ফন্ট সাইজ:
থিম:
সন্ধ্যার ভায়োলিন

১৪তম পর্ব

লেখক: বৃষ্টি ইসলাম

“ সন্ধ্যার ভায়োলিন ”— ১৪ [১'ম খন্ড]

উপন্যাস #সন্ধ্যার_ভায়োলিন #পর্ব-১৪
#লেখিকা:#বৃষ্টি_ইসলাম
#সিজন_০১
#পর্ব_১৪
[০১.]~
অহু চড় খেয়ে গালে হাত রাখল নিঃস্পৃহভাবে। চোখে একবার নিষ্পাপ দৃষ্টি ছুঁড়ে দিলো আব্র'র দিকে। অহুও কিছু বলল না। গালে হাত রেখে গাড়ির জানালার দিকে চেয়ে রইল। কান্নার শব্দে পরিবেশ বিগড়ে দিল না সে। তবে আব্র ভাইয়ের আঘাতে হৃদয়ে এক অপার ব্যথা জমে উঠল বোধহয়।
আব্রও চুপ। চোখে রক্তিম ক্ষোভের কায়া এখনো স্পষ্ট, কিন্তু শব্দে কোনো প্রতিচ্ছবি নেই। লক্ষ্য করলো অহু সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে আছে, চোখের কোণে হয়তো অশ্রুবিন্দু জেগে আছে। তবে গড়িয়ে পড়ছে না। তা বোধহয় অহু নিজেও থামিয়ে রেখেছে।
গাড়ি এসে থামলো, খান মহলে।
------------------------------
আব্র প্রথমে গাড়ি থেকে নামলো। অহু চুপিচুপি তার পেছন পেছন। হঠাৎ আব্র'র পেছন থেকে ভেসে এল কোমল কণ্ঠ।
“আব্র ভাইয়া, আপনার হাতে ব্যথা লাগে নি তো, চড় মারার জন্য?”
আব্র দাঁড়িয়ে পড়ল। দ্রুত পিছন ফিরে তাকাল, অহু ঠান্ডা চাহনিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে, প্রশ্নবিদ্ধ চোখে। উষ্ঠে এক অস্পষ্ট হাসির রেখা। শুভ্র গালে লাল আভার কোমল আলো ছলছল করছে। চোখের তারা যেন হাজারো অব্যক্ত অনুভূতি নিয়ে ঝিকমিক করছে। আব্র'কে প্রশ্নবিদ্ধ করছে সে ছলছল আঁখি যুগল। আব্র'র বুকের ভেতর হাহাকার উঠল। এই দৃশ্য তাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিতে চাইছে। আব্র'র বক্ষে কিঞ্চিৎ ব্যাথা অনুভব হল। নিজেকে সংযত করল, আওড়াল।
“না, কিছু হয়নি আমার। ভেতরে যা, কাকি তোর জন্য অপেক্ষা করছেন সেই কখন থেকে।”
অহু কোনো বাক্য বুনলো না আর। শব্দহীন পায়ে খান মহলের ভিতরে ঢুকলো।
আব্র দাঁড়িয়ে রইলো, চোখ বুজে, গাড়ির গায়ে হেলান দিয়ে। পকেটে হাত খুঁজলো দেখল, সিগারেট নেই। হঠাৎ একটা ঝাঁঝালো অভিব্যক্তিতে গাড়িতে লাথি দিয়ে বলল।
“ডেমন ইট।”
তারপর দ্রুত পা ফেলে সে মহলের ভিতরে ঢুকল। চারপাশে নিস্তব্ধতা। অহু নেই, অহু'র আম্মিজানও নেই। মনে হল, সবাই ঘুমিয়ে পরেছে। আব্র পা বাড়িয়ে নিজের রুমে চলে গেল তৎক্ষনাৎ।
[০২.]~
রাত ৩:১২...
ঘুম নেই আব্র'র৷ চোখে। চোখ বন্ধ করলেই অহুর শীতল দৃষ্টির সেই ছলছলে চাহনি ভেসে ওঠে। মনে পড়ে বলা সেই প্রশ্ন,
“ভাইয়া, আপনি কি ব্যথা পেয়েছেন?”
আব্র'র মন ছটফট করতে লাগল। একটা অদ্ভুত টান তাকে অহুর দিকে টেনে নিয়ে গেল। হাতে থাকা সিগারেটের প্যাকেট টেবিলে রেখে সে পা বাড়াল অহুর শয়নকক্ষের দিকে।
দরজা খোলা। 
খান মহলের অধিকাংশ রুমেই রাতে দরজা খোলা থাকে। যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। অহু'র কক্ষে ঢুকেই আব্র থমকে গেল। ড্রিম লাইটের মৃদু আলোয় অহু'র রুম এক স্বপ্নপুরীর প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। দেয়ালে দেয়ালে পেইন্টিং, বুকশেলফে উপন্যাস-কাব্য-ছোটগল্পের ভাণ্ডার। ছোট ছোট পুতুল সাজানো খাট, টেবিল আর সোফায়। পালঙ্কের একপাশে অহু, পাশে এক বড় টেডি। ছোট ছোট চুলগুলো এলোমেলো হয়ে পড়েছে ললাটে। গালে লালচে ছাপ হালকা হলেও এখনও বিদ্যমান। চোখ বন্ধ, ঘুমে বিভোর সে। আব্র চুপচাপ এগিয়ে গেল চন্দ্রাবালা'র সন্নিধানে।
ড্রিম লাইটে অহু'র মুখ যেন শুভ্র জ্যোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে। উষ্ঠের কোমল রেখা আব্রকে আকৃষ্ট করছে বারবার। বুকের গভীরে ধ্বনি ওঠে তীব্র, ব্যথিত। কিন্তু নিজেকে টেনে ধরল আব্র। চোখ নামিয়ে নিল অহু'র প্রতিচ্ছবি হতে। তারপর বুলি ছুড়লো।
“অহু, আমি ব্যথা পেয়েছি। তবে হাতে নয়। আজ থেকে আট বছর আগে, তুই যে জায়গায় ছিলি, ঠিক সেইখানে। ব্যথাটা পুরোনো, তাই গভীর। তার ঔষধ হয়তো কোথাও নেই। হয়তো সেরে উঠবে একদিন, কিন্তু দাগটা রয়ে যাবে চিরদিন। তুই যদি আমাকে ভুলে না যেতেও, পারতি অহু!”
কিন্তু ঘুমন্ত অহু কিছুই শুনল না সেসব। কোনো প্রতুত্তর করল না আব্র'র প্রশ্নের। আব্র ধীরে ধীরে পেছন ফিরে। দীর্ঘ শ্বাস ফেলে রুম থেকে বেরিয়ে আসে ক্ষণিকেই।
এই প্রথম, বহুদিন পরে, সে একটু হালকা বোধ করল। সিগারেটটা হাতে নিয়েও আর ধরালো না। হঠাৎ নিজেই নিজের দিকে হেসে উঠল। তারপর ড্রয়ার খুলে একটা ট্যাবলেট বের করল, স্লিপিং পিল। খেয়ে পালঙ্কে গা এলিয়ে দিল। অবশেষে, ঘুম তার চোখে ভিড় জমালো।
[০৩.]~
সকালে অহু'র ঘুম ভাঙল। ঘুম থেকে উঠে গালে হাত রাখলো, না, লালচে ছাপ নেই। তবে বাম কানে এখনো একটা ভারী অনুভূতি রয়ে গেছে। সে আয়নার সামনে দাঁড়াল। নিজেকে দেখে একটা ঠাণ্ডা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। জানে, আব্র ভাই যদি সত্যিই হাতের সাধারণ শক্তি দিয়ে মারত। তাহলে আজ সে হয়তো দুই একটা দাঁত হারাতো! অহু ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ালো। প্রকৃতির সঙ্গে এক নীরব সংলাপ শুরু হল তার। মনের মাঝে একটা অভিযোগ, তবে সেটা উচ্চারিত নয়। তারপর ফ্রেশ হয়ে নেমে গেল খান মহলের বাগানে, একটু হাঁটতে। তখনই দেখল একজন মহিলা প্রবেশ করলেন মহলে। কৌতূহলবশত অহু এগিয়ে গেল। আলিনা খান মহিলাটি'কে বসতে দিয়ে চা বানাতে গেলেন। 
চা বানিয়ে নিয়েও আসলেন তৎক্ষনাৎ। অহু'কে দেখেই আলিনা খান হাঁক ছুড়লেন।
“অহু, উনি ডক্টর সাহেরা। আব্রর হাতে ড্রেসিং করতে এসেছেন। তুই তো উপরে যাচ্ছিস, একবার দেখে আয় তো। ঘুম থেকে উঠেছে কিনা। না উঠলে ডেকে দিস, সাহেরা চা খেয়েই উপরে আসছে।”
অহু'র মুখে কোনো উত্তর নেই। আতঙ্কে বক্ষ পিঞ্জর কেঁপে উঠল। তৎক্ষনাৎ গালে হাত দিল, আওড়াল।
“আচ্ছা কাকিয়া, যাচ্ছি।”
সিড়ি বেয়ে উপরে ওঠে অহু। বারবার পেছন ফিরে তাকায়। সেই ডাক্তারের দিকে মনে হয় বয়স খুব বেশি না, হয়তো ২৫–২৬, তবে চেহারায় এক প্রশান্ত সৌন্দর্য মেয়েটার। অহু হালকা হেসে ভাবতে ভাবতে আব্রর রুমের দরজায় পৌঁছাল। মনে মনে প্রার্থনা করল, ‘আল্লাহ, এইবার যেন আব্র ভাইয়া খালি গায়ে না থাকে!’
চোখ বন্ধ করে ধীরে দরজা খুলল। চোখ মেলে ধীরে ধীরে তাকালো। অহু'র দৃষ্টি রুদ্ধ হলো আব্র'র প্রতিচ্ছবির পানে। আব্র এখনও খালি গায়ে, উপুড় হয়ে শুয়ে আছে! সকালের নিয়ন আলোয় তার পিঠের কালো ট্যাটুটা যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। অহু কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।
#চলবে #পাঠক?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন