•°.অনেক দিন পর উম্মী বাসায় ফিরেছে । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩য় সেমিস্টার এ এখন LLB নিয়ে পড়ছে ।
এসেই বাসার আস পাশ ঘুরে দেখলো তার বেস্ট ফ্রেন্ড এর সাথে কত স্মৃতি। বহু দিন হয়ে গেল তাদের সাথে দেখা নেই যোগাযোগ নেই। তারা হয়তো এবার বিশ্ববিদ্যালয় এ ভর্তি হবে। কথায় যে এডমিশন হোলো এই ভাবনাই আঙ্গিনায় গিয়ে বসলো তারা উম্মীর থেকে বেশ ছোট তবে কথা আছে না বন্ধুত্ব কখনো বয়স মানে না।
পেছন থেকে দুটো হাত উম্মীর চোখ দুটো বন্ধ করে ধরলো। উম্মী ভুলেনি এই স্পর্শ চোখ বন্ধ করে ধরা হাত টা ভিজে গেল তাৎক্ষনিক হাত টা সরিয়ে জরিয়ে ধরে বললো। আমরা জানি তুমি আমাদের দুজনকে এখনো ভালোবাসা ঠিক ততটাই যতটা আগে ভালোবাসতা উম্মী পেছনে ঘুরে দুজন কে জড়িয়ে ধরে বলে তোমাদের কথা প্রচুর মনে পড়ছে। কি স্বার্থপর তোমরা। সম্পর্ক গুলো তছনছ করে দিয়ে সরে গেলা। যেই দুই জন এর সাথে উম্মী কথা বলছে এরা উম্মীর বেস্ট ফ্রেন্ড একজন এর নাম অরোনি আরেকজন এর নাম মাইশা। এক এক জন এর রুপ একে অপর এর থেকে ভিন্ন আর অতুলনীয় তেমনি তিন জনে তিন কেটাগড়ির ।
~উম্মী শান্ত প্রকৃতির তর্ক, জোরে কথা বলা তার কাছে বিশ্ব যুদ্ধের মত। তবে যে যুক্তি দিয়ে কথা বলে যেটার উপরে কেউ কথা বলার সুযোগ পায়না। তার দুই বেস্ট ফ্রেন্ড তাকে এই নিয়ে প্রায় মজা করতো এই আওয়াজ আর এমন গম্ভিরতা নিয়ে তুমি উকিলাতি করবা।
~অরোনি অত্যন্ত চালাক সাহসি যেখানে মানুষ মারা মারি করে শত্রু বানাতে পাড়ে না সেখানে সে দু একটা কথা বলেই শত্রু বানিয়ে ফেলে । রুপের আগুনে অর্ধ এলাকা জ্বালিয়ে রেখেঐ আর বাকি অর্ধ জ্বালিয়েছে মাইশা ।
~ মাইশা দেখতে শান্ত তবে তার সাথে কেউ পাঙ্গা নিলে তার ওখানেই কিয়ামত। সহজে কারো সাথে মিশে না যার সাথে মিশে যায় এত সহজে তার হাত ছাড়বে না। সবাই বলে এলাকা টা পুড়ে ছায় হয়নি উম্মির কারনে তার ঠান্ডা সভাব এর জন্য নয় এদের আগুনে সব ভৎস হয়ে যেতে। দুই আগুন এর ফুলকি কে দমিয়ে রাখতে ঠান্ডা পানি ছিলো উম্মী।
তিন জন এলাকা থেকে যাওয়ার পর এলাকা টা যেনো শ্মশান ঘাট হয়ে গিয়েছিল।
বহুদিন পর তারা এক হয়েছে বাতাসে মিলিয়ে গিয়েছে তাদের অভিমান। এক ভাই রাস্তার ওপারে থেকে তাদের দেখে বলে এবার এলাকার সবার ঘুম হারাম। ঈদের মৌসুম হোক বা যে কোনো আনন্দের মৌসুম পুড়া এরা এলাকায় বোমা ফাটিয়ে নিজেরাও বেহুঁশ হবে আর অন্য দের ও বেহুঁশ করবে। অঝশ্য কান্ড করে বেরাতো।
অরোনি চিল্লায় বললো চিন্তা নেই কিছু দিন এর জন্য এসেছি। ঢাবি তে চান্স পেয়েছি। তখন এলাকার নেতা আসে বলে এলাকার এই থোপের সবাই দেখি মুখ উজ্জ্বল করবে আমার সবাই ঢাবির স্টুডেন্ট।
~অপর দিকে দুই বন্ধু দুই সেমিস্টার শেষ করে যশোর ভ্রমণ করছে বাসায় না ফিরে। পরিচয় টা দিয়ে দেয় এরা ছোট থেকে দুই বন্ধু এক জন সামির সিকদার আরেকজন আমির সুফিয়ান । তাদের মেধা অতুলনীয় আমির সুফিয়ান গুনবান ও ছিল, রান্না , ঘরের কাজ , বাইরের কাজ ,পড়া শোনা ,নামাজ সব দিক দিয়ে নিজেকে গড়ে তুলেছে তার মা। সামির সিকদার গম্ভীর প্রকৃতির আমির সুফিয়ান এর চেয়েও তার মেধা বেশি ধর্মীয় দিকটা তার মা বেশি গুরুত্ব দিয়েছে দুইজনে দেখতে সুদর্শন বটে। আরো দুজন আছে এদের সাথে আমরা পরে পরিচয় হই।
ফিরে যাই তিন বান্ধবীর কাছে তারা এবার এক সাথে ঢাকা যাবে এক সাথে ট্রেন এর সিট কিনেছে। তারা ঠিক করে এবার তারা জীবন টা অনুভব করবে। এখন তারা বড় হয়ে গিয়েছে । সবাই কে বিদায় জানিয়ে তারা রেল স্টেশন এ পৌঁছে গিয়েছে।
অপর দিকে সামির সিকদার আর আমির সুফিয়ান যশোর থেকে পার্বতীপুরে পৌঁছেছে সন্ধ্যা ৭ টায়। ট্রেন ১১ টায় । এত তাড়াতাড়ি স্টেশন এ আসায় তারা বেঞ্চ এর মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে । একটু পর হর্ণ এর শব্দ আর লোকাল ট্রেন এর আলো রশ্মি স্টেশন এ প্রবেশ করে ট্রেন বেশ ফাঁকা তবে ছাদের ওপর থেকে একটা ব্যাগ নিচে আসে পড়ে সামির আর সুফিয়ান দুজনে একে অপর এর দিকে তাকিয়ে ব্যাগের দিকে তাকাতেই একটা ছেলে উপর থেকে হিরোর মতো লাফ দিতে গীয়ে বাঁদর এর মতো হুমরি খেয়ে পড়ে । সামির আর সুফিয়ান হাসি টা আটকে রেখে মাথাটা অন্য দিকে ঘুড়িয়ে নেয় । যেই বাঁদর ছানা টা উপড় থেকে প্লাটফর্ম ঐ এসে পড়লো ওর নাম হচ্ছে আরিয়ান তালুকদার । ছোট থেকে বড় হয়েছে ইউরোপ এ দু বছর থেকে সে বাংলাদেশ এ ।বড় লোক বাবার আদুরে ছেলে তবে প্রচুর দুষ্টু ও তবে মন টা বেশ নরম সুদর্শন ও বটে বডি সডি ও ভালোই বানিয়েছে জীবন এ অনেক টাকা উরাতে হবে তাই পড়া লেখা করছে । •_•
আরিয়ান এদিক ওদিক মাথা দিতে ওদের চোখে পড়ে দুজন ।কাছে গিয়ে বলে hey boys ভেবেছিলাম অনেক মেয়ে থাকবে তাই হিরোর মতো এন্টি মারতে গেছিলাম। By the way হাত আগিয় দিয়ে বলে Hi আমি আরিয়ান তালুকদার সামির আর সুফিয়ান দু জনে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে আমি সামির সিকদার আর আমি আমির সুফিয়ান। আরিয়ান দুজনের হাত ধরে বলে wow nice name and you are most handsome man.
আমরা কি বন্ধু হতে পারি সুফিয়ান ঠিক আছে বললেও সামির বলে না। আরিয়ান মাথা নিচু করে নিচে বসে পরে বলে আসলেই তো আমার সাথে কেনো বন্ধুত্ব করবা আমার সাথে কেউ বন্ধুত্ব করতে চায় না আমি কি এতোই খারাপ। সুফিয়ান আরিয়ান এর কাছে যায় বলে না রে এভাবে বলিস না সামির ও কষ্ট পায় বলে দুঃখিত আমার এভাবে বলা উচিত হয়নি তখন আরিয়ান লাফ দিয়ে ওঠে আর সুফিয়ান উল্টে যায় তখন আরিয়ান বলে তাহলে আমরা ফ্রেন্ড (≧▽≦) ইশ কতো ভালো অভিনয় করি আমি আমাকে এওয়ার্ড দেওয়া দরকার সুফিয়ান পিছন থেকে ঠাস করে মাথায় মারে বলে এমন কেউ করে আমি ইমোশনাল হয়ে গেছিলাম সামির বলল এই জন্যই তখন না বলছিলাম বেঁচে থাকা হারাম করে দিবি তুই।
৯:৩০ বাজে উম্মী অরোনি আর মাইশা ট্রেন এ চরে অরোনি জানালার পাশে মধ্যে মাইশা আর সাইডে উম্মী। তারা তো প্রচুর খুশি অরোনি বলে উম্মী কয়েকটা ভিডিও করো পড়ে মিনি ব্লগ বানাবো তারা পিক তুলছে ভিডিও করছে ।
আরিয়ান সামির আর সুফিয়ান কে বিরক্ত করছে হঠাৎ তাদের চোখে পড়লো স্টেশন এর শেষ বেঞ্চ এর এক সাইডে একটা ছেলে একা চুপ চাপ বসে আছে ভালো করে লক্ষ্য করে দেখে ছেলেটার চোখ থেকে নিঝুমে পানি পরছে এরা তিন জন এ ওর কাছে যায় বলে কি হয়েছে তুমি কান্না করছো কেনো। একটা ছেলে কখনোই এত সহজে কাঁদে না। ছেলেটা বলে আমার এই পৃথিবীতে কেউ নেই স্টেশন এ আসার সময় লক্ষ্য করলাম একজন মা তার ছেলেকে জড়িয়ে ধরে রাস্তার এক কোণে বসে আছে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে তখন নিজেকে শান্ত রাখতে পারলেও এখন আমার বেশ মনে পড়ছে আমার মার কথা ।আগে মাথায় হাত বুলিয়ে বলতো আমি না থাকলে কি করে সব করবি রে বাবা এখন সবি করি শুধু সেই হাত টা খুজে পাই না ।
কাদো কাদো কন্ঠে বলে এই যে একটা গান আছে না।
গান~
ওই চাঁদের টিপে মন ভোলে না মা.
দোলনা দোলে মন দোলে না মা..
রাতের চোখে ঘুম যে নামে চাঁদ এর পাশে মেঘ যে থামে ...
আমার পাশে নেই তো তুমি মা....
মা গো তোমায় ছাড়া ঘুম আসে না মা ।
ওরা তিন জনে কান্না করে দেয় তিন জনে ওই ছেলেটা কে জড়িয়ে ধরে বলে এখন থেকে আমাদের মা মানে তোমার মা এখন থেকে আমরা তোমার সব । ছেলেটার চোখের পানি মুছে বলে আমার কখনো কোনো বন্ধু ছিল না তবে তোমরা আমাকে বন্ধু বললে আমি সত্যি খুব খুশি খুব আরিয়ান বলে চলো একটা নাচ দেই সামির ঠাস করে মাথায় মেরে বলে চুপ আমাদের তো তোমার নাম টাই যানা হোলো না ছেলে টা পরিচয় দেয় আমার নাম ইয়াশ দেওয়ান । তুমিও কি ঢাবি তে নাকি বলে হে। সুফিয়ান বলে বাহ আমারা এবার সুপার হোস্টেল এ উঠবো।এক সাথে রুম নেই ইয়াশ বলে আমি রাজি আরিয়ান বলে hey hey তোমরা আমাকে বলছো না কেনো আমিও তোমাদের সাথে থাকবো। সামির বলে না তুই বড় লোক এর পুত তুই এসি রুম নে No way আমি তোমাদের সাথে থাকবো। আচ্ছা আচ্ছা কিন্তু ট্রেন এখনো নাই কেনো। আরিয়ান বলে চল প্লাটফর্ম এ ক্রিকেট খেলি সামির আর সুফিয়ান তো সাথে সাথে রাজি আরিয়ান বলে তোরা আমার এক কথায় রাজি হয়ে গেলি আমি ভাবলাম গালি দিবি । তখন চার জন এ ক্রিকেট খেলে তাদের দেখে মনেই হচ্ছে না তাদের পরিচয় কিছুক্ষণ এর। ছেলেরা এমনি সহজে মিশে যায়।
একটু পর ট্রেন ঢুকে কিন্তু তারা খেলেই যাচ্ছে। ট্রেনের জানালা দিয়ে অরোনি উকি দেয় বলে উম্মী মাইশা দেখ একটু পর উম্মী ট্রেনের দরজার কাছে যায় ইয়াশ এর শট এ সামির বল ধরতে একটু একটু করে পিছনে যাচ্ছে উম্মীদ হেলে এক হাত বাড়িয়ে বলটা ধরে ফেলে। সামির তার দিকে তাকিয়ে নিস্তব্ধ হয়ে যায় উম্মীদ তার চোখের দিকে তাকিয়ে ধীরস্থে বলে সাবধানে খেলো তোমরা ব্যাথা পাবে। বলে বল হাতে দিয়ে অরোনি আর মাইশা কে ডেকে সামনে দোকানে গেলো। আরিয়ান সামির কে বললো কিরে ভাই আর খেলবি না তখন সুফিয়ান আরিয়ান এর ঘারে হাত দিয়ে বললো না রে ও আর খেলবে না কারন আপু সাবধানে না খেললে ব্যাথা পাবে বলেছে । ইয়াশ বলে আপু টা কিন্তু সুন্দর আরিয়ান বলে ধার্মিক আপু হিজাব টা কতো বড় তিন জনে এক সাথে চিৎকার করে বলে মাশাহ আল্লাহ। সামির ওদের ধাক্কা দিয়ে বলে কমেন্ট করা বন্ধ কর চল ট্রেনে চড়ি বলে চার জনে কলের কাছে যায় পানি দিয়ে ঝাপটে হাত ধোয়। ট্রেনের হর্ণ দেয় ট্রেন ছাড়বে সবাই ট্রেনে চড়ে তারা তাদের সিট খুজতেছে মাইশা বলে দেখ ওই ছেলে গুলো এই বগি তে উঠেছে অরনি বলে দেখ ওই দিকে ।আরিয়ান মেয়েদের সামনে গিয়ে বলছে hey girls you are a so sweet are you single মেয়েরা ওকে কিছু বলার আগেই ইয়াশ আর সামির তার মাথায় মারে উঠায় সামনে তিন বান্ধবীর একটু সামনে গিয়ে থামে বলে তুই কি ভালো হবি না ওদের দেখে মাইশা আর অরোনি আর উম্মী প্রচুর হাসে অরোনি বলে সব ছেলেরাই এমন ক্যারেক্টার লেস। আরিয়ান ওদের সামনে সিটে হাত রাখে হেলনা দিয়ে বলে কিছু বললে my sweet heart তিন জনে মিলে আরিয়ান কে কাঁধে তুলে নিয়ে তিন জনে একসাথে দুঃখিত বলে তাকে নিয়ে সামনে আগাবে তখন আরিয়ান চিললায় বলে আরেএএএএএএএ ওই তো আমাদের সিট।