#সবটাই_তুমিময়-২
#লেখনীতে:মিথিলা মাশরেকা
পর্ব-২৩
দরজা ঠেলে রুমে ঢুকে,গলার টাইটা ঢিলে করে বিছানায় গা এলিয়ে দিলো অঙ্কুর। কোনোদিক তাকায় নি ও আর। আজকে ও বড্ড ক্লান্ত। তবে চোখ বন্ধ করে স্বস্তির শ্বাস ফেললো ও। টানা কয়েকদিনের এতো দৌড়াদৌড়ির পর,এই ক্লান্তির মাঝেও শান্তি আছে। প্রচন্ড শান্তি। চুপচাপ শুয়ে রইলো খানিকক্ষন। চোখ বন্ধ রেখেই তারপর একদমই হুট করে ধরে ফেললো মুখের ওপর আসতে থাকা হাতটা। ঝাকি দিয়ে উঠলো অদ্রির শরীর। বাসায় ফিরে সোজা রুমে ঢুকেছে অঙ্কুর। ড্রয়িংরুম থেকে ভাজ পরা কপাল নিয়ে কিছুক্ষন দেখলো অঙ্কুরের ক্লান্তি। কোনো প্র্যাকটিস বা ইভেন্টে যায়নি আজ অঙ্কুর। তারপরও এতোটা ক্লান্তি? গুটিগুটি পায়ে ওর পিছনপিছন এসেছে অদ্রিও। বিছানায় শুয়ে থাকা মানুষটার কপালের ঘাম দেখে নিজেই কিছুটা এলোমেলো হয়ে গেছে। একেবারে অজান্তেই হাত বাড়িয়েছে নির্লজ্জের মতো সেদিকে। আর না দেখেই সেটা টের পেয়ে ওর হাত ধরে ফেলেছে অঙ্কুর। চোখ বন্ধ রেখে বললো,
-আ'ম ফাইন।
অদ্রি কিছুটা ঝুকে ছিলো। হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে সোজা হয়ে দাড়ানোর চেষ্টাও করলো ও। অঙ্কুর একটানে নিজের ওপর ফেলে দিলো অদ্রিকে। অদ্রি পুরোই হচকিয়ে গেছে। অঙ্কুরের বন্ধ চোখ,ওর মুখের খানিকটা দুরুত্বে অদ্রির মুখ। অদ্রির নিশ্বাসবায়ুর কোনো এক অংশও বাদ পরছে না অঙ্কুরের চোখেমুখে লাগার থেকে। এতো কাছ থেকে অঙ্কুরের হৃদস্পন্দনও অনুভব করলো যেনো ও। নিশ্বাস ভারি হয়ে আসলো অদ্রির নিজেরও। কি করে যেনো এই মানুষটার কাছে সবসময় দুর্বল হয়ে যায় ও। এমনভাবে বুকের উপর পরে রয়েছে,ওর খোলা চুল গিয়ে অঙ্কুরের মুখে লেগেছে। হাতটা মুচড়িয়ে ছাড়া পাবার চেষ্টার সাথে আরেকহাতে চুলগুলো সরিয়ে দিতে যাচ্ছিলো ও। অঙ্কুর না সে হাত ছাড়ালো,না অদ্রির আরেকহাত খোলা রাখলো। দুহাতে দুহাত আটকে দিতেই একেবারে বুকে গিয়ে পরেছে অদ্রি। অঙ্কুর ঘাড় ঘুরিয়ে অদ্রির চুলের মাঝে আরো বেশি করে মুখ গুজে দিলো। চোখ না মেলে বললো,
-আ'ম বেটার।
অদ্রির দমবন্ধ লাগছে যেনো। নড়াচড়া করতে লাগলো নিজেকে ছাড়াবে বলে। এই ঘরে আসাই ওর মস্তবড় ভুল এটা বেশ বুঝতে পারছে ও। এই লোকটা মায়াজাদু জানে নির্ঘাত। নইলে ওকে এভাবে মোহে ফেলে দেয় কিভাবে? অদ্রির নড়াচড়া করায় প্রচন্ডরকমের বিরক্তির চেহারা করলো অঙ্কুর। ঘুরে উঠে এবার অদ্রিকেই বিছানার সাথে চেপে ধরলো ও। তাকিয়ে রইলো চুপচাপ,যেনো কিছুই ঘটেনি। আর ওদিকে বিস্ফোরিত চোখ তাকালো অদ্রি। ওকে বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়ে অঙ্কুর আলতোভাবে ওর কপালে ঠোট ছুইয়ে দিয়ে ছেড়ে দিয়ে বললো,
-নাও আই ফিল দ্যা বেস্ট।
কথাটা শেষ করে অদ্রিকে ছেড়ে দিয়ে উঠে দাড়ালো অঙ্কুর। পরনের কোটটা খুলে বড়হাতা আকাশী শার্টটার হাতার বোতাম খুলে দিলো। গুটানো হাতা নামিয়ে দিয়ে তোয়ালে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো বেখেয়ালিভাবে। রোবটের মতো উঠে বসলো অদ্রি। কপালে হাত ছুইয়ে নিজেই তাকিয়ে রইলো ওই হাতের দিকে। বিমুঢ় হয়ে বসে রইলো একপ্রকার। মিনিটপাঁচেক পর অঙ্কুর ওয়াশরুমের দরজা খুলে উকি দিয়ে বললো,
-ও হ্যালো? সিআইডি ম্যাম?
অদ্রি চোখ তুলে তাকালো। ফেনাভর্তি চোখমুখ নিয়ে শুধু মাথা বের করে রয়েছে অঙ্কুর। অদ্রিকে তাকাতে দেখে বললো,
-ওমনটা করার জন্য সরি।
-এক্সাক্টলি! আসবেন না আমার কাছে!
-আমি কখন গেলাম? তুমিই আগে এসেছিলে।
-কিন্তু আপনি...
-কিন্তু আমি তোমাকে কিস করেছি। তুমি আমাকে কিস করতে না! জানি! জানি!
-হ্যাঁ! আপনি...আপনি একটা...একটা...অসভ্য লোক! হ্যাঁ! আপনি একটা অসভ্য লোক! বাজে লোক!
-ঠিকই বুঝেছো। বাই দ্যা ওয়ে,আমার পুরো কথা ছিলো ফ্রেশ না হয়েই ওমনটা করার জন্য সরি। ফ্রেশ হয়ে আসছি। এরচেয়ে বড় অঘটন ঘটাবো। কেমন?
অদ্রির চোখজোড়া আপনাআপনিই বেরিয়ে আসার উপক্রম। আশপাশ খুজে পাশের টেবিলে সেলফি স্টিকটা খুজে পেলো ও। ওইটা নিয়ে তেড়ে এগোচ্ছিলো ও অঙ্কুরের দিকে। শব্দ করে ওয়াশরুমের দরজা লাগিয়ে দিলো অঙ্কুর। দরজায় এসে চেচিয়ে কয়েকটা কিলঘুষি ছুড়লো অদ্রি। ভেতর থেকে অঙ্কুর বললো,
-এইযে মিসেস পর্বতশৃঙ্গ! শাওয়ার নিচ্ছি! দরজা ভেঙে গেলে আমাকে সেলফি স্টিক দিয়ে মারতে আসা তো দুর,এই অবস্থায় দর্শন করতে পারবেন তো?
রাগী শব্দ করে দরজায় শেষবারের মতো কিল লাগিয়ে পা ছুড়ে রুমের বাইরে বেরিয়ে আসলো অদ্রি। অস্থিরভাবে এদিক ওদিক হাটতেই একাকীই থেমে গেলো ওর পা। করিডরে থাকা ফুলদানিটায় পরস্পরকে ছুয়ে থাকা দুটো ফুলে চোখ পরতেই অঙ্কুরের কাছে থাকার মুহুর্তটা মনে পরে গিয়েছে ওর। রাগ,বিরক্তি ভুলে হঠাৎই হাসি ফুটে উঠলো ঠোটের কোনে। সত্যিই কি রাগ ছিলো? বিরক্তি ছিলো? নাকি শিহরন ছিলো? ভালোলাগা ছিলো? সে যাই থাক,অঙ্কুর কি ভাবলো? মজা করেই হোক,তবুও কি অঘটনের কথা বলছিলো সে? ফুলটা তুলে নিজের হাতে নিয়ে মৃদ্যুস্বরে বললো,
-অদ্ভুত লোক একটা!
•
চারতলার ঘরে জানালার গ্রিলটা শক্তভাবে ধরে দাড়িয়ে তিহান। ওর দৃষ্টি বাইরের কড়া রোদের দিকে। পশ্চিমা আকাশে হেলতে থাকা রোদ এসে সোজা মুখে লাগছে ওর। তবুও চোখের পলক ফেলছে না। ওর উপর যেনো কোনো প্রভাব নেই ওই রোদের। মিসেস জুবাইদা দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলেন। এখানে আসার পরও এতোটুকো পরিবর্তন নেই তিহানের। হাওয়াবদলের জন্য নিয়ে তো আসলেন উনি তিহানকে,ছেলেটা আদৌও কি অতীত থেকে বেরোচ্ছে এতোটুকোও? যতোদিন না নতুনত্ব আসবে,ও অতীত ভুলবার নয়। একটা জোরে শ্বাস ফেলে এগোলেন মিসেস জুবাইদা। জানালার পর্দা ছেড়ে দিলেন। ছায়া পরলো তিহানের মুখে। মিসেস জুবাইদা বললেন,
-এভাবে তোকে শেষ হয়ে যেতে দেখতে পারবো না আমি তিহান।
-আমি তো ঢাকায় ভালোই ছিলাম ফুপিমা। দেখতে হতো না তোমাকে।
-বাবা এভাবে আর কতোদিন বলতো? আহানার তো বিয়ে...
পাশের গোলটেবিলে থাকা শো পিসটা ঠেলা মেরে মেঝেতে ফেলে দিলো তিহান। জানালার গ্রিল শক্তভাবে আকড়ে ধরে চোখ বন্ধ করে বললো,
-ওর নাম নিও না ফুপিমা। ওই নিষ্ঠুর মেয়েটার নাম আমার সামনে নিও না! সহ্য করতে পারি না ওকে,ওর নামকে! ঘৃনা হয়,রাগ হয় প্রচন্ড! তিহান সাইয়্যিদকে দুর্বল করে দিয়ে সে দুর্বল জায়গাটাতেই আঘাত হেনেছে ও। কোনোদিন ক্ষমা করবো না ওকে! কোনোদিনও না!
-তাইতো বলছি বাবা,তুই ওকে ভুলে যা। আবার নতুন করে...
টেবিলটাও ধাক্কা মেরে ফেলে দিলো তিহান। একমুহুর্ত এখানে থাকতে পারবে না ও। বুকের ভেতরের তীব্র যন্ত্রনাটা নেভানো দরকার। বিছানায় পরে থাকা ওয়ালেট নিয়ে বেরিয়ে পরলো রুম থেকে। বেরোবে বলে দরজা খুলে সিড়িতে নামতেই কারো সাথে ধাক্কা লাগে ওর। নিজেকে সামলাতে গিয়ে তাকে নিয়েই সিড়ির একধাপ নিচের দেয়ালে এসে হাত থেমে যায় তিহানের। চোখ তুলে তাকিয়ে হাতের মাঝে থাকা মানুষটার খিচে বন্ধ করে নেওয়া চোখ দেখে দুসেকেন্ড আটকে রইলো ও। পরপরই তাকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিলো অনেকটা দুরে।
প্রথমে সিড়িতে ধাক্কা,পরে সমতলে দেয়ালে লেগে যাওয়া আর পরিশেষে মানুষের ধাক্কায় দেওয়ালে বারি খাওয়া! পরপর তিনটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় একদম স্থির হয়ে গিয়েছে তানহা। চোখ তুলে তাকিয়ে তিহানকে দেখে আরেকদফায় অবাক ও। আবারো এই লোক? পাঁচতলার এপার্টমেন্টে এখানকার এমব্যাসির ওনার থাকেন,তার সাথে দেখা করতে এসেছিলো ও আর আস্থা। আর এরমাঝেই এইসব ঘটনা। আস্থা একহাত কোমড়ে রেখে আঙুল নাচিয়ে বললো,
-এইযে উকিলসাব? একটা মেয়েকে এইভাবে সিড়িতে ধাক্কা দেওয়া,দেয়ালে আটকে দেওয়া আর ধাক্কা দিয়ে দুরে সরিয়ে দেওয়ার দায়ে আপনার কি শাস্তি হতে পারে বলুনতো?
ওর আঙুলের দিকে তাকিয়ে রইলো তিহান। তানহা চটজলদি ওর আঙুল নামিয়ে দিয়ে নিচু গলায় বললো,
-আ'ম সরি।
কিঞ্চিত বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলো তিহান। দোষটা ওরই ছিলো। তারপরও এই মেয়েটা সরি বলছে। আর এমন কতো সময় ছিলো,শুধুমাত্র অদ্রির গলা শুনবে বলে অসময়ে ফোন দিয়ে ও সরি বলতো। ওই একটা মেয়েকেই সরি বলতো শুধু। এসব ভাবনা মাথায় আসতেই পা বাড়ালো ও। আস্থা বললো,
-কেসটা কিরে তানহা? এই লোক দেবদাস হলেও নিজে থেকে তো আর চন্দ্রমুখীর কাছে আসেনি। এ যুগে চন্দ্রমুখীই বুঝি দেবদাস খুজে নেয়? আবার দেখ,সেকালে দেবদাসের ছ্যাকার পর পারো আর চন্দ্র বান্ধবী হলো। একালে দেখি আগে চাঁদপারোর ডোলা রে ডোলা,অতঃপর দেবদাসের বিরহ্! কলিযুগ ইয়ার! ঘোর কলিযুগ!
সবটাই বুঝে অগ্নিদৃষ্টি ছুড়লো তানহা। শুধুমাত্র তিহানের ভেঙে পরাটা ওর ভালো লাগছে না বলে যেটুকো করছে,বলছে,সবটাই উল্টো ভেবে আস্থা কাহিনী জপতে ব্যস্ত। ওর চাওনি দেখে আস্থা সিড়িতে উঠতে উঠতে বিরবিরিয়ে বললো,
-ওমন লুক কেনো দিচ্ছিস? আই ওয়াজ জোকিং না?
পেছন থেকে কয়েকটা চড় থাপ্পড় দিলো ওকে তানহা। মাম্মা মিয়া বাচাও-বলে আস্থা ছুট লাগালো। হেসে দিয়ে তানহাও ছুটলো ওর পেছনে। দরজায় থেকে দুটো উচ্ছ্বল প্রজাপতি দেখে হাসি ফুটলো মিসেস জুবাইদার ঠোটে।
•
ঘুঘুডাকা দুপুর। অঙ্কুর বেরিয়েছে আজ অনেকক্ষন। প্র্যাকটিস আছে নাকি ওর আজ। আফরা খানম ঘুমিয়েছেন। আর বসেবসে বই পড়ছিলো অদ্রি। হঠাৎই বেজে ওঠা ফোনের শব্দে বিরক্ত হলো প্রচন্ড। পরে খেয়াল করলো ওটা ওর নন ট্র্যাকার ফোন। কিন্তু কলটা এসেছে আননোন নাম্বার থেকে। তবুও রিসিভ করে কানে ঠেকালো ফোনটা। হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে আওয়াজ এলো,
-এতো সময় কেনো নিচ্ছো অদ্রি? এয়ারস্ট্রাইকের ইনফর্মেশন কালেক্ট করতে এতো সময় লাগার কথা না তোমার! কোনোভাবে নিজের দায়িত্ব ভুলে যাও নি তো মিস ইনফর্মার? কোনোভাবে আইনকে বেআইনি করার রাস্তায় তার সাথে একযোগে পা বাড়ানও নি তো তুমিও?
প্রদীপের গলা শুনে থমকে গেলো অদ্রি। ফোনটা কান থেকে নামিয়ে নাম্বারটা দেখে ফোন কানে নিলো আবারো। প্রদীপ বললো,
-এসিপি স্যার এই কেসের সেন্ট্রালে আমাকে রেখেছেন মিস অদ্রি। আর আমি কিন্তু কেইস হ্যান্ডেলে কোনোরুপ গরিমসি চাই না। তাই নিজের দায়িত্ব ঠিকঠাকমতো পালন করো। আর সেটাও যতো দ্রুত সম্ভব! গট ইট?
-ই্ ইয়েস স্যার।
এটুকো শুনেই কল কেটেছে প্রদীপ। কিছুক্ষন স্থির হয়ে বসে ফোনটার দিকে তাকিয়ে রইলো অদ্রি। দায়িত্ব বলে,যা বেআইনি,তা অপরাধ। মন বলে,অপরাধীকে বেআইনিভাবে নির্মুল করা অপরাধ না। কোনদিকে যাবে ও? মন আর মস্তিষ্কের ভিন্ন মতের উপর বিচ্ছিন্ন লাগছে নিজেকে ওর। অসহায় লাগছে। চোখ ফেটে জল বেরিয়ে আসলো অদ্রির। মাথার চুল উল্টে ধরে দাতে দাত চেপে রইলো। হঠাৎই ওর সামবে দুটো ফাইল তুলে ধরলো কেউ। সেটা অঙ্কুর। উঠে দাড়িয়ে বিস্ময়ে ফাইল আর অঙ্কুরের দিকে তাকিয়ে রইলো অদ্রি। অঙ্কুর বললো,
-এইগুলো চেয়েছিলে তুমি রাইট? এইগুলোর জন্যই তুমি এখনো রয়ে গেছো এই খানম ভিলায় তাইতো?
-অ্ অঙ্কুর...
-ফাইন। নিয়ে নাও যা চেয়েছিলে। ডু হোয়াটএভার ইউ ওয়ান্ট উইথ দিস। আই ডোন্ট কেয়ার অদ্রি। আই ডোন্ট কেয়ার এট অল। বুঝতে চাও বলেছিলে না? আমিও দেখতে চাই,তোমার ওই চাওয়ায় সত্যতা ঠিক কতোটুকো। আমিও দেখতে চাই।
একদম শান্তস্বরে বলে,অদ্রির হাতে ফাইলদুটো ধরিয়ে দিলো অঙ্কুর। স্থির দৃষ্টিতে ফাইলদুটোর পুরোটায় চোখ বুলালো অদ্রি। সবটা দেখে ভরে উঠলো ওর চোখ। ধপ করে বসে পরলো বিছানায়। অঙ্কুরের একদম শান্তভাবে দাড়িয়ে। অনেকটাসময় পর বিছানায় পরে থাকা অদ্রির মোবাইলটা তুলে ধরে কল করার জন্য ইশারা করলো ওকে। হাতের পিঠে চোখমুখ মুছে নিজেকে শক্ত করে নিলো অদ্রি। ফোনটা নিয়ে ডায়াল করে বললো,
-আপনার সাথে দেখা করতে চাই প্রদীপ স্যার। জঙ্গি আস্তানায় বিমানহামলা কে,কখন,কেনো আর কিভাবে ঘটিয়েছে,সে সব ডিটেইলস্ আছে আমার কাছে। আর আমি আপনাকেই হ্যান্ডওভার করতে চাই প্রমানগুলো। কোথায় আসবো জানিয়ে দেবেন। আই'ল বি দেয়ার।
#চলবে...
[ গল্প সম্পর্কিত আড্ডা দিতে জয়েন করুন মিথিমহল। গ্রুপ লিংকঃ
https://www.facebook.com/groups/233416685257163/?ref=share_group_link ]