ফন্ট সাইজ:
থিম:
লুকোচুরি রোদ্দুর ও তুমি

২৫তম পর্ব

লেখক: অহনা রহমান

গল্প : #লুকোচুরি_রোদ্দুর_ও_তুমি (২৫)

লেখনীতে: #অহনা_রহমান

হিয়া আর নাফি একটা ক্যাফেতে গেল। সেখানেই এসেছিলেন হেলেনা৷ নিয়ম যেহেতু_ বিয়ের তৃতীয় দিনে কনে বাপের বাড়িতে যেতে পারবে। এর আগে মায়ের সাথে দেখা করার সুযোগ নেই। এজন্য নাফি নিয়ম না ভেঙেই, বউকে তার মায়ের সাথে দেখা করিয়ে দিলো। তাছাড়া ওদের বিয়ে টা যেহেতু পারিবারিক ভাবে হয়েছে, নাফির আত্মীয়রা কেউ তেমন জানেনা। তাই কেউ বিরোধিতা করতেও পারেনি। নাসিমা তো আরও অনুমতি দিয়ে দিয়েছেন৷

ক্যাফেতে মায়ের সাথে দেখা করতে পেরে হিয়া তো সেই খুশি৷ যদিও বেশিক্ষণ কথা বলতে পারেনি তারা। কেননা হিয়ার চাচা বাড়ির কেউ জানে না এ কথা। সবাই তো আর একই মানসিকতার হবে না। এইজন্য নাফি হেলেনা কে নিষেধ করেছিল, যাতে ওই বাড়ির কেউ না জানে। হেলেনা ও নাফির কথা শুনে বাড়িতে বলেছিলেন, মেয়ের জন্য কিছু কেনা কাটা করতে যাবেন। এসব ভেবেই ওরা বেশিক্ষণ থাকেনি ক্যাফেতে।

কফি-টফি খেয়ে, হিয়ার সঙ্গে কথা বলে হেলেনা ফিরে গেলেন বাড়িতে৷ কিন্তু নাফি আর হিয়া বসে রইলো৷ মা যতক্ষণ পাশে ছিলো ততক্ষণ হিয়া ছিলো চঞ্চল। কিন্তু হেলেনা চলে যেতেই হিয়া আবারও নিজেকে গুটিয়ে নিলো। কাচুমাচু হয়ে বসে রইলো নাফির সামনে৷ নাফি ব্যাপারটা খেয়াল করলো। কিছুক্ষণ পর সে বলল,

“ময়নার কি হলো হঠাৎ করে?”

হিয়া নাফির দিকে তাকালো৷ চোখে চোখ রাখলো। বিয়ে যেহেতু হয়ে গেছে, এখন তো হিয়াকে নাফির মেনে নিতেই হবে। এতো গুটিয়ে নিলে তো আর হবে না। এসব বুঝেও লাজুক মেয়েটা কিছুতেই নাফির সামনে নিজের আড়ষ্টতা কাটাতে পারে না৷ হিয়া নিজেকে ধাতস্থ করে নিলো। মাথা নেড়ে ক্ষীণ কন্ঠে জবাব দিলো,

“কিছু না তো।”

নাফি ভাবুক দৃষ্টিতে তাকালো হিয়ার দিকে৷ বিয়ের আগে মেয়েটি কত চঞ্চল ছিলো। ঠিক এরকম একটা ক্যাফেতে এসে ভালোবাসার কথা জানিয়েছিলো তাকে৷ ঠিক মিষ্টি একটা ময়না পাখির মতো উড়ে বেড়াতো৷ অথচ বিয়ের পরই কেমন হিয়া পাল্টে গেল। তার সামনে কেমন চুপচাপ থাকে। অথচ সে ভালোবাসে হিয়ার সরল চঞ্চলতা। নাফি মাথায় একটা প্রশ্ন এলো৷ সে আরও কিছুক্ষণ একভাবে তাকিয়ে রইলো হিয়ার দিকে৷ তবে প্রশ্নটা করলো না। ওদিকে নাফির এভাবে তাকিয়ে থাকায় হিয়া অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো। চোখের সামনে আসা বেবি হেয়ার গুলো কানে গুঁজে দিলো। তবুও নাফির চোখ সরলো না হিয়ার দিক থেকে৷ এবারে সে ভাবুক হয়ে নয়, মুগ্ধ নয়নে দেখে গেল তার পুতুলের মতো বউটাকে। হিয়া নিজেই এবার বলল,

“কি দেখছেন ওভাবে?”

“আমার সুন্দরীতমা পুতুল বউকে।”

নাফির সহজ উত্তরেও লজ্জা পেল হিয়া। মাথা নত করে ফেললো। নাফি এক গালে হাত দিয়ে অপলক তাকিয়ে রইলো হিয়ার দিকে। নাফির মাঝেমধ্যে মনে হয়, হিয়াটা সামনে থাকলে সে সারাদিন তাকিয়ে থাকতে পারবে। তার নাওয়া-খাওয়া কিছুই লাগবে না। নিঃসন্দেহে তার দেখা সবচেয়ে রূপসী-সুন্দরী রমনী হিয়া৷ যাকে দেখতে তার একটুও বিরক্ত লাগে না। যার সবকিছুই তার ভালো লাগে।

“চলুন বাড়িতে ফিরে যাই।”

নাফি কথা বাড়ালো না। সে কথা বললেই হিয়া লজ্জা পেয়ে যাবে। থাক মেয়েটাকে এখন আর লজ্জায় ফেলে কাজ নেই তার। নাফি হিয়াকে বসতে বলে, বিল পরিশোধ করতে গেল৷ কিছুক্ষণের মাথায় ফিরেও এলো সে। এরপর হিয়াকে নিয়ে চললো বাড়ির উদ্দেশ্যে।

—-

তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে। পশ্চিম আকাশে লাল আভা। মাগরিবের নামাজ পড়ে হিয়া রুম থেকে বের হলো। উদ্দেশ্য নাসিমার রুম। নাফি এখন বাড়িতে নেই৷ তুবা ও ঘুরতে গেছে তাসরিকের সঙ্গে৷ আর যে দুজন আছে বাড়িতে, তাদের দিয়ে হিয়ার কাজ নাই। এজন্য হিয়া ওদের খবর ও জানে না। মূলত রাখার প্রয়োজন মনে করে না। হিয়া থাকে দোতলায়। আর রুহিরা থাকে নিচতলায়। এজন্য মূলত তাদের দূরত্ব আরও৷

হিয়ার পরনে সুতির একটা লাল শাড়ি। মাথায় কাপড় দেওয়া মেয়েটির। নাকে নাকফুল, কানে ছোটখাটো একটা কানের দুল। ঠোঁট হালকা গোলাপি লিপস্টিক। ব্যস হিয়ার সাজগোছ বলতো এটুকুই। যদিও এটা তার সবসময়ের সাজ। তবুও মেয়েটাকে সাধারনের মধ্যেই অসাধারণ লাগছে। নাফি এখানে থাকলে আধাঘন্টা তাকিয়ে থাকতো শুধুশুধু। হিয়া গুটিগুটি পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামলো। নাসিমার রুমও নিচতলায়৷ ড্রয়িংরুম পেড়োতেই পেছন থেকে পুরুষালি ডাক শুনে, থেমে গেল হিয়া৷

“হিয়া শোনো।”

কন্ঠটা রাজের। সে সবে সদর দরজা দিয়ে বাড়িতে ঢুকেছে। হিয়াকে সামনে দেখেই স্বজোরে ডাকলো। হিয়া থেমে পেছনে ফিরলে রাজকে দেখতে পেলো। এতে অবাক হলো হিয়া। পুরোনো ক্ষত গুলো আবারও মাথা চাঁড়া দিয়ে উঠতে চাইলো৷ হিয়া ব্যাথাদের দমিয়ে রেখে বলল,

“কি চাই?”

রাজ ততক্ষণে হিয়ার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। রাজ হিয়ার চোখের দিকে তাকালো। রাজের হুট করেই মনে হলো, হিয়ার চোখ জোড়া ভিষন রকমের সুন্দর। বুকের ভেতরে রাজ অদ্ভুত এক যন্ত্রণা অনুভব করলো। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেই হিয়াকে দেখে আগে সে বিরক্ত হতো৷ রাগ হতো, সবসময়ই মনে হতো এই মেয়েকে সে নিঃস্ব করে দেবে৷ আজ মেয়েটির মুখের দিকে তাকিয়ে রাজের মনে হচ্ছে, এই মেয়েটির মুখে সবসময় হাসি মানায়৷ কাঁদলে ওকে ভালো লাগবে না। সে কিছুক্ষণ সময় নিয়ে আহত কন্ঠে হিয়াকে বলল,

“একটু ছাঁদে যাবে হিয়া? তোমার সাথে আমার জরুরি কথা আছে।”

হিয়ার গা পিত্তি জ্বলে উঠলো। ও কন্ঠ খাঁদে নামিয়ে বলল,

“আপনি নাম ধরে ডাকছেন কাকে? আমি আপনার ভাবি হই সম্পর্কে। যেহেতু এখন আপনার শালি থেকে বড় ভাইয়ের বউ হয়েছি তাই নিজের সীমাবদ্ধতা বজায় রেখে চলবেন। আপনার বউ থাকতে আমাকে ছাঁদে যেতে বলেন কোন সাহসে?”

হিয়ার কথাতে রাজ থতমত খেয়ে গেল। মনে পড়লো হিয়ার বর্তমান অবস্থার কথা৷ রাজ চোখ নামিয়ে নিলো দ্রুত। আজ নিজেকে ভিষণ রকমের দিশেহারা লাগলো তার। জীবনের কোনো কুল-কিনারা খুঁজে পাচ্ছে না সে৷ রাজের নীরাবতা দেখে হিয়া আবারও বলল,

“শুনুন আপনি আর আপনার বউ ভালোভাবে সম্পর্কের বিষয়টা মাথায় ঢুকিয়ে নিবেন। আমার এবং আমার স্বামীর তরফ থেকে আপনাদেরকে ওয়ার্নিং দেওয়া হয়েছে। যদি আপনারা না মানেন হিতে বিপরীত হবে বলে দিলাম।”

হিয়ার হুমকি শুনে রাজের মাথায় ধপ করে আগুন জ্বলে উঠলো৷ চোখের মুগ্ধতা সরে গিয়ে হিংস্রতা দেখা দিলো। ও হাত মুঠো করে কটমট চোখে তাকালো হিয়ার দিকে। যা দেখে প্রথমে হিয়া একটু ঘাবড়ে গেল। মনে মনে ভাবলো, একটু বেশি বলে ফেললো নাকি৷ পরক্ষণেই মনে হলো, না সে তার জায়গাতে ঠিকই আছে৷ এখন যেহেতু সে রাজের বড় ভাইয়ের বউ হয়েছে, তার দামই এখন আলাদা৷ রাজ বলল,

“তুমি কি বাড়াবাড়ি করছো না হিয়া? নাফিকে কেন বিয়ে করেছো তুমি?”

“অবশ্যই আমি সেই কৈফিয়ত আপনাকে দেবো না। আর বারবার আপনি আমার নাম কেন ধরছেন? কথা কানে যায় না নাকি? ভাবি ডাকতে পারলে ডাকবেন, নাহলে কথা বলার দরকার নাই।”

হিয়া আর দাঁড়ালো না রাজের সামনে। রাজের দিকে তাকিয়ে কুটিল হেঁসে নাসিমার রুমের দিকে পা বাঁড়ালো। ওদিকে রাজ পুরোপুরি স্তব্ধ। হিয়াকে ভাবি বলে ডাকতে হবে? রিয়েলি?! রাজ হেঁসে ফেললো। এটা কেমন হাসি তা বোঝা গেল না৷ আর যাইহোক হিয়াকে সে কিছুতেই ভাবি ডাকতে পারবে না। ক্যামনে কি ভাইইই! হিয়া ও এক্স গার্লফ্রেন্ড। আর তাকে ভাবি ডাকতে হবে? রাজের এসব সাত-পাঁচ ভাবনার মাঝেই রাজ শুনতে পেল কারো চাপা গলার স্বর।

“বাহ বাহ! এখন আমাকে লুকিয়ে এক্স গার্লফ্রেন্ড এর সাথে কথা বলা হচ্ছে তাই না?”

কন্ঠ শুনেই রাজ বিরক্ত হলো। এটা আসলে কোন মাটি দিয়ে তৈরী রাজ বুঝতে পারে না। মানুষ এমনও হয়? (অবশ্য এরা দুটোই সমান৷ মানিকজোড় বলা যায়।)

রাজ এগিয়ে গেল রুহির দিকে৷ রুহির হাত টেনে ধরে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে গেল নিজেদের রুমে।

“আর ইউ ম্যাড রুহি? মা শুনলে কেলেঙ্কারি হতো না? এভাবে কেউ বলে নাকি?”

রুহি তাচ্ছিল্য মাখা হাসি হেসে বলল,

“ওমা তাই? বড় ভাবি রূপি এক্স গার্লফ্রেন্ডেের সাথে কথা বললে তোমার মা দেখবে না বুঝি?”

রাজের হাত মুঠো হয়ে গেল৷ বুঝতে পারলো ঝোঁকের বসে পড়ে সে বড় ভুল করে ফেলেছে। তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছে রুহি নামক ইবলিশকে বিয়ে করে। রাজ রুহির দুই বাহু ধরলো। বোঝানোর চেষ্টা করে বলল,

“জানি না তুমি কি ভাবছো! কিন্তু আমি মনে মনে দারুণ একটা প্ল্যান করেছি।”

রুহি অবাক হলো। সাথে খুশিও। আজকে সকালে হিয়া যে অপমানটা তাকে করেছে, এর শোধ না তোলা পর্যন্ত তার তো শান্তিই হবে না। এখন যখন রাজ পরিকল্পনা করেই ফেলেছে তার তো ভালোই হলো। রুহি মুচকি হেঁসে বলল,

“কি? বলো, বলো।”

রাজ এরপর বলতে শুরু করলো তার পরিকল্পনার কথা।

—------

কাজ শেষে বাড়ি ফিরতে ফিরতে নাফির বেশ দেরি হলো। অফিসে একটা জরুরি কাজ পড়ে গেছিলো। এজন্য সেই ক্যাফে থেকে ফিরেই আবার ছুটতে হয়েছে অফিসে। সচারাচর এতো দেরি করে না নাফি। ভাগ্য বিশেষে দুএকদিন দেরি হয়। এদিকে বাড়িতে রাত দশটার সময় ডিনার করা হয়৷ আজও তার ব্যতিক্রম হলো না৷ রাত দশটার দিকে সকলে খেতে ডাইনিংয়ে। হিয়াও এলো। তবে সবাই খেলেও সে খেলো না৷ নাসিমা যখন খেতে বলল, হিয়া অকপটে জবাব দিলো,

“আম্মু আপনার ছেলে এলে একসঙ্গে খাই?”

নাসিমা হেঁসে ফেললেন। কিছু বললেন না হিয়াকে। কিন্তু হিংসায় জ্বলে মরলো রুহি৷ আর রাজ রাগে। তার যে রাগ ঠিক কি জন্য হলো তা বুঝতে পারলো না। তখন বাজে রাত এগারোটা। নাফি ফিরলো এগারোটায়৷ হিয়া তখন রুমে বসে ফোন টিপছে৷ নাফি এসে দরজায় নক করলো৷ হিয়া মাথার কাপড় ঠিকঠাক করে, তারপর গিয়ে দরজা খুললো। হিয়াকে লাল শাড়িতে দেখে হৃদপিণ্ড থমকে গেল নাফির৷ মেয়েটাকে সে যতবার দেখে ততবারই নতুন করে প্রেমে পড়ে৷ ঠিক প্রথম দিনের মতো। হিয়া দরজা ছেড়ে দাঁড়ালে নাফি রুমে ঢুকলো। হিয়া বলল,

“আপনি ফ্রেশ হয়ে নিন আমি খাবার নিয়ে আসছি।”

নাফি অবাক না হয়ে পারলো না। আহারে তার লক্ষী বউ টা! নাফি বলল,

“তোমার কষ্ট করে খাবার আনতে হবে না। আমি নিচে গিয়ে খেয়ে আসবো।”

নাফির মুখে এমন কথা শুনে হিয়ার একটু অভিমান হলো বৈকি! তার কথা কেন জিজ্ঞেস করলো না নাফি? হিয়া বুঝতে দিলো না নাফিকে। সে মাথা দোলালো শুধু৷ নাফিও হালকা হেঁসে ওয়াশরুমে গেল। সময় নিয়ে ফ্রেশ হলো সে। এরপর বাহিরে এসে দেখলো হিয়া বসে আছে। নাফি হিয়ার কাছে এলো। হিয়ার হাত ধরে টেনে দাঁড় করালো। হঠাৎ এহেন কাজে হকচকালো হিয়া৷ প্রশ্নবোধক চাহনিতে তাকালো নাফির দিকে৷ নাফি হিয়ার সামনে থাকা ছোট ছোট চুল গুলোকে কানের কাছে গুঁজে দিলো৷ মোহিত কন্ঠে বলল,

“আমার জন্য এতক্ষণ খালি পেটে কেন থাকলে ময়না? খেয়ে নিতে তুমি।”

হিয়া সর্বচ্চ চেষ্টা করলো নিজেকে স্বাভাবিক রাখার। সে কোনমতে বলল,

“আপনাকে ছাড়া খেতে ইচ্ছে করছিলো না।”

নাফি হিয়ার কথা শুনে আনন্দে প্রায় আত্মহারা হয়ে গেল। বিয়ের পর এই প্রথমবার হয়তো হিয়া তার সাথে স্বাভাবিক কথা বললো। ঠিক তখনই নাফির মনে পড়লো, ক্যাফেতে থাকাকালীন মাথায় আসা প্রশ্নের কথা। নাফি বলল,

“একটা কথা জিজ্ঞেস করি?”

“হুম বলুন।”

“তোমার আমার বিয়েটা হুট করে হলেও, তোমাকে সময় দেওয়া হয়েছিলো ময়না। এমনকি আমাদের বিয়ের অনেকদিন কেটেছে ও। তাই না?”

“হ্যাঁ।”

“আমার সামনে এলে নিজেকে কেন গুটিয়ে রাখো ময়না? তুমি তো পাখি। তুমি সবসময় উড়ে বেড়াবে। আমি কি তোমার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করলাম?”

হিয়া আৎকে উঠলো। নাফি এটা ভাবলো কেন? অথচ তার তো মনেহয়, সে সবচেয়ে ভাগ্যবতী। এমন ভালোবাসা ক'জন পায়? এমন যত্ন ক'জন পায়? হিয়া ছলছল নয়নে তাকালো নাফির দিকে। কি বলবে বুঝতে পারলো না। সে তো ছোটবেলা থেকেই লাজুক। তার ভিষণ লজ্জা লাগে নাফির দিকে তাকাতে। তাই তো সে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। কথা বলতে পারে না। আর নাফি কিনা ভাবলো….

“এই এই কাঁদছো কেন?”

হিয়ার হুঁশ ফেরে নাফির সচেতন ডাকে। ততক্ষণে হিয়া আবিষ্কার করলো, সে কারো বুকে… কারো বাহু বন্ধনে আবদ্ধ। কেউ একজন একনাগাড়ে তার মাথায় হাত বুলিয়ে যাচ্ছে। উদ্বেগ নিয়ে বলে যাচ্ছে একেকটি কথা।

“কাঁদছো কেন? আ'ম স্যরি…আ’ম স্যরি ময়না। আমি জাস্ট জিজ্ঞেস করেছি। কিচ্ছু হয়নি… কিচ্ছু না। কেঁদো না প্লিজ।”

হিয়া ততক্ষণে কেঁদে ফেলেছে। হিয়া অভিমান নিয়ে নাফির বুকে মৃদুভাবে কিল মারলো৷ ভিষন অভিমানে বলল,

“ আমার বুঝি লজ্জা করে না, আপনার কাছে যেতে?”

নাফি অবাক হলো। মুচকি হাসলো সে। মুখ ফসকে বলে ফেললো,

“তোমার এমন লজ্জা হলে তো, জীবনে আমার বাবা হওয়া লাগবে না।”

হিয়ার কান ঝাঝা করে উঠলো। বুঝতে পারলো তার অবস্থান কোথায়৷ সে দ্রুত সরে গেল নাফির কাছ থেকে। তবে শেষ রক্ষা হলো না৷ নাফি হ্যাঁচকা টানে হিয়াকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। নাফির চোখ গেল হিয়ার গোলাপ রঙা ঠোঁটের দিকে। ভিষন ইচ্ছে হলো ঠোঁট দুটো ছুঁয়ে দেওয়ার। নিষিদ্ধ ইচ্ছে রা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো৷ হুট করেই নাফি বলে উঠলো,

“ক্যান আই কিস ইউর লিপস?”

চলবে?

নোট: নাফি আর হিয়ার কেমিস্ট্রি আপনাদের ভালো লাগছে না? গত পর্বে একটা কমেন্ট পেয়েছিলাম এমন “নাফি হিয়ার ঢং দেখলে বাঁচি না। বিয়ে হয়েছে গল্প এগোবে, কিন্তু এমন সোনা ময়না এসব ঢং ভালো লাগছে না। হিয়া এতো ন্যাকা কেন?" সিরিয়াসলি? ওরা তো আর বিয়ের আগে এসব কিছু করছে না। যা করছে সবকিছুই পবিত্র ভাবে৷ স্বামী স্ত্রীর এমন কিউট মোমেন্ট ও আপনাদের বিরক্ত লাগে? জীবনে কি হিংসা-বিদ্বেষ, ঝগড়াঝাটি ছাড়া আর কিছুই নেই? আর বাস্তবে কি লাজুক মেয়ে হয়না? আপনাদের উদাহরণ দিতে গেলে একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে৷ যাক গে! ওদের কেমিস্ট্রি বোর লাগলে জানাবেন আপনারা। গল্প তাড়াতাড়ি শেষ করে দেবো….

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন