“ সন্ধ্যার ভায়োলিন ”
#লেখিকা _বৃষ্টি_ইসলাম
#পর্ব_১০
আব্রর শীতল চক্ষু দ্বয় পরক্ষনেই লাল হয়ে উঠে। চোয়াল চেপে ধরে, দাঁতে দাঁত ঘষে। হাতের মুষ্ঠি শক্ত করে চেপে ধরলো। অতঃপর চোখ মেলে তাকিয়ে শিতল কন্ঠে সুধাল।
“আমিও কাল তাহলে তোর সাথে যাব।”
“আচ্ছা ঠিকাছে। আমি অফিস থেকে বেড়িয়ে তোকে কল দিবো,এখন আসি।”
“এখনি কোথায় যাচ্ছিস? ডিনার করে যাস।”
“নাহ রে আরেক দিন করবো। এখন উঠি, মামিকে বলিস। আমি গেলাম।”
অতপর, আশাফ আব্রর সাথে হ্যান্ডশেক করে চলে যায় খান মহল থেকে বেড়িয়ে।
~
নিহা দোতলা থেকে মহলের নিচে নামছে। টিভি দেখবে বলে। যার দরুন সোফার কাছে এসে দাঁড়াল। অকস্মাৎ নিহা খেয়াল করল ড্রয়িং রুমের সোফায় আব্র বসে আছে। নিহা এগোতে থাকল ড্রয়িং রুমের দিকে। কাছে যেতেই নিহা তার নজরে বন্দী করল। সোফাতে বসে থাকা আব্রর চোখের শিরা উপশিরা লাল হয়ে আছে। যেন চোখ থেকে আগুনের লাল আভা বের হচ্ছে। অগ্নিজোঠদ রক্তিম আকার ধারণ করেছে। হাতের আঙুল মুষ্ঠিবদ্ধ করে শক্ত করে চেপে ধরে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। নিহা আব্রর এই ভয়ার্ত প্রতিচ্ছবি দেখে আঁতকে উঠল। পূর্বে নিহা আব্রকে এত উত্তেজিত অবস্থায় দেখে নি হয়তো। নিহা তড়িঘড়ি করে ড্রয়িং রুম ত্যাগ করলো।
রাতে ১০টার দিকে সবাই ডাইনিং টেবিলে বসে খাবার খাচ্ছে। কিন্তু আব্র সেখানে অনুপস্থিত ছিলো। আব্র মহলে নেই, বাহিরে গিয়েছে। ডাইনিং টেবিলে সবাই কথা বলছে। আজকাল কোম্পানি সামলানো বড় ঝামেলার হয়ে যাচ্ছে। অনেক লোকসান হচ্ছে। কোম্পানিরই কোন লোক বাহিরে অগোচরে গোপন খবর ছড়াচ্ছে।
অতপর সবাই খাবার খেয়ে যে যার যার রুমে চলে গেলো তাদের শয়ন কক্ষে। অহু ও চলে গেলো তার রুমে।
রাত ১টা বাজে।
অহু এখনো ঘুমায় নি। ঘুম আসছে না তার। চোখের পাতা জোরা এক করলেও ঘুমাতে পারছে না সে। তার কারণ আব্র এখন ও মহলে ফিরে নি। অহু বিষয়টা নিয়ে চিন্তত কারণ আব্র আগে কখনো এত রাত পযর্ন্ত কোন কারণ ছাড়া মহলের বাহিরে থাকে নি বলে অহু জানে। হঠাৎ আব্রর জন্য অজানা ভয় চেপে ধরেছে কলবে সঙ্গে উৎকন্ঠাও। কিন্তু এই অনুভূতির নাম কী? যাকে সে সহ্য করতে পারে না, তার জন্য কেন এত উৎকন্ঠা জমেছে ললাটে। অহু ব্যলকনিতে দাড়িয়ে বাহিরে গেটের দিকে তাকিয়েই রইল। রাতের আকাশের তারা নকক্ষত্রকে গুনছে সে। অহুর রুমটা মহলের বাগানের কাছাকাছি বিধায় বাগান থেকে ফুলেরা মৃদু সুবাস নাকে ভেসে আসছে।
হঠাৎ রাত ১:২৫এর দিকে আব্রর গাড়ি খান মহলের গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। গাড়ি আসার শব্দ সুনে অহু পুনরায় মহলের গেটের দিকে তাকায়। আব্র এসেছে দেখে অহুর পাঁজরের ধুকধুকানি বেরে যায়। আব্র গাড়ি থেকে নেমে সোজা অন্দর মহলের ভিতরে প্রবেশ করে। যার দরুন পরবর্তীতে অহু আর আব্রকে দেখতে পেলো না। আব্রর যাওয়ার পানে তাকিয়ে অহু একটা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে। অতপর ব্যালকনি ছেড়ে অহু তার রুমে চলে আসে। পালঙ্কে গা এলিয়ে দিয়ে চোখের পাতা জোরা এক করে।
[০২.]~
চারপাশে ঘিরে রয়েছে অন্ধকার, প্রাচীন সুরঙ্গ, পৃথিবীর অন্তরালে লুকিয়ে থাকা এক নির্মম কারাগার। লোহার শক্ত গেট দিয়ে প্রতিটা কক্ষ বন্ধ, যেখানে বন্দী অসংখ্য মানুষ। তাদের চোখে হতাশার কায়া, শরীরে নির্যাতনের দাগ। সেই সুরঙ্গের পাশেই উঠে দাঁড়িয়েছে এক গম্বুজাকৃতি ঘর। সেখানে চলছে এক ভয়াবহ অনুষ্ঠান। মানুষের দেহ কাটাছেঁড়া, রক্তের লাল নদীতে ভেসে যাচ্ছে সবকিছু। মাত্রই একজনকে অজ্ঞান করে ধারালো ছুরির আঘাতে খুন করা হলো; তার শরীরের চামড়া প্রথমে ছাড়িয়ে নেওয়া হলো, তারপর তা ফেলা হলো এক গরম পানির কুয়ায়, যাতে সিদ্ধ হয়ে যায়। কী বিশ্রী, গুমোট পরিবেশ তৈরি হলো। বাতাস বিষাক্ত হয়ে উঠল। সবাই মুখে মাস্ক পরে আছে, কিন্তু বন্দীরা অসহায়, তাদের কোনো সুরক্ষা নেই; এই বিষাক্ত গন্ধ সহ্য করার উপায়ও নেই। অনেকে বমি করে ফেলে। কাজ শেষ হলে, রক্তাক্ত সেই স্থানে গন্ধ মুছে ফেলার জন্য কেমিক্যাল ছড়ানো হলো; দ্রুত পরিষ্কার হয়ে গেল সবকিছু, কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট রইল না। কিন্তু কোথায় এই নরক? আর কে এই নরকের প্রতিষ্ঠাতা?
----------------------
আব্র আজ ভোর সকালেই ঘুম থেকে উঠে পড়ছে। দাত ব্রাশ করতে করতে মহলের নিচে নামলো। ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে থাকা আলিনা খানকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে আব্র।
“আম্মা মহলর জিম ঘরটা ঠিক করে রেখো। জিম করতে হবে।”
“ঠিকাছে ঠিক করে রাখবো নে। তুই ফ্রেশ হয়ে নে আমি কফি পাঠাচ্ছি তোর তোর রুমে।”
“একটু পরে পাঠাও। আমি মহলের বাহির থেকে হেটে আসছি একটু।”
খান মহলে আব্র ছাড়া কোন ছেলে নেই। যে জিম করবে যার দরুন অনেক বছর ধরে জিম করার রুম'টা অপ্রস্তুত অবস্থায় পরে আছে।”
আজ অহুর ঘুম থেকে উঠতে বেশ দেরি হয়ে গেছে। সবাই অহুর আগেই মরনিং ওয়াকে চলে গিয়েছে। তাই অহু ফ্রেশ হয়ে মহলের ছাদে চলে গেল।
ছাদে গিয়ে কতক্ষণ প্রকৃতির সাথে ভাষা আদান প্রদান করলো। সকালের সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি ছড়াচ্ছে। অতপর ছাদে থাকা টবের ফুল গুলো পর্যবেক্ষণ করলো।
“সেখান থেকে একটা ফুল তুলে কানে গুজে দিলো অহু ”
কিছু সময় পর মহলের ছাদ থেকে নেমে আসলো। শাওয়ার নিয়ে তৈরি হয়ে নিলো।
অতপর সকলের সাথে ব্রেকফাস্ট করে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা হলো। আব্র আজ খাবার টেবিলে ছিল। তবে গোমড়া মুখে বিষয়টা অহু অনেক নোটিশ করেছে।
[০৩.]~
ভার্সিটির ক্যাম্পাসে বসে আছে অহু এবং পারু। অপেক্ষা করছে কখন আশাফ আসবে? আশাফ'কে অনেক আগেই কল দিয়েছিলো অহু। বলেছে রাস্তায় আছে জ্যামে বসে। বেশি সময় লাগবে না আসতে।
দুপুর ১২:১০ দিকে আশাফ প্রবেশ করলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। অহু আশাফ'কে দেখে বসা থেকে উঠে দাড়ালো।
“এতক্ষন লাগে আসতে ভাইয়া?চলো এখন তাড়াতাড়ি কিছুক্ষন পর ক্লাস শুরু হয়ে যাবে আমার।”
“দাড়া একটু অপেক্ষা কর। ছেলেটা এখন কোথায়?”
“মনেহয় পূর্ব দিকে ক্যাম্পাসের মাঠে আছে। অপেক্ষা কেন করবো। এমনিতেই আমার দেরি হয়ে গেছে।”
আশাফ থামিয়ে রাখলো অহুকে। মিনিট তিনেক পর আব্র আসলো ক্যাম্পাসে। আব্রকে দেখে অহু চমকায় ভীষণ। ভ্রুকুটি কুঁচকিয়ে পরোখ করে আব্র'কে।
আব্র একটা হোয়াইট কালারের টি-শার্ট পরেছে। চুল গুল এলেমেলো হয়ে আব্রর কপালে স্পর্শ করছে, হয়তো বাইক চালিয়ে এসেছে। সুঠাম দেহি আব্রর পেশিবহুল হাতের শিরা গুলো টান টান হয়ে আছে। টি-শার্ট পরায় তা সবার নজর বন্দী হচ্ছে। যে দৃশ্য দেখে যে কোন রমনি মাতাল হয়ে যাবে। অহু ও তার ব্যতিক্রম নয়। আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো অহু। যারা আব্রকে খেয়াল করেছে তারা সবাই হা করে তাকিয়ে আছে। যেন আব্রকে গিলে খাবে। অহু উষ্ঠা প্রসারিত করে আওড়াল মৃদু স্বরে,
“ উনাকে এখানে আসতে কে বলেছে?”
আশাফ জবাব করল।
“আব্র নিজেই এসেছে।”
অহু ঠোঁট বাঁকাল। বুলি ছুড়লো তৎক্ষণাৎ।
“উনাকে কে বললো এই ব্যপারে।?”
“আমিই বলেছি।”
অহু মনে মনে আওড়াতে থাকল। উনি কি আমাকে সেইভ করতে এসেছে? নাকি নিজের জন্য মেয়ে পটাতে এসেছে এই ভাব নিয়ে?”
আশাফ হাঁক ছুড়ে।
“চল যাই এবার।”
অহু ছেলেটাকে ক্যাম্পাসেই খুজে পেলো। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলো মাঠে বসে। অহু সেখান থেকে একটা ছেলেকে দেখিয়ে দিয়ে বলল।
“ঐ যে ঐ কালো শার্ট পড়া ছেলেটাই।”
আশাফ থামলো, বলল।
“তোরা এই খানেই থাক। আমরা আসছি কথা বলে।”
এই বলে আব্র আর আশাফ এগিয়ে গেলো আড্ডার মাঝখানে। ছেলেটার পিছনে দাঁড়ালো, বুলি ছুড়ল।
“এই ছেলে শুনো?”
ছেলেটা উঠে দাড়ালো। শার্টের কলারে হাত দিয়ে, আওড়াল।
“ হ্যা কি হয়েছে?”
আশাফ শীতল কন্ঠে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করল।
“তুমি অহুকে বিরক্ত কেনো করছো? সে তোমাকে তো তার উওর জানিয়ে দিয়েছে।”
আব্র নৈশব্দে দাঁড়িয়ে৷ কথোপকথন শুনছে। কোন সংলাপ বুনছে না মধ্যে খানে। তখন'ই ছেলেটা বলে উঠে কর্কশ ভাষায়।
“কে তুই? চিনিস আমাকে? জানিস কার সামনে দাড়িয়ে কথা বলছিস?”
আশাফের কণ্ঠ তখন অব্দি শীতল হয়ে বলল।
“আমি আবারো জিজ্ঞেস করছি। তুমি অহুকে বিরক্ত কেন করছো?”
জবাব আসে,
“ওরে আমি বিরক্ত করমুই ওরে আমার প্রেমিকা বানা,,—
পুরো কথা শেষ না করার আগেই শান্ত আব্র উন্মাদ হয়ে এগিয়ে এসে। ছেলেটার গলা চেপে ধরে এক হাতে। মাটি হতে হালকা উপরে তুলে ফেলে মুহুর্তেই। এরকম কান্ডে সবাই আতকে উঠে। অহু ভয় পেয়ে পিছিয়ে যায় দু'এক কদম। ঐ ছেলের বাকি বন্ধুরা এগিয়ে আসলে আশাফ ওদের সামলে নেয়। আব্র এখনো ছেলেটার গলা চেপে ধরে আছে। ছেলেটা অনেক চেষ্টা করছে ছোটার তবে আব্রর এক হাতের শক্তির সাথে ও পেরে উঠছে না। ঘটনা অবনতি দেখে অহু নিজেই ছুটে আসে। অহু আব্রর হাত স্পর্শ করে ছোটাতে চাইলো ছেলেটাকে।
অহু তাকিয়ে দেখলো আব্রর চোখ রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। রাগে ফুঁসছে, কিন্তু কিভাবে? একটু আগেই যখন অহু আব্রকে দেখে ছিলো তখন তো স্বাভাবিক ছিলো। আব্র এরকম প্রতিচ্ছবি এই প্রথম দেখলো অহু। অহু নিমিষেই ঢোক গিললো। আওড়ালো কাঁপা কন্ঠ স্বর আওড়িয়ে,
“ভাইয়া ছেড়ে দিন নয়তো মরে যাবে। তখন অনেক বড় প্রবলেম হয়ে যাবে প্লিজ ছেড়ে দিন ভাইয়া।”
এই প্রথম বার অহু আব্রকে স্পর্শ করলো তবে ভিন্ন পরিস্থিতিতে
আশাফও সঙ্গ দেয়।
“ছেড়ে দে আব্র এবার, এখানে অনেকে আছে।”
আব্র চোখ বুজে, একটা দীর্ঘ নিশ্বাস টেনে নেয় গহীনে। হাতের বাধন আলগা করে, ছেড়ে দিলো ছেলেটাকে। কিন্তু একবারের জন্য ও অহুর দিকে ফিরে তাকালো না। ছেলেটি মাটিতে পরে হাপাচ্ছে। তখনই আব্র সেখানে উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ্য করে হাঁক ছুঁড়ে।
“আজকের পর থেকে যদি আর কেউ অহুর দিকে চোখ তুলেও তাকায়। তার হাল এর থেকেও জঘন্য হবে। এতো মাটির উপরে আছে তাকে পুরো মাটির নিচে পাঠিয়ে দিবে এই #আররাব_খান_আব্র।”
বলেই রক্তিম চোখ রাঙায়। তৎক্ষনাৎ আশাফের সাথে ক্যাম্পাস থেকে বেড়িয়ে চলে আসে। কিন্তু অহুর সাথে কোন সংলাপ বুনে না। অহু এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ভীষণ ভয় পেয়ে যায়। বিশেষ করে আব্র যে এত রাগী সেটা অহুর অপ্রত্যাশিত ছিলো।
~
~
আব্র আর আশাফ চলে আসার পরপরই অহু ও চলে আসে তাদের পিছন পিছন ক্লাস এটেন্ড না করে।
মহলে এসে ভার্সিটিতে ঘটে যাওয়া ঘটনার ব্যাপারে কিছুই বলে না অহু কাউকে। অহু মহলে এসে আজ দুপুরের খাবার ও খায় নি। ঐ যে অহু ভার্সিটি থেকে মহলে ফিরে নিজের কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করেছে আর খোলেনি।
অহু আজ কোচিংও যায় নি। অহু ভীষণ ভয় পেয়েছে দুপুরের ঘটনায়। এসব মারামারি থেকে সে সব সময় এড়িয়ে চলে। তবে আজ তার জন্যই এরকম কিছু ঘটে গেল।
সন্ধ্যাবেলা অহু নিজের রুম থেকে বাহিরে বের হয়। বাহিরে এসে দেখে সবাই ড্রইং রুমে বসে গল্প করছে। অহু মহলটা ঘুরে দেখলো পুরো। অহু খেয়াল করেছে আব্র মহলের কোথাও নেই। এমনকী তার রুমে ও নেই। অহু ভাবছে হয়তো ভার্সিটি থেকে আর মহলেই ফিরে নি আব্র। সন্ধ্যা হয়ে গেছে তানহা মিস এসেছে অহুকে পড়াতে, রুমে গিয়ে অহু পড়ছে তবে পড়ার খেয়ালে আজ সে নেই। বেশ চিন্তা হচ্ছে আব্রর জন্য। তাই আজ তাড়াতাড়ি করে তানহাকে বিদায় জানিয়ে দিলো। অহু ভাবছে আব্র ভার্সিটি থেকে বেড়িয়ে বাহিরে গিয়ে আবার ঝামেলা করলো না তো?
আবার পরক্ষণেই এই আলাপন ভেবে ঠোট উল্টালো যে।
“আব্র ভাই কেনো এতো এরকম কান্ড ঘটালো আমার জন্য?”
অহু ড্রয়িং রুমে বসে শিফা আর নিহার সাথে গল্প জুরেছে আর টিভি দেখছে। আব্রর জন্য অহুর ভীষন চিন্তা হচ্ছে। মনটা বড় হাসফাস করছে। আব্রর কোন কন্টাক্ট নম্বর ও নেই অহুর কাছে। যে ফোন দিয়ে খোজ নিবে আর এটাও ভাবছে কল দিলে কিবা জানি বলে। কিছুক্ষন পর অহুর মনে পরলো আশাফ ভাইয়াকে কল দিয়ে একবার জিজ্ঞেস করলে কিরকম হবে।?
যেই ভাবনা সেই কাজ। ফোনটা হাতে নিয়ে আশাফের ফোনে কল দিলো। আশাফ কল রিসিভ করলো তাৎক্ষণিক।
“আসসালামুয়ালাইকুম ভাইয়া।”
আশাফ উদ্বিগ্ন হয়ে আওড়াল।
“ওয়ালাইকুমুস সালাম। কিরে কিছু হয়েছে নাকি আবার?”
অহুর নরম কন্ঠ স্বর।
“না ভাইয়া তেমন কিছু না। আসলে চাঁচিজান আব্র ভাইয়ার কথা জিজ্ঞেস করছিলো। ভাইয়া এখনো মহলে ফিরে নি তো তাই। আপনি কি জানেন ভাইয়া কোথায়?”
“মামির কাছেই তো আব্রর নাম্বার আছেই। আচ্ছা আমি আব্রকে বলছি ফোন দিয়ে।”
“ধন্যবাদ ভাইয়া। আসসালামু আলাইকুম।”
“ওয়ালাইকুম আসসালাম। ভালো থাকিস।”
“জ্বি ভাইয়া। আপনি ও।”
অহু ফোনটা রেখে কিছুটা হাফ ছেড়ে বাচলো। আবার মনে মনে এই ভয় ও চেপে ধরেছে। আশাফ ভাই আবার না আব্র ভাইয়াকে বলে দেয়। আমি ফোন দিয়েছিলাম ওনার খোজ নিতে। তাহলে তো আরেক কান্ড রটে যাবে।
ভেবেই অহু কপাল চাপড়ালো। চিন্তা করতে করতে অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো অহুর। আব্র মহলে ফিরেছে কিছু সময় আগে। তবে আব্র এখন রুমে আছে তাই দেখা পেলো না অহু আব্রর। আব্র যখন মহলে ঢুকেছিলো অহু তখন তার রুমে ছিলো। আব্র মহলে ফিরেছে শুনে অহু কিছুটা চিন্তা মুক্ত হল।
আব্রকে দেখার জন্য অহুর মন ছটফট করছে। অহু নিজের রুমের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাচ্ছে, আবার ঐ পাশ থেকে এই পাশে আসছে। হাতের বুড়ো আঙুলে ওড়না পেচাতে পেচাতে ভাবছে আর মনে মনে আওড়াচ্ছে।
“এখনো কি রেগে আছে আব্র ভাই?”
#চলবে #পাঠক?