ফন্ট সাইজ:
থিম:
সন্ধ্যার ভায়োলিন

১৬তম পর্ব

লেখক: বৃষ্টি ইসলাম

“ সন্ধ্যার ভায়োলিন ”— ১৬ [১'ম খন্ড]

উপন্যাস #সন্ধ্যার_ভায়োলিন #পর্ব—১৬
#লেখিকা #বৃষ্টি_ইসলাম
#সিজন_০১
#পর্ব_১৬
[০১.]~
গোসল সেরে জুমার নামাজ আদায় করে, আব্র মহলে ফিরে। অন্দরমহলে পৌঁছেই খুঁজতে লাগলো অহুকে। বহু খোঁজাখুঁজির পর ছাদে পেলো তাকে। অহু ছাদের দোলনায় একটা সাদা চুরিদার পরে বসে ছিল। হঠাৎ পিছন হতে কারো পায়ের শব্দ শুনে ফিরে তাকাতেই দেখল। আব্র তার দিকেই ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। মুহূর্তেই অহুর বুকের ভিতরটা দপদপ করে উঠল, আত্মা যেন শুকিয়ে গেলো তার। গতকালের সেই থাপ্পড়, আর আজ সকালে আব্রর রুমে গিয়ে যা করল সে। সবকিছু মনে হতেই অহুর মুখ শুকিয়ে এল।
“আচ্ছা, আব্র ভাই কি সব বুঝে গেছেন? ঘুমের ঘোরে যখন আমি ওনার ইজ্জতের বারোটা বাজিয়ে ফোনে বন্দি করেছি, সেটা কি টের পেয়েছেন?” 
মনে মনে আওড়ালো অহু।
আব্র'র দিকে ফের তাকাল, আজ আব্র সাদা পাঞ্জাবিতে পরেছে। কিছুটা ঘাম ঝরেছে তার শরীর থেকে, ফলে সুঠাম দেহের ছাপ পাঞ্জাবির মধ্যে স্পষ্ট। ছাদের উপর পড়ন্ত রোদের আলো তার শ্যাম বর্ণের গায়ে একরকম হলদেটে আবির ছড়িয়ে দিয়েছে। অকস্মাৎ অহুর ঘোর ভাঙ্গল, আব্র'র সংলাপে।
“কিরে, এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন?”
অহুর ঘোর কেটে গেল কোমল সুরে হাঁক ছুড়ে দিল কিছুটা ভরকে গিয়ে।
“ক.... কই, আপনার দিকে তাকিয়ে ছিলাম নাকি আমি?একদম নাহ।”
নিজের অন্তরিন্দ্রিয়কে আবারো স্মরণ করিয়ে দিলসে।
“ভুলে যাস না অহু, এই লোকটাই তোকে কাল থাপ্পড় মেরেছিল।” 
আব্র সোজাসাপটা প্রশ্ন ছুড়ল।
“আজ সকালে আমার রুমে গিয়েছিলি কেন?”
অহু ঠোঁট উল্টিয়ে জবাব করল ক্ষণেই।
“আমি কেন যেতে যাবো? চাঁচি বলেছিলেন আপনাকে ডেকে দিতে, তাই গিয়েছিলাম।”
“গেছিস, ভালো কথা। কিন্তু আমাকে গেঞ্জি কে পরিয়ে দিলো? তুই না ঐ ডক্টর?”
ডক্টরের কথা শুনেই অহুর মুখ কঠিন হয়ে গেল। ভ্রু কুঁচকে দাঁতে দাঁত চেপে ধরল, আওড়াল।
“ঐ ডক্টর সাহেরাই আপনাকে টিশার্ট পরিয়ে দিয়েছেন। আপনি খালি শরীরে শুয়ে ছিলেন দেখে উনার খুব অস্বস্তি লাগছিলো নাকি। তাই উনি নিজে হাতেই পরিয়ে দিয়েছেন।”
আব্র স্তব্ধ। সে ভেবেছিল, অহুই তাকে টিশার্ট পরিয়ে দিয়েছে। আব্র চোখ মুখ ডললো, পুনরায় বিশ্বাস না হওয়া প্রশ্নটা ছুড়ল।
“সত্যি বলছিস? কেন যেন তোর কথা বিশ্বাস করতে পারছি না।”
অহু দোলনায় বসে পা দুলাচ্ছে। ভাবলোঃ আরেকটুখানি জ্বালানো যাক ব্যাটাকে। পরক্ষণেই হাঁক ছুড়ল, 
“আপনার বিশ্বাস না হলে আমি কি করতে পারি? আমি তো সত্যিটাই বলেছি।”
আব্র আর কোনো কথা শুনল না। রক্তিম চক্ষু রাঙিয়ে ছাদ থেকে চলে গেল। তার চলে যাওয়া দেখে অহু হেসে উঠলো নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে। আওড়াল চোখ টিপে,
“আমাকে থাপ্পড় দেবেন, তাই না? এবার বুঝুন, এই #আরুরা_খান_অহুজান কত ভয়ংকর? আমিও আমার বাবার একমাত্র মেয়ে। বুদ্ধিতে কম নই বুঝলেন খান সাহেব।”
[০২.]~
সন্ধ্যার শেষ আলোর রক্তিম রেখাগুলো ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে আকাশের বুক থেকে। দিগন্ত জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে গাঢ় নীলের আভা। বোধহয় কোন অদৃশ্য চিত্রশিল্পী তুলির আঁচড়ে আঁকছে রাতের আগমনী বার্তা। গৃহস্থের উঠানে টিমটিম করে জ্বলে ওঠেছে হলদেটে বাতি। পাখিরা ফিরে আসছে নীড়ে, ক্লান্ত ডানায় জড়ায় বিশ্রামের স্পর্শ।
ঘড়ির কাটা প্রায় ১১টা ছুঁই ছুঁই। 
খান মহলের ভোজনালয়ে সবাই একত্রে বসে আহার করছে। হঠাৎই আব্র সংলাপ বুনল এমন এক কথা, যা শুনে সবাই হতবাক।
“আম্মা, আমি কোম্পানিতে জয়েন করতে চাই অতি শীগ্রই।”
চারদিকে এক মুহূর্তের স্তব্ধতা। সকলের চোখ ছানাবড়া। তাদের দৃষ্টি আব্রকে পর্যবেক্ষণ করল। আলিনা খানের কণ্ঠে আশ্চর্য মিশ্রিত আনন্দ।
“সত্যি বলছিস আব্র?”
আব্রর স্পষ্ট জবাব। 
“ হ্যাঁ আম্মা,, তবে এখনই মেইন এম.ডি. হিসেবে নয়। আগে কোম্পানিতে যাই, সবকিছু বুঝে নেই, তারপর সিদ্ধান্ত নেবো।”
“খুব ভালো বলেছো, আমি খুশি হয়েছি।”  
দৈবাৎ আওড়ালেন আজমল খান, সব অভিমান বিসর্জন দিয়ে। আশাফাক খান বাক্য কষলেন তাৎক্ষণিক। 
“যেভাবে শুরু করতে চাও, আপাতত সেভাবেই শুরু করতে পারো তুমি।”
আব্র মাথা দুলাল লোকমা গিলে। পরক্ষণেই প্রশ্ন জুড়লেন, 
“তো কবে থেকে শুরু করতে চাও?”
জবাব আসে, 
“আগামী মাসের ১ তারিখ থেকেই।”
“ঠিক আছে, আমরা সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি।”
~
সময় পেরোলো, সবার মনের মধ্যে আনন্দ আর একরাশ নতুন আশার আলো নিয়ে। অহু নিজের কক্ষে শুয়ে আছে। ভাবছে শুধু সকালে ঘটে যাওয়া সেই সব ঘটনা। ফোনটা বের করে গ্যালারিতে ঢুকলো সে। একের পর এক ছবি দেখে আনমনে হাসল। একটাতে দেখা যাচ্ছে আব্র ঘুমন্ত অবস্থায় অহুর কাঁধে মাথা রেখে শুয়ে আছে। ছবিটা দেখে বোঝার উপায় নেই, এটা একপেশে কৌশলে তোলা। ছবিগুলো দেখে অহু মৃদু হেসে ল্যাপটপে ট্রান্সফার করে রাখলো সব ছবি।
“যদি ফোন থেকে ডিলিট হয়ে যায় কভু। এই ছবিগুলো কিন্তু খুব দামি,” মনে মনে আওড়ালো অহু।
[০৩.]~
এক দিন পর, ভোরবেলা। 
পবিত্র, নির্মল মুহূর্ত প্রকৃতি নিজের মুখ ধুয়ে নতুন প্রাণে জেগে উঠছে। সাত সকালের এই নিয়ন আলো ছুঁয়ে যায় হৃদয়, জাগিয়ে তোলে আশার অঙ্কুর। অহু ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামাজ আদায় করে বের হলো হাঁটতে। আজমল খান, নিহা, শিফাদের সঙ্গে বেরিয়েছে সকালের প্রশান্তি উপভোগ করতে। শুধু আব্র ব্যতীত সে তখনও ঘুমিয়ে। সকাল গড়াতেই সকলে নাস্তা সেরে কাজে বেরিয়ে গেলো সবাই। অহু তখন ভার্সিটির জন্য রেডি হয়ে নিচে আসল। দেখলো ড্রাইভারকে পাওয়া যাচ্ছে না। একের পর এক ফোন করেও কোনো লাভ হলো না। অহু তৎক্ষনাৎ অন্দরমহলে ভিতর ছুটে আসল। তিরীক্ষ মেজাজ দেখিয়ে আওড়াল।
“আম্মা ড্রাইভার আংকেল কোথায়? ফোন ধরছে না। আমার ভার্সিটিতে যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছে তো।”
নেতিয়ে যা-ওয়া কন্ঠ স্বরে'র জবাব এল।
“ঊনি শিফার আব্বুকে আনতে গেছেন এয়ারপোর্টে। আরেকজন তোমার আব্বুদের অফিসে নিয়ে গেছে, তৃতীয়জন ছুটিতে।”
অহু ঠোঁট বাঁকিয়ে প্রবল বেগে প্রশ্ন ছুড়ল।
“তাহলে আমাকে কে নিয়ে যাবে ভার্সিটিতে এখন?”
দৈবাৎ প্রশ্ন টেনে নিয়ে উওর ছুঁড়লেন আলিনা খান।
“আব্রকে বল গিয়ে, সে তো গাড়ি ড্রাইভ করতে পারে। তোকে ভার্সিটিতে নামিয়ে দিয়ে আসবে।”
আব্রর নাম শুনেই অহু শুকনো গিলে, সঙ্গে একরাশ ভয়। আগের দিনের সেই গাড়ির ভেতরের ঘটনা এখনো স্পষ্ট তার মনে। তবে এখন উপায়?
“আমি বলতে পারবো না, চাঁচি। আমাকে ধমকাবে, আপনি বলুন না।”
“ঠিক আছে, আমি বলছি। তুই বস।”
কিছুক্ষণ পর আলিনা খান আসলেন নিচ তলায়। আওড়ালেন,
“বলেছে নিয়ে যাবে তোকে ভার্সিটিতে। আমি কফি বানিয়ে দিচ্ছি তুই গিয়ে দিয়ে আয়। আব্র ফ্রেশ হচ্ছে। বারবার সিঁড়ি বেয়ে উঠতে পারি না। কোমর ধরে বসে।”
আব্রর রুমে যাওয়ার কথা শুনেই যেন বুকটা ধড়ফড় করে উঠলো অহুর। আগের দিনের সেই ইজ্জতের ফালুদার কথা মনে হতেই হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে এল।
আলিনা খান কফি হাতে এনে দিলেন অহুর নিকট। দ্বিধায় পা টানতে টানতে অহু পৌঁছাল আব্রর কক্ষের দরজায়। ভেতরে ঢুকে দেখে, আব্র নেই, তবে ফোনটা বেজে থেমে গেছে। সাইড টেবিলের উপর ফোন রাখা। অহু কী ভেবে যেনো ফোনটা হাতে নিল। স্ক্রিনে ভাসছে একটা নাম—
“মিসড কল ফ্রম, জিসা”
অহুর অন্দরে হঠাৎই হিম বাতাস জমে গেল, কে এই ‘জিসা’?
#চলবে #পাঠক?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন