ফন্ট সাইজ:
থিম:
গোধুলির রক্তিম শিখা

৭ম পর্ব

লেখক: পরিনিতা

#গোধূলির_রক্তিম_শিখা 

#লেখনীতে_পরিনিতা 
ফুল হাঁপাতে হাঁপাতে ওড়া মাথায় করে মাঠের মাঝখান দিয়ে দৌড়তে লাগলো।
এসে বাড়ির বাঁশের বেড়া পেরিয়ে উঠানে রাখলো ওড়া। 
তার হটাৎ আজ কেমন অস্বস্তিবোধ হচ্ছে। কে ছিলো ওই লোকটা? সে তো লোকটার মুখও দেখতে পেলো না। দৌড়ে চলে এসেছিলো তখন। 
ফুলের আবারও সে-ই পুরনো ভয় হলো যে কারণে তার সমস্ত রূপকথার মতো জীবন এক নিমিষেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো তবে আবারও কি সে-ই একই ঘটনা তার সাথে পুনরায় ঘটবে? 
 সোজা ঘরে গিয়ে নিজেদের চকি-তে বালিশ পেতে অবেলায় শুয়ে রইলো। আর মনে মনে নিজেকে দোষ দিতে লাগলো,
তার উচিত ছিলো আশেপাশের পরিবেশটা ভালো করে দেখে নেওয়া। তা করলে হয়তো এমনটা হতই না।
ফুল উপুড় হয়ে শুয়ে ছিলো। ফারবিন বেগম (ফুলের মা) মেয়ের কপালে হাত ছোঁয়ালেন,
" জ্বর আইছে? গা তো গরম লাগে।"
ফুল উঠে বসে বললো,
" আম্মা কিছু হয় নাই, দৌড়াদৌড়ি করে আসছি তো তাই এমন লাগের। "
ফারবিন বেগম মেয়ের মাথার উপর হাত বুলিয়ে বললেন,
" দৌড়াদৌড়ি কইরা ক্যান আইছ? কেউ কিছু বলছে?"
ফুল : না কেউ কিছু কয় নাই। সন্ধ্যা হয়ে গেছিলো তো।
ফারবিন বেগম মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,
" আজান দিবো মাগরিবের, নামাজ পইড়া নে। তোর আব্বায় ও আইবো অহন।"
ফুল চুপচাপ বসে ছিলো। হটাৎ পায়ের দিকে খেয়াল করতেই দেখলো তার এক পায়ে নুপুর নেই। তার মনে পড়লো তখন নদীর ঘাটেই হয়তো খুলে গিয়েছিলো। তার বেশ মন খারাপ হলো ফয়সাল কত যত্ন করে এ নুপুর জোড়া তাকে দিয়েছিলো। কালই সে যাবে সেখানে আবার নুপুরটা খোঁজার জন্য। 
____________
_________
অনিক বাঁশি হাতে নিয়ে এখনও সেভাবেই দাঁড়িয়ে আছে। সে এখনও বুঝতে পারছে না কি থেকে কি হয়ে গেলো। এ মেয়েটা এভাবে দৌড়ালো কেনো? 
অনিকের আবারও সে দৃশ্য যেনো চোখে ভাসতেই লাগলো। মেয়েটার মুখটাও দেখলো না। অনিক বিড়বিড় করে আপনমনে বললো,
" আসলেই কি এটা কোন মেয়ে ছিলো নাকি জ্বিন পরী আছিলো?"
পরক্ষণেই নিজেই নিজের মাথা চুলকে বললো,
" দূর জ্বিন-পরী কি মাথায় ওড়া নিয়ে দৌড় দেয় নাকি। "
অনিক সেখান থেকে চলে আসলো। 
প্রেমা উঠোনের দক্ষিণ পাশটায় অনেকগুলো নানা জাতের ফুলের চারা লাগিয়েছে। প্রায় ১০-১৫ জাতের ফুল গাছ রয়েছে এখানে। রোজ নিয়ম করে সকাল বিকাল এগুলোতে পানি দেয় সে।
আজও পানিই দিচ্ছিলো। তবে আজ একটু দেরি হয়ে গিয়েছিলো তার।
অনিক বাড়িতে এসে ই নজর দিতেই দেখলো প্রেমা মনের সুখে পুকুর থেকে বালতি ভরে মগ দিয়ে গাছে পানি দিচ্ছে আর গুনগুন করে গান গাইছে। অনিক পিছন থেকে ওর মাথায় গাট্টা মেরে বললো, 
" ঘনঘন পানি দিলে গাছ মরে যায় জানস না?"
প্রেমা ওর দিকে তাকিয়ে ভেংচি কেটে বললো,
" এহ আসছে! মা'র থেকে মাসির দরদ বেশি। "
অনিক ভ্রু কুঁচকে বললো, 
" মা-মাসি মানে? গাছের আবার মা কে?"
প্রেমা বালতির বাকী পানিটুকু গাছে দিয়ে বললো, 
" কে আবার? আমি যেহেতু গাছ লাগিয়েছি আমি ই মা।"
অনিক অবাক হয়ে বললো,
" আর মাসি টা কে?"
প্রেমা : কে আর তুমি ই।
অনিক দু-হাত দিয়ে তালি বাজাতে বাজাতে বললো,
" বাহ আফা বাহ। আফনে তো আমাকে গর্বে গর্ভবতী বানিয়ে দিলেন। আমি কি না মাসি?মাথায় কি গোবরের চাষ করিস নাকি? "
প্রেমা খুশিতে গদগদ হয়ে অনিকের সামনে এসে বললো, 
" ঠিক বলেছি না আমি? দেখেছো আমি কত বুদ্ধিমান? তোমরা সবাই শুধুশুধু আমাকে বোকা ভাবো।"
অনিক প্রেমার মাথায় এবার আরেকটা গাট্টা মেরে বললো,
" পাগলের সুখ মনে মনে। সর ঢেমলি।"
বলেই অনিক হাসতে হাসতে রুমের দিকে গেলো নিজের।
পিছন থেকে প্রেমা চেচিয়ে বললো, 
" ঢেমলি কাকে বললে? তোমাকে একদিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দেবো দেখো আমি। "
অনিক ঘর থেকে চেচিয়ে বললো, 
" তার আগে ই আমি তোকে তিনরাস্তার মোড়ের হাবাগোবা মফিজের সাথে বিয়ে দিয়ে দিমু। "
প্রেমা গাল ফুলিয়ে বালতি রেখে ঘরে গিয়ে বসে থাকলো।
__________
পরেরদিন সকালে ফুল সেলোয়ার-কামিজ পড়লো তার আগের।
চুল আছড়ে মাথায় ঘোমটা দিয়ে তার আব্বার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। 
করিম আলী পানি খেয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললো,
" আম্মা কোথাও কি যাইবেন আপনে?"
ফুল তার আব্বার দিকে তাকিয়ে বললো,
" আমি তোমার সাথে ফুলবাগানে যামু আব্বা।"
করিম আলী গামছায় মুখটা মুছে বললো,
" ক্যান আম্মা?"
ফুল ওড়াটা মাথায় নিয়ে বললো,
" ইচ্ছে হইছে আমার। "
ফয়সাল এগিয়ে এসে তার আপুর মাথা থেকে ওড়াটা নিজের মাথায় নিয়ে বললো,
" রানী গো মাথায় বোঝা মানায় না আপু। তোমারে দেখভাল করার লাইগা আমরা আছি আপু। তুমি শুধু নিজের যত্ন নেও। আবার আগের মত হাসিখুশি থাকো।"
ফারবিন বেগম (ফুলের মা) দাঁড়িয়ে আছেন খালপাড়ে ওখানে দাঁড়িয়ে উনি ছেলের সবকথা শুনতে লাগলেন,
তার ছেলে হটাৎ কেমন বড়দের মতই কথা বলছে। যেনো ফুলের বড় ভাই কথা বলছে। বাস্তবতা কি নির্মম। ছিলো তো খেলার বয়স, ইশকুলে যাওয়ার বয়স কিন্তু এ বয়সে সংসারের ঘানি টানতে হচ্ছে ছেলেটাকে।
করিম আলী ছেলের মাথা থেকে ওড়া নিজের হাতে নিলেন। ফয়সাল তার পাশে রাখা কোদাল হাতে নিয়ে বেরিয়ে পড়লো।
দু'জনে মিলে চললো তাদের কর্মক্ষেত্রে। পিছন থেকে ফুল বললো,
" আমাকে নিয়ে গেলে না তোমরা? "
করিম আলী মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললো, 
" সূর্য মাথার উপরে উঠলে খাওন লইয়া যাইয়েন আম্মা।"
ওনারা মাঠের আইল ধরে চলে গেলেন। ফুল তাদের যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইলো। তাকে একটু ভালো রাখার জন্য এদের কত আয়োজন। অথচ কেউ একজন খেলার পুতুল মনে করে যখন-তখন ছুঁড়ে ফেলেছিলো। 
এদিকে,,
অনিক আজ ভোরেই ঘুম থেকে উঠেছে, গতকাল রাতে এক মূহুর্তের জন্য ও সে ঘুমোতে পারে নি। সারাক্ষণ যেনো সে নুপুরের ঝনঝন আওয়াজ তার কানে ধ্বনি তুলছিলো বারংবার। 
নেহাল আর রাসেল ও নদীর ঘাটেই ছিলো। অনিক ও গেলো সেখানে। সবাই মিলে সূর্য উদয় দেখলো।
অনিক বটগাছের মোটা ডালের উপর শুয়ে নদীর ঘাটের দিকে এক নজরে তাকিয়ে ই রইলো।
নেহাল আর রাসেল একে-অপরের দিকে তাকালো।
অনিককে নেহাল একটা চিমটি কেটে বললো,
" দুনিয়ায় আছত নাকি অক্কা পেয়েছিস?"
অনিক সেদিকেই তাকিয়ে বললো,
" আছি।"
রাসেল বললো,
" তোর কি ব্যাপার বল তো। কালরাতে ও আসলি না। হাস চুরি করার কথা ছিলো না আমগো? "
অনিক মাথা চুলকে বললো,
" ইশরে মনেই ছিলো না।"
নেহাল আর রাসেল কেমন সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অনিকের দিকে। অনিক সেসবে খেয়াল দিলো না। সে জনমানবশূন্য ঘাটের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়েই রইলো। 
__________
সূর্য প্রায় মাথার উপরেই অবস্থান করছে। ফুল পুঁটলিতে ভরে ভাত আর আলু ভর্তা নিয়ে চললো। 
শীতের আকাশে দুপুরের রোদ বেশ ভালো ই লাগে। গোসল করে তাই রওনা দিয়েছে। গায়ে বেশ রোদ লাগছে। চারপাশের ক্ষেতের দিকে তাকালো। কি সুন্দর করে তাদের গায়ে মৃদু হাওয়া বইছে তারাও মনের সুখে মাথা দোলাচ্ছে। আর দু গ্রাম পরই পাহাড় রয়েছে। একসময় মেয়েটার খুব ইচ্ছে ছিলো, পাহারের ওপাশে যাওয়ার। ওখান থেকে এ দৃশ্য কেমন লাগে তা দেখতে। কিন্তু তা আর হলো কই?
নিজের মনে কতশত অপূর্ণ ইচ্ছাকে বর্ণনা করতে করতে সে তার আব্বার কাছে চলে এসেছে। করিম আলী মেয়েকে দেখে ওর হাত থেকে খাবারের পুঁটলিটা নিলো।
ফুল বললো,
" ফয়সালের খাবার টা আলাদা রাখছি আব্বা। দিয়া আই ওরে। দেও।"
করিম আলী : ফয়সালে এইখানে আইবো। বাগানের দু ক্ষেত পিছেই ওর ক্ষেত। 
ফুল চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো।
করিম আলীর সাথে আরও একজন এখানে কাজ করেন। করিম আলীর জমির পাশে আরেকজনের বিশাল বড় ফুলের বাগান ছিলো। উনি ই করিম আলীর জমিটা কিনেছিলেন এখন এ বিশাল বড় জমিতে কাজ করেন দু'জন। করিম আলী ও আকবর হোসেন। 
আকবর হোসেনের অবস্থা আবার তুলনামূলক একটু ভালো করিম আলীর থেকে। ওনার বড় দুই ছেলে ও রোজগার করে। আকবর হোসেনের মেয়ে টুসু। আজ দু'দিন হলো সে-ও খাবার নিয়ে আসছে তার বাবার জন্য। 
ফুল তার আব্বার থেকে রোজকার মতই একটা ফুল নিয়ে কানে গুঁজে ওড়া মাথায় নিয়ে হাঁটা শুরু করলো।
টুসু মেয়েটা বেশ চঞ্চল। কথা ছাড়া দুদণ্ড চুপ থাকতে পারে না।ফুল আর টুসু একটু দূরত্ব বজায় রেখেই চলছিলো। ফুল নদীর ঘাটের ওদিকে যেতে নিলেই টুসু এগিয়ে এসে বললো,
"তোমার ঘর তো ওইদিকে তাইলে এদিকে কই যাও?"
ফুল তাকালো টুসুর দিকে, মেয়েটাকে সে দেখছে দু'দিন হলো। কিন্তু কথা বলা হয়নি। মেয়েটা হালকা ফর্সা বর্ণের, বলতে গেলে উজ্জ্বল শ্যামবর্ণের। দেখতেও ভীষণ মিষ্টি। 
ফুল নিজের হাতটা ওদিক করে বললো,
" নদীর ঘাটে যাবো। যাবে?"
টুসু খুশিতে গদগদ হয়ে বললো,
" নেবে?"
ফুলটা উপর নিচ মাথা নাড়লো। দুজনে চলতে লাগলো একসাথে। ফুল এ প্রথম কারো সাথে এভাবে সইয়ের মতো পায়ে পা মিলিয়ে চলছে। এর আগে কখনও এভাবে অচেনা কারো সাথে সে কোথাও যায়নি। তার সর্বকালের প্রকৃতি ঘোরার পথ সঙ্গী সে নিজেই ছিলো। 
ঘাটে পৌঁছে ফুল ওড়াটা পাশে রেখেই এদিকে-ওদিক খুঁজতে লাগলো কিছু একটা। কিন্তু অনেক খোঁজার পরও পেলো না। অবশেষে নিরাশ হয়ে সে মাটির ঘাটের ওদিকটায় বাঁশ দিয়ে তৈরি করা ঘাটের একপাশ হয়ে পানিতে পা চুবিয়ে বসলো।
টুসু এখনও সেভাবে ই দাঁড়িয়ে আছে। ফুল ওর দিকে তাকালো। 
টুসু ও এসে ফুলের মতো করে বসলো।
নদীর বেশ হাওয়া বইছে আজ। শীতকালে এ হাওয়াতে গা কাঁপানো শীত আনিয়ে দেয়। কিন্তু আজ রোদের তাপ ও বেশ। তাই শীত তেমন একটা লাগছে না। কিন্তু টুসু পানিতে আর বেশিক্ষণ পা ভিজিয়ে রাখলো না। 
তুলে নিয়ে বললো,
" তোমার ঠান্ডা লাগতাছে না? এমনে আর কতক্ষণ রাখবা?"
ফুল দু'পাশে মাথা নাড়লো। 
টুসু ভ্রু কুঁচকে বললো, 
" ক্যান আগের জন্মে কি নাগিন আছিলা নাকি?"
বাতাসে ফুলের মুখ থেকে সম্পূর্ণ ঘোমটা সরে গেলো। ফুল হাসতে লাগলো। বহুদিন পরে সে এভাবে হাসলো। টুসু দেখলো মেয়েটাকে। এতদিন সে ওর মুখটা ভালো করে দেখতে ও পায়নি। আজ সে সুযোগ হলো। চোখের মনি কি সুন্দর নিল রঙা। চুলগুলো ও কি সুন্দর। গায়ের রঙ কি সুন্দর যেনো টোকা দিলেই রক্ত পড়বো। 
টুসু হা হয়ে গেলো। ফুলকে বললো,
" তুমি দেখতে একদম পরি গো মতো সুন্দর। "
ফুল হাসি থামিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে বললো, 
" পরি দেখেছো কখনও? "
টুসু দু'পাশে মাথা নাড়লো।
ফুল: তাহলে কেমনে জানলা আমি পরির মতো সুন্দর? 
টুসু : পরিরা নাকি মেলা সুন্দর। তোমরে দেখামাত্র ই তাগোর সংঙ্গা ই আমার মাথায় আইলো।
ফুল মুচকি হেঁসে বললো, 
" তুমি ও পরির মতই সুন্দর। "
টুসু হালকা হেসে ফুলকে বললো,
" আমি তোমার মতো এতও সুন্দর না। "
ফুল ওর দিকে তাকিয়ে হেঁসে বললো,
" প্রতিটা মেয়ের ই নিজস্ব স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। যেমন করে প্রতিটা ফুলের মধ্যে লক্ষ করা যায়। কোন ফুল সুবাস ছড়ায়, কোন ফুল একটি বেশি সৌন্দর্য ছড়ায়, আবার কোন ফুল বেশ কার্যকরী পরিবেশের জন্য, আবার কোন ফুল আমাদের জন্য অপরিহার্য ও। কিন্তু ফুল বলতেই সুন্দর। তেমন করে প্রতিটি মেয়ের ক্ষেত্রেও বলা যায়, সবাই সুন্দর তাদের নিজ নিজ দিক থেকে। শুধু তা উপলব্ধি করার জন্য সুন্দর মন অনিবার্য। তা তোমার মধ্যে রয়েছে নাহলে অন্যকে তোমার কাছে সুন্দর লাগতো না। তুমি ও বেশ সুন্দর, বেশ মিষ্টি দেখতে।"
টুসু হা হয়ে গেলো এ মেয়ের কথা শুনে। কি সুন্দর করে কথা বলে মেয়েটা। রূপের সাথে সাথে এ মেয়ের কথা ধরণ ও নজরকাড়া মনে হলো তার কাছে।
টুসু হাসলো নিঃশব্দে। 
এদিকে, বটগাছের ডালের আড়াল থেকে তিনজন যুবক লুকিয়ে লুকিয়ে সবটা দেখছে। রাসেল অবশ্য এসবে আগ্রহ পাচ্ছে না সে চোখ বুঝে আছে। আর নেহাল আর অনিক লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছে সব। অনিক তার হাতের মুঠোয় রাখা নুপুরটার দিকে তাকিয়ে হাসলো খুব।
অনিক নেহালের চোখে হাত দিয়ে বললো,
"ডান পাশেরটার দিকে তাকাইস না ওটা তোর ভাবি"
নেহাল ওর হাতটা নিজের চোখের থেকে সরিয়ে বললো,
" আমার বয়েই গেছে তাকাতে। আমি এসেছিলাম নাকি তুই ই তো জোর করে আনলি।"
রাসেল চোখ বুঝেই বললো,
" যা না যা মাইয়াগুলো যদি দেখে ওদের এমনে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছিস, ওদের হাতের ওড়া দিয়ে তোদের মাথায় ডুগডুগি বাজাবে।"
ফুল আর টুসু আরও কিছুক্ষণ থেকে চলে গেলো যে যার বাড়িতে। 
আর এদিকে অনিক বটগাছের ডালের উপর আবার ও লম্বা হয়ে শুয়ে চোখ বন্ধ করে আছে। চোখের সামনে সে মেয়েটা পায়ের পানির কলধ্বনি বাজতে লাগলো আবারও। 
_____
রাত হয়েছে অনেকক্ষণ আগেই। এখন প্রায় গভীর রাত। আজ আকাশে চাঁদের দেখা মিলেছে। চাদের আলোয় আজ চারদিক আলোকিত হয়ে আছে। 
এ চাঁদের আলোর মধ্যে দিয়ে তিনজন যুবক হাটছে শিকারের খোঁজে। হাঁটতে হাঁটতে তারা খালপাড়ের কুঁড়েঘরের কাছটায় চলে এলো।
কুঁড়েঘরটার সামনেই পাটির একটা খোয়ার দেখা যাচ্ছে। ওরা তিনজন এগিয়ে গেলো সেদিকে। উদ্দেশ্য হাস চুরি করা।
ফুলের আজ তেমন ঘুম আসছিলো না। আজকাল ঘুম আসেই না তার চোখে। তার কারণও তার অজানা। 
বাইরে কেমন খুটখুট আওয়াজ শুনলো সে।
তার চকির পাশেই জানালা। ফুল জানালা খুলে তাকালো বাইরের দিকে। 
 দেখতে পেলো অন্ধকারে কারা যেমো খোয়ারের সামনে এসে দরজা খুলার চেষ্টায় আছে। চাঁদের আলোতে তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। 
ফুল আস্তে করে উচ্চারণ করলো,
" কে ওখানে?"
হটাৎ মেয়েলী স্বল্পপরিচিত কন্ঠের আওয়াজে অনিক তাকালো সেদিকে,
জানালার কাছটায় পুরো চাদের আলোয় জ্বলজ্বল করছে।
তাকাতেই তার নজরে এলো নীলাভ চোখের মনি রমনীর একপাশ। অনিক যেনো সমস্ত হুশ জ্ঞান খুইয়ে ফেললো। এতদিন সে মুখ দেখতে পায়নি। আজ এ অবস্থায় এসে এ মুখ তার সামনে এভাবে প্রকট হবে তা সে বুঝতেই পারে নি।
মেয়েটার দিকে সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ই রইলো। মেয়েটার চোখের পলক নড়ছে, অনিকের কাছে সে চোখ মনে হচ্ছে নিল সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো। সে এর বেশি বর্ণনা করতে অক্ষম আপাতত।  
মেয়েটা আবারও বললো, 
" কে? কে ওখানে?"
এবার একটু বেশ জোরেই বললো সে।
নেহাল আর রাসেল উঠে দাঁড়ালো। কিন্তু অনিক সেভাবেই তাকিয়ে আছে। যেনো নজর সরালেই মেয়েটা অদৃশ্য হয়ে যাবে। 
করিম আলী শুনলেন মেয়ের কন্ঠ। জোরেই তিনি বললেন,
" আম্মা কি হইছে? কে আইছে??"
নেহাল আর রাসেল অনিককে টানতে লাগলো আর বললো,
" এবার ধরা পড়লে আমগো বাপ মায় আমগো তিনজনেরেই ঘর থেকে বাইর কইরা দিবো। চল অনিক চল।"
কিন্তু অনিক নড়লো না। ওরা ওকে টেনেহিঁচড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলো।
করিম আলী ধুম করে দরজা খুললেন। দেখলেন....
চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন