচন্ড বিরক্ত লাগলেও কিছু বলে না বাচ্চা মেয়ে বলে।
ওরা হসপিটালে পৌঁছানোর পর জায়ান মেয়েটির বাবাকে হসপিটালে ভর্তি করে চলে যেতে নিলে মেয়েটি জায়ানের পেন্ট ধরে কাদো কাদো ভাবে জায়ানকে না যাওয়ার জন্য মাথা দিয়ে না করতে থাকে। তবে এতে জায়ানের বিরক্তির সীমা লঙ্ঘন হলে সে কিছু না বলে জোরে পা ফেলে চলে যেতে থাকে মেয়েটিকে ফেলে।
জায়ান কার এর কাছে এসে হঠাৎ বাচ্চা মেয়েটির কান্নারত চেহারা মনে পড়ে। সে ভাবতে থাকে মেয়েটির বাবার জ্ঞান নেই। মেয়েটিও অনেক ছোট। ফ্যামিলির কারোর খোঁজও দিতে পারবে না এখন যদি মেয়েটা হারিয়ে যায় তখন কি হবে। এই ভেবে জায়ান আবার হসপিটালের ভিতরে যায়।
জায়ান হসপিটালের ভিতর আসতেই দেখে মেয়েটি আবার হাটু গেরে বসে কাদছে। জায়ান পাশে গিয়ে দাড়াতেই মেয়েটি কান্না করতে করতে বলে...
বাচ্চা মেয়েটি- ভা- ভাইয়া তুমি এসেছ........
মেয়েটি আর কিছু বলতে পারে না। জায়ান ওকে ধরে তুলতে যেয়ে দেখে ভালো করে তাকাতেই মেয়েটির মাথা আর পা দিয়ে রক্ত ঝরছে। তখন জায়ান কিছু না ভেবে ডাক্তার কে ডাক দেয়।
ডাক্তার এসে ব্যান্ডেজ করে দেওয়ার পর চলে গেলে মেয়েটি জায়ান কে বলতে থাকে...
বাচ্চাহ মেয়েটি- ভাইয়া তুমি না অনেক ভালো।
জায়ান- উমম তা তোমার কাছে আমায় ভালো মনে হলো কেনো শুনি?
বাচ্চা মেয়েটি- এই যে তুমি আমার বাপ্পাকে এখানে নিয়ে আসলে আর আমাকেও।
জায়ান- এর জন্য আমাকে তোমার ভালো মনে হয়?
বাচ্চা মেয়েটি- হ্যাঁ। তুমি অনেক ভালো অনেক বেশি।
(জায়ান এটা শুনে হাসতে থাকে যে ওকে কেউ ভালো বলল তাও কিনা একটা ৫ বছরের বাচ্চা মেয়ে।)
জায়ান- তুমি যখন বলছো তাহলে তো আমি ভালোই।
বাচ্চা মেয়েটি- ও ভালো ভাইয়া আমার বাপ্পা কোথায়? বাপ্পার কাছে যাব।
জায়ান- তোমার বাপ্পা একটু ঘুমাচ্ছে চলো আমরা একটু ঘুরে আসি। যাবে তুমি ঘুরতে?
বাচ্চা মেয়েটি- কিহ সত্যি আমায় ঘুরতে নিয়ে যাবে? যাবো আমি।
জায়ান- চল তাহলে।
(এই বলে জায়ান মেয়েটির হাত ধরে বাইরে নিয়ে যেয়ে মেয়েটিকে কার এ তুলে নিজেও ড্রাইভিং সিটে বসে ড্রাইভ করতে থাকে)
~~~
জেকশন- স্যার শুনছেন?
জায়ান এতোক্ষনে অতীতের ভাবনা থেকে ফিরে আসে।
জায়ানের চোখের সামনে এখনো সেই বাচ্চা মেয়েটির ছবি বড় করে টানানো যে ছবিটা তার অবসেশন।
জেকশন- স্যার?
জায়ান- হ্যাঁ বলো।
জেকশন- স্যার কয়েকটা ফাইল সাইন করতে হবে।
জায়ান- হুম দাও
(জায়ান উঠে ফাইল গুলো সাইন করতে থাকে)
—————
মেহরিন- এই পেরু দাড়াাাাাাাা......
মেহরিন এর ডাকে প্রেরনা থেমে যায়।
মেহরিন দৌড়ে এসে হাঁপাতে হাপাতে বলে...
মেহরিন- কিরে কি হলো তোর এইভাবে পালালি কেন?
প্রেরনা- জানি না কেনো আসলাম।
মেহরিন- তুই রাফি ভাইয়াকে এতো ভালোবাসিস। আজ জানলি ভাইয়াও তোকে ভালোবাসে তাহলে একসেপ্ট না করে পালিয়ে আসলি কেন বুঝা আমায়?
প্রেরনা- আমি কিছুই জানি না আমার মাথা তখন কাজ করছিল না রে। কি বলব, কি উত্তর দিবো নিজেও জানি না তাই না পেরে চলে এসেছি।
মেহরিন- তাই এইভাবে ভাইয়া কি ভাব্বে বল?
প্রেরনা- যা ভাবার ভাবুক।
মেহরিন- হায়রে বলদি রে। ( কপালে হাত দিয়ে বলে)
প্রেরনা- যাহ তো।
মেহরিন- তা ভাইয়াকে উত্তর দিবেন কবে হ্যাঁ?
প্রেরনা- কদিন পর একটু নিজেকে প্রস্তুত করে নেই।
মেররিন- (হেসে) আচ্ছা পাগলি মেয়ে। এবার চলেন ম্যাম বাসায় যেতে হবে অনেক লেট হয়ে গেছে।
প্রেরনা- হ্যাঁ তাড়াতাড়ি চল।
~~~~
(এদিকে রাফি আর রিয়াদ দুজনে ক্লাব এ যেয়ে ড্রিংকস করতে থাকে)
রিয়াদ- ভাই আমার গার্লফ্রেন্ডটা একদম বোকা জানিস।
রাফি- কেন কি করল?
রিয়াদ- আরে দেখ না এতো মেয়ের সাথে প্রেম করি তাও বুঝে না। ভাবে আমি তাকে ছাড়া অন্য মেয়ের দিকে ফিরেও তাকাই না। ( জোড়ে জোড়ে হেসে)
রাফি- তুই যে চালাক বুঝবেই বা কি করে। (হালকা হেসে)
রিয়াদ- আমার থেকে বেশি তো তুই। তোর তো গার্লফ্রেন্ডরা জানে তুই প্লেবয় তাও তোকে ছাড়ে না। আর প্রেরনা ও তো আরো বড় বোকা কিছুই বুঝে না তুই কি তাই তো তোর প্রেমে পড়েছে। ( আরো জোড়ে হেসে)
রাফি- বোকা হলেই ভালো ওকে আমার লাগবেই।
রিয়াদ- তুই আবার ভালো টালো বেসে ফেললি নাকি। রাফি আহমেদ তো শুধু মেয়েদের নিয়ে খেলতে পারে ভালোবাসতে শিখলো কবে থেকে? ( জোড়ে হেসে)
রাফি কিছু না বলে একটা রহস্যজনক বাকা হাসি দিয়ে বলে,,,
রাফি- ও শুধুই আমার।
চলবে....