#সবটাই_তুমিময়-২
#লেখনীতে:মিথিলা মাশরেকা
পর্ব-২৭
-আপনার ভাতিজা যাদের বিরুদ্ধে কেইস লড়েছিলো,তাদের মধ্যের কেউই ওনার উপর এটাক করেছিলো হয়তো। সে রাতে আমি আর তানহা যখন এমবেসি থেকে বাসায় ফিরছিলাম,খুব বাজেভাবে কয়েকজন লোক ধরে মারছিলো ওনাকে। লোকগুলো মুখ ঢেকে এসেছিলো। উনি ড্রাংক ছিলেন আর ওই রাস্তায় লোকজনও কম ছিলো। খুব কষ্টে মেইনরোড অবদি গিয়ে,লোকজন ডেকে বাচিয়েছি ওনাকে। নইলে তো এ মাল'টা এতোক্ষনে...
-আস্থা থাম!
তানহা থামিয়ে দিলো আস্থাকে। হুহু করে কেদে দিলেন মিসেস জুবাইদা। সেদিন তিহান বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর অনেকটা সময় কেটে যায়। অনেক চেষ্টা করেছেন উনি তিহান কোথায় আছে জানার,পারেননি। বিকেল গরিয়ে তখন রাত এগারোটা। হঠাৎই কল আসে তার ফোনে। হসপিটাল থেকে আস্থা কল করে তিহানের অবস্থা জানায়। তারপর তানহাকে নিয়ে একপ্রকার জোর করেই বেরিয়ে আসে ওখান থেকে। তিহানের মতো ওর প্রতি তানহার সহানুভূতিও ওর পছন্দ না। তিহানের সাথে অদ্রির বিয়েটা না হওয়ায় খুশিই হয়েছে আস্থা। হসপিটালে এডমিট করার দুদিন পর ওদের দুজনকে আবারো ডেকে এনেছে পুলিশ। কে বা কারা এটাক করেছিলো জানতে চেয়ে। দুজন সবে ফ্লাইটের জন্য রেডি হয়েছে,এরমাঝেই ডাক পরেছে। তার উপর বিষয়টা তিহান। তাই প্রচন্ড বিরক্ত আস্থা। ওর জবাবে ইন্সপেক্টর বললো,
-তারমানে ওরা মুখ ঢেকে এসেছিলো?
-হু।
আস্থার বিরক্তি। পুলিশ আরো কিছু প্রশ্ন করলো ওকে। স্পষ্টভাষায় জবাব দিচ্ছিলো আস্থা। এখান থেকে বেরোলেই যেনো দম নিতে পারবে ও। তানহা এককোনে দাড়িয়ে নিচদিক তাকিয়ে রইলো। মিসেস জুবাইদা এগিয়ে গিয়ে কাদতে কাদতে বললেন,
-মাথায় আঘাত করেছিলো ওরা। ছেলেটা স্মৃতিশক্তি হারিয়ে দিশেহারার মতো করছে। একদম এলোমেলো হয়ে গেছে জানো তানহা?
মিসেস জুবাইদার কথায় তানহা একপ্রকার বিমুঢ়। তিহানের পুরোনো কিছু মনে নেই তারমানে? অদ্রিকেও কি ভুলে গেছে ও? তানহা আস্তেধীরে এগোলো কেবিনের দিকে। দরজার স্বচ্ছ একাংশ দিয়ে তিহানকে দেখা যায়। মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে আধশোয়া হয়ে বেডে বসে আছে ও। চোখ খিচে বারবার বন্ধ করে নিয়ে,পাগলের মতো সবটা মনে করার চেষ্টায় আছে তিহান। পরে খাতায়ও লিখছে কিছু একটা। করিডরে আস্থা পুলিশের সাথে কথা বলছে। দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলো তানহা। তিহান চোখ তুলে তাকালো ওর দিকে। একটু উত্তেজিত হয়ে পরছিলো ও। তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বললো,
-আপনি কে?
জবাব না দিয়েই তানহা এগোলো। তিহানের কোলের উপর থাকা খাতায় না,আ,ন,হা,তা,নি এগুলো লেখা। ইতস্ততস্বরে বললো,
-ক্ কেমন আছেন এখন?
-জ্বী,বেটার।
-এগুলো কি লিখেছেন?
তিহান তাচ্ছিল্যে হাসলো। বললো,
-জানিনা। হয়তো নিজেকে খুজছি। বা হয়তো যাকে খুজে চলেছি সে আছে এগুলোতে। কিন্তু কে,মনে করতে পারছি না। একদমই মনে পরছে না! কিছুতেই মনে পরছে না।
লেখাগুলোতে আহানিতা শব্দটা জ্বলজ্বল করছে একদম। মুগ্ধভাবে তাকিয়ে রইলো তানহা। এতো বেশি ভালোবাসা! অদ্রিকে অনেক বেশি ভালোবাসে এই মানুষটা। তোর বদনসিব আহানা,এমন ভালোবাসা হারিয়েছিস তুই- মনেমনে কথাটা আওড়ে একটা ক্ষুদ্রশ্বাস ফেললো ও। এরইমাঝে মিসেস জুবাইদা রুমে ঢুকলেন। সবটা সেকেন্ডপাঁচেক পর্যবেক্ষন করে বললেন,
-মেডিসিন নিয়েছো তিহান?
-হুম? না।
-কেনো?
-ইচ্ছে নেই।
-মানে? ইচ্ছে নেই বলেই মেডিসিন নেবে না তুমি?
-যেখানে মনে হচ্ছে বেচে থাকার কারনটাই হারিয়ে ফেলেছি,মেডিসিন নিয়ে কি হবে? নিজেকেই চিনতে পারছি না! নিজের নামটা অবদি মনে নেই আমার। ডক্টর বললো আপনি আমার গার্ডিয়ান। আপনি বললেন আমার নাম তিহান। আপনাকে ফুপিমা ডাকতে। আদৌও কি আমি তিহান? আদৌও কি আপনি ফুপিমা আমার? কাউকে যদি মনেই না থাকবে,তবে চোখ বন্ধ করলে শুধু সেই ছাইরঙা শাড়ি পরা অবয়ব,খোপা করা চুল,নেমপ্লেটের অস্পষ্ট বর্নগুলো,এইসব ভেসে উঠছে কেনো? কে সে? মনে হয় কতো কাছেই। তবুও ছুতে পারছি না। কাছে গেলেই সে হারিয়ে যায় কোনো এক অতলে। এভাবে চলতে থাকলে পাগল হয়ে যাবো আমি। তারচেয়ে মেডিসিন না নিয়ে মরে যাওয়াই শ্রেয় নয় কি?
মিসেস জুবাইদা অসহায়ভাবে তানহার দিকে তাকালেন। তানহা মাথা নিচু করে নিলো। তিহান তানহাকে উদ্দেশ্য করে বললো,
-ইনি কে?
-ইউরো এয়ারলাইন্সের বিমানবালা। তানহা চৌধুরী।
তিহান আপাদমস্তক দেখে নিলো তানহাকে। দুমিনিট সময় নিলেন মিসেস জুবাইদা। তিহানের লেখাগুলোতে কিছু অতিরিক্ত লেখা জুড়ে দিলেন উনি। কেবিনে পিনপতন নিরবতা। এতোটা সময় কিছু না বললেও এবার স্বাভাবিক হয়ে তানহা বললো,
-আ্ আমি আসছি।
-তানহা?
তিহানের ডাকে তানহা বিস্ময়ে থামলো। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ছিলো ওর কাছে। তিহান গায়ের উপর থেকে চাদরটা সরিয়ে দিলো। বেড থেকে নেমেও আসলো আস্তেধীরে। অবাক হয়ে পুরোপুরিভাবে ওর দিকে ফিরলো তানহা। খুড়িয়ে এগিয়ে তানহার সামনে দাড়ালো তিহান। বললো,
-অভিমান করেছো?
তানহা কিছুই বুঝে উঠলো না। অবুঝের মতো মিসেস জুবাইদার দিকে তাকালো ও। একদম আচমকা ওকে জাপটে জরিয়ে ধরলো তিহান। সুঠাম দেহের মানুষটার বুকে আটকে যেতেই তড়িৎ খেলে গেলো যেনো তানহার শরীরেও। তিহান ওকে ওভাবেই জরিয়ে রেখে বললো,
-এই কান ধরছি। আর কোনোদিনও ক্রিমিনাল কেইস লড়বো না। অপোনেন্ট কোনো বড়সর সন্ত্রাস হলে কোনোদিনও ওই কেইস নেবো না। তবুও এভাবে অভিমান করে থেকো না প্লিজ।চলে যাবে,এমনটা বলো না। বেশ বুঝতে পারছি সে অবয়ব তোমার। এতোক্ষন বুঝতে পারিনি বলে অভিমান করো না প্লিজ! আমি আবারো আগের মতোন করে পুরোপুরি চিনে নেবো তোমাকে। একদম আগের মতো করেই ভালোবাসবো! শুধু ছেড়ে যেও না। তুমি জানো না,কতোটা ফাকাফাকা লাগে তোমাকে ছাড়া। এই বুকজুড়ে কতো শুন্যতা তুমিহীনা। যেও না প্লিজ। যেওনা!
তিহানের কথা শুনে আটকে রইলো তানহা। বেডে পরে থাকা খাতাটায় তাকালো ও। মিসেস জুবাইদা এলোমেলো হয়ে থাকা আহানিতা-র আ কেটে,বাকিগুলোকে সাজিয়ে তানহা করে দিয়েছেন। তারদিকে তাকালো এবার তানহা। সবই ঠিক আছে। শুধু আহানার জায়গাটায় নামটা তানহা। আর তার বিনিময়ে তিহানের বাহুডোরে এক সম্পুর্ন অন্য মানুষ! মিসেস জুবাইদা হাত জোর করে আছে তিহানের পেছনে। কি করুন চাওনি তার। তার কান্নারত চোখজোড়া যেনো ভিক্ষে চাইছে,চেচিয়ে বলছে,তিহানকে ছেড়ো না তানহা। দোহাই লাগে। ওকে সামলাতে পারছি না আমি।
চোখ দিয়ে জল গরালো তানহার। এই লোকটার এতো ভালোবাসা ওরও দুর্বলতা সেটা ও নিজেও খুব ভালোমতোই জানে। সে ভালোবাসা যার জন্যই হোক না কেনো। কি বুঝে বলে উঠলো,
-যাবো না।
আলতোভাবে তানহা নিজেও হাত রাখলো তিহানের পিঠে। তিহান আরো আবেশে জরিয়ে নিলো ওকে। তানহা নিরবে কাদছে। আবেগের বশে যাবে না বলে তো দিলো। সেখানে বিবেকটা যেনো উচ্চস্বরে বলছে,"আমাকে ক্ষমা করে দেবেন প্লিজ তিহান! আপনার ফুপিমার অনুরোধ,আপনার এটুকো প্রশান্তি দেখতে পাওয়া আর এই অসীম ভালোবাসা হাতড়ে নেওয়ার লোভ মনে হয় আমি সামলাতে পারলাম না। স্বার্থপর হয়ে গেলাম হয়তো। অন্যকারো জায়গাটা নিজের বলে মেনে নিলাম। জানি একে ঠকানো বলে। তবুও ঠকবাজ হওয়ায় কেনো যেনো আজ আফসোস হচ্ছে না। পরেরটা না হয় পরেই দেখা যাবে?"
•
অদ্রি,অঙ্কুর দুজনে পরিকল্পনা করেই এসেছে,এমনটা বুঝে উঠলো প্রদীপ। নিজে কেনো এতো সহজে চলে আসলো ভাবতেই রাগ হচ্ছে ওর। অবশ্য কিই বা করতো? বিমানহামলার প্রমান কথাটা শুনেই বাকিসব লোপ পেয়েছিলো ওর মস্তিষ্ক থেকে। অঙ্কুর শান্তস্বরে বললো,
-ঠিক কিভাবে মরতে চাস তুই প্রদীপ? উরফ ডার্কো?
ও কথা শুনে অন্তরাত্মা যেনো কেপে উঠলো প্রদীপের। তবে সেটা প্রকাশ না করার চেষ্টায় রইলো ও। অঙ্কুরের চোখমুখে ক্ষোভ স্পষ্ট। প্রদীপ বুঝে উঠতে পারছে না কি বলবে বা কি করবে। অদ্রি কিছুটা পেছনে ঘাড় ঘুরিয়ে অঙ্কুরের দিকে তাকিয়ে আছে চুপচাপ। প্রদীপ অদ্রির দিকে তাকিয়ে ব্যস্তভাবে বললো,
-অ্ অদ্রি? অদ্রি এএসএ বেআইনি কাজ করেছে! ওকে শাস্তি দিতে হবে! আমি বলবো এসিপি স্যারকে,তোমাকে নিউমার্কেট টেরর ঘটনার সম্পৃক্ততায় না রাখতে। তুমি বিমানহামলার প্লানের ফাইলদুটো আমাকে দিয়ে দাও? অঙ্কুর তো আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে। ও্ ওকে...
শেষ করার আগেই প্রদীপের মুখে ঘুষি লাগিয়েছে অঙ্কুর। দুুপা পিছিয়ে পরে যেতে গিয়ে নিজেকে সামলালো প্রদীপ। ঠোট কেটে রক্ত ঝড়ছে ওর। অঙ্কুর বললো,
-আজকে অঙ্কুর থামার নয়! হ্যাঁ সবটা বেআইনি। আর আজকে আরেকটা বড়সর বেআইনি কাজ করে এই বেআইনি পথের ইতি টানবো আমি! তোকে অসহনীয় যন্ত্রনা দেবার পর,আ'ম গোয়িং টু কিল ইউ প্রদীপ। অদ্রিকে স্বর্গ নিয়ে কিছু বলছিলি না? আমি তোকে নরক দেখাবো। সো? আর ইউ রেডি?
প্রদীপ আশেপাশে তাকালো। নিরস্ত্র ও। পকেট থেকে ফোন বের করতেই ওটা কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেললো অঙ্কুর। পালানো ব্যতিত দ্বিতীয় কোনো উপায় চোখে পরলো না প্রদীপের। দৌড় লাগাতে যাবে,ব্যাটটা ওর পায়ের দিকে লক্ষ্য করে ছুড়ে মারলো অঙ্কুর। মুখ থুবড়ে পরে গেলে প্রদীপ। পা ধরে আর্তনাত করে দাড়ানোর চেষ্টা করলো ও। কিন্তু পারলো না। অঙ্কুর এগিয়ে গিয়ে ওকে কলার ধরে দাড় করালো। বললো,
-তুই রেডি না হলেও আমি রেডি। তবে এতো সহজে হার মেনে নিস না প্রদীপ। তোকে তো আমি তড়পিয়ে তড়পিয়ে মারবো। মনের সবটুকো যন্ত্রনা তোর আর্তনাতের স্বস্তিতে নেভাবো। এতো সহজে হার মেনে নিস না প্লিজ।
প্রদীপের চোখে ভয়। পাশে থাকা কাঠের পাটাতনের উপর থাকা ড্রিল মেশিনটা হাতে নিলো অঙ্কুর। বিস্ফোরিত চোখে তাকালো প্রদীপ। সর্বোচ্চ শক্তিতে ঝারা মেরে অঙ্কুরের ডানহাত থেকে ছাড়িয়ে নিলো কলারটা। পেছন দিকে দৌড় লাগিয়েছে। অঙ্কুর আবারো ধরে ফেললো ওকে। এবার প্রদীপ নিজেও একটা ঘুষি দিয়েছে অঙ্কুরকে। রাগে আবারো ওর কলারটা চেপে ধরলো অঙ্কুর। অদ্রি একপা এগিয়ে শান্তভাবে বললো,
-এই লোকটার জন্য টেররে নিষ্পাপ মানুষগুলো মারা গেছে অঙ্কুর। এর জন্যই কতোগুলো পরিবারের আহাজারি। এর জন্য আপনি পিতৃহারা,মা বিধবা অঙ্কুর। এর জন্য দুটো বছর মিথ্যে অপবাদ সইতে হয়েছে আমাকে।
অঙ্কুরের হাত মুঠো হয়ে এসেছে। প্রদীপের তলপেটে গোটাদুই ঘুষি ছুড়েছে ও। এবার মুখ দিয়ে রক্ত আসতে লাগলো প্রদীপের। ব্যাটটা নিয়ে আগে হাটুতে দুটো বারিতে ওর দৌড়ানোর উপায় একপ্রকার নিঃশেষ করে দিলো অঙ্কুর। অনড় হয়ে মেঝেতে পরে রইলো প্রদীপ। কাশির সাথে একবার উচ্চস্বরে আর্তনাত করলো,
-হেল্প! কেউ বাচাও?
ওর সামনে হাটুতে বসলো অঙ্কুর। বললো,
-আসার সময় ব্যাটটা নিচের বাচ্চাগুলোর কাছ থেকে এনেছি। ওরা ছাড়া আর কেউ নেই এদিকে। বাট তোর আওয়াজ নিচেও পৌছাবে না। শুধু ইকো হয়ে আমার কানেই বাজবে আর আমাকে প্রশান্তি দেবে। মরার জন্য বেশ ভালো জায়গায় আসতে বলেছিলি অদ্রিকে। মানতে হচ্ছে!
বসেবসেই সরে আসার চেষ্টা করলো প্রদীপ। প্রদীপের পকেটেই হাত ঢুকিয়ে ওর রুমালটা বের করে মুখ বেধে দিলো ওর। তারপর পায়ে পারা দিয়ে চরে বসলো। প্রদীপের একহাত মেঝেতে চেপে ধরে বললো,
-এই হাত দিয়েই সব এটাকের ছক কষেছিস তুই তাইনা? এই হাতের সাইন দিয়েই সবগুলো জঙ্গিহামলার সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছিস তুই তাইনা ডার্কো?
প্রদীপ মাথা নেড়ে না করে চলেছে সমানে। মুখ দিয়েও কিছু বলছিলো হয়তো। বিনাবাক্যে ড্রিল মেশিন ওর তালুর উপরপিঠে ধরে সুইচ অন করে দিলো অঙ্কুর। রক্তের ছটা দেখে চোখ খিচে বন্ধ করে নিয়ে অন্যদিকে ফিরলো অদ্রি। কাতরাতে কাতরাতে কয়েক সেকেন্ডেই স্থির হয়ে গেছে প্রদীপ। থমকে গেলো অঙ্কুর। পুরো দেহে কিলঘুষি আর ব্যাটের আঘাত আছে প্রদীপের। তাই বলে অঙ্কুর এতো জলদি মৃত্যু চায়নি ওর। ড্রিল মেশিনটা ছুড়ে মেরে প্রদীপের গালে কয়েকদফা চড় লাগিয়ে বললো,
-প্রদীপ? কিরে প্রদীপ?
...
-প্রদীপ? ওঠ! এতো সহজে মরতে পারিস না তুই!
....
-প্রদীপ!!!ওঠ! ওঠ বলছি! ওঠ! তুই এতো সহজে মরলে আমার জ্বালা তো একবিন্দুও মিটবে না! ওট প্রদীপ! ওঠ!
প্রদীপ সাড়া দেয়নি। মেঝের অনেকখানি জায়গা জুরে জমাটবাধা রক্ত। অঙ্কুৃর পাশে বসে গিয়ে মাথার চুল উল্টে ধরলো। দিশেহারার মতো করছে একপ্রকার। চোখ তুলে অদ্রির দিকে তাকিয়ে দেখে ও শান্ত দৃষ্টিতে ওর দিকেই তাকিয়ে। অঙ্কুর উঠে দাড়ালো। খানিকটা এগিয়ে হতভম্বের মতো করে বললো,
-ও এতো তাড়াতাড়ি মরে গেলো কেনো? এতো সহজে কেনো মরলো ও?
অদ্রি নিশ্চুপ। সহজ মৃত্যু? তাড়াতাড়ি মরে গেছে প্রদীপ? অঙ্কুর নিজের রক্তাক্ত হাতের দিকে তাকালো। মেঝেতে রক্ত লেগে থাকা ব্যাটের দিকে তাকালো। কি বুঝে আক্ষেপের মতো করে বললো,
-এভাবে মেরে ফেললাম ওকে? আমি তো...
আর বলারই সুযোগ পেলো না অঙ্কুর। যেনো বলার ক্ষমতা নেই ওর আর। খানিকটা সামনেই দাড়ানো অদ্রির হাতের রিভলবার থেকে ধোয়া উড়ছে। সবেমাত্র খরচ হওয়া বুলেটটা সশব্দে স্তব্ধতা এনে দিয়েছে চারপাশে। অঙ্কুর কিছু বলতে চাইছিলো। কিন্তু কোনো কথা ওর মুখ দিয়ে বেরোলোই না। অদ্রির চোখের জল বেরিয়ে আসলো এবার। হাত থেকে রিভলবারটাও পরে গেলো। কাদতে কাদতে অস্ফুটস্বরে শুধু বললো,
-আপনার শাস্তি।
#চলবে...
[ রিচেইক করিনি।
গল্প সম্পর্কিত আড্ডা দিতে জয়েন করুন মিথিমহল। গ্রুপ লিংকঃ
https://www.facebook.com/groups/233416685257163/?ref=share_group_link ]